মেডিকেল কলেজের ছাত্র হোস্টেলে একজন আদিবাসী ছাত্র আসং এর আত্মহত্যা আচমকা হোস্টেলের সবার জীবনকে পালটে দেয়।সাতে পাচে না থাকা আসং কেন হঠাৎ গলায় ফাস নিলো তার কোন ক্লু কারোর কাছে ছিলো না।আপাত দৃষ্টিতে সেটাকে আত্মহত্যা মনে হলেও আসলেই কি সেটা আত্মহত্যা নাকি তার পিছনে আছে অন্য কোন রহস্য।সেটারই উত্তর পেতে হলেরই দুজন ছাত্র আসিফ এবং আবিদ মিলে শুরু করে নিজেদের মতো তদন্ত।পুলিশও তাদেরকে সাহায্য করে।আসিফ আসং এর কেসটা সলভ করে ফেলে।কেচো খুড়তে বের হয়ে আসে কেউটে। আসিফ আর আবিদ মিলে রহস্যের কিনারা করতে পারলেও আসল ক্রিমিনাল হাতের নাগালে বাইরে থেকে যায়।আসলেই কি ক্রাইম করে কেউ বাচতে পারে কখনো?পারফেক্ট ক্রাইম বলে আদৌ কি কিছু আছে?নাকি আমাদের করা ক্রাইমগুলো আমাদের মতোই ইমপারফেক্ট?সেসবেরই উত্তর আছে কান্তারের শেষ পাতা অব্দি।সন্ধ্যাহীনের পর পৃথিবীর প্রথম নিকোটিনবিহীন গোয়েন্দা আসিফ হোসেনের ২য় উপন্যাস কান্তার।কান্তার একটা মেডিকেল থ্রিলার।আমাদের সাহিত্যে থ্রিলার কম,মেডিকেল থ্রিলার কম আরও।ডিটেকটিভ আসিফ হোসেনের দুনিয়াতে সবাইকে স্বাগতম।উল্লেখ্য,আশীব ফেরদৌস অংকনের আসিফ হোসেন সিরিজের প্রথম বই সন্ধ্যাহীনের ওপরে হতে যাচ্ছে ওয়েব সিরিজ।
মেডিকেল থ্রিলার কি খুব বিশেষ কিছু যার জন্য আলাদা করে প্রচ্ছদের উপর এই সাব জঁরের নামটাকে উল্লেখ করতেই হবে? গত বছর মহান এক লেখিকার মেডিকেল থ্রিলার পড়ছিলাম (এক মাসেই ৪ টি মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছিল)। সেখানার যা অভিজ্ঞতা ছিল তা মনে পড়লে এখনো রীতিমত গায়ে কাঁটা দেয়। যখন কোনকিছুতে প্রচন্ড বিরক্ত বোধ করি তখন ঐটা নিয়ে নাড়াচাড়া করি, মানে কাটা দিয়ে কাটা তুলি আরকি। কেননা মহান লেখিকার ঐ বইটা পড়া ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ এক বিরক্তিকর বিষয়। ওটার কাছে বাকি সব বিরক্তি ডাহা ফেইল।
সে যাকগে, এবছরে রকমারিতে এই বইটাও দেখলাম বেস্ট সেলার তালিকায় ২ নাম্বারে আছে। ফলে ন্যাড়া আবারো বেলতলা গেল। কিন্তু গতবছরের মতো এবার আর ওতটা বিরক্ত হই নি। বইটা ছোট হওয়ায় লেখক খানিকটা এডভান্টেজ পেয়ে গেছে। তো, গল্পটা কেমন? মোটামুটি খারাপ না। একজন উঠতি ডিটেকটিভের পর্যবেক্ষণের