ফ্ল্যাপে লিখা কথা কানন বালা দেবীর বিখ্যাত গান- ‘যদি ভালো না লাগে তো দিও না মন।' মানব প্রজাতির একটি সমস্যা হলো, ভালো না লাগলেও তারা মন দিয়ে বসে থাকে। এ রকম একটি সমস্যা নিয়ে উপন্যাস লিখতে বসে লিখে ফেললাম, ‘দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই।' এই প্রেমের উপন্যাস নাকি অপ্রেমের বুঝতে পারছি না। লেখকরা সব সময় বুঝসুঝে লিখেন তা কিন্তু না।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
উপন্যাসের ষোড়শী নায়িকা লিপি তার বাবার বন্ধু ৫৫ বছর বয়সী আহসান সাহেবকে seduce বা সোজা বাংলায় পটাতে চায়।পটিয়ে ছাড়বেই সে।বাংলা সিনেমা হলে এর নাম হবে "ভালোবাসা দিবি কি না বল।" সেই সিনেমায় "রূপে আমার আগুন জ্বলে" ধরনের একটা গানও থাকবে।নায়িকা লিপি একইসাথে রূপবতী,গুণবতী,অঘটনঘটন পটিয়সী,চতুর,লাস্যময়ী ইত্যাদি ইত্যাদি। বৃদ্ধ নায়ক ফাঁদে না পড়ে যাবে কোথায়?নাবালিকা সুন্দরীর মদির চোখের চাহনিতে ঘায়েল হবেই সে।উর্বশী মেনকাও যার রূপের কাছে হার মেনে যায়,তার আহবান উপেক্ষা করে বর্ষীয়ান নায়কের কম্পমান চিত্ত(এবং দেহ) আর কতক্ষণ দূরে থাকবে?!! ও আচ্ছা,এই উপন্যাসে আবার হুমায়ূন আহমেদ-শাওন নাম্নী এক লেখক দম্পতিও আছে। ফলাফল?
একটি রেঁস্তোরার আলু ভর্তার অনেক নাম। আশেপাশের এলাকার প্রায় সবাইই মাঝেমধ্যে যায় সেখানে আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেতে। একদিন হলো কি বিখ্যাত সেই আলুভর্তার মধ্যে বাবুর্চি আলুর বদলে কাদামাটি দিয়ে দিলেন। বাবুর্চিকে জিজ্ঞাসা করাতে তিনি দেব দা'র মতো উত্তর দিলেন, এমনি! হুমায়ুন আহমেদেকেও এই বইটা লেখার কারণ জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিতেন, এমনি!
দশম শ্রেণির ছাত্রী লিপি। সায়েন্সে পড়ে (আরেক জায়গায় বলা হয়েছে আর্টসে পড়ে)। লিপির ইচ্ছা হলো ছুটির সময়ে একটি উপন্যাস লিখবে সে। নামও ঠিক করা হয়ে গিয়েছে। তবে উপন্যাসের শুরু করা নিয়ে দ্বিধায় ভুগছে সে। শুরুটা আকর্ষণীয় হলে পাঠক আগ্রহ নিয়ে পুরোটা পড়বে। তাই পরামর্শের জন্য বাড়িওয়ালা এবং তার বাবার বস ও বন্ধু আহসান সাহেবের কাছে যায়। বান্ধবী প্রতিমা তাকে বলে শুরুতেই নারী পুরুষের যৌন মিলনের দৃশ্য উপস্থাপন করলে অনেক বেশি কাটতি হবে এবং প্রতিমা তেমন একটা অনুচ্ছেদ লিখেও দেয়। সেই লেখাটা আহসান সাহেবকে দেখালে তিনি বলেন লিপি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তিনি লিপিকে একজন মনোবিজ্ঞানীর কাছে নিয়ে যান। লিপি তখন বলে যে লেখাটা তার নিজের না; বান্ধবী প্রতিমার।
