বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ১৯৭১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কেমন গেছে? আসছে দিনগুলোতে জটিল সব সমীকরণের মধ্য দিয়ে কোন অভিমুখে তা যেতে পারে? এ বইয়ে রয়েছে তার খতিয়ান। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে বরাবরই ‘বিশেষ সম্পর্ক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সীমান্ত, আন্তসীমান্ত নদীপ্রবাহ, ‘সেভেন সিস্টার্স’খ্যাত ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য, নাগরিকত্ব প্রশ্ন, আন্তসম্প্রদায় প্রশ্ন ইত্যাদি মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক। সঙ্গে আছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বের প্রশ্নটি। আছে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সাধারণ সাংস্কৃতিক উপাদান। এই বই দুই দেশের মাঝের আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বিবর্তনের রূপরেখা। লেখক নিজে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ছিলেন। আলোচ্য বিষয়ের ৫০ বছরের মধ্যে ৪০ বছর নিয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে। ১৯৭১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেমন ছিল? বহু টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগোনো এ সম্পর্ক এখন কেমন আছে? আসছে দিনগুলোতে জটিল সব সমীকরণের ফলাফল কোন অভিমুখে যেতে পারে? এসব নিয়ে জানতেই এই বই।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু বেশির ভাগের ভিত্তি তথ্য নয় বরং সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে বিদ্বেষমূলক সমালোচনা কিংবা ভারতের তোষামোদি করা। বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন একেবারে নির্মোহ আলোচনা করেছেন। তিনি নিজে ভারতে ডেপুটি হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মন্ত্রণালয় সামলাতে গিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। চাকরিলব্ধ অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ভিত্তিতে লেখা '১৯৭১-২০২১: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পঞ্চাশ বছর'।
জাতীয় স্বার্থ ন্যূনতম ছাড় না দেওয়ার মানসিকতায় ভারতের সাথে তুলনীয় রাষ্ট্র পৃথিবীতে দুর্লভ। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশে যারাই ক্ষমতায় আসুক তাদের কাছে যা-ই মুখ্য হোক জাতীয় স্বার্থ প্রধান নয়।
ভারত এদেশের ক্ষমতাকাঠামোর অদল-বদলে হস্তক্ষেপ করে কিনা, তা বুঝতে বইটা পড়তে পারেন। চোখ খুলে যাবে।
এত তথ্যসমৃদ্ধ ও কাজের বই নিয়ে আলোচনা নেই। অথচ কত কত অকাজের বই নিয়ে হইচইয়ের অন্ত দেখি না।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ভারত- বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানীতে ঠেকে। এরকম ঘটনা এবারই প্রথম না এর আগেও এমন ঘটেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক কখনো উষ্ণ হয়েছে, তবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ছিলো তা বলা যায় না। আওয়ামী লীগ আমলেও ভারতের সাথে পানি চুক্তি খুব একটা ভালো অবস্থায় যায় নি।
লেখক তোহিদ হোসেন (অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা) দীর্ঘদিন ভারতে পররাষ্ট্র সচীব হিসেবে কর্মরত ছিলেন, কলকাতার উপ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন অনেকদিন। ফলে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক দেখেছেন খুব কাছ থেকে।
বলা যায় এই বইটি একজন পররাষ্ট্র সচীবের দৃষ্টিকোণ থেকে দুইটি পার্শ্ববর্তী দেশের সম্পর্কের উত্থান -পতন ও নানা অনুঘটকের কার্যাবলী।
বইটি ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। যেহেতু তৌহিদ হোসেন না ছিলেন একজন সাহিত্যিক না একজন একাডেমিশিয়ান সেহেতু বই টিতে সাহিত্য গুণাবলীও নেই, নেই তত্ত্বের কচকচানি। তবে উপভোগ্য। এক বসায় শেষ করা যায়।
"পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ আসলে অনেকেই অনুভূতিপ্রবণ হয়ে পড়েন, যেহেতু ভাষা এক, সংস্কৃতি এক। তবে আমাদের বুঝতে হবে এই সম্পর্কের মাঝখানে আছে একটা সীমারেখা। দুইটি স্বাধীন দেশের ভোগোলিক লাইন। তাই রাজনৈতিক দিক থেকে দেখা লাগে।"