What do you think?


অদ্ভুতুড়ে #12
পটাশগড়ের জঙ্গলে
জয়পতাকাবাবু ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের নামকরা অঙ্কের মাস্টারমশাই। ছেলেরা তাঁকে ভয় খায় বটে, কিন্তু বীর বলে মনে করে না। কিন্তু একদিন শহরের লোকজন বিস্মিত হয়ে দেখলো, শহরের বিখ্যাত ষাঁড় কালুর পিঠে জয়পতাকাবাবু সওয়ার হয়ে বসে আছেন এবং কালু ভীত ও বিস্মিত হয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য ছুটছে। পিঠ থেকে জয়পতাকাবাবুকে নামানোর জন্য ছুটতে ছুটতে কালু গিয়ে পড়লো পটাশগড়ের ভয়াবহ জঙ্গলের মুখে। এই জঙ্গলে বাঘ, ভালুক, চিতা, গণ্ডার, জোঁক, সাপ, বিছে সবই আছে। আরো আছে ভুতুড়ে জলা, চোরাবালি, গভীর খাদ। পটাশগড়ের আরও নানা বদনাম আছে। বাঘা শিকারি শ্যাম লাহিড়ী অবধি পটাশগড়ে একেবারের বেশি দুবার ঢোকেননি। জয়পতাকাবাবু কি ফিরতে পারবেন?
108 pages, Hardcover
First published January 1, 1989
About the author
Shirshendu Mukhopadhyay
412 books965 followersশীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 54 reviews
July 1, 2018
ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের সাথে কালীতলা স্কুলের ফুটবল ম্যাচ। নামকরা দুই টিমের খেলা। মাঠে কাতারে কাতারে লোক জড়ো হয়েছে খেলা দেখতে। স্বয়ং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত পুরষ্কার বিতরণীর জন্য। সুতরাং বুঝায় যায় এই খেলার গুরুত্ব। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এই ফুটবল টিমে ভুতুর জায়গা হয় নি। ভুতু হলো এই শহরের সবচেয়ে বিচ্ছু ছেলে। বাবা-মা নেই। বিধবা পিসির কাছে মানুষ হচ্ছে।
ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের ক্লাস এইটের ছাত্র। পড়ালেখায় ভালো না তবে খেলাধূলার মাধ্যমে প্রায়ই পুরষ্কার জুটে। এবার ফুটবল টিমে জায়গা না হওয়ার কারণ হলো, ইংরেজি ক্লাসে হেডস্যারের টেবিলের নিচে কাকড়া বিছা রেখেছিলো ভুতু। তাই স্যার রেগেমেগে অপরাধের শাস্তি হিসেবে টিমে জায়গা দিলো না ভুতুকে। আর ভুতুর হলো এতে প্রচন্ড রাগ। ফুটবল খেলা ভেস্তে দেয়ার জন্য খেলার দিন মাঠে ছেড়ে দিলো কালুকে। কালু এই এলাকার সবচেয়ে প্রকান্ড, রাগী ষাঁড়। সবাই তাকে মান্যগণ্য করে চলে। মাঠে ঢুকে প্রচন্ড তান্ডবলীলা চালাতে শুরু করলো কালু। তান্ডব সামলাতে এগিয়ে এলো জয়পতাকাবাবু।
লালসালু দিয়ে কালুর সাথে যুদ্ধ শুরু হলো জয়পতাকা বাবুর। জয়পতাকা বাবু হলেন ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক। যাই হোক, কালুর সাথে যুদ্ধ চলাকালীন সময় হটাৎ করে মাঠের সবাই দেখলো কালুর পিঠের উপর জয়পতাকা বাবু। আর কালু পাগলের মতো ছুটছে। ছুটতে ছুটতে কালু বেরিয়ে গেলো মাঠ থেকে। জয়পতাকা বাবুকে পিঠের উপর নিয়ে ছুটতে ছুটতে পৌছঁলো পটাশগড়ের জঙ্গলে। যে জঙ্গলে কেউ যায় না। দিনের বেলাতেই যে জঙ্গলকে ভূতুড়ে মনে হয়। সেই জঙ্গলে জয়পতাকা বাবুকে নিয়ে ফেললো কালু। পরের দিন সকালে কালুকে আবার দেখা গেলো বাজারে। কিন্তু খবর নেই জয়পতাকা বাবুর। এ কি কান্ড...? কালু নিয়ে কোথায় ফেললো..? শহরের সবাই দেখেছে কালুকে জঙ্গলের দিকে যেতে! কালু সেখান থেকে ফিরলো আর জয়পতাকা বাবু উধাও..?
ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের ক্লাস এইটের ছাত্র। পড়ালেখায় ভালো না তবে খেলাধূলার মাধ্যমে প্রায়ই পুরষ্কার জুটে। এবার ফুটবল টিমে জায়গা না হওয়ার কারণ হলো, ইংরেজি ক্লাসে হেডস্যারের টেবিলের নিচে কাকড়া বিছা রেখেছিলো ভুতু। তাই স্যার রেগেমেগে অপরাধের শাস্তি হিসেবে টিমে জায়গা দিলো না ভুতুকে। আর ভুতুর হলো এতে প্রচন্ড রাগ। ফুটবল খেলা ভেস্তে দেয়ার জন্য খেলার দিন মাঠে ছেড়ে দিলো কালুকে। কালু এই এলাকার সবচেয়ে প্রকান্ড, রাগী ষাঁড়। সবাই তাকে মান্যগণ্য করে চলে। মাঠে ঢুকে প্রচন্ড তান্ডবলীলা চালাতে শুরু করলো কালু। তান্ডব সামলাতে এগিয়ে এলো জয়পতাকাবাবু।
লালসালু দিয়ে কালুর সাথে যুদ্ধ শুরু হলো জয়পতাকা বাবুর। জয়পতাকা বাবু হলেন ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক। যাই হোক, কালুর সাথে যুদ্ধ চলাকালীন সময় হটাৎ করে মাঠের সবাই দেখলো কালুর পিঠের উপর জয়পতাকা বাবু। আর কালু পাগলের মতো ছুটছে। ছুটতে ছুটতে কালু বেরিয়ে গেলো মাঠ থেকে। জয়পতাকা বাবুকে পিঠের উপর নিয়ে ছুটতে ছুটতে পৌছঁলো পটাশগড়ের জঙ্গলে। যে জঙ্গলে কেউ যায় না। দিনের বেলাতেই যে জঙ্গলকে ভূতুড়ে মনে হয়। সেই জঙ্গলে জয়পতাকা বাবুকে নিয়ে ফেললো কালু। পরের দিন সকালে কালুকে আবার দেখা গেলো বাজারে। কিন্তু খবর নেই জয়পতাকা বাবুর। এ কি কান্ড...? কালু নিয়ে কোথায় ফেললো..? শহরের সবাই দেখেছে কালুকে জঙ্গলের দিকে যেতে! কালু সেখান থেকে ফিরলো আর জয়পতাকা বাবু উধাও..?
May 28, 2021
ইয়ে মানে, ষাড়ের গুতো এবং ধুতি কাছা দেয়া বাঙালি ম্যাটাডোর জয়পাতাকা বাবুকে(বাবার নাম জয়োল্লাস, দাদার নাম জয়ধ্বনি) নিয়ে শুরু হওয়া উপন্যাসটা যে কখন কল্পবিজ্ঞান এবং সমান্তরাল বিশ্বের মত জটিল সব টপিকে এসে শেষ হলো টেরই পেলাম না। কি চমৎকার উপস্থাপন!
