Jump to ratings and reviews
Rate this book
Rate this book
ইউরোপীয় পটভূমিতে লেখা এই সুবৃহৎ থ্রিলার উপন্যাসে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ঘটে চলা সন্ত্রাসবাদ, মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থী সমস্যার সঙ্গে সমান্তরালভাবে আঁকা হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী রাজনৈতিক এবং ঔপনিবেশিক ডামাডোলে বিধ্বস্ত জার্মানির চালচিত্র। উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে আছে হিটলারের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ঊষাকাল এবং সমাজ ওলটপালট করে দেওয়া একটি অধুনালুপ্ত প্রাচীন তত্ত্বের প্রয়োগ। হিটলারশাসিত জার্মানির ঐতিহাসিক দলিলের সঙ্গে আধুনিক জিন থেরাপির কিছু বিতর্কিত মতবাদ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের বহুলপ্রচলিত ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং সমান্তরালে এক সদ্যবিবাহিত বাঙ্গালি স্বামীস্ত্রীর জীবনপ্রবাহে এগিয়েছে এই শ্বাসরুদ্ধ করা বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটের ঐতিহাসিক থ্রিলার 'নরক সংকেত'

Paperback

First published November 1, 2017

17 people are currently reading
385 people want to read

About the author

Debarati Mukhopadhyay

52 books350 followers
Debarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.

A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.

A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.

Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.

Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.

She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.

An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.

She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.

For more details, please visit: www.authordebarati.com

Her famous novels: Narach, Dakatraja, Shikhandi, Aghore Ghumiye Shib, Narak Sanket, Ishwar Jakhan Bandi, Diotima, Dashgupta Travels, Hariye Jaoa Khunira, Babu O Barbanita etc.

Significant Awards: Indian Express Devi Award, 2022, Tagore Samman, Most Inspirational Lady 2022, Sera Kathak Samman etc.

For more details, visit official website: http://www.authordebarati.com

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
73 (21%)
4 stars
98 (29%)
3 stars
83 (24%)
2 stars
43 (12%)
1 star
38 (11%)
Displaying 1 - 30 of 62 reviews
Profile Image for Ranendu  Das.
156 reviews63 followers
August 12, 2019
এক বন্ধু বাংলার আগাথা, শ্রী দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের 'নরক সংকেত' বইটি দিয়েছিলেন পড়তে। ৫ মাসে ৫০০০ কপি বিক্রি হয়েছে যে বইয়ের, আমি আজ সে বইয়ের ৭০ পাতা পড়লাম। সত্যি বলতে আমি বিস্ময়মুগ্ধ। আমি বাক্যহারা। আমি আপ্লুত। আমি আবেগাক্রান্ত। আমি, আমি... থাক! যা বলছিলাম ভুলে যাব-

লেখিকা নিজেও যেমন মিষ্টি সুন্দরী, ব্যাঙ্কে চাকরি করেন। তার লেখাও তেমনি সুন্দর, তার গোয়েন্দা মিসেস মারপলও ব্যাঙ্কে চাকরি করেন। তার লেখার কি ভাষা! আহা! ভাষার কি প্রয়োগ! ওহ! বিশেষত প্রথমেই যেখানে আড়াই ইঞ্চির চাকু দিয়ে একজনের গলা কেটে ফেলা হল- আট নয়, ছয় নয়, একদম আড়াই ইঞ্চি! আমি চাকুর সাইজে পড়েই উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলাম। মার্ভেলাস! ওয়ান্ডারফুল! আরেকবার প্রমাণ হল যে 'সাইজ নেভার ডাজ ম্যাটার এট অল'।

তারপর যখন, স্বামী প্রিয়ম লন্ডনে উড়ে আসা, তার ক্লান্ত গোয়েন্দা বউ রুদ্রানী কে বলছে যে, 'তুমি চুপ কেন? তোমার পেটে কি গ্যাস হয়েছে?'- আমি রুদ্র'র খন্ডচন্দ্রের ন্যায় পেলব নিতম্বদ্বয়-নির্গত নির্মল নিষ্কলুষ গোলাপ-গন্ধা, মৃদু শিসধ্বনি উদগারী বাতকম্পের কথা ভেবে আরও উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলাম। সপ্লেন্ডিড! হোয়াট এ বিউটিফুল রোমান্টিক ইন্টিমেট এক্সচেঞ্জ। সেক্স এন্ড দ্যা সিটির প্রথম সিজনের এগারোতম এপিসোডের কথা মনে পড়ে গেছিল রুদ্র-প্রিয়মের এই আন্তরিক আদান-প্রদান পড়ে, যেখানে ক্যারি মিঃ বিগের উপস্থিতিতে বাতকম্প করে ফেলে। ওহ! এতেই বোঝা যায় যে লেখিকার ভাবনাই আন্তর্জাতিক মানের।

তাছাড়া ৭০ পাতার মধ্যেই লাইনে লাইনে আরও নব নব চমক তো আছেই। বেঞ্জিনের 'অ্যাটমিক স্ট্রাকচার' হয়, জেনে আমার তো অর্গাজম হয়ে যাওয়ার যোগাড়! তাও, পায়ের বুড়ো আঙুল চেপে ধরে তখনও সামলে ছিলাম। কিন্তু, তারপর যখন দেখলাম যে গল্পে নতুন একটা মৌলিক এলিমেন্ট আবিষ্কার করার প্রক্রিয়া আছে, যা বাতাসের নাইট্রোজেন এর সাথে বিক্রিয়া করে মানুষের জিনে বদল ঘটিয়ে চিরতরে ক্যান্সার নির্মূল করে দেবে- আমার উত্তেজনায়, কি বলব আর! হয়ে গেল। আবিষ্কার এর শিহরণে, রোমাঞ্চে, সুষুম্না ফুষুম্না কুলকুন্ডলিনী, সব কিছু জাগ্রত হয়ে গেল।

এখন আমি ফুলটুস নির্বাণলাভ করেছি, বিন্দাস আকাশে ভাসছি (এই বিন্দাস ভাষাটিও বইতেই ব্যবহৃত হয়েছে)। কিন্তু প্রশ্ন হল যে এই বই কিসের সংকেত বহন করছে? আমার মতে এই বইয়ের বিক্রি প্রমাণ করে বাঙালি পাঠক এতটাই অপদার্থ হয়ে গেছে, তাদের কোনো বিষয়েই সামান্য জ্ঞান নেই। নইলে এত ছেলেমানুষী ভুল নিয়ে কি করে একটি বই এত জনপ্রিয়তা লাভ করে?

পাঠক কি খেয়াল করেন নি যে ভুগোল বইতে ইউরি গ্যাগারিনের কথা থাকতে পারে না, বরং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বইতেই গ্যাগারিনের উল্লেখ থাকা স্বাভাবিক।

তাদের কি সামান্য বোধ নেই যে ক্লোরোফর্ম শোকানো মানুষের বিশেষণ হিসেবে 'মুমূর্ষু' শব্দ ব্যবহার করা অনুচিত।

তারা কি খেয়াল করেন না যে উদোম রাজপথ দিয়ে কেউ 'চুপিসাড়ে' হাটতে পারে না। তারা কেন জিজ্ঞেস করেন না যে একটা লোক, যে আগের লাইনে হাটছিল, সে পরের লাইনেই বাস থেকে এয়ারপোর্টে নামে কি করে?

তাদের মনে কি কৌতুহল হয় না যে ডিজিটাল বোর্ড লাগানো আজকের বার্লিন শহর বরফ পড়ছে বলেই রাত বারোটায় জনশূন্য হয় কি করে? আরে কলকাতায়ও রাত ভর বার রেস্তোরাঁ খোলা খাকে! আর এটা নাকি বার্লিন!

তারা কি বোঝেন না যে দূর রাস্তা থেকে আসা আলোয় কারো ছায়া বড়-ছোটো হয় না। তাছাড়া ছায়া ছোট বড় হতে হলে গার্ডের চলার পথেই একই উচ্চতায় আলোটাকে থাকতে হবে।

তারা কি দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় জানেন না যে সিসিটিভি মনিটর করার জন্যে একজন থাকেন। কাউকে খুন করে, তারপর ক্যামেরা রুমাল দিয়ে ঢেকে ল্যাবে চুরি করা খুব বোকা ব্যাপার। মনিটরে কেউ দেখে ফেলতে পারেন, প্রফেশনাল খুনিরা এরকম কাজ করবেন না। এমনকি, গার্ডকে যখন অজ্ঞান করাই গেল, তখন তাকে খুনের প্রয়োজনই ছিল না।

পাঠকদের কি নূন্যতম ধরনা নেই বিজ্ঞানের রিসার্চ কি ভাবে হয়? নতুন এলিমেন্ট তৈরি করা এত সহজ কাজ নয়। (নতুন যে চারটি এলিমেন্ট তৈরি করা হয়েছে সম্প্রতি, তাদের আয়ু সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়।)। এলিমেন্ট তৈরি হয় নক্ষত্রের উচ্চ চাপে ও তাপে, রান্নাঘরের হাড়িতে নয়।

তারা কি বোঝেন না যে জার্মান লোক 'কান টানলে মাথা আসে', এমন প্রবাদ ব্যবহার করতে পারে না। দাদু কি ডায়েরিতে বাংলা প্রবাদও লিখে গেছেন?

খুব আশ্চর্যের কথা যে গোয়েন্দা রুদ্র এত জ্ঞানী, যার ফেসবুকে এত জয়জয়কার, যিনি প্রিভেন্টিভ আর কারেক্টিভ মেডিসিনের ব্যাপারেও জানেন, তিনি বলছেন পার্কে কি ফর্মুলা ওয়ান রেস হচ্ছে? পার্কে ফর্মুলা ওয়ান! মাইকেল শুমাখার ছাড়ুন, ওই ডাক্তার শুমাখার ও এই বই পড়লে ক্যাপ্টেন হ্যাডকের মতো গাল দিতেন!

শুধু তাই নয়, বলা হয়েছে যে প্যারাসাইকেল রেসের পথ নাকি 'স্পাইরাল'! হয়? হয়ে পারে? তাহলে তো রাদারফোর্ডের অ্যাটমিক মডেলে একটা ত্রুটিই কমে যেত! আর রুদ্র কি করে জানল যে প্যারাসাইকেল প্রতিযোগীরা অনুশীলন শেষ করে, মাঠের পাশের বাড়িতে সাইকেল রেখে সকলে বাড়িই যাচ্ছেন?

তারপর ধরা যাক, শুমাখারবাবু যিনি নাকি মেডিকেল কলেজ পাশ করেই লন্ডনে ক্লিনিকে কাজ করেন, তিনি কবে? কি করে অনেক বছর রিসার্চ করে ফেললেন? রিসার্চ আর্টিকেল তো জার্নালের এডিটরকে চপ-মুড়ি খাইয়ে প্রকাশ করা যায় না! তাহলে?

এই তাহলের কোনো উত্তর নেই। এরকম হরেক রকম অদ্ভুত হাস্যকর কিম্ভুত-জটিল তথ্য এই বইয়ের লাইনে লাইনে ছড়িয়ে আছে। আমার তো মনে হল যে বাংলার পাঠকদের নির্ঘাত ভাষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, লজিক, সব কিছুরই জ্ঞান হারিয়ে গেছে। নইলে এই বই কিছুতেই বেস্ট সেলার হয়ে ৫০০০ কপি বিক্রি হয় না। হ্যাঁ, যদি না চপ-মুড়ি... যাক গে!

