জীবনের এক অধ্যায় পেরিয়ে আরেক অধ্যায় শুরু করার মূহুর্তে অপভ্রংশের আবির্ভাব। ঠিক যেমন শ্মশানের চাকুরে ছদ্মব্রাহ্মণ অভয়চরণের জীবনের আবির্ভূত হয় ফাউজিয়া নামক মেয়ের চিঠি। সঠিক ঠিকানায় ভুল হাতে পৌঁছানো মহানাগরিক সে চিঠি অভয়চরণের জীবনে এক অস্থিরতা আনে। অস্থিরতা আনে রুপালিকে অনুসরণ করা এক ভগ্নহৃদয় যুবক। অন্ধকার গলিতে ঘুরে বেড়ায় নিজের আত্মা বন্ধক দেওয়ার চেষ্টায় বিভোর এক মধ্যবয়স্ক লোক। অপভ্রংশ আসে 'দুষ্টু' ছবির ছবিয়াল শফির জীবনেও। যে ভুল করে সঠিক ছবিটা তুলে ডেকে আনে এক ঘোর বিপদ। অদ্ভুত এক জন্তু আর বস্তুবাদী শহরের মাঝখানে পড়ে তিক্ত বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া তুরিন। কেউই বাদ যায় না রুপান্তরিত জীবনের অপভ্রংশ পর্ব থেকে। এরকম সাতটা গল্পের আট রকমের অপভ্রংশের স্বাদ নিয়েই 'অপভ্রংশ'
আমি সবসময়ই বলি, বর্তমান সময়ের যে ক'জন রহস্য-রোমাঞ্চ ধারার লেখক আছেন, তার মধ্যে জুবায়ের আলম আলাদা ধাঁচের। কেন বলি, সেটা তার যে কোন একটা বই পড়লেই বোঝা যাবে। এই বছরে দ্য ইয়ার অফ দ্য শর্ট স্টোরিজ ঘোষণার সুবাদে বেশ কিছু গল্প সংকলন পড়া হয়েছে। অপভ্রংশ হঠাৎ হাতে পেয়ে পড়ে ফেলা। আটটা ছোট গল্প। কম বেশি সবগুলোই দারুণ লেগেছে। বেশ ঘোরলাগা ব্যাপার স্যাপার। জুবায়ের ভাই জাত লেখক।
জীবনের প্রতিটা মোড়ে জন্ম নেয় বহু গল্প। যে গল্পের কিয়দংশ বলা হয়ে থাকে পরিচিত অপেক্ষা আপন মানুষগুলোকে আর বাকিটা তুলে রাখা হয় কোনো এক ছেঁড়া খাতা কিংবা ক্ষয়ে যাওয়া পুরোনো পৃষ্ঠার ডায়ারিতে ঠাঁই দিতে। কিছু গল্প লেখা হয়, কিছু বলা; আর বাকিটা হারিয়ে যায় মহাকালের গর্ভে। কত গল্প যে সেখানে জমা আছে, তার হিসাব গুনতে গেলে পৃথিবীর বয়সটা ফিকে হয়ে আসে। গণনা করতে গিয়ে সংখ্যা নির্ণয়ক যন্ত্রটাও আপত্তি তোলে মাঝে মাঝে। আচমকা, আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করে বসি যে—শিশুকাল থেকে এখন অবধি নিজের ঠিক কতটা গল্প আপনি মনে রাখতে পেরেছেন? —আপনার উত্তরটা হবে ম্রিয়মাণ। কারণ খুব সুখের কিংবা খুব আবেগের কিছু না হলে, সেইসব গল্প মনে রাখা নিতান্তই কঠিন বটে। আগে যেটুকু করা যেত—আজকাল সেটাও যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আমাদের থেকে। এই শিখি তো এই ভুলি কারবার। জীবনের জাঁতাকলে পিষ্ঠ হয়ে কতই বা এসব মনে রাখা যায়। যতটুকু যায়—সেগুলো সব দুঃখের নতুবা হতাশার। সুখের মতো তার গল্পগুলোও ক্ষণস্থায়ী হয়ে বাসা বাঁধে মনে-মগজে। সেগুলো নিয়ে শরতের শেষ বিকেলে নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে যখন ভাবতে বসি—তখন সুখের থেকেও বেদনারা বেশি ঘিরে ধরে; যেভাবে শীতের সকালে কুয়াশারা বিষণ্ণতা সৃষ্টি করতে ভালোবাসে।
গল্পদের কোনো গন্তব্য থাকে না। তাদের অনেকটা জোর করে থামানো হয়। বাধ্য করা হয় একপ্রকার। কেন করা হয় জানেন? —যেন গল্পকারের জীবনী নিঃশেষ না হয়ে যায়। একজন পাকা গল্পকার জীবদ্দশায় বহু গল্প তৈরি করেন। যদি আগ থেকেই সেই গল্পের গন্তব্য ঠিক করতে না পারেন তবে সেটা চলমান হিসেবে ধাবিত হয়। এতে সৃষ্টির অবক্ষয় হয়। অপভ্রংশতা দেখা দেয়। তাই বাধ্য করে হোক কিংবা জোর করে; গল্পকারদের গল্প লেখা থামানোর প্রয়োজন হয়। দেখবেন সব গল্প সবার পছন্দ হয় না। এই না হওয়ার পিছনে কারণ খুঁজতে গেলে হয়তো এমনই বিদঘুট ধরনের ষড়যন্ত্র বের হবে। একটা গল্প লেখকের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটা একমাত্র সেই গল্প লেখিয়ে মানুষটি জানে। কোনো লেখক চায় না, তার গল্পটা খারাপ হোক। ইচ্ছা করে কেউ খারাপ গল্প লিখবে না, তারপরেও যা হওয়ার নয়; তা-ই হয়ে যায়। কেন? —উত্তর: ৪০৪...
ছোটোগল্প যারা লিখেন, তারা মাঝে মাঝে গল্পের সাথে সময়ের খেলা খেলেন। একটা ছোটোগল্পে বিশাল কোনো ঘটনার ক্ষুদ্রাস্তিত্ব লুকিয়ে থাকে। লেখক সেটা লুকিয়ে রাখেন, আর পাঠক প্রত্নতাত্ত্বিক হয়ে সেটা খুঁজে বের করার মিশনে নামেন। কেউ কেউ সফল হন, তবে বেশিরভাগ ব্যর্থ। যখন ব্যর্থতা ঝেঁকে বসে তখন সেটা অপভ্রংশে রূপান্তর ঘটে। কেউ নাক সিটকায়, কেউ গা লা গা ল দেয়; কেউ কেউ আরও বেশিকিছু করে।
যাহোক, এসব উদ্দেশ্যহীন লেখা অনেকের মনঃপূত হবে না। মূল গল্পে আসি।
‘অপভ্রংশ’ অর্থ বিকৃত। স্বস্থান থেকে বিচ্যুতি ঘটানো বোঝাতে এই শব্দের ব্যবহার। বইটির নাম অপভ্রংশ দেওয়ার পিছনে জড়িত আছে আটটি গল্প। ভিন্নধর্মী এই গল্পগুলোর কাহিনি, চরিত্র, গন্তব্য সবকিছু পৃথক হলেও অর্থ হয়তো এক। হয়তো বলার পিছনে কারণ আছে। একটু ব্যাখা না করলে বোঝা যাবে না।
◆ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
‘তাই বলে, ছোটোগল্পই কেন?’ গল্পের শুরুর পূর্বে লেখকের মুখবন্ধে এই শিরোনামটি রয়েছে। অর্থাৎ লেখক কেন তাগড়া পূর্ণ তিনটি উপন্যাস (প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্প, শব্দযাত্রা লেখক সংঘ ও ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি) লিখে এখন ছোটোগল্প প্রকাশ করার কথা ভাবলেন? —উত্তরটা, আমি দিব না। কারণ যারা লেখকের বই পড়েছেন তারা বেশ ভালোভাবেই অবগত আছেন তিনি কতটা দারুণ ভূমিকা লিখেন। তাই ‘ছোটোগল্পই কেন’ নিয়ে কী লিখেছেন সেই সম্পর্কে আপাতত কিছু লিখছি না। তবে কড়া এক আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো যে লিখেছেন তা পড়েই আন্দাজ করা যায়। অতন্ত এটুকুই পড়ার জন্য হলেও সংকলনটি পড়া উচিত।
অপভ্রংশ আটটি ছোটো গল্প নিয়ে লেখা গল্প সংকলন। প্রতিটি গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, কিন্তু উপলব্ধির দিক থেকে অভিন্ন। সেইসব নিয়ে নাহয় অল্পবিস্তর আলোচনা হবে তার আগে জেনে নেওয়া যাক, লেখকের গল্প বলার ধরন কেমন ছিল। —এককথায় বললে মোহগ্রস্থ করে রাখার মতো। তবে দুয়েকটা গল্প এই তালিকা থেকে বাদ যাবে। বিশেষ করে উত্তমপুরুষে বলা শেষ গল্পটা। কিন্তু প্লট নির্বাচনে লেখক মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। ক্ষুরধার লেখনশৈলীর সাথে এমনটা মানানসই। পারিপার্শ্বিক আবহ ও চরিত্রদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভালোই কারুকাজ দেখিয়েছেন। সংকলনে লেখা গল্পগুলো সাধারণত বহু জনরায় জড়াজড়ি করে লেখা হয়। অপভ্রংশে এই দিকটার ওপর বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটা গল্প এখানে স্বতন্ত্র। কেমন এইবার সেটা জানা যাক—
● নিত্য বৃত্ত অতীত—
