গল্পের ছেলেটার নাম রনি। ছোট্ট একটা ছেলে। ছেলেটার আসল বাবা-মা নেই। ওর বাবা এবং মা দুজনই নকল অর্থ্যাৎ সৎ। কারো হয়তো সৎ বাবা আপন মা কিংবা আপন বাবা সৎ মা হয়। কিন্তু এই ছোট্ট ছেলে রনির বাবা-মা দুজনই সৎ। রনির জন্মের পর মা মারা যায় এবং বাবা আরেকটা বিয়ে করেন। সংসারে আসলো সৎ মা। রনি যখন ক্লাস টু তে পড়ে তখন তার বাবা সমুদ্রে ডুবে মারা যান এবং তারপর সৎ মা আরেকটা বিয়ে করেন। ব্যস, আপন বলতে আর কেউ থাকলো না রনির। ও না, ভুল বললাম। আপন বলতে আছে রনির দাদা আসগর আলী। যিনি রনির দায়িত্ব নিতে চান। এবং একারণে মামলা করেছেন তিনি। রনিকে প্রায়ই কোর্টে যেতে হয়! রনির সৎ বাবা-মায়ের কাছে কোন অসুবিধাই হয় না। সে তার মতো তার জগৎ নিয়ে ব্যস্ত। স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট নিয়েই রনির ব্যস্ততা। রনির দাদা রনিকে নিতে চাইলেও সে যেতে রাজি না। রনির তেমন কোন বন্ধু নেই। রনির ক্লাসে লুতপা নামের এক মেয়ে আছে যে সারাক্ষণ রনিকে নকল করে, জ্বালায়। রনি তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। আবার যেদিন লুতপা আসে না স্কুলে তখন লুতপাকে রনি খুব মিস করে। লুতপা ক্লাসে লুতপাইন নামে পরিচিত। হটাৎ একদিন রনির পরিচয় হয় হাব্বত আলীর সাথে। রনির আর্ট টিচার হিসেবে রাখার কথা থাকলেও রনির মায়ের পচ্ছন্দ হয় নি হাব্বত আলীকে। কিন্তু হাব্বত আলীকে ভীষণ পচ্ছন্দ রনির। গন্ডির ভিতর বড় হয়ে উঠা রনিকে কেউ বুঝতো না। এতদিন পর মনের মতো একজন মানুষকে পেলো রনি যে তাকে বুঝে। শুরু হলো রনির অন্যরকম এক জীবন........! তারপর? তারপরের গল্পটুক জানতে না হয় পড়ে ফেলুন বইটি।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
অনেকদিন পর এক বসায় হুমায়ুন আহমেদের একটা উপন্যাস পড়লাম। তাও আবার কিশোর উপন্যাস, শেষ কবে হুমায়ুন আহমেদের কোন কিশোর উপন্যাস পড়েছি খেয়াল আসছে না, মনে হয় স্কুলজীবনের সময়তেই। আর কী আশ্চর্যের ব্যাপার, আজকেও যেন বইটা পড়ার সময় আমি ঠিক সেই কিশোর বয়সেই ফিরে গেলাম, সেসময়কার পড়া হুমায়ুন আহমেদ বা জাফর ইকবাল বা শাহরিয়ার কবিরদের একেকটা মাস্টারপীস কিশোরোপন্যাসের মতই ছেলেবেলার নিখাঁদ মুগ্ধতা ও ভাললাগার সাথে এই উপন্যাসিকাটা উপভোগ করলাম পুরোপুরি।