'নরক সংকেত' বইটি আমার মতে বাংলা থ্রিলার সাহিত্যের দুনিয়ায় নিতান্তই মধ্যমেধা এবং নারকীয় রকম প্রচারসর্বস্বতার সংকেতবাহী।

(মতামত অত্যন্ত ব্যাক্তিগত। ভালো না লাগলে এড়িয়ে যান। )
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Tonmoy Biswas.
14 reviews23 followers
August 16, 2019
#পঠতি_পঠতঃ_পঠন্তি
#নরক_সংকেত
#দেবারতি_মুখোপাধ্যায়
#প্রচ্ছদ_ও_অলংকরণ_শুভ্র_চক্রবর্তী
#বুক_ফার্ম


আমাদের মত প্রাক্তন আনন্দমেলা প্রেমিকদের কাছে শুভ্র চক্রবর্তী একটি ক্রাশখচিত নাম। যাঁর পারফেক্ট অ্যানাটমি, অসাধারণ পার্সপেক্টিভ সেন্স, ইঙ্কিং এবং রঙের অসাধারণ ব্লেন্ডিং এই সেদিনও আলো করে রেখেছিল আনন্দমেলার পাতা। যতদূর মনে পড়ছে তাঁর কাজ শেষ দেখেছিলাম ‘তেল দেবেন ঘনাদা’-য়। আনন্দমেলায় ধারাবাহিক ভাবে বেরিয়েছিল। তারপর দীর্ঘ ডট ডট ডটের অবসান ঘটিয়ে আবারও তাঁর কাজ দেখতে পেলাম বুকফার্মের সৌজন্যে। থ্রিলার, শুধু থ্রিলারই বা বলছি কেন! যে কোন প্রাপ্তমনস্ক বইতেই আজকাল ইলাস্ট্রেশনের চল উঠেই যাচ্ছে প্রায়। সেখানে দাঁড়িয়ে বুকফার্মের এই প্রয়াস, বাংলা পাঠককে বড়ই ঋণী করে তোলে।

'নরক সংকেত' -এর প্রতিটা পাতা যেভাবে শুভ্রবাবু তাঁর মায়াময় (নাকি ভয়ানক!) ইঙ্কিংয়ের যাদুতে ভরিয়ে তুলেছেন, তার উত্তরে টুপি নামিয়ে দাঁড়ানো ছাড়া তো উপায় দেখছি না। তবে সে তুলনায় কভারখানা একেবারেই দাঁড়ায়নি। ডিজিট্যাল ব্রাশের ওপর যাঁর এতটা দখল, যে মানুষটার ডার্ক কালার কম্বিনেশনের কমিকস স্ট্রিপ নিয়ে স্কুলের ডেস্কের নীচে কাড়াকাড়ি হতে দেখেছি এই সেদিনও। তার থেকে এত ফ্ল্যাট একটা কভার আশা করাও পাপ। মেন সাবজেক্ট ফিগারটা তো টু-ডি স্টিকার ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না। নরক বোঝানোর জন্যই যে লাল রঙ তুলে নিয়েছে সে তো বোঝাই যাচ্ছে। আমি সামান্য পেনট্যাব চেবানো লোক। তাই শুভ্র চক্রবর্তীর মত দৈবিক তুলির ওপর খোদকারি চালানোর ক্ষমতা আমার নেই। যদি থাকত, তবে হয়তো বলতাম- লাল রঙটাকে অমন একটা লেয়ারে প্যাক না রেখে বিভিন্ন লেয়ারে একটু একটু করে ছড়িয়ে দিলে, লেয়ার প্রতি শেডের হেরফের করলে ছবিটা অন্য মাত্রা পেত। গভীরতা আসত। এমন কি মেন ফিগারের কালারেও ব্যাকগ্রাউন্ডের কিছু ইনফ্লুয়েন্স যোগ করলে অমন কেটে বসানো মনে হত না। বেশি কিছু না #DF877D-র কাছাকাছি কি-লাইট, একটা নীলচে ফিল লাইট, আর চড়া লালের একটা রিম লাইট। ব্যাস আর কে দেখে! অথচ মজা হল, এই একই কভারে পেছনের দিকে প্রায় মিশে যাওয়া হিটলারের ছবিতে ডেপথ দিয়েছেন সামান্য হলেও! পরীক্ষামূলক নিঃসন্দেহে। কিন্তু তার ফলাফল খুব যে আকর্ষণীয় হয়েছে তা নয়।

ও ভাল কথা, কভার কিন্তু ছাপা হয়েছে টেক্সচার পেপারে! ফিলটাই আলাদা। কাগজ হালকা, গুণমানে অতি উত্তম।

উপহারের পাতাটা দেব সাহিত্য কুটির ছাড়া আর কোন প্রকাশনীতে দেখা যায় না তেমন। এখানে সেটা আছে শুভ্র চক্রবর্তীর ইঙ্কিং ক্যানভাস সমেত! এই সরি সরি ভুলেই গেছিলাম ব্লার্বে হিটলারের একখান যা ছবি আছে না গুরু! মাখন মাখন! এই হল গিয়ে আসল শুভ্র চক্রবর্তী ঘরানা। এ জিনিসিই যদি কভারে হত! কম্ফোর্ট জোন হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অ্যাডভেঞ্চারটা হয়তো থাকত না। কিন্তু বল জালে ঢোকার গ্যারেন্টি এখনও সাদা কাগজে লাল কালি দিয়ে লিখে দেওয়া যায়।

ওকে দ্যাটস ইট। এবার বল কুড়িয়ে সেন্টার লাইনের দিকে যাওয়া যাক। আর যেতে যেতে একটা কথা বলুন।

আচ্ছা আমার মত আপনাদেরও কি মনে হয় যে, সাহিত্যের প্রত্যেকটা শাখা একেকটা নদীর মত? একেক নদীর একেক রকম ধারা? আমরা নিজেকে পাঠক দাবি করা কিছু ক্ষুধার্ত লোকজন সেইসব নদীর পার ধরে হাঁটি। কখনো পায়ের পাতা ডুবিয়ে দাঁড়াই ভালবাসার নদীতে। যেটা হয়তো আরেকটু গিয়ে খরস্রোতা থ্রিলার হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে অতল ইতিহাসের বুকে। এমনই তো এক জল ভ্রমণের নাম “নরক সংকেত”! তাই না?

ভাবতে অবাক লাগে নিজের কাজের প্রতি (নাকি প্যাশান বলব?) কতটা নিষ্ঠা থাকলে, কতটা ধৈর্য আর কতগুলো রাত লেখার টেবিলে কাটালে পরে এমন বই লেখা যায়! আর কী অদ্ভুত রকমের সরল ভাষা! অথচ, এই সহজ করে লেখাটায় যে কতটা কঠিন তা নিজের জীবন দিয়েই পরখ করেছি বহুবার। রুদ্র প্রিয়মের যখন বহুদিন বাদে আবার দেখা হয়, লেখিকার নিঁখুত স্কেচে আকার পায় তাদের ভালবাসা, অভিমান, খুনসুটি। অন্যদিকে হিটলার কবলিত জার্মানের অবক্ষয়, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, বর্তমানের রিফিউজি সমস্যা সবই বড় দরদ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখিকা।

কোথাও গিয়ে একবারের জন্যও মনে হল না , “আরে এখানটা কেমন স্টার জলসা হয়ে গেল“, “ দূর এগুলো তো আঁতেল সিনেমায় হয়“ বরং এই বিশ্বাস যোগ্যতাকে সম্বল করেই গল্প ঝাঁপ দেয় রহস্যে। এক ডাক্তার জানান, তাঁর দাদু নাকি বহু বছর আগে ভারতে বসে বানিয়ে ফেলেছিলেন অদ্ভুত এক মৌল, যা দিয়ে নাকি একেবারে জিনগত ভাবে ক্যানসারকে নির্মূল করে দেওয়া সম্ভব! কিন্তু গোয়েন্দা গল্পের নিয়ম মেনেই তিনি সেটা লিখে গেছেন এক বিশেষ সংকেতে! রুদ্রর কাঁধে আসে সেও সংকেত রক্ষা ও সমাধানের গুরুদায়িত্ব। অন্যদিকে গল্পের সমান্তরালেই উঠে আসতে থাকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত জার্মানি এবং হিটলার! শুরু হয় ইহুদি নিধন। তারও আগ্রহ দেখা যায় জিন থেরাপি নিয়ে। তাহলে কি দুটো সময়, দুটো যুগ কোনোভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত? এই নিয়েই গল্প, এই নিয়েই ভেসে চলা।

তবে কি জানেন ওই নদীর কথা বললাম না? এইসব নদী-টদীর ব্যাপারগুলো খুব সতর্কভাবে ডিল করতে হয়। একটু এদিক-ওদিক হলে জল ঢুকে পতঞ্জলি হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।

ইটস অল অ্যাবাউট ওয়েভ। স্রোত।

সামাজিক গল্পে যেটা দস্তুর, থ্রিলারের ব্যাপারে সেই হিসেবটা অনেকটাই আলাদা। সেখানে দুলকি চাল চলে না, সেখানে ছুটে চলাটাই একটা বইয়ের বেঁচে থাকা।

জল জমা রাস্তায় পেতে রাখা ইটের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় যেমন ব্যালেন্স দরকার হয়। যেখানে কিনা পা রাখার জন্য একটা মাত্র ইট। এক ইটে পা রেখেই অন্য পাটা আরেকটা ইটের দিকে ছুড়ে দিতে হয়। একটু এদিক ওদিক হলেই ঝপাস! থ্রিলারও তাই। পাঠকের পায়ে এক ইটের চেয়ে একটু বেশি মাটি দিয়েছ কী গেছ! বাবু ওখানেই ল্যাদ খেয়ে বুকমার্ক গুঁজে শুয়ে পড়বেন। তাই এই ইট পাতা, থুড়ি বাক্যগঠন হতে হবে মেদহীন, তরতরে।

দেখুন, ভাবনা থেকে কীভাবে লেখা আসে, কীভাবে আবার সেই লেখা নির্দিষ্ট ছন্দে টিউন হয়ে সামান্য থেকে সামান্যতর ভাবনাকেও করে তোলে সাহিত্য। তা আজও আমার কাছে এক মস্ত রহস্য!

থ্রিলার গল্পের রেসিপিও আমার অজানা। তবু সামান্য কিছু পাঠ অভ্যাস জন্যই হয়তো মনে হল কোথায় গিয়ে যেন পা গেঁথে যাচ্ছে! এই ভাষা, এই বাক্যগঠন আর যাই হোক থ্রিলারে চলে না।

সারা বই জুড়ে লেখিকার পরিশ্রম যথেষ্ট চোখে পড়ে। তার হাত সারাটা ক্ষণ এগিয়ে এসেছে পাঠককে টেনে নিয়ে যেতে। কিন্তু গল্প যে বড় থেমে যায়। থ্রিলারের চাকায় মাটি জমে। বাজে রকমের রিপিটেশন এসে পাঠককে ঠেলে দেয় পেছনে। যেমন এক জায়গায় পুরো অধ্যায় জুড়ে রুদ্রদের সমস্ত কর্মকাণ্ড, কথোপকথন পাঠক লাইভ দেখার পরেও, পুলিশ স্টেশনে গিয়ে রুদ্র সেই একই জিনিসের ধারাবিবরণ দিয়ে যায়! অথচ "রুদ্র পুলিশ অফিসারকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল..." এই লাইনটা লিখলেই বেশ অনেক কটা পাতা ও গল্পের মেদ দুইই বাঁচানো যেত দিব্যি।

আবার যখন আরেক জায়গায়, একই অধ্যায়ে স্লেইডারের আংটি আর ডায়েরি থেকে ক্লু পাওয়ার ঘটনাটা আরেকবার রিপিট হয়, তখন একরকম ক্লান্তিই আসে মনে।

রিপিটেশন আছে বাক্যের মধ্যে শব্দ ব্যবহারেও। এমনিতেই থ্রিলারে বড় বাক্য লেখা খুব রিস্কি, খুব সাবধানে ডিল করতে হয়, একটু এদিক ওদিক হলে পাঠকের ধ্যানভঙ্গের সমূহ সম্ভাবনা। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে "একটা সরু টাটকা রক্তের একটা সরু ধারা গড়িয়ে পড়ল মাটিতে" ধরণের বাক্য লেখা প্রায় আত্মহত্যার সমান। অথচ এখানে দুটোর মধ্যে যে কোন 'একটা' আর যে কোন "সরু" উঠিয়ে দিলেই পা দিব্যি পরের ইটে বসে যেত!