পঞ্চাশোর্ধ আহসান সাহেবকে পছন্দ করে লিপি। সে আহসান সাহেবকে বিয়ের স্বপ্ন দেখে। আহসান সাহেবের প্রতি শারীরিকভাবেও আকর্ষিত হয় লিপি এবং সে চায় আহসান সাহেব লিপির শরীরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করুক। কিন্তু লিপিকে হতাশ হতে হয়। লিপির বড় মামা কিছুদিনের জন্য তাদের বাসায় থাকতে আসে। বড় মামার সাথে লিপির মায়ের সম্পত্তি সম্পর্কিত ঝামেলা থাকায় লিপির বাবা সেটা সুরাহা করতে চান। এদিকে বড় মামা লিপি ও আহসান সাহেবের অবাধ মেলামেশাকে ভালো চোখে দেখেন না। যা লিপির মাঝে বড় মামার প্রতি ক্রোধ সৃষ্টি করে। সে বড় মামাকে ভয় দেখানোর ব্যবস্থা করে। কাজের মেয়ে সকিনার সাথে রাতের বেলা বড় মামাকে আবিষ্কার করে লিপি। এই ঘটনা ফাঁস করে দিলে বাড়িতে হুলস্থুল কাণ্ড শুরু হয়।
বইটির কাহিনি অনেকটা এপর্যন্তই। ফিকশন শব্দটার নামের মধ্যেই কল্পনার উপস্থিতি রয়েছে। তবে ফিকশন তার থেকেও বড় কিছু। বাস্তবতা বিবর্জিত মোটেই নয়। একটি পনেরো বছরের মেয়ের চিন্তাভাবনা কি এমন হতে পারে? অনিয়ন্ত্রিত যৌনতা, ব্ল্যাকমেইল করে পিতার বয়সী একজনকে বিয়ে করা, রক্ষিতা হতে চাওয়ার বাসনা কখনোই সুস্থ চিন্তাধারার হতে পারে না। উপন্যাসটিতে হুমায়ূন-শাওন দম্পতিকেও দেখা যায়। তাহলে কি হুমায়ূন আহমদের ব্যক্তি জীবনের প্রতিফলন করতে চেয়েছিলেন উপন্যাসটিতে? নাকি শুধুই ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এমন বস্তাপচা গল্পের অবতারণা! উপন্যাসের এক পর্যায়ে দেখা যায়, বলা হচ্ছে ডাস্টবিন একজন লেখকের ভালো বন্ধু। তো হুমায়ূন আহমেদ তাঁর এই উপন্যাসের জন্যেও এই উক্তির প্রয়োগ করতে পারতেন। এক সময়ে মনে হয়েছে বইটি হুমায়ূন আহমেদের লেখা হতে পারে না। অন্তত হুমায়ূন আহমেদের শব্দচয়ন ও কাহিনি বিন্যাস এত খোলাখুলি আমি কখনো পড়িনি। হ্যাপি রিডিং।
আমার অনেক দিনের ইচ্ছা, হুমায়ূন আহমেদের লেখায় অসংগতি খুঁজে বের করব। শ'খানেক বই পড়ার পর মনে হলো হাল ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। আমার এই ইচ্ছা পূরণের কোনো সুযোগ তিনি রেখে যাননি। হাল ছেড়ে দেওয়া এক নাবিকের জাহাজে আজ এক দাঁড়কাক এসে দাঁড়িয়েছে। সে বলল, "সিতাপ ভাই, আজ তোমার ইচ্ছাপূরণের দিন।" সত্যি-ই কি বলল? না-কি আমার হ্যালোসিনেশন হচ্ছে? হয়তো কাকটা 'কা কা' করছে, আমি শুনছি অন্যকিছু। যত যা-ই হোক, কাক কি মানুষের মতো করে কথা বলতে জানে না-কি? ৬৩ নং পৃষ্ঠায় এসে আমি বিস্মিত হয়েছি। চলন্ত জাহাজের স্টিয়ারিং ছেড়ে দৌড়ে ছুটে গিয়েছি ছাদে। কাকটা নেই। হুমায়ূন আহমেদও নেই। তিনি বেঁচে থাকলে আজ সমুদ্র ছেড়ে সড়ক পথ ধরে পাড়ি জমাতাম 'নুহাশ পল্লী' কিংবা ধানমন্ডির ১৮শ' স্কয়ার ফিটের এক ফ্ল্যাট বাড়িতে। গিয়ে বুক ফুলিয়ে বলতাম, "স্যার, আমি আপনার একজন অতি ক্ষুদ্র পাঠক। ছোট মুখে বড় কথা হয়ে যাবে যদিও, তবু সত্য এই যে, আমি আপনার 'দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই' উপন্যাসটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি খুঁজে পেয়েছি। আপনি উপন্যাসের প্রথম পৃষ্ঠায় লিখলেন 'আমার নাম লিপি। আমি ক্লাস টেনে পড়ি। সায়েন্স গ্রুপ।' অথচ, ৬৩ নং পৃষ্ঠায় আহসান সাহেব যখন জিজ্ঞেস করলেন, লিপি মাইক্রোওয়েব সম্পর্কে জানতে চায় কি-না তখন লিপি উত্তর দিলো, 'না, চাই না। আমি আর্টস-এর ছাত্রী, শুধু শুধু সায়েন্সে যাব না। কম জানা যেমন খারাপ, বেশি জানাও খারাপ।' স্যার আপনি-ই বলুন, এটা কি বিশাল একটি অসংগতি নয়?" আমার কথা শুনে হুমায়ূন আহমেদের প্রতিক্রিয়া কেমন হতো? আমি কল্পনা করতে পারছি না। কেউ জানলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন।
হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকাকালীন সময়ে আমি বেশ কয়েকবার তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের পিওন মুস্তফা আমাকে প্রতিবার নিরাশ করেছে। যখনই ফোন দিতাম, সে কর্কশ গলায় বলত, "স্যার এখন রেস্টে আছেন।" আমি আর কিছু বলার আগেই সে ফোন রেখে দিত। একদিন দুপুরবেলা মুস্তফাকে জব্দ করার জন্য একটা শক্তপোক্ত ফন্দি আঁটলাম। দুপুরের খাওয়ার পরে ফোন করেছি। যথারীতি মুস্তফা ফোন তুলল। আমি বললাম, "হ্যালো, আমি সিআইডি ঢাকা ব্যুরো থেকে এসপি সিতাপ বলছি। হুমায়ূন আহমেদ আছেন? তার সাথে বিশেষ দরকার।" সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, "জ্বি স্যার, আছেন। অক্ষণই ডাইক্যা দিতাছি। আপনে একটু অপেক্ষা করেন।" ব্যাটা ভেজা বেড়ালের মতো কথা বলছে। আমি মনে-মনে অদ্ভুত এক তৃপ্তি অনুভব করলাম। কিন্তু আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হলো না। একটু পরে আবারও মুস্তফার পুরনো কর্কশ কণ্ঠ শুনতে পেলাম, "স্যার রেস্টে আছেন।" আমি হুড়মুড় করে বললাম, "আমি সিআইডি ঢাকা ব্যুরোর এসপি সিতাপ, এই কথা জানিয়েছো?" সে কঠিনভাবে বলল, "জ্বি, কইছি।" "তিনি কী বললেন?" "স্যারে কইছে, উনি সিআইডির কেঁথা পুড়েন।" ফোনটা কেটে গেলো। আমার হুমায়ূন আহমেদের সাথে কোনোদিন দেখা করা হলো না, কথা বলা হলো না। আজও হবে না। কিন্তু অসংগতির ব্যাপারটা তাকে জানানো বিশেষ প্রয়োজন। আচ্ছা, আমি এখন ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করলে কেমন হয়? মৃত্যুর পরে নিশ্চয়ই তার সাথে দেখা করার আরেকটা সুযোগ-দ্বার আমার জন্য খুলে দেওয়া হবে? তিনি অসংগতির ব্যাপারটা মেনে নিয়ে সম্পাদনার জন্য পৃথিবীতে একটা মেইল পাঠাবেন। কাকলী প্রকাশনীর নাছির আহমেদ সেলিমের কাছে। যদিও এখন 'দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই' বইটার সত্ত্ব মেহের আফরোজ শাওনের নামে৷ তবু খোদ হুমায়ূন আহমেদের মেইল নিশ্চয়ই তারা অগ্রাহ্য করবেন না!
