What do you think?


Kapilabastur Kalosh
Kapilabastur Kalosh
170 pages, Paperback
First published December 1, 2020
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 23 of 23 reviews
August 21, 2022
পাঁচমুড়ো আর প্রাণনাথ এর ক্লাসের না। রানা পড়া থাকলে আসলে এই ধরনের গল্পকে চেনা চেনা লাগবে। প্লট ভালো, তবে গল্পটা আরেকটু ছোট করা যেত। শেষটা ভালোই লেগেছে।
December 22, 2020
বই = কপিলাবস্তুর কলস
লেখক = প্রীতম বসু
প্রকাশক = প্রীতম বসু
মূল্য= 375 টাকা
পৃষ্ঠা = 400
অধিকাংশ ক্ষেত্রে রহস্য বলে পাঠককে যেটা গেলানো হয়, সেটা পাঁচন ছাড়া কিছু নয়। অনেকক্ষেত্রে ওষুধ হিসেবে গিলে ফেলি, আবার অনেক ক্ষেত্রে বমিও হয়ে যায়।
সেইখানে দাড়িয়ে যে গুটিকয়েক বই, রহস্যের সন্ধানে পাঠককে বইএর শেষ অবধি নিয়ে যায়, তার প্রথম দিকেই থাকবে এই বইটা - কপিলাবস্তুর কলস।
কপিলাবস্তুর কলস = ইতিহাস না রহস্য?
এককথায় দুটোই।
1. কপিলাবস্তু জায়গা টা কোথায়? ভারত না নেপালে?
2. একটা কলস যার ভিতরে গচ্ছিত আছে ইতিহাস, উপরে ব্রাহ্মী লিপি। হস্তান্তর হতে হতে শেষ অবধি কোথায় পৌঁছালো সেটা?
প্রশ্ন, অনেক প্রশ্ন। উত্তর খুঁজতে, যেতে হবে বইএর শেষ পর্যন্ত।
ঘটনার সূত্রপাত হত্যা দিয়ে, কিন্তু কেন এই হত্যা, কী চাইছিল খুনি? ইতিহাসকে নিজের মতো পাল্টাতে? না অন্য কোন কারণ আছে?
কে করলো এই হত্যা? ফাঁসানো হলো নিরপরাধ ব্যক্তিকে? নাকি সত্যি সেই খুনি? মিথ্যে বলছে? নাকি কী করেছে, মনে নেই? যদি সত্যি বলে, তাহলে তার কোন প্রমাণ নেই কেন?
খুনের দায় থেকে বাঁচতে একের পর এক আইন অমান্য কাজ। যে সাহায্য করছে, সে কি নিরপরাধ? নাকি নিজের দোষ টা চাপাতে চাইছে কোনো ব্যক্তির উপর?
একদিকে পুলিশ, অন্য দিকে আন্ডারওয়ার্ল্ড দল থেকে বাঁচার লড়াই, পদে পদে বিপদ। তারসাথে শব্দের খেলা, পালাতে গেলে ভেদ করতে হবে শব্দের জাল।
দুটো কাহিনী (তিনটেও বলা যেতে পারে। যদিও একটি অতীতের ঘটনা কিন্তু বাকি দুটি একই সাথে বয়ে যাওয়া একই বিন্দুতে পৌঁছানোর ঘটনা।) সমান্তরালভাবে চলতে চলতে অতীতের সাথে বর্তমানের সংযোগ স্থাপন।
একশ বাইশ বছর আগের ঘটনা থেকে বর্তমানের প্রযুক্তি।
ভারত ও নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্ক। মাঝে চীনের দাদাগিরি।
ভুল বানানে লিপি, ইচ্ছাকৃত? না অনিচ্ছাকৃত? কেউ কি ছিল না সেখানে, যে সঠিক বানান জানে?
শেষ হয়েও শেষ হল না। না না ঘাবড়ানোর কিছু নেই। উপন্যাস শেষ। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া হয়ে গেছে। এবার?
হুঁ, এরপর ও আছে বৈকি
বেশ সুন্দর ভাবে, ব্রাহ্মী লিপিকে বাংলা হরফ দিয়ে শেখানো হয়েছে। চাইলে শেখা যেতে পারে। তার সাথে 30 টি গ্রন্থপ্রঞ্জি ও তথ্যসূত্র। একটু বেশি জানার ইচ্ছা হলে, গুগল করে বা বই সংগ্রহ করে পড়ে আসা যাবে সেই লেখা গুলো।
** সম্পূর্ন ব্যক্তিগত মতামত
লেখক = প্রীতম বসু
প্রকাশক = প্রীতম বসু
মূল্য= 375 টাকা
পৃষ্ঠা = 400
অধিকাংশ ক্ষেত্রে রহস্য বলে পাঠককে যেটা গেলানো হয়, সেটা পাঁচন ছাড়া কিছু নয়। অনেকক্ষেত্রে ওষুধ হিসেবে গিলে ফেলি, আবার অনেক ক্ষেত্রে বমিও হয়ে যায়।
সেইখানে দাড়িয়ে যে গুটিকয়েক বই, রহস্যের সন্ধানে পাঠককে বইএর শেষ অবধি নিয়ে যায়, তার প্রথম দিকেই থাকবে এই বইটা - কপিলাবস্তুর কলস।
কপিলাবস্তুর কলস = ইতিহাস না রহস্য?
এককথায় দুটোই।
1. কপিলাবস্তু জায়গা টা কোথায়? ভারত না নেপালে?
2. একটা কলস যার ভিতরে গচ্ছিত আছে ইতিহাস, উপরে ব্রাহ্মী লিপি। হস্তান্তর হতে হতে শেষ অবধি কোথায় পৌঁছালো সেটা?
প্রশ্ন, অনেক প্রশ্ন। উত্তর খুঁজতে, যেতে হবে বইএর শেষ পর্যন্ত।
ঘটনার সূত্রপাত হত্যা দিয়ে, কিন্তু কেন এই হত্যা, কী চাইছিল খুনি? ইতিহাসকে নিজের মতো পাল্টাতে? না অন্য কোন কারণ আছে?
কে করলো এই হত্যা? ফাঁসানো হলো নিরপরাধ ব্যক্তিকে? নাকি সত্যি সেই খুনি? মিথ্যে বলছে? নাকি কী করেছে, মনে নেই? যদি সত্যি বলে, তাহলে তার কোন প্রমাণ নেই কেন?
খুনের দায় থেকে বাঁচতে একের পর এক আইন অমান্য কাজ। যে সাহায্য করছে, সে কি নিরপরাধ? নাকি নিজের দোষ টা চাপাতে চাইছে কোনো ব্যক্তির উপর?
একদিকে পুলিশ, অন্য দিকে আন্ডারওয়ার্ল্ড দল থেকে বাঁচার লড়াই, পদে পদে বিপদ। তারসাথে শব্দের খেলা, পালাতে গেলে ভেদ করতে হবে শব্দের জাল।
দুটো কাহিনী (তিনটেও বলা যেতে পারে। যদিও একটি অতীতের ঘটনা কিন্তু বাকি দুটি একই সাথে বয়ে যাওয়া একই বিন্দুতে পৌঁছানোর ঘটনা।) সমান্তরালভাবে চলতে চলতে অতীতের সাথে বর্তমানের সংযোগ স্থাপন।
একশ বাইশ বছর আগের ঘটনা থেকে বর্তমানের প্রযুক্তি।
ভারত ও নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্ক। মাঝে চীনের দাদাগিরি।
ভুল বানানে লিপি, ইচ্ছাকৃত? না অনিচ্ছাকৃত? কেউ কি ছিল না সেখানে, যে সঠিক বানান জানে?
শেষ হয়েও শেষ হল না। না না ঘাবড়ানোর কিছু নেই। উপন্যাস শেষ। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া হয়ে গেছে। এবার?
হুঁ, এরপর ও আছে বৈকি
বেশ সুন্দর ভাবে, ব্রাহ্মী লিপিকে বাংলা হরফ দিয়ে শেখানো হয়েছে। চাইলে শেখা যেতে পারে। তার সাথে 30 টি গ্রন্থপ্রঞ্জি ও তথ্যসূত্র। একটু বেশি জানার ইচ্ছা হলে, গুগল করে বা বই সংগ্রহ করে পড়ে আসা যাবে সেই লেখা গুলো।
** সম্পূর্ন ব্যক্তিগত মতামত
November 11, 2021
প্রীতম বসুর লেখার সাথে এই প্রথম আমার পরিচয়। প্রথম পরিচয়টা মন্দ হয় নি এটুকু বলতে পারি। থ্রিলার ধর্মী এই লেখায় গতি আছে পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতাও আছে। তাছাড়া বইয়ের বিষয়বস্তুর সাথে যেহেতু ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত সেদিক দিয়ে বইটি অন্যরকম আগ্রহও জাগায়। এ বই না পড়লে জানতেও পারতাম না গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান নিয়ে একটি বিতর্ক আছে। সেটা ভারত নেপাল সীমান্তের ঠিক কাছেই ভারতের পিতরাওয়াতে বলে ভারতের দাবি, অন্যদিকে নেপালের দাবি শাক্যমুনী গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী বা কপিলাবস্তু নগর এর বর্তমান অবস্থান নেপালের তিলাউরাকুটে। এই বিতর্ককে কেন্দ্র করেই এই উপন্যাসের কাহিনী। তবে উপন্যাসে যদিও সেই রহস্যের একটি সমাধান দেয়া হয়েছে, বাস্তবে বোধহয় সে বিতর্কের অবসান হয় নি।
কাহিনীর সময়কাল অবশ্য বর্তমান সময়। হার্ভাড ইউনিভার্সিটির তিন তিনজন অধ্যাপক খুন হয়ে গেলেন রহস্যজনকভাবে। সেই খুনের জন্য সন্দেহ করা হচ্ছে হার্ভাডেরই বাঙালি পি.এইচ.ডি স্টুডেন্ট রিধিমা বোস যিনি কিনা কয়েক বছর আগে আমেরিকা থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোজ হয়ে যাওয়া ভারতীয় আর্কিওলজিকাল ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ বোসের আপন ছোট বোন। আর রিধিমার নিজের পি.এইচ.ডির বিষয়বস্তুও সেই কপিলাবস্তু আর পিতরাওয়া নিয়ে বা বলা যায় বুদ্ধের জন্মস্থান নিয়ে। সেই রহস্যের কোন সূত্র পেয়েছিলেন চার বছর আগে সিদ্ধার্থ বোস, যার ফলশ্রুতিতে তার গুম হওয়া। কিন্তু সত্যিকার কপিলাবস্তু কথায় তার প্রমাণ নাকি আছে বুদ্ধের হাড়ে, তার চিতা থেকে তুলে নেওয়া হাড় রাখা হয়েছিল তারই জন্মস্থানে স্তুপ বানিয়ে একটি কলসে করে। সেই কলস দিয়েই এই রহস্যের জট খুলতে পারে। এর সাথে জড়িয়ে গেছে আরও সোয়াশো বছর আগের তরাইয়ের একটি থারু পরিবারের কাহিনী, জড়িয়ে গেছে আমেরিকা প্রবাসী একটি ইন্দো গায়ানিজ কমিউনিটিও। সেই সাথে জড়িয়ে আছে একটি টিবেটান বৌদ্ধ মঠ, আর্ন্তজাতিক এক অপরাধী চক্র, হ্যাকিং, ব্রাহ্মী লিপি, গিগশো পাজল কম্পিটিশনজয়ী হরিপ্রসাদ এবং অবশ্যই পেশায় সাংবাদিক (!) টেক এবং হ্যাকিং এক্সপার্ট সুনয়ন সিটাপোটি।
