সময়ের বিচূর্ণ আয়নায় বর্তমানের চোখে অতীতকে দেখাই ইতিহাস। অতীতের একই ঘটনাপ্রবাহকে একেক সময়ে একেক ব্যক্তি একেক চশমায় দেখেন এবং লিপিবদ্ধ করেন। যার প্রত্যেক বয়ানই স্থান-কাল-পাত্রের স্বাক্ষরে বয়ে যায় একেক ধারায়।ইতিহাসের এই বহুধা বয়ানই ইতিহাস পঠনের অন্যতম আকর্ষণ। বদলে যাওয়া আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর খোঁজার তাগিদেই আমাদের লভ্য সব চশমাই হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন। আমাদের ইতিহাসের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি সময়কালকে ফিরে দেখতে এখানে সমাবেশ ঘটানো হয়েছে সর্বাধিক চশমার। সাম্প্রতিক সময়ের এ এক বর্ণাঢ্যতম অতীতবীক্ষণ।
১ম খণ্ড পড়ার পর ২য় খণ্ডের জন্য মুখিয়ে ছিলাম। পাকিস্তান পিরিয়ডের ২৪ বছরের ইতিহাস লিপিবদ্ধ আছে বইটিতে।
পাকিস্তান হওয়া, জিন্নাহর মৃত্যু, ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্টের ভাঙন, শেরেবাংলা আর সোহরাওয়ার্দীর দ্বন্দ্ব, বাঙালি নেতৃবৃন্দের মধ্যকার অনৈক্য, হিংসা আর দোদুল্যমানতার এক সরেস সংগ্রহ বইটিতে।
প্রথমেই পাকিস্তান ভাঙার পেছনে আমরা মূলত দায়ী করি অর্থনৈতিক বৈষম্যকে, অথচ পাকিস্তান হওয়ার আগে পূর্ব বাংলা ছিলো সর্বহারা, গরিবদের এলাকা।
কোনো শিল্প ছিলো না, ১০ টা সুতাকল ছিলো, পাটকল ছিলোই না, অন্যান্য কোনো শিল্প ছিলো না।
বাংলাদেশের এই করুণ অবস্থা করেছিলো ২০০ বছরের ইংরেজ শাসন আর হিন্দু জমিদারদের নিপীড়ন।
অথচ সব দোষ গিয়ে পড়ে পাকিস্তানি শাসকদের ঘাড়ে। ২৪ বছর শাসনামলে চট্টগ্রাম বন্দর, সবচেয়ে বড়ো পাটকল, ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা, কাগজের মিল, কাপ্তাই বাধ সহ আরো অনেক বৃহৎ শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হয় পূর্ব পাকিস্তানে।
এসবের বাইরে আরেকটা ব্যাপার লক্ষণীয় আমরা যাদের মহান নেতা হিশেবে চিনি এদের সবাই ছিলো ক্ষমতার জন্য উদগ্রীব। এদের কোনো নীতি, আদর্শ ছিলো না।
শেরেবাংলা দেশভাগের আগে যে ভূমিকা পালন করে, ওই ভূমিকা আর পালন করতে পারেন নাই।
সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিব এরা ছিলো ক্ষমতার জন্য লালায়িত, সোহরাওয়ার্দী যখন বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তার অধীনে থাকা অর্থমন্ত্রী যখন প্রধানমন্ত্রী হোন, তিনি ওই লোকের মন্ত্রীসভায় আইন মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।