সাথে পরিচিত হবেন যিনি সদ্য মেডিকেলে ভর্তি হওয়া একজন ছাত্র। কিন্তু যেভাবে ফ্লপে তাকে হাইলাইট করা হয়েছে তেমন কিছুই না। ডিটেকটিভ আসিফের ভুবন সামান্যতম দাগ ও ফেলতে পারে নি এ পাঠক হৃদয়ে। বরং মাঝে মধ্যে তার পর্যবেক্ষণের বহর দেখে হাসিও পেয়েছে। যেমন রুমের একটা শপিং ব্যাগ দেখে বলে দেওয়া তার বাসা কোথায়। এখানে অনেকগুলো পসিবিলিটি থাকতে পারে। সেগুলোর ব্যাখ্যা না দিয়ে সরাসরি উপসংহারে গিয়ে নিজেকে শার্লক হোমস কিংবা ফেলুদার সাথে তুলনা করা নেহাত ছেলেমানুষি ছাড়া কিচ্ছু না। গল্পে বারবার সাসপেক্টদেরকে ডেকে নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণকে প্রকাশ করাটাও যুক্তিহীন ব্যাপার। গল্পে বারবার ছন্দপতন হচ্ছিল এই কারণে। সিআইডি কর্মকর্তার ওরকম ডালভাত পর্যবেক্ষণ দৃষ্টিকটুই লাগে। তাদের কনফিডেন্স লেভেল কোন পর্যায়ে গেলে একজন কলেজ ছাত্রকে ক্রাইম স্পট দেখার জন্য ফোন করতে পারে! এসবকিছু বাদেও গল্পটাকে আমার সম্পূর্ণ মনে হয় নি। চরিত্রগুলোকেও ঠিকমতো বিকশিত হতে পারে নি। অনেককিছুর অভাব বোধ করেছি প্রতিটা সিকুয়েলে।
তারপরো লেখকের পরবর্তী বই পড়ব। লেখক প্রচন্ড সম্ভাবনাময়। তার জন্য শুভকামনা । দেখা যাক বেলতলা ফুলতলাতে রুপান্তরিত হয় কি না।
আমার লেখালেখি জীবনে একটাই ইন্টারভিউ দেয়ার সুযোগ হয়েছিলো। দু হাজার বিশ সালে আমার দ্বিতীয় গল্প যখন প্রকাশিত হয়, তখন উক্ত প্রকাশনির সম্পাদক একটা ক্যাজুয়াল ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন নির্বাচিত লেখকদের। ওখানে তিনি আমাকে একটা কথা বলেছিলেন, "দেখো, একটা গল্প বা লেখা তখনই সম্পাদনা করা যায় যখন সেটা গল্প/লেখা হয়ে ওঠে। নাহলে 'সর্বাঙ্গে ব্যথা, অষুধ দিব কোথা' অবস্থা হয়ে যাবে।"
ওনার ওই কথাটা দিয়ে এই বইটার রিভিউ এক প্যারায় শেষ করা যায়। অজস্র ভুল/অসঙ্গতি/বিরক্তি খুজে পেয়েছি। রিভিউ লেখার সুবিধায় প্রথমে নোট রাখছিলাম, এরপর দেখলাম লিখে আর কুলানো যাচ্ছে না। পুরো নভেলাটা কিচ্ছু হয়নি, কাজেই ধরে ধরে পয়েন্ট করে পাঠককে জানানোর কারণ নেই।
চারটা পয়েন্টে আমার রিভিউটা লিখছি। কিছু পাঠক/পাঠিকা বইটা যেমন একবসায় শেষ করেছেন, আশা করি আমার রিভিউটাও এক বসায় শেষ করার মতো ছোট হবে!