September 22, 2025
দুর্দান্ত। আগে কেন পড়লাম না। তার জন্য আফসোস হচ্ছে।
May 19, 2022
হাসির খোরাক আর সায়েন্সফিকশনের মশলা নিয়ে শীর্ষেন্দুবাবু সাজিয়েছেন 'পটাশগড়ের জঙ্গলে '। মজার ব্যাপারটা হলো যখন "জয়পতাকাবাবু কালুকে পরাস্ত করতে পারায় শহরের একপ্রান্তে উনার সাহসিকতায় নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আবার অন্যদিকে শিবের বাহক কালুর পিঠে চড়ায় জয়পতাকাবাবুকে ধিক্কার সভা অনুষ্টিত হবে। কিন্তু দুই সভারই সভাপতি পৌরঅভিভাবক ব্যোমকেশবাবু! তাই দুই সভার জন্যে দুইরকম বক্তৃতা তিনি মুখস্ত করছেন 😄 " হাসিতামাশা সবকিছু মিলিয়ে দারুন এডভেঞ্চারধর্মী উপন্যাস এইটা।
September 6, 2012
বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে শীর্ষেন্দু'র অবদান নিয়ে আলোচনা প্রায় হয়ই না। কিন্তু মজা আর আপাত 'অদ্ভুতুড়ে' ভাবনার আড়ালে এই মানুষটি যে শিশু-কিশোর পাঠকদের মনে কত প্রশ্নের জোনাকি জ্বালিয়েছেন, তার ইয়ত্তা নেই।
এই কাহিনিটি যথার্থ কল্পবিজ্ঞান হয়তো নয়; কিন্তু এমন সার্থক সায়েন্স-ফ্যান্টাসি সর্বার্থে বিরল।
তারই সঙ্গে আছে রোমাঞ্চ, আছে মজা, আর আছে শেষ লাইনের অমোঘ টুইস্ট।
অতুলনীয় লেখা। পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলায় পড়ে ফিদা হয়েছিলাম। পরে বই আকারেও পড়েছিলাম। আর একেবারে হালে আবার পড়লাম কিশোর উপন্যাস সমগ্র-তে।
এ-সব লেখাকে জাতির সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত, মাইরি!
এই কাহিনিটি যথার্থ কল্পবিজ্ঞান হয়তো নয়; কিন্তু এমন সার্থক সায়েন্স-ফ্যান্টাসি সর্বার্থে বিরল।
তারই সঙ্গে আছে রোমাঞ্চ, আছে মজা, আর আছে শেষ লাইনের অমোঘ টুইস্ট।
অতুলনীয় লেখা। পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলায় পড়ে ফিদা হয়েছিলাম। পরে বই আকারেও পড়েছিলাম। আর একেবারে হালে আবার পড়লাম কিশোর উপন্যাস সমগ্র-তে।
এ-সব লেখাকে জাতির সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত, মাইরি!
March 23, 2025
সিরিজের শুরুর দিকের গল্পগুলোর মতো দুর্দান্ত কমেডি; সাথে অদ্ভুতুড়ে সাই-ফাই আর সাসপেন্স! এককথায় এনজয়েবল।
October 1, 2023
ওয়ান অফ দ্যা কুলেস্ট অদ্ভুতুড়ে এভার। টাইম ব্যারিয়ার, ফ্রিকোয়েন্সী চেঞ্জ, ছয়মাত্রার ইকুয়েশন,প্যারালাল ওয়ার্ল্ড কি নেই! মানে পুরোদস্তুর কল্পবিজ্ঞান। তাও মাত্র ১০০ পাতায়!গড টিয়ার লেখা একেই বলে। এটা অন্যান্য অদ্ভুতুড়ে থেকে অনেক আলাদা।
মাঝে ষাড়টা ঢুকে একটু রসবৃদ্ধি করেছে।
খুব সুন্দর। ভেরি গুড।
বি.দ্র: আজকাল সানডে সাসপেন্স অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অডিও রূপান্তর করছে। এই গল্পটাকে তাদের নজরে আনা দরকার।
মাঝে ষাড়টা ঢুকে একটু রসবৃদ্ধি করেছে।
খুব সুন্দর। ভেরি গুড।
বি.দ্র: আজকাল সানডে সাসপেন্স অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অডিও রূপান্তর করছে। এই গল্পটাকে তাদের নজরে আনা দরকার।
October 22, 2022
জয়পতাকা স্যারের ষাড়ের সাথে লড়াই,ভুতুর অভিযান,জয়ধ্বনি আর শ্যাম লাহিড়ির বাকযুদ্ধ,বোমক্যাশের বোকামি। সব মিলিয়ে ভালোই। তবে কেন জানি চিরায়ত স্বাদটা পাইলাম না।
May 5, 2026
আমি আর ছোট নাই, এর চেয়ে বড় আফসোসের আর কিছু নাই।
আই উইশ আমি অদ্ভুতুড়ে সিরিজটা আমার ছোট বেলায় পড়ার সৌভাগ্য পেতাম! 😩
আই উইশ আমি অদ্ভুতুড়ে সিরিজটা আমার ছোট বেলায় পড়ার সৌভাগ্য পেতাম! 😩
January 16, 2017
যতক্ষণ কালু নামের ষাঁড় এর কথা হচ্ছিল ততক্ষন ভাল লাগছিল! কালু গেল আর মজাটাও যেন অর্ধেক নিয়ে গেল। এখন আবার হেটারস রা বলবে চতুষ্পদ প্রাণীর প্রতি আমার গভীর ভালবাসা আছে।
May 21, 2022
হাসির খোরাক আর সায়েন্সফিকশনের মশলা নিয়ে শীর্ষেন্দুবাবু সাজিয়েছেন 'পটাশগড়ের জঙ্গলে '। মজার ব্যাপারটা হলো যখন "জয়পতাকাবাবু কালুকে পরাস্ত করতে পারায় শহরের একপ্রান্তে উনার সাহসিকতায় নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আবার অন্যদিকে শিবের বাহক কালুর পিঠে চড়ায় জয়পতাকাবাবুকে ধিক্কার সভা অনুষ্টিত হবে। কিন্তু দুই সভারই সভাপতি পৌরঅভিভাবক ব্যোমকেশবাবু! তাই দুই সভার জন্যে দুইরকম বক্তৃতা তিনি মুখস্ত করছেন 😄 " হাসিতামাশা সবকিছু মিলিয়ে দারুন এডভেঞ্চারধর্মী উপন্যাস এইটা।
February 20, 2017
বলিহারি যাই !
^_^
^_^
Read
December 29, 2018বহুবার পড়া, তাও কী যে মজা লাগে! :P
February 13, 2021
নাম দেখে ভাবছিলাম আইম গনা রিড সামথিং ফিশি বাট ষাঁড়ের গুঁতোয় রহস্য সাই ফাই বনে গেল!
