এই "মসোলিয়ম" এক আশ্চর্য্য উপন্যাস! এটা কি প্যারোডি না ফ্যান্টাসি সেটা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক অদ্ভুত জাদুর টানে আটকিয়ে রেখেছিল। প্রতি পাতায় পাতায় খেক খেক করে হেসে উঠেছি। বাসে বসে বই পড়ার বদ-অভ্যাস আমার বেশ পুরানো! এই বইয়ের চরিত্রগুলো এমনই ফিচেল কিছিমের যে ভরা বাসে হো হো হো করে হেসে উঠে আসেপাশের সক্কলকে জানান দিলুম যে আমি পড়ুয়া পাবলিক! এমন তোহ হবার কথা ছিল না একেবারেই!!
সে যাকগে, গল্পখানা মেটাফোরিকাল প্যারোডি না, কমেডি-ফ্যান্টাসি সেইটাই এখনো বুঝে উঠতে পারলুমনে। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আমাদের প্রিয় মতিকন্ঠ হয়ত এখান থেকেই আইডিয়া পেয়েছিল। আবার, যখন ফ্যাতাড়ুদের বা মার্শাল ভদি বা বনবিড়াল বা দাঁড়-কাকের সাথে পরিচয় পাকাপোক্ত হলো তখন মনে হলো এ যেন এক আজিব ফ্যান্টাসি। সুকুমার বাবুর থেকে আইডিয়া নিয়ে একটু ডার্ক ফ্যান্টাসি কিছিমের হয়তো। নাহ! এখনো বুঝে উঠতে পারছিনে। তবে, ৭৭ পাতার এই যাত্রা বেশ বিনোদিন দিয়েছে। বেশ কিছু উদ্ভট কবিতা আছে যার রচয়িতা কবি পুরন্দর, মার্শাল ভদির ভদি-অভিধান আর সাপ্তাহিক ভ্যাম্পায়ার সেই! ভাল্লাগসে ব্যাপারগুলা।
বনবেড়াল মারাত্মক উইটি আর বেশ ওয়াইজ। অনেকটা গেইম অফ থ্রোন্সের টিরিয়নের মতন। এই ক্যারেক্টারটা আসলেই অদ্ভুত। মজার ব্যাপার হলো, ছোট ছোট্ট ইলাস্ট্রেশানগুলো উপন্যাসটিকে অন্যরকম এক মাত্রা দিয়েছে। আর প্রচ্ছদটাও বেশ। পোলিশ পোস্টার অবলম্বনে অজয়গুপ্ত আর চন্দনগুপ্ত মস্তিষ্ক প্রসূত।
নবারুণ ভট্টাচার্যের অন্য সৃষ্টিকর্মগুলোও শীঘ্রই পড়ে ফেলতে হবে মাইরি!!