#বাবলি📖📖
#বুদ্ধদেব_গুহ✒️❤️
#সাহিত্যম📚📚
☁️🌻"....তখন সবে ভোর হচ্ছে । ঝরঝর করে বয়ে চলেছে বর্ষার ঘোলা জলে ভরা ডিফু নদী পাহাড়ের বুক কেটে । এপাশে রাস্তা, ওপাশে ঘন গভীর জঙ্গল । নানারকম বাঁশ ঝোপ, জংলী কলাগাছের ঝাড়, বেতবন, আরও কত কি গাছগাছালি । নদীটা এখানে খুব সামান্যই চওড়া হয়ে গেছে সমতলে পড়ে । নদীর দুপাশে কুমারী গাছ-গাছালি এমন চন্দ্রাতপের সৃষ্টি করেছে যে
ভরদুপুরেও আলো পড়েনা নদীতে । নদীর গায়ে লাগা সবুজ লতাপাতায় তাই কেমন একটা হলুদ ছোপ লেগেছে । লাল জলের গর্জন, ফিকে হলুদ আর গাঢ় সবুজে ভরা বন, আর তার পাশে চড়াইয়ে ওঠা ডিমাপুর-কোহিমা রোড ..."🌻☁️
🔖এমন কিছু গল্প বা উপন্যাস থাকে,যেগুলো কোথাও যেন একেবারে সরাসরি অনুভূতির দরজায় কড়া নাড়ে, মণিপুরের পটভূমিকায় বুদ্ধদেব গুহ রচিত ''বাবলি'' উপন্যাসটি তারই দৃষ্টান্ত।এই কাহিনী অভি আর বাবলির,এই কাহিনী ভালোবাসার।আর ভালোবাসার প্রকৃত সংজ্ঞা সম্পর্কে এক গভীর প্রশ্ন করেছেন লেখক.....🌼
"ভালোবাসা আসলে কি? কারো জন্য মনখারাপ হওয়া? কাউকে বারবার মনে পড়া? কারো সাথে নিজের রুচির মিল হওয়া? ভালোবাসা কি স্বার্থপরতা? নাকি স্বার্থত্যাগের অপর নাম ভালোবাসা?"...🌻❤️🌿
🔖গল্পের অপর একটি চরিত্র হল ঝুমা, যার প্রবেশের ফলে সম্পূর্ণ কাহিনী তথা অভি ও বাবলির জীবন মোড় নেয় অন্য এক পথে, এক দ্বিধা-দ্বন্দ্বময় পরিবেশ সৃষ্টি হয় তাদের মধ্যে।তবে একটা কথা না বললেই নয়,যে এই গল্প অভি আর বাবলির,ঠিক তেমনি এই গল্প ঝুমারও,তার নিজের কাছে হেরে গিয়েও জেতার গল্প।এক গভীর জীবনদর্শন রয়েছে সমগ্র কাহিনী জুড়ে।
আর সমগ্র উপন্যাস জুড়ে আছে অপরূপ প্রকৃতির বর্ণনা।লেখকের মুন্সিয়ানা ও তাঁর কলমের জাদুতে যেন রূপ পেয়েছে ইম্পল,কোহিম��,ডিমাপুর ডিফু নদী।🌻🌿🌊
যদিও বাবলি চরিত্রটার অতিরিক্ত পসেসিভনেস, একজন উচ্চশিক্ষিত IRS অফিসার হওয়া সত্ত্বেও বাহ্যিক চেহারা নিয়ে অস্তিত্ব সংকট এবং আরও বেশ কিছু মনোভাব বা ধ্যান-ধারণা একটু অস্বাভাবিক লাগে ঠিকই,তবুও ''বাবলি"খুব সুন্দর, সাবলীল এবং মিষ্টি একটি উপন্যাস,যেখানে রয়েছে ভালোবাসা,মান-অভিমান, জীবনবোধ,মিলন ও প্রকৃতির নিসর্গতার এক অদ্ভুত মিশেল।🌧️❤️
🌻"I shall be telling this with a sigh
Somewhere ages and ages hence
Two roads diverged in a wood, and I
I took the one less travelled by,
And that has made all the difference."🌻