তারপর এক জায়গায় প্রিয়ম বলছে, " সাইকেলটা ভাল করে খেয়াল করো, কিন্তু তিনটে চাকা, আর সামনের চাকাটাকে..." এখানে কিন্তুর আগে "ওটার" বা ওই গোছের কিছু দিয়ে দিলেই আর হোঁচট খেতে হত না। বা "মনে হচ্ছিল সিমোনকে নিয়ে একটা কবিতা লিখতে।" বাক্যটা কি আদৌ এরকম হতে পারে? নাকি "মন করছিল সিমোনকে নিয়ে একটা কবিতা লিখতে" অথবা "মনে হচ্ছিল সিমোনকে নিয়ে একটা কবিতা লিখলে হয়" বললে বেশি ভাল লাগত?

এবা্র বরং নটে গাছের কথায় আসা যাক। দেখুন যতই হোক বাক্যগঠন সবসময়ই সেকেন্ডারি। আইল সিট। আসল উইন্ডো সিটের দাবিদার কিন্তু সেই গল্প। প্লট। সাসপেন্স। এমন বইও হাতে এসেছে যার যাচ্ছেতাই রকমের বাক্যগঠন নিয়েও শুধুমাত্র মারকাটারি প্লট সম্বল করে রাজ্য জয় করে বেড়িয়েছে। এই তো হাতের কাছেই সৌমিত্র বিশ্বাসের "হেরুক"। খুবই দুর্বল গদ্যের এক বই, প্রায় কথায় কথায় হুইল চেয়ারে বসে পড়ে। কিন্তু প্লট? রিসার্চ? পাঠককে চেয়ারের সাথে সাঁটিয়ে দেওয়া? মাশাল্লাহ্! বই বটে একখান!

"নরক সংকেত"-র প্লট বিশ্ব না হোক, গোটা ইউরোপ জুড়ে তো বটেই। এমন বিস্তারিত একটা প্লট, একটা মাত্র মাথায় গোটাটা ম্যাপ করা চাট্টিখানি তো নয়ই বরং তার ওপর ডিটেলিং প্রয়োগ করার যে অধ্যবসায় তা রীতিমত ২৭৯ পাতার কথা!
কিন্তু একটা ম্যাপ শুধুমাত্র টেবিলে বিছিয়ে দিলেই কোন রহস্য হয় না। সেই ম্যাপের যখন একটা দ্বীপ হুট করে হারিয়ে যায়, অথচ পেছনে ফেলে যায় তার থাকার সমস্ত সম্ভাবনা, তখন সেই একই ফেলে রাখা ম্যাপ পায় অন্য মাত্রা। ব্যাকপ্যাক বেঁধে নামিয়ে দেয় আসরে। শুরু হয় লেখক পাঠকের যৌথ অভিযান।

কিন্ত�� সেই খোঁজার রোমাঞ্চ থেকেই পাঠককে দূরে রাখা হল বারবার। প্লট নিঃসন্দেহে ইন্টারেস্টিং। এতগুলো জায়গার ডিটেলিং, সায়েন্টিফিক টার্ম, এক্সপেরিমেন্ট, অতীত ও বর্তমানের বারবার আসা যাওয়া, সবই চলেছে সমান্তরালে ও আপাতদৃষ্টিতে বেশ নিপুণ ভাবেই। কিন্তু কোথাও গিয়ে একবারের জন্যও নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় না। এমন একটা চ্যাপটারও নেই যেটার জন্য বাসস্টপ মিস হয়ে যেতে পারে। অথচ আর পাঁচটা ডাল-ভাতের গ��্পের সঙ্গে থ্রিলারের ফারাক কিন্তু এখানেই।

"আনপুটডাউনেবল" কথাটা এমনি এমনিই আসেনি। বই টেবিল ছোঁবে না, বুকমার্কের প্রবেশ হবে নিষিদ্ধ, তবে না থ্রিলার! তবে না ছুটে চলা! সেই জায়গায় এই বইয়ের ইভনিং ওয়াক করার এক অন্যতম কারণ, এ গল্প পাঠককে ভাবতে দেয় না!

আপনি কী নিয়ে ভাববেন? সংকেত? আসল যে সংকেত নিয়ে এত লাফালাফি, এত রক্তপাত, সেগুলো যে আসলে কী ধরণের, পিঁপড়ের মত চলে না আরশোলার মত দৌড়োয়, তা সমাধানের আগে একবারের জন্যও প্রকাশ করা হয়নি সারা বইয়ে। অথচ পুলিশ স্টেশনে বসে এই ধাঁধা সমাধানের সময় সংকেত অক্ষরগুলোর যে ছবি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো শুরুর দিকে আঁকা হলে, সেক্ষেত্রে পাঠককে চ্যালেঞ্জ ও সাসপেন্স দুইই উপহার দেওয়া যেত বেশ।

একবার ভেবে দেখুন তো 'রয়েল বেঙ্গল রহস্য' তে "মুড়ো হল বুড়ো গাছ"-এর ধাঁধাখানা যদি বেমালুম চেপে দেওয়া হত!

"ফেলুদা হাতের কাগজটায় একবার চোখ বুলিয়েই পকেটে পুরল। আমি দেখতে চাইলে, যেন শুনতেই পায়নি এমন ভাব করে, হাতখানা একটু আড়াল করে একটা চারমিনার ধরাল..."
আর তারপর একেবারে গল্পের শেষে গিয়ে, ডাইরেক্ট অর্জুন গাছের নীচে দাঁড়িয়ে যদি ফেলুদা সমাধান বলতে বসত? তাহলে গোটা উপন্যাসটা পড়তে ঠিক কেমন লাগত? তবে কি এখানে লেখিকার মধ্যে কোথাও একটা ধন্দ কাজ করেছে? পাঠক যদি আগেই সমাধান করে ফেলে! সেই আশঙ্কা?

যদি তাইই হয়, তবে তো আমার সাধারণ বুদ্ধি বলে, যে ক্রিপ্টোগ্রাফি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হত, যেটা কিনা একটু গুগল করলেই পট্ করে বেরিয়ে আসে। [ https://interestingengineering.com/11... ] সেটা আজ অত বড় পদের একজন কর্তা জার্মান ও এই সংকেতের সঙ্গে হিটলারের কানেকশন জানা সত্ত্বেও উদ্ধার করতে পারে না! এমন কি রীতিমত পড়াশুনা করে ভেক ধরা সেই ডাক্তারও পারে না। অথচ রুদ্র জার্মান না জেনেও, আপাত ভাবে এর সাথে হিটলারের কোনোরকম যোগাযোগের কথা না জেনেও, কয়েকটা পিডিএফ পড়ে সেগুলো উদ্ধার করে ফেলে! এ কেমন কথা হইল রাজামশাই! লজিকটা কেমন পাণ্ডব গোয়েন্দা গোছের হয়ে গেল না? লাস্ট পাতায় "ভৌ ভৌ ভৌউউউ"- টাই বা তাহলে বাদ যায় কেন!

যাক গে জোকস আপার্ট। এবার মেন ভিলেনের কথাই ধরুন। নায়ক, নায়িকা বাদে ক্যামেরা একটু বেশিক্ষণ ধরে যার পেছনে ঘুরবে, হো না হো, ওহি ভিলেন হ্যায়। সে তাকে যতই অনুকূল ঠাকুর মার্কা দেখানো হোক না কেন! এখানেও সেই থিয়োরির অন্যথা হয়নি। তাই সাসপেন্স পকেটগুলো আরও ধৈর্য দিয়ে বুনতে হত। পাঠক যেন বারবার ডেড এন্ডে পড়ে গিয়ে ভাবতে বসে "এবার!" আর সেখানেই আসতে থাকবে একটার পর একটা গোড়ালি ঘোরোনো টুইস্ট।

আমি কাউকে ছোট করতে চাই না। তবু কথাগুলো লেখার সময় জাস্ট কদিন আগে পড়া 'কালসন্দর্ভা'-র কথা না বলে পারছি না। যদিও সম্পূর্ণ ভিন্ন থিমের দুটো বই। তবু নতুন লিখিয়েদের ক্ষেত্রে হেসে খেলে গাইড বুকের কাজ করতে পারে কালসন্দর্ভা! থ্রিলার পড়ার এই মাদকতা, এই নেশার ঘোরে ছুটে চলা বাংলায় বহুদিন পর কালসন্দর্ভার মধ্যে দিয়ে খুঁজে পেলাম। একটা আদর্শ উদাহরণ দেওয়ার জন্য বইটার উল্লেখ করলাম। যদিও শেষটা আরও ভাল করার জায়গা ছিল। যাই হোক সেই আলোচনা অন্যত্র।

প্লটের থেকে তথ্য সংগ্রহে লেখিকা বেশি জোর দিয়েছেন এবং এই কাজটি তিনি করেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠা সহকারে। নইলে এত বড় উপন্যাস লেখা তো আর মুখের কথা নয়। হাজার পাতারও বেশি নোটস বানালে বুঝি একটা "নরক সংকেত" হয়। কী অপরিসীম ধৈর্য দিয়ে সেগুলোকে ঘষেমেজে নিঁখুত করতে হয়, তা যিনি করেন তিনিই জানেন। আর আমাদের মত পাপীতাপী চোখ খুঁজে বেড়াই ফুটোফাটা। যেমন "...এক প্রধান রাজপথে একজন মানুষ চুপিসারে কিন্তু দ্রুত পায়ে হাঁটছিল" (বাক্যগঠন এবং 'এক' শব্দের দুবার ব্যবহার লক্ষণীয়)। এই ব্যাপারটা টেকনিক্যালি অসম্ভব। জার্মানিতে রাজপথ দিয়ে হাঁটা দণ্ডনীয় অপরাধ। যে মানুষ যেনতেন প্রকারেণ পুলিশের কাছ থেকে পালিয়েছে, সে কি কখনও চাইবে পুলিশ প্যাট্রোলকার এসে জিজ্ঞাসাবাদ করুক? আর অদ্ভুত ভাবে এই হাঁটতে থাকা লোককেই দুই প্যারা পর বাস থেকে নামতে দেখা যায়!

তো যেটা বলছিলাম, মানে ভাঙা রেকর্ডের মত যেটা প্রায়ই বলে থাকি-- সাহিত্যে, না শুধু সাহিত্য কেন শিল্পের প্রত্যেকটা শাখাতেই ব্লেন্ডিং খুব জরুরি জিনিস।
এই তো ২১ নং অধ্যায়ের কথায় ধরুন, একটা সম্পূর্ণ অন্য দৃশ্য চলতে চলতে হুট করে ভারতীয় পুরাণ ঢুকে পড়ল এবং শুধু তাইই নয়, পুরো মেজাজটার ওপর ভারি যত্ন করে ধনেপাতা ছিটিয়ে চলে গেল! আমরা এডিটিং টেবিলে এটাকে বলি জার্ক শট। যদিও লেখিকা "হঠাৎ সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে একটা অন্য কথা মনে পড়ে গেল ওর..." লিখে একটা ম্যানেজ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে বরং কন্ট্রাস্টটাই আরো প্রকট হয়ে পড়েছে পাঠকের চোখে।

এখানে যা দরকার ছিল তা হল সংযম। যার অভাব বইয়ের প্রায় পাতায় পাতায় লক্ষ্য করা যায়। শুনেছি লেখকদের গীতায় নাকি প্রথম এবং প্রধান শর্ত হল নিজের লেখার প্রতি মারাত্মক রকমের নির্মম হওয়া। যেমন কোন একটা দৃশ্য হয়তো তিনি খুব খেটে লিখেছিলেন, সেখানে হয়তো দেখা গেল তার ভাষার ব্যবহার প্রায় অলৌকিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর খেটে জোগাড় করা ডেটার প্রায় ৫০ শতাংশই লাগিয়ে দিয়েছেন এই অধ্যায়টুকু লিখতে। কিন্তু গল্পের শেষে রিভাইসের সময় দেখা গেল, সেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, পায়ের ঘাম পাপোষে মুছে লেখা অধ্যায়টা উপন্যাসের কোনো উপকারে তো আসছেই না, বরং মেদ বাড়িয়ে ফেলছে অনেকটাই। তখন সেটা নিষ্ঠুরভাবে কেটে ফেলাই হল আসল পরীক্ষা!

