ব্ল্যাকমেইল হলো কাউকে কোনো কিছু দিতে বাধ্য করার জন্য হু*মকি দেওয়া, যেখানে হু*মকি হলো সেই ব্যক্তির কোনো ক্ষতিকর বা গোপন তথ্য প্রকাশ করার ভয় দেখানো। এটি হতে পারে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা আর্থিক সুবিধা আদায়ের জন্য, অথবা কোনো বিশেষ কাজ করানোর জন্য।
আবার অনেক সময় দেখা যায় মানসিক চাপও দেয়া হয় ব্ল্যাকমেইলের ক্ষেত্রে। যেখানে হয়তো মাইন্ড গেম খেলা হয়। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী হয়তো বুঝতেও পারে না তার অজান্তেই তার সাথে কত বড় ধোঁকা দেয়ার পরিকল্পনা চলছে। কথায় বলে অতি চালাকের গলায় দ*ড়ি। আজকে যে গল্পটা বলবো সেখানে একটা ব্ল্যাকমেইলিং এর ঘটনা ঘটেছে সেটা বোধহয় ভিকটিমের অজান্তেই। এবং যে ঘটিয়েছে সে নিজেও হয়তো বুঝতে পারেনি তার অজান্তেই তার সাথে চলছিল খেলা।
নায়লা আঞ্জুম। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। বয়স চব্বিশ। বিয়ে হয়েছে রড সিমেন্টের ব্যবসায়ী আরিফ হোসেনের সাথে। আরিফদের আরো ব্যবসা আছে। যাই হোক বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে নায়লা বিয়েতে অমত করেনি। অন্ধের মতো বলা যায় আরিফকে বিয়ের আগে না দেখেই বিয়ে করেছে। বিয়ের পর প্রথম আরিফকে দেখে নায়লা চমকে উঠলো। এত সুদর্শন পুরুষ আরিফ যে নায়লার মন আসলে খুশিতে ভরে উঠল। কারণ আরিফ স্বামী হিসেবে চমৎকার। দুজনে মিলে একসাথে ঘুরেছে, দুজনের সময়গুলো খুব আনন্দে কাটছিল। নায়লাকে যথেষ্ট সময় দিতো আরিফ।
কিন্তু সমস্যার শুরু তখন থেকেই যখন নায়লার শ্বশুর হঠাৎ করেই মা*রা গেলেন। তখন আরিফ ব্যবসার কাজে এত ব্যস্ত হয়ে পড়লো যে নায়লার সাথে তার কীভাবে যেন আস্তে আস্তে দূরত্ব সৃষ্টি হলো। নায়লাকে আরিফ সময় দিতে পারে না। ওদিকে নায়লার ইচ্ছা সে মা হবে। আরিফকে বলার পরেও আরিফের মধ্যে কোনো আগ্ৰহ দেখা গেল না তেমন। নায়লা ভেতরে ভেতরে একা নিঃসঙ্গ হয়ে যাচ্ছিল।
মূল ঘটনা ঘটে এক রাতে। তখন থেকেই নায়লার সমস্যা শুরু। নায়লা আরিফের জন্য ভাত বেড়ে প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিল। তখন আধো অন্ধকারে বিছানায় কারো উপস্থিতি টের পেলো নায়লা। ভেবেছিল স্বামী আরিফ কিন্তু স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের পর নায়লা যখন হঠাৎ রুমের লাইট জ্বালালো তখন নায়লা অবাক হয়ে দেখলে তার সুদর্শন পুরুষ স্বামীর চেহারার একি পরিবর্তন! এটা কী আসলেই আরিফ? মোটা, টাক মাথায় থলথলে ভুরি আরিফ এমন হয়ে গেল কীভাবে?
নায়লা চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফেরার পর আবার সে স্বামী আরিফকে পুরনো সুদর্শন পুরুষ হিসেবে দেখলো। এটা কীভাবে সম্ভব? তাহলে ওই লোকটা সে কে ছিল? এটা কী নায়লার মনের ভুল? কিন্তু না সেদিন থেকে নায়লা দুইজন আরিফকে আবিষ্কার করে। দুজনেই কী তার স্বামী? নাকি নায়লা মানসিকভাবে অসুস্থ? এরই মধ্যে নায়লা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এটাও কী মিথ্যে? রিপোর্ট তো সে নিজে দেখেছে। সাহায্যের জন্য নায়লা আহমেদ করিমের শরনাপন্ন হলো। শেষপর্যন্ত কোনদিকে মোড় নেবে ঘটনা?
🫛পাঠ প্রতিক্রিয়া🫛
রহস্যময় জগতে যিনি যুক্তিতর্কে খুঁজে বেড়ান রহস্যের সমাধান এমন কোনো চরিত্র দেখলে প্রথমেই মনে আসে হুমায়ূন আহমেদের "মিসির আলি" চরিত্রের কথা। এবং মিসির আলির কেস স্টাডি কিংবা রহস্য সমাধানের ধরন আসলে এতটাই মনে গেঁথে আছে যে আহমেদ করিমের সাথে মিসির আলির তুলনা চলেই আসে। তবে শুরুতে যতটা মিল খুঁজেছি গল্প ধীরে ধীরে কিন্তু নিজের মতো আলাদা আঙ্গিকে এগিয়েছে।
গল্পের প্লট হিসেবে বলা যায় ভালো। এতে রহস্য রোমাঞ্চ আছে, চরিত্রের মাঝেও লেখক যথেষ্ট রহস্যের ছাপ রেখেছেন তেমনি বর্ণনা ছিলো উপভোগ্য। কিছু কিছু জায়গায় বেশ ডিটেইল আলোচনা আছে। আহমেদ করিমের রহস্য উন্মোচনের পদ্ধতি অনেকটা মিসির আলির মতো হলেও পুরোপুরি নয়। এবং ভালো লেগেছে রহস্য উন্মোচনে উনি মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করেন। এই বইয়ে সোহেলকে পেলাম প্রথম দিককার ভূমিকায় মানে আহমেদ করিমের সাথে তার সদ্য আলাপ। সে ইচ্ছা পোষণ করে আহমেদ করিমের সাথে কাজ করার। কারণ সেও সাইকোলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছে পড়াশোনার জন্য। এবং এক্ষেত্রে সাবেক শিক্ষক আহমেদ করিম হয়তো সোহেলকে পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন। হাতে কলমে শেখা যাকে বলে।
শরিফুল ভাইয়ের লেখনী আমার সবসময় ভালো লাগে। ছোট বই বলে খুব বেশি গল্প ডালপালা মেলতে পারেনি। অল্পের মধ্যে ভালো বলা যায়। আহমেদ করিমের কাজকর্ম মিসির আলির মতো নয় এটা বলা যায় নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন লেখক আহমেদ করিমের চরিত্রে। আমার কাছে ভালো লেগেছে বইটি। ছোট সাইজ কিন্তু উপভোগ্য। আর শুরু থেকেই গল্প যেভাবে এগিয়েছে এর থেকে টানটান সমাপ্তি আমি অবশ্য শেষ দিকে আশাও করিনি। যতটুকু ছিল বেশ ভালো এটা বলতে পারি।
আরিফের ক্ষেত্রে যা হয়েছে আমি মনে করি একদম উচিত শিক্ষা। নায়লাকে স্ত্রী হিসেবে সে যা করেছে তাতে আরো কঠিন শা*স্তি দরকার ছিল।
🫛 বইয়ের নাম: "ব্ল্যাকমেইল"
🫛লেখক : শরীফুল হাসান
🫛ইবুক প্রকাশনায় : বইঘর