"কৃষ্ণপক্ষ"
কৃষ্ণপক্ষ শব্দটি দ্বারা একটা নির্দিষ্ট পিরিয়ড অফ টাইমকে বোঝানো হয়ে থাকে। সাধারণত পূর্ণীমা থেকে আমাবস্যা অবধি এই পনেরো দিন চাঁদের যে ক্ষয় হতে থাকে একে কৃষ্ণপক্ষ বলা হয়ে থাকে।
জাস্ট একবার চিন্তা করুন, হুমায়ূন আহমেদ কতটা দূরদর্শী হলে এমন একটা নাম তার উপন্যাসকে দিতে পারেন। জাস্ট একটা শব্দ, "কৃষ্ণপক্ষ", এটি দ্বারা উনি ওনার সম্পূর্ণ উপন্যাসকে মেটাফোরিক ভাবে তুলে ধরেছেন।
একটা প্রবাদ আছে, সুসময় বেশি দিন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানুষের জীবন চরম মাএায় আনপ্রেডিক্টেবল। একমাত্র স্রষ্টাই জানেন তার সৃষ্টির নিয়তি।
উপন্যাসটার শুরুটা হয় 'অরু' এবং 'মুহিবের' লুকিয়ে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করার মাধ্যমে, দুইজনের প্রেমের চূড়ান্ত ফলাফল উভয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পেরেছে। প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, - এ তো দেখি রোমান্টিক উপন্যাস, আমার আবার প্রেম পিরিতি রিলেটেড জিনিস ভাল লাগে না, এই উপন্যাসটা শেষ অবধি ভাল লাগবে কি লাগবে না তাই নিয়ে শুরুতেই দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম।
অতঃপর যত সময় গড়ালো, যত পৃষ্ঠা আগে এগোতে লাগলাম ধীরে ধীরে পরিস্থিতি পাল্টাতে লাগল, হঠাৎ করে ৫৬ পৃষ্ঠাতে এসে ধুক করে উঠল বুক। অতঃপর উপন্যাসের জনরা পাল্টাতে শুরু করল, শুরুতে যে রোমান্টিক উপন্যাস শুরু করে ছিলাম তা মোড় নিল ট্রাজেডির দিকে।
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস হইতে পারে তা হুমায়ূন আহমেদ তার লেখনীতে নিষ্ঠুরভাবে উপস্থাপন করেছেন। পাঠকের হৃদয় ভাঙতে এক হুমায়ূত আহমেদই যথেষ্ট, কথাটা পুরাপুরি ভুল না।
উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠায় যেভাবে জীবনের পরিক্রমায় ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে দেখিয়েছেন, পাঠকের ক্ষতবিক্ষত হৃদয় নুন ছিটিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সেটাও প্রশংসার দাবিদার।
পুনশ্চ : বইটা আমাকে, কোন এক আগন্তুক ( মানব কিংবা মানবী ) উপহার দিয়েছিলেন। আমি জানিনা আপনি কে, আর আমি জানতেও চাই না আপনার পরিচয়। থাকুন সবসময় অচেনা, অজানা হয়ে। তবে জেনে রাখুন, আপনি সেই ব্যক্তি হয়ে থাকবেন সবসময় আমার জীবনে যে, আমাকে প্রথম একটা বই উপহার দিয়েছে।
ধন্যবাদ আপনাকে, ভালো থাকবেন সবসময়।