February 11, 2026
জয়পতাকাবাবুকে দেখে কিন্তু মোটেই বীর বলে মনে হয় না। তিনি ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক। বয়স পঁচিশ-ছাব্বিশের বেশি নয়। কিন্তু গাম্ভীর্য, পোশাক আর চালচলনে প্রবীণের মতো দেখায়। ছেলেরা তাকে ভয় খায় বটে, কিন্তু বীর বলে মনে করে না।
সেবার ভজুরাম মেমোরিয়ালের সঙ্গে কালীতলা স্কুলের ফুটবল ম্যাচ। দুটোই নামা টিম। সুতরাং মর্যাদার লড়াই। মাঠে কাতারে কাতারে লোক জড়ো হয়েছে খেলা দেখতে। খেলা শুরু হয়-হয়। ঠিক এই সময়ে বিপত্তিটা ঘটল। শহরের সবচেয়ে সাঙ্ঘাতিক জীবটির নাম হচ্ছে কালু। গায়ে-গতরে যেমন বিশাল, তেমনি তার গোঁ আর রাগ। খেপলে সে আরবি ঘোড়ার মতো দৌড়োয়।
ঘোষবাড়ির ভুতু হচ্ছে এ শহরের সবচেয়ে বিচ্ছু ছেলে। ভজুরাম মেমোরিয়ালের ক্লাস এইটের ছাত্র। ফুটবল টিমে তার ডাক অনিবার্য ছিল। কিন্তু হেডসারের ইংরেজি ক্লাসের সময় সে সারের টেবিলের নিচে একটা জ্যান্ত কাঁকড়া বিছে ছেড়ে দেওয়ার অপরাধে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খেলা তো বন্ধই, স্কুল থেকে তাড়িয়েও দেওয়া হতে পারে।ভুতু খেলার দিন একটা পাকা কাঁঠাল জোগাড় করে সোজা বাজারের রাস্তায় কালুকে গিয়ে ধরল। কালু বটতলায় বসে ঝিমোচ্ছিল, কাঁঠালের মনমাতানো গন্ধে চনমন করে উঠল। ভুতু একটি একটি করে কাঁঠালের কোয়া নিজে হাতে কালুকে খাওয়াতে খাওয়াতে খেলার মাঠের দিকে হাঁটতে লাগল। কাঁঠালের সম্মোহনে কালুও তার পিছু পিছু যাচ্ছে।
খেলার মাঠে সাঙ্ঘাতিক ভিড়। চেঁচামেচিও বেশ হচ্ছে। কাঁঠাল খাওয়ানো শেষ করে ভুতু কালুর লেজ ধরে পেল্লায় এক মোচড় দিয়ে বলল, “যাঃ, কালু যাঃ, লেগে পড়। সব লণ্ডভণ্ড করে দে।” কালু লেজের মোচড় পছন্দ করে না। সে ফোঁস করে একটা শ্বাস ছেড়ে বাঘের মতো গর্জন করল। আর তখন, কাঁঠালের ভুতিটা তাকে একবার শুকিয়ে ভুতু সেটা মাঠের মাঝখানে ছুঁড়ে দিয়েই পালাল। তারপর আর কাণ্ডটা দেখতে হল না। কালু আর-একটা গর্জন ছেড়ে তীব্র গতিতে ভিড়ের মধ্যে গিয়ে পড়ল। গোটাচারেক লোক শূন্যে ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়ল। তারপর মাঠের মাঝখানে এক রণতাণ্ডব শুরু করে দিল কালু।
লোকে পড়ি কি মরি করে পালাতে লাগল চারিদিকে। কিন্তু অকুতোভয় জয়পতাকা স্যার স্পেনদেশীয় বুল-ফাইটারদের মতোই অনায়াস দক্ষতায় টানানো সালুটা একটু পাশ কাটিয়ে ধরলেন। কালু তেড়ে আসতেই চট করে সরিয়ে নিলেন। দিগভ্রান্ত কালু খানিকটা দৌড়ে গিয়ে ভুল বুঝতে পেরে ফিরল। এবং আবার মাথা নিচু করে শিং উচিয়ে তেড়ে এল। ডাকাবুকো জয়পতাকাবাবু আবার কালুকে দিগভ্রান্ত করে দিলেন।
এই কাণ্ড দেখে পলাতক লোজনেরা আবার ফিরে আসতে লাগল। চারদিকে করতালি ও হর্ষধ্বনিও শোনা যেতে লাগল। এর ফলে জয়পতাকাবাবু খুবই উদ্দীপ্ত হয়ে উঠলেন। কিন্তু মুশকিল হয়েছে তার পরনে মাটাভোরের পোশাক নেই। তিনি পরেছেন নিরীহ বাঙালির ঢিলেঢালা পোশাক ধুতি আর পাঞ্জাবি। পায়ের পাম্পশুটাও ষাঁড়ের লড়াইয়ের উপযুক্ত জুতো নয়। ফলে হল কি, তার কাছা খুলে গেল, একপাটি জুতো হল নিরুদ্দেশ।
কালু যখন পঞ্চমবার তাকে ক্রোধোন্মত্ত আক্রমণ করতে তৈরি হচ্ছে তখনও জয়পতাকাবাবু রণে ভঙ্গে দিলেন না। অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে জামাটা টেনে বের করে কাছাটা ঠিকমতো আঁটতে গেলেন।
কালু তেড়ে এল। বিভীষণ বেগেই এল। জয়পতাকাবাবু সালুটা নাড়বার চেষ্টা করতে লাগলেন, কিন্তু তাড়াহুড়োয় এবার কাছার সঙ্গে সালুটা গুঁজে ফেলায় ভারী মুশকিল হল। সালুটা পিছনে গোঁজা থাকায় জয়পতাকাবাবুকে কালুর দিকে পিছন ফিরে সালুটা নাড়তে হচ্ছিল। কালু সোজা এসে গদাম করে গুঁতিয়ে দিল জয়পতাকাবাবুকে।
কালু গুঁতো মারল ঠিকই, কিন্তু শূন্যে ওই ডিগবাজি খেয়ে জয়পতাকা নির্ভুলভাবে কালুর পিঠে সওয়ার হয়ে গেছেন। ঠিক ঘোড়সওয়ারের মতোই। তেমনি বুক ফোলানো দৃপ্ত ভঙ্গি। মেরুদণ্ড সোজা রেখে উপবিষ্ট। হাতে অবশ্য চাবুকের বদলে লাল সালু। কালু আর ফিরল না। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটতে লাগল। ছুটতে ছুটতে চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেল। জয়পতাকাকে নিয়ে কালু কোথায় চলেছে কে জানে!