যেমন দেখলাম একটা গোটা অধ্যায় জুড়ে নাৎসি গ্যাস চেম্বারের বর্ণনা। তার খুঁটিনাটি নজরকাড়া। কিন্তু পড়তে গিয়ে তথ্যের জন্য গল্প, নাকি গল্পের জন্য তথ্য ব্যাপারটা বেশ গুলিয়ে যায়।

তারপর অধ্যায় ৫। বেশ একটা দৃশ্য দিয়ে শুরু হল। পাত্র-পাত্রীরা সব আসতে লেগেছে মঞ্চে। উইংস থেকে যেন আগত রোমাঞ্চের বুটের শব্দও পাওয়া যাচ্ছে খানিক। ওমা, দুম করে দেখি একটা ৫ নম্বরের বার্লিনের টিকা এসে পড়ল মাঝে! ৪ এও সেম কেস। দরজা খুলতেই বালতি বালতি তথ্য এসে পড়ল মাথায়। যে জিনিস গল্পের ফাঁকে ফাঁকে, কখনও বা পরিবেশে একটু একটু করে মিশিয়ে দেওয়া নিয়ম, সে জায়গায় হুট করে এক খাবলা উইকিপিডিয়া বসিয়ে দিলে কারই বা ভাল লাগে!

এই নিষ্ঠুর হওয়ার ব্যাপারটা আদতে কতটা কঠিন আমি জানি না। জানা সম্ভবও নয়। তবু মুখে বলা যেহেতু সহজ তাই আরেকটু বলি। ধরা যাক, গল্পের এক অংশে কোলন ক্যাথিড্রাল চার্চে একটা বিস্ফোরণ দেখাতে হবে। এখন উইকিপিডিয়া বা অন্যান্য বই খুঁজে নিয়ে প্রায় ১০-১২ পাতার নোটস তৈরি হল। তাতে চমকপ্রদ তথ্যের ঠাসাঠাসি। খুব স্বাভাবিক ভাবেই এত খেটেখুটে নোটসের সবটাই দিতে ইচ্ছে করবে গল্পে। এইখানেই প্রয়োজন নিঁখুত সম্পাদনার। দেখা গেল মোটে চার-পাঁচ লাইন প্রয়োজন গল্পের জন্য। বাকিটা নিজের জেনারেল নলেজের জন্য রেখে দিলে, গল্পও বাঁচে আবার দাদাগিরি তে যাওয়ার চান্সটাও বৃদ্ধি পায়!

ব্যস, এইটুকুই যা বলার ছিল। তথ্যগত ত্রুটি আরও কোথাও থেকে গেলে সেটা আমার আউট অফ সিলেবাস। কতটুকুই বা জানি এসবের। যা মনে হল এ বইয়ের বিষয়বস্তু যথেষ্ট ইউনিক। কিন্তু শুধুমাত্র তথ্যভাণ্ডারের ওপর পুরোটা না চাপিয়ে, কিছু কিছু ওজন প্লট ম্যাপিং বা ভাষার ব্যবহারের ওপর দিলে, আর এত বড় পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে হত না। এই আর কী।

পাঠপরবর্তী প্রতিক্রিয়া- ওয়েল, এমনি কিছুই না। শুধু মনে হচ্ছে 'ঈশ্বর যখন বন্দি' পড়ে যতটা হতাশ হয়েছিলাম, "নরক সংকেত" সেটা কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। দেখা যাক, পরের বই হাতে আসার অপেক্ষায়!
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 37 books1,865 followers
January 8, 2018
এই সময়ের সবথেকে আলোচিত রহস্যরোমাঞ্চ গোত্রের বাংলা উপন্যাসের মধ্যে থাকবে দেবারতি মুখোপাধ্যায়-এর “নরক সংকেত”।
নভেম্বর ২০১৭-য় আত্মপ্রকাশের আগেই এই বই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এক অন্য় স্তরে পৌঁছে গেছিল। তার জন্য দায়ী ছিল একাধিক ফ্যাক্টর, যথা:
• প্রাক-প্রকাশ প্রচারের অভিনব কৌশল,
• বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণের দায়িত্বে থাকা ঘনাদা-কমিক্স খ্যাত শিল্পী শুভ্র চক্রবর্তী-র কাজ নিয়ে হওয়া প্রত্যাশা,
• বুক ফার্ম-এর তরফে প্রকাশনা মূল্যের দিক দিয়ে বইটিকে উৎকর্ষের এক অন্য স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি,
• সর্বোপরি, “ঈশ্বর যখন বন্দি”-র তোলপাড় ফেলে দেওয়া সাফল্যের পর লেখক দেবারতি মুখোপাধ্যায়-কে নিয়ে যুগপৎ আশা এবং তাঁর ‘ওয়ান-বুক-ওয়ান্ডার’ বলে প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা।
কিন্তু শেষ অবধি, ২৫০/- টাকা দামের, ২৭৯ পৃষ্ঠার এই বইটি কেমন দাঁড়াল?

খাওয়াকে ভূরিভোজের সঙ্গে তুলনা করলে আগে তেতোর পাটটুকু সারতে হয়। সেইমতো যে জিনিসগুলো খারাপ লাগল, সেগুলো আগে বলে নিই। এই অংশটুকু স্পয়লারে পরিপূর্ণ, তাই বইটি এখনও না পড়ে থাকলে দয়া করে এটুকু ‘টপকে’ যান।
প্রথমত, বইয়ের প্রচ্ছদ আমার ভালো লাগেনি। একটা ইতিহাসাশ্রিত রহস্য উপন্যাসের মলাট এরকম ক্যাটকেটে লাল, হলুদ, সবুজ, নীল মেশানো হবে কেন? থ্রিলার যে মিনিমালিস্ট প্রচ্ছদ দাবি করে, এটা শুভ্র চক্রবর্তী-র মতো শিল্পী বুঝবেন না কেন? তাছাড়া, রুদ্রাণী সুন্দরী না অসুন্দর সেই নিয়ে যেখানে স্বয়ং লেখক একটি শব্দও ব্যয় করেননি, বরং গোটা উপন্যাসটিই যেখানে তার বুদ্ধি, সাহস, সততা, মানবতা, এবং বিবেকের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে এমন একটা ট্র্যাভেল ব্রোশিওর মার্কা ছবি দেওয়ার মানেই বা কী?
বুক ফার্ম, যারা গ্রাফিক্স তথা অলংকরণের ক্ষেত্রে বাংলায় শিল্প ও শিল্পী দুয়েরই হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যত ভগীরথের ভূমিকা নিচ্ছে, তাদের একটি বইয়ে এমন বেমানান প্রচ্ছদ আমি আশা করিনি।

দ্বিতীয়ত, গল্পের মধ্যে বেশ কয়েকটা প্রকাণ্ড ত্রুটি নজরে পড়েছে, যেগুলোকে আক্ষরিক অর্থে ‘গোড়ায় গলদ’ বলা চলে। সেগুলো হল:
১] এক বছর আগের একটি ঘটনা মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে বলেই সেই ঘটনার নায়িকার কাছে সাহায্য চাওয়া, হোমসের ভাষা ধার করে বলা যায়, অসম্ভব (ইমপসিবল) না হলেও অসম্ভাব্য (ইমপ্রোবেবল), তথা মূর্খামি। ক্রিপটোগ্রাফি সম্বন্ধে কোনো অভিজ্ঞতা না-থাকা একটি আদ্যন্ত সিভিলিয়ানকে এমন ভয়ানক প্রকল্পে জড়ানোর মতো বোকামি কেউ করবে না। রাষ্ট্র হোক বা সন্ত্রাসবাদী, ভেটেড বা অ্যাক্রেডিটেড না হলে সিভিলিয়ান তো দূরের কথা, পেশাদার কাউকেও কোনো দায়িত্ব দেয় না। এটা ধারণা নয়, বাস্তব। তাই রুদ্রাণী’র এই প্রোজেক্টে জড়িয়ে পড়াটা অবিশ্বাস্য।
২] আসল জিনিস কখনও, এবং কথাটা আমি অক্ষরে-অক্ষরে বলতে চাইছি, কক্ষনও, কোনো সংগঠন-বহির্ভূত এজেন্ট, এমনকি সে পেশাদার হলেও, তাকে দেওয়া হয় না, বরং কপি করেই দেওয়া হয়। অথচ, যে জিনিসের জন্য এমন সাংঘাতিক ব্যাপারস্যাপার, সেটাই কি না তুলে দেওয়া হল রুদ্রাণীর হাতে, তাও আবার ডিসাইফার করতে?
৩] ক্যানসার চিকিৎসায় শতাধিক বছর আগে জিনতত্ত্বের ব্যবহার নিয়ে যে প্রাথমিক ফাঁপা গল্পটা রুদ্রাণীর কাছে ফাঁদা হয়েছিল, সেটা পুরোপুরি অসম্ভব। ড্যানিশ বটানিস্ট উইলহেলম ইয়োহানসেন ‘জিন’ শব্দটা ১৯০৯ সালে প্রচলন করেন বংশগতির মৌলিক একক হিসেবে। ১৯১৪-য় জার্মান বৈজ্ঞানিক থিওডোর বোভেরি ম্যালিগনেন্ট টিউমার প্রসঙ্গে ‘টিইলাংসফোয়েডেন্ড ক্রোমোজোমেন’ বলে একটি বস্তুর ধারণা দেন, যা ১৯৬৯-এ ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিট্যুট-এর জর্জ তোদারো ও রবার্ট হুবনার-এর কাজের মাধ্যমে ‘অনকোজিন’ নামে পরিচিত হয়। পন্ডিচেরিতে কর্মরত এক একাকী বৈজ্ঞানিকের এসব জিনিস শতবর্ষ আগেই আবিষ্কার করে ফেলা ও এগোনোর গপ্পোটা যে গুল, তা রুদ্রাণী কেন, আমার মতো পাঠক-ও ধরে ফেলবেন।

তৃতীয়ত, এই কাহিনিতে লেখক নন-লিনিয়ার ন্যারেটিভ পেশ করেছেন। ব্যাপারটা ভালোভাবে উতরে যেত, যদি ১৯৩৩-এর ঘটনাক্রম আরো টানটান করে পেশ করা যেত। হিটলারের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর জোর দেওয়ায় সেটা হয়নি। তাছাড়া নাজি শাসনের শুরুর দিকটার সঙ্গে অন্যত্র একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের সাদৃশ্য দেখানো উদ্দেশ্য হলে আলাদা কথা, কিন্তু ওই অংশগুলোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।

চতুর্থত, ১৮৮৩-তে ফ্রেডরিক নিৎজে-র দেওয়া তত্ত্ব মেনে জার্মানদের উবেরমেনশ বা সুপারম্যান বানানোর উদ্দেশ্যে গবেষণার কাজটা কাইজার উইলহেলম ইন্সটিট্যুট অফ অ্যানথ্রপলজি, হিউম্যান হেরেডিটি অ্যান্ড ইউজেনিক্স-এ অনেক আগে থেকেই চালু হয়ে গেছিল। তাছাড়া ১৯৩৩-এ ইউজেনিক্স গোপনে প্রয়োগ করার মতো কিছু ছিলই না। মানসিক প্রতিবন্ধীদের বংশবিস্তারের ক্ষমতা হরণ করার ব্যাপারটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ক্যানাডা, সুইডেন, এবং অতি অবশ্যই জার্মানিতে শুরু হয়ে গেছিল। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া যায় যে এক্ষেত্রে একটা সাংঘাতিক আবিষ্কারের সন্ধান পেয়েছিল থার্ড রাইখ, তাহলেও তাতে ফুয়েরারের নিজের জড়িত থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। পাক্কা শয়তানের মতো ওই লোকটিও ঠিক কাজ ঠিক লোককে দিতে জানত।