পৃথিবীতে অসংখ্য লেখক আছেন যারা ছোটদের নিয়ে ছোটদের জন্য গল্প-উপন্যাস লিখেছেন, লিখছেন নিয়মিত, কিন্তু আমার মতে তাদের মাঝে অতি অল্প কিছু লেখকই আছেন যারা প্রকৃতই ছোটদের দৃষ্টিকোণ থেকে ছোটদের মতো করে বড়দের এই পৃথিবীটাকে দেখতে পারেন... হুমায়ুন আহমেদ সেই গুটি কয়েকের একজন। ক্লাস ফোরে পড়া একটা বাচ্চা ছেলে যে চায় শুধু নিজের মতো থাকতে, রিকশায় করে ঘুরতে, একা একা হাঁটতে, তাকে প্রবল অনিচ্ছা সত্ত্বেও জড়িয়ে যেতে হয় ওকে কেন্দ্র করে বড়দের মধ্যকার ক্ষমতার দাবা খেলায়, সে নিজেও তখন তার মতো করে বড়দের সাথে একটা বুদ্ধির খেলা শুরু করে। চারপাশের এত অসংখ্য তথাকথিত কাছের মানুষ ও শুভাকাঙ্খিদের মাঝেও ভয়ঙ্কররকম নিঃসঙ্গ বালকটির মানসিক টানাপোড়েন আর আনন্দ-বিষাদের নিছক আপাতঃ সাধারণ গল্পটি হুমায়ুন আহমেদের কলমের আঁচড়ে অনন্যসাধারণ রূপ পেয়েছে, নিখুঁত ভাবে ফুটে উঠেছে একটি শিশুর নিষ্পাপতা ও বড়দের কুটিলতার সংঘাতের ভেতর দিয়ে ছেলেটার মানসিক ভাবে বড় হয়ে ওঠা। আর ঘটনাক্রমে তার পাশে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় 'হাব্বত আলি' নামে এক রহস্যময় মানুষ। কে এই হাব্বত আলি? তার আসল উদ্দেশ্য কী? সে কোথা থেকেই বা উদয় হলো হুট করে? বরাবরের মতই লেখক গল্পের শেষে কিছুটা রহস্য রেখে দিয়েছেন, পাঠকের উপরে ছেড়ে দিয়েছেন সেই রহস্যভেদের দায়িত্ব।
সমাপ্তিটা একটু আকস্মিক হয়ে গেলেও কোনদিক থেকে খাপছাড়া লাগেনি, বইটা পড়ার সময় আপনমনেই বেশ কয়েকবার হা হা করে সশব্দে হেসে ওঠেছি হুমায়ুন আহমেদের চিরায়ত হাস্যরসের ছোঁয়ায়, আবার শেষে এসে বিষন্ন এক স্মৃতিকাতরতায় নিজের অজান্তেই মন ভারী হয়ে ওঠেছে, চোখের কোন ভিজে গেছে। বইয়ের প্রতিটা বাক্যে, প্রতিটা লাইনে হুমায়ুন আহমেদের পরিপূর্ণ একটি আনন্দদায়ক লেখা উপভোগ করার পূর্ণ তৃপ্তি পেয়েছি, হয়তো আগে থেকেই সহজসরল যৎসামান্য এই কিশোরোপন্যাসটা থেকে কোনপ্রকার উচ্চাশা ছিলো না বলেই। হুমায়ুনের সহজাত লেখনির বইগুলো মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়ার মানেই যেন এক ঘোরে ডুবে যাওয়া, গল্প শেষ হয়ে যাবার অনেক অনেক পরেও সেটার আবেশ থেকে যায় মনে, ইচ্ছে হয় আরো পড়ি তার লেখা, পড়তেই থাকি--অনেক বছর পর আবার সেই হারানো অনুভূতিটা ফিরে পেলাম বইটি শেষ করে।
A beautiful piece of writing. Finished in one sitting and found myself reminiscing the essence of the book for a long time. The plot is simple but the real magic lies beneath the way everything is expressed. So many characteristics of human psychology intertwined with incidents that can not be explained. By the end of the book, I started to wonder who the teacher was. This mystery still pokes the rational part of my brain. Such a simple childish story but so many elements to think about. One of the best children's literature by Humayun Ahmed. Will read again someday.