📙 বই : দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই লেখক : হুমায়ূন আহমেদ ধরন : সমকালীন উপন্যাস প্রকাশনী : কাকলী প্রচ্ছদ মূল্য : ২০০৳
লিখতে লিখতে কোথায় থামতে হয় তা বড়ো লেখকদের অজানা নয়। কিন্তু একসময় লেখার নেশা তাদের পেয়ে বসে। হয়তো বই ভালো বিকোয় বলে টাকা-পয়সার প্রতি বড্ড বেশি ভক্তি-শ্রদ্ধা চলে আসে। নির্ভরতা তৈরি হয় অর্থ-সম্পদের প্রতি। তখন ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লেখকের পক্ষে লেখালিখি থামানো, নিদেনপক্ষে বিরতি নেওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। বোধকরি, শেষের পাঁচ-সাত বছরে হুমায়ূন আহমেদ সেই সময়কাল অতিক্রম করছিলেন। 'দেয়াল' বাদে মৃত্যুর আগে পাঁচ-সাত বছর যা লিখেছেন তার বেশির ভাগ লেখা পাতে দেওয়া যায় না। স্রেফ টাকার জন্য লিখেছেন বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। তখনকার জমানার একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস ' দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝেমাঝে তব দেখা পাই'। উপন্যাসটি প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল 'সমকাল ঈদসংখ্যায়'। পরে গ্রন্থাকারে ছাপা হয়।
পিতার বয়স্ক বন্ধুর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অল্পবয়স্ক এক কিশোরী। সেই সম্পর্ক পরবর্তীতে বিয়েতে গড়ায় - এমন একটি অসম প্রেমেরকাহিনি নিয়েই এই উপন্যাস। প্রেমের সমান-অসমান তত্ত্বে আমি আস্থাশীল নই। কিন্তু, ব্যতিক্রমী কোনো ঘটনাকে সব সময় সাবধানে উপস্থাপন করতে হয়। নতুবা পৌঁছে যায় ভুল বার্তা, নষ্ট হয় শিল্পবোধ। হুমায়ূন আহমেদ এই উপন্যাসের ন্যূনতম শিল্পরুচির পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরন্তু, উপন্যাসের কাহিনিবিন্যাস নিয়ে অসতর্ক ও খামখেয়ালি মনোভাবের কারণে পুরো উপন্যাসটি একেবারে অপাঠ্য লেখায় পরিণত হয়েছে।
অসম ভালোবাসার কাহিনি কীভাবে লিখতে হয় তার অনুপম দৃষ্টান্ত সুচিত্রা ভট্টাচার্যের 'নীলঘূর্ণি'। কী মমতা দিয়ে শব্দ বুনেছেন তা পড়লে বোঝা যায়। প্রতিতুলনায় হুমায়ূন আহমেদের দাঁড়কাক হয়ে গেছে দেশি বায়স!
বুঝতেছি না !! বয়স হচ্ছে বলে নাকি অন্য কোন কারণ আছে! একেবারেই ফালতু লাগছে । হুমায়ূন আহমেদের প্রায় সব বই পড়া শেষ । এখন খুঁজে খুঁজে বের করতেছি, কোনটা পড়া হয় নাই । বেশ কয়েক বছর আগের কথা, হয়তো কলেজে পড়ি বা ভার্সিটি প্রথম বর্ষে । সন্ধ্যায় লোকাল বাসে আসছি । এক ভদ্রলোক বাসের সেই ম্যাড়ম্যাড়ে আলোতে একনিষ্ঠ মনোযোগে বইটা পড়ছিলেন । নামটা খুবই অদ্ভুত, "দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই" । মনে ছিল, পড়া হল এতদিন বাদে ।
তাঁর অনেক গল্পের মত মূল চরিত্র একটি অল্প বয়সী মেয়ে !! এবং খুব স্বাভাবিক ভাবেই সে এক বুড়ো লোকের প্রেমে পড়েছে । কাহিনী এই, শেষ । বাসের সেই ভদ্রলোকের মতামত জানতে খুব ইচ্ছা করছে ।
একই মানুষ অচিনপুর,ফেরা,মধ্যাহ্ন লেখেন,আবার সেই মানুষ ই ছায়াবিথী,কাক-চিল মার্কা হাবিজাবি লেখেন।এসব কি মুড সুইং এর ফলাফল না কি বুঝি না।এবছরের সবচেয়ে পঁচা বইটা পড়ে ফেললাম।মাঝেমাঝে কষ্ট পেতাম যে কেনো আমার গ্রামে প্রচুর গল্পের বই কেনার মতো দোকান আমি পাইনি,কিন্তু এখন মনেহয় ঠিকই আছে।
এই বই পড়ে কল্পনা করলাম ১৫ বছর বয়সী আমি এইসব এডাল্ট কথাবার্তা পড়তেছি এবং লেখককে ভগবান ভেবে এই কথাবার্তা কেও দৈব বানী ধরে নিচ্ছি,কি মারাত্মক বিপদের হাত থেকেই না বেঁচে গেছি।বইয়ে উনি বলেছেন যে 'লেখকের বড়ো বন্ধু হলো ডাস্টবিন,অপছন্দের লেখা ডাস্টবিনে ফেলতে পারা ভালো গুন' অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি,এই উপন্যাস লেখার সময় উনি ওনার পরম বন্ধুর সাহায্য নিলেই বোধহয় ভালো করতেন। ১০ ফেব্রুয়ারী,২০২৩
এই বইগুলোই লেখক হুমায়ূন আহমেদকে “বাজারি লেখক” তকমা দিয়েছে। প্রথম ১০ পৃষ্ঠা হাসি-ঠাট্টায় এগোলো। তারপর রিপিট, রিপিট, রিপিট। গল্পের কোনো অগ্রগতি নেই। তারপর সমাপ্তি! এসব ছাইপাশ লিখে দুই মলাটে ঢুকিয়ে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা সম্মানী পেয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। কপাল বলতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান লেখক তিনি। . অন্য লেখকদের বইকে কাটাছেঁড়া করা বিদগ্ধ পাঠকরা এই বইকে ৩ থেকে ৪ স্টার বা তার বেশিও দিয়েছেন দেখছি! অদ্ভুত! বইয়ের কভারে যদি “হুমায়ূন আহমেদ” নামটা না থাকতো তখন তারা ১ বা ২ স্টার দিতেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। . এই দুনিয়ায় "Fair" বলতে কিছু নেই। আবারো প্রমাণিত।
পুরো উপন্যাস জুড়ে আমার খুব মনে হয়েছে লেখক উনার আর শাওনের কাহিনিকে দাঁড়কাকের সংসারে প্রচ্ছন্ন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।এটা আমার মনে হওয়া।এলিগেশন লাগাচ্ছি না। পড়তে ভালো লেগেছে তবে সব বয়সীদের জন্য না।
অতি নিম্নমানের বই। লেখক হয়তো এক্সপেরিমেন্ট করতে চেয়েছিলেন এই বই প্রকাশের পর পাঠকদের মনোভাব নিয়ে। এরকম কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং বই লেখার পেছনে এছাড়া আর কোনো যুক্তি দেখতে পাচ্ছি না।
