ত্রাতুলের গতানুগতিক জীবন পছন্দ নয়। সাজানো নাটকের মত ছকে বাঁধা জীবনে সে অভিনেতা সাজতে চায়না। বরং চড়ুই, ইঁদুর আর কবুতরদের নিয়েই সময় কাটে তার। শেষমেশ ত্রাতুল নিজেকে আড়াল করতে হাতে থাকা ট্রাকিউশান ডিভাইসটি খুলে ফেলে। কিন্তু এতে হাজির হয় নতুন বিপদ। প্রতিরক্ষা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় পরিত্যক্ত এক ভবনে, ল্যাব এক্সপেরিমেন্টের জন্য। অদ্ভুত রহস্যময় এক অভিযানে জড়িয়ে পড়ে ত্রাতুল। তার সাথে জড়িয়ে যায় আরো দুজনের ভাগ্য - পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানবী - রিয়া এবং পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ - নুরিগা।
Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
ত্রাতুল, একটু অন্যরকম একটা মানুষ। আধুনিকতার এই সব সাইবর্গ, এন্ড্রয়েড,বাইভার্বাল, রোবট এদের সহচর্য পছন্দ করে না। এসব থেকে মুক্ত থাক্তেই নিজের “ট্রাকিওশান” ডিভাইস খুলে ফেলে। কারণ রোবট কিংবা এসব সায়েন্টিফিক কাজ-কর্ম টা ত্রাতুল আর মেনেই নিতে পারছিল না। গোটা কয়েক সাইবর্গ , এন্ড্রয়েড কে অচল করে নিজের হাত কেটে নিজেই ডিভাইস জমা দিয়ে এল।
সাধারণত বড় বড় অপরাধী নিজের ডিভাইস রাখে না। কিন্তু ,অপরাধ না করেও ত্রাতুল ফেরত দিয়ে আসে নিজের ডিভাইস। এদিকে...
ঠিক কি কারনে জানিনা, গল্পটা আমার অসম্ভব মাত্রার প্রিয়। উপন্যাসে রিয়া চরিত্র টা মোটামুটি খারাপ না, আবার খুব ভালো লাগার মতন না। নুরিগার জন্য প্রচন্ড কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে ভাবি, আসলে যদি কোন পরাবাস্তব জগতে আমার কোন ক্লোন কিংবা আমার অস্তিত্ব থাকে? কি করছে তারা? এটা নিয়ে বোধহয় এনিমেশন মুভিও হয়েছিল বহু আগে। গল্পেরনাম ত্রাতুলের জগত, ত্রাতুল কে নিয়েই পার্শ্ব চরিত্র হিসেবে ক্রানা কে ভাল লাগবে পাঠকের। সাধারণত প্রধান চরিত্রেরা সবার থেকেই আলাদা হয়, সেটা ত্রাতুলের ক্ষেত্রে আলাদা না। ত্রাতুলের একটা কথা আমার সবথেকে ভালো লাগে। “একজন মানুষ কখনো সবচেয়ে খারাপ হয়না” । বাস্তব আর পরাবাস্তবতার এক অদ্ভুত গল্প , কখন বাস্তব আর পরাবাস্তব মিশে গেছে বুঝেও পারবেন না।
সম্ভবত সালটা ২০০৪। মুহাম্মাদ জাফর ইকবালের এই বইটা দিয়ে উনার লেখা সাই - ফাইয়ের সাথে পরিচয়। এর আগে বিদেশি অনুবাদ পড়া হলেও এই এক বই পাল্টে দিল আমার বইয়ের সেলফের চেহারা। এরপর আর থামাথামি নেই - প্রতিটা বই গোগ্রাসে গিলেছি অন্তত পরের ৭ টা বছর। আহা!
