ভারত ও চীনের সীমান্তে বরফ ঘেরা নির্জন এলাকায় একটা কাঠের বাড়ি! খুব গোপন কোনো কাজ হয় সেখানে জাং সেটা জানে। ওই ভিতরের বড় ঘরটাতেই যত রহস্য লুকিয়ে আছে। মাঝে মাঝে কিছু পশুর মৃতদেহ ওকে দেওয়া হত। এই বরফের সমুদ্রেই কোথাও কোথাও সমাধিস্থ হয়েছে সেগুলো। কিন্তু কেন? কি গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে সেখানে? ভারতের চারটি রাজ্যের মিউজিয়াম থেকে হঠাৎ করে চুরি হয় একটা করে অথর্ব বেদের কপি। তদন্তে জানা যায় অ্যান্টিক ভ্যালুর বিচারে সেগুলোর মূল্য আছে, তবে তা সামান্যই! তাহলে কেন এই অদ্ভুত চুরি? কে করছে এসব? কি উদ্দেশ্য তার? নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলছে গভীর ষড়যন্ত্র, বেড়ে উঠছে বিষবৃক্ষ! মহাধ্যক্ষ শাক্যশ্রীভদ্র কি পারবেন ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতে? কি পরিকল্পনা রচিত হয়েছিল সেদিন নালন্দার গহ্বরে? এক গোপন রহস্য বুকে নিয়ে সেদিন লক্ষণ সেন পাড়ি দিয়েছিলেন নদীপথে। ইতিহাস তাঁকে কাপুরুষ বলে। কাপুরুষ আসলে কে? লক্ষণ সেন নাকি বখতিয়ার খিলজি? ঠিক কি ঘটেছিল সেদিন? মালদার হরিশচন্দ্রপুরের রাজবাড়িতে লুকিয়ে আছে এক রক্তাক্ত ইতিহাস! ফ্যামিলিসাইডের ইতিহাস! আছে অভিশাপ! কিন্তু কেন? আপনজনের রক্তের পিয়াসী কেন হয় আপনজন? মারণভাইরাসের প্রোকোপে প্যান্ডেমিকের দরুণ চাকরি হারায় অভিনব আর বৈদিক। ঘটনাচক্রে অভিনবর কাছে এসে পড়ে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া মালদার রাজবাড়ি ও সম্পত্তি। কি ভবিতব্য লুকিয়ে আছে তাদের জন্য ওই তিনশো বছরের পুরোনো রাজবাড়িতে? ইতিহাস, পুরাণ, প্রেম, বন্ধুত্ব, ষড়যন্ত্র, বহু প্রাচীন এক গোপন রহস্য, যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিশ্বাসঘাতকতা, অভিশাপ, ফ্যামিলিসাইড, কিছু ধাঁধার গোলকধাঁধা আর... আর তিনটে অল্প বয়সী ছেলে-মেয়ের অভিযান এই "বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্"!
🍁🍂 এই উপন্যাসে দুটো সময় কাল কে তুলে ধরা হয়েছে, একটা বর্তমান সময় আর অপর টা ১১৯৩ র নালন্দা। রহস্য , অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিলার সব নিয়ে সমান ভাবে এগিয়ে চলা এই উপন্যাস এ অজানা গুপ্তধন সংক্রান্ত রহস্য,অতীতে ঘটে যাওয়া একাধিক পারিবারিক হত্যা , রাজ পরিবারে যুগ যুগ ধরে চলে আসা অজানা অভিশাপ সবই বর্তমান। কি গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে নালন্দায়? তিনটে অল্প বয়সী ছেলে-মেয়ের অভিযান অভি , বৈদিক , শ্রীপর্ণা। বৈদিক অভিনবর সাথে একই অফিসে কাজ করে । শ্রীপর্ণা ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছে । হটাৎই লকডাউনের কারনে অভিনব ও বৈদিকের চাকরি চলে যায় , ফলে অভিনব মানসিক ভাবে বেশ ভেঙে পরে । ঠিক সেই সময় হঠাৎই মালদা জেলার বিহারের একটি রাজবাড়ির বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে যায় দাদুর সূত্রে । একাধিক জটিল ধাঁধার হেঁয়ালি এসছে কাহিনির বিভিন্ন অংশে । অন্যদিকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলছে গভীর ষড়যন্ত্র, বেড়ে উঠছে বিষবৃক্ষ! মহাধ্যক্ষ শাক্যশ্রীভদ্র কি পারবেন ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতে? কি পরিকল্পনা রচিত হয়েছিল সেদিন নালন্দার গহ্বরে? এদিকে ভারতের চারটি রাজ্যের মিউজিয়াম থেকে হঠাৎ চুরি যায় অথর্ব বেদের কপি। অ্যান্টিক ভ্যালুর বিচারে সেগুলোর মূল্য থাকলেও তা সামান্যই ! তাহলে কেন এই অদ্ভুত চুরি? কে করছে এসব? উপন্যাসটি পড়ার সময় কোথাও একটুও বোর করেনি একইভাবে দুটি সময় কাল সমানভাবে এগিয়ে চলেছে উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় পাতায়! কেনই বা ভারতের মিউজিয়াম থেকে বেদের কপি চুরি হচ্ছে ? প্রাচীন কালের সেই নালন্দার গুপ্তধনের সাথে এর কি কোন যোগ আছে? অভি , বৈদিক , শ্রীপর্ণা যে অভিযানে নেমেছে পারবে কি পৌঁছাতে সেই লক্ষ্যের দিকে?জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে উপন্যাস টি!!🍂🍁
কাহিনীর শুরুতে আমরা দেখতে পাই ভারত চীন সীমান্তে বরফ ঘেরা নির্জন এলাকায় একটি কাঠের বাড়ি। সেখানে বিভিন্ন জায়গায় বরফের নিচে বেশ কিছু পশুর মৃতদেহ সমাধি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেন? কি এমন গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে ওই কাঠের বাড়িতে?