ভালোবাসা আর ঘৃণা আসলে একই জিনিস। একটি মুদ্রার এক পিঠে ভালোবাসা আরেক পিঠে লেখা ঘৃণা।
প্রেমিক প্রেমিকার সামনে এই মুদ্রা মেঝেতে ঘুরতে থাকে। যাদের প্রেম যগ গভীর তাদের মুদ্রার ঘূর্ণন তত বেশি।
এক সময় ঘূর্ণন থেমে যায় মুদ্রা ধপ করে পড়ে যায়। তখন কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় "ভালোবাসা" লেখা পিঠটা বের হয়েছে। করো করো ক্ষেত্রে "ঘৃণা" বের হয়েছে।
কাজেই এই মুদ্রাটি যেন সব সময় ঘরতে থাকে সেই ��্যবস্থা করতে হবে।
সেই চির চেনা হুমায়ুন আহমেদ, যার লেখা প্রতিটা লাইন ভালো লাগে। কাহিনী খুব দারুণ কিছু না হলেও, গল্প বলে যাওয়ার ঢঙ্গ সবসময়ের মতোই আঁকড়ে ধরে রাখে প্রতিটা লাইনে।
অনেকদিন বাদে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের একটা বই পড়লাম। কিন্তু পড়ার পর মনে হচ্ছে এটা না পড়লেও হতো! কিছু একটা লিখে প্রকাশ করা হয়েছে আরকি। It's not my kinda book actually. আমাকে কেউ কখনো যদি জিজ্ঞেস করে যে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের কোন বইটা আমার মতে না পড়লেও চলবে। আমি নির্দ্বিধায় এই বইটার নাম ম্যানশন করে দিবো।
দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই হুমায়ূন আহমেদের এলিট উপন্যাসদের মধ্যে পরে না বলাই বাহুল্য। তবু আমার হুমায়ূন আহমেদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ থাকার ফলে এই উপন্যাসটি আমি প্রবল আনন্দ নিয়েই পড়েছি। লিপি নামের দুষ্টু বালিকার আপত্তিকর কথা বার্তায়ও হেসে কুটি কুটি হয়েছি।
I looked for this book for 2 years and when I finally found it, I didn't wait any minute to start it. Normally I don't read Bangla books, but Humayun aHMED IS AN EXCEPTION. iT WAS SWEET, CUTE AND FUNNY :) :)
It felt very light, but there's a whole lot going on in the background. What's the deal with all the self-reference in this book? Felt weird by the end.
এটা আরো একটা ওয়ান টাইম - পড়া শেষ হয়ে গেলে মনেও থাকবে না এবং আর কখনো ছুয়েও দেখবো না গোত্রের বই। তা এমন বই ভদ্রলোক প্রচুর লিখেছেন।
তাও কয়েক টা ব্যাপার টুকে রাখতে মন চাইলো :
১/ জবা ৫ টি দেশের জাতীয় ফুল (জেনে ভালো লেগেছে। ভাবতাম, সহজ লভ্য আর সুঘ্রাণ নেই বলে জবার খুব একটা দাম দেয় না লোকে ) ২/ এই বইখানা শাওন কে বিয়ে করবার পরের লেখাগুলোর একটা। গল্পে তার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কোনো প্রভাব আছে কি !? ( অসম বয়েসী প্রেম, ভালবাসা আর ঘৃণার প্রায় সহাবস্থান... এই সব হেন তেন পড়ে মনে হলো আর কি !) ৩/ গল্পের এক জায়গায় লেখক লেখিকাদের অদরকারী আজেবাজে লেখা ফেলে দেবার অভ্যাস তৈরী করবার ব্যাপারে উপদেশ দেওয়া আছে। ( হুমায়ূন আহমেদ নিজে কি এইসব মানতেন :) ... )
"দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই" বইয়ের মাধ্যমে লেখক নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরেছেন মনে হয়েছে। হুমায়ুন আহমেদ এর সাধারণ গল্পও পড়তে অসাধারণ লাগে কিন্তু এই বইটার ক্ষেত্রে আমি বেশ বিরক্ত বোধ করেছি। বিরক্ত বোধ করার কারণ পরে আলোচনা করবো তার আগে গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ বলে নেই।
লিপি নামের একটি মেয়ের দুষ্টু মিষ্টি কর্মকান্ড নিয়ে মূলত গল্পটা এগিয়েছে। লিপি দশম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলের ছুটি চলাকালীন সে একটি উপন্যাস লিখতে চায়, যার জন্য সে তার বাবার বন্ধু আহসান সাহেবের সাথে উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করে। উপন্যাসের নামও সে ঠিক করেছে কিন্তু গল্প কিভাবে শুরু করবে তা বুঝতে পারছে না। আহসান সাহেব বলেছেন গল্পের শুরুটা আকর্ষনীয় হলে পাঠক উপন্যাস শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখবে । এইজন্য লিপি তার বান্ধবী প্রতিমাকে বলেছে তার উপন্যাস লেখার কথা, লিপি চায় গল্পের শুরুটা প্রতিমা লিখে দিক। লিপির ধারণা প্রতিমা অনেক কিছু জানে অনেক ইন্টারেস্টিং কথা বর্তা জানে ( যার সবই নোংরা এবং ১৮+ কথা বার্তা)। লিপি এবং তার উপন্যাসের সাথে আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে লিপি তার মামার সাথে নানা রকম কর্মকান্ড করে যার বেশি ভাগই মজার। লিপি তার মামাকে একদম পছন্দ করে না যার ফলে প্রায়ই লিপি তার মামাকে নানা রকম ভাবে ভয় দেখায়। বইয়ের এই অংশ টুকু আমার বেশ মজা লেগেছে।
লিপির পরিবার তার বাবার বন্ধু বাসায় থাকে। লিপির বাবা আহসান সাহেবের অফিসে চাকরি করে, সেই সুবাদে লিপিদের আহসান সাহেব তার বাড়িতে থাকতে দিয়েছেন। একই বাড়িতে থাকার সুবাদে লিপির সাথে আহসান সাহেবের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু লিপি আহসান সাহেবকে শুধু নিজের বন্ধুই ভাবে না বরং তাকে বিয়ে করতে চায়! কি অদ্ভুত কথা তাই না? আমার কাছে শুধু অদ্ভুতই না ভীষণ বিরক্ত লেগেছে বিষয়টা। বাবার বন্ধুকে বিয়ে করে চাইবে কেন একটা মেয়ে? বাবার বয়সী একজনকে বিয়ে করতে চাওয়া কতটা যুক্তিগত আমি বুঝে পাই নি। বাবার বন্ধুকে বিয়ে করতে হবে কেন?এটা কেমন শখ? লিপির আহসান সাহেবকে বিয়ে করার কথাটার জন্যই এই উপন্যাসটা আমার কাছে বেশ বিরক্তিকর লেগেছে। মনে হয়েছে হুমায়ুন আহমেদ নিজের জীবনের একটা অংশ পাঠক সমাজের কাছে সহজ করে তুলতে চেয়েছেন।
হুমায়ুন আহমে��� তার এই বইটিতে শাওন এবং তার কথাও লিখেছেন, লিপিকে তিনি তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেছেন গল্পের মধ্যে। হুমায়ুন আহমেদ যেমন শাওনের বাবর বয়সী তেমনই আহসান সাহেবও লিপির বাবার বয়সী এই একটা জায়গায় হুমায়ুন আহমেদ এর সাথে গল্পের মিল রয়েছে যা আমার কাছে বেশ বিরক্তিকর লেগেছে।