যে গৌতম বুদ্ধ ব্যক্তিপূজা পছন্দ করতেন না তার জন্মস্থান বা স্মৃতিচিহ্নমূলক যেকোন কিছুই আজ ভক্তদের পূজার বস্তু। বুদ্ধ সম্পর্কিত যেকোন প্রাচীন ঐতিহাসিক বস্তুর অর্থনৈতিক মূল্য বিশাল। এর সাথে জড়িয়ে আছে বিদেশী পর্যটক, বিনিয়োগ এমন ঢের ঢের বিষয়। তাছাড়া হয়তো উপন্যাসের রিনপোচে লামার মতো বাস্তবেও এমন অন্ধ বিশ্বাসী ভক্ত থাকা অসম্ভব নয় যারা ধর্মের বিশ্বাসের কারণে ন্যায়-অন্যায়, নীতিবোধ হারিয়ে ফেলে। উপন্যাসের একটাই ব্যাকড্রপ বলবো সোয়াশো বছর আগের ডায়েরীর ধাঁচে লেখা থারু পরিবারের বর্ণনাটি। ইতিহাস ঘেটে একটি অজানা পরিবারের এতটা ডিটেইলড তথ্য বোধহয় জোগাড় করা বাস্তবে সম্ভব নয়। আর পাঠক হিসেবে আমার কাছে প্লাস পয়েন্ট মনে হয়েছে নিউইয়র্ক, হার্ভাড, ইউএন অফিস সম্পর্কিত নানা বাস্তব তথ্য যেন চোখের সামনে দেখছি এমন বর্ণনা যা কখনোই নিজের চোখে দেখা সম্ভব হবে না হয়তো আমার পক্ষে। সেই সাথে ইতিহাসের কিছু না জানা তথ্য, একটি টানটান উত্তেজনাময় থ্রিলার সব মিলিয়ে উপভোগ্যই মনে হয়েছে।
কাহিনীর সময়কাল অবশ্য বর্তমান সময়। হার্ভাড ইউনিভার্সিটির তিন তিনজন অধ্যাপক খুন হয়ে গেলেন রহস্যজনকভাবে। সেই খুনের জন্য সন্দেহ করা হচ্ছে হার্ভাডেরই বাঙালি পি.এইচ.ডি স্টুডেন্ট রিধিমা বোস যিনি কিনা কয়েক বছর আগে আমেরিকা থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোজ হয়ে যাওয়া ভারতীয় আর্কিওলজিকাল ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ বোসের আপন ছোট বোন। আর রিধিমার নিজের পি.এইচ.ডির বিষয়বস্তুও সেই কপিলাবস্তু আর পিতরাওয়া নিয়ে বা বলা যায় বুদ্ধের জন্মস্থান নিয়ে। সেই রহস্যের কোন সূত্র পেয়েছিলেন চার বছর আগে সিদ্ধার্থ বোস, যার ফলশ্রুতিতে তার গুম হওয়া। কিন্তু সত্যিকার কপিলাবস্তু কথায় তার প্রমাণ নাকি আছে বুদ্ধের হাড়ে, তার চিতা থেকে তুলে নেওয়া হাড় রাখা হয়েছিল তারই জন্মস্থানে স্তুপ বানিয়ে একটি কলসে করে। সেই কলস দিয়েই এই রহস্যের জট খুলতে পারে। এর সাথে জড়িয়ে গেছে আরও সোয়াশো বছর আগের তরাইয়ের একটি থারু পরিবারের কাহিনী, জড়িয়ে গেছে আমেরিকা প্রবাসী একটি ইন্দো গায়ানিজ কমিউনিটিও। সেই সাথে জড়িয়ে আছে একটি টিবেটান বৌদ্ধ মঠ, আর্ন্তজাতিক এক অপরাধী চক্র, হ্যাকিং, ব্রাহ্মী লিপি, গিগশো পাজল কম্পিটিশনজয়ী হরিপ্রসাদ এবং অবশ্যই পেশায় সাংবাদিক (!) টেক এবং হ্যাকিং এক্সপার্ট সুনয়ন সিটাপোটি।
যে গৌতম বুদ্ধ ব্যক্তিপূজা পছন্দ করতেন না তার জন্মস্থান বা স্মৃতিচিহ্নমূলক যেকোন কিছুই আজ ভক্তদের পূজার বস্তু। বুদ্ধ সম্পর্কিত যেকোন প্রাচীন ঐতিহাসিক বস্তুর অর্থনৈতিক মূল্য বিশাল। এর সাথে জড়িয়ে আছে বিদেশী পর্যটক, বিনিয়োগ এমন ঢের ঢের বিষয়। তাছাড়া হয়তো উপন্যাসের রিনপোচে লামার মতো বাস্তবেও এমন অন্ধ বিশ্বাসী ভক্ত থাকা অসম্ভব নয় যারা ধর্মের বিশ্বাসের কারণে ন্যায়-অন্যায়, নীতিবোধ হারিয়ে ফেলে। উপন্যাসের একটাই ব্যাকড্রপ বলবো সোয়াশো বছর আগের ডায়েরীর ধাঁচে লেখা থারু পরিবারের বর্ণনাটি। ইতিহাস ঘেটে একটি অজানা পরিবারের এতটা ডিটেইলড তথ্য বোধহয় জোগাড় করা বাস্তবে সম্ভব নয়। আর পাঠক হিসেবে আমার কাছে প্লাস পয়েন্ট মনে হয়েছে নিউইয়র্ক, হার্ভাড, ইউএন অফিস সম্পর্কিত নানা বাস্তব তথ্য যেন চোখের সামনে দেখছি এমন বর্ণনা যা কখনোই নিজের চোখে দেখা সম্ভব হবে না হয়তো আমার পক্ষে। সেই সাথে ইতিহাসের কিছু না জানা তথ্য, একটি টানটান উত্তেজনাময় থ্রিলার সব মিলিয়ে উপভোগ্যই মনে হয়েছে।
January 18, 2021
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া
বই- কপিলাবস্তুর কলস
লেখক- প্রীতম বসু
দাম- ৩৭৫ ( সেল্ফ পাবলিশড)
প্রীতম বসুর চৌথুপীর চর্যাপদ, পঞ্চানন মঙ্গল ও ছিরিচাঁদ পড়ার পরে সম্ভবত খুব বেশি আশা করে বসেছিলাম। অতিলোভে পাঠক ডোবে।
যদি কোনও এক্সপেকটেশন না নিয়ে এই বই পড়া হয়, তাহলে দুর্দান্ত থ্রিলারের পর্যায়ে ফেলা যাবে। কিন্তু আপিনি যদি সাত ঘাটের জল খাওয়া (পড়ুন নাক-উঁচু থ্রিলার পাঠক) হন, তাহলে এই বইয়ের বহু ক্ষেত্রেই আপনার কপালে কুঞ্চন দেখা দেবে।
স্পয়লার না দিয়ে বললে গল্পটা মোটামুটি এইরকম-
কপিলাবস্তু কোথায়, ভারতের পিতরাওয়া নাকি নেপালে? এই নিয়ে দুই দেশের বিতর্ক বিরোধ তুঙ্গে। তার সঙ্গে কি আবার যুক্ত রয়েছে আন্ডারওয়ার্ল্ড? এদিকে কোনও এক অজানা রহস্যকে বুকে আঁকড়ে ধরে রাখতে গিয়ে খুন হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন অধ্যাপক। এবং খুনের দায় মাথায় এসে পড়ে তাদেরই ছাত্রী রিধিমার মাথায়। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মরিয়া রিধিমার জীবনের আটদিনের যাত্রা নিয়েই গল্প এগোয়। তার সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে চলে শতাধিক প্রাচীন তরাইয়ের এক পরিবারের গল্প।
গল্পে বহু জায়গায় প্লট হোল আছে। বইটা সদ্য বেরিয়েছে, অনেকে এখনও পড়েননি, তাই সেসব দিয়ে তাঁদের পড়ার স্বাদ নষ্ট করব না। পরে না হয় এডিট করে দেওয়া যাবে।
তবে উপন্যাসের গল্প ড্যান ব্রাউন স্টাইলে চলতে চলতে কখন সল্লুভাইয়ের সিনেমা হয়ে যাবে আপনি বুঝতেও পারবেন না।
বইটার আর একটা সমস্যা হল, পড়ার আগ্রহ জাগে না। থ্রিলারে যেমন 'কী হবে, কী হবে' ভাব নিয়ে আমরা পাতা উল্টে চলি, এ বইতে সে ইচ্ছা কাজ করছিল না। যেন সবটাই জানা।
তবে হ্যাঁ, এই বই নিয়ে সিনেমা যদি বানানো হয়, তা ফাটাফাটি হবে। প্রচুর মুভি মেটিরিয়াল রয়েছে।
বইয়ের বাঁধাই ভাল, কিন্তু ফ্রন্ট কভারের সেলোফেন পেপারটা উঠে চলে আসছে।
লেখকের উদ্দেশ্যে নিবেদন- পাঠককে মাথা খাটানোর জায়গা দিন। আপনার উপন্যাসে তাকে অংশীদার করুন, তাতে গল্পের ডিমান্ড বাড়বে। মনে রাখবেন, মুখের সামনে সাজানো গোছানো ওই ভাতের থালাই ঠিক আছে, থ্রিলার নয়। আর সবাই যোগেশও হয় না। সাজানো বাগান অনেকেই কিন্তু পছন্দ করেন না।
আমার রেটিং- দশে চার।
তবে পাঠকবৃন্দ , পরের মুখের ঝাল খবরদার খাবেন না।
বই- কপিলাবস্তুর কলস
লেখক- প্রীতম বসু
দাম- ৩৭৫ ( সেল্ফ পাবলিশড)
প্রীতম বসুর চৌথুপীর চর্যাপদ, পঞ্চানন মঙ্গল ও ছিরিচাঁদ পড়ার পরে সম্ভবত খুব বেশি আশা করে বসেছিলাম। অতিলোভে পাঠক ডোবে।
যদি কোনও এক্সপেকটেশন না নিয়ে এই বই পড়া হয়, তাহলে দুর্দান্ত থ্রিলারের পর্যায়ে ফেলা যাবে। কিন্তু আপিনি যদি সাত ঘাটের জল খাওয়া (পড়ুন নাক-উঁচু থ্রিলার পাঠক) হন, তাহলে এই বইয়ের বহু ক্ষেত্রেই আপনার কপালে কুঞ্চন দেখা দেবে।
স্পয়লার না দিয়ে বললে গল্পটা মোটামুটি এইরকম-
কপিলাবস্তু কোথায়, ভারতের পিতরাওয়া নাকি নেপালে? এই নিয়ে দুই দেশের বিতর্ক বিরোধ তুঙ্গে। তার সঙ্গে কি আবার যুক্ত রয়েছে আন্ডারওয়ার্ল্ড? এদিকে কোনও এক অজানা রহস্যকে বুকে আঁকড়ে ধরে রাখতে গিয়ে খুন হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন অধ্যাপক। এবং খুনের দায় মাথায় এসে পড়ে তাদেরই ছাত্রী রিধিমার মাথায়। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মরিয়া রিধিমার জীবনের আটদিনের যাত্রা নিয়েই গল্প এগোয়। তার সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে চলে শতাধিক প্রাচীন তরাইয়ের এক পরিবারের গল্প।
গল্পে বহু জায়গায় প্লট হোল আছে। বইটা সদ্য বেরিয়েছে, অনেকে এখনও পড়েননি, তাই সেসব দিয়ে তাঁদের পড়ার স্বাদ নষ্ট করব না। পরে না হয় এডিট করে দেওয়া যাবে।
তবে উপন্যাসের গল্প ড্যান ব্রাউন স্টাইলে চলতে চলতে কখন সল্লুভাইয়ের সিনেমা হয়ে যাবে আপনি বুঝতেও পারবেন না।
বইটার আর একটা সমস্যা হল, পড়ার আগ্রহ জাগে না। থ্রিলারে যেমন 'কী হবে, কী হবে' ভাব নিয়ে আমরা পাতা উল্টে চলি, এ বইতে সে ইচ্ছা কাজ করছিল না। যেন সবটাই জানা।
তবে হ্যাঁ, এই বই নিয়ে সিনেমা যদি বানানো হয়, তা ফাটাফাটি হবে। প্রচুর মুভি মেটিরিয়াল রয়েছে।
বইয়ের বাঁধাই ভাল, কিন্তু ফ্রন্ট কভারের সেলোফেন পেপারটা উঠে চলে আসছে।
লেখকের উদ্দেশ্যে নিবেদন- পাঠককে মাথা খাটানোর জায়গা দিন। আপনার উপন্যাসে তাকে অংশীদার করুন, তাতে গল্পের ডিমান্ড বাড়বে। মনে রাখবেন, মুখের সামনে সাজানো গোছানো ওই ভাতের থালাই ঠিক আছে, থ্রিলার নয়। আর সবাই যোগেশও হয় না। সাজানো বাগান অনেকেই কিন্তু পছন্দ করেন না।