একটি চিঠি, একজন শ্মশানের সুপারিন্টেন্ডেট, একটি নাম—ভবতোষ দা। অভয়চরণ শ্মশানে মৃত পোড়ানো-সহ সব ধরনের কাজ করছে বিগত চার বছর ধরে। বেশিরভাগ লাশ থাকে বেওয়ারিশ। পাড়ার ছেলেপেলেরা এমন বেওয়ারিশ পেলে পূর্ণিমার চাঁদ যেন হাতে পায়। সৎকারের নামে েমাটা অঙ্কের চাঁদা ওঠায় তারা। মার্জিনের হিসাবে দুয়েক’শ থাকে পকেটে। এই আবদারটা তারা করে অভয়চরণের কাছে। কয়েকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা ছাড়া আর কিছু করে না অভয়। দিনকাল এভাবেই কাটে তার। বিপত্তিটা বাধে ফাউজিয়া নামের এক মেয়ের উড়ো চিঠিতে। উড়ো চিঠি বলার কারণ, চিঠিটা লেখা হয় ‘ভবতোষ দা’ নামক কোনো ব্যক্তির কাছে। কিন্তু সেটা এসে পড়ে অভয়ের হাতে। জানতে পারে সেই মেয়ের সাথে ভবতোষ দা’র সম্পর্ক। কীভাবে প্রতারিত হয়েছিল মেয়েটি, আর এখন কীভাবে সে অন্যদের প্রতারিত করছে। ফাউজিয়া-ভবতোষের গল্পে কখন যে অভয় অজানা এক চরিত্র হিসেবে ঢুকে পড়ে জানে না সে। যখনই সে ফাউজিয়ার সাথে দেখা করে, তার সমস্যা সমাধান করবে বলে ভেবে নেয়; তখনই ঘটে বিপত্তি! কী? (শয়তানের মতো ফিছলে এক হাসি দিয়ে বলতে হয়)—জানতে হলে তো পড়তে হবে।
গল্পটি আমাদের সমাজের অতি পরিচিত একটি ঘটনাকে (বলছি না কী) কেন্দ্র করে লেখা। লেখকের লেখনশৈলী গল্পের আবহটাকে করে তুলেছে জীবন্ত। আর শেষে একগাদা বিষণ্ণতা যেন ছুড়ে মেরেছে পাঠকের মুখে। কারণ আমরা পাঠকরা এসব মুখে মাখিয়ে নিতে অভ্যস্ত। চুন-কালি লেপনের মতো অনেকটা। একটা দীর্ঘশ্বাস যথেষ্ঠ এসব ভুলিয়ে দিতে। তারপর আবার নতুন গল্প, অথচ, যে গল্পের চরিত্ররা হয়তো কাল্পনিক কিন্তু গল্প? গল্পের কি কখনও শেষ আছে? গল্প চলমান, সেগুলোকে আমরা অভয়চরণ হয়ে পুড়িয়ে দিই শুধু দুয়েক’শ পকেটে পুরে দেওয়ার লোভে। তারপর অপেক্ষা...
● জুগুপ্সা—
“দুর্ভিক্ষের দেশে যেমন ভাত কেড়ে নেওয়া অপরাধ না, তেমনই অভাবগ্রস্তের দেশে টাকা লুট করা অন্যায় কিছু না”
অথচ সেদিন কোনো এক পত্রিকার শিরোনামে দেখলাম, ভাত চুরির অপরাধে চোরকে গণধোলাই দিয়ে স্বর্গের দরজায় পৌঁছে দিয়েছে। আহা, কী অকৃত্রিম মানবিকতা। স্বর্গের দরজায় পৌঁছে দিতে যে এমন অপরাধ করতে হয় জানতাম না। ‘জুগুপ্সা’ অর্থ কুৎসা বা ঘৃণা। গল্পের প্রেক্ষাপটে ঘৃণার ছড়াছড়ি। চরিত্র এখানে হাতে গোনা। দুই জন গল্পের নায়ক-নায়িকা। তাদের আছে খাঁটি ভালোবাসা। সেগুলো টিকিয়ে রাখতে দরকার—টাকা। একজনের টাকা দরকার নিজেকে প্রেমিকার সামনে প্রমাণ করার, আরেকজনের দরকার সংসার বাঁধার। কিন্তু... কিন্তু “কুটিল নিচতা যদি ক্ষুদ্রতার পরিচায়ক হয়, তাহলে সরলতা বিশালতার পরিচায়ক কেন হবে না?” —বলুন, বলুন? না পারলে থাক, জানতে হলে ঘৃণা মাখানো গল্পটা পড়ুন অথবা হেমেন্সিকনের শিশিটা নিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এর বেশিকিছু নয়।
● ‘আত্মা’ হনন—
‘অর্পিতার কথা ভাবার সাথে সাথে আমার চোখ দিয়ে গাঢ় নীল পানি পড়তে শুরু করল। সমুদ্রের পানির থেকেও নীল। শরতের শেষ বিকালের আকাশের থেকেও নীল। অপরাজিতা ফুলের পাপড়ির চাইতেও নীল। আমার ভেতরটা যেন আস্তে আস্তে হালকা হতে শুরু করল। আমি যেন কোনো এক ধু-ধু মাঠের মাঝাখানে দাঁড়িয়ে থাকা বট গাছের নিচে দাঁড়িয়ে হু-হু করে কাঁদছি। ছুটে বেড়াচ্ছি সমুদ্র তটে। ডুব দিচ্ছি গহীন বনের ভেতর কোনো হ্রদের বরফ শীতল শান্ত জলে। মাথার ওপর দিয়ে বিকালের শেষ আলো মাখা মেঘগুলো আস্তে আস্তে উড়ে যাচ্ছে। এত যত্ন করে রাখা আমার খুনে ইচ্ছাগুলো, আমার দুঃখগুলো, সবকিছু যেন ওই মেঘের সাথে উড়ে চলে যাচ্ছে।’
এই লেখাগুলো যদি ক্ষণিকের জন্য হলেও আপনার কঠিন মনে পালকের আঘাত হানতে না পারে, তাহলে বুঝে নিবেন আপনি অতি কঠোর আর নির্দয় মানুষ। আপনার ‘আত্মা’ হনন করা দরকার। একটা কাজ করুন না, ব্যাচপেন আপনার আত্মা? না বন্ধক দিবেন? দিলে কতদিনের জন্য? আর পরিবর্তে কেমন আত্মা নিবেন? —যাহোক, এ আপনারে একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। কারণ এমনই এক ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে মারিয়া উক্ত গল্পের নায়ক। পরকীয়া আর প্রতিশোধের বিষয়টাকে লেখক যেভাবে আরবানে রূপান্তর করেছেন—সেটা বেশ ইন্টারেস্টিং। এই গল্পটা সংকলনের অন্যতম পছন্দের। শুধু বলব, আত্মা বন্ধক দিয়ে হলেও গল্পটা পড়ুন।
● সমাধি—
“পাপীদের ভেতরে নিজেকে মিশিয়ে ফেলতে পারলে নিজের অপরাধবোধটা কমে, আর পুণ্যকারীদের ভেতরে মিশে গেলে শুধুই দম্ভ বাড়ে।”
করুণ সত্য, তিতা বাস্তব। আপনি যদি খাঁটি টাইপের পাপি বান্দা হয়ে থাকেন (কেউ দুধে ধোয়া তুলসি পাতা না; দুঃখিত এই উক্তিটি গায়ে লাগলে ক্ষমাপ্রার্থী) তবে সবসময় কী চিন্তা করেন? —চিন্তা করেন না, কীভাবে নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো যায়, কীভাবে কারও পাছা মেরে নিজ পাছার ওজন বাড়ানো যায় অথবা কীভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষত্ব খাটিয়ে নারীদের অবমাননা করা যায় (যদিও এর উলটা ভার্সন দেশে অ্যাভেইলেবেল)? পুরুষতান্ত্রিক কথা ওঠানোর কারণ, গল্পের মূল চরিত্র একজন পুরুষ। কিন্তু সে যে কী, তা প্রথমে বুঝতে পারলেও শেষে এসে আরও ব্যাপকভাবে বুঝবেন। গল্পটা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের। তাদের মধ্যে এক নীরব দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। দোষারোপ কিংবা ক্ষোভ এখানে চাপা। তেমনভাবে চাপা থাকে আরও অনেককিছু। যার শেষটা হয় পরিশেষে।
পারিবারিক কলহ পাশ কেটে যে দ্বন্দ্বের বিষয়ে লেখক গল্প ফেঁদেছেন; তা বেশ উপভোগ্য। গল্পটা উত্তমপুরুষে লেখা। শিক্ষণীয় এবং সতর্কতামূলক।
● অপঘাত—
শিল্প আর শিল্পী নিয়ে লেখা গল্প। ঠিকানাবিহীন একজন শিল্পীর আক্ষেপের কাহিনি নিয়ে লেখা গল্পটি সংকলনের আমার দ্বিতীয় পছন্দের। গল্পের প্রেক্ষাপট সামাজিক। সমকালীনও বলতে পারেন। বাস্তবতার নিরিখে লেখা। তবে শেষটা বিষণ্ণতা জাগানো। আমরা বলি না, মানুষ মৃত্যুর পর তার খ্যাতি পায়? —এই গল্পটা তেমনই। শফি একজন ফটোগ্রাফার। স্টুডিায়ো চালায়। এ যে-সে স্টুডিয়ো না। এখানে তাকে কাজ করতে হচ্ছে ক্ষুধার তাড়না, অর্থের প্রয়োজন, যৌনতার আকাঙ্ক্ষা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রয়োজনে। তার অ্যান্সেল অ্যাডামস, আরনল্ড নিউম্যান ও ইউসুফ কার্শ হওয়ার ইচ্ছাগুলোকে মাটি চাপা দিয়ে সস্তা মডেলদের ছবি তুলে হয়েছে সস্তা একজন ফটোগ্রাফার। কিন্তু ভাগ্য বলে যখন কিছু একটার অস্তিত্ব থাকে; তখন সেটা থেকে পালিয়ে যেতে নেই। শফি পালিয়েছিল, সে হয়তো নিজের নামটা অ্যাডামস, আরনল্ড কিংবা ইউসুফের জায়গায় নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু একটি ছবি সবকিছু ওলটপালট করে দেয়! ...কীভাবে? জানতে হলে ঘুরে আসতে হবে ‘সমাধি’ থেকে।