🍁পাঠ প্রতিক্রিয়া 🍁
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের পড়া বইগুলো নিয়ে ভালো লাগা আমার সবসময়। অল্প স্বল্প করে পড়ি কারণ যদি শেষ হয়ে যায় এই ভয় মনে। যখনই স্বাদ বদল করতে হয় অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বই নিয়ে বসে পড়ি। আর এখানে সবগুলো বই ভালো আর মাঝারি গোছের যাই হোক বেশ ভালো সময় কাটে।
পটাশগড়ের জঙ্গলে বেশ অন্যরকম লেগেছে কারণ অনেকটা ভৌতিক, কিছুটা সাইন্স ফিকশন আবার কিছুটা টিপিক্যাল অদ্ভুতুড়ে স্বাদ সব মিলিয়ে মন্দ নয় আসলে। বইটা আগেও পড়েছিলাম আবার পড়লাম রিভিউ লিখতে কারণ তখন তো রিভিউ বুঝতাম না।
পটাশগড়ের জঙ্গলের বর্ণনা লেখক বেশ ভালো ভাবেই দিয়েছেন এবং এই বইটি ভালো লেগেছে আসলে জয়পতাকাকে নিয়ে কালু যখন ছুটতে শুরু করে সেই থেকে। জঙ্গলের মাঝে বেশ সুন্দর বর্ণনা চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। জয়পতাকাকে সাহসী ভেবেছিলাম কিন্তু সময়মতো সেও ভীতু মানুষ হাহাহা। ভুতোকে ভালো লেগেছে। দুষ্টুমির পাশাপাশি ছেলেটার সাহস আছে বেশ।
🍁 বইয়ের নাম: "পটাশগড়ের জঙ্গলে"
🍁লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
সেবার ভজুরাম মেমোরিয়ালের সঙ্গে কালীতলা স্কুলের ফুটবল ম্যাচ। দুটোই নামা টিম। সুতরাং মর্যাদার লড়াই। মাঠে কাতারে কাতারে লোক জড়ো হয়েছে খেলা দেখতে। খেলা শুরু হয়-হয়। ঠিক এই সময়ে বিপত্তিটা ঘটল। শহরের সবচেয়ে সাঙ্ঘাতিক জীবটির নাম হচ্ছে কালু। গায়ে-গতরে যেমন বিশাল, তেমনি তার গোঁ আর রাগ। খেপলে সে আরবি ঘোড়ার মতো দৌড়োয়।
ঘোষবাড়ির ভুতু হচ্ছে এ শহরের সবচেয়ে বিচ্ছু ছেলে। ভজুরাম মেমোরিয়ালের ক্লাস এইটের ছাত্র। ফুটবল টিমে তার ডাক অনিবার্য ছিল। কিন্তু হেডসারের ইংরেজি ক্লাসের সময় সে সারের টেবিলের নিচে একটা জ্যান্ত কাঁকড়া বিছে ছেড়ে দেওয়ার অপরাধে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খেলা তো বন্ধই, স্কুল থেকে তাড়িয়েও দেওয়া হতে পারে।ভুতু খেলার দিন একটা পাকা কাঁঠাল জোগাড় করে সোজা বাজারের রাস্তায় কালুকে গিয়ে ধরল। কালু বটতলায় বসে ঝিমোচ্ছিল, কাঁঠালের মনমাতানো গন্ধে চনমন করে উঠল। ভুতু একটি একটি করে কাঁঠালের কোয়া নিজে হাতে কালুকে খাওয়াতে খাওয়াতে খেলার মাঠের দিকে হাঁটতে লাগল। কাঁঠালের সম্মোহনে কালুও তার পিছু পিছু যাচ্ছে।
খেলার মাঠে সাঙ্ঘাতিক ভিড়। চেঁচামেচিও বেশ হচ্ছে। কাঁঠাল খাওয়ানো শেষ করে ভুতু কালুর লেজ ধরে পেল্লায় এক মোচড় দিয়ে বলল, “যাঃ, কালু যাঃ, লেগে পড়। সব লণ্ডভণ্ড করে দে।” কালু লেজের মোচড় পছন্দ করে না। সে ফোঁস করে একটা শ্বাস ছেড়ে বাঘের মতো গর্জন করল। আর তখন, কাঁঠালের ভুতিটা তাকে একবার শুকিয়ে ভুতু সেটা মাঠের মাঝখানে ছুঁড়ে দিয়েই পালাল। তারপর আর কাণ্ডটা দেখতে হল না। কালু আর-একটা গর্জন ছেড়ে তীব্র গতিতে ভিড়ের মধ্যে গিয়ে পড়ল। গোটাচারেক লোক শূন্যে ডিগবাজি খেয়ে ছিটকে পড়ল। তারপর মাঠের মাঝখানে এক রণতাণ্ডব শুরু করে দিল কালু।
লোকে পড়ি কি মরি করে পালাতে লাগল চারিদিকে। কিন্তু অকুতোভয় জয়পতাকা স্যার স্পেনদেশীয় বুল-ফাইটারদের মতোই অনায়াস দক্ষতায় টানানো সালুটা একটু পাশ কাটিয়ে ধরলেন। কালু তেড়ে আসতেই চট করে সরিয়ে নিলেন। দিগভ্রান্ত কালু খানিকটা দৌড়ে গিয়ে ভুল বুঝতে পেরে ফিরল। এবং আবার মাথা নিচু করে শিং উচিয়ে তেড়ে এল। ডাকাবুকো জয়পতাকাবাবু আবার কালুকে দিগভ্রান্ত করে দিলেন।
এই কাণ্ড দেখে পলাতক লোজনেরা আবার ফিরে আসতে লাগল। চারদিকে করতালি ও হর্ষধ্বনিও শোনা যেতে লাগল। এর ফলে জয়পতাকাবাবু খুবই উদ্দীপ্ত হয়ে উঠলেন। কিন্তু মুশকিল হয়েছে তার পরনে মাটাভোরের পোশাক নেই। তিনি পরেছেন নিরীহ বাঙালির ঢিলেঢালা পোশাক ধুতি আর পাঞ্জাবি। পায়ের পাম্পশুটাও ষাঁড়ের লড়াইয়ের উপযুক্ত জুতো নয়। ফলে হল কি, তার কাছা খুলে গেল, একপাটি জুতো হল নিরুদ্দেশ।
কালু যখন পঞ্চমবার তাকে ক্রোধোন্মত্ত আক্রমণ করতে তৈরি হচ্ছে তখনও জয়পতাকাবাবু রণে ভঙ্গে দিলেন না। অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে জামাটা টেনে বের করে কাছাটা ঠিকমতো আঁটতে গেলেন।
কালু তেড়ে এল। বিভীষণ বেগেই এল। জয়পতাকাবাবু সালুটা নাড়বার চেষ্টা করতে লাগলেন, কিন্তু তাড়াহুড়োয় এবার কাছার সঙ্গে সালুটা গুঁজে ফেলায় ভারী মুশকিল হল। সালুটা পিছনে গোঁজা থাকায় জয়পতাকাবাবুকে কালুর দিকে পিছন ফিরে সালুটা নাড়তে হচ্ছিল। কালু সোজা এসে গদাম করে গুঁতিয়ে দিল জয়পতাকাবাবুকে।
কালু গুঁতো মারল ঠিকই, কিন্তু শূন্যে ওই ডিগবাজি খেয়ে জয়পতাকা নির্ভুলভাবে কালুর পিঠে সওয়ার হয়ে গেছেন। ঠিক ঘোড়সওয়ারের মতোই। তেমনি বুক ফোলানো দৃপ্ত ভঙ্গি। মেরুদণ্ড সোজা রেখে উপবিষ্ট। হাতে অবশ্য চাবুকের বদলে লাল সালু। কালু আর ফিরল না। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটতে লাগল। ছুটতে ছুটতে চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেল। জয়পতাকাকে নিয়ে কালু কোথায় চলেছে কে জানে!
