১৯৬৬ সালে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ শহরে পাক-ভারত যুদ্ধাবসানের জন্য যে তাসখন্দ ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, সাংবাদিক হিসেবে সেটাই কাভার করতে গিয়েছিলেন শহীদুল্লা কায়সার, এবং এই বইটা সেই বৈঠকেরই খুঁটিনাটি নিয়ে। এটা ভ্রমণকাহিনী নয়, এবং এর কোথাও পেশোয়ার নেই। লেখক বামপন্থী, সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী, এবং সেসময় সোভিয়েতের মধ্যযুগ। কাজেই লেখাটা নিরপেক্ষ নয়। উজবেকদের জীবনযাত্রার চাইতে সোভিয়েত প্রতিষ্ঠার ফলে তাদের কতটা উন্নতি হয়েছে সেটাই লেখায় এসেছে বারবার। তাসখন্দ বৈঠকের উত্তেজনা এবং এই বৈঠক নিয়ে সোভিয়েতদের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়টি বেশ ভালভাবে উঠে এসেছে। এখানে উল্লেখ্য যে, এই বৈঠক যার প্রচেষ্টায় সফল হয়, সেই আলেক্সেই কোসিগিন বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধুর প্রথম সোভিয়েত সফরের সময় রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার সাথেই বাংলাদেশের প্রথম সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বইয়ের শেষদিকে লেখাটা রুশ বিপ্লবের ইতিহাস পাঠ হয়ে গিয়েছে। এটাও বোঝা যায় যে, তখনও পূর্ব বঙ্গের সাথে পাকিস্তানের যোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়নি, লেখক পাক-ভারত সুসম্পর্ক নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলেন। রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে আগ্রহীরা পড়তে পারেন।