Anisul Hoque (Bangla: আনিসুল হক) is a Bangladeshi screenwriter, novelist, dramatist and journalist. He graduated from Bangladesh University of Engineering and Technology, trained as a civil engineer.
His inspiration in journalism and writing started during his student life. After his graduation he joined to serve as a government employee but resigned only after 15 days. Instead he started working as a journalist. He attended the International Writing Program at the University of Iowa in 2010. Currently, Hoque is working as an Associate Editor of a Bengali language daily, Prothom Alo.
His novel মা was translated in English as Freedom's Mother. It was published in Maithili too. He was honored with Bangla Academy Award in 2011.
স্বাধীনতা একটা সামগ্রিক ফেনোমেনা। সবকিছুরই স্বাধীনতা হয়। সাহিত্যের স্বাধীনতা, ছবির স্বাধীনতা, স্বাধীনতা ভাষা ইত্যাদি। সার্থক স্বাধীন হতে গেলে যেটা তৈরি করতে হয়, সে হচ্ছে প্রকাশের ভঙ্গি বা স্টাইল। সেটাই শেষপর্যন্ত মানুষের আত্মপরিচয় হয়ে ওঠে, কনটেন্ট ওই অর্থে কিছু নয়। একই গল্প আপনিও করতে পারেন, আমিও করতে পারি। দুইজনে একইভাবে বললে গল্পটাই থাকছে, কে বলছে সেইটে আর থাকছে না। জয়েস যখন হোমারকে ডিকনস্ট্রাকশন করলেন তখন সেটা জয়েসের নামেই চলে। সকলে তো গল্পটা একভাবে দেখবে না। একই জল কারো কাছে অমৃত, আবার কারো কাছে পানি। যে বলবে তাকেও ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে হবে, না হলে সে হবে কেবলই কথক।
উপহার হিসাবে পাওয়া সূত্রে এই বই পড়া। এটা ইতিহাসের বই না, উপন্যাস। এইজন্যই হয়ত সুখকর অনুভূতির জায়গায় হতাশার পাল্লাটাই একটু বেশি ভারি। হয়ত এই বইটাও ক্রাচের কর্নেল, সাক্ষী ছিলো শিরস্ত্রাণ কিংবা একাত্তরের দিনগুলি এর মতো দারুণ কিছু একটা হতে পারত। হয়ত অনেকের কাছেই এই বইটা বেশ পছন্দের। হয়ত আমি তেমন একটা পড়তে পাড়িনা। কিন্তু সাদামাটা লেখা আর নিউজ আর্টিকেলের মতো বর্ণনা করে এইভাবে দারুণ একটা সম্ভাবনাময় প্লটের বারোটা বাজানোর কি দরকার ছিলো কে জানে। হয়ত হাতে একটু সময় নিয়ে আস্তে আস্তে লিখলেও কিছু একটা হত।
কেউ আনিসুল হকের কিছু গিফট কইরেন না, এমনিতে বাসায় তেমন একটা জায়গা নাই। আপাতত এইটুকুই।
গত দেড় বছরে সবচেয়ে বেশি হতাশ করা বই। কেবল শেষ পৃষ্ঠা ছাড়া পুরো খন্ডই মনে দাগ কাটেনি। ঐতিহাসিক উপন্যাসের চরিত্র যখন শেখ মুজিব আর তাজউদ্দীন হন, প্রত্যাশা তখন আমার আকাশচুম্বী থাকে। প্রচুর বইটই ঘেঁটে লেখা, বোঝা যায়। সেই বইগুলোর কিছু পড়েছি। অতএব কল্পনা বিস্তারের যে সুযোগগুলো লেখক নষ্ট করেছেন, তাও খারাপ লেগেছে। লেখকের প্রচেষ্টায় সাধুবাদ জানাই, তবে মনে হয়েছে- যেন দুর্দান্ত একটা প্লটের অপমৃত্যু হলো বইটায়।
আমার খুব পছন্দের জনরার বই। কল্পনা আর ইতিহাস চমৎকার হাত ধরাধরি করে চলেছে, কোনোটাই কম বা বেশি না।সহজ-সুন্দর ভাষা, তথ্যের একটুকু বাড়াবাড়ি নাই। কথক হিসেবে ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমীর উপস্থিতিটাও দারুণ।
নিঃসন্দেহে অসাধারণ একটা বই। ক্ষাণিক কল্পনার উদ্রেক ঘটিয়ে, দেশভাগের পর থেকে ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত মুখ্য সকল ঘটনা খুব সুনিপুণভাবে তুলে এনেছেন। উপন্যাস বলা হলেও, আদতে এটি একটি ইতিহাস নির্ভর বই। বাংলার ক্রান্তিকালে যেসকল মানুষ নিজ স্বার্থের উর্ধ্বে গিয়ে দেশের জন্য লড়েছেন, আছে তাদের স্যাক্রিফাইস আর স্ট্রাগলের কথা। সুপাঠ্য।
আবুল হাশিম বললেন , 'একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছি । তাতে লিখেছি , মুসলিম লীগের কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্ত তিন প্রকার ভয়ের পরিনাম - এক. জিন্নাহর প্রতি চিরাচরিত ভীতি , দুই. অনিশ্চিত ভবিষৎ সম্পর্কে শঙ্কা আর, তিন. জিন্নাহ অসন্তুষ্ট হলে ভবিষ্যতে পাকিস্তানে সরকারি পদ পেতে অসুবিধা হবে , এই ভয়। তাজউদ্দীন কেমন হলো আমার বিবৃতিটা ?' আবুল হাশিম জিজ্ঞেস করলেন। 'ভালো। কিন্তু এই সব বলে এখন কী হবে ?' 'বলে রাখলাম। ভবিষ্যতের ইতিহাস জানবে , আবুল হাশিম প্রতিবাদ করেছিল '
ভবিষ্যতের ইতিহাস জেনেছে।........