🍁পাঠ প্রতিক্রিয়া 🍁
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের পড়া বইগুলো নিয়ে ভালো লাগা আমার সবসময়। অল্প স্বল্প করে পড়ি কারণ যদি শেষ হয়ে যায় এই ভয় মনে। যখনই স্বাদ বদল করতে হয় অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বই নিয়ে বসে পড়ি। আর এখানে সবগুলো বই ভালো আর মাঝারি গোছের যাই হোক বেশ ভালো সময় কাটে।
পটাশগড়ের জঙ্গলে বেশ অন্যরকম লেগেছে কারণ অনেকটা ভৌতিক, কিছুটা সাইন্স ফিকশন আবার কিছুটা টিপিক্যাল অদ্ভুতুড়ে স্বাদ সব মিলিয়ে মন্দ নয় আসলে। বইটা আগেও পড়েছিলাম আবার পড়লাম রিভিউ লিখতে কারণ তখন তো রিভিউ বুঝতাম না।
পটাশগড়ের জঙ্গলের বর্ণনা লেখক বেশ ভালো ভাবেই দিয়েছেন এবং এই বইটি ভালো লেগেছে আসলে জয়পতাকাকে নিয়ে কালু যখন ছুটতে শুরু করে সেই থেকে। জঙ্গলের মাঝে বেশ সুন্দর বর্ণনা চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। জয়পতাকাকে সাহসী ভেবেছিলাম কিন্তু সময়মতো সেও ভীতু মানুষ হাহাহা। ভুতোকে ভালো লেগেছে। দুষ্টুমির পাশাপাশি ছেলেটার সাহস আছে বেশ।
🍁 বইয়ের নাম: "পটাশগড়ের জঙ্গলে"
🍁লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
September 6, 2023
সত্যিই অদ্ভুতুড়ে ব্যাপার, বইটা শুরুর দিকে একবারও মনে হয়নি এটা সায়েন্স ফিকশন। ভারী দুষ্টু ছেলে ভূতু, ফুটবল দিলে জায়গা না পাওয়ায় ফুটবল মাঠের মধ্যে কালুকে লেলিয়ে দিল সে। কালু ভারী রাগী ষাঁড়। কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল কালুর সামনে পথ আগলে দাড়িয়েছেন অঙ্কের মাস্টারমশাই জয়পতাকাবাবু। তাকে পিঠে চড়িয়ে কালু গেল পটাশগড়ের জঙ্গলের দিকে। কালু ফেরত আসলেও জয়পতাকাবাবুর কোন সন্ধান পাওয়া গেল না। পটাশগড়ের জঙ্গল ভীষণ ভয়ঙ্কর জায়গা। একবার সেখানে কেও গেলে আর ফেরত সে না। তবে কি জয়পতাকা বাবুও হারিয়ে গেলেন চিরদিনের জন্য ?
শুরুতে এত সহজ সরল গল্পটা এ শেষে গিয়ে প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কিত সায়েন্স ফিকশনে পরিণত হবে কে ভাবতে পেরেছিল এটা। অদ্ভুতুড়ে সিরিজের দ্বিতীয় সায়েন্স ফিকশন এটা। শীর্ষেন্দু সায়েন্স ফিকশনটাও চমৎকার লেখেন!
শুরুতে এত সহজ সরল গল্পটা এ শেষে গিয়ে প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কিত সায়েন্স ফিকশনে পরিণত হবে কে ভাবতে পেরেছিল এটা। অদ্ভুতুড়ে সিরিজের দ্বিতীয় সায়েন্স ফিকশন এটা। শীর্ষেন্দু সায়েন্স ফিকশনটাও চমৎকার লেখেন!
March 7, 2022
এই বই প্রথম পড়েছিলাম ক্লাস থ্রি/ফোরে থাকতে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এ বইটা যতবারই পড়ি না কেন, সেই প্রথমবারের মতোই অনুভূতি হয় আমার।
পটাশগড়ের জঙ্গলের শুরুটা কিছুটা ছেলেমানুষি লাগলেও স্বল্প পরিসরে অল্টারনেট ডাইমেনশন, উচ্চবুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রাণী নিয়ে শীর্ষেন্দু মুখার্জি যে অসাধারণ প্লট সাজিয়েছেন, তা নোলান কিংবা লিঞ্চের মুভির মতোই এক প্রহেলিকায় পরিণত হয়েছে। সাথে আছে তার উচ্চরসবোধসম্পন্ন সব সংলাপ।
"অঙ্ক কি কখনো হাঁটতে পারে? তাও জুতো পায়ে দিয়ে?"
এর প্লট নিয়ে আমার মাথায় আসা কিছু ইন্টারপ্রিটেশন আর এক্সপ্ল্যানেশন নিয়ে লেখার চিন্তা আছে ভবিষ্যতে।
পটাশগড়ের জঙ্গলের শুরুটা কিছুটা ছেলেমানুষি লাগলেও স্বল্প পরিসরে অল্টারনেট ডাইমেনশন, উচ্চবুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রাণী নিয়ে শীর্ষেন্দু মুখার্জি যে অসাধারণ প্লট সাজিয়েছেন, তা নোলান কিংবা লিঞ্চের মুভির মতোই এক প্রহেলিকায় পরিণত হয়েছে। সাথে আছে তার উচ্চরসবোধসম্পন্ন সব সংলাপ।
"অঙ্ক কি কখনো হাঁটতে পারে? তাও জুতো পায়ে দিয়ে?"
এর প্লট নিয়ে আমার মাথায় আসা কিছু ইন্টারপ্রিটেশন আর এক্সপ্ল্যানেশন নিয়ে লেখার চিন্তা আছে ভবিষ্যতে।
June 17, 2021
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের সবকটি বইয়ের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় এটি। শুরুটা হাল্কাভাবে হলেও শেষটা নিঃসন্দেহে অসাধারণ। একটা আলাদা দুনিয়ায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে এই উপন্যাসটি।
শুধু একটা জিনিসই মনে হয়, এই উপন্যাসটির ওপর কেউ আজ পর্যন্ত একটা সিনেমা বানানোর কথা ভাবেনি কেন? অবশ্য ভাবেনি ভালোই হয়েছে, কারণ মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি আর গোঁসাইবাগানের ভূতের যা অবস্থা করেছিলেন তেনারা সে আর বলার নয়।
শুধু একটা জিনিসই মনে হয়, এই উপন্যাসটির ওপর কেউ আজ পর্যন্ত একটা সিনেমা বানানোর কথা ভাবেনি কেন? অবশ্য ভাবেনি ভালোই হয়েছে, কারণ মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি আর গোঁসাইবাগানের ভূতের যা অবস্থা করেছিলেন তেনারা সে আর বলার নয়।
November 5, 2023
#তাৎক্ষণিক_পাঠপ্রতিক্রিয়া
সর্দির কারণে এক নাক বন্ধ, হঠাৎ মনে হলো অদ্ভুতুড়ে সিরিজের একটা বই শেষ করা যাক। অক্টোবর মাসটা ফাও যাওয়ার পর নভেম্বরকে ফাও যেতে দিতে পারি না। তাই একবসায়, একনিশ্বাসে শেষ করে ফেললাম চমৎকার এই বই ‘পটাশগড়ের জঙ্গলে’।
বইটা শুরু ফুটবল ম্যাচ নিয়ে। সেই ফুটবল ম্যাচ থেকে ভুতুকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাই সে খেলা পন্ড করতে কালু নামক একটা বিশাল ষাঁড়কে মাঠে লেলিয়ে দেয়। কিছু মানুষ শূণ্যে, কিছু মানুষ গোলপোস্টের উপরে আবার কিছু মানুষ পালাচ্ছে। এইসময় ভীতু বলে পরিচিত অঙ্ক শিক্ষক জয়পতাকাবাবু একটা লালসালু নিয়ে কালু ষাঁড়কে দারুণভাবে ভ্যাবাচেকা খাওয়ান। এরপর শুরু হয় আসল কাহিনি। ঘটনাক্রমে জয়পতাকাবাবু কালুর পিঠে পটাশগড়ের জঙ্গলে চলে যান। যেখান একবার কোনো মানুষ গেলে আর ফিরে আসে না। পটাশগড়ের জঙ্গলে যেমনি বাঘের ভয় তেমনি আছে কিছু অলৌকিক ব্যাপারস্যাপার। এরপর...
