সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বন্ধু কামালকে নিয়ে পুরো লেখনী। একটা মানুষ যতটা ভাল হওয়া সম্ভব ঠিক তার থেকে একটু বেশিই ভাল কামাল। ছেলেটার চরিত্রটাই সম্পূর্ণই অদ্ভুত। আস্তে আস্তে লেখকের মনে জায়গা করে নেয় সে। লেখক সদা হাসিখুশী থাকা কামালের মধ্যে লুকিয়ে থাকা, অন্য এক বিষণ্ণ কামলাকে শীঘ্রই আবিষ্কার করেন। কামলারের জীবনে লুকিয়ে আছে একটা বিষাদমাখা অতীত। যেখানে একজন নারী আর কিছু আবেগ আর কিছু কঠিন বাস্তবতা। সেই নারীটি আর কেউ না কামালের প্রানপ্রিয় স্ত্রী। অসাধারন প্রেম আর ভালবাসায় ভরা দুটো প্রান, কিন্তু তারপরেও কিছু একটা ছিল কমতি। প্রেম আর ভালবাসার মধ্যে পার্থক্য টুকুকে লেখক তার অসাধারণ লেখনীর মাধ্যমে পাঠকের অন্তরে প্রবেশ করাতে চেয়েছেন।সম্পূর্ণ উপভোগ্য ভিন্ন স্বাদের এই বইটা শুরু শেষ পর্যন্ত পাঠকেরা যে হতাশ হবেন না তা নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়। শেষের দিকে,কামালের উক্তিতে-"আমার ভালবাসা এক জায়গায় আটকে ছিল।এখন সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছি।তবে বুকটা ফাঁকা হয়ে আছে তো।সেটা থেকে মাঝে মাঝে একটা হাহাকার বেরিয়ে আসে।সেটা কার জন্য জানিনা।" কামালের সেই বিষাদমাখা অতীতকে জানতে হলে বইটা পড়ে দেখা জরুরী।
Sunil Gangopadhyay (Bengali: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়) was a famous Indian poet and novelist. Born in Faridpur, Bangladesh, Gangopadhyay obtained his Master's degree in Bengali from the University of Calcutta, In 1953 he started a Bengali poetry magazine Krittibas. Later he wrote for many different publications.
Ganguly created the Bengali fictional character Kakababu and wrote a series of novels on this character which became significant in Indian children's literature. He received Sahitya Academy award in 1985 for his novel Those Days (সেই সময়). Gangopadhyay used the pen names Nil Lohit, Sanatan Pathak, and Nil Upadhyay.
Works: Author of well over 200 books, Sunil was a prolific writer who has excelled in different genres but declares poetry to be his "first love". His Nikhilesh and Neera series of poems (some of which have been translated as For You, Neera and Murmur in the Woods) have been extremely popular.
As in poetry, Sunil was known for his unique style in prose. His first novel was Atmaprakash (আত্মপ্রকাশ) and it was also the first writing from a new comer in literature published in the prestigious magazine- Desh (1965).The novel had inspiration from ' On the road' by Jack Kerouac. His historical fiction Sei Somoy (translated into English by Aruna Chakravorty as Those Days) received the Indian Sahitya Academy award in 1985. Shei Somoy continues to be a best seller more than two decade after its first publication. The same is true for Prothom Alo (প্রথম আলো, also translated recently by Aruna Chakravorty as First Light), another best selling historical fiction and Purbo-Paschim (পূর্ব-পশ্চিম, translated as East-West) a raw depiction of the partition and its aftermath seen through the eyes of three generations of Bengalis in West Bengal, Bangladesh and elsewhere. He is also the winner of the Bankim Puraskar (1982), and the Ananda Puraskar (twice, in 1972 and 1989).
Sunil wrote in many other genres including travelogues, children's fiction, short stories, features, and essays. Though he wrote all types of children's fiction, one character created by him that stands out above the rest, was Kakababu, the crippled adventurer, accompanied by his Teenager nephew Santu, and his friend Jojo. Since 1974, Sunil Gangopadhyay wrote over 35 novels of this wildly popular series.
