"জড়দগব হইনি কিন্তু কোথাও যেনো জড়তা চলে এসেছে। চিন্তায় এবং চৈতন্যে এমন এক ধরনের শৈথল্য এসেছে যার নাম হয়তো স্থবিরতা। হ্যা, তাই হবে। নইলে খলিল, হাসিব, মন্টু আর রশিদ, যখন দেখি বাইরের পৃথিবী ছায়া ফেলেছে ওদের চোখে, ওদের চোখে ফেলে আসা সেই চলমান পৃথিবীর হাতছানি, যখন গোল হয়ে ঘরের কথা বৌ ছেলেমেয়ের কথা, ক্ষেত কারখানার কথা, আপন আপন কর্মভূমির কথা, বলতে বলতে নিজেদের হারিয়ে ফেলছে ওরা, তখন আপনার মাঝে কেন তার প্রতিধ্বনি খুজে পাইনা আমি? তখন কেন এত অসহায় আর নি:সংগ মনে হয় নিজেকে? উদার উন্মুক্ত প্রান্তর, আলো ভরা বাতাস খেলা পৃথিবী, আমার এই প্রিয় বস্তুগুলোর কথা আমি ভাবিনা। আনমনা হইনা। কথাটা কি আমি প্রকাশ করতে পারি? পারি না। কিছুটা ভয়, কিছুটা সংকোচ। শুনতে বন্ধুরা বলবে তোমার মাঝে হতাশা আসছে, জীবনন্বেষা হারিয়ে ফেলছো তুমি।"............... নিজের সাথে বেশি মিলে যায় এই কথাগুলো। কংক্রিটের শহুরে বন্দী কারাগারে টিকতে গিয়ে জীবনকে উপভোগ করতেই ভুলে গেছি হয়তো। লেখকের মতন আপনার মাঝে আর কোন প্রতিধ্বনী খুজে পাইনা, প্রিয় বস্তুগুলোর কথা ভাবিনা, আনমনা হইনা। হতশা গ্রাস করেছে এই বিশাল কারগারে। অসাধারণ কিছু সময় কেটেছে এই বইটির সাথে। ধন্যবাদ শহীদুল্লা কায়সার কে।