যকের ধনের মতো বাড়িটা আঁকড়ে ধরে আছেন বৃদ্ধ পরিমল বাবু। বাড়িতে তিনি বাইরের কাউকেই ঢুকতে দেন না, গেটে বাইরে থেকে তালা দেওয়া থাকে। বাড়িটির নাম নির্মলা লজ। উঠানের মাঝখানে একটি মূর্তি। মূর্তিটি একজন বালকের। অদ্ভুত সুন্দর!
একটি নির্ঝঞ্ঝাট স্থানে প্রাণ ভরিয়ে দিতে প্রিয় বাড়িটি যথেষ্ট। বাড়ি শুধু ইট পাথরে বরং বাড়ি গড়ে উঠে ভালোবাসায়। শুধুমাত্র দালান কোঠার শক্ত কাঠামো কী বাড়ি? বোধহয় না, কারণ বাড়িটি গড়ে উঠে কারো সংসার হিসেবে। সারাদেশ ঘুরে শান্তি মিলে প্রিয় বাড়িটিতে। মানুষ নিয়ে অভিমান থাকলেও বাড়ি নিয়ে থাকে একরাশ সুখ। কাজের চাপে ব্যস্ত মানুষ বাড়িতেই খুঁজে পায় শান্তির খোঁজ। ক্লান্ত শরীর নিয়ে সকল ঝামেলা সহ্য করে দিনশেষে ফেরা প্রিয় বাড়িটির কাছে।
এক সময় প্রিয় বাড়িটি সব স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আপন মহিমায়। শুধু বাড়ির মানুষ হয়তো হারিয়ে যায়। বাড়ি আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্নগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিটি দরজার পেছনে লুকিয়ে থাকে এক একটা গল্প। নিজের হাতে সাজানো ঘরগুলোই তো সবচেয়ে বেশি আপন লাগে। বাড়ি মানে শুধু ইট-পাথরের দেয়াল নয়, এটা একটা অনুভূতি।
নির্মলা লজ তেমনি এক বাড়ির গল্প। যে বাড়িটি পরিমলবাবু নিজের স্ত্রী নির্মলার নামে রেখেছেন। স্ত্রী চোখে দেখতে পান না। ছেলে সংসার নিয়ে সুখে আছে ভারতে। দুই বুড়ো বুড়ি নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন বাড়িটায়। ছেলের কথা হয়তো মনে পড়ে সবসময়।
তবুও পরিমলবাবু চেষ্টা করেন মানিয়ে নিতে। তবে এবার বাড়িটা প্রোমোটারের কাছে দিয়ে দিচ্ছেন। চলে যাবেন অনেক দিনের আবেগ জড়ানো বাড়ি ছেড়ে। ওদিকে আবার ঘটে চলেছে আরেক কান্ড। তাদের বাড়ির পাশের লাগোয়া স্কুল থেকে গায়েব হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা।
এইজন্য দিন দিন কমে যাচ্ছে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা। ব্যাপারটা রহস্যময় ও আতঙ্কিত করে দিচ্ছে অভিভাবকদের। পরিমলবাবু নিজের ছেলেকে মনে করেন। তবে এখন তো দা*লাল মারফত ডেভেলপারদের দিয়ে দিচ্ছেন বাড়িটা তাই স্কুলের ঘটনায় বিচলিত হয়ে তিনি করবেন বা কী। তবুও কী কিছু বাকি রয়ে গেছে? এতদিনের পুরনো নির্মলা লজ এত সহজে শেষ হয়ে যাবে?
