শ্রীশচন্দ্র ন্যায়বান পেশায় ডাক্তার, স্বসম্বোধনে দাদু। পেশার সুবাদে ঘুরে বেড়িয়েছেন ব্রিটিশ ভারতবর্ষের বহুস্থানে। নাতি-নাতনিরা আড়লে-আবডালে বলে তাদের দাদুর গোঁফ গল্পের ভারে ঝুলে গেছে। যাইহোক তাঁর শৈশবও কম রোমাঞ্চকর নয়। নানাবিধ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় ভরপুর তাঁর গল্পের ঝুলিটি উপুড় করেন কখন বাড়ি ফিরে নাতি-নাতনীদের গল্পের আড্ডায়, কখনো পাড়ার চণ্ডীমণ্ডপে বয়স্যদের কাছে।
আগের পর্বে দাদুর ভাণ্ডার থেকে তুলে আনা হয়েছিল মা বনবিবি, পাঁচু ঠাকুর, মা নারায়ণী, বসন্ত রায়, ভৈরব, ইঁদ, বাংসক প্রভৃতি তেইশজন ভিন্ন ভিন্ন লৌকিক দেবদেবী ও অপদেবতার রোমহষর্ক কাহিনী। এইপর্বে তুলে আনা হল আরও পনেরো জন লৌকিক দেবদেবীর কথা ও কাহিনিকে। যা এর আগে শোনা যায়নি।
তাই তৈরি থাকুন, ফিরে আসছেন শ্রীশচন্দ্র ন্যায়বান...
দেও-এর দু বছর পর... আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তক মেলার আসছে... তমোঘ্ন নস্কর-এর
আমাদের গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের লোকাচার, কুসংস্কার ও আরও অনেক কিছু। সেই সব লোকাচারের গল্পকথা শুনলে কখনও মনে হয় সত্যি, আবার কখনওবা তা শুধুই অবাস্তব মনে হয়। তবে এইসব গল্পকথার বেশিরভাগই গড়ে ওঠে বিভিন্ন লৌকিক দেবদেবী ও অপদেবতার কাহিনীর ওপর নির্ভর করে। আর গ্রামবাংলার এই সমস্ত ভেসে বেড়ানো কাহিনী ও লৌকিক দেবদেবীর কথা দুই মলাটের মধ্যে বন্দি করে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন লেখক তমোঘ্ন নস্কর। তাঁর লেখা 'দেও' এবং 'বিষহরি' বইতে তিনি এক গল্পদাদুর আসরের মাধ্যমে পাঠকদের অভিজ্ঞতা করিয়েছেন বাংলার বিভিন্ন লৌকিক দেবদেবী ও অপদেবতার কথা। দুটি বই মিলিয়ে তিনি প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি দেবদেবীর কথা তুলে ধরেছেন। গল্পদাদু শ্রীশচন্দ্র ন্যায়বানের বাচনভঙ্গি এই রোমহর্ষক কাহিনীগুলিকে আরও আকর্ষণীয় ও শ্রুতিমধুর করে তুলেছে। এই কাহিনীগুলির মধ্যে যেমন রয়েছে বাংসক, খুদবুড়ো, পাঁচঠাকুর, বড়ামচন্ডীর কথা; তেমনই রয়েছে মাকাল ঠাকুর, বাঘরাই ও হালকাঠি বাবার কথাও। কাহিনীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে লেখক গল্প বলার ছলেই পাঠকের পরিচয় ঘটিয়েছেন গ্রাম-বাংলার বিভিন্ন আচার, লোকাচার ও সংস্কৃতির সাথে। পাঠক যখন 'দেও' এবং 'বিষহরি' বইদুটির রস আস্বাদন শুরু করবে, তখন মনে হবে সে যেন গ্রাম-বাংলার কোনো মেঠো পথ ধরে হেঁটে চলেছে; আর তার চোখের সামনে ধরা দিচ্ছে এক অন্য গ্রামবাংলা - যা প্রাকৃতিক ভাবে বৈচিত্রময় হওয়ার সাথে সাথে হয়ে উঠেছে লোকাচারে বৈচিত্রময়।
তমোঘ্ন নস্করের লেখার সাথে পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যমে। ওনার লেখায় বাংলার সজল-শ্যামল প্রকৃতির ছোঁয়া আর ফেলে আসা আটপৌরে দিনগুলোর এক আশ্চর্য মিশ্রণই আমাকে আকর্ষণ করেছিল প্রথমে। তারপর জানতে পারি 'দেও' আর 'বিষহরি' এর কথা যাতে লেখক তুলে এনেছেন বাংলার অচেনা-অজানা দেব-দেবীদের কথা। 'দেও' এর তুলনায় এ বইতে গল্পের সংখ্যা কম মনে হলেও আসলে প্রায় প্রতিটি গল্পেই জড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি আলাদা গল্প। আলাদা করে বলবো 'দেবীকুসুম', 'বাঘরাই', 'দয়াল পির', 'বিষহরি', 'মা কালষন্ডা'-র কথা যা পাঠককে নিয়ে যায় হারিয়ে যাওয়া লোককথার আনাচে-কানাচে। এ এক আশ্চর্য জগতের গল্প যা আমাদের নিত্য-নৈমিত্তিক জীবনের আড়ালে বয়ে চলে। তবে বইটি শেষ হওয়ার পরেও মনে হয় আর কিছু গল্প থাকলে বেশ হতো- এখানেই লেখকের কৃতিত্ব।