আমার রেটিং- দশে চার।
তবে পাঠকবৃন্দ , পরের মুখের ঝাল খবরদার খাবেন না।
March 3, 2025
প্রীতম বাবুর লেখা একবার পড়লে আপনি ওনার ভক্ত না হয়ে পারবেন না। কি দারুন লেখে। শব্দ, বাক্য দিয়ে নিজের এমন একটা জগৎ তৈরি করে যে কিছুক্ষনের জন্য আপনি নিজে ওই জগতে ঢুকে যাবেন, চরিত্রগুলোর সাথে মিশে যাবেন। আর লেখা এতাটা ডিটেলিং হয় যে চোখের সামনে সবকিছু ভাসে। আর থ্রিল তো মারাত্মক পরিমানে থাকে। পড়ে ফেলুন।
May 12, 2026
স্থাস্থ্যগত কারণে আমি একটা চিন্তাবিহীন সময় চেয়েছিলাম। এমন একটা বই পড়তে চেয়েছিলাম যার মধ্যে ডুবে যেতে পারবো কিন্তু জীবনের কঠিন ও জটিল দর্শন থাকবে না-- যা আমি সাধারণত উপন্যাসে খুঁজি। মনটাকে অন্য একটা জগতে স্থির করতে , অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম।
আবার হালকা মেজাজের বইও পড়তে ভালো লাগে না। বেছে নিলাম প্রীতম বসুর কপিলাবস্তুর কলস।
৪০২ পৃষ্ঠার থ্রিলার উপন্যাস "কপিলাবস্তুর কলস"। ইতিহাস , রোমাঞ্চ, রহস্য , গবেষণা, উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য সবকিছুর সমাহার এই বইয়ের পাতায় পাতায়।
এর আগে পড়েছিলাম তাঁর লেখা পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল ও চৌধুপির চর্যাপদ। কিন্তু কপিলাবস্তুর কলস সম্পূর্ণই আমেরিকার পটভূমিতে লেখা। লেখক নিজে নিউইয়র্কে থাকেন বলেই হয়তো আমেরিকার তুষারপাতে জনজীবনের অবস্থা, সামাজিক জীবন ,অপরাধ জগত ইত্যাদি নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন।
আইটি নিয়ে বেশ খেটেছেন। অথবা নিজে ইঞ্জিনিয়ার বলে সে জ্ঞান ঢেলে দিয়েছেন।
ছোটবেলায় পড়েছি গৌতম বুদ্ধ নেপালের কপিলাবস্তুতে শাক্য বংশের রানী মায়াদেবীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন।
এই কপিলাবস্ত ভারতে না নেপালে এ বিতর্কই এ বইয়ের মূল কাহিনি। কারণ দুই পক্ষের চাচ্ছে ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পেতে এবং যার মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্র হবে লাখ লাখ ডলার উপার্জন করবে।
ভারতের দাবি ভারত নেপাল সীমান্তের ঠিক কাছেই ভারতের পিতরাওয়াতে গৌতম বুদ্ধের জন্ম। নেপালের ঐতিহাসিক যুক্তি শাক্যমুনী গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী বা কপিলাবস্তু নগর । এর বর্তমান অবস্থান নেপালের তিলাউরাকুটে।
উপন্যাসে আরও যুক্ত হয়েছে গৌতম বুদ্ধের চিতায় পুড়ানো হাড় নিয়ে জোড়া লাগিয়ে তাকে সজীব করার কাল্পনিক কাহিনি। এ হাড় সংগ্রহের ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে রয়েছে বিলিয়ন ডলারের কেনাবেচার কাহিনি।
ব্রিটিশদের টাকা খরচ করে ইতিহাস বিকৃতির উদাহরণও রয়েছে।ভারত থেকে আফ্রিকায় শ্রমিক সরবরাহের ঘটনা, ওখান থেকে তাদের আমেরিকাতে অভিবাসন করার ঐতিহাসিক ঘটনাও সংযোজিত হয়েছে এই বইটিতে।
বইটির পরতে পরতে রোমাঞ্চ, রহস্য, উত্তেজনা। হারবার্ডের পি এইচ ডি স্টুডেন্ট রিধিমা বোসের একটা থেকে আরেকটা মহাবিপদের সম্মুখীন হওয়া এবং সুনয়ন নিজের বুদ্ধিমত্তা, আইটি কৌশল, নেটওয়ার্কিং করা লোকজনকে খাটিয়ে ওখান থেকে উদ্ধার করা। বুদ্ধিদীপ্ত খেলা।
এই বইটি পড়তে শুধু সাহিত্যে আগ্রহী হলে হবে না; প্রয়োজন আমেরিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে একটু ধারণা, হ্যাকার , আইটি ,সাইবার জগত নিয়ে টুকটাক জানা থাকা, তা নাহলে বইটি পড়ে উপভোগ করা যাবে না।
এই বইটি পড়ে একটা খটকা থেকে যায় -- রিধিমা বসুর দাদা ড:সিদ্ধার্থ বোসের নেপালের পটভূমিতে থারুদের কাহিনি ও কপিলাবস্তর কলসের কথা জানার উৎস কী?
যাহোক, বইটি আমার সময়োপযোগী পাঠ প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
আবার হালকা মেজাজের বইও পড়তে ভালো লাগে না। বেছে নিলাম প্রীতম বসুর কপিলাবস্তুর কলস।
৪০২ পৃষ্ঠার থ্রিলার উপন্যাস "কপিলাবস্তুর কলস"। ইতিহাস , রোমাঞ্চ, রহস্য , গবেষণা, উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য সবকিছুর সমাহার এই বইয়ের পাতায় পাতায়।
এর আগে পড়েছিলাম তাঁর লেখা পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল ও চৌধুপির চর্যাপদ। কিন্তু কপিলাবস্তুর কলস সম্পূর্ণই আমেরিকার পটভূমিতে লেখা। লেখক নিজে নিউইয়র্কে থাকেন বলেই হয়তো আমেরিকার তুষারপাতে জনজীবনের অবস্থা, সামাজিক জীবন ,অপরাধ জগত ইত্যাদি নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন।
আইটি নিয়ে বেশ খেটেছেন। অথবা নিজে ইঞ্জিনিয়ার বলে সে জ্ঞান ঢেলে দিয়েছেন।
ছোটবেলায় পড়েছি গৌতম বুদ্ধ নেপালের কপিলাবস্তুতে শাক্য বংশের রানী মায়াদেবীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন।
এই কপিলাবস্ত ভারতে না নেপালে এ বিতর্কই এ বইয়ের মূল কাহিনি। কারণ দুই পক্ষের চাচ্ছে ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পেতে এবং যার মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্র হবে লাখ লাখ ডলার উপার্জন করবে।
ভারতের দাবি ভারত নেপাল সীমান্তের ঠিক কাছেই ভারতের পিতরাওয়াতে গৌতম বুদ্ধের জন্ম। নেপালের ঐতিহাসিক যুক্তি শাক্যমুনী গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী বা কপিলাবস্তু নগর । এর বর্তমান অবস্থান নেপালের তিলাউরাকুটে।
উপন্যাসে আরও যুক্ত হয়েছে গৌতম বুদ্ধের চিতায় পুড়ানো হাড় নিয়ে জোড়া লাগিয়ে তাকে সজীব করার কাল্পনিক কাহিনি। এ হাড় সংগ্রহের ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে রয়েছে বিলিয়ন ডলারের কেনাবেচার কাহিনি।
ব্রিটিশদের টাকা খরচ করে ইতিহাস বিকৃতির উদাহরণও রয়েছে।ভারত থেকে আফ্রিকায় শ্রমিক সরবরাহের ঘটনা, ওখান থেকে তাদের আমেরিকাতে অভিবাসন করার ঐতিহাসিক ঘটনাও সংযোজিত হয়েছে এই বইটিতে।
বইটির পরতে পরতে রোমাঞ্চ, রহস্য, উত্তেজনা। হারবার্ডের পি এইচ ডি স্টুডেন্ট রিধিমা বোসের একটা থেকে আরেকটা মহাবিপদের সম্মুখীন হওয়া এবং সুনয়ন নিজের বুদ্ধিমত্তা, আইটি কৌশল, নেটওয়ার্কিং করা লোকজনকে খাটিয়ে ওখান থেকে উদ্ধার করা। বুদ্ধিদীপ্ত খেলা।
এই বইটি পড়তে শুধু সাহিত্যে আগ্রহী হলে হবে না; প্রয়োজন আমেরিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে একটু ধারণা, হ্যাকার , আইটি ,সাইবার জগত নিয়ে টুকটাক জানা থাকা, তা নাহলে বইটি পড়ে উপভোগ করা যাবে না।
এই বইটি পড়ে একটা খটকা থেকে যায় -- রিধিমা বসুর দাদা ড:সিদ্ধার্থ বোসের নেপালের পটভূমিতে থারুদের কাহিনি ও কপিলাবস্তর কলসের কথা জানার উৎস কী?
যাহোক, বইটি আমার সময়োপযোগী পাঠ প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
June 16, 2022
🍂📖বইয়ের নাম - কপিলাবস্তুর কলস📖🍂
✍️লেখক - প্রীতম বসু
📑পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৪০০
🖨️প্রকাশক - সেলফ পাব্লিশড
🍁🎭শুরু তেই দেখা যায় দিল্লীর ন্যাশনাল মিউজিয়ামের প্রর্দশনী থেকে বুদ্ধর হাড় চুরি হয়ে যায় , কিউরেটার ডঃ সিদ্ধার্থ বোস বলে ‘ ইমিডিয়েট গোপনে একটা ইনভেস্টিগেশন শুরু করতে বলে ! ' এডিজির শুনে নার্ভাস হয়ে যায় ‘ ইনভেস্টিগেশন ? মানে বুদ্ধের হাড়ের DNA টেস্ট ? 'সিদ্ধার্থ কিছু বলার আগেই এডিজির মস্তিষ্ক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় । ‘ আমাদের দেশের ল্যাবের রিপোর্টকে চিনারা বলবে ফেক রিপোর্ট । DNA টেস্ট বিদেশের কোনও রেপুটেড ল্যাব থেকে করাতে হবে । ' ‘ বিদেশে ? গোপন টেস্ট ? ’ বুদ্ধের হাড় কি সত্যিই নকল?
(তাহলে তরাইয়ের জঙ্গল ঘেরা চিতওয়ানি , কোচিলা , ডাংগৌরা , মোরাঙ্গিয়া থারুদের গ্রামগুলোতে সাঁঝের হাওয়ায় ফিসফিস করে ঘুরে বেড়ানো দেবচরণ - তুলসী - রাজকুমারীর যে জনশ্রুতি শুনে সে লিপিবদ্ধ করেছে তা মিথ্যে নয় ? কিন্তু তাহলে ব্রিটিশদের লেখা ভারতের ইতিহাস ?)