'#যারা ভোর এনেছিল' মূলত দেশ ভাগ এর কিছু সময় পূর্ব থেকে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন এই সময় এর উপর একটি ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস। যেখানে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, কামরুদ্দিন আহমদ, তাজউদ্দীন আহমদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ আরো অনেক সংগ্রামী মানুষদের সংগ্রাম এর কথা উঠে এসেছে।
বইটা পরে খুবই ভালো লেগেছে। জানা হয়েছে অনেক অজানা তথ্য, সাথে জেগেছে অনেক প্রশ্নও, অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি আবার কিছু প্রশ্নের উত্তর এর জন্য আরো পড়তে হবে । আমাদের ভাষা আন্দোলন যে শুধু একদিনের সংগ্রাম নয় বহু আগেই যার বীজ বপন করা হয়েছে আর সংগ্রামী মানুষগুলা একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে গেছে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে। তারই বর্ণনা ফুটে উঠেছে এই বইতে। অত্যন্ত সরল স্বাভাবিক ভাষায় লেখা হয়েছে বইটি। কিছু কিছু জীবন একেবারে জীবন্ত হয়ে উঠে এসেছে চোখের সামনে। শেষের দিকে এসে একেবারে টান টান উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে , আপনি জানেন ঘটনা কি হয়েছে বা কি হতে যাচ্ছে তারপরও ওই সময় আপনি বই থেকে উঠে আসতে পারবেননা।
সবশেষে সেই সংগ্রামী মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা, যাদের সংগ্রামের কারণে আমাদের এই বাংলা ভাষা। আর ধন্যবাদ আনিসুল হক স্যার কে এতো চমৎকার একটি ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস লেখার জন্য।
> যারা আমাদের জন্য ভোর এনেছিলেন নিজেদের জীবন তুচ্ছ করে তাঁদেরকে ফিরিয়ে দেবারতো আমাদের কিছু নেই। অন্তত বইটা পড়ে নাম শুনে তাঁদের ত্যাগ দেখে একটা -দুটো দীর্ঘশ্বাস কি ফেলতে পারবো না তাঁদের জন্য। সেটাই অনেক হবে অন্তত তাঁদের নামগুলো জানা...।
এরপরও যদি পারা যায় - যারা ভোর এনেছিলেন তাঁদের জন্য একটা সুন্দর দিন আনার চেষ্টা করা যেতে পারে। তাইযে চাইতেন তাঁরা।
বঙ্গবন্ধু,তাজউদ্দীনের মতোন চরিত্র নিয়ে ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখা যা আসলেই অনেক টাফ,এই বইটা তার ভালো উদাহরণ।লিখবার উদ্দেশ্য মহৎ ,তবে দাগ কেটে যাওয়ার মতো কোনোকিছু না।আনিসুল হকের লেখা ভালো লাগলে পড়া যায়,তবে তার শ্রেষ্ঠ বইগুলোর একটা এই বইটা না।
যারা ভোর এনেছিল লেখকের ঐতিহাসিক সিরিজ উপন্যাসের প্রথম পর্ব। এই পর্বে লেখক দেশভাগের কিছুটা আগ থেকে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত তুলে এ���েছেন। তাঁর মূল ফোকাস যাঁরা ঐ সময় দেশের রাজনীতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সোহরাওয়ার্দী ,মুজিব আর তাজউদ্দীন পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি মন���যোগ।
একবাক্যে বললে বইটা হতাশ করেছে। এত সুন্দর একটা প্লট অথচ এত সাদামাটা বর্ণনা আর ভাষারীতি যে বিরক্ত হতে হয়েছে। ভাষার কোনো কারুকাজ নেই, পত্রিকা রিপোর্টের মতো শুধু বর্ণনা করে গিয়েছেন অনেকটা। সাথে চরিত্রগুলোর সাথে একাত্ম হতে না পারার বিষয়টা তো ছিলই। মানে বলতে চাচ্ছি লেখক যে একবিংশ শতাব্দীতে এসে বইটা লিখেছেন কিন্তু পাত্রপাত্রী আর ঘটনা যে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝির সেটা মনে হয় ভুলে গিয়েছিলেন। অনেক আগাম কথাবার্তা, অনেক বাড়াবাড়ি প্রশংসা, অনেক বৃথা ঘৃণা প্রকাশ রয়েছে পুরো বইয়ে। ঘটনা ও তার ভবিষ্যৎ বর্ণনাতে ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমীর চরিত্র হয়তো মেনে নিতাম কিন্তু ওদের মুখ দিয়ে লেখক যেসব ছড়া বলিয়েছেন তা বিরক্তিকর ছিল।