এই বইয়ের সাহিত্যের বিচার করতে গেলে নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব না। বয়স কম ছিল, অনুভূতি তীব্র ছিল। শুধু এটি পড়ার সময়কার একটি ঘটনা লিখে রাখি। ছুটির দিনে পড়ছিলাম। আগেই প্ল্যান ছিল ৩ টার দিকে আম্মুসহ প্রমিদের বাসায় যাবো। যাওয়ার সময় হল, তখন আমি পৃষ্ঠা ৭৬ পর্যন্ত এগিয়েছি। সেই যে আড়াই কি তিন ঘণ্টার একটা বিরতি। কতটা অসহ্য! সেদিনের সূর্য যেন ডুবেই না - আমাদেরও যেন বাসায় আসা হয় না।
ম্যাক্স ওয়েল সমীকরন ব্যবহার করে লিফট আটকে দেয়া - কি জিনিয়াস! আমি আজও তক্কে আছি তিতিরের মাংস খাবো বলে। এরপর আরো কত বইয়ে কত ক্রানা এসেছে, ত্রাতুলের জগতের মত কেউ হলো না - হতেই পারলো না।
এত বছর পরে রিভিউ লিখতে বইটা খুলতে হয় নি একবারও। চরিত্রগুলি সব মনে আছে। কী আর বলবো। বয়স কম ছিল, অনুভূতি ছিল প্রচণ্ড তীব্র!
This is not a review. Just personal notes…. - [ ] Tratul - [ ] Vagabond - [ ] Knows metacodes to deactivate few generations of androids and cyborgs - [ ] Removes trachioshan - [ ] Becomes kidnapped by some research org - [ ] The org fixes trichineoal in tratul’s head and integrates him in a neural connection map - [ ] Comes out of the research centre for a stroll - [ ] Faces a sit where two cyborgs are irritating a very beautiful young girl - [ ] Deactivates the cyborgs by using metacodes - [ ] Gets intro with the girl Princess Ria, genetically created, most immaculate human being who has also been brought to the cen and the trichineoal has been fixed in her brain. For few days Ria is facing different types of abnormal accidents. She thinks that the research cen is testing her reactions when she falls in any danger. - [ ] Tries to explore the last frontier of the city where they are staying now and discovers that the city ends abruptly and jumps into a void. Gets afraid and comes back. They understand at last that these consciences are staying in that prog. - [ ] Experience of real tratul: - [ ] Wakes up and finds the researcers - [ ] Comes out of the facility - [ ] Meets jigi: tech genius, freelancer, hobby is to find out the metacodes for deactivating androids and cyborgs, - [ ] Jigi and tratul intrude the research cen - [ ] Jigi fixes tratul’s interface with the neural network and tratul finds that there are 6 worlds prog inside - [ ] When Tratul enters inside the prog world, he meets a pers named khraus who created these surrealistic worlds. When asked about the intention, khraus replies that humans could estb contact with some other intelligent beings who shared the tech of creating surrealistic world in return for exchanging humans. The humans who will be exchanged are kept in these surrealistic worlds for exhibiting their behaviours to the intelligent beings. - [ ] Tratul assaults khraus and injures him. He is brought back to real world and finds themselves surrounded by sy gds and Khraus of real world. - [ ] They are captured and imprisoned with genetically created worst human being of the world. His name is Nuriga. Nuriga is taken for neural connection mapping. - [ ] At last in the real world,tratul and jigi finds a space craft from other civilization and understands that the immaculate and worst person of world are being deported to other world. They rigs the space craft power suss and the craft explodes while taking off from launch pad. - [ ] At the end worst person nuriga dies to save two cyborg from the fire of explosion; eventually all can come out of the surrealistic world except Nuriga.
This entire review has been hidden because of spoilers.