রনির নিজের বাবা-মা নেই সবই নকল, হয়তো এইজন্য রনির ম্যাচুরিটি অন্য বাচ্চাদের তুলনায় বেশি। রনির বাবা মৃত্যুর আগে তার সম্পত্তি ছেলেকে লেখে দিয়েছে। বর্তমানে রনি তার সৎ মা-বাবার সাথে থাকে।রনির নিজ দাদা,ফুফু,চাচা আছে কিন্তু সে তাদের সাথে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। হাব্বত আলী চরিত্রটা ভালো লেগেছে।রনির স্যার-ম্যাডামদের কথা যখন পড়ছিলাম তখন নিজের স্যার ম্যাডামদের কথা মনে হচ্ছিল।আমাদের সবার জীবনে দিলশাদ ম্যাডামের মত ম্যাডাম যেমন আছে,শাহানা ম্যাডামের মত ম্যাডামও কিন্তু ছিলো বা আছে।মিঠুর মত সহপাঠী যেমন আছে ঠিক তেমন লুতপাইনের মত অতিমেধাবী সহপাঠী ও আছে।মোটকথা, ছেলেটা, পড়ে নিজের স্কুলের স্মৃতি গুলো তাজা করলাম। ভালো লেগেছে,পড়ার সময়টা ভালোই কেটেছে।😚
গল্পটা এমন ভাবে চলছিলো যে বইটা যদি ৩-৪ হাজার পাতারও হতো তহলেও হয়তো আমার ক্লান্তি লাগত না। আমার সত্যি শেষ করার পর মনে হচ্ছিল আর দেড় দুশো পাতা বেসি লিখলে কি হতো? এক নিঃশ্বাসে শেষ হয়ে গেসে। কিশোর উপন্যাস (বা গল্প) হিসেবে সত্যিই উপভোগ করার মতো জিনিস।
সুন্দর। রনির আসল বাবা-মা কেউই বেঁচে নেই, সে তার নকল বাবা-মার সাথে থাকে। এই নিয়ে আত্মীয় স্বজন, শিক্ষক প্রতিবেশীদের রনির জন্য আক্ষেপ ও সহানুভূতি থাকলেও রনির বেশ ভালোই লাগে তার নকল বাবা মার সাথে থাকতে। রনির ভালোর (?) জন্য তার নকল বাবা মায়ের বেঁধে দেয়া কঠিন রুটিনের ব্যতিক্রম ঘটলো একদিন। রনির জীবনে হলো এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। কিন্তু কে সেই রহস্যময় মানুষ যে রনির সব মন খারাপ কিংবা বিপদে হাজির থাকতো? বেশ ভালো লেগেছে ছোট্ট উপন্যাসটা। বাচ্চাদের সাথে সাথে বড়দের জন্যও উপভোগ্য।
বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ এক অনন্য নাম। সহজ সরল ভাষায় যে কঠিন কঠিন উপন্যাস লেখা যায় তা তাঁর বই পড়েই জেনেছি। আমি হুমায়ূন স্যারের একদম ডাই হার্ড ফ্যান। যাইহোক, এবার বইয়ের কথায় আসি।
'ছেলেটা' বইটা যখন হাতে নিয়েছিলাম তখনই কেনো জানি মনে হয়েছিলো ভালো লাগবে না। এরকম মনে হবার অবশ্য কোনো কারণ ছিলো না। তবে, পড়ার পরে সত্যিই এভারেজ লেগেছে।
আচ্ছা, প্রথমে একটু বইটার প্লট সম্পর্কে বলি। গল্পটা শুরু হয় রনিকে ঘিরে। ওর আসল বাবা মা নেই। এখন থাকে সৎ বাবা মা'র কাছে। রনির আসল দাদা আছে অবশ্য। উনার নাম আসগর আলী। যিনি রনির সৎ বাবা মাকে পছন্দ করেন না। তিনি চান রনি যেনো তার কাছেই থাকে। এই নিয়ে মামলা মোকদ্দমাও চলে। রনির অবশ্য এসব নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। স্কুল, কোচিংয়ের গন্ডি থেকে বেরোবার ফুরসত কই? রনির ক্লাসে একটা মেয়ে আছে লুতপা। যে রনিকে পুরো স্কুল টাইম বিরক্ত করে। আবার, লুতপা না থাকলেও রনির ভালো লাগে না। রনির এই সাধারণ জীবন পাল্টে যায় যখন এক আগন্তুক এসে ঢুকে তার জীবনে। লোকটার নাম হাব্বত আলী। যার সাথে থাকতে রনি ভীষণ পছন্দ করে। ধীরে ধীরে রনি বুঝতে পারে এই লোক সাধারণ কেউ না। হাব্বত আলীর রয়েছে কিছু আধ্যাত্মিক ক্ষমতা। কে এই লোক? সে রনির কোনো ক্ষতি করবে না তো? জানতে হলে পড়ে ফেলুন।
