ফ্ল্যাপে লিখা কথাঃ লাশকাটা ঘরের পলিথিন বিছানো নোংরা টেবিলে আমার শরীর চিত হয়ে আছে। গায়ে আমার কোনো কাপড় নেই। টেবিল থেকে ফিনাইলের কঠিন গন্ধ আসছে। ঘরের জানালা আছে। জানালায় হলুদ রঙের পর্দা ঝুলছে। পর্দা নোংরা। সেখানে কিছু বড় বড় নীল রঙের মাছি বসে আছে। মাছিগুলো কিছুক্ষণ বসে থাকে আবার ওড়াউড়ি করে পর্দার ওপর বসে। ঘরের চারটা দেয়ালের একটায় চুনকাম করা হয়েছে। সেখানে কেউ নোংরা কথা লিখেছে।
ভূমিকাঃ প্রথম আলো ঈদসংখ্যার জন্য যখন আমি এই উপন্যাস লিখি, তখন ক্যান্সার নামক জটিল ব্যাধি আমার শরীরে বাসা বেঁধেছে। এই খবরটা আমি জানি না। ক্যান্সার সংসার পেতেছে কোলনে, সেখান থেকে রক্তের ভেতর দিয়ে সারা শরীরে ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনো এক অদ্ভুত কারণে আমার অবচেতন মন কি এই খরবটা পেয়েছে? আমার ধারণা পেয়েছে। যে কারণে আমি উপন্যাস ফেঁদেছি একজন মৃত মানুষের জবানিতে। উপন্যাসে এক মহিলার কথা আছে, যার হয়েছে কোলন ক্যান্সার। সেই ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে সারা শরীরে। বাসা বেঁধেছে লিভারে, ফুসফুসে। হঠাৎ এইসব কেন লিখলাম? জগৎ অতি রহস্যময়।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
সপ্তাহখানেক হয়, ফেসবুকের স্ক্রলকে রেহাই দিয়েছি। বাংলা বইগুলো ধরলে শেষ হয়ে যায়। ইংরেজিগুলো কোথাও না কোথাও থেমে থাকে। এক, ইংরেজি ভাল পারি না। দুই, ইংরেজি আমাদের জন্য না। যেটুকু পড়তে হয় বিপদে পড়ে পড়তে হয়। মাঝে মধ্যে মনে হয় আনন্দে কি মন্দে বই ছুঁড়ে দেই আকাশে। পাতাগুলো কেটে কুটে একাকার করে রাখি, তারপর আগুন দিয়ে বইয়ের আলোয় আলোকিত হই। ধ্বংস করার আনন্দ বড় জম্পেশ। আমরা গরিব দেশের ছোকড়া বলে সে ধ্বংসের আনন্দের সুযোগ আমাদের নেই, আর সৃষ্টির আনন্দের ব্যাপার আমাদের বিমূর্ততাঘেরা। কল্পনা সৃষ্টির ক্ষমতা না থাকলে উপমহাদেশের ছোকড়ারা কখনো সৃষ্টির আনন্দ পেত না। এ গল্পটায়ও ফেসবুকের কথা আছে, আমি খেয়াল করেছি, পাশ্চাত্য আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে প্যাসকেলের তরল পদার্থের চাপের সূত্রের মত। সুযোগ পেলেই সুরুৎ করে সোজা ঢুকে পড়ে। মেঘের উপর কারো বাড়ি হয় না, পৃথিবীর সবার বাড়ি মেঘের নিচে। মেঘ একটা কল্পনার দেয়াল, ভাসা ভাসা ভেলাটাইপ দেয়াল। ওটার ওপারে কল্পনার পসার। মৃত্যু কত না চিন্তার খোরাক আমাদের! আমরা যতই নিরাকারসত্তার কথা বলি না কেন সত্যি হল আমরা ভালবাসি মূর্তি। মৃত্যুর পর দেহে প্রাণ থাকে না, অথচ সেই দেহ নিয়েই আমাদের সমস্ত আহাজারি। প্রাণহীণ দেহ আমাদের কেউ না, এটা আমরা মেনে নিতে চাই না। তাই কখনো কখনো জীবিত মানুষের প্রতি ভালবাসার চেয়ে মৃত অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মানুষই সকল নাটকের সব-- স্রষ্টা, অভিনেতা, ভিকটিম, দর্শক...পাঠক... এমন নির্বিকার রুবিনা বাস্তবে নেই বোধয়। না থাকাই ভাল। থাকলে টিকবে না।
I think its almost poetic that one of the very last book Humayun Ahmed wrote before dying (apparently on his deathbed) was about a person who JUST died in his hospital room but somehow his consciousness was still around. We witness the whole aftermath of his death situations from his 1st person narrative, and I guess if for nothing else, this book is unique at least for that angle.