সিদ্ধার্থ এর হাতে একটা ডায়েরি আসে,পৃষ্ঠা উলটাতে গিয়ে ডায়েরি থেকে বেরিয়ে এল ব্রাহ্মী বাংলা
তালিকা ।
কিন্তু ডায়েরির পাতায় দু'চোখ রেখে কিউরেটার সিদ্ধার্থ বোস কি কক্ষনো ভাবতে পেরেছে যে তার নিয়তিকে ডাকছে মৃত্যুর হাতছানি ?
কী ঘটেছিল নেপালের তরাইয়ের জঙ্গলে একশ বাইশ বছর আগে যা দাদা তার ডায়েরিতে গোপন করে রেখে গেছে ? কে খুন করল তিনজন প্রফেসরকে ? কেন ওকে কেউ খুন করতে চায় ?
এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আর্কিওলজির ছাত্রী তথা হার্ভার্ডে পিএইচডি গবেষণারত রিধিমা বোস। সে এবং তার দাদা দিল্লি মিউজিয়ামের একদা কিউরেটর সিদ্ধার্থ বোস অস্থিকলসে ধৃত গৌতম বুদ্ধের আসল দেহাস্থির তত্ত্ব-তালাশে জীবনমরণ অনুসন্ধানে ব্রতী। সিদ্ধার্থ বোসের রহস্যঘন অন্তর্ধান সূত্রে রিধিমা সেই অস্থিকলসের সন্ধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। পারবে কি সে তা উদ্ধার করতে?
গোটা রহস্যরোমাঞ্চের সূত্রপাত ঘটালো কে ? রিধিমা? ওর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা সুনয়ন ? জিগস পাজলার হরিপরসাদ? অথবা সিদ্ধার্থ বোস ওরফে জোর করে বানানো 'মঞ্জুশ্রী লামা' লামা অন হুইলচেয়ার !
এই উপন্যাসের ভিলেন কে বা কারা? পরাধীন ভারতের ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদরা? ইন্ভিয়া মিশনের মোহন গুপ্তা? জয়দেব সাহু? মনোজ যোশী? নাকি শয়তানের বাচ্চা লামা রিনপোচে? মাফিয়া সম্রাট জেনারেল লি ঝেন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে 'কপিলাবস্তুর কলস' বইটি।🎭🍁
#kapilavastur_kalash #pritam_basu
#কপিলাবস্ত্তর_কলস #প্রীতম_বসু
#bengalibooks #book #bookrecommendations #bookreading #bookreview #bookreader #bookworm #boipoka #goodreads #bookinstagram #bookcollection #BengaliNovel #suspensethriller #novels #shortstory #readingchallenge #readingdone #reader #bengalidetective #BengaliMagazine #happyreading #bengalibook #bengalihorrorstory #bengalibookrecommendation #bengalireaders #bangalaboi
✍️লেখক - প্রীতম বসু
📑পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৪০০
🖨️প্রকাশক - সেলফ পাব্লিশড
🍁🎭শুরু তেই দেখা যায় দিল্লীর ন্যাশনাল মিউজিয়ামের প্রর্দশনী থেকে বুদ্ধর হাড় চুরি হয়ে যায় , কিউরেটার ডঃ সিদ্ধার্থ বোস বলে ‘ ইমিডিয়েট গোপনে একটা ইনভেস্টিগেশন শুরু করতে বলে ! ' এডিজির শুনে নার্ভাস হয়ে যায় ‘ ইনভেস্টিগেশন ? মানে বুদ্ধের হাড়ের DNA টেস্ট ? 'সিদ্ধার্থ কিছু বলার আগেই এডিজির মস্তিষ্ক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় । ‘ আমাদের দেশের ল্যাবের রিপোর্টকে চিনারা বলবে ফেক রিপোর্ট । DNA টেস্ট বিদেশের কোনও রেপুটেড ল্যাব থেকে করাতে হবে । ' ‘ বিদেশে ? গোপন টেস্ট ? ’ বুদ্ধের হাড় কি সত্যিই নকল?
(তাহলে তরাইয়ের জঙ্গল ঘেরা চিতওয়ানি , কোচিলা , ডাংগৌরা , মোরাঙ্গিয়া থারুদের গ্রামগুলোতে সাঁঝের হাওয়ায় ফিসফিস করে ঘুরে বেড়ানো দেবচরণ - তুলসী - রাজকুমারীর যে জনশ্রুতি শুনে সে লিপিবদ্ধ করেছে তা মিথ্যে নয় ? কিন্তু তাহলে ব্রিটিশদের লেখা ভারতের ইতিহাস ?)
সিদ্ধার্থ এর হাতে একটা ডায়েরি আসে,পৃষ্ঠা উলটাতে গিয়ে ডায়েরি থেকে বেরিয়ে এল ব্রাহ্মী বাংলা
তালিকা ।
কিন্তু ডায়েরির পাতায় দু'চোখ রেখে কিউরেটার সিদ্ধার্থ বোস কি কক্ষনো ভাবতে পেরেছে যে তার নিয়তিকে ডাকছে মৃত্যুর হাতছানি ?
কী ঘটেছিল নেপালের তরাইয়ের জঙ্গলে একশ বাইশ বছর আগে যা দাদা তার ডায়েরিতে গোপন করে রেখে গেছে ? কে খুন করল তিনজন প্রফেসরকে ? কেন ওকে কেউ খুন করতে চায় ?
এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আর্কিওলজির ছাত্রী তথা হার্ভার্ডে পিএইচডি গবেষণারত রিধিমা বোস। সে এবং তার দাদা দিল্লি মিউজিয়ামের একদা কিউরেটর সিদ্ধার্থ বোস অস্থিকলসে ধৃত গৌতম বুদ্ধের আসল দেহাস্থির তত্ত্ব-তালাশে জীবনমরণ অনুসন্ধানে ব্রতী। সিদ্ধার্থ বোসের রহস্যঘন অন্তর্ধান সূত্রে রিধিমা সেই অস্থিকলসের সন্ধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। পারবে কি সে তা উদ্ধার করতে?
গোটা রহস্যরোমাঞ্চের সূত্রপাত ঘটালো কে ? রিধিমা? ওর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা সুনয়ন ? জিগস পাজলার হরিপরসাদ? অথবা সিদ্ধার্থ বোস ওরফে জোর করে বানানো 'মঞ্জুশ্রী লামা' লামা অন হুইলচেয়ার !
এই উপন্যাসের ভিলেন কে বা কারা? পরাধীন ভারতের ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদরা? ইন্ভিয়া মিশনের মোহন গুপ্তা? জয়দেব সাহু? মনোজ যোশী? নাকি শয়তানের বাচ্চা লামা রিনপোচে? মাফিয়া সম্রাট জেনারেল লি ঝেন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে 'কপিলাবস্তুর কলস' বইটি।🎭🍁
#kapilavastur_kalash #pritam_basu
#কপিলাবস্ত্তর_কলস #প্রীতম_বসু
#bengalibooks #book #bookrecommendations #bookreading #bookreview #bookreader #bookworm #boipoka #goodreads #bookinstagram #bookcollection #BengaliNovel #suspensethriller #novels #shortstory #readingchallenge #readingdone #reader #bengalidetective #BengaliMagazine #happyreading #bengalibook #bengalihorrorstory #bengalibookrecommendation #bengalireaders #bangalaboi
July 11, 2023
বই - কপিলাবস্তুর কলস 📚
লেখক - প্রিতম বসু
প্রকাশনা - সেল্ফ পাবলিকেশন
পৃষ্ঠা - ৪০২
মূল্য - ৩২০ টাকা
📚 পাঠ প্রতিক্রিয়া
অধিকাংশ ক্ষেত্রে রহস্য বলে পাঠককে যেটা গেলানো হয়, সেটা পাঁচন ছাড়া কিছু নয়। অনেকক্ষেত্রে ওষুধ হিসেবে গিলে ফেলি, আবার অনেক ক্ষেত্রে বমিও হয়ে যায়।
সেইখানে দাঁড়িয়ে যে গুটিকয়েক বই, রহস্যের সন্ধানে পাঠককে বইএর শেষ অবধি নিয়ে যায়, তার প্রথম দিকেই থাকবে এই বইটা - কপিলাবস্তুর কলস।
কপিলাবস্তুর কলস = ইতিহাস না রহস্য?
এককথায় দুটোই
এ বই না পড়লে জানতেও পারতাম না গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান নিয়ে একটি বিতর্ক আছে। সেটা ভারত নেপাল সীমান্তের ঠিক কাছেই ভারতের পিতরাওয়াতে বলে ভারতের দাবি, অন্যদিকে নেপালের দাবি শাক্যমুনী গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী বা কপিলাবস্তু নগর এর বর্তমান অবস্থান নেপালের তিলাউরাকুটে। এই বিতর্ককে কেন্দ্র করেই এই উপন্যাসের কাহিনী। তবে উপন্যাসে যদিও সেই রহস্যের একটি সমাধান দেয়া হয়েছে, বাস্তবে বোধহয় সে বিতর্কের অবসান হয়নি...
যে গৌতম বুদ্ধ ব্যক্তিপূজা পছন্দ করতেন না তার জন্মস্থান বা স্মৃতিচিহ্নমূলক যেকোন কিছুই আজ ভক্তদের পূজার বস্তু। বুদ্ধ সম্পর্কিত যেকোন প্রাচীন ঐতিহাসিক বস্তুর অর্থনৈতিক মূল্য বিশাল। এর সাথে জড়িয়ে আছে বিদেশী পর্যটক, বিনিয়োগ এমন ঢের ঢের বিষয়। তাছাড়া হয়তো উপন্যাসের রিনপোচে লামার মতো বাস্তবেও এমন অন্ধ বিশ্বাসী ভক্ত থাকা অসম্ভব নয় যারা ধর্মের বিশ্বাসের কারণে ন্যায়-অন্যায়, নীতিবোধ হারিয়ে ফেলে।
উপন্যাসের একটাই ব্যাকড্রপ বলবো কয়েকশো বছর আগের ডায়েরীর ধাঁচে লেখা থারু পরিবারের বর্ণনাটি। ইতিহাস ঘেঁটে একটি অজানা পরিবারের এতটা ডিটেইলড তথ্য বোধহয় জোগাড় করা বাস্তবে সম্ভব নয়। আর পাঠক হিসেবে আমার কাছে প্লাস পয়েন্ট মনে হয়েছে নিউইয়র্ক, হার্ভাড, ইউএন অফিস সম্পর্কিত নানা বাস্তব তথ্য যেন চোখের সামনে দেখছি এমন বর্ণনা যা কখনোই নিজের চোখে দেখা সম্ভব হবে না হয়তো আমার পক্ষে। সেই সাথে ইতিহাসের কিছু না জানা তথ্য, একটি টানটান উত্তেজনাময় থ্রিলার সব মিলিয়ে উপভোগ্যই মনে হয়েছে...
লেখক - প্রিতম বসু
প্রকাশনা - সেল্ফ পাবলিকেশন
পৃষ্ঠা - ৪০২
মূল্য - ৩২০ টাকা
📚 পাঠ প্রতিক্রিয়া
অধিকাংশ ক্ষেত্রে রহস্য বলে পাঠককে যেটা গেলানো হয়, সেটা পাঁচন ছাড়া কিছু নয়। অনেকক্ষেত্রে ওষুধ হিসেবে গিলে ফেলি, আবার অনেক ক্ষেত্রে বমিও হয়ে যায়।
সেইখানে দাঁড়িয়ে যে গুটিকয়েক বই, রহস্যের সন্ধানে পাঠককে বইএর শেষ অবধি নিয়ে যায়, তার প্রথম দিকেই থাকবে এই বইটা - কপিলাবস্তুর কলস।
কপিলাবস্তুর কলস = ইতিহাস না রহস্য?