এই বইটাকে ঠিক কোন এঙ্গেলে মেডিকেল থ্রিলার বলা হচ্ছে? মেডিকেল থ্রিলার আমাদের দেশে একদমই নতুন একটা জনরা। দ্য সার্জনের বাইরে খুব বেশি প্রচলিত মেডিকেল থ্রিলার নেই সম্ভবত (আমি নিজে সব পড়েছি দাবি করছি না, তবে মেডিকেল থ্রিলার নিয়ে চিরুনি অভিযান চালিয়েছি বলে এটা দাবি করছি।) বিশেষ এক বেস্টসেলার লেখিকার দুটো মেডিকেল থ্রিলার আছে পাঠক জানেন, ওই বই দুটোর ব্যাপক নেগেটিভ রিভিউ থাকলেও এটলিস্ট ওগুলো মেডিকেল থ্রিলার ছিল।
কান্তারে একজন মরেছে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে, খুন বা আত্নহত্যা, উপকরণ হিসেবে এলএসডির নাম বলা হলো, এরপর আরও দুটো খুন হলো, সেখানে রাইগর মর্টিস এনে একটা অপব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করা হলো, এবং খুনগুলোর তদন্তে মেডিকেল কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের একজন স্টুডেন্ট; ব্যস এটাই মেডিকেল থ্রিলার?
ফরেনসিক মেডিসিনের কোনো আলোচনা নেই, তদন্তে কোনো ডাক্তার/ফরেনসিক এক্সপার্ট নেই, খুনের তদন্তে ফরেনসিক মেডিসিন দূরে থাক মেডিসিন সায়েন্সের বিন্দুমাত্র আলোচনা নেই (এক রাইগর মর্টিস ছাড়া, সেখানেও আবার ঘাপলা আছে) কিন্তু দিব্যি একটা উপন্যাসিকাকে মেডিকেল থ্রিলার বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে!
খুবই দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই বইটা থ্রিলার হিসেবেও ব্যর্থ। কেন ব্যর্থ সেটা পরের পয়েন্টে উল্লেখ করছি।
স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
বইটার শেষ দিকে এক জায়গায় ডিটেকটিভ আসিফ তার বন্ধুকে বলে, "না রে। এভাবে হয় না। স্রেফ সন্দেহের বশে, প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা যায় না।" (পৃষ্ঠা নাম্বার ভুলে গেছি, ঠিক হুবহু কোট করতে না পারলেও কথাটা অনেকটা এরকমই ছিল।)
খুবই দুর্ভাগ্যজনকভাবে, লেখক সাহেব, আপনি পুরো তদন্ত বিল্ডাপ করেছেন এই সন্দেহের বশেই। অমুকের সাথে কথা বলে, তোতলামি দেখে, কপালে ঘাম দেখে, রিয়েকশন দেখে তার উপর দায় চাপিয়েছেন পুরো বইয়ে। সবগুলোর নোট নিতে পারিনি দেখে দুঃখিত।
একটা খুনের তদন্ত করতে গেলে তদন্তের ভিত্তি হবে ফ্যাক্ট এবং ইনফরমেশন, কিছু লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তাদের কথাবার্তা ক্রসচেক করা হবে, কিছু বৈজ্ঞানিক প্রসেস থাকবে; তার কিচ্ছু নেই এই বইয়ে। গোয়েন্দা আসিফ তদন্ত করতে গেছে বটে, কিন্তু গিয়ে কোন মহাভারত উদ্ধার করেছে তার বিন্দুবিসর্গ লেখেননি লেখক।
একটু ঠেস দিয়ে যদি লিখি, লেখক আসমান থেকে ওহী নাজিল পেয়ে ক্লু লিখেছেন। যদি কেতাবি ভাষায় লিখি ভদ্রভাবে, "লেখক স্রেফ টেল করেছেন, শো করেননি।"
আশি পৃষ্ঠার একটা নভেলা পুরোটাই টেল দিয়ে ভরা। লেখক নিজের মতো গল্প শুনিয়েছেন কেবল। যেমন আমি যদি বলি, "আমার পুলিশ বাবা বাজারে গিয়ে মাংস কিনতে গিয়ে কসাইকে খুনি হিসেবে পাকড়াও করেছেন।" আমি স্রেফ আপনাকে জানালাম যে আমার বাবা খুনি ধরেছেন। কীভাবে ধরেছেন জিজ্ঞাসা করলে এক ছটাক ইনফরমেশনও দিতে পারব না।
পুরো বইটা হয়ে গেছে এরকম। লেখকের গদ্যশৈলী অত্যন্ত দুর্বল। সাধারণত ভালো পাঠক না হলে, নিয়মিত লেখার অভ্যাস না থাকলে এরকম কাঁচা হাতের লেখা প্রসব করা হয়।
একটা জায়গায় গোয়েন্দা আসিফ, দুই খুনির সামনে প্রকাশ্যে বলে যে "আপনারা খুনি", যেখানে আবার খুনিদের একজন পুলিশের ওসি। থানার ভিতরে থানার সর্বময় কর্তা ওসিকে বলা হচ্ছে আপনি খুনি, আবার ওসি সেটা স্বীকারও করে নিচ্ছেন! কারণ ওসি দেখতে চেয়েছিলেন তিনি আসলেই একটা পারফেক্ট ক্রাইম করতে পেরেছেন কি না!