The story as a whole is not so bad either, and as soon as a DB Detective entangled himself with the story to find out more about that "mysterious" death, we got a nice little murder mystery too. Although most of the characters are seemingly predictable for an avid Humayun-reader like myself, in the end its nice to see that not everyone is as clearly figured out as it seemed (or force-changed in the end just to appeal to the reader) and there's a naturally deeper different face for almost everyone under the false exterior.
Anyway, I'd say not to expect too much from this book of only 96 pages, I didn't have ANY expectations and it was a nice little surprise! It was not at all a coincidence that the central "dead" character was also a University professor like our author...I'm just glad that even while he's on Cancer-bed, the end product STILL turned out to be a classic timepass Humayun!
হুমায়ূন আহমেদের অনেক বই আছে যার শুরুটা হয় প্রমিসিং ভাবে, কনসেপ্টও থাকে চমৎকার। কিন্তু গল্প এগুতে এগুতে তা সাদামাটা হতে থাকে৷ শেষমেষ তা খুব পরিচিত কোনো গল্পে পরিণত হয় শেষ।
এ বইয়ের শুরুটাও চমৎকার। আর কনসেপ্ট তো অভিনব। মৃত্যুর মাত্র বছরখানেক আগে লেখক লিখে গেলেন একজন প্রফেসরের গল্প- যিনি মাত্রই মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে তার আত্মা এখনো সজাগ, ঘুরে বেড়াচ্ছে একজন অবসারভার হিসেবে তার তার পার্সপেক্টিভ থেকেই গল্প বলা হচ্ছে। প্রফেসর সাহেবের মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয় ধূম্রজাল। এটা হত্যা না তো? সন্দেহের তীর তার রূপবতী স্ত্রীর দিকে। গল্প এগুতে থাকে...
বইয়ের সবচে সুন্দর বিষয় হলো, এটা আদতেই একটা উপভোগ্য, তৃপ্তিদায়ক লেখা। ২০০০ পরবর্তী টিপিক্যাল হুমায়ূনীয় নেকামির বাইরে গিয়ে এমন এক কনসেপ্টে লেখা যেখানে মেধাবী লেখনীর ছাপ ছিলো গল্পের গাঁথুনি আর কাহিনী-বর্ণনায়৷ পুরো বইটাই উপভোগ করেছি। আর শেষ করে বারবার মনে হচ্ছিলো, পরকালের জীবনে হুমায়ূন স্যার এখন কেমন আছেন? মন খারাপ হলো, এরপর তার জন্য হাত তুললাম- আল্লাহ তায়ালা যেনো এই অসম্ভব বইপ্রেমী মানুষটাকে জান্নাত নসীব করেন এবং সেখানে তার কল্পনার চেয়েও সুন্দর একটা লাইব্রেরী দিয়ে তার জান্নাত সাজিয়ে দেন।
হুমায়ুন এর বইগুলা এমন-ই।শেষটায় কি হবে পড়ে শেষ না করা পর্যন্ত বুঝতেই পারি না।এই ইএসপি ক্ষমতা বলে যে কিছু আছে তা আমি বিশ্বাস করি না।তাই এশার ক্ষমতা দেখানোর জায়গাটা ভালো লাগেনি।অন্যত্র, মন ছুঁয়ে গেছে <3
বইঃ মেঘের ওপর বাড়ি লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ ধরণঃ সমকালীন উপন্যাস পৃষ্ঠাঃ ৯৬ প্রকাশিতঃ ২০১২ রেটিংঃ ৫⭐️/৫⭐️
☁️কাহিনী সংক্ষেপঃ
অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে তবুও সে তার মৃত্যু পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা দেখতে পাচ্ছে এবং তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, পুলিশ ,ডাক্তার, নার্স সহ বিভিন্ন মানুষের কথাও শুনতে পাচ্ছেন |