এককথায় দুটোই
এ বই না পড়লে জানতেও পারতাম না গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান নিয়ে একটি বিতর্ক আছে। সেটা ভারত নেপাল সীমান্তের ঠিক কাছেই ভারতের পিতরাওয়াতে বলে ভারতের দাবি, অন্যদিকে নেপালের দাবি শাক্যমুনী গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী বা কপিলাবস্তু নগর এর বর্তমান অবস্থান নেপালের তিলাউরাকুটে। এই বিতর্ককে কেন্দ্র করেই এই উপন্যাসের কাহিনী। তবে উপন্যাসে যদিও সেই রহস্যের একটি সমাধান দেয়া হয়েছে, বাস্তবে বোধহয় সে বিতর্কের অবসান হয়নি...
যে গৌতম বুদ্ধ ব্যক্তিপূজা পছন্দ করতেন না তার জন্মস্থান বা স্মৃতিচিহ্নমূলক যেকোন কিছুই আজ ভক্তদের পূজার বস্তু। বুদ্ধ সম্পর্কিত যেকোন প্রাচীন ঐতিহাসিক বস্তুর অর্থনৈতিক মূল্য বিশাল। এর সাথে জড়িয়ে আছে বিদেশী পর্যটক, বিনিয়োগ এমন ঢের ঢের বিষয়। তাছাড়া হয়তো উপন্যাসের রিনপোচে লামার মতো বাস্তবেও এমন অন্ধ বিশ্বাসী ভক্ত থাকা অসম্ভব নয় যারা ধর্মের বিশ্বাসের কারণে ন্যায়-অন্যায়, নীতিবোধ হারিয়ে ফেলে।
উপন্যাসের একটাই ব্যাকড্রপ বলবো কয়েকশো বছর আগের ডায়েরীর ধাঁচে লেখা থারু পরিবারের বর্ণনাটি। ইতিহাস ঘেঁটে একটি অজানা পরিবারের এতটা ডিটেইলড তথ্য বোধহয় জোগাড় করা বাস্তবে সম্ভব নয়। আর পাঠক হিসেবে আমার কাছে প্লাস পয়েন্ট মনে হয়েছে নিউইয়র্ক, হার্ভাড, ইউএন অফিস সম্পর্কিত নানা বাস্তব তথ্য যেন চোখের সামনে দেখছি এমন বর্ণনা যা কখনোই নিজের চোখে দেখা সম্ভব হবে না হয়তো আমার পক্ষে। সেই সাথে ইতিহাসের কিছু না জানা তথ্য, একটি টানটান উত্তেজনাময় থ্রিলার সব মিলিয়ে উপভোগ্যই মনে হয়েছে...
May 30, 2024
বুদ্ধের চিতার হাড় সম্বলিত কলস নিয়ে যত রাজ্যের মারপিট। নেপাল এবং ভারতের মধ্যে কপিলাবস্তুর লোকেশন নিয়ে ডিবেট, এক বৌদ্ধ মনাস্ট্রির বুদ্ধের হাড় কালেক্ট করার বাতিক, বুদ্ধের হাড় জোগাড় করে বিক্রি করায় আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়াদের ঔৎসুক্য, আসল আর নকল বুদ্ধের হাড় নিয়ে রিসার্চ করতে গিয়ে হার্ভার্ড স্টুডেন্ট রিধিমার এক জঘন্য চক্রান্তে পা দেওয়া - এসব নিয়েই প্লট গড়ে উঠেছে।
এটি বেসিক্যালি একটি থ্রিলার। তবে কাহিনির সিংহভাগ জুড়ে কেবল পালানোর কাহিনি। মাল্টিপল টাইমলাইন ন্যারেশন রয়েছে কাহিনিতে। অতীতের কাহিনিতেও চরিত্ররা পালাচ্ছে, বর্তমানের কাহিনিতেও পালাচ্ছে। এই পালাপালি করার ড্যান-ব্রাউনীয় স্টাইলের স্টেপ বাই স্টেপ ডিটেল বর্ণনা করতে গিয়েই ৪০০-এর কাছাকাছি পৃষ্ঠাসংখ্যা বইটির। মূল কাহিনির আকর একেবারেই ছোট্ট। সেটা ১৫০-২০০ পাতাতেও বলা সম্ভব। মাঝের দিকে বইটা পড়তে বোরিং না লাগলেও, একটু রাগই হচ্ছিল। আরে আর কত পালাবে? আসল কনক্লুশনে আসুক এবার!
পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গলের সেই অঙ্কের সূত্র দিয়ে খেলা দেখানোর ম্যাজিক টাচ এই কাহিনিতে নেই। ব্রাহ্মীলিপি নিয়ে কিছু কাজ এবং কিছু ওয়ার্ড জাম্বলিং থাকলেও তা মার্ভেলাস মনে হল না অন্যবারের মতোন।
তবে লেখক নিজে নিউইয়র্ক নিবাসী হওয়ায়, সব অলিগলি ধরে পালানোর দীর্ঘ বর্ণনা লিখতে পারা সম্ভবপর হয়েছে। এতটা ডিটেল সেখানকার নিবাসী ছাড়া আর কেউ লিখতে পারবে না। তাছাড়া থারু, কপিলাবস্তু, ব্রাহ্মীলিপি ইত্যাদি নিয়ে লেখকের রিসার্চ প্রশ্নাতীত।
পড়ে খারাপ লাগার মতোন নয়। তবে ৪০০ পাতা জুড়ে কাহিনিকে বিস্তৃত করা অন্যায় হয়েছে। আরেকটু কম্প্যাক্ট করে লিখলে অনেকবারের ডোজ অফ করে বই রেখে দেওয়াটা ঘটতো না।
(বি:দ্র: - আবারো একটা বইয়ের নামের বানান ভুল। "কপিলাবস্তুর" বদলে "কপিলাবস্তর"। আশা করি ভবিষ্যতে কেউ এটা কারেকশন করবে।)
এটি বেসিক্যালি একটি থ্রিলার। তবে কাহিনির সিংহভাগ জুড়ে কেবল পালানোর কাহিনি। মাল্টিপল টাইমলাইন ন্যারেশন রয়েছে কাহিনিতে। অতীতের কাহিনিতেও চরিত্ররা পালাচ্ছে, বর্তমানের কাহিনিতেও পালাচ্ছে। এই পালাপালি করার ড্যান-ব্রাউনীয় স্টাইলের স্টেপ বাই স্টেপ ডিটেল বর্ণনা করতে গিয়েই ৪০০-এর কাছাকাছি পৃষ্ঠাসংখ্যা বইটির। মূল কাহিনির আকর একেবারেই ছোট্ট। সেটা ১৫০-২০০ পাতাতেও বলা সম্ভব। মাঝের দিকে বইটা পড়তে বোরিং না লাগলেও, একটু রাগই হচ্ছিল। আরে আর কত পালাবে? আসল কনক্লুশনে আসুক এবার!
পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গলের সেই অঙ্কের সূত্র দিয়ে খেলা দেখানোর ম্যাজিক টাচ এই কাহিনিতে নেই। ব্রাহ্মীলিপি নিয়ে কিছু কাজ এবং কিছু ওয়ার্ড জাম্বলিং থাকলেও তা মার্ভেলাস মনে হল না অন্যবারের মতোন।
তবে লেখক নিজে নিউইয়র্ক নিবাসী হওয়ায়, সব অলিগলি ধরে পালানোর দীর্ঘ বর্ণনা লিখতে পারা সম্ভবপর হয়েছে। এতটা ডিটেল সেখানকার নিবাসী ছাড়া আর কেউ লিখতে পারবে না। তাছাড়া থারু, কপিলাবস্তু, ব্রাহ্মীলিপি ইত্যাদি নিয়ে লেখকের রিসার্চ প্রশ্নাতীত।
পড়ে খারাপ লাগার মতোন নয়। তবে ৪০০ পাতা জুড়ে কাহিনিকে বিস্তৃত করা অন্যায় হয়েছে। আরেকটু কম্প্যাক্ট করে লিখলে অনেকবারের ডোজ অফ করে বই রেখে দেওয়াটা ঘটতো না।
(বি:দ্র: - আবারো একটা বইয়ের নামের বানান ভুল। "কপিলাবস্তুর" বদলে "কপিলাবস্তর"। আশা করি ভবিষ্যতে কেউ এটা কারেকশন করবে।)
January 20, 2021
পাঠ প্রতিক্রিয়া : কপিলাবস্তুর কলস
প্রীতম বসু নিজের জেনারে একজন প্রতিঠিত লেখক হয়ে উঠেছেন। পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল , চৌখুপির চর্যাপদ ইত্যাদি ওই এক জেনেরের ই লেখা। তাই কপিলাবস্তুর কলস এরকম কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। চমকপ্রদ পটভূমিকা , লেখার বাঁধুনি চমৎকার , মার্কিন ভাষায় যাকে বলে পেজ টার্নার।
রিধিমা বসু সুপ্রসিদ্ধ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান বিভাগে পিএইচডি এর ছাত্রী। বিষয় বুদ্ধের অস্থি ভস্স এবং কপিলাবস্তু। নানা ঘটনা বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে দিয়ে কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে। কলকাতা মিউসিয়ামে রাখা বুদ্বের অস্থি ভস্স কি সত্যিই নকল ? প্রশ্ন থেকেই যায়।
অফিসের কাজ , বাচ্চাদের পড়াশোনার জন্য অনেকদিন কোনো ভালো বই পড়া হয়ে ওঠেনি। ভিন্ন স্বাদের এই থ্রিলার বেশ ভালো লাগলো। এটাও ভালো লাগলো দেখে - লেখক প্রচুর পড়াশোনা করেছেন বিষয়ের উপর , গ্রন্থপঞ্জী দেখলেই সেটা বেশ বোঝা যায়। ব্রাহ্মহিলিপি নিয়ে এর আগে বাংলা সাহিত্যে কোনো কাজ হয়েছে বলে শুনিনি(আমার অজ্ঞানতা হতে পারে)। তাই এই সংযোজন বেশ ভালো লেগেছে।
প্রীতম বসু দীর্ঘদিন আমেরিকার রয়েছেন , যতদূর IT সেক্টরে কাজ করেন। তাই বিটকয়েন , i - ক্লাউড , tor নেটওয়ার্ক ইত্যাদি উনি যত সহজে লিখেছেন , সাধারণ বাঙালি পাঠক কি এতটা এগিয়ে , সেটা একটু ভেবে দেখতে অনুরোধ করবো।
যাইহোক আমার বেশ লেগেছে আপনিও পড়ুন , আসা করি নিরাস হবেন না।
-চন্দন
প্রীতম বসু নিজের জেনারে একজন প্রতিঠিত লেখক হয়ে উঠেছেন। পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল , চৌখুপির চর্যাপদ ইত্যাদি ওই এক জেনেরের ই লেখা। তাই কপিলাবস্তুর কলস এরকম কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। চমকপ্রদ পটভূমিকা , লেখার বাঁধুনি চমৎকার , মার্কিন ভাষায় যাকে বলে পেজ টার্নার।
রিধিমা বসু সুপ্রসিদ্ধ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান বিভাগে পিএইচডি এর ছাত্রী। বিষয় বুদ্ধের অস্থি ভস্স এবং কপিলাবস্তু। নানা ঘটনা বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে দিয়ে কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে। কলকাতা মিউসিয়ামে রাখা বুদ্বের অস্থি ভস্স কি সত্যিই নকল ? প্রশ্ন থেকেই যায়।
অফিসের কাজ , বাচ্চাদের পড়াশোনার জন্য অনেকদিন কোনো ভালো বই পড়া হয়ে ওঠেনি। ভিন্ন স্বাদের এই থ্রিলার বেশ ভালো লাগলো। এটাও ভালো লাগলো দেখে - লেখক প্রচুর পড়াশোনা করেছেন বিষয়ের উপর , গ্রন্থপঞ্জী দেখলেই সেটা বেশ বোঝা যায়। ব্রাহ্মহিলিপি নিয়ে এর আগে বাংলা সাহিত্যে কোনো কাজ হয়েছে বলে শুনিনি(আমার অজ্ঞানতা হতে পারে)। তাই এই সংযোজন বেশ ভালো লেগেছে।
প্রীতম বসু দীর্ঘদিন আমেরিকার রয়েছেন , যতদূর IT সেক্টরে কাজ করেন। তাই বিটকয়েন , i - ক্লাউড , tor নেটওয়ার্ক ইত্যাদি উনি যত সহজে লিখেছেন , সাধারণ বাঙালি পাঠক কি এতটা এগিয়ে , সেটা একটু ভেবে দেখতে অনুরোধ করবো।
যাইহোক আমার বেশ লেগেছে আপনিও পড়ুন , আসা করি নিরাস হবেন না।
-চন্দন
October 24, 2021
গল্পের শুরুতেই চারটে খূন দেখে একটু নিরাশ হলাম - এই রে! পাতি হত্যা রহস্যের গল্প নয় তো 😣 কিন্তু আর একটু এগোতেই বুঝযে কেন এই বইটা এত জনপ্রিয়। তিনটে গল্প চলেছে সাথে সাথে আর সব কটায় টান টান উত্তেজনা। আছে বুদ্ধের মৃত্যুর পরের কিছু ঐতিহাসিক তথ্য, international diplomacy আর অত্যাধুনিক cyber hacking/crime আর medical science এর বিস্ময়কর সব তাক লাগানো বিবরণ।
এক দিকে New York শহরে রিধিমা বোসের কি হবে সেই নিয়ে চিন্তা হচ্ছে, অন্য দিকে Jigsaw Puzzle champion হরিপ্রসাদ কি পালাতে পারবে? তার উত্তেজনা। আবার ফাঁকে ফাঁকে উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকের একটা গল্প উঁকি মারছে - রাজকুমারীর ভাগ্য তাকে আর তার মা বাবাকে কোথায় কোথায় নিয়ে যায় আর শেষ পরিণতি কি হয় তাদের?