পারসোনালি, বইটা পড়তে গিয়ে আমার মনে হয়েছে কাহিনী টেনে বড় করা হচ্ছে। কেমন জানি একটা অন্ত:সারশূণ্য ভাব ফিল হচ্ছিলো বারবার। পজিটিভ দিক হচ্ছে, হুমায়ূন স্যারের লেখনী। কিছু জায়গা একটু ভালো লেগেছে। তবে, সব মিলিয়ে এভারেজ লেগেছে। অনেকের পছন্দের বই এটা। তবে, আমার কাছে স্পেশাল কিছু মনে হয়নি। সময় থাকলে পড়তে পারেন।
বিকালে হাটতে বের হচ্ছিলাম। হাঁটতে সাধারণত বের হই না, সাইকল নিয়ে বের হই। সাইকেলিং করি খুলনার অলিগলি জুড়ে। কিন্তু সাইকেলটা নষ্ট হওয়ায় পায়ে হেটে ভাবলাম যতদূর ঘোরা যায়। নিঃসঙ্গ ফুয়াদ। গল্প করার কেউ নাই তাই হরহামেশার মতন সঙ্গে নিলাম নিজের ইয়ারবাডসটা। যেখানে গত রাতে ইউটিউব থেকে ডাউনলোড করা, হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস "ছেলেটা" ছিল আর অডিওবুক করেছেন আমার সবচেয়ে প্রিয় কল্লোল ভাইয়া।
অডিওবুক ছেড়ে হাঁটা শুরু করলাম। 1.5x speed দেওয়া। কাহিনি চলছে। শুরুতে মনে হলো এটা হয়ত অনেকটা হুমায়ূন আহমেদের আরেকটা উপন্যাস "কে কথা কয়" এর মতনই হবে। একজন হোম টিউটরের সাথে একটা বাচ্চার খাতির হয়ে যাওয়া। হোম টিউটরটা আবার বাউণ্ডুলে স্বভাবের। ঘটনা যতই এগোতে লাগল, আমার প্রেডিকশন ততই খেটে যেতে লাগল। তখন একটু বিরক্ত লাগছিল৷ হুমায়ূন আহমেদ তার একজীবনে এত এত উপন্যাস লিখছেন যে একটা সময় গিয়ে তা রিপিটেশনের পর্যায় পড়ে যায়। একই ধারা পুণরায় আবর্তিত হওয়ার মতন।
তবুও যেহেতু মাখিয়ে ফেলেছি, না শেষ করে তো উপায় নাই।
রনি গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। ছোট্ট বাচ্চাটার বাবা মা দুইজনই সৎ। খুবব কমপ্লেক্স বিষয়টা তাই আর সেটা ভাঙতে গেলাম না। হঠাৎ একদিন তাদের বাসায় এক লোক এসে হাজির। ঠাডা পড়া গরমে সে চাদর গায়ে দিয়ে আছে। সে আর্ট শিক্ষক। আর্ট শেখাতে চায় রনিকে। নাম তার মহব্বত আলী যাকে হাব্বত বলে রনি ডাকা শুরু করে। রনির মা যদিও লোকটাকে রাখে না, কিন্তু এই লোক কই কই থেকে হুটহাট চলে আসত। রনিকে নিয়ে রিকশয় ঘুরত, রনিকে হসপিটালে তার অসুস্থ ম্যাডামের কাছে নিয়ে গেল এরপর রনি হারায় গেলে তাকে খুঁজে বের করল। উদ্ভট সবব কাজকারবার।
গল্পে ছিল লুতুপাইন। রনির ক্লাসমেট। অঙ্কে দারুণ পারদর্শী মেয়েটা আবার রনিকে খুব পচ্ছন্দ করে। রনির আকা এলিয়েনের ছবি সে চায়। রনির মন খারাপ থাকলে তাকে সরী কার্ড পাঠায়। রাতের বেলা কল করে বলে তার মন খারাপের গল্প। রনি যদিও ভাও দেয় না তবুও মেয়েটা প্যাসোনেটলি লেগে থাকে। রনিকে কখনো একা ফিল করতে দেয় না। এবং একসময় সে রনিকে বলি সে রনিকে ভালবাসে, বড় হয়ে সে রনিকে বিয়ে করবে এটা নাকি আবার তার বাবাকেও বলেছে, সে রাজী ও হয়েছে।
মানে... ইঁচড়েপাকা লিমিট ক্রস৷
তবে... বইটার শেষটা আবার সুন্দর। হুমায়ূনের লেখা বইয়ের ইন্ডিং সুন্দর পাওয়া খুবই রেয়ার কিন্তু এটা সুন্দর।
মাগরিবের যখন আজান দেয় তখন শেষ হয় গল্পটা। এরপর tws টা বন্ধ করে হাঁটছিলাম আর ভাবছিলাম, আমরা সবাই কিন্তু লাইফে একটা করে লুতুপাইন আর হাব্বত আলী ডিজার্ভ করি, তাই না?!