বইটা শুরু হতে বেশ মজার। উপভোগ্য, দুর্দান্ত গতি ছিল সারা বইময়। টানটান উত্তেজনা নিয়ে লেখক বেশ সফলভাবে বইটাকে টেনে নিয়ে গেছেন। কোথাও কাহিনি একরত্তি ঝুলে ছিল না।
লেখকের লেখনী বেশ মজার। পড়তে বেশ লাগে। কাহিনির কথা আর কি বলবো। বইটার এন্ডিংও বেশ ভালো ছিল।
[অনেকদিন বাদে রিভিউ লিখলাম। খুব বেশি লিখতে পারি নাই🥲]
সর্দির কারণে এক নাক বন্ধ, হঠাৎ মনে হলো অদ্ভুতুড়ে সিরিজের একটা বই শেষ করা যাক। অক্টোবর মাসটা ফাও যাওয়ার পর নভেম্বরকে ফাও যেতে দিতে পারি না। তাই একবসায়, একনিশ্বাসে শেষ করে ফেললাম চমৎকার এই বই ‘পটাশগড়ের জঙ্গলে’।
বইটা শুরু ফুটবল ম্যাচ নিয়ে। সেই ফুটবল ম্যাচ থেকে ভুতুকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাই সে খেলা পন্ড করতে কালু নামক একটা বিশাল ষাঁড়কে মাঠে লেলিয়ে দেয়। কিছু মানুষ শূণ্যে, কিছু মানুষ গোলপোস্টের উপরে আবার কিছু মানুষ পালাচ্ছে। এইসময় ভীতু বলে পরিচিত অঙ্ক শিক্ষক জয়পতাকাবাবু একটা লালসালু নিয়ে কালু ষাঁড়কে দারুণভাবে ভ্যাবাচেকা খাওয়ান। এরপর শুরু হয় আসল কাহিনি। ঘটনাক্রমে জয়পতাকাবাবু কালুর পিঠে পটাশগড়ের জঙ্গলে চলে যান। যেখান একবার কোনো মানুষ গেলে আর ফিরে আসে না। পটাশগড়ের জঙ্গলে যেমনি বাঘের ভয় তেমনি আছে কিছু অলৌকিক ব্যাপারস্যাপার। এরপর...
বইটা শুরু হতে বেশ মজার। উপভোগ্য, দুর্দান্ত গতি ছিল সারা বইময়। টানটান উত্তেজনা নিয়ে লেখক বেশ সফলভাবে বইটাকে টেনে নিয়ে গেছেন। কোথাও কাহিনি একরত্তি ঝুলে ছিল না।
লেখকের লেখনী বেশ মজার। পড়তে বেশ লাগে। কাহিনির কথা আর কি বলবো। বইটার এন্ডিংও বেশ ভালো ছিল।
[অনেকদিন বাদে রিভিউ লিখলাম। খুব বেশি লিখতে পারি নাই🥲]
February 5, 2023
পটাশগড়ের জঙ্গলের সাথে আমার অদ্ভুত একটা মিল আছে। অঙ্ক আর পদার্থবিজ্ঞান ভালো পারতাম বলে ভেবেছিলাম 'ইঞ্জিনিয়ার হবো'(!) তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়ে দেখলাম, সেই অঙ্ক আর পদার্থবিজ্ঞানই আমাকে ডোবাচ্ছে। ঠিক ভুতুর মতো। দুচ্ছাই- কোনো মানে হয় এর?
September 17, 2021
3.8 stars
Didn’t know the story would take such sci-fi turn!
Didn’t know the story would take such sci-fi turn!
February 24, 2026
এখন আর কেউ এমন মজাদার গল্প লেখেন না!
February 13, 2018
জয়পতাকাবাবুর অকস্মাৎ ম্যাটাডর- ক্রম , frequency -changing কেল্লা, আলফাবেট-সাহেব, ভুতু-র neverending অঙ্ক..........
ছোটবেলায় সাংঘাতিক interesting লেগেছিলো, এখন ঠিক অতটা লাগলো না। তবে ভালো।
ছোটবেলায় সাংঘাতিক interesting লেগেছিলো, এখন ঠিক অতটা লাগলো না। তবে ভালো।
October 29, 2018
অংকেই বাজিমাত
April 27, 2020
বইঃ পটাশগড়ের জঙ্গলে
লেখকঃ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
প্রকাশনাঃ আনন্দ পাবলিশার্স (কলকাতা)
এই বইটি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অদ্ভুতুরে সিরিজের বই। এটি কিশোর সাহিত্য বই হলেও সব বয়সী পাঠকরা পড়ে মজা পাবে কারন শীর্ষেন্দুর লেখার মধ্যে একটা ভাল লাগা আছে। তার অদ্ভুতুরে সিরিজ যারা পড়েছেন তারা জানেন শীর্ষেন্দু এই সিরিজে মজার মজার সব উপন্যাস লিখেছেন, তার অদ্ভুতুরে সিরিজে ভুত,বাঘ,সিংহ,রাজা,মহারাজা,গোপন কুঠুরি, পাতালঘর, জঙ্গল ইত্যাদির বর্ননা প্রায় সব বইতেই পাওয়া যায় তার এই সিরিজটি যখনি পড়ি মনে হয় নিজে এডভেঞ্চার করে আসি, আসলে শীর্ষেন্দু বাবুর লেখার সাথে তুলনা হয় না।
কাহিনি সংক্ষেপঃ ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের নামকারা অঙ্ক মাস্টারমশাই জয়পতাকাবাবু।সেবার ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের সাথে কালীতলা স্কুলের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়, জয়পতাকাবাবু সেখানে খেলা দেখতে আসে তার সাথে ম্যাজিস্ট্রেট স্কুলের হেডস্যারসহ অন্যন্য শিক্ষকও উপস্থিত থাকেন।
কিন্তু এই খেলায় স্কুলের ৮ম শ্রেনীর ছাএ বিচ্ছু ছেলে ভুতুকে না নেওয়ায় ভুতু শহরের সাঙ্ঘাতিক পাগলা ষাঁড় কালুকে কাঠালের লোভ দেখিয়ে এনে মাঠে ছেড়ে দেয় তা দেখে সবাই এদিকওদিক ছুটে বেড়ায়। ঠিক তখনি জয়পতাকাবাবু কালুকে কন্ট্রোলে আনার জন্যে মাঠে নামে কিন্তু বেশিক্ষণ কালুর সাথে লড়তে পারে না সে কালুর পিঠে চাপলে তাকে নিয়ে কালু শহরের উত্তরদিকের সবচেয়ে ভয়ংকর রহস্যময় জঙ্গল পটাশগড়ে চলে যায় এবং তাকে ফেলে চলে আসে। এরপর থেকেই জয়পতাকার সাথে রহস্যময় ঘটনা ঘটতে থাকে এবং একপর্যায়ে একটা ধ্বংসস্তুপ কেল্লায় পৌছায় এবং তাকে বাতাশের সাথে অদৃশ্য একটা কন্ঠ সাদরে ডিনারের নিমন্ত্রণ করে সে সম্মোহিত হয়ে যায়। কেল্লার চারদিকে চোরাবালি যেখানে ঢোকা যায় কিন্তু বের হওয়া যায় না।
এদিকে জয়পতাকা বাবু না ফেরায় তাকে নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তা করে এবং তাকে উদ্ধারের জন্যে তার দাদু জয়ধ্বনিবাবু ও তার বন্ধু এবং মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান ব্যোমকেস খুজতে যায়। অন্যদিকে দুষ্টু ছেলে ভুতু তার ভুল বুঝতে পেরে সেও জয়পতাকাকে খুজতে একা একা পটাশগড়ের জঙ্গলে যায় তারপর থেকে তাদের সাথেও শুরু হয় নানা রহস্যময় ঘটনা। কি আছে সে জঙ্গলে? যার কারনে সবাই এতো ভয় পায়? ঘটে এতো রহস্যময় ঘটনা?
