অভীক সরকারের 'কাউরীবুড়ির মন্দির' একটি অতুলনীয় উপন্যাস, যা আমাকে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করেছিল। গল্পের ভয়াবহতা এমনই ছিল যে, একসময় আমাকে দু’দিনের জন্য বইটা নামিয়ে রাখতে হয়েছিল, কারণ প্রতিটি পৃষ্ঠায় আতঙ্ক এমনভাবে চেপে বসেছিল যে গায়ের রোম খাড়া হয়ে গিয়েছিল।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভবতারণ চট্টোপাধ্যায়, একজন শখের আয়ুর্বেদ চিকিৎসক, যিনি দৈবক্রমে হাতে পেয়ে যান একটি প্রাচীন পুথি। সেই পুথিতে লুকিয়ে ছিল এক অমূল্য ভেষজ পুষ্পের খোঁজ, 'গোলকপুষ্প', যা নাকি মানুষের যৌনক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই ফুলের সন্ধানে ভবতারণ পাড়ি জমান উত্তর আসামের গভীর জঙ্গলে, কিন্তু সেখানে পৌঁছেই তিনি জড়িয়ে পড়েন এক প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্রে। রহস্যময় এক প্রাচীন মন্দির, দেওরি উপজাতির হারিয়ে যাওয়া পাতরগোয়্যা গোষ্ঠীর মিথ, আর এক নিষ্পাপ নারীর জীবনকে ঘিরে আবর্তিত হয় কাহিনি।
'কাউরীবুড়ির মন্দির' একটি অসাধারণ উপন্যাস, যেখানে প্রাচীন ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিশে গেছে ত্রিকোণ প্রেমের সূক্ষ্ম কাব্য। দেওরিদের অজানা মিথ ও এক পরিবারের কলঙ্কিত কাহিনির সাথে জড়িয়ে আছে ভালোবাসা, ভয়, লোভ, এবং অসহায়তার আবেগ। জঙ্গলের গভীর রহস্য, অভিশপ্ত মন্দিরের কাহিনি, আর পাতরগোয়্যাদের প্রাচীন মিথের সঙ্গে মিলে তৈরি হয়েছে এক ভয়ঙ্কর, অথচ মন্ত্রমুগ্ধকর পরিবেশ।
এই উপন্যাসটি আমার পড়া অন্যতম সেরা, এবং এটি পড়ার অভিজ্ঞতা আমার হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে। এটি অভীক সরকারের দ্বিতীয় বই যা আমি পড়েছি, প্রথমটি ছিল 'খোঁড়া ভৈরবীর মাঠ'। ‘কাউরীবুড়ির মন্দির’ আমাকে মুগ্ধ করেছে, এটা নিঃসন্দেহে এই মাসের আমার পড়া সেরা বই।
"Kauriburir Mandir" by Avik Sarkar is a poignant exploration of faith, community, and the intricate ties between tradition and modernity. The narrative intricately weaves together personal stories with cultural heritage, reflecting on the significance of the temple in the lives of the characters. Sarkar's vivid imagery and rich character development create an immersive experience, drawing readers into the emotional landscape of the story. The themes of devotion and inner conflict resonate deeply, making it a compelling read. Overall, it’s a thoughtful examination of how spirituality shapes identity and community.
এক কথায় গায়ে কাঁটা দেয়া রোমাঞ্চ বলতে যা বোঝায় অভিক সরকারের লেখা প্রতিটা সাহিত্যকীর্তি তে তা ফুটে ফুটে বের হয়। তার লেখনীর সেই ধারাবাহিকতাটা বজায় রয়েছে এই উপন্যাস এতেও। ভবতারণ,মাধুরী, মংকু, পরাগ, বড়দেউরি, অনির্বাণ, কাকা আরো কতইনা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে লেখক গল্পের পটভূমি রচনা করেছেন। তিনসুকিয়া গ্রামের এক আরাধ্যা যার স্থানীয় নাম কেচাই খাতি তাকে কেন্দ্র করে রয়েছে এই গল্পের নিপুন বুনন। এই দেবী আসলে দশমহাবিদ্যার দেবী ধুমাবতি।লেখক এর কলমের জাদুতে প্রতিটি চরিত্র জীবন্ত ভাবে ধরা দিয়েছে এর বেশি বুঝতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে...