পাঠক, শুনুন, পান আমি খাই না সচরাচর। মাঝেমধ্যে বিয়েবাড়িতে শখ করে হয়তো মুখে দেই বা নাজিরাবাজারে কাবাব খাওয়ার পরে এক আধটা মিষ্টি পাওন- এটুকুই। কিন্তু একবার খেয়েছিলাম বটে রহস্যময় এক পান- দুনিয়া ঢুঁড়ে এমন পান খুঁজে বের করেছিলাম, যার ক্ষমতা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। শুনবেন সেই গল্প?
মেডিকেলের ছাত্র রূপু। মেডিকেল পড়াশোনার কঠিন ধাক্কা, হলের জীবন নিয়ে বেশ চলছিল। হঠাৎ জীবনে বসন্তের বাতাসের মতো প্রেম এলো। পাল্টে দিল জীবন। প্রেমের মিঠা মিঠা কথায় চলছিল সুন্দর জীবন। সুন্দর জীবনে বাঁধ সাধলো প্রেমিকা! আমেরিকান পাসপোর্টধারীর সাথে ঘর বাঁধতে চায়। রূপু তা হতে দিবে না। কেনই বা দিবে? ভালোবেসেছে সে। ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাকা হওয়ার সময় না-কি এটা? কিন্তু প্রেমিকা গ্রিন কার্ডের নেশায় বুদ। তাকে মানানোর কোন উপায় না দেখে শেষমেষ বন্ধু ফাহাদকে নিয়ে চললো জাদুকরী পানের খোঁজে। পান খাইয়ে নাকি প্রেমে অন্ধ করে দেওয়া যায়, কোথায় শুনেছে সে। সেই বিদ্যাই পরখ করে দেখবে সে। পারবে কি প্রেমিকা বা সাবেক প্রেমিকার মন জয় করতে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া: ছোটো গল্প মানেই আমার কাছে একটা আক্ষেপ! তৃপ্তি হয় না পড়ে। আরেকটু বেশি হলে কী হতো একটা ভাব থেকে যায়! ❛তাম্বুল রাতুল হৈল❜ নভেলাটিও এমন। গল্পের মজা বুঝতে শুরু করেছি আর শেষ হয়ে গেলো। সামান্য একটা পানকে কেন্দ্র করে ভালোবাসার গল্প ফেঁদেছেন লেখক নাবিল মুহতাসিম। লেখকের বাজি ট্রিলজি আমার বেশ লেগেছিল। চমকদার থ্রিলার ছিল। এখানে লেখক ভিন্ন একটি জনরায় গল্পকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। রূপুর গল্প দারুণ লেগেছে। বন্ধু ফাহাদকেও ভালো লেগেছে। ছোটো গল্পে বিস্তৃতি যেহেতু খুব অল্প, সেহেতু চরিত্র আর কাহিনি বিন্যাসও অল্পের মাঝেই থাকে। এরমধ্যেই পাঠককে আনন্দ দিতে পারা লেখকের সার্থকতা। এই নভেলায় লেখক তা-ই করে দেখিয়েছেন। শেষটা আমার কাছে তৃপ্তিদায়ক লেগেছে।
লেখকের উইটি লেখনিতে বেশ মজা পেয়েছি। তবে কিনা গল্পের খাতিরে জ্ঞান কপচানো হলেও কিছুটা বিরক্ত লাগছিলো। হয়তো কাহিনীটা আরেকটু বড় হয়ে শাখা-প্রশাখা ছড়ালে, আরেকটু হাস্য-রসাত্মক হলে আরো ভালো লাগতো। ফাইনাল মেসেজটা ভালো লাগে নি।