যে দূর্গে ঢোকা যায় কিন্তু চোরাবালির কারনে বের হওয়া যায় না সেখান থেকে কি জয়পতাকাকে তারা উদ্ধার করতে পারবে? নাকি তারা নিজেরাই অজান্তে বিপদে পরে যাবে? এটা জানতে হলে বইটি পড়ুন।
ব্যক্তিগতভাবে বইটি ভাল লেগেছে ছোট বই পড়া শুরু করেছি কখন শেষ হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। আপনি এই অদ্ভুতুরে জগতে ঢুকতে চাইলে বইটি পড়তে পারেন।
লেখকঃ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
প্রকাশনাঃ আনন্দ পাবলিশার্স (কলকাতা)
এই বইটি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অদ্ভুতুরে সিরিজের বই। এটি কিশোর সাহিত্য বই হলেও সব বয়সী পাঠকরা পড়ে মজা পাবে কারন শীর্ষেন্দুর লেখার মধ্যে একটা ভাল লাগা আছে। তার অদ্ভুতুরে সিরিজ যারা পড়েছেন তারা জানেন শীর্ষেন্দু এই সিরিজে মজার মজার সব উপন্যাস লিখেছেন, তার অদ্ভুতুরে সিরিজে ভুত,বাঘ,সিংহ,রাজা,মহারাজা,গোপন কুঠুরি, পাতালঘর, জঙ্গল ইত্যাদির বর্ননা প্রায় সব বইতেই পাওয়া যায় তার এই সিরিজটি যখনি পড়ি মনে হয় নিজে এডভেঞ্চার করে আসি, আসলে শীর্ষেন্দু বাবুর লেখার সাথে তুলনা হয় না।
কাহিনি সংক্ষেপঃ ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের নামকারা অঙ্ক মাস্টারমশাই জয়পতাকাবাবু।সেবার ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের সাথে কালীতলা স্কুলের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়, জয়পতাকাবাবু সেখানে খেলা দেখতে আসে তার সাথে ম্যাজিস্ট্রেট স্কুলের হেডস্যারসহ অন্যন্য শিক্ষকও উপস্থিত থাকেন।
কিন্তু এই খেলায় স্কুলের ৮ম শ্রেনীর ছাএ বিচ্ছু ছেলে ভুতুকে না নেওয়ায় ভুতু শহরের সাঙ্ঘাতিক পাগলা ষাঁড় কালুকে কাঠালের লোভ দেখিয়ে এনে মাঠে ছেড়ে দেয় তা দেখে সবাই এদিকওদিক ছুটে বেড়ায়। ঠিক তখনি জয়পতাকাবাবু কালুকে কন্ট্রোলে আনার জন্যে মাঠে নামে কিন্তু বেশিক্ষণ কালুর সাথে লড়তে পারে না সে কালুর পিঠে চাপলে তাকে নিয়ে কালু শহরের উত্তরদিকের সবচেয়ে ভয়ংকর রহস্যময় জঙ্গল পটাশগড়ে চলে যায় এবং তাকে ফেলে চলে আসে। এরপর থেকেই জয়পতাকার সাথে রহস্যময় ঘটনা ঘটতে থাকে এবং একপর্যায়ে একটা ধ্বংসস্তুপ কেল্লায় পৌছায় এবং তাকে বাতাশের সাথে অদৃশ্য একটা কন্ঠ সাদরে ডিনারের নিমন্ত্রণ করে সে সম্মোহিত হয়ে যায়। কেল্লার চারদিকে চোরাবালি যেখানে ঢোকা যায় কিন্তু বের হওয়া যায় না।
এদিকে জয়পতাকা বাবু না ফেরায় তাকে নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তা করে এবং তাকে উদ্ধারের জন্যে তার দাদু জয়ধ্বনিবাবু ও তার বন্ধু এবং মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান ব্যোমকেস খুজতে যায়। অন্যদিকে দুষ্টু ছেলে ভুতু তার ভুল বুঝতে পেরে সেও জয়পতাকাকে খুজতে একা একা পটাশগড়ের জঙ্গলে যায় তারপর থেকে তাদের সাথেও শুরু হয় নানা রহস্যময় ঘটনা। কি আছে সে জঙ্গলে? যার কারনে সবাই এতো ভয় পায়? ঘটে এতো রহস্যময় ঘটনা?
যে দূর্গে ঢোকা যায় কিন্তু চোরাবালির কারনে বের হওয়া যায় না সেখান থেকে কি জয়পতাকাকে তারা উদ্ধার করতে পারবে? নাকি তারা নিজেরাই অজান্তে বিপদে পরে যাবে? এটা জানতে হলে বইটি পড়ুন।
ব্যক্তিগতভাবে বইটি ভাল লেগেছে ছোট বই পড়া শুরু করেছি কখন শেষ হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। আপনি এই অদ্ভুতুরে জগতে ঢুকতে চাইলে বইটি পড়তে পারেন।
May 11, 2020
ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের সাথে কালীতলা স্কুলের ফুটবল ম্যাচ হচ্ছে । নামকরা দুই টিমের খেলা দেখতে মাঠে কাতারে কাতারে লোক জড়ো হয়েছে । এই ফুটবল টিমে ভুতুর জাযগা হয় নি ভুতু । ভজুরাম স্কুলের ক্লাস এইটের ছাত্র ভুতু । হেড স্যারের টেবিলের নিচে জ্যান্ত কাকড়া ছেড়ে দেওয়ার অপরাধে তার টিমে জায়গা হয় নি । তাই সে কলু রাগিয়ে খেলার মাঠে ছেড়ে দেয় । কলু হচ্ছে বিশাল শিবের ষাড়। কলু যখন একে ওকে গুতো দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেস সাহেবের প্যান্ডেলের দিকে আসছিলো তখন ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক জয়পতাকা সামনে এসে দাড়ায় । দারুন এক বুট ফাইটের খেলা দেয়ায় সে । কিন্তু এক পর্যায়ে সে কলুর পিঠে চড়ে বসে । কলু তাকে নিয়ে পটাশগড়ের জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসে ।পটাশগড় ভয়ানক জঙ্গল । সেখানে যে একবার যায় সে আর ফিরে আসে না । এক অদ্ভুদ কন্ঠস্বর তাকে তাকে নিয়ে যায় এক রহস্যময় প্রাসাদে । সেখান থেকে আর কেউ ফিরে আসে না ।
জয়পতাকাকে ফেরৎ নিয়ে আসতে তার দাদু জয়ধ্বনি, দাদুর বন্ধু শ্যাম লাহিড়ী আর পৌরপিতা ব্যোমকেশ বাবু । তারাও এক সময় সেই রহস্যময় প্রাসাদে গিয়ে আটকা পরে । এদিকে সবাই ভুতুকে দোষ দিতে থাকে তার অঙ্কের শিক্ষকের হারিয়ে যাওয়ার জন্য । ভুতু নিজেও পটাশগড়ে গিয়ে হাজির হয় । অদ্ভুত এক কন্ঠের সাথে তার পরিচয় হয় ! নিজের বুদ্ধিতেই সে একাই গিয়ে হাজির হয় সেই প্রাসাদে ! এবং সবাইকে উদ্ধার করে !