শিশুতোষ গল্প। প্রতিটা চরিত্রই নরমাল। আবার তারাই কোনো না কোনো ভাবে এবনরমাল। এমন দ্বৈত চরিত্রের মিশেল হুমায়ূন আহমেদ ছাড়া কে আর বানাতে পারেন! কাহিনী বিস্তার বেশ ভালো ছিল প্রথম দিকে। শেষে এসে মনে হয়েছে তাড়াতাড়ি টেনে শেষ করে দিয়েছেন। ফোর্থ স্ট্যান্ডার্ড পড়ুয়া ছেলের দৃষ্টিতে গল্প এগিয়েছে। শৈশবের মজার দিনগুলি মনে পড়ছে।
"পিতৃহারা মাতৃহারা রনি থাকে সৎ বাবা ও সৎ মা'র কাছে। আশ্চর্য হলেন? এতদিন আমরা শুনেছি একজন সৎ বাবা বা একজন সৎ মা থাকে শুধু। কিন্তু এখানে? ব্যাপারটা হল, রনির জন্মের সময়ই মা মারা যায়। রনিকে লালন পালন করার জন্য তার বাবা বিয়ে করে। পরবর্তিতে রনি যখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে তখন তার বাবা জাহাজ ডুবীতে মারা যান। রনির বাবার মৃত্যুর কিছুদিন পরেই তার সৎমা বিয়ে করেন এখনকার বাবাকে। এভাবেই তারা দুজনই রনির সৎ মা-বাবা। আসল বাবা-মা না থাকার ধরুণ রনি নিজেকে সবার নিকট করুণা পাত্র মনে করে। রাতের নির্জরতাকে বড্ড ভয় পায় রনি। তবুও তাকে রাতে একা ঘরে ঘুমাতে যেতে হয়। প্রচন্ড কষ্ট হয় রনির তার মা-বাবার জন্য। মন খারাপ হয় আরো যখন তার আসল দাদা তাকে দেখতে আসে। রনি তার দাদুকে একদম পছন্দ করে না। কারণ সে কথায় কথায় শুধু ধমকায়। এমতাবস্থায় মনে হচ্ছে রনি পরিবারে সবচেয়ে উপেক্ষিত? না মোটেই না! তাকে দেখাশোনার জন্য একজন অতিরিক্ত লোক আসে বাসায়। স্কুলে যাতায়াতের জন্য আলাদা গাড়ী ও ড্রাইভার। এমনকি সার্বক্ষণিক নজর রাখার একজনও স্পাইও রয়েছে। মোট কথা, সৎ বাবা-মা এবং দাদা সর্বদা ভাবিত থাকে রনির জন্য। কি মনে হচ্ছে খুব ভাল এ সৎ বাবা-মা ও দাদা? না একদমই না! এমনটা নয় কোনভাবেই! তাহলে কেন রনির জন্য এমন করে ভাবে সবাই? জানতে হলে পড়তে হবে বইটি!"
-----------------------------------------------
৩ অক্টোবর ২০২৫
দ্বিতীয় পাঠের পর রিভিউ:
"প্রথমবার পড়ার পরের রিভিউটা পড়ে দেখলাম তখন আমার মনে হয়েছিলো বইটা "রনি" নামের বাচ্চাটাকে নিয়ে লেখা। কিন্ত এবার পড়ার পর মনে হচ্ছে বইটা আসলে একটা রহস্যময় চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখা। সে হচ্ছে হাব্বত। এই হাব্বত কয়েকজন ব্যক্তি হতে পারে রনির টিচারের হাজবেন্ড হওয়ার স���্ভাবনা বেশি আমার কেন যেন মনে হয়েছে। ওয়াইফ এক্সিডেন্ট করার পর তার মাথা এলোমেলো হয়ে যায়, তখন সে রনিকে খুজে বের করে। আরেকটা সম্ভাবনা হতে পারে লোকটা রনির চাচা। এটা হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক। যাই হোক ইদানীং কোনো বই একটানা পড়তে পারছি না, তাই আগে পড়া বইগুলো একটানে পড়ে, অভ্যাসটা ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছি, Good read!"