পঞ্চমত, এই গল্পে লজিক-বিন্যাসে এমন বেশ কয়েকটা ফাঁক রয়েছে যেগুলো ফেলুদা’র শিশুতোষ কাহিনিতে চলে, বা চলে জেমস বন্ডের ওভার-দ্য-টপ গল্পে। সিরিয়াস থ্রিলার এগুলো সন্তর্পণে এড়িয়ে যায়। সেখানে বরং সবই হয় নিঃশব্দে, এবং আসল জোর থাকে সার্ভেইল্যান্স বা নজরদারির ওপর। এই কাহিনিতে তার জায়গা নিয়েছে ঘটনার স্রোত এবং কাকতালীয় ব্যাপারস্যাপার। তাছাড়া যে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনটি সব কিছুর জন্য দায়ী, তার পুরো ব্যাপারটাই এমন অপেশাদারিত্বে ভরা যে এই ধরনের থ্রিলারের আদিগুরু ফ্রেডরিক ফরসাইথ কবর খুঁড়ে বেরিয়ে আসতে পারেন লেখকের উদ্দেশে দাঁত খিঁচোবার জন্য।

লেখক এই কাঁচা ভুলগুলো কেন করলেন ভেবে রীতিমতো রাগ হচ্ছে, তাই সেগুলো আগেই লিখে ফেললাম। আর তেতো ও শুক্তোর পাট এখানেই শেষ হল।

বইটায় আমি একটা টাইপো পেয়েছি। হ্যাঁ, অত্যন্ত উৎকৃষ্ট পাতা, বড়ো ফন্ট, পরিষ্কার ছাপায় সমৃদ্ধ এই রীতিমতো মোটা বইয়ে আমি মাত্র একটা টাইপো পেয়েছি, তাই সেলাম বুক ফার্ম।
বইটা এক্সট্রা পয়েন্ট পাবে তার অলংকরণের জন্য। পাতায়-পাতায় না হলেও প্রচুর ছবি রয়েছে এই বইয়ে, তবে প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে একটি পিস্তল, এবং শেষে একটি রিভলভারের ফটো দেওয়ার মতো অতিনাটকীয়তা আবার অনভিপ্রেত ছিল।

এবার মাংস-ভাত।
(১) দুরন্ত গতি এই কাহিনির মূল সম্পদ। অতিরিক্ত তথ্য, অবাঞ্ছিত ইতিহাস, আবেগ, সব পেরিয়ে পাঠককে ছুটে যেতেই হয় গল্পের শেষ অবধি, এই গতির জন্যই। আমাদের চারপাশে এমন কেস প্রচুর যেখানে রহস্যকাহিনি লিখতে বসেও লেখকেরা আজাইরা প্যাচাল শুরু করে সেই স্বখাত সলিলে নিজেরাই মজে যান। কিন্তু এখানে লেখক শুরু থেকে শেষ অবধি যে একই রকম রুদ্ধশ্বাস গতি বজায় রাখতে পেরেছেন, এটা একটা বিরাট কৃতিত্বের পরিচায়ক।
(২) রুদ্রাণী আর প্রিয়মের সম্পর্কের রসায়ন শুধু এই বইয়ে নয়, এমনকি থ্রিলারের ক্ষেত্রেও নয়, বরং বাংলা সাহিত্যের ভ্যাপসা পরিবেশে একমুঠো সুগন্ধী হাওয়া হয়ে এসেছে। এমন একটি পরিণত, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, খুনসুটি, রাগ, অভিমান, এবং রসিকতায় ভরা সম্পর্ক দেখলে সত্যিই মনে হয় যে প্রাপ্তমনস্ক পাঠকের জন্য রচিত ���াংলা সাহিত্যেও বেডরুম আর বাথরুম ছাড়া কিছু থাকতে পারে। লেখককে অভিনন্দন জানাতে হয় এই রসায়নের রসটিকে আমাদের কাছে যথাযথভাবে পেশ করার জন্য।
(৩) বাংলা সাহিত্যে এই প্রথম কোনো উপন্যাস হিটলারের শাসনকালের সবচেয়ে অন্ধকার দিকটার সঙ্গে আধুনিক পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো বিপদটাকে জুড়ে দেওয়ার, আর তার সুদূরপ্রসারী তথা বৈজ্ঞানিক অভিঘাতটাকে থ্রিলারের আংগিকে ধরল। লেখকের এই প্রয়াসের জন্য তিনি অকুন্ঠ প্রশংসা পাবেন আমার কাছ থেকে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ‘দ্য বয়েজ ফ্রম ব্রাজিল’ বারবার লেখা যায় না। তাই একটি নিও-নাজি সংগঠনের তরফে নাজি গবেষণার ফসল খুঁড়ে বের করার অপচেষ্টার গল্পটাকে অন্য মাত্রা দিতে গিয়ে লেখক আবার কাকতালীয় ঘটনাক্রমের অনুপাতটাকে বাড়িয়ে ফেলেছেন, যেটি আকাঙ্ক্ষিত ছিল না।

তবু, আমি পাঠককে অনুরোধ করব বইটি পড়তে।
কেন?
(১) বইটির বিরুদ্ধে এত কথা আমি লিখছি স্রেফ এই কারণে যে একটু ভেবে কাহিনি সাজালে এবং কিছু জিনিস বাদ দিলে লেখকের এই প্রয়াস বিদেশি থ্রিলারের মাপকাঠি মেনেই আরসালানের স্পেশাল বিরিয়ানি হত। কিন্তু ওই গোড়ার গলদগুলো, আর লজিকের ফাঁক তথা অতিরিক্ত কিছু কথা লেখাটাকে বাংলা রহস্যরোমাঞ্চ উপন্যাসের নিরিখে চিকেন বিরিয়ানি করেই রেখে দিল, এটাই দুঃখের। তবু, বাজারভরা ভেজ পোলাও-এর মধ্যে চিকেন বিরিয়ানি উপেক্ষা করলে আপনারই লোকসান।
(২) এমন চমৎকার প্রোডাকশন ভ্যালুর বাংলা বই সচরাচর পড়ার সুযোগ হয় না। তাই, সেই সুযোগ থেকে নিজেকে নাই বা বঞ্চিত করলেন।

পাঠ শুভ হোক।
Profile Image for Farhan.
725 reviews12 followers
July 5, 2019
ভাগ্য ভাল ৫০০ টাকা দিয়ে এই বই কিনি নি। শেষ করতে রীতিমত কষ্ট হয়।
Profile Image for Madhurima Nayek.
361 reviews135 followers
October 28, 2020
রুদ্র প্রিয়মের সাথে পরিচয় হয়েছিল "ঈশ্বর যখন বন্দী" থেকে। হিস্ট্রোরিকাল বই পছন্দ করি না তবুও রুদ্র প্রিয়মের কেমিস্ট্রিটা ভালো লাগে তাই বইটা চুজ্ করা। একটা ব্যাপার উল্লেখ করতে চাই, রুদ্রানী নামকে রুদ্র করে দেওয়ায় অনেকসময় প্রিয়মের সাথে গুলিয়ে যায়, অনেকেরই আমার মতো এই প্রবলেমটা হয়ে থাকবে।আগেও অনেক থ্রিলার পড়েছি, এটাকে খুব জমজমাট থ্রিলার বলবো না, তবে খারাপ না,ভালোই।টানটান উত্তেজনা ব্যাপারটা অনুভব করিনি কই,তাই থ্রিলার হিসাবে দুর্বলই বলা যায়। ইউজেনিক্সের ব্যাপার স্যাপার গুলো একটু বিস্তৃত বললে বুঝতে সুবিধা হত।কিছু কেমন অপরিচিত শব্দের ব্যবহারের কারণে কাহিনীটা কিছুটা জটিলও।ব্যক্তিগত ভাবে আমার কিন্তু "ঈশ্বর যখন বন্দী" 'নরক সংকেত' এর থেকে বেশী ভালো লেগেছে।

কাহিনী সংক্ষেপ : পুরো কাহিনীটা ইউরোপীয় পটভূমিতে রচিত। রুদ্রানী ওরফে রুদ্র কিছুদিনের জন্য স্বামীর কাছে লন্ডনে সময় কাটাতে আসে। স্বামী প্রিয়ম রুদ্রানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় ডঃ সিগমুন্ড শ্যুমাখারের সঙ্গে।তিনি রিসার্চ করছেন ক্যানসারের ওপর।তার কাছে এমন একটি উপায় আছে যা প্রয়োগ করে মানবসম্প্রদায়কে চিরতরে ক্যানসারের হাত থেকে মুক্ত করতে পারে।কিন্তু সেই উপায়টি একটি সাংকেতিক ভাষায় লেখা, যার পাঠোদ্ধার করে উঠতে পারেননি ডক্টর। আর সেই কাজের জন্যই সাহায্য চায় রুদ্রের কাছে। আর এরপরই রুদ্র জড়িয়ে পড়ে এক ষড়যন্ত্রের জালে। আর এই ষড়যন্ত্রের সাথে যোগসূত্র আছে হিটলারের।কাহিনীটি দুটি ঘটনাকে প্যারালালি রেখে এগিয়ে চলে। একদিকে রুদ্রের ব্যাপারটা আছে, অন্যদিকে আছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী হিটলার শাসিত জার্মানি ও হিটলারের জীবনের বিভিন্ন পর্ব।
Profile Image for MD Mijanor Rahman Medul  Medul .
178 reviews42 followers
March 17, 2019
রিভিউ:::

বইয়ের নাম : নরক সংকেত
লেখক: দেবারতি মুখোপাধ্যায়
প্রকাশনী : বুক ফার্ম ( কলকাতা)
প্রচ্ছদ অলঙ্কনে : শুভ্র চক্রবর্তী
জনরা : হিস্ট্রোরিক্যাল থৃলার
প্রকাশকাল : নভেম্বর ২০১৭
পৃষ্টা: ২৮০
মূল্য : ২৫০ ভারতীয় রুপী।

কাহিনী সংক্ষেপ ::: 
                     চাকরীর সূত্র ধরে প্রিয়ম বেশ কয়েক বছর ধরে লন্ডন এ। আর অন্যদিকে রুদ্রাণী ব্যাংক কর্মকর্তা। রুদ্রাণীর ব্যাংক এর একটি প্রজেক্ট ওয়ার্ক এর জন্য যেতে হবে প্যারিস এ আর তার আগে প্রিয়ম এর সাথে সপ্তাহখানেক ছুটি কাটাবে লন্ডনে। তো এভাবেই রুদ্রানীর লন্ডনে আসা। লন্ডন এ এসে রুদ্র জানতে পারে তাকে বেশ কিছু দিন যাবৎ খুজঁছে একজন ব্যাক্তি সিগমুন্ড শু্যমারখা। মানবজাতির ক্যান্সার নির্ধনের একটি উপায় জানা আছে এই শু্যমারখা এর আর সেটা সাংকেতিক ভাষা থাকার কারনে বের করতে পারছেন না। তাই সাহায্য লাগবে রুদ্রাণীর। তিনি রুদ্রাণীকে দশটি ছবি দিলেন, তিনি জানান যে এ সকল ছবি গুলো নাকি তার দাদা। যাই হোক নিরাপত্তারর অভাবে তিমি রুদ্রাণীকে দিলেন সেই ফটোগ্রাফ গুলো। কিন্তু এর পরেই রুদ্রাণীরর উপর ধেয়ে আসে ঝড়। কোন এক অপশক্তি কিনা তার কাছে থেকে কেড়ে নিতে চাইছে ছবি গুলো। রুদ্র সেই সকল ফটোগ্রাফ এর সূত্র ধরে জানতে পারে এর সূত্রপাত জার্মান। আর তারপর রুদ্র প্রিয়ম পাড়িজমায় লন্ডন থেকে জার্মানে। ট্রেন তাদের উপর হামলা হয়।এবং শেষ পর্যন্ত চুরিই হয়ে যায় সই ফটোগুলো। তাহলে কে ই বা লেগেছে এর পিছনে? কোন অপশক্তিই  রুদ্র এর উপর হামলা চলাচ্ছে? আর কিই বা সংযোগ সেই ছবি গুলোর সাথে ইতিহাসে মহাখলনায়ক জার্মানির ফুয়েবার এডলফ হিটলার এর???