● অন্বয়—
গল্পটি গড়ে উঠেছে তুরিন আর রফির অন্বয়ে। রফি মেট্রোট্রেনে করে নিরুদ্দেশ হচ্ছে জান বাঁচাতে। ওদিকে তুরিন চাইলে পারে রফির সাথে চলে যেতে কিন্তু যে দায়িত্ব তাকে দিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা সে পালন করছে; সেগুলো থেকে কীভাবে মুখ ফিরিয়ে নিবে? এটি কোনো দেশ স্বাধীন করা যুদ্ধের গল্প না। গল্পটি এমন এক সময়ের যেখানে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় লেখকদের! গল্প লিখলেই শাস্তি পেতে হয় তাদের। তুরিনকে একটি বৃহৎ দায়িত্ব অর্পণ করে যায় রফি। যে দায়িত্ব অবহেলা করলে বহু লেখকদের ওপর নেমে আসবে নরক ভোগ। তার ওপর, নিজের লেখা গল্পে যে অনুভূতিখেকো দানবের সৃষ্টি করেছে তুরিন, এর অস্তিত্ব নিয়ে মাঝে মাঝে সন্দেহে ভোগে সে। কখন না জানি দানবটা বেরিয়ে আসে তার লেখা থেকে। সবমিলিয়ে কঠিন এক বাস্তবতার সম্মুখে উপস্থিত তুরিন। কী করবে সে?
ডিস্টোপিয়া ঘরনার গল্পটা পুরো সংকলনের সবচেয়ে পছন্দের। গল্পের ভেতর উঠে এসেছে আরও বহু গল্প। কতটা শক্তিশালী চিন্তাভাবনা হলে এমন কিছু সাবলীল সৃষ্টি করা যায়। রাজনীতি, কূটনীতি আর ধর্মীয় মিশ্রণের ফলে লেখা গল্পটি এক কথায়—অনবদ্য। অন্তত আমার তা-ই মনে হয়েছে। মাস্ট রিড।
“অনুভূতিশূন্য মানুষকে খুব সহজেই কর্তৃত্ববাদের সমর্থনে ব্যবহার করা যায়। ঠিক যেমন প্রচলিত ধর্মগুলো চায়, মানুষ কল্পকাহিনি থেকে সরে আসুক। যেন তাদেরকে বাস্তববাদী হিসেবে গড়ে তুলে; তাদেরকে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে ব্যবহার করা যায়।”
আমার মনে হয় পুরো গল্পের মাহাত্ম্য বুঝতে এই বাক্যটি যথেষ্ঠ।
● চ্যানেল নম্বর ৩৩—
একটি খু নে চ্যানেল যেখানে খুব নিখুঁতভাবে শেখানো হয় খু ন করা। কথা হলো, কার এত ইচ্ছা যে খু ন করা শিখতে হবে? গল্পের মিলি চরিত্রের মেয়েটিকে কেন্দ্র করে লেখক উক্ত গল্পটি লিখেছেন। সংকলনের বড়ো গল্প। মিলি বহু কষ্টে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি জুটিয়েছে। এর জন্য তাকে নিতে হয়েছে দুর্নীতির আশ্রয়। শুধু এতেই ক্ষান্ত হয়নি সে। তার ওপরের পদে থাকা শিরিন নামক একজন কলিগকে মারতে চায় সে—কিন্তু কেন? পারভেজ নামক ভদ্রলোকের থেকে কী চায় সে? ছা-পোষা মিলির জীবনে এমন উত্থান-পতনের পিছনের কী রহস্য লুকিয়ে আছে। আর চ্যানেল নম্বর ৩৩ পরিচালনা করছে বা কে?
প্রশ্ন অনেক। উত্তর চমকপ্রদ। যারা টুইস্ট পছন্দ করেন গল্পটি তাদের ভালো লাগবে। আবারও বলতে হয়, বাস্তবতা প্রেক্ষাপট নির্ভর লেখা।
● অধ্যাস—
পাঁচ জন প্রতিষ্ঠিত বন্ধুর গল্প। তাদের মধ্যে একজন হয়ে যায় খুন। খুনি কে? ঘটনার তদন্ত করতে একজন পুলিশ আর মহিলা কন্সটেবল। তাদের উদ্দেশ্য কি কেবলই খুনিকে ধরা না কি অন্য কোনো মতলবে তারা এসেছে? জানতে হলে ছোটো থ্রিলার গল্পটি পড়তে হবে। গল্পের শেষটা রহস্য টেনে করা হয়েছে। উপভোগ্য। তবে ইংরেজি সংলাপ আর বর্ণনা গল্পের আবেদন সামান্য কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে হলো।
সবমিলিয়ে অপভ্রংশ দারুণ একটি গল্প সংকলন। সকল ধরনের গল্পের স্বাদ এই একটি বইয়ে নিহিত। ছোটো মরিচের ঝাল পছন্দ হলে এটিও একবার খেয়ে দেখতে পারেন। আশা করি হতাশ করবে না।
◆ লেখক—
লেখক নিয়ে আলাদা কিছু বলার নেই। আমার নিজের মৌলিক ফিকশনে ফেরা হয়েছে ‘শব্দযাত্রা লেখক সংঘ’ দিয়ে। তখন লেখক ছিলেন আমার নিকট নতুন। ও��ার প্রথম বই পড়ে ভালো যে লাগা তৈরি হয়েছিল; তা অপভ্রংশে এসেও বহাল তবিয়তে আছে। আশা করি আগামীতেও এই ধারা বজায় থাকবে।
● বানান, সম্পাদনা ও আনুষঙ্গিক—
বইয়ের প্রথমদিক বানান ভুল হাতে গোনা থাকলেও, শেষ দিকে ই/য় জনিত ভুল চোখে পড়ে। ব্যাপারকে-ব্যপার হিসেবে লেখা, ণ্ঠ-কে মাঝে মাঝে ন্ঠ-তে পরিণত হওয়া-সহ হ্রস্ব-ই/দীর্ঘ-ই কার বিভ্রাট থেকে গিয়েছে কিছু কিছু জায়গায়। তবে সেইসব গল্পে যে খুব বেশি প্রভাব ফেলেছে তেমন নয়। তবুও সচেতনার প্রশ্নে বিদ্ধ করতে অল্প ভুলও অনেক সময় বৃহৎ আকার ধারণ করে। যা অনেকটা লঘু পাপে গুরু দণ্ডের মতো। দুয়েকটা জায়গায় নাম আর একই শব্দের দু’বার প্রয়োগ ঘটেছে। আশা করছি, পরবর্তী কোনো সংস্করণ এলে যেসব ভুল-ক্রুটি রয়েছে সেগুলো ঠিক করে নেওয়া হবে।
বইয়ের বাদবাকি প্রোডাকশন বেশ ভালো। ক্রাউন সাইজের হওয়াতে হাতে নিয়ে পড়তে বেশ আরামদায়ক। মুদ্রিত মূল্য ৩০০ টাকা।
জুবায়ের আলম জাত লেখক। গল্পটা কিভাবে বলতে হয় উনার সেটা ভালোমতোই জানা। তবে দুর্ভাগ্যবশত উনার লেখা খুবই কম। এই স্বল্প লেখার মধ্যে নবীনতম সংস্করণ এই ছোটগল্প সংকলন। অনেক সংকলনে দেখা যায় কোনো গল্প ভালো তো কোনোটা খারাপ। কিন্তু এটাতে সব গল্পই ভালোর স্ট্যান্ডার্ড ধরে রেখেছে। প্রত্যেকটা গল্পই বৈচিত্র্যময়। কোনোটা থ্রিলার, কোনোটা সমকালীন, কোনোটা একটু ডিস্টপিয়ান। তবে সব গল্পের কমন বিষয়টা হল ডার্ক আবহ, আর শেষে পাঠককে ধাক্কা দেয়ার প্রবণতা। পাঠকদের জন্য বেশ ভালো একটা গল্প সংকলন। রিকমেন্ডেড।
লেখক জুবায়ের আলমের ৮টি ছোট গল্পের সংকলন অপভ্রংশ। গল্পগুলো নিয়ে অল্প আলোচনার আগে লেখকের লিখনশৈলীর ব্যাপারে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করি। অদ্ভুত সুন্দর আর মায়াময় লেখা। বইয়ের ভূমিকার অংশটুকুই অসম্ভব সুন্দর। এরপর প্রতিটা গল্পেই উনার পরিণত লিখনশৈলীর ছাপ রেখেছেন। গল্পের প্লট নির্বাচন কিংবা ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনায় উনার দারুণ শব্দচয়ন আর গদ্যশৈলীতে মুগ্ধ হতে বাধ্য যেকোনো পাঠক। ভিন্ন ভিন্ন জনরার ৮টি গল্পের প্রতিটাই কমবেশী ভালো লাগার মতো। গল্পগুলো ছোট হলেও প্রত্যেকটা গল্পেরই গভীরতা অনেক। তাই গল্পগুলো একটা একটা করে আস্তে ধীরে পড়লে ভালো হবে বলে আমার মনে হয়৷
মা'কে হারিয়ে ফেলা এক তরুনীর ভুল ঠিকানায় নিয়ম করে লিখা চিঠির গল্প 'নিত্য বৃত্ত অতীত'; বইয়ের আমার অন্যতম প্রিয় গল্প। শেষটা বিষাদময়।
এরপরের গল্প 'জুগুপ্সা' তে আমরা দেখা পাই ভালোবাসার মানুষকে আবারও ফিরে পাওয়ার আকূলতা নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামা দুই যুবক যুবতীকে। এই গল্পটা গতানুগতিক প্লটের হলেও পড়তে ভালোই লেগেছে। আহা, আসলেই যদি টাকার বিনিময়ে ভালোবাসার মানুষকে পাওয়া যেতো!!