হুমায়ুন আহমেদ স্যারের কিশোর উপন্যাস "ছেলেটা" উপন্যাসটি চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেল॥ কিভাবে শেষ হলো তা বলতে পারবো না। কারন তার কোনো ইচ্ছা নেই। 😀❤ শুধুই বলতে পারি যে আমি একটি হুমায়ুন আহমেদ স্যারের উপন্যাস পড়েছি। যার মধ্যে ছিল একটি সুন্দর কাহিনী। আফসোস হয় যে,😌 এই সুন্দর উপন্যাসটি হুমায়ুন আহমেদ স্যার আরও কয়েক পৃষ্ঠা বাড়িয়ে লিখে গেলো না কেনো?😊❤💕
☢️☢️আর হ্যা, সর্বশেষে বলে দেয়া হলো যে, এই উপন্যাসটিতে "ঘোৎ বিদ্যা"-এর কথা বলা হয়েছে॥🤭😁😂
চমৎকার! হুমায়ূন আহমেদ মনে হয় এই প্রথম কোনো বইয়ের কাহিনি ৯৮% লিখেছেন। সুন্দর ছিল মন ভালো করার মতো একটা বই। সব তো জানা যায় না আর এইটা হুমায়ূন আহমেদের একটা ব্যতিক্রমী লেখা বলা যায়। কারণ তার গল্প, উপন্যাসগুলো সাধারণত গা ছাড়া ভাব থাকে,একটা রহস্য তৈরি করতে যেয়ে আরো ঘেঁটে ফেলেন আমার মতে অধিকাংশ বইয়ে। কিন্তু এইটা ভালো ছিল। অন্য লেখকদের মতো ই মোটামুটি শেষ করেছেন। বেশ তৃপ্তি নিয়ে পড়া গেছে। শেষ পরিণতিটাও সুন্দর।
লুতপাইন, রনি, হাব্বত আলি (আহাব্বত আলি) তিন মূল চরিত্র নিয়ে গল্প সাজানো। যেখানে এই ৩ জনের ভূমিকাই ভালো ছিল। বিশেষ করে হাব্বত আলি 🖤
জানিনা বই টা এতো ভালো লাগার কারণ কি? হয়তো আমার সাথে কোন ভাবে রিলেট করে অথবা আসলেই ভালো ছিল। তবে ৫ তারকা দেয়াও বাড়াবাড়ি, অনেকের কাছে নিছর বাচ্চাদের গল্প লাগবে এটা। তবে এ থেকে বলা যায়, " আমার মন এখনো বাচ্চাদের মতই" 😁
This book made me THINK so much to the point that I fell in love with it. Really liked the ending even though it never feels like one. Would suggest this to any Humayun Ahmed fan or teen. Fun read.
ত্রিশের কোঠায় এসে হুমায়ুনের শিশু সাহিত্য পড়লাম। নিজের বয়সের জন্য কিছু জায়গায় বেমানান মনে হয়েছে, সাথে সাথে নিজেকে মনে করিয়েছি এটা শিশুতোষ লিখনি। ব্যক্তিগত রেটিং দেব ৩.৭৫
আমার এখন মন খারাপ। মন খারাপ থাকলে আমি হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ি।কেন পড়ি ঠিক জানিও না, পড়ি, মন আরো খারাপ হয়। তারপর ভুলে যাই। আবার বহুদিন পর মনে হয় এই গল্পটা চেনা, তবুও আবার পড়ি। তবে এই গল্পটা মন খারাপ করে দেয় নি। সুন্দর, সাবলীল। হুমায়ূন আহমেদের এই গল্পে হ্যাপি এণ্ডিং, খুব অল্প বইয়েই পেয়েছি। আমার মনে হয়েছে হাব্বত আলী বলতে কেউ নেই, পুরোটাই রনির ডিফেন্স ম্যাকানিজম। সে এতো টানা হেঁচড়ার একটা পরিবেশে বড় হচ্ছে, নিজের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার মতো ম্যাচিউরিটি তার আগে ভাগেই চলে এসেছে, কিন্তু সে তার শৈশব হারাতে চাচ্ছে না। তার চরিত্রের মধ্যে কনফ্রন্ট ব্যাপারটাকে সে ঢুকতে দিচ্ছে না। এজন্যই হাব্বত আলীকে সে ঢাল বানিয়েছে। এই নামের লোকের সাথে তার দেখা একবারই হয়েছে জীবনে, যখন আর্ট শেখাতে তিনি বাসায় আসেন। এরপর সে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের মতো আমিও গল্পের এক্সপ্লেনেশন কখনো দিই না। আজ মন বিক্ষিপ্ত দেখে দিয়ে দিলাম। হ্যাপি রিডিং।
This entire review has been hidden because of spoilers.