Death: Sunil Gangopadhyay died at 2:05 AM on 23 October 2012 at his South Kolkata residence, following a heart attack. He was suffering from prostate cancer for some time and went to Mumbai for treatment. Gangopadhyay's body was cremated on 25 October at Keoratola crematorium, Kolkata.
Awards & Honours: He was honored with Ananda Award (1972, 1979) and Sahitya Academy Award (1984).
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বন্ধু কামালকে নিয়ে পুরো লেখনী। একটা মানুষ যতটা ভাল হওয়া সম্ভব ঠিক তার থেকে একটু বেশিই ভাল কামাল। ছেলেটার চরিত্রটাই সম্পূর্ণই অদ্ভুত। আস্তে আস্তে লেখকের মনে জায়গা করে নেয় সে। লেখক সদা হাসিখুশী থাকা কামালের মধ্যে লুকিয়ে থাকা, অন্য এক বিষণ্ণ কামলাকে শীঘ্রই আবিষ্কার করেন। কামলারের জীবনে লুকিয়ে আছে একটা বিষাদমাখা অতীত। যেখানে একজন নারী আর কিছু আবেগ আর কিছু কঠিন বাস্তবতা। সেই নারীটি আর কেউ না কামালের প্রানপ্রিয় স্ত্রী। অসাধারন প্রেম আর ভালবাসায় ভরা দুটো প্রান, কিন্তু তারপরেও কিছু একটা ছিল কমতি। প্রেম আর ভালবাসার মধ্যে পার্থক্য টুকুকে লেখক তার অসাধারণ লেখনীর মাধ্যমে পাঠকের অন্তরে প্রবেশ করাতে চেয়েছেন।সম্পূর্ণ উপভোগ্য ভিন্ন স্বাদের এই বইটা শুরু শেষ পর্যন্ত পাঠকেরা যে হতাশ হবেন না তা নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়। শেষের দিকে,কামালের উক্তিতে-"আমার ভালবাসা এক জায়গায় আটকে ছিল।এখন সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছি।তবে বুকটা ফাঁকা হয়ে আছে তো।সেটা থেকে মাঝে মাঝে একটা হাহাকার বেরিয়ে আসে।সেটা কার জন্য জানিনা।" কামালের সেই বিষাদমাখা অতীতকে জানতে হলে বইটা পড়ে দেখা জরুরী।
Read it many years ago.. But don't understand why this book is hated by most of the girls and loved by most of the boys.. 😅 I mean, look at their ratings.. 😂 Personally this book touched me. I felt very sad for Kamal.
আমাদের গল্পের নায়ক কামাল আলাভোলা ছেলে।সবসময় মানুষের পরোপকার করে বেড়ায়,সর্বদা হাসিখুশি।তার মতো ভালো পুরুষ আর দুটি হয় না।
বইটি পড়া শুরু করার পর থেকে একটা পরকীয়া পরকীয়া গন্ধ বেরুতে থাকে,শেষপর্যন্ত সেটাই হতে দেখা যায়।বাকিটা কামাল কিভাবে তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে সক্ষম হলো তার ম্যাড়ম্যাড়ে বর্ণনা।
Spolier: Cheating related story.I have been the listener and i have met girls like Juli in real life,so the story seems familiar to me. Kamal's character is like endangered species nowadays.I know some people as generous as him,but the character that,in some aspects, matches him is the hero from 500 days of summer.
Recently,someone committed suicide in real life in Bangladesh because of an incident similar to this story.As a guy,i would say both the fictional and real life persons were naive.The review below me mentions a lot of girls hate this book.I can only guess,but from my point of view,the story is one sided.Sad,yes,but still one sided.I am not supporting juli btw.I hate this type of character,but like many other works of Sunil Gangopadhyay, it follows the same pattern.