পাঠ প্রতিক্রিয়া :::
                  রুদ্রাণী প্রিয়ম সিরিজ এর দ্বিতীয় বই নরক সংকেত। এর আগে এই সিরিজ এর প্রথম বই ঈশ্বর যখন বন্দি প্রকাশ পায়। কিন্তু আমি সিরিয়াল মেইন্টেইন করে পড়িনি। যাই হোক রুদ্রাণী প্রিয়ম সিরিজ এ এবারের অভিযান লন্ডন এবং জার্মানিকে কেন্দ্র করে।  কাহিনীর প্লট বলতে হবে চমৎকার। লেখকের লিখুনিও খুব পাকা তা মানতে হবে। সবচে ভালো লেগেছে ইউরোপ এর বিভিন্ন জায়গার বর্ননা আর ঐতিহাসিক কিছু চরিত্র। ইতিহাসকে কেন্দ্র করে লেখিকা সাজিয়েছেন চমৎকার ভাবে। ইউরোপীয় পটভূমিতে লেখা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থী সমস্যা, ঔপনিবেশিক চালচিত্রে জার্মানি, হিটলারের রাজনীতি, এবং সর্বাপরি ইউজেনিক্স তত্বের প্রয়োগ এ উপন্যাসটি অনেক তথ্য বহুল হয়েছে। কিন্তু গতানুগতিক থৃলার এর মতো ততোটা মজা পাইনি। সাসপেন্স থৃলিং টুইস্ট তুলনা মূলক কমই ছিল। তো সেক্ষেত্র বই প্রচন্ড রকম ঢিলে হয়ে গিয়েছে।  কিন্তু বইটা বেশ ভালো মানতে হবে। রুদ্রাণী প্রিয়ম সিরিজ এর প্রতিটা বইই ভালো ছিল।

সতর্কতা:::
              রুদ্র প্রিয়ম সিরিজ এর তিনটি বই প্রথম "ঈশ্বর যখন বন্দি" দ্বিতীয় "নরক সংকেত" আর তৃতীয় "অঘোরে ঘুমিয়ে শিব"। তিনটি বই সিরিয়াল অনুযায়ী পড়া জরুরি। আমি সিরিয়াল ছাড়া পড়েছি সে ক্ষেত্রে আমার কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আমি "ঈশ্বর যখন বন্দি" এবং "অঘোরে ঘুমিয়ে শিব" বই দুটো আগে পড়েছি আর তারপর এটা পড়লাম। তো পাঠক তিনটা বই সিরিয়ালি পড়লেই ভালো হয়। আমি নিচে "ঈশ্বর যখন বন্দি" আর "অঘোরে ঘুমিয়ে শিব" এর রিভিউ লিংক কমেন্টারি বক্স এ দিয়ে দিচ্ছি।

ধন্যবাদান্তে:::
            রক্তিম আভা যিনি দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর দুটো বই আমাকে পড়তে দিয়েছেন।
রেটিং ৩.৮/৫।।

ধন্যবাদ
মিদুল,

১৭-০৩-২০১৯
বেলা সাড়ে তিনটা
ঢাকা।
Profile Image for Klinton Saha.
357 reviews5 followers
April 5, 2025
অতীত
জার্মান আর্যজাতিকে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি বানানোর মরণখেলায় মেতে উঠেছে হিটলার। ফ্রান্সিস গ্যালটনের বই থেকে সর্বপ্রথম সে ইউজেনিক্স সম্পর্কে জানতে পারে। সে চায় জার্মানিতে কোনো দুর্বল, অসুস্থ, বৃদ্ধ কিংবা প্রতিবন্ধী মানুষ থাকতে পারবে না, জার্মানি হবে শুদ্ধ ও সবল আর্য জাতিতে পূর্ণ। হিটলারের এই নৃশংস কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করে ফ্রিৎজ ও ফ্রেডরিক নামের দুই সাংবাদিক।

বর্তমান
জার্মানির এক পরিত্যক্ত জায়গায় কিছু ফটোগ্রাফ পাওয়া যায়।এই গোপন ফটোগ্রাফ আবার রহস্যজনকভাবে হাওয়াও হয়ে যায়। এদিকে দেশজুড়ে চলছে শরণার্থী হত্যা।কে বা কারা যেন জার্মানিতে শরণার্থীদের উপর হামলা করছে।
ড. শ্যুমাখার নামক জনৈক কেমিস্ট তার দাদুর নোটবুকের ফটোগ্রাফ নিয়ে এসেছেন রুদ্র-প্রিয়মের কাছে, তার দাবি এই ফটোগ্রাফে সাংকেতিক ভাষায় তার দাদু ক্যান্সারের প্রতিষেধক তৈরির ফর্মুলা লিখে গেছেন। ফর্মুলা উদ্ধারে তিনি তাদের সাহায্য চান।এই কেস নেওয়ার পর রুদ্র লক্ষ্য করে কারা যেন তার পিছু নিয়েছে। রহস্যের জালে জড়িয়ে যায় তারা। জট খুলতে বেরিয়ে আসে ইতিহাসের এক ভয়াবহ খেলা!

অতীত ও বর্তমানের সমান্তরালে দুটি গল্প। কিন্তু তাদের যোগসূত্র একজায়গায়।
থ্রিলার হিসেবে কোনো টানটান উত্তেজনা ছিল না তবে কিছুটা তথ্যবহুল ছিল বইটি। এছাড়া প্রিয়মের কোনো কিছু না টাইপ আচরন ছিল যথেষ্ট বিরক্তিকর।
Profile Image for Gourab Mukherjee.
164 reviews25 followers
January 29, 2020
লেখিকা সুন্দর ভাবে আবারও একবার ইতিহাস, কল্পনা আর সাসপেন্স থ্রিলার এর মেল বন্ধন ঘটিয়েছেন তার নৈপুণ্যে। হিস্টোরিক্যাল ফিকশনাল সাসপেন্স থ্রিলার বলা যায় বইটিকে।
গল্পে উত্তেজনা প্রথম থেকেই আছে তবে সেটা খুব হালকা দিয়ে দিয়ে শুরু এবং আস্তে আস্তে নিগূঢ় হয়েছে। এই ভাবে সময় নিয়ে উত্তেজনা অনুভব করাও একটা আলাদা মজা। 🤪🤪 সম্পূর্ণ ধৈর্যের সাথে আপনাকে অনেকটা পড়তে হবে তবে গিয়ে আসল উত্তেজনা পাবেন।
রুদ্র যথারীতি তার চরিত্রকে জাস্টিফাই করেছে। তবে এবারে সে আরও ক্ষুরধার। এবং আগের মতই সাহসী।
আগের বার যেমন রুদ্র প্রিয়ম হাতে হাত রেখে কেস সলভ করেছিল এবারে তেমন নেই। এবারে সবই রুদ্র করেছে। প্রিয়ম এবারে শুধু অকাজ করেছে।
রুদ্রর চরিত্রের উন্নতির জন্য খুব খুব খুব খুশি। কিন্তু প্রিয়মকে স্থিতধি, calculative থেকে সোজা হবু রাজার গবু মন্ত্রী বানানোটা ঠিক হয়নি।🤷

PS: মৃন্ময়এসব বই নিজে না পড়ে আমাকে কী করে পড়তে দিস ভাই? তুই তো দেবতা।☺️
Profile Image for Sourav Das.
70 reviews5 followers
March 17, 2021
রুদ্র - প্রিয়ম সিরিজের এটি অন্যতম সেরা উপন্যাস। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা এই গল্পে একটুও থ্রিল এর অভাব লক্ষ্য হয়নি। হিটলার কে নিয়ে এরকম ঐতিহাসিক থ্রিলার বোধহয় নেই বললেই চলে। অনেক তথ্যসমৃদ্ধ। যতটুকু দরকার লেখিকা সে টুকুই ব্যবহার করেছেন লেখার স্বার্থে। এক কথায় অনবদ্য।
Profile Image for Mala Mukherjee.
Author 7 books27 followers
December 16, 2020
নরক সংকেত বইটি পড়ে শেষ করলাম ৷ গল্পের সারাংশ মোটামুটি এরকম গোয়েন্দা রুদ্রাণি লণ্ডন যাওয়ার পর ডঃ শুমাখার তাঁকে তাঁর দাদুর ডায়রিতে পাওয়া কয়েকটি সংকেত উদ্ধার করতে দেয়, এ নাকি এমন এক মৌলের সংকেত যা মানুষকে অতিমানব তৈরী করে ৷ না না, সেটা গুহ্য কথা, শুমাখার বলেন ওটি ক্যান্সার সারায়, জিনেটিক ত্রুটি দুর করে ৷ সংকেত উদ্ধার করতে গিয়ে রুদ্রাণি বুঝলো যে ওটি ইউজেনিক্সের কোড, ইউজেনিক্স হলো এমন আবিষ্কার যা দিয়ে হিটলার অতিমানব জার্মানজাতি তৈরী করতে চেয়েছিলেন ৷ ওই সংকেত রুদ্রাণী উদ্ধার করে, টেম্পলহফের রিফিউজি শিবিরে বিস্ফোরণ আটকায়, ও পুলিশ কমিশনার স্নেইডার আর শুমাখারের আসল সত্য সামনে আনে ৷ দুর্দান্ত প্লট, কিন্তু কয়েকটা বিষয়ে খটকা লাগে ৷ যে সংকেত নেট ঘেঁটে পাওয়া যায় তার জন্য বিদেশী তরুণিকে কালপ্রিট কেন সংকেত উদ্ধারের ভার দেবে ? হিটলারের গল্প আর কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের বিষয়টি অত বিস্তারিত না করে চরিত্রগুলিকে বাস্তবসম্মত করলে ভালো হত ৷ যাইহোক, গল্পটি সুন্দর, খেটে লেখা ৷
Profile Image for Mayurakshi.
40 reviews1 follower
September 28, 2020
The common trap of modern Bengali Sleuth tales. Sprinkle some history to a simplistic whodunnit. Missed the layers and complexity. And also its annoying to find that a character (Priyom) in this case is made unbelievably dim to make look the protagonist smarter. Its hard to believe boy in a reputed position has no knowledge of Holocaust as every second prominent Hollywood film is on this subject.
But a good attempt to keep the Bengali young adults interested in Bengali literature. I wish the author all the best and I hope she pushes herself further and gets the necessary support for the same.
Profile Image for Aditya Bhattacharyya.
11 reviews
March 10, 2022
প্লট এবং চরিত্র-চিত্রায়ণ কোনোটিই যথাযথ নয়। যে সমস্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের উপাদান দিয়ে প্লট বুনতে চাওয়া হয়েছে তা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। জার্মানি দেশটির ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায়কে প্রেক্ষাপট করে উপন্যাস লেখা হয়েছে, অথচ প্রায় প্রতিটা জার্মান শব্দের সম্পূর্ণ ভুল উচ্চারণ ক্রমাগত ব্যবহার করা হয়েছে পুরো উপন্যাস জুড়ে। কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলঃ উপন্যাসে ব্যবহার/প্রকৃত জার্মান উচ্চারণ - স্নেইডার/স্নাইডা (Schneider), দাচাউ/ডাখাও (Dachau), ব্যাক/বাখ (Bach), পটসড্যাম/পটসডাম (Potsdam), হেইল/হাইল (Heil), রেইচেস্ট্যাগ/রাইখস্টাগ (Reichstag), রিজেন্সবার্গ/রেগেন্সবুর্গ (Regensburg), সিগফ্রেড/জিগফ্রিড (জ = Z) (Siegfried), টেম্পলহফ/টেমপ্লহোফ (Tempelhof)।
1 review1 follower
March 21, 2020
এই বই যদি Best seller হয় তাহলে বলতে হয় বাংলায় পাঠকের অবস্থা খুব খারাপ।
45 reviews2 followers
December 4, 2020
আগডুম বাগডুম কি সব 😑😑😑, ঈশ্বর যখন বন্দী টা ভালো ছিল ।
Profile Image for Shaon Arafat.
81 reviews4 followers
January 10, 2024
রুদ্রাণী ও প্রিয়ম গত এক বছর ধরে দুইজন দুই মেরুতে। চাকরির প্রয়োজনে প্রিয়ম এখন ইংল্যান্ডে, আর রুদ্রাণী ইন্ডিয়ায়। প্যারিসে কি একটা অফিসিয়াল ওয়ার্কশপের সুযোগ আসতেই রুদ্রাণী ক'দিন ছুটি নিয়ে ফেললো। উদ্দেশ্য ইংল্যান্ড গমন, প্রিয়মের সাথে কয়েকদিন এখানে সেখানে ঘুরে বেড়িয়ে, সবশেষে প্যারিসে যাওয়া। এদিকে সিগ্মুন্ড শুমাখার নামের এক জার্মান বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত ডাক্তার রুদ্রাণীর সাথে দেখা করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। রুদ্রাণী ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখার আগেই প্রিয��মকে খুঁজে বের করে তাকে কনভিন্স করে রেখেছেন রুদ্রাণীর সাথে মিট করার ব্যাপারে।
সাক্ষাতে জানা গেলো শুমাখার সাহেবের দাদুর এক ডায়েরীর কথা। ডায়েরীতে লেখা আছে 'ইউজেনিক্স' এর মাধ্যমে ক্যান্সারের প্রতিষেধক তৈরির কথা। কিন্তু প্রতিষেধকের মেইন ফর্মুলাটা লেখা কোন এক দুর্বোধ্য সাংকেতিক কোডের মাধ্যমে। শুরুতে তেমন একটা আগ্রহ না দেখালেও, মানবতার খাতিরে শেষমেশ রুদ্র রাজি হয়ে গেলো ডাক্তার সাহেবকে সাহায্য করতে। কিন্তু কাজ শুরু করার শুরু থেকেই কয়েকটা ব্যাপারে বেশ খটকা লাগতে লাগলো ওর। এদিকে বিশাল দর্শন এক মোটর বাইক সাথে নিয়ে এক জাপানী লোক রুদ্রকে ফলো করে বেড়াচ্ছে সারাক্ষণ। তারপর একদিন বিপদের আভাস পেয়ে তড়িঘড়ি করে সুটকেস হাতে বেরিয়ে পড়লো রুদ্রাণী আর প্রিয়ম।
প্যারালালি চলতে থাকে দুটো ঘটনা।
এক, ইংল্যান্ডের ইসলিংটন, ফ্রান্সের প্যারিস, গ্রিসের কাভালা, ইংল্যান্ডের কিংস্টনের পরে জার্মানির কোলনে কে বা কারা যেন সিরিয়াল বম্ব ব্লাস্ট করে চলেছে। প্রতিবারই টার্গেট ইউরোপে এক রকম পালিয়ে চলে আসা মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থীরা। ব্লাস্টের সময় স্লোগান দেওয়া হচ্ছেঃ 'কেইন স্লেচটেস ব্লাট ইন ইউরোপা'। শেষবারের হামলাটা জার্মানির সবচেয়ে নামকরা টুরিস্ট ডেস্টিনেশন কোলন ক্যাথিড্রালে হওয়ায়, জার্মানির ফেডারেল পুলিশের চিফ পুলিশ কমিশনার অ্যান্টন স্নেইডারের মাথা খারাপ হবার জোগাড়।
কোথাও কোন ক্লু নেই!
দুই, ১৯৩৩ সালের ঘটনা। হিটলার যখন জার্মানির চ্যান্সেলর হয়েছেন মাত্র। তার রাজনৈতিক কেরিয়ারের ঊষাকাল, জার্মানির ভবিষ্যৎ নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন; হিটলারের বিরুদ্ধচারণ করা তৎকালীন নিউজপেপার 'স্ট্রেট পাথ' এর এডিটর ফ্রিৎজ গার্লিক ও ফ্রেডেরিকের প্রতিবাদ এ অংশের মূল উপজীব্য।
যুদ্ধবিধ্বস্ত হিটলারশাসিত জার্মানির ঐতিহাসিক দলিলের সঙ্গে আধুনিক অতিনব্য জীববিজ্ঞানের 'ডিজাইনার বেবি'র মতো কিছু বিতর্কিত এবং আপাতশুভ মতবাদ, জিন থেরাপির কিছু 'সু' এবং 'কু' প্রভাব, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের বহুল প্রচলিত ক্রিপ্টোগ্রাফি, সাইফার কোডিং এবং সমান্তরালে রয়েছে এক নব্য স্বামীস্ত্রীর বিবাহিত জীবনপ্রবাহ নিয়েই এগিয়েছে এই শ্বাসরুদ্ধ করা বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটের ঐতিহাসিক থ্রিলার।
রিভিউ পড়ে বইয়ের প্লটটাকে কিছুটা এলোমেলো মনে হলেও, বইয়ের শেষে সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। বিভিন্ন ছোট ছোট ঘটনার সংযুক্তিকরণে লেখিকা এখানে অসামান্য পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।
Profile Image for Sanket Mitra.
21 reviews
February 13, 2021
নরক সংকেত