অনেক আগে পড়ার পর আবার ভুলেও গিয়েছিলাম। বইঘরের অডিওবুক আবার শুনলাম। আবার ভাল্লাগলো। পাঠ ভালো ছিল। আর হুমায়ুন আহমেদের লেখা তো জাদু। কীভাবে যেন সেই গল্পটাই লিখতেন যেটা আমরা শুনতে চাই। সেই লেখায় যুক্তি কখনও কখনও কম থাকে, কিন্তু ভালো লাগার কোনো কমতি হয় না। ছোটদের জন্য লেখা বই হিসেবে বিক্রি হয়, কিন্তু সত্যি কথা হল, বইটা যতটা ছোটদের ঠিক ততটাই বড়দের।
লুতপাইন রনিকে ছোট্টবেলায় ভালোবেসেছিল। ফোর্থ স্ট্যান্ডার্ডের সেই অংক ক্লাসে বসে খুব সহজ গলায় রনিকে বলেছিল, "রনি, May be আমি তোমাকে Love করি।" রনির খুবই মেজাজ খারাপ হলো। সে মনে মনে ভাবল, মেয়েটা কী অসভ্য কথাই না বলছে! মিসের কাছে নালিশ করে দিলে কেমন হয়? রনি ফিসফিস করে লুতপাকে বলল, "এইসব অসভ্য কথা আমাকে বলবে না। এইসব খুব খারাপ কথা।" লুতপাইন বলল, "Love করা খারাপ?" "হ্যাঁ খারাপ, এইসব বড়দের ব্যাপার।" "আমি যখন বড় হব তখন তোমাকে Love করতে পারব?" "আমার সঙ্গে আর কথা বলবে না, প্লিজ।" লুতপা ফিসফিস করে বলল, "বড় হয়ে আমি কী করব জানো? বড় হয়ে আমি তোমাকে বিয়ে করব।" হয়েছিলও ঠিক তাই। বিশ বছর পর মহা সমারোহে তাদের বিয়ে হলো। বিয়ের পরে তারা আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোর সেন হোস নামক একটি জায়গায় সুখের সংসার পাতলো। সমুদ্রের পাড়ে তাদের সুন্দর একটি বাড়ি। একটা ফুটফুটে মেয়ে হলো তাদের। হুমায়ূন আহমেদ তার নাম দিলো লীলাবতী। রনি আর লুতপাইন তাকে 'লীলা' বলে ডাকে।
নড়বড়ে মলাটের এই বইটা নীলক্ষেত থেকে ৫০ টাকায় কেনা। ২০০৪ সালের ভালোবাসা দিবসে সামিউলকে এই বইটা উপহার দিয়েছিল তান্নী নামের কেউ একজন। বইটার প্রথম পৃষ্ঠায় গুটিগুটি অক্ষরে যত্নের সাথ�� লেখা, "সামিউল জানকে— বৌ তান্নী..." শেষ পৃষ্ঠায় লেখা, "I love you Samiul. I miss you so much." লেখাগুলো এমন, ঠিক যেন ভালোবাসা মিশ্রিত কিছু কষ্ট আর অসম্ভব প্রেমের ফোঁটা ঝরে ঝরে পড়ছে। আঘাত করছে পাঠকের মনে। বিশ বছর পর রনি আর লুতপার বিয়ে হয়েছিল। ঠিক বিশ বছর পর যখন বইটা আমার হাতে তখন মনটা খুব অস্থির লাগছে। বইটা নীলক্ষেতে পৌঁছুলো কেমন করে? সামিউল আর তান্নীর শেষ পর্যন্ত কী হলো কে জানে!