এই পৃথিবী শক্তের ভক্ত নরমের যম, হয়তো সঠিক! কিন্তু নারী-পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্কে প্রবাদটি অমূলক। ভালোবাসা ভয় করে শুধুই ভালোবাসাকে। ভরশা, বিশ্বাস, সন্মান ও সময় চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিটি সম্পর্ক। জুলি নিমফোম্যানিয়ায় আক্রান্ত ছিলো তাই কামালের অগাধ ভালোবাসাও জুলিকে আটকাতে পারেনি। সন্দেহবাতিক হওয়ার চেয়ে প্রশ্নকারী হওয়া শ্রেয় আর সৎ মানুষ কখনও প্রশ্ন এড়িয়ে যায় না। তাই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া মানুষকে বিশ্বাস করা বোকামি। কামাল সত্যিই বোকা, কিন্তু কামাল ভালোবেসেছিলো আরেকজন নিশ্চুপ ষড়যন্ত্রকারী তার ভালোবাসাকে ফেলে দিয়েছে অন্ধকার কাল কুঠুরিতে।
প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটা কথাই মনে হলো ‘কামাল সাহেবের মতো জীবনসঙ্গী কোথায় পাওয়া যায়?যারা পায় তারা কেনো মূল্য দিতে জানেনা?’
অপরাধী যেই হোক, নারী কিংবা পুরুষ— বিশ্বাস ভাঙার এমন চিত্র যুগ যুগ ধরে চলে আসতেছে।শুধু যার সাথে হয় সেই জানে কি ভয়ংকর একটা ব্যাপার।এক জীবনও কখনো কখনো কম পরে যায় এই হাহাকার এই শূন্যতা কাটায় উঠতে।
কামাল সাহেবের মতো মানুষদের এমন কিছুর ভেতর দিয়ে না যাওয়া লাগুক—এটুকুই কামনা।
কামাল একজন ভালো মানুষ ছিলেন তবে কপাল ভালো ছিলোনা।।প্রথা মাত্রই প্রথাবিরোধী হতে হবে এমনটা না ভাবাই ভালো, কামাল প্রথাবিরোধী ছিলোনা, সহজ সরল মানুষ ছিলো।।তবে সমাজে এর বিপরীত কাহিনীও আছে।।কিন্তু আপাতত আমাদের কামাল ভাইয়ের সফেদ চরিত্রকে স্যালুট না দিয়া পারলামনা🙏🏻
ঘি আর আগুন পাশাপাশি রাখতে নেই। শেষ পর্যন্ত সেটাই সতি হল। বুঝতেই পারছেন পরকীয়া ঘটনা..। বইটি পড়ার পর নারীর প্রতি বিতৃষ্ণা ভাব আসতে পাঠকের বাধ্য। যাইহোক,সবকিছু মিলে ভালোই লেগেছে বইটা।
ভালো লেগেছে এটা পড়ে। শুরুতেই হলফ করা যাচ্ছিলো, খারাপ কিছু হবে শেষ পর্যন্ত। জুলেখা কে প্রচন্ড ঘৃণা করেছি। খুব ইচ্ছে কামাল সাহেব কে একবার দেখার,এমন মানুষ কিভাবে হতে পারে একজন!
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা নিয়ে কিছু বলাই নেই । যারা তার লেখা পড়েছেন তারা সেটা জানেন । গতদিন তার লেখা "ভালোবাসা, প্রেম নয়" বইটা পড়ে শেষ করেছি । অনেক দিন পরে সুনীল গন্ধ্যোপাধ্যায়ের বই পড়লাম । স্কুল আর কলেজে থাকতে ভদ্রলোকের অনেক বই পড়া হয়েছে যদিও তার বেশির ভাগই কিশোর সাহিত্য !
গল্পের কাহিনীর শুরুতে লেখক কামাল নামের এক ভদ্রলোকের পরিচয় তুলে ধরেছেন । এবং বলেছে বইটা মূলত কামাল নামের এই ভদ্রলোকের জীবনের একটা অধ্যায় । কামাল বাংলাদেশী । তবে সে থাকে আমেরিকা, কানাডাতে । কামাল হচ্ছে পরোপকারী । মানুষকে সাহায্য করতে সে সদা প্রস্তুত । কেউ দেশ থেকে আমেরিকা গেছে তাকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করা, তার থাকার ব্যবস্থা করা একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া এই সব নানান কাজে সে সাহায্য করতে থাকে । এমন একবার এয়ারপোর্ট থেকে লেখককে সে রিসিভ করতে যায় । সেখানে থেকেই গল্পে মাধ্যমে নিজের জীবন কাহিনী শোনায় লেখক কে !