এই সবের উপর বাঙালির ভিতরের ফেলুদা/ব্যোমকেশ মাঝে মধ্যেই অনুমানের রেশ লাগিয়ে দিচ্ছে গল্প গুলো কি কোথাও গিয়ে মিশবে নাকি স্বাধীন ভাবেই চলবে? লেখক কিন্তু "twist"এর চমক অনেক দূর অব্দি দিলেন।
মাঝে মধ্যে "এটা একটু বেশি হয়ে গেল না?" ভাবনা আসছে বৈকি কিন্তু এত রোমাঞ্চ যে ওই চিন্তাকে উপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছি বার বার।
একটাই নালিশ প্রীতম বাবুর কাছে যে উনি বড্ড বেশি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার কড়েছেন তাও আবার বাংলা হরফে 😏 । ইংরাজিটা Roman হরফে লিখলে পড়তে সুবিধে হতো 😁।
এক দিকে New York শহরে রিধিমা বোসের কি হবে সেই নিয়ে চিন্তা হচ্ছে, অন্য দিকে Jigsaw Puzzle champion হরিপ্রসাদ কি পালাতে পারবে? তার উত্তেজনা। আবার ফাঁকে ফাঁকে উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকের একটা গল্প উঁকি মারছে - রাজকুমারীর ভাগ্য তাকে আর তার মা বাবাকে কোথায় কোথায় নিয়ে যায় আর শেষ পরিণতি কি হয় তাদের?
এই সবের উপর বাঙালির ভিতরের ফেলুদা/ব্যোমকেশ মাঝে মধ্যেই অনুমানের রেশ লাগিয়ে দিচ্ছে গল্প গুলো কি কোথাও গিয়ে মিশবে নাকি স্বাধীন ভাবেই চলবে? লেখক কিন্তু "twist"এর চমক অনেক দূর অব্দি দিলেন।
মাঝে মধ্যে "এটা একটু বেশি হয়ে গেল না?" ভাবনা আসছে বৈকি কিন্তু এত রোমাঞ্চ যে ওই চিন্তাকে উপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছি বার বার।
একটাই নালিশ প্রীতম বাবুর কাছে যে উনি বড্ড বেশি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার কড়েছেন তাও আবার বাংলা হরফে 😏 । ইংরাজিটা Roman হরফে লিখলে পড়তে সুবিধে হতো 😁।
February 5, 2024
যারা "পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল", "চৌথুপীর চর্যাপদ" পড়ে এই বই পড়ছে, তাদের কাছে এই বই দূর্বল, কারণ আমাদের প্রত্যাশা বেশি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে এই বই খারাপ। বরং বেশ ভালো। বই শেষ না করে মনে শান্তি আসে না। থ্রিলার হিসেবে প্রচন্ড ভালো। দেবচরণ, তুলসী আর রাজকুমারীর গল্প পড়তে পড়তে শিহরিত হতে হয়। তাহলে যা জেনে এসেছি সবই কি অসত্য? সব নিজেদের সুবিধার্থে বানানো? ভয় হয় রিধিমা, সুকুমার, হরিপরসাদ আর সিদ্ধার্থ-এর জন্যে। মন খারাপ হয় ভক্তির জন্যে।
কিন্তু বড় বেশি technical কচকচানি। সাধারণ মানুষ কি আদৌ cyber crime নিয়ে এত তথ্য জানে? Torr বা Dark Web বা Bitcoin -এর কথা হাতে গোনা মানুষ জানে, তাই তাদের কাছে এটা দুর্বোধ্য হতেই পারে। সেটার সঠিক ব্যাখ্যা নেই।
কিন্তু ব্রাক্ষ্মীলিপি, কপিলাবস্তু ইত্যাদি ইতিহাস নিয়ে লেখকের জ্ঞান প্রশ্নাতীত। সুন্দর করে বর্ণনা করায় পড়তে পড়তে হারিয়ে যেতে হয়। আমি খুব তাড়াতাড়ি বই টা শেষ করেছি। নাহলে যেন ঘুম হচ্ছিল না।
কিন্তু বড় বেশি technical কচকচানি। সাধারণ মানুষ কি আদৌ cyber crime নিয়ে এত তথ্য জানে? Torr বা Dark Web বা Bitcoin -এর কথা হাতে গোনা মানুষ জানে, তাই তাদের কাছে এটা দুর্বোধ্য হতেই পারে। সেটার সঠিক ব্যাখ্যা নেই।
কিন্তু ব্রাক্ষ্মীলিপি, কপিলাবস্তু ইত্যাদি ইতিহাস নিয়ে লেখকের জ্ঞান প্রশ্নাতীত। সুন্দর করে বর্ণনা করায় পড়তে পড়তে হারিয়ে যেতে হয়। আমি খুব তাড়াতাড়ি বই টা শেষ করেছি। নাহলে যেন ঘুম হচ্ছিল না।
July 11, 2022
এই প্রীতম বসু লোকটা একটা জিনিস বটে। প্রতিবার ভাবি সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পড়বো কিন্তু তার আর সুযোগ কোথায়? এমন এক একটা বই লিখবে যে একবার শুরু করলে নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে পড়ে থাকা লাগবে সারাদিন বইয়ের মধ্যে নাক মুখ চোখ গুঁজে।
মানুষটার জ্ঞানের পরিধি দেখে অবাক তো সেই শুরুর দিন থেকেই। যে ডেডিকেশন নিয়ে ধৈর্য ধরে বছরের পর বছর পড়ালেখা করে বই বের করে তার অনুমান যে কেউ বই পড়ার সময় আমার হা করা মুখ আর এক্সপ্রেশন দেখেই বুঝতে পারবে।
প্রতিবার ই নতুন কিছু না কিছু জানা যায় এনার বই পড়লে। এবার ব্রাহ্মী লিপি তা শিখে ফেললাম হিহিহিহি।
মানুষটার জ্ঞানের পরিধি দেখে অবাক তো সেই শুরুর দিন থেকেই। যে ডেডিকেশন নিয়ে ধৈর্য ধরে বছরের পর বছর পড়ালেখা করে বই বের করে তার অনুমান যে কেউ বই পড়ার সময় আমার হা করা মুখ আর এক্সপ্রেশন দেখেই বুঝতে পারবে।
প্রতিবার ই নতুন কিছু না কিছু জানা যায় এনার বই পড়লে। এবার ব্রাহ্মী লিপি তা শিখে ফেললাম হিহিহিহি।
July 17, 2025
একদম অন্যরকম একটি থ্রিলার। ভিন্ন স্বাদের এই বইটি এক অদ্ভূত স্রোতে বয়ে নিয়ে গেল। ধাপে ধাপে সব জট খুলে গেল। গতিময় লেখার ছত্রে ছত্রে প্রবল উচ্ছ্বাস চোখে পড়েছে।
অনেকদিন পর এমন প্রবল বেগে বই পড়লাম। এরকম লেখা ফিরে ফিরে আসুক।
রিধিমা থেকে সুনয়ন ,সেখান থেকে হরপরসাদ বা সিদ্ধার্থ বোস।
এর মাঝে নজরকাড়া দেবচরণ-তুলসী-রাজকুমারী-চারুদত্তের লড়াই।
এককথায় অনবদ্য।
অনেকদিন পর এমন প্রবল বেগে বই পড়লাম। এরকম লেখা ফিরে ফিরে আসুক।
রিধিমা থেকে সুনয়ন ,সেখান থেকে হরপরসাদ বা সিদ্ধার্থ বোস।
এর মাঝে নজরকাড়া দেবচরণ-তুলসী-রাজকুমারী-চারুদত্তের লড়াই।
এককথায় অনবদ্য।
March 28, 2022
A must read!
December 28, 2022
Awesome the thrill about Buddha has always with me and after reading this book it just stirred my curiosity more for Buddha.
