দারুণ একটা ফ্যান্টাসি বড় গল্প। আরব্য রজনী, পুরান ঢাকা, জরাথ্রুস্ট সবকিছু মিলেমিশে একাকার। পুরাটাই একটা রোমাঞ্চকর অভিযান। চাইলে গল্পটা উপন্যাসে রূপ দেয়া যেত, তবে এত ছোট পরিসরেও এত দুর্দান্ত গল্প বলতে পারাটাও আর্ট। গল্পটি পাবেন বইঘরে অ্যাপে ইবুক আকারে।
বাস্তব স্বপ্নের কাছাকাছি না-কি স্বপ্ন বাস্তবের কাছাকাছি? কিছু বাস্তব স্বপ্নের মতো লাগে আবার উল্টোটাও হয়। কেমন হয় স্বপ্নে দেখা ঘটনাগুলো যদি হয় নির্জলা সত্য? অসাধারণ এক নগরী জাজিরা। অসাধারণ মানে আসলেই অসাধারণ। পানির উপরে অবস্থিত পুরো নগরী। লোকে বলে জাজিরার অধিবাসীরা অর্থাৎ জাজিরানরা জাদু ক্ষমতার অধিকারী। জাজিরানদের আরেক গোত্রের নাম মালাত। তাদের সাথে কাজ করে মালাতরাও কিছু জাদু শক্তি লাভ করে। তবে ঐযে সৃষ্টির আদিম দোষ, ক্ষমতা পেলে তার অপব্যবহার করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা। মালাতরাও একই কাজ করে। শাস্তিস্বরূপ তাদের এক গুহায় বন্দি করে দেয় জাজিরান প্রধান। যে গুহার দরজা ঘুরছে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে। লোকমুখে শোনা গল্প গুলোকে আমরা মিথ বা গল্প হিসেবেই দেখি। জাজিরা প্রধানের সন্তান সায়রিও জাজিরা আর মালাত নিয়ে গল্প শুনে এসেছে এবং গল্প ভেবেই নিয়েছে। তবে হঠাৎ-ই একদিন আবিষ্কার করে গল্প হলেও তা সত্যি। সত্যের মুখোমুখি হয়ে লড়তে হবে তাকে। সামনের পথ কঠিন। ফারশিদ, স্বপ্ন দেখে কী সব জানি! অবাক হয়ে যায় এমনও হয় স্বপ্ন! স্বপ্নে দেখা ঘটনা সত্য না মিথ্যা জানে না। তবে স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলে গলায় থাকা লকেটের আংটিটা কেমন উত্তাপ ছড়াতে থাকে। বুঝে না সে কী করবে। স্বপ্ন আর সময়ের গোলকধাঁধায় ফারদিশ হাজির হয় পুরান ঢাকার ১৩নং আতিশখানা লেনের বাড়িতে। কী অপেক্ষা করছে সেখানে? সময়ের ব্যবধানে ইতিহাস কি পুনরাবৃত্তি হবে আবারও? পাঠ প্রতিক্রিয়া: ই-বুক হিসেবে ছোটো গল্প পড়তে আমার ইদানিং দারুণ লাগছে। বাইরে থাকলে বা রাতে ঘুম না আসলে চট করেই একটা ছোটোগল্প মোবাইলের পর্দায় পড়ে ফেলতে মন্দ লাগে না। সালমান হককে মূলত অনুবাদক হিসেবেই চিনতাম। লেখকের দুটো মৌলিক পড়েছিলাম। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। গল্প সংকলন বা ছোটোগল্প আগে পড়া হয়নি। ❛১৩ নং আতিশখানা লেন❜ দিয়েই উনার ছোটোগল্প শুরু করলাম। ছোটো গল্পে পাঠ প্রতিক্রিয়া বা রিভিউ বলে কিছু নাই। সব মনের তৈরি ব্যাপার। গল্প শুরু করতে না করতেই ছোটোগল্প যেমন ফুরিয়ে যায় তেমনি পড়ার পর সেটা নিয়ে কিছু বলতে গেলে কী বলতে কী বলে ফেলি সেই চিন্তা ভর করে। ❛১৩ নং আতিশখানা লেন❜ গল্পটা মিথ বা অলৌকিক ধাঁচের। ইতিহাস, মিথ আর একটু রহস্যের সমন্বয় করেছেন লেখক। পড়তে ভালো লেগেছে। জাজিরা নগরী, চরিত্র হিসেবে সায়রি, ফরদিশ, নীলা সবাইকেই ভালো লেগেছে। সমাপ্তিও হয়েছে সুন্দর। গল্পটার