যদিও তার মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়েছিল তবুও পুলিশ মনে করছে যে, অধ্যাপককে হত্যা করা হয়েছে এবং পুলিশ অধ্যাপকের স্ত্রী রুবিনাকে সন্দেহ করছে | রুবিনা খুবই উগ্র, ধূমপানকারী ও স্পষ্টবাদী হলেও খুব ভালো মানুষ | সে তার বোনের অনাকাঙ্ক্ষিত শিশুকে নিজের সন্তান হিসেবে লালনপালন করছে |
অবশেষে রুবিনা যখন নির্দোষ প্রমাণিত হয় ,তখনই অধ্যাপকের চলে যেতে হয়েছে | কোথায় চলে যেতে হয়েছে জানি না হয়তোবা মেঘের ওপর বাড়িতে |
☁️পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ
বইটি পড়ার সময় ঘোরের মতো লেগেছে এবং অনেক অভিভূত হয়েছি |
হুমায়ূন আহমেদের মেঘের ওপর বাড়ি বইটা পড়েছিলাম সেই ২০১২ সালে। সেবারই প্রকাশিত হয় বইখানা। এত বছর পর ঈদের ছুটিতে পুরাতন বইগুলা ঘাটতে গিয়ে বইটা নিয়ে আবার পড়লাম। কারণ বইয়ের কাহিনী বেমালুম ভুলে ছিলাম।
সাইকোলজিকাল ধাঁচের এই বইখানার কাহিনী মৃত ইফতেখারকে ঘিরে যিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক; যে কি না মরে গিয়েও সবকিছু দেখতে এবং শুনতে পাচ্ছে। মৃত ইফতেখারকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে একটি অজ্ঞাত কল পাওয়ায় তদন্তে নামে ইন্সপেক্টর খলিল। সাসপেক্ট হিসেবে প্রথমেই আসে ইফতেখারের স্ত্রী রুবিনার নাম। কিন্তু কাহিনীর আবর্তে শেষে এসে দেখা গেলো কাহিনী ভিন্ন। সে কাহিনী আর বলছি না। যারা পড়েননি পড়ে নিতে পারেন।
ঈদের ১০ দিনের ছুটিতে ১০ খানা বই পড়ে শেষ করার প্ল্যান করেছি। মেঘের ওপর বাড়ি ছিলো ৩য় বই।
বই - মেঘের ওপর বাড়ি লেখক- হুমায়ূন আহমেদ পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৯৫ প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ ���ুদ্রিত মূল্য - ২৫০ টাকা প্রকাশনী - অন্যপ্রকাশ
'মেঘের উপর বাড়ি' মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠার একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য উপন্যাস ।উপন্যাসটি প্রথম আলো ঈদ সংখ্যায় ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় এবং পরে অন্যপ্রকাশ থেকে বই আকারে বের হয় ।
হুমায়ূন আহমেদ যখন এই উপন্যাস রচনা করেন, তখন তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন—যদিও লেখক নিজে তখন সেই তথ্য জানতেন না, তার অবচেতন মন তা ধরে নেয়। এই মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণাকে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন মৃত একজন চরিত্রের অন্তর্জগৎ ভাবনায়, যা একটি গভীর আত্ম‑জিজ্ঞাসার চিত্র তুলে আনে ।
প্রফেসর ড. ইফতেখারুল ইসলাম হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরও তিনি আত্মা হিসেবে বিভিন্ন বাড়ির ঘটনাবলী, ভুক্তভোগী ও পুলিশি তদন্ত পর্যবেক্ষণ করেন। পুরো গল্পটি তাঁর বিস্তর ESP‑ধারণা বা অতিঅনুভবের মাধ্যমে গড়ানো।
স্ত্রী রুবিনা এক অপ্রত্যাশিত চরিত্র—ধূমপায়ী, স্বতঃস্ফূর্ত ও সমাজচ্যুত হলেও মানবিক দিক উজ্জ্বল, পুলিশ সন্দেহ নির্দোষ প্রমাণ করে তারপরই মৃত্যু নিশ্চিত হয় ।
