ইতিহাস, অলৌকিক ভাবনা এবং রাজনীতি তথা ষড়যন্ত্র দিয়ে গড়া এই রোমাঞ্চকর উপন্যাসটি পড়তে বেশ লাগল। আপাতদৃষ্টিতে 'বিষের সুর' উপন্যাসের উত্তরসূরি হলেও এর কাহিনি একান্তভাবেই স্বতন্ত্র। দক্ষিণ ভারতে প্রচলিত কয়েকটি কিংবদন্তি এবং বাস্তবকে শিল্পভাবনা ও সঙ্গীতের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়েছে এই কাহিনিতে। শেষটা বড্ড এলোমেলো হয়ে গেল— এটাই দুঃখের। যাঁরা লেখকের নিজস্ব ভাবনা ও লেখনীর অনুরাগী, তাঁদের কাছে এটি অবশ্যপাঠ্য। তার বাইরেও বইটি আমার কাছে যথেষ্ট সুখপাঠ্য বলেই মনে হল।
◻️"স্বরাঙ্গ করেছি ভাস্কর! তোমার কাছে তো সঙ্গীত শুধুই কন্ঠ দিয়ে নির্গত হয়। আমি সঙ্গীতের স্বরকে অঙ্গে ধারণ করতে পারি।"
◻️শ্রীরঙ্গপত্তনম থেকে বিপদসঙ্কুল পথে, প্রভূত বিচিত্র, রহস্যময় ঘটনাবলীর মধ্যে একাকী গোপন রাজকার্যে কোদাগুর পথে যাত্রা করেছে নৃত্যাঙ্গনা কৌশিকী। গন্তব্যে কোন ভয়ংকর বিপদ প্রতীক্ষা করে আছে তার জন্য? কে সেই রহস্যময় পুরুষ, যে তার প্রতীক্ষায় রত, যার জাদুমন্ত্রে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয় ভাস্কর্যে?
◻️ সপ্তদশ শতাব্দীর দাক্ষিণাত্যে প্রবল রাজনৈতিক সংঘাত; দস্যু, গুপ্তচর ও গুপ্তঘাতক সঙ্কুল ভয়ংকর ঐতিহাসিক পটভূমি। এরই মধ্যে কাবেরী নদীর নির্জন তীরে, পাহাড়ী জঙ্গলের গভীরে, লোকচক্ষুর অন্তরালে ঘনিয়ে উঠলো স্বরবিভঙ্গের রহস্য। সঙ্গীত, নৃত্য-বিভঙ্গ, শৃঙ্গার, বিশ্বাসঘাতকতা, অতিপ্রাকৃত রহস্য ও রোমাঞ্চকর ঘটনার আবর্তে মিশে গিয়েছে দাক্ষিণাত্যের ইতিহাসের এক ভয়ংকর অধ্যায়ের কাহিনী।
◻️অভিশাপ কীভাবে প্রকৃতির নিয়মকেও পরাভূত করে, এর ব্যাখ্যাহীনতা বিহ্বল করবে উত্তর প্রজন্মকে। ইতিহাসে লেখা থাকবে রাজা ও রানির কথা। লোকগাথা অমর করে রাখবে রানির অভিশাপের কাহিনি। ইতিহাসে বা লোকগাথায় কোথাও লেখা থাকবে না যাদের কথা, তারা হল কৌশিকী, ভাস্কর পদ্মকুমার, অমিত প্রতিভাশালী বাসবদেব, পূজারী ভট্টদেব, রঙ্গাচারী, কিঙ্কর, মাধব, শম্ভু, মাতঙ্গী বুড়ি, মাধবী, মাতঙ্গী বুড়ির ঠগী পুত্র, ভেদু আর তার মা, মালিনী, কোদাগুর সেই গ্রাম্য রমণী।
◻️ উপক্রমণিকায় বর্তমান সময়ের কিছু অংশ থাকলেও বলতে গেলে প্রায় সম্পূর্ণ উপন্যাসই ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত। বিষের সুর ট্রিলজির অংশ হলেও, এ কাহিনী স্বতন্ত্র। প্রথম বইটির তুলনায় লেখনী অনেক বেশি Mature, timeline পরিবর্তন না হওয়ার কারণে অনেকটাই গোছানোও। শুধুমাত্র শাস্ত্রীয় সঙ্গীত-নৃত্য বিষয় হওয়ার কারণে সিরিজটা পড়তে শুরু করলেও, এই দ্বিতীয় ভাগটা আমি উপভোগ করেছি।