সিরিয়াসলি???🤣🤣🤣 এইটা একটা থ্রিলার বইয়ের অংশ!!
ক্যারেক্টারাইজেশন:
একটা চরিত্রও ডেভেলপ হয়নি। তার উপর পুলিশ প্রশাসনকে যেভাবে হাবাগোবা দেখিয়েছেন, আবার পুলিশ নিজেদের হাবাগোবা ভেবে মেডিকেল কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের একজন স্টুডেন্টের দুয়েকটা চটকদার অবজারভেশন দেখে তদন্তের কর্মকর্তা বানিয়ে দিলো, যার কি না তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণাও নেই, ইভেন ফরেনসিক মেডিসিন বা মেডিসিন সম্পর্কেই আইডিয়া নেই; তাকে যেভাবে লেখক পোট্রে করলেন- পড়ে মনে হচ্ছে গোয়েন্দা আসিফ হলো দ্য বয়েজের হোমল্যান্ডার হিমসেল্ফ যে কি না বার বছর বয়সে সাউন্ড ব্যারিয়ার ব্রেক করেছিলো!
এন্ডিং:
জঘন্য। এই এন্ডিংয়ে এসে কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হয়েছিলো এটা একটা মেডিকেল থ্রিলার। তাও আবার ইনফরমেশনগত ঘাপলার জন্য আবারও মুখ কুচকে ফেলেছিলাম।
এন্ডিং দেয়া হয়েছে "রাইগর মর্টিস" নামের ফরেনসিক মেডিসিন টার্মের উপরে ভিত্তি করে। এটা হলো মৃত্যুর পরে মানুষের শরীরের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া। এই শক্ত হতে শুরু করা নিয়ে বিভিন্ন সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কাজেই আমার কাছে ঘাপলা মনে হলেও সেটা আমলে নিচ্ছি না।
আমলে নিতে হবে যেটা দিয়ে এই খুনের এন্ডিং দেয়া হয়েছে।
লেখা হয়েছে, এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তিকে খুন করে তার হাতে পিস্তল রেখে দেয়, আত্নহত্যা হিসেবে চালানোর জন্য। উক্ত মৃত ব্যক্তির রাইগর মর্টিস শুরু হওয়ায় হাতের পেশি সংকুচিত হয়ে আসে, ফলে চাপ লেগে গুলি বেরিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তি মারা যায়।
হ্যাঁ, এটা একটা ব্যখ্যা হতে পারে। তবে এটা আসলে একটা কমপ্লিট ফ্যান্টাসি। একজন ব্যক্তি খুন করলো৷ খুন করে আবার মৃত ব্যক্তির পিস্তলের সামনে গিয়ে বসে থাকলো, কখন গুলি বের হবে, আর সেই গুলিতে মরলো!
