ভারতীয় উপমহাদেশের ভয়ঙ্করতম এক খুনীর দল ‘ঠগী’। আনুমানিক ২০ লক্ষ খুনের দায় যাদের কাঁধে। রোস্তম জমাদার নামের এক ঠগী সর্দার, তার মৃত্যুশয্যায় শুয়ে একটা খাতায় লিখে গেল রবীন্দ্রনাথের পাঁচটা কবিতা। বিশ্বাস করে সেই খাতাটা একজনের হাতে তুলে দিয়ে বলে গেল, এই খাতাটা পৌঁছে দিতে হবে আমার ছেলের কাছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোল আর দুর্ভিক্ষের মাঝে ঠগী সর্দারের খাতার কথা ভুলেই গেল সেই লোক। নাকি, ইচ্ছে করেই ভুলে যাওয়া হলো? সেই খাতা প্রায় ১০০ বছর পর হাতে এলো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া চার যুবকের। তাদের মনে প্রথম প্রশ্নটাই জাগল- একজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ তার ছেলের উদ্দেশ্যে কবিতা লিখবে কেন? গল্পটা এই চার যুবকের? নাকি রবীন্দ্রনাথের পাঁচটা কবিতার? নাকি ২০ লক্ষ মানুষ খু*ন করা ঠগীদের? নাকি তারচেয়েও বড় কিছুর, ২০ কোটি মানুষের?
বইয়ের নাম দেখেই বইটা কিনে ফেলেছি। কে বলিল নাম দেখে বই কেনা পাপ!
প্রথমে পড়তে পড়তে ভেবেছিলাম হালকা চালের মডার্ন গুপ্তধনের গল্প। চরিত্রায়ন দেখেও তেমনই মনে হয়েছিল (বন্ধুদের খুনসুটি ভালোই লেগেছে, ভারতীয় উপমহাদেশের পৌরাণিক কাহিনী আর ইতিহাসের সংযোগও জোস ছিল)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসে দেখি গল্পের ব্যাপ্তি ব্যাপক 🤯 totally wasn't ready for the pandemonium at the end 🤯
এন্ডিং পড়ে মনে হলো এই সমাপ্তি সমাপ্তি নয়, আরো সমাপ্তি আছে। আসলেই তা কি না জানার জন্য আগ্রহ জাগছে। প্রধান চরিত্ররা কেন প্রধান চরিত্র হল তা নিয়ে যে সামান্য হিন্ট দেয়া হয়েছে সেটা একটু বেশি বেশিই লেগেছে - এত বড় একটা পরিকল্পনা যাদের উপর নির্ভর করবে, তাদের বাছাই করাটা যেন একটু বেশিই মনগড়া। পরবর্তী ভাগে মানানসই উত্তর পেলে মনের খচখচানি কমতে পারে 👀