কামাল যখন আমেরিকাতে মানুষের উপকার করে বেড়াচ্ছে তখন দেশে যুদ্ধ লেগে গেছে । সেই সময়কার গল্প । কামালরা বড়লোক সম্ভ্রান্ত পরিবার । তার বাবা মা তাকে বিয়ে দিয়ে দিল এক মেয়ের সাথে । মেয়ের নাম জুলেখা । যখন জুলেখা আমেরিকাতে এল তখন কামাল ধীরে ধীরে জুলেখার প্রতি একটা গাঢ় ভালবাসা অনুভব করতে লাগলো । নানান রকম ভাবে সেই ভালবাসা সে অনুভব করতে শুরু করলো । কামাল তখন মানুষের উপকার করেই চলেছে । জুলেখা অনুযোগ করলেও সেটা মেনে নিয়েছে । জুলেখার মা ও ভাইকেও কানাডাতে সেটেল্ড করতে সাহায্য করেছে । এক সময় দেশ থেকে ওমর নামে এক লোক এল পড়ালেখা করার জন্য । একটা থাকার জায়গা দরকার তার । কামাল তাকে নিজের বাসার একটা ঘর ছেড়ে দিলো ।
এটা নিয়ে কমিউনিটিতে বেশ কথা শোনা গেল । কামাল ব্যবসার কাজে বাইরে থাকে । ঘরে একটা জোয়ান ছেলে । অল্প বয়সী বউ ! এই নিয়ে কথা চললেও কামাল এসবে কান দিল না । সে উদার মনের । তবে একটা ব্যাপার সে লক্ষ্য করলো যে ওমর আর জুলেখার ভেতরে যেন আলাদা একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে । কামাল সেটা অনুভব করতে পারলেও কিছু বলল না । সে তার বউকে বিশ্বাস করে খুব । তারপরই ঘটনা ঘটলো । কামালের বাড়ি থেকে ওর বাবা মা এল । তার মায়ের কাছ থেকেই জানতে পারলো যে বিয়ের পর যখন তার বউ দেশে ছিল তখন টাইগারের (যে কিনা কামালের কাছের মানুষ) তার বউয়ের প্রেম চলছিলো । এখানে আসার পরেও নাকি সে টাইগারকে চিঠি লিখতো । এ কথা জিজ্ঞেস করতেই জুলেখার সাথে কামালের দুরস্ত সৃষ্টি হয় । এক সময় জুলেখা নয়টা ঘুমের ঔষধ খায় । হাসপাতাল থেকে তার মায়ের কাছে চলে যায় । তারপর আর ফিরে আসে না কামালের কাছে । কামাল অনেক চেষ্টা করে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কিন্তু লাভ হয় না । সে ডিভোর্স চায় ! এরপর কামাল আসল সত্যিই জানতে পারে । একটা সময় কামালের মনে হত যে সে তার বউয়ের উপর মিথ্যে সন্দেহ করেছে এই জন্যই হয়তো জুলেখা চলে গেছে কিন্তু সে জানতে পারে যে সত্যিই তার বউ এই কাজ গুলো করেছে । টাইগারের সাথে তার প্রেম ছিল । দেশে সব জানাজানি হয়ে যাবে এই জন্য সে সে আমেরিকাতে চলে এসেছিলো তাড়াহুড়া করে । এরপর এখানে এসে ওমরের সাথেও তার এই অকাজ গুলো চলতে থাকে । ওমরকে সে ভালবাসাতো না । যা ছিল সবই শারীরিক ।
বইটা শেষ করে আমার মনে অদ্ভুদ একটা কষ্ট হতে লাগলো । বলবো না বইটা আহামরি খুব ভাল লেগেছে । খুবই সাধারণ একটা কাহিনী । তবে বইতে কামাল যে তার বউকে ভালবাসে, সেটা পরিস্কার ভাবে ফুটে ওঠেছে । আপনি যখন জানতে পারবেন আপনার ভালবাসার মানুষ মানুষ অন্য কারো সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে তখন যে কি তীব্র কষ্ট অনুভব হয় সেটা বইটা পড়ে আমি অনুভব করেছি । বইয়ের একদম শেষে লেখক যখন কামালকে জিজ্ঞেস করলো জুলেখার কথা তার মনে পড়ে কি না ! তখন কামাল বলল, আমার ভালোবাসাটা এক জায়গাতে আটকে ছিল । এখন সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি । তবে বুকটা ফাঁকা হয়ে আছো ! সেখান থেকে মাঝে মাঝে একটা হাহাকার বেরিয়ে আসে । সেটা কার জন্য জানি না ! কি তীব্র হাহাকার রয়েছে এই কথার মাঝে । আমার সব সময় মনে হয় মানুষ জীবনে প্রিয় মানুষটির ভালোবাসা না পাক ঠিক আছে কিন্তু প্রিয় ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে যেন কোন দিন ধোঁকা না পায় ! আমার সব চেয়ে অপছন্দের মানুষের বেলাতেও যেন এটা না হয় !