পুলিশ অফিসার খলিলের ব্যক্তিবিশ্লেষণ, পলিন (মেয়ে)–ররণ, এবং ইন্সপেক্টিভ জটিলতা গল্পে রহস্য মিশিয়ে দেয় ।
'মেঘের ওপর বাড়ি' একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীরতাসম্পন্ন উপন্যাস, যেখানে মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থার ভাবনা, আত্মার দর্শন এবং মানুষের অবচেতন অনুভবের প্রতিফলন ঘটেছে।
রিভিউ দেখে পড়া শুরু করেছিলাম,, কিন্তু কেনো জানি মনে হচ্ছিলো ভালো লাগেনি এমন একটা রিভিউ দিতে হবে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ভালো লাগার ও উন্নতি হয়েছে, রুবিনা দুর্দান্ত একটি চরিত্র অসম্ভব বুদ্ধিমতি একজন আর পারিপার্শ্বিক সব চরিত্র সব কিছুই যেন মানানসই, সর্বোপরি রিভিউ দেখে পড়াটা স্বার্থকই হয়েছে মনে হচ্ছে।
The main character died and the whole book was snippets of what had been happening after his death that he was seeing or experiencing somehow.
The idea was good but the execution, on the other hand, not so much. The characters were nothing special. I mean we don't know enough about them. Didn't have enough context to care about any of them either. For someone who loves the thriller & mystery genre, the ending, man, it really ruined my experience with this book further. Made the whole book kind of meaningless in my opinion. Then again it just seems like that to me; other readers may feel differently. Anyway, these are just the main issues I'm pointing out right now. I don't wanna get much more into other smaller issues.
বইঃ মেঘের ওপর বাড়ি লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ প্রথম প্রকাশঃ একুশে বইমেলা ২০১২ মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০ ৳
পর্যবেক্ষণ ও কল্পনা। একজন লেখকের এই ক্ষমতা পাঠকদের সবচেয়ে বেশি বিমোহিত করে। আর এর মিশেলে যা হয় তা হচ্ছে ফিকশন। হুমায়ূন অাহমেদের অন্য লেখা গুলোর থেকে এটা একটু অালাদা। মানুষ বেঁচে থাকে একটা পরিচিত পরিবেশের মধ্যে। তখন মানুষ সব কিছু স্বাধীনভাবে করতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পরে কি হয়? আমাদের ইন্দ্রিয় গুলো কি স্বাধীনভাবে কাজ করে? কল্পনা নির্ভর মৃত্যুর পরের পরিবেশ এই উপন্যাসের উপজীব্য।
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমরা যেভাবে স্বপ্ন দেখি, ঠিক সেভাবে এক ব্যক্তি চারদিক প্রত্যক্ষ করেছেন তার মৃত্যুর পর, কিন্তু তাকে কেউ দেখতে পাচ্ছে না। পরে জানা যায় এটা পরিকল্পনাতীত খুন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে।তবে শেষপর্যন্ত জানা যায় এটা স্বাভাবিক মৃত্যু।
পড়তে তেমন ভালো লাগছিলো না, তাও শেষ করেছি। সবথেকে অবাক লাগছিল এবং হাসিও পাচ্ছিল যে মারা গেছেন তার মেয়ে পলিনের ফেসবুকে তার বাবার মৃত্যু সংবাদ দুঃখের সাথে আপডেট দেওয়ায়। হায় ! দিনকাল কি পড়লো !!🤦🤦 এটাও কোনো আপডেট দেওয়ার জিনিস !?
