পুরনো ধাঁচের বাড়িগুলোর দিকে ডেভেলপার কোম্পানির সবসময় লোভ থাকে। নতুন করে অট্টালিকা গড়ে প্রচুর টাকা কামানো যাবে। কিন্তু যারা পুরনোকে আঁকড়ে ধরে টিকে থাকতে চায়, তাদের বোঝানো মুশকিল। যেমন, নির্মল লজের মালিক পরিমল বাবু। বিশাল এ বাড়িতে যেন জনমানবের চিহ্ন নেই। তবে কি পরিমল বাবু একাই থাকেন? অনেক চেষ্টা করে রহমান সাহেব বাড়িটা বিক্রি করতে রাজি করাতে পেরেছে। এবার শুধু হস্তান্তরের পালা।
এর ঠিক সামনেই একটা স্কুল। যার কিছু ছাত্র ছাত্রী মাঝেমাঝেই উধাও হয়ে যায়। কেউ একবার হারিয়ে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কোথায় যায় ওরা? এর রহস্য কী?
লেখক মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ের আরেকটি ছোটো গল্প "নির্মলা লজ"। সাইকো থ্রিলার বলা হলেও, থ্রিলারের পরিমাণ ছিল সীমিত। বরং সাইকোলজিকাল এক গল্প বলা যায়। এক অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দানের চেষ্টা যেন মানসিকভাবে ভেঙে যাওয়া এক বৃদ্ধের গল্প বলেছে। সত্যিই কি তিনি মানসিকভাবে ভেঙে গিয়েছেন? না কি জেনে বুঝে এই পথে পা বাড়িয়েছেন?
ছোটো গল্পে বেশি কিছু কাজ করার জায়গা থাকে না। তারপরও লেখক চাইলে গল্পটা আরেকটু বৃদ্ধি করতে পারতেন। এমন ছোটো গল্প পড়ে তৃপ্তি আসে না।এক পর্যায়ে কী হবে, বুঝতে পারছিলাম। তবে কীভাবে হবে সেটা জানার আগ্রহ ছিল। সেই অংশ লেখক ভালো মতোই দেখাতে পেরেছেন।
ওই যে বললাম, লেখক চাইলে গল্পের আরেকটু বিস্তৃতি ঘটাতে পারতেন। যদিও খারাপ লাগেনি। ছোটো গল্প আকারে চলনসই। শেষ হয়েও হইলো না শেষ। আরো কিছু জানার ইচ্ছা ছোটো গল্পের প্রাণ। সেই প্রাণ লেখক প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। মোটের উপর খারাপ লাগেনি। পরবর্তীতে কী হবে, জানতে ইচ্ছা হয় না?
▪️বই : নির্মলা লজ
▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
▪️ইবুক : বইঘর
▪️অধ্যায় : ২
▪️মূল্য : ২০ টাকা