আমি নিশ্চিত জীবনে কখনো না কখনো আপনারও কাউকে না কাউকে খুন করার ইচ্ছে হয়েছে। প্রচন্ড রাগের সময় এমনটা মনে হয়। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা নিজের ভিতরের সেই পশুটার লাগাম টেনে ধরতে পারি। কেমন হবে যদি নৈতিকতাহীন, অপরাধবোধহীন কেউ আপনার জিঘাংসাপূর্ণ আত্মাটা কে কিনে নিতে পারে? হালকা থ্রিলার ধাঁচের 'আত্মা হনন' গল্পে লেখক তেমনি একটা গল্প ফেঁদেছেন। খারাপ না, ভালোই।
'সমাধি' গল্পটায় নিজের অক্ষমতাকে স্বীকার না করে উলটো প্রতিহিংসা পরায়ন এক মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন লেখক। এটাও থ্রিলার টাইপ। তবে কাছাকাছি প্লটের এমন একটা গল্প সম্ভবত মিসির আলীতে পড়েছিলাম। খুব একটা ভালো লাগেনি তাই গল্পটা।
'অপঘাত' গল্পে আমরা যেনো দেশের বর্তমান পরিস্থিতিটাই উপলব্ধি করতে পারি। নিজের কোন কাজে এমনকিছু করে ফেলেছি কি না যে কারনে ফুডপান্ডার (এটা দিয়ে কি বুঝায় তা আমরা সবাই জানি, আসল কথা লিখার সাহস আমারও নাই) লোকজন বাসায় চলে আসতে পারে এমন ভয়ে আমরা ত্রস্ত থাকি। তেমনি ভয়ে ভীত এক শিল্পীর গল্প এটি। যদিও এই গল্পটাও আমার তেমন একটা ভালো লাগেনি।
একটু ভবিষ্যৎ পৃথিবীর গল্প 'অন্বয়'। যে পৃথিবীতে লেখকদের কোনো ঠায় নেই। কারন তারা মানুষের ভিতরের অনুভূতিকে জাগিয়ে তুলে। আর এই পৃথিবীতে বাঁচার শর্ত হলো আপনাকে অনুভূতিশূন্য হতে হবে। তা না হলে তিঙিতাক নামক এক অনুভূতিখেকো প্রানী আছে, সেটা আপনার উপর ঝাপিয়ে পড়বে। এটাও অনেকটা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েই লেখা গল্প। যেভাবে আমরা এখন দেশে যাইই ঘটুক না কেনো, তা নিয়ে অনুভূতিহীন থাকি, ট্রল আর মিম নিয়ে ব্যস্ত রাখি নিজেদেরকে; সেটাই ফুঁটে উঠেছে এই গল্পে। এমনকি আমাদের একটা জেনারেশনকে যে এমনভাবে তৈরীই করা হয়েছে রাস্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না আসলে। ভয়ানক থেকে ভয়ংকর সব নিউজও এখন আর আমাদের বুক কেঁপে উঠে না, আমরা অনায়াসে তা হজম করে ফেলি। তিঙিতাক সেই কবেই আমাদের অনুভূতিগুলোকে খেয়ে ফেলেছে আমরা টেরও পাইনি!
'চ্যানেল নাম্বার ৩৩' বইয়ের সবচেয়ে বড় গল্প এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ গল্প। এন্ডিংটা কল্পনাতীত ছিলো। থ্রিলার টাইপ গল্প হলেও মানব মনের অন্ধকার অলিগলিগুলোকে দূর্দান্তভাবে গল্পে টেনে এনেছেন লেখক।
সমাজের উঁচুস্তরে বসবাসকারী ৫ বন্ধুর গল্প 'অধ্যাস'। হালকা ধাঁচের থ্রিলার। মোটামুটি চলে টাইপ। উঁচুস্তরের মানুষেরা কতোটা ধরাছোঁয়ার বাইরে তা উপলব্ধি করাবে গল্পটা। রিফাতের জন্য খারাপ লেগেছে।
এই ছিলো ৮টি গল্প নিয়ে আমার স্বল্প আলোচনা। আবারও বলি লেখকের অসাধারণ লিখনশৈলীর দরুণ প্রতিটা গল্প পড়ার অভিজ্ঞতা দারুণ ছিলো। তবে একইসাথে বলতে হয় বইটার সম্পাদনার কথা। না, সেখানে দারুণ কিছু ছিলো না। বইয়ে সম্পাদনা এবং বানানের অবস্থা ছিলো ভয়াবহ রকমের যাচ্ছেতাই। শুদ্ধিপত্র সম্পাদনা সংস্থার সাথে বইপাড়ার খুবই পরিচিত কিছু মানুষ জড়িত। অন্তত তাদের কাছ থেকে এটা একেবারেই আশা করিনি। প্রফেশনাল কাজে আরো মনযোগীতা আশা করতেই পারে পাঠক। মানুষ গড়পড়তা রিভিউ লিখলেও এতো বানান ভুল করে না। শিরোনাম প্রকাশনীর প্রোডাকশন লা জাওয়াব তাদের সবগুলো বইতেই। ক্রাউন সাইজের এই বইটাও তার ব্যতিক্রম নয়। বইটার প্রচ্ছদটাও বেশ সুন্দর।
প্রতিটা গল্প মন ছুঁয়ে চলে গেছে বললে ভুল হবে, একেবারে মন এফোড়-ওফোড় করে চলে গেছে। চমৎকার সব গল্প। বেশ মজা পেয়েছে পড়ে। জুবায়ের আলমের গল্প বলার ভঙ্গি, বাক্যগঠন আর শব্দচয়ন প্রশংসনীয়। লেখকের অন্যান্য বই পড়ার ইচ্ছা রইলো।
৮ টা ছোট গল্প নিয়ে সাজানো বইটা।ছোট গল্প সংকলন এ সাধারণত দুই তিনটি ভালো গল্প থাকে এছাড়া বেশিরভাগ ই এভারেজ বা বিলো এভারেজ থাকে।কিন্তু বইটা তে কমবেশি সব গল্পই ভাল লেগেছে।পাশাপাশি ছিল লেখক জুবায়েত হোসেন অপূর্ব সুন্দর লেখনী,বাক্যগঠন এবং শব্দচয়ন। তিনি আসলেই একজন জাত লেখক
নিত্যবৃত্ত অতীত : অসহায় এক মেয়ের গল্প যিনি মাকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে ভুল ঠিকানায় চিঠি লিখেছেন একের পর এক।বিষাদমাখা গল্পের শেষটুকু ছিল আরো দারুণ।সেরা একটা গল্প
জুগুপ্সা : দুইটা যুবক যুবতীর ভালোবাসার মানুষের ফিরে পাওয়ার গল্প। আহ কত ত্যাগ সুখ বিলিয়ে মানুষ তাদের পছন্দের মানুষদের যে চাইতে পারে!সুন্দরভাবে দুইজন যুবক যুবতীর ভালবাসার কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে গল্পটিতে
আত্মা হনন - এই সংকলনের সবচেয়ে প্রিয় গল্প।হালকা ধাচের ছোট গল্পটিকে এক কথায় বর্ণনা করা যায়, "ছোট মরিচে ঝাল বেশি বলে"।অসাধারণ একটা গল্প।