বইয়ের নামঃ ভালোবাসা, প্রেম নয় লেখকঃ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বই পড়তে বলবো না আবার পড়তে মানাও করবো না ।
This entire review has been hidden because of spoilers.
হয়তোবা এটা আমার দ্বিতীয় রিভিউ। তবে প্রথম লেখা যেটা অন্য কেউ দেখবে। এর আগে একজন বিখ্যাত লেখকের বই নিয়ে কিছু লিখেছিলাম, কিন্ত উনি কিছুটা বিতর্কিত হওয়ায় তা কখনো প্রকাশ করার সাহস হয়ে উঠেনি। শুরুতে হয়তোবা বলেছি এজন্য যে, এটাকে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে ঠিক রিভিউ বলবোনা, অতো যোগ্যতা সম্পন্ন হয়ে উঠিনি। বইটার পড়ার পর আমার খানিকটা উপলব্ধি। লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। একজন কবি ও সু-লেখক। ৬৪ পৃষ্ঠার ছোট একটি বই "ভালোবাসা প্রেম নয়", নামের সাথে বইয়ের গল্পের যথার্থই মিল আছে। ভালোবাসা এবং প্রেম, দুটো ভিন্ন দুই জিনিস। খুব অল্প সময়ে যেমন ভালোবাসা হয়ে উঠে না তেমনি কাউকে ভালোবেসে ফেললেও তা কখনো ভুলা যায় না। Sometimes it takes a whole life to love or forget someone. আবার সবাই যে ভালোবাসা মর্ম বুঝবে এমনটাও ঠিক না। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কামাল, খুবই পরোপকারী সাদামাটা ধরনের মানুষ। বংশগত ভাবে ঐশ্বর্যের অধিকারী হলেও নিজে ব্যাবসা করে এবং ব্যাবসার মাধ্যমে দেশের মানুষের উন্নতি করতে পারি জমান বিদেশে। কানাডা থেকে শুরু করে সারা আমেরিকা চষে বেড়ান। বাবা মায়ের পছন্দ মতো বিয়ে করেন জুলেখাকে। সেই জুলেখাকে পাগলের মতো ভালোবাসেন। নিজের সবটা নিংড়ে দেন তার প্রতি। জুলেখার মা আর ছোট ভাইকেও একসময় দেশ থেকে নিয়ে যান। কিন্ত জুলেখা তার ভালোবাসার মূল্যায়ন কখনোই করতে পারেনি। সে আকৃষ্ট হয় অন্য কারো দিকে। শেষ পর্যন্ত জুলেখা তার পথ খুঁজে নেয়। এই গল্পের সমাপ্তির মতো এমন রুক্ষ না হলেও বাস্তব জীবনে হয়তো অনেকের সাথেই এমন হয়।
বইটা পড়ে আমার শিক্ষা:- 🔹️অন্ধবিশ্বাস বা অন্ধ ভালোবাসা থেকে বিরত থাকতে হবে। 🔹️চলার পথে বয়সে বড়/গুণীজনদের কথা শুনতে হবে।
বইটাতে লেখকের উপস্থাপনা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