শুরুটা বেশ অন্যরকম ছিল। ক্রমে উপন্যাসটি সেই গড-কমপ্লেক্সে ভোগা ভিলেইন আর মিসফিট হিরোর টক্করে পরিণত হল। নেহাত উঁচু মানের লেখনী; তাই ছাড়ার কোনো উপায় ছিল না।
বেশ অনেকদিন পর জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশন পড়লাম। সায়েন্স ফিকশন জনরার সাথে পরিচয় স্যারের বই থেকেই। বইয়ের প্লট বেশ চমৎকার। গল্প শুরু হয়েছে ত্রাতুলকে দিয়ে। ত্রাতুল অন্যরকম একজন মানুষ যে স্বেচ্ছায় নিজের ট্রাকিওশান খুলে ফেলে স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকার জন্য। রোবোট, সাইবর্গ বা এন্ড্রয়েড তার একেবারেই পছন্দ না। কিন্তু তাকে স্বাধীনভাবে থাকতে দেওয়া হয়নি, তার মাথায় জোরপূর্বক ট্রাকিওনাল ডিভাইস লাগিয়ে দেওয়া হয়। তার একটা দ্বিতীয় স্বত্বা সংরক্ষন করা হয় ডাটাবেসে। সেখানে তার সাথে পরিচয় রিয়া, রাজকুমারী রিয়ার সাথে। রিয়ার পরিচয় হলো সে পৃথিব/ইর সবচেয়ে নিখুঁত ভালো মানুষ। তাকে সৃষ্��ি করা হয়েছে জেনেটিক কোড ব্যাবহার করে। তার সম্পূর্ন বিপরীত চরিত্রের মানুষ হলো নুরিগা। পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুর মানুষদের জিন ব্যাবহার করে তাকে তৈরি করা হয়েছে। পরাবাস্তব জগতে যাওয়ার পর তারা বুঝতে পারে এটা আসল কোন জগৎ না, বরং তারা আসলে কোন এক অখ্যাত ডাটাবেসের কিছু অর্থহীন সংখ্যার সমষ্টি। এরপর তারা যোগাযোগ করে বাস্তব জগতের ত্রাতুলের সাথে। ত্রাতুর তার পাগলাটে বন্ধু জিগি কে সাথে নিয়ে শুরু করে তার অপর অস্তিত্বকে বাঁচানোর অভিযানে।
জাফর ইকবাল স্যারের লেখার মধ্যে আশ্চর্য একটা সাবলীল বৈশিষ্ট্য আছে, যার জন্য কিছুদিন পর পর, বা রিডার্স ব্লক শুরু হলে ওনার কথাই প্রথমে মনে পরে। জাফর ইকবাল স্যার বেশিরভাগ বইয়ে চেষ্টা করেন সমাপ্তিটা একটু আনন্দদায়ক করতে। এই বইটাও তার ব্যাতিক্রম না। তবে বই শেষ করে একটা অম্ল-মধুর অনুভূতি হবে। এমন একজন চরিত্রের জন্য খারাপ লাগবে, যার কথা এখন বললে আপনি বিশ্বাস ও করতে পারবেন নাহ! রিয়া নতুন ধরণের কোন চরিত্র নয়, বরং স্যারের আরো কিছু বইয়ে এইরকম চরিত্র দেখেছি আমরা। ত্রাতুলকে নিয়ে সেরকম কিছু বলা হয়নি, বলার সেরকম প্রয়োজন ও নেই, স্যারের আর পাঁচটা বইয়ের প্রধান চরিত্রের মতো সেও বেশ চালচুলোহীন, বুদ্ধিমান, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সমাজব্যাবস্থার প্রতি বীতশ্রদ্ধ যুবক।