"দাঁড়কাকের সংসার এবং মাঝে মাঝে তব দেখা পাই" বইটি রম্য জাতীয় বই বললে ভুল হবে না। ইন্টারেস্টিং প্লটে লেখা বইটি পাঠককে হাসিতে মাতিয়ে রাখবে। লিপির কর্ম কান্ড এবং মামার সাথে ঘটা ঘটনা গুলো বেশ মজার ছিলো । আবার অনেকের কাছে বাবার বসয়ী একজনকে বিয়ে করার শখের কারণে বইটি বিরক্ত লাগতে পারে,যেমন আমার লেগেছে। বইটিতে অনেক ১৮+ শব্দ লেখক ব্যবহার করেছেন যা না করলেও হয়তে চলতো । এই বইটি সব শ্রেণির পাঠকের জন্য নয়। সদ্য কৈশোরে পা রাখা বাচ্চাদের এই বইটা না পড়ার পরামর্শ দিবো আমি। লিপি এবং আহসান সাহেবের প্রেমের অংশ টুকু বাদ দিলে বইটি মন্দ নয়।
বই : দাঁড় কাকের সংসার এবং মাঝে মাঝে তব দেখা পাই লেখক : হুমায়ুন আহমেদ প্রকাশনী : কাকলী মুদ্রিত মূল্য : ২০০ রেটিং : ২.৫/৫
লিপি, দশম শ্রেণীতে পড়ে। সে তাদের বাসার বাড়িওয়ালা আহসান সাহেব (বয়সঃ ৫৫) এর প্রেমে পড়েছে। আহসান সাহেব যাতে তাকে নোটিশ করে তাই সে উদ্ভট কাজ কর্ম করে। মেয়েটা অনেকটা পাগল এর মতো। একবার সে ঠিক করলো উপন্যাস লিখবে। সেই উপন্যাসে সে কি লিখবে তাই নিয়ে অনেক কিছু লেখা আছে। পুরো গল্পটিই অনেক ছোট। মাঝে লিপির বড় মামা এসে লিপিদের বাসায় থাকে। বড় মামা লিপির মায়ের সম্পত্তি নিজের নামে করে ফেলার ধান্দায় আছে, এই ব্যাপারে একদম নিশ্চিত লিপির বাবা। পরে দেখা গেলো লিপির বড় মামার সাথে তাদের বাসার কাজের মেয়ে সখিনার সম্পর্ক রয়েছে। এইরকম আজগুবি গল্প দিয়ে ছোট এই গল্পটি লেখা হয়েছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
"তিনি বললেন, ভালোবাসা এবং ঘৃণা আসলে একই জিনিস। একটি মুদ্রার এক পিঠে ভালোবাসা আরেক পিঠে লেখা ঘৃণা। প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে এই মুদ্রা মেঝেতে ঘুরতে থাকে। যাদের প্রেম যত গভীর তাদের মুদ্রার ঘূর্ণন তত বেশি। একসময় ঘূর্ণন থেমে যায়, মুদ্রা ধপ করে পড়ে যায়। তখন কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা যায়- 'ভালোবাসা' লেখা পিঠটা বের হয়েছে, কারও কারও ক্ষেত্রে 'ঘৃণা' বের হয়েছে। কাজেই এই মুদ্রাটি যেন সব সময় ঘুরতে থাকে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ঘূর্ণন কখনো থামানো যাবে না। বুঝেছ?"
হুমায়ূন আহমেদের লেখায় জীবনের সরলতা আর মজার মিশ্রণ খুব ভালো লাগে। এই বইটিও তেমনই, যেখানে ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই বড় অর্থ নিয়ে আসে। ভাষায় একটা প্রাঞ্জলতা ও স্বাভাবিকতা আছে, যা পড়তে পড়তে মনে হয় লেখক সঙ্গে বসে গল্প বলছে। এক বিষাদবেলায় পড়েছিলাম বইটা। কিন্তু এটা এতোটাই প্রানবন্ত চছিলো যে, মন আর বিষণ্ণ থাকতে পারেনি। I enjoyed.
The writer does an amazing job of showing the complex emotions of a 16-year-old girl going through the ups and downs of teenage love. Her feelings are all over the place, and she ends up in a forbidden romance with her dad’s friend. It’s a weird story, but it’s also really funny.