জীবনটা আসলেই খুব অদ্ভুত। অনেক সাধনা করেও কিছু পাওয়া যায় না,আর যা এমনিতে পাওয়া যায় তার কোনো মূল্য থাকে না। গল্পটা আসলে এক দম্পতির,কামাল আর জুলেখার।কামাল জুলেখাকে নিজের সবটুকু দিয়েই ভালোবাসতো।কিন্তু, তা জুলেখাকে বুঝাতে পারতো না। কার মন কখন কোন দিকে যায়,কে বলতে পারে?জুলেখা শেষ পর্যন্ত অনেক অজুহাত খুঁজে বের করে কামালকে ছেড়ে চলে যায়।কিন্তু,তবুও কামাল জুলেখাকে ভালোবাসে।তাকে কোনোমতেই ডিভোর্স দিতে চায় না।কামাল চেয়েছিলো নিজেকে শেষ করে ��িতে,কিন্তু পারে নি। শেষ পর্যন্ত কামাল বুঝতে পারে,ভালোবাসা তার এই প্রাপ্য যে ভালোবাসার সম্মান দিতে পারে।
কামালকে কাহিনীর শেষে জিগ্যেস করা হয়েছিলো, এখনও তোমার জুলেখার কথা মনে পড়ে? কামাল হেসে উত্তর দিলো,আমার ভালোবাসা এক জায়গায় আটকে ছিলো। এখন সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি। তবে বুকটা ফাকা হয়ে আছে তো।সেখান থেকে মাঝে মাঝে একটা হাহাকার বেরিয়ে আসে।সেটা কার জন্য জানি না।
▪যাকে সবচেয়ে আপন করে পাওয়া যায়,তাকেই তো হারাবার জন্য মানুষের বেশী ভয় হয়
পাঠ প্রতিক্রিয়া - সুনীলের কবিতা পড়া হলেও কখনো কোনো উপন্যাস পড়া হয় নি।এটাই প্রথম! যতোই পড়ছিলাম ততোই রাগ হচ্ছিলো।আসলেই কী কামালের মতো এতো ভালো মানুষ হয়?আর জুলেখার মতো এতো স্বার্থপর মেয়েও হয়?অনেক ক্ষেত্রেই দেখি, মায়েরা মেয়ের সংসারে হাত ডুকালেই সেখানে অশান্তি শুরু হয়।ঠিক তেমনটাই হয়েছে এখানে। আসলেই ভালোবাসা প্রেম নয়🖤প্রেম আলাদা জিনিস আর ভালোবাসাও!
বেশ চমৎকার একটা বই। আমাকে কিছু জিনিস ভাবতে শিখিয়েছে। বিশেষ করে কামাল যখন বলল "আমার ভালোবাসা এক জায়গায় আটকে ছিল। এখন সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি। তবে বুকটা ফাঁকা হয়ে আছে তো। সেখান থেকে মাঝে মাঝে একটা হাহাকার বেরিয়ে আসে। সেটা কার জন্য জানিনা।" তখন বুকের ভেতরে গিয়ে লেগেছে। আবার " কেউ কি জন্ম থেকে খুনী হয় হয়? পরিবেশিই তাঁকে খুনী করে তোলে।" তখনও বেশ একটা ধাক্কা খেয়েছি। মানুষ যখন নিজের গল্প শোনায় সেখানে সে নিজেকে হিরো করে তুলতে চায়, সে দেখায় একপাক্ষিকতা। কিন্তু এই নভেলে কামালের জীবনের গল্প একদম ভ্যালিড। সে তাঁর স্ত্রী জুলেখা কে এতো ভালোবেসেছিল, কিন্তু জুলেখা বিনিময়ে তাকে দিলো বিষে ভরা বাণ। বেশ করুণ একটা রোম্যান্টিক নভেল।
প্রবাসী বাঙালি কামাল, সর্বদা হাসি খুশি একজন ভালো মানুষ, যে সবার মাঝে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে চায়, যেকোনো পরিস্থিতিতে. এমন মানুষ বাস্তবের কঠিন পৃথিবীতে আছেন কিনা জানিনা.