আমরা সকলেই জানি বেদ চার প্রকার - ঋক, সাম, যজু এবং অথর্ব। ঋকবেদ স্তুতি গানের সংকলন, যজুর্বেদ যজ্ঞ পূজার মন্ত্র, সামবেদ সঙ্গীত ও মন্ত্রের বেদ, আর অথর্ববেদে রয়েছে জাদু বশীকরণ এর মন্ত্র। কিন্তু এরপরও কি আর কোন বেদ আছে? লোকমুখে শোনা যায় ঋষি অঙ্গীরা এবং ঋষি অথর্ব মিলে একই সঙ্গে অথর্ববেদ লিখেছিলেন, পরে অথর্ববেদ দুটি ভাগ হয় - একটি অথর্ববেদ আর একটি অঙ্গিরাবেদ। এই পঞ্চম বেদ অর্থাৎ অঙ্গিরা বেদের কী কোন অস্তিত্ব আছে? অঙ্গিরা বেদে কি লেখা আছে?
কয়েকদিনের মধ্যে পরপর মধ্যপ্রদেশ, বিহার, পুণে ও কলকাতার আর্কিয়োলজিক্যাল মিউজিয়াম থেকে অথর্ব বেদের পুঁথি চুরি হয়। এর পেছনে কি রহস্য রয়েছে?
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিক্রমশীভদ্র ও তাঁর অনুচরেরা গ্রন্থাগারের বিভিন্ন দর্শন ও তন্ত্রমন্ত্রের পুঁথির পাতা অনুলিপি করে ছড়িয়ে দিচ্ছেলেন জগদ্দল, ওদন্তপুরী তক্ষশীলা সহ বিভিন্ন মঠে। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাহুলশ্রীভদ্র ও মহাধ্যক্ষ শাক্যশ্রীভদ্র কি পেরেছিলেন এই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিরোধ করতে? তাঁরা কি পেরেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামূল্যবান পুঁথিগুলিকে রক্ষা করতে? এক গোপন রহস্য বুকে নিয়ে রাজা লক্ষণ সেন পাড়ি দিয়েছিলেন নদীপথে। ইতিহাস তাঁকে কাপুরুষ বলে। কাপুরুষ আসলে কে? লক্ষণ সেন নাকি বখতিয়ার খিলজি? ঠিক কি ঘটেছিল সেদিন?
অভিনব রায়চৌধুরী, বৈদিক, শ্রীপর্ণা সেনগুপ্ত তিন বন্ধু। কোভিডের সময় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার অভিনব চাকরি খুঁইয়ে মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত। সেই সময় একদিন অ্যাডভোকেট চয়ন বিশ্বাস অভিনব এর কাছে এসে জানায় তার প্রপিতামহ অদ্বৈত রায়চৌধুরীর উইল করা সম্পত্তি ও মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর রাজবাড়ীর কথা, যার উত্তরাধিকার অভিনব। সাথে ধাঁধা পূর্ণ চিঠি, যাতে রয়েছে এক মহামূল্যবান সম্পদের হদিস। কি সেই মহামূল্যবান সম্পদ? তিন বন্ধু মিলে যায় সেই রাজবাড়ীতে। রাজবাড়ীর আশেপাশের লোকেরা সে রাজবাড়ীটিকে অভিশপ্ত রাজবাড়ী বলে থাকে। কিন্তু কেন? সেখানে গিয়ে তারা এক বিচিত্র রহস্যের মুখোমুখি হয়। দাদু অদ্বৈত রায়চৌধুরীর লেখা হেঁয়ালির সমাধান কি করতে পারবে অভিনব, বৈদিক আর শ্রীপর্ণা?
লেখিকা অমৃতা কোনার একটি প্রাচীন রাজপরিবারের অতীত থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত ধারাবাহিক ইতিহাসের গল্প একাধিক রহস্যের ঘটনার মোড়কে তুলে ধরেছেন। ১১৯৩ সাল থেকে ২০২০ সাল অবধি কয়েকটি সমান্তরাল সময়ের কাহিনী এগিয়ে এসে একসাথে মিলে গেছে, প্রতিটি ঘটনা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। একাধিক জটিল ধাঁধার হেঁয়ালি রয়েছে এই কাহিনির বিভিন্ন অংশে। অতীতে ঘটে যাওয়া একাধিক পারিবারিক হত্যা রহস্য এবং রাজপরিবারের অজানা অভিশাপের বিষয়গুলো লেখিকা খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত করেছেন। ইতিহাস, পুরাণ, ষড়যন্ত্র, ফ্যামিলিসাইড, বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসঘাতকতায় মোড়া এই এই রহস্য উপন্যাসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রয়েছে টানটান উত্তেজনা। ইতিহাসের অবান্তর বাহুল্যতাকে সরিয়ে রেখে অত্যন্ত সুনিপুণ ভাবে এই ঐতিহাসিক রহস্য উপন্যাসটি লেখার জন্য লেখিকার মুন্সিয়ানাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।