প্রথম যখন বইটার নাম পড়লাম, ভাবলাম খুব মজার হবে... . . আর এই আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করলাম, কিছু পাতা পড়ার পর কেন জানি আগ্রহ টা হারিয়ে ফেলছিলাম....কিন্তু হঠাৎ করেই আবার যখন আগ্রহ ফিরে পেলাম, তখন ভাল ভাবেই শেষ করতে পারলাম। ভালো লেগেছে
মেঘের ওপর বাড়ি – হুমায়ূন আহমেদ লা*শকাটা ঘরের দরজাটা অল্প খোলা। ভেতরে ঢুকতেই একধরনের তীব্র, কড়া ফিনাইলের গন্ধ নাকে এসে লাগে। টেবিলের ওপর চিত হয়ে শুয়ে আছে একটা মৃ*তদেহ—গায়ে একটুকরো কাপড় নেই। জানালার পাশে হলুদ রঙের পর্দা, তাতে বসে আছে কয়েকটা বড় নীল মাছি। তারা কখনো স্থির, কখনো অস্থির। চারপাশের দেয়াল নিস্তব্ধ, কিন্তু তাদের মধ্যে একটায় চুনকাম করা—সেখানে কেউ লিখে রেখেছে নোংরা কিছু কথা। এই দৃশ্য দিয়ে শুরু হয় উপন্যাস। যেন পাঠকের সামনে সরাসরি খুলে দেওয়া হলো মৃ*ত্যুর ঘর। ভূমিকায় লেখক বলেন, যখন গল্পটি লিখছেন, তখন তিনি জানেন না—তার শরীরের ভেতরে ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে। কোলন থেকে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে লিভার আর ফুসফুসে। কিন্তু অবচেতন মন কি তবে আগেই খবর পেয়েছিলো? না হলে কেন গল্পের কেন্দ্রে একজন মৃত মানুষ, আর তার অসুস্থতার বিবরণ যেন লেখকের নিজের শরীরেরই প্রতিচ্ছবি? এই বইয়ে মৃত্যু শুধু একটি ঘটনা নয়। এটি ধীরে ধীরে কাছে আসা এক নীরব ছায়া। এখানে জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক ধরনের রহস্য—যা আমরা দেখি না, কিন্তু ফিল করি। গল্প পড়তে পড়তে মনে হবে, আমরা সবাই হয়তো নিজের ভবিষ্যতের কিছুটা আগেই জানি। শুধু বুঝতে পারি না। লেখকের কলম সেই অদৃশ্য অনুভূতিকে শব্দে পরিণত করেছে। শেষ পর্যন্ত বইটি হয়ে ওঠে এক অদ্ভুত আয়না—যেখানে আমরা মৃত্যুর চেহারা দেখি, কিন্তু তার ভেতরে জীবনেরই প্রতিফলন খুঁজে পাই। অস্বস্তি লাগে, গায়ে কাঁটা দেয়, তবুও শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ছেড়ে রাখা যায় না। কারণ জগৎ সত্যিই অতি রহস্যময়। গল্পটা শেষের দিকে এসে হুট করে শেষ হয় গেলো। কেন জানি পরিপূর্ণ তৃপ্তি পেলাম না। তবে সবমিলিয়ে সুন্দর একটা স্প্রিচুয়াল গল্প।