এটা খুন হবার একটা সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, কিন্তু কখনোই একটা থ্রিলার বইয়ের এন্ডিং হতে পারে না। প্রমাণ ছাড়া কোনো মার্ডার ইনভেস্টিগেশনের এপ্রোচ এরকম হলে সেটার জন্য একটা টার্ম আছে- গাজাখুরি।
যেহেতু এটি একটি মেডিকেল থ্রিলার তাই ধারণা করা যায় খুনের প্রক্রিয়া, বিশ্লেষণ হবে মেডিওলজিক্যাল বেইসড। এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করার মতো একটি বই। 💙 কাহিনীটি শুরু হয় শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের আদিবাসী শিক্ষার্থী আসং এর আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে। একই কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আবিদ রহমান এবং তার রুমমেট আসিফ। সুইসাইড নোট পাওয়া গেলেও আসিফের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপারটি আত্মহত্যা নয় বরং খুন। কিন্তু তার এমন মনে হওয়ার কারণ কি??? আসিফ তার ধারণাটি যুক্তি সহকারে তুলে ধরে দায়িত্বরত অফিসার হারুন অর রশিদের কাছে। কিসটি ইনভেস্টিগেশনের অনেকটা অংশই সে ছেড়ে দেয় আসিফের উপর। এর মাঝে শহরে পাওয়া যায় একটি মেয়ের লাশ। দুটি ঘটনা কি কোনভাবে সম্পর্কিত??? অবশেষে আসিফের বুদ্ধিমত্তার জোরে বেরিয়ে আসে খুনের আসল রহস্য যা সম্পূর্ণ আপনার ভাবনার বাহিরে। খুনি কে জানতে পারলেও তারা এখন পলাতক। এদিকে কিছুদিন পর একটি হোটেলে পাওয়া যায় খুনিদেরই লাশ। কিন্তু তাদেরকে কে খুন করবে? খুনি রেখে যায়নি কোন সূত্র যার মাধ্যমে ধরা যাবে তাকে। কিভাবে হতে পারে এমন পারফেক্ট মার্ডার???
পৃথিবীতে পারফেক্ট মার্ডার, পারফেক্ট ক্রাইম বলতে কি কিছু আছে.? না, নাই। খুনি যত বড় মাপের অপরাধী হোক না ক্যান কিছু না কিছু ক্লো তোহ রেখেই যায়... আর ঠিক তার সূত্র ধরেই এগিয়ে যেতে থাকে তদন্তকারী।
তবে এই বইয়ে এরকম কিছুই ছিলো না! আমরা যেটা দেখি সেটা বলি না, যেটা ভাবি সেটা বলি। যেটা হয় সেটা বিশ্বাস করি না, যেটা ইচ্ছা হয় সেটাই বিশ্বাস করি।
মেডিক্যাল কলেজের একজন আদিবাসী ছাত্রের আচমকা মৃত্যুতে হোস্টেল জীবনের সবার জীবন পাল্টে দেয়। আপাত দৃষ্টিতে এটা আত্মহত্যা মনে হলেও এটা আসলেই আত্মহত্যা নাকি খুন এ নিয়ে থাকে খটকা। পুলিশের পাশাপাশি মেডিকেলের আরেক ছাত্র (আসিফ) এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করার জন্য নিজের মতো করে তদন্ত শুরু করে।
এদিকে আসিফের পাশাপাশি আমিও মনে হয় তদন্তে নেমে গিয়েছি😁। কে হতে পারে এই খুনি তাকে খুঁজার জন্য। একটা রহস্য উদঘাটন হওয়ার সাথে সাথে আরেকটা রহস্য এসে হাজির৷ বইয়ের প্রতিটি পাতায় পাতায় টুইস্ট। আহা........
