তন্ত্র!
এই আপাত নিরীহ, আদতে ঘোর অ্যাকাডেমিক শব্দটি এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে একে প্রায় বীজমন্ত্রের মতো করে জপে চলেছেন সক্ষম ও অক্ষম লেখকেরা। অন্যদিকে এর প্রকৃত মহিমা থেকে দূরে, আরও দূরে সরে যাচ্ছে সাহিত্য।
এই অদ্ভুত পটভূমিতে, তন্ত্রের প্রকৃত গূঢ় রূপ এবং পাঠকের ভয় পেতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চেয়ে লেখা হয়েছে এই দশটি গল্প। এদের প্রতিটির কেন্দ্রে থেকেছেন কোনো-না-কোনো দেবী... বা একজনই দেবী'র নানা রূপ।
বইয়ের শুরুতে একটি ভূমিকার মাধ্যমে লেখক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁর এই কাহিনিরা মাতৃরূপ দর্শন করা ও করানোর এক ভিন্নতর প্রয়াস। ঠিক এখানেই এরা বাজারের আর পাঁচটা পিশাচের আরাধনা আর বেতালের বেসুরো তালের থেকে আলাদা হয়ে গেছে।
এরপর এসেছে গল্পরা~
১. হাড়
২. বিকারলক
৩. অবগাহন
৪. হাসি
৫. শুদ্ধচিত্ত
৬. ললিতা
৭. বীররাত্রি
৮. শব্দ
৯. উড়োজাহাজ
১০. নাস্তিক
গল্পগুলো সত্যিকারের ভয়ের গল্প। তার চরিত্রায়ন থেকে শুরু করে আবহ নির্মাণ— সবেই আছে বাস্তবের ধুলো আর ঘাম, ক্ষেত্রবিশেষে রক্তের গন্ধ।
তবে সব ছাপিয়ে এরা এক অন্য উচ্চতার রহস্য-গল্পও বটে। সে-রহস্যের নাম নারী! তার তল পেতে আমরা যুগ-যুগান্ত ব্যয় করি। তার অর্থ না বুঝে আমরা মানব থেকে দানব হই।
তাঁর জন্যই আমরা লুব্ধক নক্ষত্রের মতোই জ্বলে চলি রাতের পর রাত— যাতে একবার তাঁর সেই অহৈতুকী করুণা আমাদের ওপর বর্ষিত হয়।
সেই রক্তমাংসের দেবী'র মধ্যে নিহিত রহস্যকে মন্ত্রে, আরাধনায়, অলৌকিকে পাওয়ার, আবার কখনও না-পাওয়ার দশটি ভয়াল আখ্যান হল দশরূপা।
গৌতম কর্মকারের অলংকরণ এই কাহিনিদের অন্য মাত্রা দিয়েছে— এও স্বীকার্য।
যদি আপনি সত্যিকারের রহস্যের আর ভয়ের গল্প পড়তে চান, তাহলে এই বইটি পড়ুন।
হতাশ হবেন না বলেই আমার বিশ্বাস।