বইঃ ভূত সমগ্র
লেখকঃ ড. জাফর ইকবাল
৫৬০ পৃষ্ঠার এই পুস্তকে স্থান পেয়েছে জাফর ইকবাল স্যারের লেখা ছয়টি বইয়ের দুইটি বিখ্যাত উপন্যাস 'প্রেত' এবং 'দানব' সহ ২৯টি ছোট/বড় গল্প।বইটির নাম ভূত সমগ্র হলেও আদতে গল্পগুলো গ্রামবাংলার শাকচুন্নি আর ভূতের গল্প নয় বেশিরভাগ গল্পে আর উপন্যাসদ্বয়ে ব্লাক ম্যাজিক বা প্রেতসাধনার কথা উঠে এসেছে। পাঠক বইয়ের পাতা থেকে চোখ ফিরাতে পারবে না এরকম টানটান উত্তেজনার কিছু গল্প বইটিতে মজুদ আছে।উপন্যাস দুইটিই আমার কাছে ভালো লেগেছে। প্রেত উপন্যাস সম্পর্কে কিছু বলা যাক হুম...
প্রেতঃ জাফর ইকবাল স্যারের লেখা প্রেত উপন্যাসটি আমার কাছে অসাধারণ ভালো লেগেছে। এই পর্যন্ত যতগুলো ব্লাক ম্যাজিক বা ভৌতিক বই পড়েছি তার মধ্যে এটাই বেস্ট। মেদবিহীন এই উপন্যাসে লেখক প্রতিটি চরিত্র, স্থান, কালের বর্ণনা এমন ঝরঝরে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, পড়ার সময় মনে হয়েছে ঘটনাগুলো যেন আমার চারপাশে ঘটছে।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কিশোর রুমি, ছোট বোন ছাড়া আর কেউ নেই তার এই ধরণীতে। সাদামাটা বৈশিষ্ট্যের এই কিশোর হঠাৎ একদল দুষ্টলোকদের মায়জালে পড়ে যায় যারা ব্লাক ম্যাজিকের জন্য রুমিকেই খুজছিল। তাদের কাছ থেকে পালিয়ে আসার পর রুমি আবিষ্কার করে লোকজন মনে মনে খারাপ কিছু চিন্তা করলে তা সে শুনতে পায়! দূরে কোথাও অপরাধ সংঘটিত হলে তা সে স্বপ্নের মধ্যে দেখতে পায়!! লেখক তার মধ্যে এক সুপ্ত দেশপ্রেমের উদয় করেন রুমি তার অবিশ্বাস্য শক্তি প্রয়োগ করে দেশের নামকরা এক চিত্রশিল্পীকে আটক করতে। ঐ শিল্পী শিশুদের ধরে ধরে হত্যা করছে শুধুমাত্র মৃত্যুর আগে শিশুদের ভয়ার্ত চেহারার ছবি আর্ট করার জন্যে।রুমি সফল হয়েছে ঐ চিত্রশিল্পীর মুখোশ উম্মোচন করতে কিন্তু তার বিনিময়ে রুমির মস্তিষ্কের কিছু অংশ নষ্ট হয়েছে। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এই উপন্যাসটি জাফর ইকবাল স্যারের সেরা বিশে স্থান পাবে। উপন্যাসটি নিয়ে একুশে টেলিভিশন একটি সিরিয়ালও তৈরি করেছিল
দানব উপন্যাসটিও একই ধাচে লেখা তাই সেসম্পর্কে আর কিছু লেখার প্রয়োজনবোধ করি না। গল্পগুলোর মধ্যে যেসব গল্প আমার কাছে অধিক ভালো লেগেছে সেগুলো হলো :- পিশাচিনী, বন্ধঘর, মুগাবালী, নেকড়ে, মুতুয়াল পীর, আয়না, বাসা, নিশিকন্যা, আংটি, টেলিভিশন, ছায়ানীল, দানব,ও, মড়া।
ভূতের ভয়। হ্যা, ভূতের ভয় পাবার জন্যেই বইটি আমার পড়া এবং সফলও হয়েছি বটে।সন্ধ্যাবেলা বইটি পড়া শুরু করে পড়তে পড়তে কখন যে গভীর নিঝুম রাত হয়ে যায় বুঝা মুশকিল।