ম্যাট্রিক্স মুভিটা দেখে মনে হল হয় এই উপন্যাস থেকে আইডিয়া নিয়ে ম্যাট্রিক্স তৈরি হয়েছে, নয় ম্যাট্রিক্স থেকে আইডিয়া নিয়ে এই বই রচিত হয়েছে [মজা করলাম!]। এরপর প্রকাশের সন দেখলাম। ম্যাট্রিক্স বেরিয়েছে ১৯৯৯ সালে আর এটা বেরিয়েছে ২০০৩ সালে। মাথার পেছনদিকে একটা ছিদ্র করে সেখানে প্লাগ লাগানোর ব্যবস্থা আর যাই হোক শতভাগ ম্যাট্রিক্সিয় অনুকরণ। প্লাগ ইন করে অন্য জগতে চলে যাওয়া ফিরে আসা সমাধান করা এগুলো সেটাই প্রমাণ করে। সবচে বড় জিনিসটা হল ভার্চুয়াল বাস্তবতা। এটা হয়তো নাটকীয়ভাবে মিলে গেছে নয়ত অনুকরণ করা হয়েছে। তবে আমরা জাফর ইকবালের পাঠকেরা অনেকেই এটা শুনে খুব একটা খুশি হব না, আমরা সবসময়ই শুনতে চাইবো এটা যেন মৌলিক হয়। এমন হয়েছে সেজন্য তাকে খারাপ চোখে দেখা ঠিক নয়। অন্য ভাষার একটা আইডিয়া বাংলা ভাষার উপযোগী করে একটা কিছু সৃষ্টি করাও অনেক কিছু। সেবা প্রকাশনীর অনেক অনেক বইই কিন্তু "অনুকরণ" কিংবা "ছায়া অবলম্বনে" রচিত হয়েছে। এজন্য কিন্তু তাদের নকল করার অপরাধে অপরাধি করা হয় নি। আর জাফর ইকবাল শুধু "ত্রাতুলের জগতে"ই এটা করেন নি। তার অন্য দুইটা [বা দুইয়ের অধিক] গল্পেও এই আইডিয়া ব্যবহার করেছেন।
জাফর ইকবালের এই বইটা নিয়ে আমার ফেসবুকের এই পোস্টে অনেক আলোচনা হয়েছে।
ত্রাতুল আধুনিকতার সব সাইবর্গ, এন্ড্রয়েড,বাইভার্বাল, রোবট এদের সহচর্য পছন্দ করে না। এসব থেকে মুক্ত থাকতেই নিজের “ট্রাকিওশান” ডিভাইস খুলে ফেলে।ট্রাকিওশান খুলে ফেলার পর তার জীবনে বেশ একটা পরিবর্তন ঘটে।একদল মানুষ তাকে তুলে নিয়ে যায়।সেখানে তার মস্তিষ্কের নিউরাল ম্যাপিং করে আলাদা এক সত্ত্বার সৃষ্টি করা হয়।সেটা জমা থাকে আলাদা তথ্য ভান্ডারে।ত্রাতুলের সেই সত্ত্বার সাতগে দেখা হয় জেনেটিক কোডিং করে সৃষ্টি করা পৃথিবীর সবথেকে নিখুত মানুষ রাজকুমারী রিয়ার সাথে।তারা বুঝতে পারে তারা পরাবাস্তব জগতে আটকা পরে আছে।সত্যিকারের ত্রাতুল তার বন্ধু জিগির সাহায্যে পরাবাস্তব জগতে পরাবাস্তব জগতের স্রষ্টা খ্রাউসের সাথে দেখা করে।বাস্তব জগতে খ্রাউস তাদের আটক করলে তাদের দেখা হয় জেনেটিক কোডিং করে সবথেকে খারাপ মানুষদের জিন দিয়ে তৈরি পৃথিবীর সবথেকে খারাপ মানুষ নুরিগার সাথে।যাকে খ্রাউস পরাবাস্তব জগতে পাঠায় ত্রাতুল আর রিয়াকে হত্যা করতে।কিন্তু নুরিগা সেখানে তাদের সাহায্য করে।খ্রাউস জেনেটিক কোডিং করে রিয়া আর নুরিগাকে সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে।সে মহাজাগতিক প্রাণীর হাতে তাদের তুলে দেবে তার বদলে প্রাণীটি প্রযুক্তি দেবে।ত্রাতুল বুঝতে পারে খ্রাউস আসলে মানুষের ডিকয়।খ্রাউস যখন রিয়া আর নুরিগাকে মহাকাশযানে করে মহাজাগতিক প্রাণীটির কাছে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি ম নিচ্ছে তখন ত্রাতুল ম্যাক্সওয়েলের সুত্র ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় শক্তি সৃষ্টি করতে বাধা দেয়।খ্রাউসকে হত্যা করা হয় কিন্তু মারা যায় নুরিগাও।ত্রাতুল আর রিয়ার পরাবাস্তব জগতের স্মৃতি তাদের কাছে ফিরে আসে।