লেখিকা : দেবারতি মুখোপাধ্যায় Debarati Mukhopadhyay

প্রকাশনা : বুকফার্ম

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া

স্কুলবেলা থেকেই গল্পের আকারে ইতিহাস চর্চার ভক্ত এবং তা যদি নিয়ে গিয়ে ফেলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নাৎসি জার্মানীর প্রান্তরে, তাহলে ছাব্বিশ বছর বয়সে এসেও প্রতিটা পাতায় আটকে থাকতেই হয়।

এই উপন্যাস দিয়েই রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজের আমার হাতেখড়ি হলো এবং অভিজ্ঞতা সত্যিই খুব ভালো।

রুদ্রাণী ও প্রিয়মের সাথে পরিচিতদের আলাদা করে আলাপ করানোর দরকার নেই তবুও অপরিচিতদের ক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, এই জুটি কোনো গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত নয়, নিছকই এক সাধারণ চাকরিরত বাঙালী দম্পতি। রুদ্রাণীর কিছু জটিল মামলায় জড়িয়ে যাওয়ার সাথে পাঠকদের লেখিকা ছুটিয়ে নিয়ে যান নানান প্রান্তে যেখানে সর্বদাই ইতিহাস কথা বলে, নজর কাড়ে রুদ্রর ক্ষুরধার বুদ্ধি ও অদম্য জেদ সাথে প্রিয়মের সার্বিক সহযোগীতা।

উপন্যাসের সিনেম্যাটিক ধরণ বেশ চমকপ্রদ। রুদ্র-প্রিয়মের দিনলিপি থেকে ইউরোপের নানান রিফিউজি ক্যাম্পে হামলা এবং ফাঁকে ফাঁকে নাৎসি জার্মানীর কালো ইতিহাস......সত্যিই পাঠককে আটকে রাখবে প্রতিটা পাতায়।

লেখিকার গবেষণা সত্যিই প্রশংসনীয়। তথ্যের ভান্ডার এই উপন্যাসে প্রচুর কিন্তু প্রাসঙ্গিকও বটে। আমার ব্যক্তিগত ভাবে তথ্যের ভান্ডারকে বোঝা বলে মনে হয়নি এবং এর কারণটা হয়তো ইতিহাসের এই প্রেক্ষাপটের প্রতি আমার আলাদা আকর্ষণ।

ত্রুটির মধ্যে মনে করি সংকেতের রহস্যভেদের জায়গা উপন্যাসে অল্পভাগ জুড়ে থেকেছে, সেটা আরেকটু বেশি করে ছড়িয়ে দিলে ভালো হতো।
ডাঃ শ্যুমাখারের আসল পরিচয় আরও দেরীতে সামনে আনলে ভালো হতো, আকর্ষণীয় হতো ফ্রান্সিস গ্যালটনকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যাক স্টোরি থাকলে এবং তার সাথে সেই নারকীয় মৌলের বৈজ্ঞানিক স্পষ্টতা। হিটলারের অন্তিম পরিণতি আরেকটু বিশ্লেষিত হলে ভালো লাগতো।

তবে সকল ত্রুটির মধ্যেও কাহিনীর শেষভাগ চোখের কোণে একটু হলেও জল জমায়, ফ্রিৎস ও ফ্রেডরিকদের কথা ভাবিয়ে ভিজিয়ে দেয় মনকে।

কাহিনীর মধ্যে মোচড়ের দিক দিয়ে বিশাল অভিনবত্ব লুকিয়ে না থাকলেও নাৎসি অধ্যায়ের নারকীয়তাকে সত্যিই জীবন্ত করে তুলে অতীতের সাথে বর্তমানকে অজানা সূত্রে জুড়ে এই প্লট দারুন উপভোগ্য এবং লেখিকার ঝরঝরে ভাষায় এই বই সত্যিই হয়ে উঠেছে সুখপাঠ্য যা পাঠকের জ্ঞানভান্ডারকেও সমৃদ্ধ করবে। সাথে লেখিকার কাহিনী শেষের কৈফিয়ৎও খুব সুন্দর।

পাঠ শুভ হলো।
Profile Image for Shuvescha De.
40 reviews2 followers
November 17, 2023
তথ্যের আধিক্য সাহিত্যরসের টুটি চেপে ধরেছে।

সত্যজিৎ, শরদিন্দুবাবুকি সুন্দর সামান্য হীরের আংটি নিয়ে জম্পেশ রহস্য উপন্যাস লিখে ফেলতেন। সেখানেও তথ্য থাকত কিন্তু আধিক্য নয়। কিন্তু আজকালকার লেখকেরা জ্ঞানের পরিধি জাহির করার জন্য কি না জানিনা রীতিমত তথ্যভান্ডার ঢুকিয়ে দিচ্ছেন উপন্যাসের মোড়কে।

বিশ্বযুদ্ধ, ক্যান্সারের প্রতিষেধক, ইউজেনিক্স আরো কি সব জটিল তত্ত্ব আর প্রেক্ষাপট নিয়ে এসে লেখক গল্পের জট বেধেছেন। সে জট খুলেছেন অ্যামেচার এক গোয়েন্দা রুদ্রানী যিনি কেবল একটি রহস্যের সমাধান খ্যাত। রুদ্রানীর কথায় তাবৎ জার্মান পুলিশ তাদের লাইন বসকে না জানিয়েই অভিযানে নেমে পড়ে এর চাইতে হাস্যকর আমার কাছে আর কিছু মনে হয়নি। বিশাল এক গ্যাং যারা সমগ্র ইউরোপে ব্লাস্ট করে হাঙ্গামা বাঁধিয়ে ফেলে তারা ধরা পড়ে যায় রুদ্রানি আর প্রিয়ম সহ চারজনের গ্রুপের কাছে। শুধু তাই নয় গ্রুপের লিডার যিনি কিনা পুলিশের বড় কর্তা তিনি শেষে গোয়েন্দার গলা চেপে ধরতে গিয়ে ধরা পড়ে যান। যখন তার গ্রুপ ধরা পড়ে যাচ্ছে তখন নিরাপদে থেকে নিজের পজিশন ঠিক রাখাই তার জন্য স্বাভাবিক ছিল। তিনি কিন্তু গলা টিপে ধরতে গেলেন বুঝলাম না। চাইলেই তিনি রিভলভার ইউজ করতে পারতেন তার চেয়েও সহজ হত তিনি পুলিশি ঝামেলায় ফেলে দিতে পারতেন রুদ্রানী কে।

খুবই ওভার রেটেড ওভার হাইপড লেখা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Bubun Saha.
193 reviews6 followers
March 7, 2021
অসম্ভব ভালো একটা থ্রিলার উপন্যাস পড়লাম। মূলত এডভেঞ্চার আমি পড়িনা, পছন্দ করিনা। তাই ফেলুদা পড়লেও, কাকাবাবু টিনটিন থেকে আমি বিরত থেকেছি। তবে নরক সংকেত পড়ে এডভেঞ্চার আর থ্রিল, দুটোই সমানভাবে উপভোগ করলাম। এরকম টানটান উত্তেজনা আমি শেষ কোন বই পড়ে অনুভব করেছিলাম মনে পড়ে না।

