দুনিয়ার মোহে পড়ে আকন্ঠ পাপের সাগরে নিমজ্জিত আমরা। হয়তো কখনো তওবার চিন্তা মাথায় আসে, আবার পরক্ষণেই নিজের পাপ-পঙ্কিলতার কথা ভেবে মনে হয়, মহান আল্লাহতা'লা ক্ষমা করবেন তো? অথবা, এখনি তওবার কি হয়েছে, আর কিছুদিন যাক, এরপর একবারে তওবা করে ভালো হয়ে যাবো! এমন ভাবনার দোলাচালে দুলতে থাকা মানুষের জন্য একদম উপযুক্ত বই 'আমি তাওবা করতে চাই……কিন্তু!'
বই - আমি তাওবা করতে চাই….কিন্তু!
লেখক - শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
অনুবাদ - আবু আব্দুল্লাহ
সংযোজন - ইবনে আলতাফ
প্রকাশনী - আর-রিহাব পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ মূল্য - ১৬০৳
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৯৪
প্রথম প্রকাশ - এপ্রিল ২০১৭
▶লেখক সম্পর্কে -
বর্তমান বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী খতিবদের একজন শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ। আরব বিশ্বে তাঁর পরিচিতি 'দাঈ ইলাল্লাহ' হিসেবে। সৌদি আরবের 'কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি' থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ইসলামি ফিকহশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন সৌদি আরবের বিভিন্ন খ্যাত নামা আলেমগণের কাছ থেকে। বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন 'মসজিদে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ'-এ ইমাম ও খতিব হিসেবে। আরব বিশ্বের প্রথম ইসলাম বিষয়ক প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক ওয়েবসাইট [Islamqa.info]-র উদ্যোক্তাও তিনিই। এছাড়াও তিনি ইসলাম বিষয়ক ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম Islam Web Site-এরও সিইও, যেখান থেকে মোট ৮টি ওয়েবসাইট পরিচালিত হয়। ইসলামিক শিক্ষা ও দাওয়াহ বিষয়ক মুঠোফোন ও টেলিফোন কন্টেন্ট তৈরি, টিভি অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার এবং ইসলামি বই প্রকাশনায় নিয়োজিত জাদ গ্রুপেরও সিইও তিনি। এছাড়া লেখনীর মাধ্যমে নিয়মিত দাওয়াতের কাজ করে থাকেন।
▶কি আছে বইটিতে?
পাপকে তুচ্ছজ্ঞান করার ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন লেখক। কেননা আজকাল গুনাহকে হালকা ভাবার ব্যাধিতে লিপ্ত মানুষ কিভাবে নিজের পাপের বোঝা ক্রমশ ভারী করে তুলছে, তা হয়তো বুঝতে পারছে না নিজেই!
এরপর লেখক আলোচনা করেছেন তওবা কবুল হওয়ার জন্য অবশ্য পালনীয় শর্তসমূহ এবং এর পরিপূরক বিষয়।
এরপর পর্যায়ক্রমে এসেছে রাসূল (সা.) এর যুগে বিভিন্ন ব্যক্তির তওবার নমুনা, তওবার সুফল আর আল্লাহতা'লার ক্ষমাশীলতার বর্ণনা……ইত্যাদি। এসব বর্ণনার সাথে সাথে লেখক বিষয়ভিত্তিক কুরআনের আয়াত এবং হাদীস তুলে ধরেছেন, যা মানুষকে তওবা করতে উৎসাহিত করবে।
তওবা করতে গিয়ে পুরোনো পাপের স্মৃতি অথবা অসৎসঙ্গ যাতে আবারও পাপের পথে টেনে নিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য আল্লাহর রাস্তায় দৃঢ় থাকার উপায়ও বাতলে দিয়েছেন লেখক।
এছাড়া যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ, তার মধ্যে আছে আল্লাহর এবং বান্দার হক নষ্ট করার পাপের তওবা। আল্লাহতা'লার হক নষ্ট করলে আল্লাহর কাছে এবং বান্দার হক নষ্ট করলে বান্দার কাছেই ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।
তওবা করতে হলে পাপের স্বীকারোক্তি করতে হবে কি না? এ প্রশ্নটা মাথায় আসতে পারে অনেকেরই। লেখক নবীজী (সা.)এর যুগের ঘটনার আলোকে দেখিয়েছেন যে, পাপের স্বীকারোক্তি জরুরি নয়। বরং আল্লাহতা'লা যে পাপ গোপন রেখে ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা করেছেন, তা গোপন রাখাই ভালো।
তওবা করতে গিয়ে মানুষের মনে সাধারণত যে প্রশ্নগুলো আসতে পারে, সেরকম বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন লেখক, যা তওবা সংক্রান্ত মোটামুটি সব বিষয়কেই আওতাভুক্ত করেছে।
এছাড়া বইয়ের শেষে তওবার মর্যাদা, গুরুত্ব ও ফজিলত সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোর সংযোজন বইটির গুরুত্ব আরও কিছুটা বাড়িয়েছে।
▶বইটি ক্যানো পড়বেন?
তাওবার মাঝে যে কত মর্যাদা আর পুরস্কার রয়েছে তা জানার জন্য বইটি পড়া জরুরী। সংক্ষিপ্ত পরিসরে তাওবা’র সম্পর্কে বিস্তারিত জানার ক্ষেত্রে এই বইটি সুখপাঠ্য। কারণ লেখক এই বইটিতে তওবা সম্পর্কিত যাবতীয় আলোচনা কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিশ্লেষণ করে যথাযোগ্য সমাধান দিয়েছেন। সব শ্রেণির পাঠকের কাছে সহজবোধ্য করার জন্য লেখক আলোচনা করেছেন বিভিন্ন শিরোনামে ভাগ করে এবং শেষে যোগকৃত তওবা সম্পর্কে জীবনভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর, বইটির প্রতি পাঠকের আগ্রহ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হবে বলে মনে করছি।
▶মন্দলাগা -
(টাইপিং-এ ভুলের কারণে হয়তো) বানান ভুল চোখে পড়েছে বেশ কিছু।
▶শেষকথা -
রাসূল (সা.) দিনে ১০০বার তওবা করতেন (কোনো কোনো বর্ণনায় ৭০ বার পেয়েছি, তবে এই বইতে ১০০বারের উল্লেখ আছে)। তাঁর মতো নিষ্পাপ ব্যক্তি যদি দিনে ১০০বার তওবা করেন, আমাদের মতো পাপের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া মানুষের কতবার করা উচিত?
সেই কথা চিন্তা করে আসুন তওবা করে ফেলি মৃত্যু আমাদের দরজায় কড়া নাড়ার আগেই। কেয়ামতের ময়দানে সমগ্র সৃষ্টির সম্মুখে অপমানিত হওয়ার চেয়ে সময় থাকতে এখনি তওবা করে ফেলাই ভালো নয় কি?
- ওয়াহিদা আখতার ছাননা