ত্রাতুল একটু অন্যরকম। স্বেচ্ছায় নিজের ট্রাকিউশান খুলে ফেলেছে কারণ বাঁধাধরা গতানুগতিক জীবন তার ভালো লাগেনা (আমার ক্ষেত্রেও একই)। কিন্তু ডিভাইসটা খুলে ফেলার একটা বড় বিপদ আছে। মানুষ হিসেবে ডাটাবেসে তার কোনো তথ্য আর থাকবেনা, ফলে যে কেউ যেভাবে চায় ব্যবহার করতে পারবে, চাইলে খুনও করতে পারবে, বানাতে পারবে ল্যাবের গিনিপিগও।
ত্রাতুলকে তেমনিভাবে একটা ল্যাবের গিনিপিগ বানানো হয়। সাময়িকভাবে অবশ্য। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পর ত্রাতুল বুঝতে পারে সে অনেক বিশাল মহাজাগতিক একটা চক্রান্তের অংশ হয়ে পড়েছে।
পুরো বই জুড়ে দুই জগতের দুই কাহিনী প্যারালালি চলেছে। বেশ ইন্টারেস্টিং। এবং মুহম্মদ জাফর ইকবাল সাসপেন্স ধরে রাখতে পেরেছেন। প্রায় পেজ টার্নার বলা যায়। দ্বিতীয় ব্যাপারটা হলো - পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ নুরিগা চরিত্রের সৃষ্টি। এই চরিত্রের মাধ্যমে লেখক 'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' - এই মেসেজটাই দিয়েছেন।
মুহম্মদ জাফর ইকবালের প্রায় কাহিনীতেই একটা কমন থিম থাকে। প্রচন্ড শক্তিশালী ও শয়তান কোনো একনায়ক/রাষ্ট্রপ্রধান/বিজ্ঞানী/সংস্থার মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে এক সাধারণ সামান্য যুবক মাথা তুলে দাঁড়ায় ও শেষমেশ তাদের মহাপরিকল্পনা বানচাল করে সিংহাসন থেকে টেনে নামিয়ে আনে। যেমনটা আমরা দেখেছি ক্রোমিয়াম অরণ্য, পৃ, একজন অতিমানবী, ত্রিনিত্রি রাশিমালা ইত্যাদিতে। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি....
জাফর ইকবালের অনেক সায়েন্স ফিকশন পড়া হতো স্কুলে পড়াকালীন সময়। বয়সটা তখ�� সেরকম ছিলো যে যেটাই পড়ি ভালো মনে হতো। তারমধ্য কিছু কিছু বই পড়ে ভিন্ন এক অনুভূতি হতো। আনন্দ? না। বিরহ, একাকীত্ব এবং ভালোলাগা। বইটি শেষ করে নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছিলো। হয়তো ভুলেই গিয়েছিলাম পৃথিবী নামক গ্রহে আমার বসবাস, কোনো বইয়ের ভুবনে নয়। আফসোস লাগছিলো, বইয়ের জগতটাই তুলনামূলক বেশী ভালো লাগছিলো কিনা। মনে দাগ কেটে দিয়েছিলো ফিকশনটা যা এতোবছর পর এসেও আমি উপলব্ধি করতে পারি।
আমার পড়া প্রথম সায়েন্স ফিকশন। ২০০৩ সাল তখন খুব সম্ভব। জটিল ছিলো কিছুটা, বাস্তব ও পরাবাস্তব জগৎ নিয়ে গল্পটা, কিন্তু সেজন্যই ভালোও লেগেছিল খুব। জটিল সায়েন্স ফিকশন হলেও চরিত্রের বৈশিষ্ট্য আলাদা করে বোঝা যায়। তারা যেন খুব সচল সজীব বইয়ের দুনিয়ায়। এতোবছর পর আবার পড়েও খুব ভালো লাগলো। সময়ের ঘাত সহ্য করে টিকে যাবে আশা করি। ক্ল্যাসিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর কোন তুলনা হয় না আসলে।