কিছু বই থাকে জমানো যা কখনোই সম্পুর্ণ পড়া হয়ে ওঠে না। আমার শেষ করতে না পারা বইগুলোর তালিকায় হুমায়ূন আহমেদ এর এ বইটি ছিলো। প্রথম পাতা এবং উৎসর্গ ব্যতীত কখনো এগোইনি,তবু শেষ করার পর মনে হচ্ছিলো বইটি আমি পড়েছি আগেও , এই কাহিনি আমার জানা , আমি এ গল্পেরই অ���শ বোধহয়! যদিও Deja Vu ব্যাপারটি আমার সাথে আগেও ঘটেছে। যে ঘটনা কখনো ঘটেইনি সেটি বাস্তবে ঘটলে মনে হতে থাকে যে আমি এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি পুর্বেও ! আচ্ছা মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ঘুম আসছিলোনা বলে শেলফ থেকে নামিয়ে আবার পড়ার চেষ্টা করি, মধ্যরাত বলেই হয়তো নির্জন পরিবেশে বইটি পড়তে বেশ ভালো লাগছিলো । প্রথম প্রথম বইটির প্রতি অনাগ্রহের কারণ ছিলো গল্পটি একজন মৃত ব্যক্তির জবানবন্দিতে বর্ণনা করা হয়েছে , কিছুটা ভিন্নধর্মী তো বটেই! তাই কেমন অস্বস্তি প্রদান করছিলো আমাকে । পরবর্তীতে গল্পের ভেতর ঢুকে যাওয়ার পর দারুণ লাগছিলো। খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ছিলাম। গল্পকথক অর্থাৎ মৃতব্যক্তির স্ত্রী রুবিনা অসম্ভব বুদ্ধিমতী একজন মহিলা ।বুদ্ধিমতী নারীদের আমার ভীষণ ভালো লাগে আর এ ভালো লাগার কারণ আমি জানি । আমি ভীষণ বোকা, তাই! স্বামীর মৃত্যু হলে এবং তাঁর মৃত্যুর পর যদি শুনি তাকে খু*ন করা হয়েছে এবং খুনের দায়ে পুলিশ আমাকেই সন্দেহ করছে , তবে আমি কক্ষনো নিজেকে শান্ত রাখতে পারতাম কিনা সন্দেহ... মিস্ট্রি কেস নিয়ে লেখা বইটি ভালোই লেগেছে তবে প্রতি দু এক পাতা পরপর স্মৃতির পাতা থেকে আওড়ানো কচলানো ফিজিক্সের থিওরি আমার পছন্দ হয়নি । প্রফেসরদের আমার বেশ পছন্দ হলেও তাঁদের দিনরাত হাঁসের মতো প্যাকপ্যাক করে যেকোনো তাত্ত্বিক আলোচনা আমাদেরকে শোনানোর কোনো প্রয়োজন দেখিনা।
হুমায়ূন আহমেদের শেষের দিকের বইগুলো সেভাবে পড়া হয়নি। তাই খুঁজে পেতে এটা বের করলাম। নিজের মৃত্যু নিয়ে চিন্তা করছিলেন যখন সেরকম সময় লেখা একটা বই। বরাবরের মতই সহজ, সাবলীল লেখনী। একজন লোক মরে যাবার পর তার চারপাশের মানুষের কি হচ্ছে তা নিয়ে প্রথম পুরুষে মূল চরিত্রের গল্প বলা। যেহেতু মৃত মানুষ জীবিত মানুষের কথা শুনতে পাচ্ছে, একটা অলৌকিক ব্যাপার আছে। আবার খুনের ব্যাপার ঢুকিয়ে একটা ডিটেক্টিভ আমেজও আবার চেষ্টা করা হয়েছেন। সবাই মূল চরিত্রকে ভালবাসে, মূল চরিত্র কিছু জ্ঞানের কথা বলে যা থেকে আমরা জানতে পারি যে লেখক সেই জটিল পদার্থবিজ্ঞানের ব্যাপারগুলো নিয়ে জ্ঞানবান। রূপবতী অল্পবয়সী স্ত্রীরা। পুলিশের স্ত্রীর চেহারা কিশোরী-কিশোরী। মূল চরিত্রের স্ত্রী অসম্ভব রূপবতী। বাসার কাজে সাহায্য করা চরিত্রদের ব্যাঙ্গময় কার্যকলাপ বা সংলাপ। পুলিশের অদ্ভুত আচরণ। সাধারণত মানুষ যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেয়, স্বামীর মৃত্যুর পর মূল নারী চরিত্রের ভিন্ন আচরণ। যেভাবে আমরা ভাবি একটা বাস্তব চরিত্রকে দেখব, তার থেকে একটু ভিন্ন ভাবে চরিত্রদের উপস্থাপন। কিছুটা হাসি যোগায়, কিছুটা একঘেয়েমি দুর করে। টিপিকাল হুমায়ূন আহমেদের গল্প। আর শেষটা যেন হঠাৎ করে আসা। শেষে কোনো একটা চরিত্রের অবাক-করা তথ্য জানতে পারা। গরগর করে পড়তে ভালো লাগে, কিন্তু দ্বিতীয়বার পড়ার কোনো প্রয়োজন বোধ হয় না।
