এক পারিবারিক শোকের আবহের মধ্যে হঠাৎই ঘটে যায় আরেক অঘটন। অপ্রত্যাশিতভাবে নিখোঁজ হয় এক অষ্টাদশী—সুশোভন ও লীনার একমাত্র সন্তান, ইনা। তারপরেই শুরু হয়ে যায় এক রুদ্ধশ্বাস অনুসন্ধান-কেন্দ্রিক ঘটনাপ্রবাহ। একদিকে ঘন হয়ে ওঠে সন্তানশোকের নিদারুণ আর্তি, অন্যদিকে উদ্ঘাটিত হয় সমাজ ও প্রশাসনের নির্লজ্জ চেহারা। চারপাশের সত্যাসত্যের মধ্যে নিজস্ব মূল্যবোধে সুস্থিত, এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পিতার আত্মানুসন্ধানের কাহিনী হয়ে ওঠে ‘অন্তর্ধান’। সমকালের অন্যতম প্রধান লেখক দিব্যেন্দু পালিতের এই নতুন উপন্যাস সব-অর্থেই অভিনব। রূঢ় বাস্তব প্রকাশের স্বার্থে লেখক-কল্পনা যেখানে যুক্ত হয় প্রত্যক্ষ সংবাদের সঙ্গে, রচনাশৈলীতে এসে যায় তথ্যানুসরণের ধরন, একাকার হয়ে যায় কল্পনা ও বাস্তব কাহিনী পেয়ে যায় নতুন মাত্রা। এবং, শেষ পর্যন্ত, অন্তর্ধানের এই একক-উপাখ্যান বহন করে এক সার্বিক সংকটের ইঙ্গিত। কল্পনা ও সংবাদের এমন পরিকল্পিত মিশ্রণ বাংলা উপন্যাসে সম্ভবত এই প্রথম।
দিব্যেন্দু পালিত-এর জন্ম ৫ মার্চ ১৯৩৯ (২১ ফাল্গুন, ১৩৪৫), ভাগলপুরে। শিক্ষা : তুলনামূলক সাহিত্যে এম-এ (১৯৬১)। কর্মজীবনের শুরু ১৯৬১-তে, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ডে সাংবাদিক হিসাবে। ১৯৬৫-তে যোগ দেন বিপণন ও বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত পেশায়। এই সূত্রে দীর্ঘকাল যুক্ত ছিলেন ক্লারিয়ন-ম্যাকান, আনন্দবাজার ও দ্য স্টেট্স্ম্যান-এ। বর্তমানে সাংবাদিক, আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা-সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছন্দ। লিখছেন ১৯৫৫ থেকে। আনন্দ ও রামকুমার ভূয়ালকা-সহ আরও কয়েকটি সাহিত্য পুরস্কারে সম্মানিত। ইংরাজি ও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে বহু রচনা। বাংলা ও হিন্দীতে চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে কয়েকটি কাহিনী। ‘গৃহযুদ্ধ’ ছবির সুবাদে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকাহিনীর জন্য পেয়েছেন বি-এফ-জে-এ এবং অন্যান্য পুরস্কার।
রমাপদ চৌধুরী, বিমল কর, মতি নন্দী, জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর মতো সাহিত্যিকদের ঘরানায় লেখা উপন্যাস। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নাগরিক জীবনের বিপন্নতার আখ্যান। লেখার শৈলী ও গল্প বলার ধরন আমার ভালো লেগেছে। জন্ম আর মৃত্যুর মাঝে, আর কিছু থাকুক বা না-থাকুক, চিরসঙ্গী হয়ে আমাদের পাশে থাকে কে? সমস্যা আর সংকট! ক্ষয়িষ্ণু আয়ু, ক্ষয়িষ্ণু আশা আর ক্ষয়িষ্ণু সমাজের এই টানটান কাহিনিটা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, এরকম গল্প এখন আর কেউ লেখেন না। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ (আমি নিজেও যাদের একজন), এবং তাদের যন্ত্রণা ও অসহায়তা, সবকিছুই তো এখনও দিব্যি টিকে আছে। কিন্তু এই শ্রেণিকে কেন্দ্র করে, তাদের সাদামাটা কিন্তু জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে লেখার মতো লেখকরা ক্রমশ অবলুপ্ত হয়ে যাচ্ছেন।
দিব্যেন্দু পালিতের ছোট উপন্যাস অন্তর্ধান মৃত্যু, হারিয়ে যাওয়া এসব নিয়ে প্লট নির্মাণ সুশোভনের দাদা চিন্মোহনের মৃত্যু এই আবহে অদৃশ্য সুশোভনের মেয়ে পুতু শুরু হয় খোঁজ, ক্রমে থানা, পুলিশ চলে উপর থেকে উপরতর মহলে নালিশ লীনা ও সুশোভনের একমাত্র কন্যা মাস কেটে যায়, নিরুদ্দেশ থাকে ইনা এরই মধ্যে সর্বত্র চলে ফিসফিস, রটনা মানসিক ভাবে দুর্বল হয় সুশোভন, লীনা প্রণয়ঘটিত ব্যাপার না কিডন্যাপ? নাকি আরো বড় কোনো কার্যকলাপ? কাহিনী চলতে থাকে এমন ভাবে ইনা কি তাহলে কোনোদিনও ফিরবে?
দুঃসাহস করে রিভিউ লিখলাম ছন্দে দয়া করে করবেন না এই বেকারের নিন্দে হয়তো হলনা উচিৎ এভাবে লেখা সিরিয়াস এই উপন্যাসের এমন ব্যাখা তবে এই গা বমি দেওয়া রিভিউ ভুলে পড়তেই পারেন উপন্যাসটি তুলে।