বইটা ছোট হলেও বেশ মজার। অদ্ভুত অদ্ভুত অনেক ঘটনা আছে। যেমন পুরনো গা ছমছমে জমিদারবাড়ি, ভদ্র কুকুরের সভ্যতা, দলবেঁধে সাপ ধরা, টিয়াপাখির অদ্ভুত সব আচরণ, ইয়াবড় জোঁকের গা শিরশিরে কাহিনী, হারমিট ক্র্যাব ওরফে সন্ন্যাসী কাঁকড়ার গল্প ইত্যাদি। মুহম্মদ জাফর ইকবালের পিতা কর্মসূত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পোস্টেড ছিলেন। ফলে লেখকের কখনোই গল্পের রসদের অভাব হয়নি। একের পর এক উঠে এসেছে দিনাজপুর, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, বগুড়া, কুমিল্লা ও পটুয়াখালীর গল্প।
তবে বইটি শেষমেশ মন খারাপের। যেমন লেখকের ছোটভাই আহসান হাবীব (তখন শিশু) কে সাপের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে বেচারা কুকুর ছোবল খেল, পরে সেই ছোবল বিষিয়ে ঘা হল আর তার ফলে মানুষেরই গুলিতে মৃত্যু। এ যেন বিশ্বস্ততার প্রতিদান।
কিংবা স্বাধীনচেতা টিয়াপাখিটির বন্দীদশায় করুণ মৃত্যু। বন্যেরা বনে সুন্দরেরই প্রতিধ্বনি যেনো গল্পটা।
বিড়ালের বাচ্চাটা ডিপথেরিয়ার গুজবে পড়ে ঘরছাড়া হল। তারপর ঘর চিনে ফিরে আসলেও মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারেনি। সেই মৃত্যুর ভার আজও লেখকের বুকে জমে আছে।
বইয়ের শেষটা হয় ইরা নামের পুরুষ হরিণটির করুন মৃত্যু দিয়ে। একাত্তরে বাবাকে হারানো লেখক ঘটনাক্রমে সন্ধান পান পোষা হরিণ ইরার। মুক্তভাবে চড়তে গ্রামে ছেড়ে দেয়া হলেও লোভী গ্রামবাসীরা মাংসের লোভে জবাই করে খেয়ে ফেলে ইরা কে।
শেষমেশ সেই চিরন্তন সত্যটাই বুকে বাজে - "মানুষের চেয়ে জঘন্য কোনো জীব হয়না।"