এইবইটা পড়ে সব থেকে বেশি মজা পেয়েছি আমি । বইটা একটু অন্য ধাচের । ভুতের বই ঠিক না । বইটা সায়েন্স ফিকশন । ছোটদের পড়ার উপযোগী একটা বই ।
জয়পতাকাকে ফেরৎ নিয়ে আসতে তার দাদু জয়ধ্বনি, দাদুর বন্ধু শ্যাম লাহিড়ী আর পৌরপিতা ব্যোমকেশ বাবু । তারাও এক সময় সেই রহস্যময় প্রাসাদে গিয়ে আটকা পরে । এদিকে সবাই ভুতুকে দোষ দিতে থাকে তার অঙ্কের শিক্ষকের হারিয়ে যাওয়ার জন্য । ভুতু নিজেও পটাশগড়ে গিয়ে হাজির হয় । অদ্ভুত এক কন্ঠের সাথে তার পরিচয় হয় ! নিজের বুদ্ধিতেই সে একাই গিয়ে হাজির হয় সেই প্রাসাদে ! এবং সবাইকে উদ্ধার করে !
এইবইটা পড়ে সব থেকে বেশি মজা পেয়েছি আমি । বইটা একটু অন্য ধাচের । ভুতের বই ঠিক না । বইটা সায়েন্স ফিকশন । ছোটদের পড়ার উপযোগী একটা বই ।
August 15, 2026
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অন্যতম সেরা গল্প। ক্লাসে কালীপটকা ফাটানোর অপরাধে স্কুলের ফুটবল টিম থেকে বাদ পড়ে ভুতু। প্রতিশোধস্পৃহায় ম্যাচের দিন মাঠে ষাঁড় লেলিয়ে দেয় সে। ষাঁড়কে জব্দ করে তাক লাগিয়ে দেন স্কুলের অঙ্কের মাস্টার জয়পতাকাবাবু। শুধু তাই নয়, ষাঁড়বাবাজির পিঠে চড়ে পৌঁছে যান পটাশগড়ের রহস্যময় জঙ্গলে যেখানে সচরাচর কেউ যায়না। আর যারা যায় তারা ফেরেনা। জয়পতাকাবাবু কি ফিরতে পারবেন?
শিশু সাহিত্য হিসেবে তো বটেই, কল্পবিজ্ঞানের গল্প হিসেবেও নেহাত মন্দ জাল বোনেননি লেখক। চরিত্রগুলোর মজার মজার নামকরণ হোক বা ভুতুর মধ্যে যে নানান পরস্পরবিরোধী চিন্তা কাজ করছে, এই শিশু মনস্তত্ত্ব নির্মাণে — অসম্ভব মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন শীর্ষেন্দু।
শিশু সাহিত্য হিসেবে তো বটেই, কল্পবিজ্ঞানের গল্প হিসেবেও নেহাত মন্দ জাল বোনেননি লেখক। চরিত্রগুলোর মজার মজার নামকরণ হোক বা ভুতুর মধ্যে যে নানান পরস্পরবিরোধী চিন্তা কাজ করছে, এই শিশু মনস্তত্ত্ব নির্মাণে — অসম্ভব মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন শীর্ষেন্দু।
January 7, 2025
অদ্ভূতুড়ে সিরিজের এই বইটাও অন্য বইগুলোর মতোন সুখপাঠ্য। হাসির ইলিমেন্ট অন্য বইগুলোর মতোন বেশী না থাকলেও যা আছে, তা-ই সই।
ষাড়ের পিঠে চড়ে পটাশগড়ের জঙ্গলে এক স্কুলমাস্টারের হারিয়ে যাওয়া, আর তারপর তাকে খুঁজে বের করতে শহরের মজার কিছু মানুষদের নিয়ে গড়া টিমের এক উত্তেজনাময় অভিযানের সাথে লেখক মিলিয়েছেন সময়, সংখ্যা, তরঙ্গ আর মেটাফিজিক্সের বেশ কিছু ধারণা। সবচে মজা পেয়েছি পৌরপিতা ব্যোমকেশ বাবুর ঘন ঘন মিটিং বিষয়ক টেনশন দেখে।
ষাড়ের পিঠে চড়ে পটাশগড়ের জঙ্গলে এক স্কুলমাস্টারের হারিয়ে যাওয়া, আর তারপর তাকে খুঁজে বের করতে শহরের মজার কিছু মানুষদের নিয়ে গড়া টিমের এক উত্তেজনাময় অভিযানের সাথে লেখক মিলিয়েছেন সময়, সংখ্যা, তরঙ্গ আর মেটাফিজিক্সের বেশ কিছু ধারণা। সবচে মজা পেয়েছি পৌরপিতা ব্যোমকেশ বাবুর ঘন ঘন মিটিং বিষয়ক টেনশন দেখে।
August 8, 2026
ভজুরাম মেমোরিয়াল স্কুলের শান্ত ও গম্ভীর অঙ্কের শিক্ষক জয়পতাকাবাবু দুর্ঘটনাবশত একটি খেপা ষাঁড়ের পিঠে সওয়ার হয়ে সোজা হাজির হন বিপজ্জনক ও রহস্যময় পটাশগড়ের জঙ্গলে, যেখানে একটি পুরোনো কেল্লায় ঘটা অদ্ভুত অলৌকিক কাণ্ডকারখানা পুরো গল্পকে এক থ্রিলিং মোড় দেয়। চিরাচরিত ভূতের গল্পের সীমানা পেরিয়ে এখানে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় যেভাবে ভৌতিক আমেজের সঙ্গে টাইম ট্রাভেলের মতো হালকা সায়েন্স ফিকশন উপাদান এবং স্বভাবসিদ্ধ রসময় চরিত্রচিত্রণ ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সব বয়সের পাঠককেই আমোদিত করে।
Displaying 1 - 30 of 54 reviews




