ভালো দিক বলতে গেলে কিছু কিছু নতুন বিষয় জানতে পেরেছি আর ১৯৪৭-৫২ এর ইতিহাস ঝালাই হয়ে গিয়েছে বইটা পড়তে গিয়ে – একটুকুই।
চল্লিশের দশক থেকে পঞ্চাশের শুরুর সময় পর্যন্ত এই উপন্যাসের গল্প। মুলত শেখ মুজিব এবং তাজ উদ্দিনের জীবনের গল্প। তাদের কেন্দ্র করে ঘুরপাক খাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বাংলা ভাগ। দেশ ভাগ। পাকিস্তানের শাসন আমলে পূর্ব বাংলার ভোগান্তি। আওয়ামী লীগের জন্ম, ছাত্রলীগের জন্ম। শেখ মুজিবের রাজনৈতিক লড়াই। সব কিছু এসে মিলেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে। আনিসুল হকের লেখা আমার তেমন ভাল লাগে না। ফ্লাট। তেমন রসবোধ পাই না। জাস্ট জানার ইচ্ছেয় শেষ পর্যন্ত ৩০০ পৃষ্ঠার বই পড়েছি। নির্ভেজাল ইতিহাস মনে করে পড়েছি ভাল লেগেছে। এত বিরক্ত লেগেছিল মাঝে যে হুমায়ুন আহমেদের "কে কথা কয় " পড়ে আমার ইন্টারেস্ট গ্রো করে আবার পড়েছি। যাই হোক সত্যি কথা হল বাংলাদেশের ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালা বদল খুব প্রাঞ্জল ভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। তাই ৫ তারকা দিলাম। সবার জন্য অবশ্য পাঠ্য।
শুধু উপন্যাস হিসেবে এই বই ৩ তারকা পেতে পারে। বড় দরদ ঢেলে আনিসুল হক বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র শেখ মুজিবকে সাজিয়েছেন। এত মমতা নিয়ে সাজানো গল্প পড়তে মন্দ লাগার কোনো কারণ নেই। কিন্থ ভাষা আন্দোনলের গল্পে যে শেষ রচিত, তাকে শেখ মুজিবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়ানো দেখার পর ইতিহাসের চোখে একটুখানি কষ্ট কাগার কথা। না, হলো না।
আনিসুল হক একটা কথা সত্যি বলেছেন। এটা ইতিহাস না, উপন্যাস। যদিও আনিসুল হকের ম্যাগনাম ওপাস সিরিজ এটা হতে পারেনি, সে জায়গা থাকবে 'মা'-এর দখলেই। তবে উপন্যাস এবং শুধু উপন্যাস হিসেবে মন্দ নয়। আমি তাই আগ্রহ নিয়েই শুরু করেছি পরবর্তী পর্ব- উষার দুয়ারে।
ঐতিহাসিক উপন্যাস হিসেবে বইটি সুখপাঠ্য। লেখার সাবলীলতা প্রতিটি ঘটনাকে চোখের সামনে অসাধারণ প্রতিরূপ সৃষ্টি করে। এটি ট্রায়োলজির প্রথম খন্ড। ঊষার দুয়ারে এবং আলো আঁধারের যাত্রী এই ট্রায়োলজির অপর দুইটি বই। আমার একজন প্রিয় লেখক আনিসুল হক। সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে তাঁর লেখনীর সরলতা ও সাবলীলতা আমাকে মুগ্ধ করে।
দেশভাগ থেকে ৫২ পর্যন্ত প্রধানত শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিহাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার প্রয়াস করেছেন লেখক।
'যারা ভোর এনেছিল' সেই সব মহান নেতাদের গল্প। ঘোর অমানিশায় যারা দেখতে পেয়েছিলো আলোর রেখা, যারা জীবন বাজি রেখে আলোর পথ দেখিয়েছে এই বাংলার মানুষদের।
গল্পোচ্ছলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আর তাজউদ্দিন আহমেদের শৈশব থেকে যৌবন পর্যন্ত বর্ণনা করেছে লেখক আনিসুল হক। বৃটিশ ভারত, দেশভাগ আর দেশভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানে এই দুই ব্যাক্তি ও তাদের সহকর্মীরা কিভাবে একে একে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে নিজেদের ব্যাক্তিত্ব দিয়ে জয় করে নিয়েছিল সাধারণ জনগণের মন আর উপেক্ষা করেছিল শাসকদের রক্তচক্ষু তার গল্প পাওয়া যাবে এ উপন্যাসে।