শুরুতে বলে রাখি যারা থ্রিলার, ফ্যান্টাসি বা হরর পড়তে প্রচণ্ড ভালোবাসেন তাঁরা এই বইটি না পড়লে ভাল করবেন। সম্ভবত বইটি কাহিনী বিন্যাসের গতির জন্য আপনাদের ভাল লাগবে না। আমারও ফ্যান্টাসি পছন্দ কিন্তু আমার প্রথম ভাল লাগা সমকালীন কিংবা ক্ল্যাসিক ধারার লেখা।
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে হেঁসেল ঠ্যালা মায়েদের, বোনেদের কিংবা স্ত্রীদের অন্দর মহলের কথা, তাদের চিন্তাভাবনা লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী তাঁর বইগুলোতে যেভাবে তুলে ধরছেন সম্ভবত অন্যকোন লেখক সেভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি।
এই গল্পটিতেও খুব নিপুণভাবে একটি পরিবারের অন্দরমহলের কথা উঠে এসেছে। প্রেক্ষাপটে কলকাতার বয়স তখন ৩০০ বছর। এইজন্য কলকাতা আর সাদাসিধে নেই। প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে ঢুকে গেছে অবিশ্বাস।
তেমন একটি গৃহস্থ সুখী, অভাব অনটনহীন বাড়ির ঘটনা। একদিন হুট করে এক উটকো লোক এসে রেখে যায় রহস্যময় কাপড়ের পুটুলি। আর আপাতদৃষ্টিতে সেই পুটুলিকে কেন্দ্র করে সেই গৃহস্থ বাড়ির মানুষগুলোর মধ্যে আসতে থাকে পরিবর্তন যা একটা সময় পুরো পরিবারটির হৃৎপিণ্ড বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে চলে যায়।
সবগুলো চরিত্রের মধ্যে মৃগাঙ্ক চরিত্রটি আমাকে মুগ্ধ করে রেখেছিল মৃগাঙ্ক বয়সে প্রোঢ়। কিন্তু বয়স তাঁর আদর্শকে কখনো এতটুকু চির ধরাতে পারে না।
গল্পটা পড়ার সময় মনে হতে পারে কাহিনীর বিন্যাস ধীর গতির কিন্তু আপনি যখন শেষ পাতাতে পৌছাবেন তখনই উপলদ্ধি করতে পারবেন গল্পটা পুরোটা সময় তার স্বাভাবিক গতি বজায় রেখেছিল।
♣ নিমিত্তমাত্র
♣ আশাপূর্ণা দেবী