সমাধি : এটাও ভালো গল্প।অক্ষমতা কে কাজে লাগিয়ে প্রতিহিংসা পরায়ন এর কাহিনী গল্পে বর্ণিত হয়েছে।ছোটখাটো থ্রিলার টা খুব একটা খারাপ লাগে নি।
অপঘাত : ২য় সেরা গল্প আমার কাছে এই সংকলনের।মনে হচ্ছিল গল্পে আমাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতির পুরো ছবি যেন উঠে এসে ছোট্ট গল্পটিতে।আমলাতান্ত্রিক সমাজের পুরো চিত্র মাত্র কয়েক পেইজে যেন বর্ণিত করেছেন লেখক।
অন্বয় : অনেকটা ফ্যান্টাসি টাইপের গল্প।খুব একটা ভালো লাগে নাই গল্পটা।একটা ভবিষ্যৎ দুনিয়ার গল্প যেখানে মানুষ অনুভূতি শুন্য থাকে। বিলো এভারেজ গল্প
চ্যানেল নং ৩৩ : সংকলনের সবচেয়ে বড় গল্প।শুরু থেকে শেষ অব্দি দারুণ ছিল।টুইস্ট টাও পারফেক্ট। সংকলনের ৩য় ফেভারিট গল্প
আধ্যস : সমাজের উচু স্তরের পাঁচ বন্ধুর গল্প।সেই পাঁচ বন্ধুর একজন মজ মাস্তি হ্যাং আউট শেষে রাতে খুন হলো।এরপর টিপিক্যালি পুজিবাদি এবন আমলাতান্ত্রিক সমাজেত যে চিত্র আমাদের দেশে ঠিক পারফেক্ট ভাবে লেখক এখানে বর্ননা করেছে।আরেকটা ভালো লাগার গল্প ছিল।
ওভারঅল ছোট্ট ক্রাউন সাইজের বইটা পড়ে দারুণ লেগেছে।কিন্তু দুঃখের কথা লেখক খুব কম লিখেন,খুব কম।
প্রত্যেক ছোট্টো গল্পের ঘটনা আদি উৎস উপরে ‘অক্ষরে ন্যায়’ শুরু হয়। আদি ধরতে ধরতে অন্ত এসে পড়ে। এইভাবে গল্প তার অমায়িক বাস্তবতা রেখে যায়। সূচিপত্রে চোখ রাখলে দেখা যাবে মোট ৮ টি গল্পের সমন্বয়ে গঠিত এই বইয়ের নাম ‘অপভ্রংশ’।
লেখকের সার্থকতা ৮ টি গল্পের ক্যারেক্টার মধ্যে নিহিতার্থ। আমি এলোপাতাড়ি ব্যাখ্যা চলে যাচ্ছি, ১. ‘নিত্য বৃত্ত অতীত’ গল্পে একটা কোটেশন আছে। হুবহু তুলে ধরছি ‘মফস্বলে স্মৃতিশক্তি মহানগরের চেয়ে কম।’ এই কোটেশন অভয়ে গল্পের এক রুপকথা গন্ধ ভেসে আসছে। পুরো গল্প এই জায়গা ভর করছে। ২. ‘জুগুপ্সা’ ‘এই মেয়েটা আমার একমাত্র মানচিত্র।’ ক্যারেক্টারে মগজের তিয়াসা একটা বাক্যে মধ্যে দিয়ে ফুটে এসেছে। ৩. ‘আত্মা’ হনন, এই গল্পে স্বকীয়তা কথা এসেছিল লেখকের বাক্যে । ক্যারেক্টার বলেছিল যে, মেরুদণ্ডী সব প্রাণীরাই নিজেদেরকে একটা ‘স্বকীয়তা’ বজায় রাখার চেষ্টা করে।’ ঠিক তেমনি আবছায়া চলে যায় ক্যারেক্টার। স্বকীয়তা বিলীন হ'য়ে যায় সহজে। ৪. ‘সমাধি’ এই গল্পে লেখকের শব্দ জায়মান না , মনে হয়েছে কোথায় একটা তাড়া কাজ করছে হঠাৎ করে! একটা কোটেশন আছে ‘প্রত্যেক ধূমপায়ী মতো আমিও পলাতক।’ এক একটা কোটেশন গল্পের আমিত্ববাদ জানান দিচ্ছে। পড়লে বুঝতে পারবেন। ৫. ‘অপঘাত’ এই গল্পে লেখক জুবায়ের ভাই নিজেকে প্রয়োগ করেছে! ৮টা গল্পের মধ্যে এই গল্পের ঘ্রাণ অমোঘ! গল্পের গাঁথুনি ও গল্পের সৃজনশীলতা বিকেলে রোদের ন্যায় ধূসর হ'য়ে উঠে। এই গল্পের কোটেশন ‘সৃজনশীলতা মূল শুধু ‘বাহ’ পর্যন্ত।’ একজন ঠিকানাবিহীন অপঘাত শিল্পের মাথায় পড়লে তা জীবন্মৃত হ'য়ে যায়, তা বুঝতে পেরেছি। ষষ্ঠ গল্পে লেখক মগজের সরসে উতরে গ্যাছে। গল্পের নাম ৬. ‘অন্বয়’ কল্পকাহিনি আর বাস্তববাদী যে সংঘর্ষ রয়েছে তা এই ছোট্টো গল্পে জানান দিয়ে গেছে। ভবিতব্যে কৃত্রিম চিন্তে ভাবনা ঝাপসা হয়ে বিভ্রান্ত করছে প্রত্যহ কিশোর কিশোরী রে। তা নিভৃতে বলে গ্যাছে। এই গল্পের কোটেশন “সব থেকে প্রিয় মানুষটার সাথে অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করলে মানুষের অনুভূতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।” ৭. চ্যানেল নম্বর ৩৩ হল ঘূর্ণন গতি গল্প। কখন কোন মোড়ে কার চিন্তে আছড়ে পড়বে দেহে টের পাওয়া মুশকিল। কিন্তু এন্ডিং একটু কমতি থেকে গেছে আমার মতে। ৮. ‘অধ্যাস’। শেষ গল্প একটা তরসে এগিয়েছে, শুর ছিল নড়বড়ে— শেষ হয়েছে তরসে। জুবায়ের আলম গল্পের স্বাদ আস্বাদন করতে ক্ষতি নেই কিন্তু অপ্রাপ্তি থেকে যাবে কিছু কিছু গল্পে। উদ্দেশ্যহীণভাবে নিজেকে আবিষ্কার করেছি এই বইয়ে তে, তা লেখকের ভালো দিক বলব।
রাত প্রায় দুইটা বাজে। এই সময় শেষ করলাম জুবায়ের আলমের ছোট গল্পের সংকলন 'অপভ্রংশ'। আটটা গল্প নিয়ে সাজানো এই বই। বইটা পড়ে একটা জিনিস মানতে বাধ্য হয়েছি যে জুবায়ের আলম জাত লেখক। তার লেখার হাত অসম্ভব রকমের ভালো। তার শব্দচয়ন আর বাক্যগঠন অনেক বেশিই জোস!
এবার আসি বইয়ে। আটটা গল্পের মধ্যে আমার সবচাইতে ভালো লেগেছে প্রথম গল্পটা৷ অর্থাৎ, 'নিত্য বৃত্ত অতীত'। গল্পটা খুবই ডিফ্রেন্ট ফ্লেভারের লেগেছে আমার কাছে। মাথাতেও থাকবে বহুদিন। ভেবেছিলাম পরের গল্পগুলাও হবে জম্পেশ রকমের। তবে, তা আর হয়ে উঠেনি। বাকি গল্পগুলা খুব বেশি কিছু ছিলো না। এভারেজ/বিলো এভারেজ টাইপ ছিলো। একটু হতাশই লেগেছে। প্রথম গল্প পড়ে প্রত্যাশা বেশি হবার জন্যেই হয়তো!