🍂পাঠ প্রতিক্রিয়া🍂
"নির্মলা লজ" মনোয়ারুল ইসলামের লেখা থ্রিলার ইবুক। তবে আকারে ছোটখাটো। তবুও খারাপ লাগলো না আমার কাছে। কারণ মনোয়ারুল ইসলামের লেখার ধরনের সাথে পরিচয় আছে। তিনি থ্রিলারেও বেশ ভালো লেখেন। এবং তাই ভালো ছিলো ছোট্ট ইবুকটি।
তবে ছোট সাইজের বলেই বোধহয় টুইস্ট কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। তবে বর্ণনায় লেখক কমতি রাখেননি। আপনার সামনে পড়তে পড়তে নির্মলা লজের দৃশ্য একটা ভেসে আসবেই। এবং শুরুতে কিন্তু খানিকটা হরর ভাইব পাবেন।
ছোট পরিসরে লেখক যথাসম্ভব ভালো লেখার চেষ্টা করেছেন। এবং সবমিলিয়ে ভালো। তবে কী লেখক যে প্লট বেছে নিয়েছেন আরেকটু জানার আকাঙ্ক্ষা বোধহয় থেকেই যায়। কীভাবে সবকিছু হলো, এগুলো করার পেছনে কারণ কী? ইত্যাদি বিষয়ে আসলে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে ওই যে বললাম ছোট সাইজের বলেই বোধহয় লেখায় নিজস্বতা রেখে লেখক পাঠকের মনে কৌতুহল জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন।
প্রিয় বাড়ি, কিছু আবেগের গল্প কিংবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দুই বুড়ো বুড়ির গল্প নাকি ও নিখোঁজ স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের কথা? নির্মলা লজ বলে যায় আসলে ঠিক কোন গল্প মিলিয়ে দেখতে হবে পাঠককেই।
🍂 বইয়ের নাম: "নির্মলা লজ" 🍂লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম 🍂ইবুক প্রকাশনায়: বইঘর
পুরোনো জরাজীর্ণ বাড়িগুলো একটা গল্প বহন করে। ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকে বাড়িগুলো। আর ক্ষয়ে যাওয়া এক পুরোনো বাড়িগুলোর উপর কনস্ট্রাকশন কোম্পানি গুলোর লোলুপ দৃষ্টি থাকে। জরাজীর্ণতা মুছে আধুনিক দালান বানিয়ে কোটি টাকা আয়-ই যাদের মূল লক্ষ্য। রহমান সাহেবেরও চোখ পড়েছে এমনই এক বাড়ির দিকে। বাড়ির নাম ❛নির্মলা লজ❜। বাড়ির বাসিন্দা পরিমল বাবু কাউকে বাড়িতে ঢুকতেই দেন না। সারাক্ষণ তালাবদ্ধ করে রাখেন। বাড়িতে নেই জনমানবের কোন চিহ্ন। তবুও অনেক বুঝিয়ে রাজি করিয়েছেন বাড়ি বিক্রি করতে। সব কাজ ভালোয় ভালোয় মিটলেই শান্তি। নির্মলা লজের সামনে অবস্থিত আইজুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় থেকে ইদানিং হারিয়ে যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। ফিরেও আসছে না। কোথায় যাচ্ছে তারা? এই নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পিছে মূল কারণ টা কী? পাঠ প্রতিক্রিয়া: দুই অধ্যায়ের অতি ছোট একটা গল্প ❛নির্মলা লজ❜। জনরা হিসেবে বলা আছে সাইকো থ্রিলার। গল্পটা একটা বাড়ির, গল্পটা খু নেরও! থ্রিলার হলেও গল্পটাকে আমার কাছে এক বৃদ্ধের আগলে রাখার আকাঙ্ক্ষার গল্প মনে হয়েছে। একজন মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতটা গভীর হতে পারে? তার জন্যে সে কতদূর যেতে পারে? এই ছোটো গল্পে লেখক সেটাই দেখিয়েছেন। পুরোনো বাড়ির অদ্ভুতুড়ে আবহ সৃষ্টি করেছেন সুন্দরভাবে। গা ছমছমে ভাব এনেছেন। শেষে