কুড়িজন নারীপুরুষ আর শিশুকে ধরে আনা হয়েছে সীমান্তে। তাদেরকে ঠেলে দেওয়া হবে ওই পারে। কিন্তু ওপারের সীমান্তরক্ষীরাও প্রস্তুত। কাউকে তাদের পারে তারা ঢুকতে দেবে না। সীমান্তের এপারের রক্ষীরা ঠেলে দিল তাদের নো-ম্যান’স ল্যান্ড বা না-মানুষি জমিনে। ওপারের রক্ষীরাও তাদেরকে রুখে দাঁড়াল সঙ্গিন উঁচিয়ে। খুব শীত ছিল তখন ওই এলাকায়। দু রাত প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে পড়ে রইল একদল মানবসন্তান। তাদের মধ্যে একজন নারী গর্ভবতী। কুয়াশার চাদরের নিচে এক কন্যাসন্তান প্রসব করে তিনি মারা গেলেন। তার সঙ্গীরা ততক্ষণে উধাও ঘন কুয়াশার আড়ালে। নো-ম্যান’স ল্যান্ডে পড়ে আছে মানবশিশু। কী তার দেশ? কী তার পরিচয়? এখন কী হবে ওই শিশুটির? এপার ওপার কেউ তার দায়িত্ব নেবে না। কিন্তু রাষ্ট্র কিংবা রাজনীতিই শেষ কথা নয়। সব কিছুর উর্ধ্বে মানুষের মানবিকতা। কিংবা মানুষ যেখানে মানবিকতা হারিয়ে ফেলে, সেখানে হয়তো এগিয়ে আসতে হবে কোনো পশুকেই। আনিসুল হক লিখলেন এক নিদারুণ জাদুবাস্তবতার গল্প, যেখানে রঙ্গিন কাপড় পরিহিত এক বাঁদর কাঁটাতারের বেড়ার গায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঝুলে থাকে, যাঁর শোকে কাঁদে মানুষ।
Anisul Hoque (Bangla: আনিসুল হক) is a Bangladeshi screenwriter, novelist, dramatist and journalist. He graduated from Bangladesh University of Engineering and Technology, trained as a civil engineer.
His inspiration in journalism and writing started during his student life. After his graduation he joined to serve as a government employee but resigned only after 15 days. Instead he started working as a journalist. He attended the International Writing Program at the University of Iowa in 2010. Currently, Hoque is working as an Associate Editor of a Bengali language daily, Prothom Alo.
His novel মা was translated in English as Freedom's Mother. It was published in Maithili too. He was honored with Bangla Academy Award in 2011.
উপন্যাস বলব না বড় একটা গল্প জানি না। গল্পের প্লট-টা বেশ ভালো। নো-ম্যানস ল্যান্ডে কয়েকজনকে পুশ করে দেয়া হয়েছে, এখন তাদেরকে কোন সীমান্তই পার হতে দেয়া হচ্ছে না। তীব্র শীতের মাঝে কুড়িজন মানুষ নো-ম্যানস ল্যান্ডে কোন আশ্রয় ব্যতিত পড়ে আছে।
বইটা পড়ার শুরুর দিকে আমার মনে হয়েছিল আমি যেন সোনার-বাংলা এক্সপ্রেসে চেপে বসেছি। খুব দ্রুত এই দৃশ্য থেকে ঐ দৃশ্যে গল্প ছুটছে। আমি লেখক বা লেখালেখির ধারেকাছেও কিছু না, তবু আমার মনে হয়েছে চমকপ্রদ এই দৃশ্যকল্পে আরো রঙ টানা যেত। শুধুমাত্র পল্টুর মা'র আবছা বিবরণ না দিয়ে সবাইকে নিয়েই মোটামুটি লেখা যেত, লেখা যেত মাঝখানের দিনগুলা নিয়ে আরো বেশি করে যখন তারা আহার-নিদ্রা-আশ্রয়ের অভাবে পড়ে ছিল মাঝে এক টুকরা জমিতে।