সবমিলিয়ে, জুবায়ের ভাইয়ের লেখনীর প্রশংসা তো করেছিই। তবে, গল্পগুলাই আরেকটু জান থাকলে ভালো লাগতো। অন্ত:সারশূন্য টাইপ মনে হয়েছে।একবার পড়ার জন্য ঠিক আছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
তাই বলে ছোটোগল্পই কেন? ছোটোগল্প পড়তে ভালো লাগে, আবার লাগে না। কারণ গল্পের মধ্যে নিজেকে সেট করে নিতে না নিতেই ইতি টেনে যায় ছোটোগল্পে। তবে ছোটোগল্প ছোটো হলেও এর রেশ রয়ে যায়। পাঠককে ভাবায়, শেষটা আসলে কেমন হবে সে চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে। যান্ত্রিক এই যুগে অন্যকে নিয়ে ভাবার সময় কম। সবাই ছুটছে। সেই ছুটোছুটির মাঝে ছোটোগল্পের স্বাদ আচ্ছাদন করা-ই যায়! ❛অপভ্রংশ❜ মানে বিচ্চুতি বা বিকৃত। লেখকের চিন্তার নানা দিক বা খন্ড খন্ড চিন্তার সম্মিলিত প্রয়াস এই ছোটোগল্প সংকলন। সংকলনে স্থান পেয়েছে ৮ টি গল্প। প্রতিটি গল্পের শেষে লেখক বিষাদের একটা প্রলেপ দিয়ে দিয়েছেন। 🌿 নিত্য বৃত্ত অতীত শ্মশানের ম ড়া পো ড়া নো র কাজ করে অভয়চরণ। প্রতিদিনের একঘেয়েমী কাজ, খাওয়া আর ঘুমের ফাঁকে একটা ভিন্ন ঘটনা ঘটছে বেশ কিছুদিন ধরে। ফাউজিয়া ইয়াসমিন নামে একটি মেয়ের চিঠি। ঠিকানা সব ঠিক কিন্তু নামটা ভবতোষ দা। এ নামে কেউ এখানে থাকে না। অভয় চিনেও না। কদিন পরপর-ই চিঠি আসে। চিঠিতে ফাউজিয়া নামের মেয়েটি ভবতোষের কাছে প্রতারিত হওয়ার কথা বলে, অপেক্ষা করে তার মায়ের। চিঠির উত্তর পাবে কি পাবে না জানে না। তবু চিঠি লেখে। আর সে চিঠিগুলোর পাঠক অভয়চরণ। চিঠি পড়তে পড়তে সে কখন ফাউজিয়ার জীবনে ঢুকে পরে জানে না। চায় ফাউজিয়ার সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু কীভাবে? গল্পটা শুরুতে একঘেয়ে লাগলেও শেষে এসে অবাক হয়ে যেতে হবে। ভাবতে হবে আসলেই যা ভাবছি তাই কি? না নিজেকে অভয়ের মতো বুঝ দিবো? 🌿 জুগুস্পসা টাকা মানুষের জীবনে এক অদ্ভুত প্রভাব বিস্তার করে। টাকা কাউকে সুখ দেয়, আবার সে টাকাই কারো সুখ কেড়ে নেয়। টাকার লোভে আচ্ছা খাসা মানুষ পর্যন্ত অপরিচিত আচরণ করে। টাকার কাছে ভালোবাসাও বিকিয়ে যায়। প্রেমিকা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে দেখে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য টাকার দরকার। আরেকজন জীবনের কঠিন সময় পার করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছে। দুজনের এই সুখের মানদন্ড টাকা। ঘটনাক্রমে পরিচয় হয় তাদের। জানে তাদের দুঃখের কথা। সে দুঃখে মিলিত আছে ঘৃণা অর্থাৎ জুগুপ্সা। টাকা মানুষের জীবনে কী রকম প্রভাব ফেলে আর এর ফলে আমাদের মধ্যে থাকা সুপ্ত কিন্তু কুৎসিত দিককে আচমকা কীভাবে প্রকাশ করিয়ে ফেলে এ গল্প পড়লে বোঝা যায়। আমাদের জীবনে চলার পথে নানা ঘটনার একটা ছোট্ট অংশ ❛জুগুপ্সা❜। 🌿 ❛আত্মা❜ হনন ভালোবাসার মানুষ অন্য কারো কাছে সুখ খুঁজে নিয়েছে জানার পর ঠিক কেমন অনুভূত হয়? যাকে এত ভালোবাসলো সেই অর্পিতা-ই কি না তার অফিসের কর্মকর্তার সাথে নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়ালো? মেনে নিতে পারছে না। তাই সিদ্ধান্ত নিলো সেই তন্ময়কে খু ন করবে। কীভাবে এবং কী দিয়ে করবে ভাবা আছে। শুধু সুযোগ সময় আর অ স্ত্রে র অপেক্ষা। অ স্ত্র জোগাড় করতেই খোঁজ পেলো এক অদ্ভুত ম দের দোকানের খবর। যেখানে আত্মা কেনা-বেচা-বন্ধক রাখা যায়। তাই করবে। আত্মা্র বদলে কিনে নিবে পি স্ত ল। তাই দিয়ে পরিকল্পনা মতো শেষ করে দিবে তন্ময়কে। পারবে কী? পরকীয়া কীভাবে ভালোবাসাকে শেষ করে দেয় এর বাস্তবচিত্র একটু ফ্যান্টাসির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন লেখক। ভালোবাসায় ধোঁকা খাওয়া মানুষটার মনের ভেতরের কষ্ট গুলো কেমন হয় তা শুধু ভুক্তভোগী-ই জানে। গল্পের শেষটা আগেই কিছুটা ধারনা করা যায়। তবে অবশ্যই বিষাদমাখা সমাপ্তি। 🌿 সমাধি স্বামী-স্ত্রী মিলে সুখে সংসার করতে করতে একসময় সেই সংসারে পরিপূর্ণতা আনতে দরকার একটা ফুটফুটে শিশুর। সেই একটা শিশুর অভাব আছে রেণুকা আর তার স্বামীর সংসারে। স্বামী নিজে আত্মগ্লানিতে ভুগে। অতীতের কথা ভাবে। ভাবে তনুজার কথা। তনুজার সাথে যা হয়েছিল রেণুকার সাথেও কি তাই হবে? রেণুকাকে ভালো রাখতে রেণুকার সব কথাই শুনে সে। তবে আর পারছে না। এর একটা ইতি টানবে এবার। তাই রেণুকাকে শেষবারের মতো চমকে দিতে চায়। আর এরপরেই? অদ্ভুত একটা গল্প। গল্পের কিছুটা পড়তেই ঘটনা বুঝে ফেলা যায়। তবে শেষটা ভাবনার সাথে মিলে নাকি সে আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়ন আর নিজের দোষ এড়িয়ে অন্যকে চাপিয়ে দেয়ার একটা সূক্ষ্ণ বিষয় গল্পে প্রকাশ পেয়েছে। 🌿 অপঘাত একজন ফটোগ্রাফার। যে চেয়েছিল উঁচুতে উঠতে। কিন্তু ভাগ্য আর পরিবেশ তাকে মামুলি ফটোগ্রাফার বানিয়ে রাখলো। বাড়তি আয়ের জন্যে যে শিল্পীদের দুষ্টু ছবি তুলে থাকে। মামুলি সে ফটোগ্রাফার একদিন তুলে ফেললো ভিন্ন এক ছবি। যে ছবি নিয়ে সে নানা মানুষের ফোন পেতে থাকলো। একটা ঠিকানার জন্য যে ভয়ে তটস্থ হয়ে গেলো। জীবনের ঝুঁকি অনুভব করতে লাগলো। আর সব ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে বেছে নিলো এক কঠিন পথ। গল্পটা আগ্রহ জাগানিয়া। শেষটা পড়তে গিয়ে আফসোস হবে। কেন এমন হলো? না হলে-ই তো পারতো, জাতীয় অনুভূতিতে ছেয়ে যাবে আপনার মন। 🌿 অন্বয় আচ্ছা কখনও যদি সরকার থেকে নির্দেশ দেয়, কেউ আর গল্পের বই, কল্প-সাহিত্য তথা লেখাপড়ার বইয়ের বাইরে আউট বই পড়তে পারবে না। পড়লে জে ল হবে। সাহিত্যপাঠ একেবারে আইনদ্বারা নিষিদ্ধ করে দেয়া হলো। কেমন লাগবে? বইপোকারা যেখানে একটা দিন বই ছাড়া ভাবতেই পারে না। লেখকের কল্পনার সাথে যেখানে নিজেকে রাঙিয়ে নেয়, সেখানে সাহিত্যপাঠ নিষিদ্ধ হলে বেঁচে থেকে কী লাভ হবে? এমন-ই একটি আদেশ জারি হলো। মানুষকে লেখকরা তাদের আবেগভরা কল্পনার লেখায় মাতিয়ে দিচ্ছে। বাস্তবতা থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। তাই গাইড বই, চাকরি বই এসব ছাড়া কল্প-সাহিত্য নিষিদ্ধ। লেখকদের বেদম পে টা নো হচ্ছে। সব বই পু ড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। নিজেকে বাঁচাতে লেখক রফি পালাচ্ছে। তুরিনের কাছে দিয়ে গেছে এক দায়িত্ব। তুরিন ঠিকমতো কাজ করলে বেঁচে যাবে কিছু নিরীহ লেখক। তুরিন পারবে কি? গল্পটা গল্প হলেও এর মাঝে লেখক যে বার্তা দিতে চেয়েছেন, খুব ভালো লেগেছে। উপন্যাস তথা কল্প-সাহিত্য নিয়ে লেখক যে কল্পনা করেছেন তা দারুণ লেগেছে। 