বই-মেঘের ওপর বাড়ি লেখক-হুমায়ূন আহমেদ পৃষ্ঠা-৯৫ রেটিং -⭐⭐/৫
রেটিং দিতে গিয়ে নিজেরই কষ্ট হচ্ছে। এই মানুষটার কোনো লেখা বই আমার ভালো লাগবেনা এটা ভাবতে পারিনি। বইটা ঠিক মন ছুঁতে পারেনি। খুবই আশাহত হয়েছি। নাম টা যতটা বেশি আকর্ষণ করেছিল ঠিক সেই পরিমাণ আশাহত হয়েছি। রহস্যের ছোঁয়া ছিল কিন্তু বড্ড ম্যারমেরে লাগলো। আবার আত্মার পয়েন্ট অফ ভিউ দিয়ে একটা গল্প পড়া এটাও একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা।সব মিলিয়ে দুটি তারার বেশি দিতে পারলামনা।
ড. ইফতেখার মারা গেছেন এবং তাঁর মৃত আত্মা গল্পের বর্ণনা দিচ্ছে। মৃত্যুর পর তিনি জানতে পারেন তাঁকে নাকি খুন করা হয়েছে। খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী রুবিনার ওপরে। রুবিনা খুবই এক রোখা, বুদ্ধিমতী ,রূপবতী একজন মহিলা। ইন্সপেক্টর খলিলের ওপর এই তদন্তের দায়িত্ব পড়েছে। এই সমস্ত বিষয় ইফতেখার সাহেবের মৃত আত্মা নিজের চোখে পর্যবেক্ষণ করছেন । শেষ অবধি রুবিনার দোষ কি প্রমাণিত হবে ? খলিল স্যারের হাতে কি কি প্রমান উঠে আসবে ? ইফতেখার সাহেব কি মুক্তি পাবেন ? আত্মারা কি স্বাধীন ?
হুমায়ূন আহমেদের লেখা সব সময়ই হৃদয়ের কাছাকাছি থাকে, আর "মেঘের ওপর বাড়ি" তার ব্যতিক্রম নয়। উপন্যাসটি এক তরুণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জীবন, সমাজ ও সম্পর্ককে যেভাবে উপস্থাপন করেছে, তা পাঠককে এক গভীর আবেগময় ভ্রমণে নিয়ে যায়।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল লেখকের সহজ-সরল ভাষা ও সংলাপ। চরিত্রগুলো প্রাণবন্ত, এবং তাদের মধ্যে একধরনের আত্মিক যোগাযোগ অনুভব করা যায়। উপন্যাসে স্বপ্ন ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে — যেন আমাদের সবার জীবনেরই এক প্রতিচ্ছবি।
তবে কিছু জায়গায় গল্পের গতি কিছুটা ধীর লেগেছে, বিশেষ করে মাঝখানে কিছু অধ্যায় টানটান উত্তেজনা হারিয়ে ফেলেছিল। কিছুটা কল্পনামিশ্রিত, কিছুটা বাস্তব, যা হুমায়ূন আহমেদের লেখার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।
এই উপন্যাস কেবল গল্প না, এটি একটি অনুভব — এক ধরনের মেঘলা স্বপ্ন, যার মধ্যে দিয়ে আমরা নিজের জীবনকেও খুঁজে পাই।