হিটলার সম্পর্কে বই পড়ার আগে আমার জ্ঞান ছিল খুবই সীমিত। সেখানে লেখিকা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে�� এই গল্পের দ্বারা। অনেক না জানা টার্মিনোলজি, ঘটনা জানবার জন্য ধন্যবাদ। শুধু রহস্য রোমাঞ্চ নয়, আমাকে অনেকভাবে শিক্ষিত করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আর গল্পের দরকারে, আপনি যেভাবে বাস্তব বর্বর ঘটনাগুলোকে তুলে ধরেছেন nakedly, তার জন্য আপনাকে কুর্নিশ।

আপনার আরো অনেক বই আমার পড়া আছে, প্রত্যেকটা গল্পই এতো ইউনিক, আর আপনি সাইকোলজি ব্যাপারটাকে এতো এনালাইসিস করে গল্পগুলো লেখেন, আমার পড়তে দুর্দান্ত লাগে। কদমতলা bantra পাবলিক লাইব্রেরিতে আপনার সাথে দেখা করে আপনার বইগুলোতে অটোগ্রাফ নেবার ইচ্ছে ছিল, যেটা দুর্ভাগ্যবশত হয়ে উঠলো না। আশা করি খুবই তাড়াতাড়ি সেটা পূরণ করতে পারবো। আপনার লেখা পড়ে আমি বাধিত, ধন্যবাদ।
Profile Image for Snehasis Das.
57 reviews1 follower
July 19, 2020
Story title could only be christened as Rudro series not Rudro Piyom as plot built in the reign of rudrani. Piyom kind of repugnant dumb character dont have the finess like topse or sontu. Original plot is brilliant but there is no robust reason of this sordid crime, except assailant pondering Hitler as an exemplary. The concept of eugenics, Adolf Hitlers euthanesia, marriage matrimony, spiteful demarche against migration of Jewish people and use of cryptography was impeccable with a slight creamy touch of London voyage. The subtle subplots and connecting all at the end with a twist not look like a novice writer and also praiseworthy of alluding the Anna Franks diary. Lastly, this much incessant length is not required otherwise very enjoyable.
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Nishan Chatterjee.
2 reviews
March 28, 2024
বইটি পড়া শেষ করার পর এর রেশ কাটতে বেশকিছুদিন লেগে যেতে বাধ্য। শাসকের হিংস্রতা যখন লোভের দ্বারা চালিত হয় তখন রাষ্ট্র সাধারণ জনগণের কাছে কারাগারে পরিণত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে জর্জরিত জার্মানি বিকল্প সম্ভবনা হিসেবে যখন হিটলারের মতো শাসক কে মসনদে বসালো তখনো মানুষ বুঝতে পারেনি তারা কত বড়ো ভুল করেছে। সেই ভুলের ফল ফ্রেৎজি র মতো স্বাধীনচেতা দেশভক্ত নিজের জীবন দিয়ে পরিশোধ করেছিল। এমিলিয়ার পরিণতি পড়তে পড়তে চোখের জল আটকাতে পারিনি। সেদিন হয়তো নৃশংস শাসক তার অভিসন্ধি তে সফল হননি কিন্তু যুগে যুগে হিটলারের মতো স্বৈরাচারী শাসকের আগমন ঘটে এবং রুদ্রর মতো মানুষেরা জীবনকে বাজি রেখে দেশ তথা সমাজের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। উপন্যাসের ছত্রে ছত্রে রয়েছে বিজ্ঞানের অপব্যবহার, ক্রিপ্টোগ্রাফির ধারণা, ইউজেনিক্স এবং সর্বোপরি ইউরোপীয় সৌন্দর্য ও ইতিহাসের মেলবন্ধন।
Profile Image for Jiya...
59 reviews1 follower
April 18, 2024
রুদ্র প্রিয়ম সিরিজের দ্বিতীয় উপন্যাস 'নরক সংকেত'।একদম হাড় হিম করা থ্রিলার বলবো না। কিন্তু লেখিকা যে তার লেখনীর অসাধারণ পরিচয় দিয়েছেন তা মানতে হয়।
ছোটবেলার ইতিহাস পড়তে একদম ভালো লাগতো না। কিন্তু দেবারতি ম্যাডাম গল্পের ছলে যে ইতিহাসের জ্ঞানটুকু দিয়ে গেছেন তাতে আপ্লুত হয়েছি। না না.. তাই বলে তথ্যসমৃদ্ধ বই নয়। গল্পের মাঝে মাঝে যেটুকু দেওয়ার সেটুকু তথ্যই তিনি দিয়েছেন। কোথাও বেশি মনে হয়নি, কোথাও কম মনে হয়নি।
এছাড়াও উপন্যাসের একটা বড়সড়ো জায়গা জুড়ে রয়েছে হিটলার!!... হ্যাঁ হ্যাঁ...অ্যাডলফ হিটলার!!... আর তার সেই নৃশংস মানসিকতা।
রুদ্রপ্রিয়ম ছাড়াও বেশ কিছু কল্পিত চরিত্র রয়েছে যাদের চরিত্র সমানভাবে অংকন করেছেন লেখিকা।
এক কথায় বলতে গেলে, বইটা পেলে হাতছাড়া করবেন না। পরেই ফেলুন না...
Profile Image for Swarnil.
63 reviews
January 30, 2020
লেখিকা এক মহিলা রবার্ট ল্যাংডন কে আমদানি করেছেন সেজন্য তাকে ধন্যবাদ..কিন্তু প্রথমত এভাবে একটা রহস্যে জড়িয়ে পড়ার কোনো সঙ্গত কারণ বইয়ে পাওয়া গেলো না..এভাবে ইন্টারন্যাশনাল কন্সপিরাসিতে হঠাৎ জড়িয়ে যাওয়া বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো..সিনেমার স্ক্রিপ্ট এর কায়দায় ফ্ল্যাশ ব্যাক করে বিভিন্ন দৃশ্য লেখা হলেও জমে নি..
আরেকটা কথা না বলে পারলাম না..হেইল হিটলার জানে না সেই ভদ্রলোক এত বড় চাকরি পেল কিকরে..১২ পাশ করলো কিকরে.. I.T. sector এর পুরো অপমান হয়ে গেলো...

এবার ভালো কথা বলি..লেখিকাকে অভিনন্দন এরকম চরিত্র উদ্ভাবনের জন্য...এটা অবশ্যই স্বীকার করবো যে শেষের twist আগে ধরতে পারি নি..বইয়ের প্রচ্ছদের ও ভেতরের আঁকা আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে..আমি চাইবো বুক ফার্ম এরকম কাজ আরো করুক
7 reviews
April 29, 2022
Better than "Ishwar jokhon bondi". Thrill element was more. The different times and people perspectives were juxtaposed beautifully . I absolutely loved the 1933 storyline which was beautifully presented. But the present date storyline was too predictable first of all. Secondly, it is weird that so many educated people cannot decode that simple cypher which I've known the first thing in life. No detailed description n about the cypher decryption, no detailed information about eugenics. Only superficially dealt with these topics to the extent that it is far for convincing.
I have always loved how free flowing the author's language is. Overall a good read.
This entire review has been hidden because of spoilers.
8 reviews
March 22, 2021
Ei boi ta die jatra suru mane debarati di er boi er jatra suru.. Prothom dik ta ektu bujhte parini bt golpo egote clear holo... Lekhoni khub valo legeche...eta porei apner vokto hyechi madam... Chalie jan... Al fal loker kothay plz kan deben na... Bangali jatir akhn aktai kaj ake onno k tene niche namano... Char pase tai dekchi... Bhasa gyan tuku harie felechen onk review dite gie... Freedom of speech er name jak ja khusi bolajay arki... Ny wy lv u mam lots of ❤...apner aro boi er opekhay roilm.....
2 reviews
September 3, 2023
এইমাত্র শেষ করলাম এই উপন্যাসটি l এখানেই আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া জানালাম l এই বিষয়গুলির জন্য এত ভালো লাগলো উপন্যাসটি :
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝের সময়টার মধ্যে জার্মানী তে অবস্থা অর্থনৈতিক সামাজিক দিক দুর্দান্তভাবে তুলে ধরেছেন লেখিকা l গল্পো যত এগোতে থাকে সাসপেন্স বাড়তে থাকে l এবং রুদ্রর বুদ্ধি আর পর্যবেক্ষণের জন্য অপরাধী ধরা পড়ে শেষে l রয়েছে রুদ্র প্রীতমের দাম্পত্যের মধ্যে মিষ্টি বন্ধুত্বের কিছু মুহূর্ত l
এককথায় বলতে গেলে অসাধারণ লাগলো l A perfect blend of fiction with non fiction l লেখিকা দেবারতি ম্যাডাম কে অনেক ধন্যবাদ এমন একটা কাহিনী উপহার দেবার জন্য l
Profile Image for Tanmoy Biswas.
12 reviews2 followers
June 22, 2020
দেবারতি মুখোাধ্যায় এর সব লেখায় পড়েছি। কিন্তু, কেন জানিনা,ওনার সব থ্রিলার লেখায়, একটা মস্ত ফাঁক থেকে যায়, সেটা হলো, কোনো কারণ ছাড়াই বাজে গদগদ এ দাম্পত্য প্রেম এনে ফেলা। যেটা ওনার গল্পে একেবারে প্রয়োজন থাকে না। প্রতিটা গল্পর শুরু হয়,খুব সুন্দর ভাবে। থাকে ভালো রিসার্চ। কিন্তু এর মাঝেই কোথা থেকে লেখিকা এনে জুড়ে দেন, প্রেম। ব্যস শেষ। থ্রিলার এর বলো হরি , হরি বল। লেখিকা কাছে একটাই অনুরোধ, এত সুন্দর গল্পের প্লোট গুলো কে , এই ভাবে হত্যা করবেন না।
Profile Image for Kashyapeya Aich.
11 reviews
October 13, 2024
৩.৫/৫

সহজ, সরল ভাষার ব্যবহার এবং গতিময় বর্ণনার শৈলী উপন্যাসটিকে কিছু ক্ষেত্রে বেশ উপভোগ্য করে তুলেছে। যদিও কিছু জায়গায় কনভিকশনের অভাব স্পষ্ট, রুদ্রাণী ও প্রিয়মের কথপোকথন বেশ জায়গায় বড্ড বোকাবোকা এবং গল্পের শেষভাগে ঘটনাগুলি কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, তবু ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ফিকশন ও ননফিকশনের সংমিশ্রণ, এবং বিশেষ করে পোস্টমডার্ন ভূ-রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো লেখিকা যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা প্রশংসার যোগ্য। থ্রিলার হিসেবে এটি কিছুটা দুর্বল হলেও, সামগ্রিকভাবে বেশ উপভোগ্য একটি কাজ।
Profile Image for Pratik Gon.
216 reviews4 followers
October 20, 2018
It is actually 4.5/5 but goodreads don't allow me to give this!
After a long time read a fantastic book in bengali language..A mind-blowing thriller and a true historical crime thriller..The historical information are very interesting and well described!
The efforts of the writer is quiet applaudable..It is a rare scene for bengali thriller writers now a days..
Profile Image for Paramita Mukherjee.
501 reviews23 followers
February 6, 2021
লেখনী বেশ ভালো, লেখিকা বেশ টান টান উত্তেজনা তৈরী করে দেন লেখার সময়, পড়তেও বেশ লাগে, যেনো ধরলে না শেষ করে ছাড়া যায়না, তবে ইতিহাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য ঠিক কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহ রয়ে যায়। তবে ফিকশন হিসেবে শুধু ধরা হলে বেশ সুন্দর।
Profile Image for Ritwika Chakraborty.
41 reviews14 followers
November 28, 2021
কিশোরপাঠ্য হিসেবে চমৎকার। আলাদা করে আর বইয়ের অসঙ্গতি বা ভুলভ্রান্তিগুলো উল্লেখ করছি না, লেখিকার এটি দ্বিতীয় উপন্যাস। রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজের পরবর্তী বইগুলো আগেই পড়া হয়ে গিয়েছিল, উৎকর্ষতার দিক দিয়ে সেগুলি আরো এগিয়ে।
Displaying 1 - 30 of 62 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.