🌿 চ্যানেল নম্বর ৩৩ অনেক কষ্টে চাকরিটা পেয়েছে মিলি। ভুয়া তথ্য দিয়ে চাকরি না নেয়া ছাড়া আর উপায় ছিল না। চাকরি করতে গিয়ে কলিগ শিরিন আপার উপর সে যারপরনাই বিরক্ত। মিলির ধারনা শিরিন তাকে নিয়ে হিংসাপরায়ণ। তাইতো মিলির দিকে নজর রাখে। গা জ্বলে যায় মিলির। এভাবে হবে না। আরেকটু পাকাপোক্ত হয়ে শিরিনের চাকরিটা খেয়ে ফেলতে হবে, অথবা শিরিনকেই! শিরিনের বিহিত করতে ফেসবুকে ❛চ্যানেল নম্বর ৩৩❜ নামে একটা পেইজের খোঁজ পায়। সেখানের ভিডিও দেখে নানা উপায় শিখতে থাকে। সর্বশেষ উপায়ে জানতে বড়ো পদক্ষেপটাও নিয়ে নেয় মিলি। উত্তরার ফ্ল্যাটে দাঁড়িয়ে শিরিনকে শিক্ষা দিতে এসে এ কোন সত্যের মুখোমুখী মিলি? সাধারণ মেয়ে মিলির নিজেকে টিকিয়ে রাখতে, প্রমাণ করতে আর কিছুটা প্রতিযোগিতা করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো কতটা সঠিক ছিল তাই নিয়ে এই ছোটোগল্প। দূর থেকে আমরা একজনকে দেখে যা ভাবি তার মধ্যে সত্য-মিথ্যার ভাগ কতটা এই গল্পটা সে শিক্ষা-ই দেয়। 🌿 অধ্যাস বন্ধুদের গেট টুগেদারে কত কিছুই তো হয়। আধুনিক যুগের গেট টুগেদার তাও আবার পাঁচজন প্রতিষ্ঠিত বন্ধুর মধ্যে, মানেই তো বিশাল কিছু। গেট টুগেদারে খু ন হয়ে যায় একজন। সে তদন্ত করতে গেট টুগেদারে থাকা লিসার কাছে আসে তদন্ত কর্মকর্তা আর একজন মহিলা কন্সটেবল। তদন্ত করতে করতে একসময় কর্মকর্তার উদ্দেশ্য ধরতে পারে লিসা। লিসা কী করবে? স্রোতে গা ভাসাবে, না বন্ধু আবার যার প্রতি একসময় প্রেমের টান ছিল তার হয়ে স্টেপ নিবে? থ্রিলার ধরনের গল্প। রহস্য আছে। আছে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য দোটানা অনুভূতি। ভালো লেগেছে। ❛অপভ্রংশ❜ সুন্দর একটি গল্প সংকলন। প্রতিটি গল্পের শেষে বিষাদ অনুভূতি কাজ করে। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে অপঘাত গল্পটা ভালো লেগেছে। তবে লেখকের তিনটা উপন্যাস পড়ে তার থেকে আশা আরো অনেক বেশি ছিল। ছোটোগল্প আর উপন্যাসের ভাব এক হবে না। তবুও ঐ যে আশা! ছোটোগল্প বা সংকলন আমার খুব একটা প্রিয় জনরা নয়। লেখকের নতুন লেখা তাই পড়া। শব্দযাত্রা লেখক সংঘ, প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্প পড়ার পর লেখক থেকে সেরকম সুন্দর বই আশা করতেই পারি। এছাড়াও পুরো বই জুড়ে ই/য় এর সমস্যা দেখা গেছে যা পড়ায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। ক্রাউন সাইজের বইটি দেখতে সুন্দর। প্রচ্ছদও মানানসই। বইয়ের শুরুতে স্বাক্ষর দিতে গিয়ে লেখক লিখেছেন, আমরা মা রা যাই তারপর গাছ হয়ে যাই, তারপর বই হয়ে ফিরে আসি। কথাটা খুব ভালো লেগেছে। এছাড়াও উৎসর্গপত্রটা ভালো লেগেছে।
🔘 অপভ্রংশ মানে কী জানেন তো? বিকৃত। মূলত অপভ্রংশ শব্দটি দ্বারা শাব্দিক বিকৃতি বোঝানো হয়। তবে এর মূল যে অর্থ, সে অনুযায়ী তাকে যেকোনো বিকৃতিতে খাপ খাওয়ালেও দোষের কিছু দেখি না।
আমাদের সমাজে বিকৃত মানসিকতার মানুষের কি অভাব? আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ক্ষেত্রে বিকৃত মানসিকতা ধারণ করি। এখন আপনি তা স্বীকার করলে তো ভালো, স্বীকার না করলে আপনাকে স্যালুট ভাই।
নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মানুষ যেসকল কাজ করে থাকে, সেগুলোকেই বিভিন্ন আঙ্গিকে দেখানোর চেষ্টা করেছেন লেখক- জুবায়ের আলম। রুপক হিসেবে বা চোখে আঙুল দিয়ে, উভয়ভাবেই 'অপভ্রংশ' প্রকাশের চেষ্টা করেছেন তিনি।
🔳 বইটা কী ধরণের?
🔘 'অপভ্রংশ' মূলত একটি গল্পগ্রন্থ। মোট গল্পের সংখ্যা আট। এই আটটি গল্প ১২৮ পৃষ্ঠার বইয়ে মলাটবদ্ধ হয়েছে। গল্পগুলোর জনরা/জঁরা নির্ণয় করতে অবশ্য আমাকে একটু বেগই পেতে হয়েছে। পড়ার সময় আবহ একইরকম মনে হবে অধিকাংশ গল্পের। এদেরকে সামাজিক বললে উপযুক্ত হবে না আবার রহস্যগল্প বা স্যাটায়ার কিংবা ট্রাজিক বললেও যথার্থ হবে না। তবে এসবকিছুরই স্বাদ পাবেন গল্পগুলোতে।
🔳 লেখক পাঠকদের কী মেসেজ দিতে চেয়েছেন?
🔘 প্রথম কিছু গল্প পড়ে যারপরনাই বিরক্ত হয়েছি। কিন্তু কেন? আ��ে বাপু, টানা তিন তিনটে গল্পে একইরকম পরিবেশ বজায় রেখে একই খাবার ভিন্ন পাত্রে রেখে খাওয়াতে চাইলে বিরক্তি আসবে না? লেখক এই গল্পগুলোতে দেখাতে চেয়েছেন-- মানুষ সমাজের বিভিন্নরকম দুর্নীতি কিংবা মানুষের লোভ-লালসার শিকার হয়ে নিজে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই হতাশা তাকে প্রচণ্ড প্রতিশোধপরায়ণ করে তোলে৷ এর ফলে সেই লোকগুলো চরমপন্থা অবলম্বন করতে উদ্বুদ্ধ হয়। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এসব নিয়েই গল্প। এই কাহিনী নিয়ে যদি একটিমাত্র গল্প রচিত হত, তবে আমি সেটিকে প্রশংসার দাবীদার বলতাম। তবে তিনটে গল্প একই কায়দায় বলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের গড়পড়তা তকমা দিচ্ছি ব্যক্তিগতভাবে।
সমাজের বেশিরভাগ মানুষ, এমনকি যে পাঠক এই গল্পগুলো পড়বে, তাদের কাছে কিন্তু এই ঘটনাগুলো আহামরি কিছু নয়। নিজ জীবনে প্রতিনিয়তই তা দেখে শুনে আসছে সকলে। এখন লেখক হিসেবে জুবায়ের আলম যদি কলমের কালিতে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে ফুটিয়ে তুলতে চান, তবে ঠিক আছে।
এছাড়াও বাকি যে গল্পগুলো আছে, তা মানুষের ধূর্ততার গল্প, উচ্চাভিলাষের গল্প আর হিংস্রতার গল্পে ভরপুর। শুরুর গল্পগুলোর তুলনায় অন্তিম গল্পগুলোর গতি তুলনামূলক বেশি ছিল, তবে মোটাদাগে লেখক সেই একই কথা বোঝাতে চেয়েছেন--
মানুষ খারাপ! মানুষ খারাপ! মানুষ খারাপ! পরিস্থিতি মানুষের মনুষ্যত্ব হরণ করে।
লেখক কি কোনো কারণে নিজের হতাশাগুলোকেই অক্ষরে অক্ষরে ব্যক্ত করে যাচ্ছেন? কে জানে?
🔳 গল্পগুলো কি পয়সা উসুল করার মত গল্প? পয়সা উসুল করার মত বইটিতে আদৌ কিছু আছে কি?
🔘 আমার কাছে জগতের সকল বইকেই পয়সা-উসুল ধরণের মনে হয়। এর কারণ কী?