বই : ছেলেটা লেখক : হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশক : সময় প্রকাশন
হুমায়ূন আহমেদ মানেই অন্য রকম একটা অনুভূতি। অনেকদিন পর হুমায়ূন আহমেদের কোন বই পড়তে নিয়েছি, শুরু যখন করি ভাবতেছিলাম পড়বো কিনা, এই ভাবতে ভাবতেই দেখি আমি বইয়ের অধ্যেক পড়ে শেষ করে ফেলেছি। কখন পড়ে ফেললাম এটা ভেবে নিজেও অবাক হয়েছি কিছুটা।
"ছেলেটি" বইটা ছোট একটা বাচ্চা ছেলে রনিকে কে নিয়ে। যার বয়স এখন নয় বছর। মানুষ হচ্ছে নকল বাবা মা'র কাছে। এটা শুনে যে কারো ভ্রু কুচকাবে আর বলবে যে নকল বাবা-মা আবার কী? নকল বাবা-মা হয় নাকি? হ্যাঁ হয়, যেমন রনি তার নকল বাবা-মা'র কাছে মানুষ হচ্ছে। আসল বাবা-মা দুজনই মারা গিয়েছে।
পুরো উপন্যাস এই ছোট রনিকে নিয়ে, রনি থাকে তার নকল বাবা-মার কাছে, কিন্তু এটা মেনে নিতে পারে না তার দাদা, দাদা চায় রনিকে নিজের কাস্টাডিটে নিতে, এর জন্য সে নানা সময় নানা চাল চালতে চায়। শেষ পর্যন্ত রনির সাথে কী হয়েছে জানলে তো অবশ্যই বইটা পড়তে হবে
পুরো বইটা আমার বেশ ভালোই লেগেছে, লাস্ট একটা জিনিস আমি বুঝিনি বইয়ের একটা মেইন চরিত্র নিয়ে লেখক কোনো খুলসা করেনি, মানুষটা কোথা থেকে এলো, কীভাবে সব জানতো, আবার হুট করে হারিয়েও গেলো। বেপার টা কেমন যেন অদ্ভুত টাইপের, অবশ্য হুমায়ূন আহমেদ আর অদ্ভুত থাকবে না এটা তো হতেই পারে না।
রনি। থাকে তার সৎ বাবা ও সৎ মায়ের সাথে। শুনতে অদ্ভুত মনে হতে পারে। তার মা মারা গেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে তার বাবা। পরবর্তীতে তার বাবা মারা গেলে সৎ মাও দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেলে। এভাবেই সৎ বাবা ও সৎ মা পেয়ে যায় রনি। রনির জীবনটাও চলে অদ্ভুত নিয়মে। নিজের বাবা মা মারা গেলেও সম্পত্তি রেখে গেছেন অঢেল। এছাড়া তার বান্ধবী লুতপাইন চরিত্রটি আলাদা ভালোলাগা কাজ করে। তবে এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত হাব্বত আলী। রহস্যময় এই চরিত্রটি এসেছিল রনির নতুন গৃহশিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে। কিন্তু লোকটার বেশভূষা আর ভঙ্গিমা পছন্দ হয় না রনির সৎ মায়ের। কিন্তু লোকটাকে ভীষণ পছন্দ করে ফেলে রনি। আর এভাবেই গল্পটি এগোতে থাকে। উপন্যাসটি আমার পড়া প্রথম উপন্যাস। আমি তখন ক্লাস টুতে। তখন হুমায়ুন আহমেদের নাম পর্যন্ত শুনিনি। কিন্তু তার লেখা ছেলেটা উপন্যাস আমার এতোই ভালো লেগেছিল যে বারবার উপন্যাসটা পড়ে গেছি। উপন্যাসটার কথা মনে পড়ে গেলে নস্টালজিয়া হয়ে যাই। উপন্যাসটি কি শুধু কিশোরদের জন্য? একটা কিশোর উপন্যাস? আমার মনে হয় না। এখন বড় হয়ে গেলেও উপন্যাসটি পড়তে ভালোই লাগে। সকল বয়সীদের জন্য বইটি দারুণ উপভোগ্য।
Is the book targeted towards a younger audience? Definitely. That would explain a) why the book's attempt at depicting an adopted child's sudden friendship with a spooky fatherly-figure/ friendly ghost feels so... well, unrealistic and b) why the book's main protagonist felt too clever and tactful who's always able to see through the strategic games adults play.
Did the book do a good job in portraying a well-meaning family who dote on their step-son? A bit. Did the book do a good job in depicting the attempts of a lonely child who is curious to explore memories with his dead parents? Not really.
Cheleta ultimately hangs in an uncomfortable balance between an attempt to write a spooky children's novel while also trying to explore family conundrums between a well-to-do family who's just trying to care for their step-son and a controlling boomer grandpa whose possessiveness feels way too forced and unrealistic. So is this book a children's "vooter goppo"? Nah. Is this a family drama focusing on a child's pov? Nah. It's confusingly stuck somewhere in between.
I'd not suggest this book to kids who like a good ghost story- because it would not be spooky enough for them and kids might not be able to feel connected to the main protagonist. This is certainly not HA's best work for children. However, I would suggest this book to kids who are learning to read Bangla because a) it's written in an easy, soft-cushioned Bangla and b) it's a light-hearted book, never really diving too deep into grief and loneliness.