এই বইয়ের এন্ডিং টা এতো নিখুঁত ছিলো যা পাঠকের ভাবনা চিন্তার বাইরে ছিলো। মেডিক্যাল সাইন্স (রিগর মর্টিস) দিয়ে ছিলো এন্ডিং টা 🥰।
বলে রাখা ভালো কান্তার অনেক হাইপের বই। তবে আমি ছোট বেলা থেকে যেহেতু ক্রাইম সিরিজ, মুভি,ডার্ক থ্রিলার পড়ি তাই এই বইয়ের ক্রাইমটা খুব আহামরি লাগে নাই।
"আমার আত্মহত্যার জন্য কেউ দায়ী নয়।" দায়ী হওয়ার প্রশ্ন তো তখনই আসবে যখন এটা আত্মহত্যা হবে। তাই নয় কী?
প্রথমেই আমি আমার প্রথম ইম্প্রেশন এর কথা বলি। বেশ অনেকদিন ধরেই হঠাৎই নিউজফিডে 'কান্তার' নামক মেডিকেল থ্রিলারের বেশ হাইপ উঠেছিলো। বেশ ঘাটাঘাটি করেও পূর্ণাঙ্গ গোছানো রিভিউ পাইনি। তবে পরিচিত বেশ কয়েকজন রিকমেন্ড করাতে আমিও বেশ আগ্রহী হয়ে পড়েছিলাম। তখন বইয়ের নাম পড়ে মাথায় গুনগুন করতো ঐ লাইনখানা, "দূর্গম গিরি, কান্তার মরু...." বই হাতে পাবার আগ পর্যন্ত ভাবছিলাম বইয়ের নাম দূর্গম পথ দিয়ে লেখক কী বুঝাতে চাচ্ছিলেন। ওভার ওল আই ওয়াজ এক্সাইটেড।
ইউজুয়ালি আমি প্রথমেই বইয়ের জনরা এবং লেন্থ দেখি তারপর মনে মনে হালকার উপর ঝাপসা ভেবে নেই যে লেখক এত পৃষ্ঠার মধ্যে কোন কোন উপাদান কীভাবে তুলে ধরতে পারবেন। তারপর ওই অনুযায়ী এক্সপেক্টেশন নিয়ে বই খুলি। এইটে আমার একটা অভ্যাস। তবে এই ❝কান্তার❞ হাতে নিয়েছি আমি হাই এক্সপেক্টেশন নিয়ে। লেন্থ দেখিনি ইভেন ফ্ল্যাপে মনোযোগ দেইনি। ডিরেক্ট অতিমাত্রায় উৎসাহিত হয়ে পড়া শুরু করে দেই।
• মেডিকেল থ্রিলার এবং ডিটেকটিভ, এই দুই জেনরের সংমিশ্রণ এই বইটি।
Medical Thriller envisions horrific scenarios where diseases become epidemics and villains use their medical training for more sinister motives. [mdlib.org]
মেডিকেল থ্রিলার বিষয়ে আমার আহামরি জ্ঞান না থাকলেও উপরোক্ত তথ্যানুযায়ী এইটুকু ধারণা করতে পারি খু নের প্রক্রিয়া, বিশ্লেষণ ইত্যাদি সব মেডিওলজিক্যাল বেইসড হবে।
•বইয়ের প্রথমেই লেখক লিড ক্যারেক্টরের বুদ্ধিমত্তা এবং হিউমরের শক্তপোক্ত একটা ধারণা দিয়েছেন। প্রধান চরিত্র আসিফ এবং তার বন্ধু আবিদের সংলাপ এবং কিছু সময় পর সাজিদুল স্যারের সাথে সংলাপের মাধ্যমে আসিফের প্রকৃতি সম্বন্ধে কিছুটা তথ্য মাথায় সেট হয়ে যাবে। গল্পের সূচনাতে একটা হেভি ফিলিং পাওয়া মানে আগ্রহ অনেকাংশে বেড়ে যাওয়া। সুতরাং সূচনাটা দারুণ করেছেন। দু তিন পাতা পড়তে পড়তেই আপনার মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাবে ফেলুদা মিত্তিরের নাম। ফেলুদা এবং কান্তারের প্রধান চরিত্র আসিফ, দুজনের ভাইবে মিল পাবেন আপনারা। দুজনের বয়স, তদন্তের বৈশিষ্ট্যও বোধকরি কিছুটা একই।