Thanks to @Shoumik Debnath
Thanks to @Shoumik Debnath
February 28, 2026
আমি হঠাৎ আবিষ্কার করলাম, প্রীতম বসুর লেখার নামগুলো লালমোহনবাবুর ধাঁচের। আবিষ্কার করলাম, যখন 'প্রীতম বসুর কপিলাবস্তুর কলস' বলতে গিয়ে বলে ফেললাম 'প্রীতম বস্তুর কবিতার খোলস'।
June 28, 2023
গ্রন্থঃ – কপিলাবস্তুর কলস
লেখক – প্রীতম বসু
আলোচনায় – রাহুল
জাস্ট বইটা শেষ করেই লিখছি। সাথে সাথে লিখলে, আবেগ-তাড়িত হয়ে যেটা বলার সেটা হয়তো বলা হয়ে ওঠে না, কিন্তু যথাসাধ্য লেখার চেষ্টা করছি। লেখককে দুটো কথা বলার ছিলো। প্রথম, প্রীতম বাবু আপনাকে কুর্ণিশ। দ্বিতীয় – এটা কোনও উপন্যাস হলো। এ তো সিনেমা মশাই। সত্যিই কপিলাবস্তুর কলস কোনও উপন্যাস নয়, এ এক অত্যন্ত উপভোগ্য থ্রিলার সিনেমা। আমি জানিনা, উনি সিনেমা বানাবেন কিনা, কিংবা কোনও প্রয়োজক সংস্থা থেকে অফার পেয়েছেন কিনা তবে এই উপন্যাস সিনেমা বানানোরই যোগ্য। উপন্যাসে এত ডিটেলিং , ভাবাই যায়না। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায় আমি খুব ডিটেলিং পেয়েছি, কিন্তু সে সবই গ্রাম্য জীবনের বিবরণ। কিন্তু থ্রিলার রচনায় এধরনের ডিটেলিং দূর্দান্ত ব্যাপার। তবে ডিটেলিং নিয়ে একটু খারাপও লেগেছো কোথাও কোথাও, সে কথাতেও আসছি।
প্রীতমবাবুর লেখার ভক্ত আমি, ওনার লেখা তিনটি উপন্যাস পড়ার পরে এটায় হাত দিয়েছিলাম, এবারে উনি কিছুটা হলেও ছক ভেঙেছেন। অন্য উপন্যাস গুলির থেকে এটির ধরণ অনেকটাই আলাদা, অন্যান্য উপন্যাসসকল সম্পূর্ণভাবে ইতিহাসাশ্রতি। এখানে ইতিহাসের ঘটনা একটু গৌণ হয়ে উঠেছে। এখানে প্রীতমবাবুর তথ্য ভাণ্ডার নেই। আমি প্রথমে ব্রাহ্মী লিপি দেখে ভেবেছিলাম হয়তো লিপি নিয়ে বিশেষ কিছু পাবো, কিন্তু সেরকম কিছু পাইনি। কিংবা বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস নিয়েই এখানে কিছু নেই। তাহলে এখানে আছে কি যদি জিজ্ঞেস করেন বলতে হয়ে, এখানে আছি নিখাদ থ্রিল।
শহর দিল্লী। সময়টা জানুয়ারীর কোনও শীতলতম সকালবেলা। স্থান ন্যাশানাল মিউজিয়াম। দর্শক বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ভিন্ন দেশ থেকে অভ্যাগত সন্য়াসীবৃন্দ। দর্শনীয় বস্তুটি কি - কপিলাবস্তুর কলস। সেখানে কি আছে - ভগবান বুদ্ধের হাড় । আর এখানেই বিতর্ক । শান্তদর্শকমণ্ডলী থেকে এক লামার বিস্ময়মাখা আক্রোশসিক্ত চিৎকার - এটা নকল। …. এখানেই ঘটনার সূত্রপাত। এরপর কি হয় সেটাই উপন্যাসের ঘটনা। কপিলাবস্তুর সঠিক অবস্থান কোথায়। ভারতে নাকি নেপালে। চীন কেন নেপালকে সাহায্য করছে। ইংরেজ শাসিত পরাধীন ভারতবর্ষে যে সকল এক্সকেভেশন অর্থাৎ খননকার্য হয়েছে তার কতটা সরলতার সাথে হয়েছে, কতটা জালিয়াতিমিশ্রিত সেটা লক্ষ্যনীয়। এই বুদ্ধের নকল হাড়ের কি রহস্য়। কোথায় বা তার প্রকৃত অবস্থান। এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এ এক রুদ্ধশ্বাস উপন্য়াস। বর্তমানে হাড়ের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে এসে যায় অতীতের দেবচরণ তুলসী ও রাজকুমারীর জনশ্রুতি। দুটো টাইমলাইনে ঘটনার প্রবাহতা অত্যন্ত সুচারু হাতে সামলেছেন লেখক। বর্তমান ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে, হার্ভাডে পিএইচডি রত ভারতীয় ছাত্রী রিধিমা। সেখান থেকে কিভাবে উদ্ধার পাবেন তিনি, সেই নিয়েই এগিয়েছে উপন্যাস, পরতে পরতে থ্রিল উপভোগ করেছি, আপনাদেরকও পড়ার জন্য হাইলি রেকমন্ড করছি।
এবারে আসি উপন্যাসের কিছু ভালো ও খারাপ দিক নিয়ে –
ভালো দিক্ তো প্রায় উপরে সবই বলা হয়ে গেছে, তবুও আরও একবার বলি –
১. উপন্যাস হয়েও এ যেন এক দুর্ধষ চলচিত্র
২. উপন্যাসের প্লট ভীষণ সুন্দর।
৩. উপন্যাসে কোনোও লুপ হোল পাইনি।
৪. ব্রাহ্মীলিপির মতো প্রাচীন লিপিকে ব্যাবহার করেছেন সাধ্যমতো।
৫. কিছু ওয়ার্ড পাজল্ দারুণ লাগলো।
৬. চারশো পাতার উপন্যাসে কোনও বানানভুল চোখে পড়লো না।
খারাপ দিক্ –
• ৭০ পাতা পড়েও মূল ঘটনা জানতে না পারলে কিছুটা তো বিরক্ত লাগেই। এতো বড়ো উপোদ্ঘাত্ ভালো লাগেনি। (৭০ পাতা পড়েই এটা লিখেছিলাম।)
• নিউ ইয়র্কের তুষার ঝড়ে বিপর্যস্ত জনজীবনের প্রতিবেদন চলছে মনে হয়েছে।
• এবারের উপন্যাসটি অন্যগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, এখানে অতীত ইতিহাসের তথ্য নেই, আছে শুধু আমেরিকার বর্ণনা। তবে খুব একটা খারাপ লাগছে না।
• গাদা গাদা নিউ ইয়র্কের বিবরণ শুধু।
• উপন্যাসটি ছোটো হতে পারত। বড্ড বড়ো লেগেছে।
• আমি ইতিহাসের তথ্য আশা করেছিলাম ওনার থেকে, আগের উপন্যাসগুলো পড়ে, কিন্ত আমি একটু হতাশ হয়েছি, কিন্তু ভালোও লাগছে যে উনি ছক থেকে বেরিয়ে থ্রিলার লিখেছেন, এবং তাতেও উনি সার্থক আমার কাছে। আপনার ভক্ত হয়ে যাচ্ছি দিন দিন।
লেখক – প্রীতম বসু
আলোচনায় – রাহুল
জাস্ট বইটা শেষ করেই লিখছি। সাথে সাথে লিখলে, আবেগ-তাড়িত হয়ে যেটা বলার সেটা হয়তো বলা হয়ে ওঠে না, কিন্তু যথাসাধ্য লেখার চেষ্টা করছি। লেখককে দুটো কথা বলার ছিলো। প্রথম, প্রীতম বাবু আপনাকে কুর্ণিশ। দ্বিতীয় – এটা কোনও উপন্যাস হলো। এ তো সিনেমা মশাই। সত্যিই কপিলাবস্তুর কলস কোনও উপন্যাস নয়, এ এক অত্যন্ত উপভোগ্য থ্রিলার সিনেমা। আমি জানিনা, উনি সিনেমা বানাবেন কিনা, কিংবা কোনও প্রয়োজক সংস্থা থেকে অফার পেয়েছেন কিনা তবে এই উপন্যাস সিনেমা বানানোরই যোগ্য। উপন্যাসে এত ডিটেলিং , ভাবাই যায়না। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায় আমি খুব ডিটেলিং পেয়েছি, কিন্তু সে সবই গ্রাম্য জীবনের বিবরণ। কিন্তু থ্রিলার রচনায় এধরনের ডিটেলিং দূর্দান্ত ব্যাপার। তবে ডিটেলিং নিয়ে একটু খারাপও লেগেছো কোথাও কোথাও, সে কথাতেও আসছি।
প্রীতমবাবুর লেখার ভক্ত আমি, ওনার লেখা তিনটি উপন্যাস পড়ার পরে এটায় হাত দিয়েছিলাম, এবারে উনি কিছুটা হলেও ছক ভেঙেছেন। অন্য উপন্যাস গুলির থেকে এটির ধরণ অনেকটাই আলাদা, অন্যান্য উপন্যাসসকল সম্পূর্ণভাবে ইতিহাসাশ্রতি। এখানে ইতিহাসের ঘটনা একটু গৌণ হয়ে উঠেছে। এখানে প্রীতমবাবুর তথ্য ভাণ্ডার নেই। আমি প্রথমে ব্রাহ্মী লিপি দেখে ভেবেছিলাম হয়তো লিপি নিয়ে বিশেষ কিছু পাবো, কিন্তু সেরকম কিছু পাইনি। কিংবা বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস নিয়েই এখানে কিছু নেই। তাহলে এখানে আছে কি যদি জিজ্ঞেস করেন বলতে হয়ে, এখানে আছি নিখাদ থ্রিল।
শহর দিল্লী। সময়টা জানুয়ারীর কোনও শীতলতম সকালবেলা। স্থান ন্যাশানাল মিউজিয়াম। দর্শক বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ভিন্ন দেশ থেকে অভ্যাগত সন্য়াসীবৃন্দ। দর্শনীয় বস্তুটি কি - কপিলাবস্তুর কলস। সেখানে কি আছে - ভগবান বুদ্ধের হাড় । আর এখানেই বিতর্ক । শান্তদর্শকমণ্ডলী থেকে এক লামার বিস্ময়মাখা আক্রোশসিক্ত চিৎকার - এটা নকল। …. এখানেই ঘটনার সূত্রপাত। এরপর কি হয় সেটাই উপন্যাসের ঘটনা। কপিলাবস্তুর সঠিক অবস্থান কোথায়। ভারতে নাকি নেপালে। চীন কেন নেপালকে সাহায্য করছে। ইংরেজ শাসিত পরাধীন ভারতবর্ষে যে সকল এক্সকেভেশন অর্থাৎ খননকার্য হয়েছে তার কতটা সরলতার সাথে হয়েছে, কতটা জালিয়াতিমিশ্রিত সেটা লক্ষ্যনীয়। এই বুদ্ধের নকল হাড়ের কি রহস্য়। কোথায় বা তার প্রকৃত অবস্থান। এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এ এক রুদ্ধশ্বাস উপন্য়াস। বর্তমানে হাড়ের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে এসে যায় অতীতের দেবচরণ তুলসী ও রাজকুমারীর জনশ্রুতি। দুটো টাইমলাইনে ঘটনার প্রবাহতা অত্যন্ত সুচারু হাতে সামলেছেন লেখক। বর্তমান ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে, হার্ভাডে পিএইচডি রত ভারতীয় ছাত্রী রিধিমা। সেখান থেকে কিভাবে উদ্ধার পাবেন তিনি, সেই নিয়েই এগিয়েছে উপন্যাস, পরতে পরতে থ্রিল উপভোগ করেছি, আপনাদেরকও পড়ার জন্য হাইলি রেকমন্ড করছি।
এবারে আসি উপন্যাসের কিছু ভালো ও খারাপ দিক নিয়ে –
ভালো দিক্ তো প্রায় উপরে সবই বলা হয়ে গেছে, তবুও আরও একবার বলি –
১. উপন্যাস হয়েও এ যেন এক দুর্ধষ চলচিত্র
২. উপন্যাসের প্লট ভীষণ সুন্দর।
৩. উপন্যাসে কোনোও লুপ হোল পাইনি।
৪. ব্রাহ্মীলিপির মতো প্রাচীন লিপিকে ব্যাবহার করেছেন সাধ্যমতো।
৫. কিছু ওয়ার্ড পাজল্ দারুণ লাগলো।
৬. চারশো পাতার উপন্যাসে কোনও বানানভুল চোখে পড়লো না।
খারাপ দিক্ –
• ৭০ পাতা পড়েও মূল ঘটনা জানতে না পারলে কিছুটা তো বিরক্ত লাগেই। এতো বড়ো উপোদ্ঘাত্ ভালো লাগেনি। (৭০ পাতা পড়েই এটা লিখেছিলাম।)
• নিউ ইয়র্কের তুষার ঝড়ে বিপর্যস্ত জনজীবনের প্রতিবেদন চলছে মনে হয়েছে।
• এবারের উপন্যাসটি অন্যগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, এখানে অতীত ইতিহাসের তথ্য নেই, আছে শুধু আমেরিকার বর্ণনা। তবে খুব একটা খারাপ লাগছে না।
• গাদা গাদা নিউ ইয়র্কের বিবরণ শুধু।
• উপন্যাসটি ছোটো হতে পারত। বড্ড বড়ো লেগেছে।
• আমি ইতিহাসের তথ্য আশা করেছিলাম ওনার থেকে, আগের উপন্যাসগুলো পড়ে, কিন্ত আমি একটু হতাশ হয়েছি, কিন্তু ভালোও লাগছে যে উনি ছক থেকে বেরিয়ে থ্রিলার লিখেছেন, এবং তাতেও উনি সার্থক আমার কাছে। আপনার ভক্ত হয়ে যাচ্ছি দিন দিন।
April 26, 2021
যাঁরা ছিরিছাঁদ, পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল আর চৌথুপীর চর্যাপদ পড়েছেন, তাঁরা কোনোভাবেই পাঁচ-তারা দিতে পারবেন না, কারণ তাঁদের তেষ্টা পুরোপুরি মিটবে না; তাই আমিও পারলাম না। তবে থ্রিলার হিসেবে খুবই উপভোগ্য। চালিয়ে যান, প্রীতম বাবু।
April 9, 2021
---নতুন দিল্লী ১৫ জানুয়ারি, ২০১৫
দিল্লীর জানুয়ারির শীত-কুয়াশা উপেক্ষা করে ন্যাশনাল মিউজিয়ামের প্রদর্শনীতে রােজ
ভিড় উপছে পড়ছে কাষায় বস্ত্রে শরীর আচ্ছাদন করে ভারতীয় বৌদ্ধদের, সিংহল, থাইল্যাণ্ড, নেপাল, ভুটান, চিন, জাপান থেকেও আসা অনেক বৌদ্ধ লামাদের, অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদ, বিভিন্ন রাষ্ট্রের ডিপ্লোমেটিক লুমিনারিস, নানা ঐতিহাসিক, এবং পুরাতত্ত্বের ছাত্র- ছাত্রীদের। গত এক সপ্তাহ প্রদর্শনী ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু ঝামেলাটা আজ বাধল চিনের সরকারি প্রতিনিধিদলের আগমনে।গােটা গ্যালারিতে অখণ্ড নীরবতা, লামারা একে একে এগিয়ে চলেছে। এবার একজন বৃদ্ধ লামা এগিয়ে গেল কাঁচের শাে-কেসের দিকে। প্রণাম করার জন্য ঝুঁকতেই লামার ভুরু যুগলে বিস্ময়ের কুঞ্চন।
---কলকাতার ইণ্ডিয়ান মিউজিয়মের একতলায় “টেরাকোটা ও মাইনর আর্টস” নামক একটি প্রত্নতত্ত্বের গ্যালারি আছে। একতলায় এই একটি মাত্র গ্যালারির ভিতর ফটো তোলা নিষেধ। কিন্তু কেন এই নিষেধাজ্ঞা? মিউজিয়ামের একতলায় বাকি সমস্ত গ্যালারিতে ক্যামেরার ছবি তোলার অনুমতি আছে, কিন্তু এই গ্যালারিতে কী এমন আছে যার জন্য ফটো তোলার অনুমতি নেই?