এসে চমক দিয়েছেন। যদিও চমকটা কেমন হবে ধারনা করেছিলাম। তবুও ভালো লেগেছে। ঐযে বলে না, আরেকটু হইলে ভালো হতো! আমারও তেমন লেগেছে। ছোটো গল্পে এমনিতেও যা বলার স্বল্প বাক্যে বলতে হয়। স্বল্পের মাঝেই টুইস্ট দিতে হয়। এখানেও স্বল্পের মাঝেই লেখক টুইস্ট এনেছেন। তবে ঐ যে বললাম মনে হলো পড়ে তৃপ্তি পেলাম না। আরেকটু বড়ো করা যেত বা একটু সাসপেন্স বেশি রাখা যেত। রাখলে ভালো বৈ মন্দ হতো না একেবারেই।
পুরনো ধাঁচের বাড়িগুলোর দিকে ডেভেলপার কোম্পানির সবসময় লোভ থাকে। নতুন করে অট্টালিকা গড়ে প্রচুর টাকা কামানো যাবে। কিন্তু যারা পুরনোকে আঁকড়ে ধরে টিকে থাকতে চায়, তাদের বোঝানো মুশকিল। যেমন, নির্মল লজের মালিক পরিমল বাবু। বিশাল এ বাড়িতে যেন জনমানবের চিহ্ন নেই। তবে কি পরিমল বাবু একাই থাকেন? অনেক চেষ্টা করে রহমান সাহেব বাড়িটা বিক্রি করতে রাজি করাতে পেরেছে। এবার শুধু হস্তান্তরের পালা।
এর ঠিক সামনেই একটা স্কুল। যার কিছু ছাত্র ছাত্রী মাঝেমাঝেই উধাও হয়ে যায়। কেউ একবার হারিয়ে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কোথায় যায় ওরা? এর রহস্য কী?
লেখক মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ের আরেকটি ছোটো গল্প "নির্মলা লজ"। সাইকো থ্রিলার বলা হলেও, থ্রিলারের পরিমাণ ছিল সীমিত। বরং সাইকোলজিকাল এক গল্প বলা যায়। এক অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দানের চেষ্টা যেন মানসিকভাবে ভেঙে যাওয়া এক বৃদ্ধের গল্প বলেছে। সত্যিই কি তিনি মানসিকভাবে ভেঙে গিয়েছেন? না কি জেনে বুঝে এই পথে পা বাড়িয়েছেন?
ছোটো গল্পে বেশি কিছু কাজ করার জায়গা থাকে না। তারপরও লেখক চাইলে গল্পটা আরেকটু বৃদ্ধি করতে পারতেন। এমন ছোটো গল্প পড়ে তৃপ্তি আসে না।এক পর্যায়ে কী হবে, বুঝতে পারছিলাম। তবে কীভাবে হবে সেটা জানার আগ্রহ ছিল। সেই অংশ লেখক ভালো মতোই দেখাতে পেরেছেন।
ওই যে বললাম, লেখক চাইলে গল্পের আরেকটু বিস্তৃতি ঘটাতে পারতেন। যদিও খারাপ লাগেনি। ছোটো গল্প আকারে চলনসই। শেষ হয়েও হইলো না শেষ। আরো কিছু জানার ইচ্ছা ছোটো গল্পের প্রাণ। সেই প্রাণ লেখক প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। মোটের উপর খারাপ লাগেনি। পরবর্তীতে কী হবে, জানতে ইচ্ছা হয় না?
▪️বই : নির্মলা লজ ▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম ▪️ইবুক : বইঘর ▪️অধ্যায় : ২ ▪️মূল্য : ২০ টাকা
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা, নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ। অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে শেষ হয়ে হইল না শেষ…
কবিগুরু ছোটগল্পের সংজ্ঞা দিয়েছিলেন এভাবেই। তবে নির্মলা লজ শেষ মনে হচ্ছিল, ‘শুরু না হইতেই হয়ে গেল শেষ’। এতো জমাটি শুরুর গল্প এভাবে দুম করে শেষ হয়ে গেল, হলো কিছু? কিভাবে পরিমল বাবু আর নির্মলা সেনকে নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত জানালে আর জমত গল্পটা। আর না বলি স্পয়লার হয়ে যাবে তাহলে।