📌 সর্বশেষে বলব: যারা হুমায়ূন আহমেদের লেখা ভালোবাসেন বা জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্য পড়তে পছন্দ করেন, তাদের জন্য "মেঘের ওপর বাড়ি" অবশ্যপাঠ্য একটি বই।
হুমায়ূন আহমেদের এ বইটিকে উপন্যাস না বলে বড়ো গল্পের বই বলা-ই সমীচীন।এক বসায় পড়ে ফেলা যায়।অত আশা না রেখে পড়লে উপভোগ করা যেতে পারে।যে থিম উপন্যাসটিতে এসেছে সেটি এর আগেও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেবযানে আমরা দেখতে পাই।এছাড়াও বিপ্রদাস বড়ুয়ার একটি উপন্যাসিকা পড়েছিলাম এ বিষয়েই।মৃত্যুর পরের জীবনের একটি চরিত্র।মূল চরিত্র মরে যাওয়ার পরেও আশে পাশের মানুষ,বিশেষ করে তার স্ত্রী,তার মেয়ে,একজন পুলিশ অফিসার,এদের কর্মকাণ্ড দেখতে পায়।মানুষের আচরণের কিছু অন্য রকম মাত্রা হুমায়ূন আহমেদ ফুটিয়ে তুলতে পারঙ্গম।একাধিক সম্ভাবনা আর জটিলতা তৈরি করতে করতেও উপন্যাসটি করে নি।নিতান্ত সাদামাটা ভাবেই শেষ হয়েছে।একটা রহস্য কাহিনী লিখছেন লেখক,প্রথমে এরকম ভেবেছিলাম,কিন্তু শেষে গিয়ে বুঝতে পারি লেখকের সে ইচ্ছে নেই,বা তার আসলে সময়ই নেই মাথা খাটানোর।অতিরিক্ত সংলাপ মাঝে মধ্যে বিরক্তি জাগায়;কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের জাদু এখানেই যে এমন কিছু থাকে কাহিনীতে যা বিরক্তি থেকে উত্তরণ ঘটায় অনায়াশে।
শেষটা একদমই ভালো লাগেনি। এত কাহিনি বিল্ডআপ করে শেষে এমন সমাপ্তি কারোই কাম্য নয়। বিশেষত "রুবিনা" নামের চরিত্রটার ওপর প্রচন্ড বিরক্ত হয়েছি। হুমায়ুন স্যারের কিছু সংখ্যক বইতে এমন ওভার স্মার্ট মেয়ে চরিত্র থাকে। এই চরিত্রটা মনে হয় সেই ত��লিকায় বিরক্তির শীর্ষে অবস্থান করবে।
আমি সবে বই পড়া শুরু করেছি।এই জগত আমার কাছে নতুন । হুমায়ূন স্যার এর নাম অনেক শুনেছি এবং ইতিমধ্যে পড়েওছি 3 টা বই ।এই বই টিতে আমি অপূর্ণতা অনুভব করেছি।হয়তো আমি নতুন বিধায় এরকম লেগেছে। বাকি this book was great
এটাকে ঠিক কোন জনরায় ফেলা উচিৎ ভাবছি। গভীর মৃত্য চেতনায় আচ্ছন্ন থাকা অবস্থা লেখাটি লেখা মনে হচ্ছে। শুরুটা যে ধাক্কা দিয়ে শুরু হয়েছিল তা কিছুদূর চালিয়ে যাওয়া যেত। ভালোই লাগছিল রুবিনা এবং খলিলের বুদ্ধি বুদ্ধি খেলা। খেলা জমার আগেই ধুপ করে শেষ হয়ে গেল।
একদমই ভিন্নধর্মী প্লট, এই বিষয়টা ভাল লেগেছিল বলে এবং গুডরিডসে ভাল ভাল রিভিউ দেখে বইটা পড়ার প্রতি বেশ আগ্রহ জন্মেছিল। বইটা শেষ করার পর বলব, মোটামুটি লেগেছে। কিছু পাগলামি কাজকর্ম-কথাবার্তা থাকে হুমায়ূন আহমেদের বইতে সেগুলোর কারণে পড়ার সময় কিছুটা বিরক্তও লেগেছে।