---ইতিহাসের ধুলোর নীচে চাপা থাকা কোন সত্যপ্রমাণের জন্য নাকি বলা ভালো সত্যিকে লুকিয়ে রাখার দাবিতে খুন হতে হলো হার্ভার্ডের চারজন অধ্যাপককে? কেনো হলো হার্ভার্ডের ছাত্রী রিধিমা বোসের প্রাণসংশয়? কোথায় হারিয়ে গেছে রিধিমার দাদা ডঃ সিদ্ধার্থ বোস?
---সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে প্রীতম বসুর লেখা ইতিহাস নির্ভর কল্পকাহিনী "কপিলাবস্তুর কলস" বইয়ে।
বুদ্ধের হাড়। ইতিহাস, মিথ, রিয়ালিটি, আর জিও পলিটিক্স গড়ে তোলা এক নিপুণ উপন্যাস, যার পরতে পরতে লেগে রয়েছে ১৮শ সালের ব্রিটিশ-ভারত-নেপালী সংশ্লেষ আর আধুনিক আমেরিকান সভ্যতা।
একদিকে যেমন থাকে ব্রিটিশ ভারতের ঝোপঝাড় ভর্তি তিতাপতি, রামতুলসি, বাথুয়া, ঘেউকুমারীর ঘন জঙ্গল,হড়পা বান, ভূমিকম্প, মশা আর ম্যালেরিয়া নিয়েই তরাইয়ে বাস করা থারুরা।কুলি দেবচরণ, চারুদত্তের সাথে এক থারুকন্যা রাজকুমারী থেকে রেবেকা হয়ে ভক্তি পর্যন্ত এই যাত্রাপথে বয়ে যায় বুদ্ধাপট নেপাল থেকে ভারত। অন্যদিকে উঠে আসে আন্তর্জাতিক অন্ধকার দুনিয়ার বিভিন্ন দিকগুলি, UN, নেপাল-ভারত ডিবেট, হ্যাকিং, জিগস পাজলের 4-D ব্যবহার।
উপন্যাসটি যেমন উল্লিখিত প্রত্নবস্তু তথা "ভগবান বুদ্ধের অস্হিকলস"-এর ইতিহাস ছুঁয়ে গেছে, তেমনি আমাদের যে ইতিহাস স্কুল-কলেজে পড়ানো হয়েছে তার সম্বন্ধে অনেক প্রশ্ন তুলেছে। আমরাও কি চাই না সেই ইতিহাসের ধুলোর নিচে চাপা সত্য উন্মোচিত হোক?
লেখাটি পড়তে ভালোলাগে টানটান লেখনীর গুনে, সঙ্গে ইতিহাসকে জানার আগ্রহে,আমাদের দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হবার জন্যে । উপন্যাসের শেষে লেখক,পাঠকের সঙ্গে ব্রাহ্মীলিপির পরিচয় ঘটানোর একটি প্রচেষ্টা করেছেন,যা বেশ আকর্ষনীয়। একবার শুরু করলে শেষ না করে থামা যায়না।
দিল্লীর জানুয়ারির শীত-কুয়াশা উপেক্ষা করে ন্যাশনাল মিউজিয়ামের প্রদর্শনীতে রােজ
ভিড় উপছে পড়ছে কাষায় বস্ত্রে শরীর আচ্ছাদন করে ভারতীয় বৌদ্ধদের, সিংহল, থাইল্যাণ্ড, নেপাল, ভুটান, চিন, জাপান থেকেও আসা অনেক বৌদ্ধ লামাদের, অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদ, বিভিন্ন রাষ্ট্রের ডিপ্লোমেটিক লুমিনারিস, নানা ঐতিহাসিক, এবং পুরাতত্ত্বের ছাত্র- ছাত্রীদের। গত এক সপ্তাহ প্রদর্শনী ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু ঝামেলাটা আজ বাধল চিনের সরকারি প্রতিনিধিদলের আগমনে।গােটা গ্যালারিতে অখণ্ড নীরবতা, লামারা একে একে এগিয়ে চলেছে। এবার একজন বৃদ্ধ লামা এগিয়ে গেল কাঁচের শাে-কেসের দিকে। প্রণাম করার জন্য ঝুঁকতেই লামার ভুরু যুগলে বিস্ময়ের কুঞ্চন।
---কলকাতার ইণ্ডিয়ান মিউজিয়মের একতলায় “টেরাকোটা ও মাইনর আর্টস” নামক একটি প্রত্নতত্ত্বের গ্যালারি আছে। একতলায় এই একটি মাত্র গ্যালারির ভিতর ফটো তোলা নিষেধ। কিন্তু কেন এই নিষেধাজ্ঞা? মিউজিয়ামের একতলায় বাকি সমস্ত গ্যালারিতে ক্যামেরার ছবি তোলার অনুমতি আছে, কিন্তু এই গ্যালারিতে কী এমন আছে যার জন্য ফটো তোলার অনুমতি নেই?
---ইতিহাসের ধুলোর নীচে চাপা থাকা কোন সত্যপ্রমাণের জন্য নাকি বলা ভালো সত্যিকে লুকিয়ে রাখার দাবিতে খুন হতে হলো হার্ভার্ডের চারজন অধ্যাপককে? কেনো হলো হার্ভার্ডের ছাত্রী রিধিমা বোসের প্রাণসংশয়? কোথায় হারিয়ে গেছে রিধিমার দাদা ডঃ সিদ্ধার্থ বোস?
---সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে প্রীতম বসুর লেখা ইতিহাস নির্ভর কল্পকাহিনী "কপিলাবস্তুর কলস" বইয়ে।
বুদ্ধের হাড়। ইতিহাস, মিথ, রিয়ালিটি, আর জিও পলিটিক্স গড়ে তোলা এক নিপুণ উপন্যাস, যার পরতে পরতে লেগে রয়েছে ১৮শ সালের ব্রিটিশ-ভারত-নেপালী সংশ্লেষ আর আধুনিক আমেরিকান সভ্যতা।
একদিকে যেমন থাকে ব্রিটিশ ভারতের ঝোপঝাড় ভর্তি তিতাপতি, রামতুলসি, বাথুয়া, ঘেউকুমারীর ঘন জঙ্গল,হড়পা বান, ভূমিকম্প, মশা আর ম্যালেরিয়া নিয়েই তরাইয়ে বাস করা থারুরা।কুলি দেবচরণ, চারুদত্তের সাথে এক থারুকন্যা রাজকুমারী থেকে রেবেকা হয়ে ভক্তি পর্যন্ত এই যাত্রাপথে বয়ে যায় বুদ্ধাপট নেপাল থেকে ভারত। অন্যদিকে উঠে আসে আন্তর্জাতিক অন্ধকার দুনিয়ার বিভিন্ন দিকগুলি, UN, নেপাল-ভারত ডিবেট, হ্যাকিং, জিগস পাজলের 4-D ব্যবহার।
উপন্যাসটি যেমন উল্লিখিত প্রত্নবস্তু তথা "ভগবান বুদ্ধের অস্হিকলস"-এর ইতিহাস ছুঁয়ে গেছে, তেমনি আমাদের যে ইতিহাস স্কুল-কলেজে পড়ানো হয়েছে তার সম্বন্ধে অনেক প্রশ্ন তুলেছে। আমরাও কি চাই না সেই ইতিহাসের ধুলোর নিচে চাপা সত্য উন্মোচিত হোক?
লেখাটি পড়তে ভালোলাগে টানটান লেখনীর গুনে, সঙ্গে ইতিহাসকে জানার আগ্রহে,আমাদের দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হবার জন্যে । উপন্যাসের শেষে লেখক,পাঠকের সঙ্গে ব্রাহ্মীলিপির পরিচয় ঘটানোর একটি প্রচেষ্টা করেছেন,যা বেশ আকর্ষনীয়। একবার শুরু করলে শেষ না করে থামা যায়না।
September 5, 2021
Fast paced but the core theme was weak. Story is not strong enough to hook readers to the book. Also the writing style tried to be more western based rather than Bengali but ended up nowhere . Unnecessary use of accented words.
July 11, 2022
একটু আশাহত।
April 28, 2024
আমার কাছে লেখকের এখনও অবধি সেরা গল্প । তথ্যের ঘনঘটায় অযথা সময় নষ্ট নেই। প্রথম পাতা থেকে টানটান থ্রিলার। ফিল্মি ভাষায় বললে, প্রতিটা সিনের অসাধারণ স্টেজিং ।
Displaying 1 - 23 of 23 reviews




