আমি যখন একটি বই খুলে বসি, জগতের সকল দুশ্চিন্তা খানিকক্ষণের জন্য পালিয়ে যায়। আমি বিচরণ করি অন্য জগতে। যে জগৎ হয়তো কখনো আমি নিজ কল্পনাতেও দেখতে পেতাম না।
'অপভ্রংশ'- ফিকশন হিসেবে এমনিতে দারুণ। ক্যারেক্টারগুলো ইউনিক। জুবায়ের আলমের লেখনীতে রয়েছে স্বকীয়তা। শেষের গল্পগুলোতে রয়েছে থ্রিল ও টুইস্ট। প্রচ্ছদ অসাধারণ। তিনশ টাকা মলাটমূল্যের বইটি মোটাদাগে 'গড়পড়তা', অর্থাৎ মন্দ নয়। পয়সা উসুল নিশ্চিত! তবে কিছু বই আছে, মূল্যের চেয়ে ঢের বেশি আনন্দ দেবে আপনাকে, সেরকম কিছু নয়।
🔳 বই প্রকাশে প্রকাশনা সংস্থা তাদের সর্বোচ্চ দিয়েছে কি?
🔘 সরাসরি উত্তর-- না। বইয়ে প্রচুর বানান ভুল যা প্রুফ রিডারের অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। টাইপিং ভুল এক জিনিস আর না জানা অন্য জিনিস। বহু জায়গায় 'য়' এবং 'ই' এর ব্যস্তানুপাতিক ব্যবহার এবং 'য-ফলা' এর সাথে 'আ-কার'-এর ব্যবহারে অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। ণ-ত্ব বিধানেও মনে হলো কোথাও একটু অসংগতি দেখেছিলাম। তার ওপর বাক্য গঠনে লেখকের চোখ এড়িয়ে যাওয়া ভুলও প্রুফ দেখা ব্যক্তিরা ধরতে পারেননি। এসব যদি অজ্ঞতা না হয় তবে তা গাফেলতি ছাড়া কিছুই নয়। প্রকাশক নিজেও কোনোভাবেই এসবের দায় এড়াতে পারেন না।
তবে প্রচ্ছদ অসাধারণ লেগেছে এবং বাঁধাই সন্তোষজনক ছিল।
🔳 বইটা কিনব কি-না বলেন।
🔘 অবশ্যই কিনবেন। জুবায়ের আলমের লেখার হাত ভালো। শব্দের ব্যবহার ভালো। বইয়ের গল্পগুলোর মূলভাবে ভিন্নতা না থাকলেও গল্পগুলো ভালো। পকেট সাইজের বই-তো, হাতে ধরে আরাম আছে। হালকা-পাতলা বই, যেকোনো জায়গায় বসে হাতে ধরে চোখ বুলিয়ে যেতে পারবেন। এটা একটা দারুণ দিক।
🔳 আর কিছু?
🔘 হ্যাঁ, আপনি পড়ার পর সুযোগ পেলে একবার এই পোস্টে এসে জানিয়ে যাবেন, আমার মতামতের সাথে আপনি সহমত না-কি ভিন্নমত। ধন্যবাদ আপনাকে।
'অপভ্রংশ' ছোটগল্পের বইটার গল্প কেমন, বিষয়বস্তু, কি সমাচার জানার আগে বলেন, অপভ্রংশ বিষয়টা কি মনে আছেতো? নাকি ইয়াদ করায় দিব? ম্যালা আগে, সম্ভবত পতঞ্জলির মহাভাষ্যে প্রথম উল্লেখের পর জ্ঞানীগুণিরা ডিসাইড করলেন পালি আর প্রাকৃত ভাষার মধ্যে অপশব্দ গুলারে তারা অপভ্রংশ ডাকবেন। আমরা একবাক্যে যেইটারে বলতে পারি ভাষার বিকৃতি, অশুদ্ধ ভাষা। এই জ্ঞানটা ঝাড়লাম গল্পগুলা কেমন বুঝাইতে। লেখক জুবায়ের আলম কে আমি যতটুকু পড়েছি আমার মনে হয়েছে উনি অপাঙতেয় মানুষদের খুব পার্ফেক্টলি ডিটেক্ট করতে পারেন। এই ধরেন কেউ প্রেমে, কেউ চাকরিতে, কেউ সংসারে, কেউ পুরা জীবনে অপাঙতেয়। মানে সমাজের সুক্ষ্ণ ছাকনিতে আটকায় যায় যেসব মানুষগুলা। এই গল্পগুলা আসলে ওইসব মানুষদের চরমপন্থায় নামা বিকৃত জীবনের গল্প। জুবায়ের আলমের লেখা এমনিতেই অনেক ডিটেইলড, আকর্ষণীয়। টানা পড়া হয়ে যাবে এমন বই। গল্পের বিষয়বস্তু, বৈচিত্র্য ছিল। সব ভালোই, গোত্তা শুধু কয়েক খানে লেগেছে, খুব ভালোভাবে পড়লে গল্পগুলোকে আপনি একটা ছাঁচে ফেলতে পারবেন। কোনো কোনো গল্পে চরিত্রে-চরিত্রে মিল দেখি বেজায় রকম। টাইমলাইনের সামান্য অসংগতিও চোখে পড়লো দুই একজায়গায়, আর সামান্য অতিগালাজ। নাকি অপভ্রংশদের ব্যাপারগুলাই এমন?
৮ টা সুন্দর ছোট গল্পের সমাহারে শিরোনাম প্রকাশন এর এই বইটা সাজানো।আমি মূলত ছোটগল্প পড়ে মজা পেয়েছি এমন বই খুব কম আছে তবে পছন্দের লিস্টে এই বইটা সবেমাত্র যোগ হলো।এক বসায় পড়ে উঠার মতো হলেও আমি দুইদিন নিয়ে পড়েছি যেনো দ্রুত শেষ না হয় তাই। তবে আন্ডাররেটেড লেগেছে,বইটা আরো সমালোচনা বা রিভিউ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।প্রতিটা গল্প তার নিজের মতো সুন্দর করে সাজানো আর লিখাও সাবলীল,কিছু গল্পে আপনার কষ্ট হবে,কিছু গল্পে মায়া লাগবে আবার কিছু গল্পে থ্রিল ফীল করতে পারবেন।বইটা ক্রাউন সাইজের,কিউট আর হ্যান্ডি তাই পড়েও ভালো লেগেছে🌼 ছোটগল্প যারা ভালোবাসেন অথবা বড় বই পড়ার সময় বা ধৈর্য না থাকলে নিতে পারেন তবে অবশ্যই নিজে যাচাই করে নিজ দায়িত্বে নিবেন।
এক্সপেক্টেশন অনেক বেশি ছিল। পূরণ হল না। ভূমিকার প্রবন্ধটা (তাই বলে ছোটোগল্পই কেন?) অসাধারন। এইজন্য ভাবছিলাম খুব ভালো কিছু গল্প পাবো। বেশিরভাগ এ মোটামোটি লাগলো। গল্পের ট্যুইস্টগুলোও আগেই বোঝা যাচ্ছিল। তবে সমাজের সূক্ষ্ণ অপভ্রংশগুলো যেভাবে তুলে ধরেছে সেইটা ভালো লেগেছে।
সবচেয়ে ভালো লেগেছে "অন্বয়" গল্পটা। এইটা অনেকদিন মনে থাকবে। "চ্যানেল নম্বর ৩৩" ব্যতিক্রমী গল্প ছিল। এই ধরনের আরো কিছু গল্প থাকলে খুব ভালো একটা সংকলন হত এটা।
বই না দাগানো এ আমিই যখন বইয়ের ভুমিকার line দাগানো শুরু করি, তখনই বোঝা যাচ্ছিল বইটা ভালো হবে। 😍 Reading slump এ থাকা অবস্থায় এ ছোট গল্পগুলো একটা ভালো সময় উপহার দিয়েছে। আবার বই পড়ার flow টা পেয়েছি। 🥰
Writer এর এই নিয়ে তিনটা বই পড়লাম, শুধু "প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্পটা" বাকি। সেখান থেকেই বলতে পারি, উনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অনেক বড় একজন লেখক হবেন। ওনার ভাষা শৈলী, শব্দ নির্বাচন, গল্প লিখার ধরণ আমার কাছে ওনাকে একজন সম্মানযোগ্য লেখক করে তোলেন। 😇
বইটার প্রতি সেরকম এক্সপেক্টেশন ছিল না। তারপরও শুরু করার পর চমৎকার লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে প্রতিটা ছোটগল্পের শেষ পাতায় আপনাকে টুইস্ট দেওয়ার ব্যাপারটা। কিছু ক্ষেত্রে উদ্ধৃতি গুলো চমৎকার লেগেছে। লেখক ছোটগল্প নিয়ে আরো কাজ করলে অনেক দূর এগিয়ে যাবেন বলে আশা করছি।
Some were good, they had the original mark of Jubaer Alam. But some were also sub-par. They were not bad to be honest. Just my expectation was a little bit higher 🤷♂️
Khali nam dekhei boi choose korechilam- ektu o idea chilona j bhitore ki ache - bhaggo bhalo boi ta disappoint koreni. Sob gula story e etto sundor kore lekha !!!!