•গল্পের মূল কাহিনী শুরু হয় টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের হলের আদিবাসী এক ছাত্র আসং এর আত্ম'হত্যার মাধ্যমে। মারা যাওয়ার প্রসেস ও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় আত্ম'হত্যার বৈশিষ্ট্য অপূর্ণ থাকার দরুন হল ছাত্র আসিফের সন্দেহ হতে শুরু করে এবং খুব অল্প সময়ে সে নিজের থিওরি দাঁড় করিয়ে ফেলে যে এটা আত্মহত্যা নয় হত্যা। কিন্তু মাঝপথ এগিয়ে হিসেবে আবারো গড়মিল হতে থাকলো আসিফের। এইটা যে হত্যা-ই, আত্মহত্যা নয় এই ইকুয়েশনে কিছু একটা ফাক থেকেই যাচ্ছিলো। এই কেইসের তদন্তরত ওসি হারুন অর রশিদ আসিফকে প্রচুর ভাও দিচ্ছিলো। ইনভেস্টিগেশন ৬০% আসিফের হাতেই হ্যান্ডওভার করেছিলেন তিনি। কেন?
আসং এর হত্যা/আত্মহত্যা নিয়ে তদন্তের চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েই বইয়ের প্রথম এবং বড়সড় টুইস্ট পাবেন আপনারা। আমি আগেও বলেছিলাম, আউট অব সাইড আউট অব মাইন্ড ক্যারেক্টরগুলো যখন মাস্টারমাইন্ড হয় আর এ ট্রেমেন্ডাস বিষয়টা লেখক যখন তার লেখনীর মাধ্যমে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলেন যে পাঠকরা মনের ভুলেও ধারণা করতে পারেনা তখন সেটা একচুয়াল থ্রিলার এর উন্নততম বৈশিষ্ট্য কাভার করে। আই লাভড ইট৷
বইয়ের এক তৃতীয়াংশ পরে আরো একটি পার্ট আছে। সেইম কেইসের এই অংশটা আরো চমকপ্রদ। পলায়নরত আসামী খোঁজা, পলায়নরত আরেকটা আসামীর সারেন্ডার করা এবং শেষ এ? শেষে হয় পারফেক্ট মার্ডার। কিন্তু আসলেই পারফেক্ট মার্ডার হয়?
• লেখক খুব সুন্দর ধারাবাহিকতা মেইন্টেইন করে গল্প এগিয়ে নিয়ে গেছেন। যখনই আপনি একটু ধাতস্থ হয়ে ভাববেন যে আপনি ধরে ফেলেছেন কিছু একটা তখনই দেখবেন নাহ কাহিনী আরো আছে। বেশ উত্তেজনামূলক ছিলো। এই বইয়ে আপনারা মেডিকেল হলের প্রেশারফুল একটা সিনারিও দেখতে পাবেন, আরও দেখবেন মেডিকেল ছাত্র; নিকোটিনবিহীন গোয়েন্দা আসিফের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার মাধ্যমে তুড়ি মেরে ঘটনা বিশ্লেষণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বেশ কিছু তথ্য, বর্ণনা পাবেন।
আর থ্রিলার মানেই কি মারা মারি, কাটা কাটি, রহস্যপোনা এবং দ্য এন্ড? এই বইয়ে উঠে এসেছে সামাজিক ব্যাধি ধর্ষণের চিত্র, উঠে এসেছে ক্ষমতাসীন লোকেদের মুখোশের আড়ালে লুকায়িত অসৎ চেহারা। বর্ণনা করা আছে উপরমহলের মানুষদের তোপে পড়ে কীভাবে সাধারণ মানুষ রীতিমতো অপরাধী হয়ে ওঠে।
এ পর্যায়ে আমি চরিত্র নিয়ে কথা বলতে চাইলেও বলবোনা। ৭৯ পৃষ্ঠার বই নিয়ে খুব বেশি লিখতে গেলে কিছুটা স্পয়লারের আশংকা দেখা যায়।
পরিশেষে বইটা এক নিশ্বাসে শেষ করেছিলাম। সময়টা অতি সুখপাঠ্য ছিলো। আই লাভড দ্য জেনর, আই লাভড দ্য ওয়ে অব স্টোরি রিভিলিং এন্ড আই লাভড দ্য ক্যারেক্টর 'আসিফ'। লেখকের দ্বিতীয় বই হিসেবে এতটা ভালো হবে এটা আমার অকল্পনীয় ছিলো।
•বানানে ভুল আর বিরামচিহ্নে কিছু জায়গায় ভুল ছিলো। খুব সম্ভবত টাইপিং মিস্টেক।
পাঠ প্রতিক্রিয়া: ১০০ পাতারও কম খুবই ছোট একটা বই। একদমই নব্য লেখক হিসেবে গুছিয়ে বেশ লিখেছে। পড়তে বেশ ভালোই লেগেছে এবং এক বসায় শেষ করেছি। ভালো লেগেছে কোন দিন গুলো সেগুলো আগে বলে নিই - সুন্দর গুছানো লেখা, সহজ সরল প্লট তার সহজ সরল টুইস্ট , বেশ বাচ্চা বাচ্চা বই বলতে হবে। কিশোর উপন্যাস বলে চালিয়ে দেয়া যায় সহজেই। যে চিন্তা থেকে পুরো গল্পটা বিস্তার লাভ করেছে সেই চিন্তার ধারা টা ভালো লেগেছে। একবার পড়ার মতো ভালো একটা বই। আর লেখকের ভালো পোটেনশিয়াল আছে । আমার বিশ্বাস উনি এক সময় অনেক ভালো লিখবেন এবং তার পরবর্তী বই আমি অবশ্যই কিনে পড়ব তাকে উৎসাহিত করার জন্য হলেও।!
খারাপ লেগেছে কি? নব্য উত্থাপিত বাচ্চা ডিটেকটিভ এর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার অতিরঞ্জিত ব্যাপ্তি! কিভাবে? বুঝিয়ে বলি - ধরুন আপনি সিলেটে বেড়াতে গেছিলেন ওখান থেকে কিছু কেনাকাটা করলেন শপিং ব্যাগে ভরে , এবার ধরেন আপনি দার্জিলিং গেছিলেন সেখান থেকে চা পাতা কিনে এনেছেন - এখন এই দুটো জিনিস দেখে অনুমান করা সম্ভব না আপনার বাড়ি সিলেট না দার্জিলিং। হতে পারে আমার মতো আপনার বাসা বগুড়া সাথে আপনি চা খেতে এবং ঘুরতে পছন্দ করেন। বইয়ে এই ধরনের কিছু পর্যবেক্ষণের হাস্যকর উদাহরণ দেয়া আছে। আপনি যদি অনেক ভারী ভারী থ্রিলার পড়ে থাকেন এই বই আপনার জন্য না। আর মেডিকেল থ্রিলার! রাইগর মর্টিস দিয়ে খুন হওয়ার কেস আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন সিআইডি এর একটা এপিসোডে দেখেছিলাম। এটাকে একটা কিশোর উপন্যাস হিসেবে বলা যেতে পারে কিন্তু মেডিক্যাল থ্রিলার কি বলা যায়? জানিনা।
পার্সোনাল রেটিং: ৩/৫ ⭐
This entire review has been hidden because of spoilers.
খুব বেশি ভালো লাগে নাই। তবে লেখকের চেষ্টা ছিলো বলা যায়। worth reading বলতে পারি কি না সে জাজমেন্টে না গিয়ে বলবো অযথা অলস সময় কাটানোর চেয়ে এরকম বই পড়ে সময় কাটানোও হয়তো তার থেকে ভালো।
This entire review has been hidden because of spoilers.