লেখক জাফর ইকবালের "একজন দুর্বল মানুষ" গল্পের বইটা পড়ে নিলাম। এক কথায় বলেতে গেলে বলতে হয়, বইটা অসাধারণ। মোট সাতটা গল্পের এই বইটা মুক্তিকামী বাঙালী মুক্তিযুদ্ধে সে অসাধারণ সাহসিকতা এবং ত্যাগের প্রমাণ দিয়েছিল তার একটি কাল্পনিক চিত্রায়ন যা একজন বাঙালীর স্বাধিকার সংগ্রামকে বাস্তবে দেখার অনুভূতি দিবে।
চোখের সামনে ভেসে উঠে রাজাকার এবং পাকিস্তানি মিলিটারির নৃশংসতা এবং বর্বরতার চিত্র। সকল বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে একটি স্বাধীন দেশ ঘঠন করার প্রত্যয় দেখা যায় প্রত্যেকটা গল্পে। দেখা যায় অশিক্ষিত চাষাভুষা ও চায়ের দোকানদারদের দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং মুক্তির প্রবল আকাঙ্ক্ষা।
প্রথম গল্প " একজন দুর্বল মানুষে" দেখা যায় কিভাবে পাকিস্তানি সামরিকবাহিনী বাঙালী বীর মুক্তিযুদ্ধাদের নৃশংসভাবে মেরেছিল। দ্বিতীয় গল্পে রাজাকার বাহিনী সম্পর্কে জানা যাব। জানা যায় কিভাবে রাজাকাররা ইস্ট পাকিস্তানের মানুষের বিপদে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়েছিলো।
"ইরা নামের হরিণ" গল্পে ইরা নামক হরিণ এবং হরিণ পালকের একটা সুন্দর ভালোবাসার প্রকাশ পায় যুদ্ধের পরে এক মিলনে। অন্যদিক "আজব ছেলেতে", জীবনে কখনো না দেখা মায়ের প্রতি ভালোবাসার এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা প্রকাশ পায়।
"চা" গল্পে দেখতে পাই বুদ্ধিজীবী হত্যার চিত্র। "ফেরা" গল্পে যুদ্ধ থেকে স্বপ্নে বিভোর মুক্তিযোদ্ধা বাড়িতে ফেরার কাহিনী। সর্বশেষ "ভালোবাসার নক্ষত্র" গল্পে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধাদের পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতে দেখা যায়। এ গল্পে সংলাপের মাধ্যমে বুঝা যায় সমাজের সকল স্তরের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীকে অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রতিহত করেছে। গল্পটা পড়ার সময় সবগুলো চরিত্র বাস্তবে দেখার অনুভূতি পাওয়া যায়।
আমি অনেক সৌভাগ্যবান আমি একটি স্বাধীন দেশে জন্ম গ্রহণ করেছি। জাফর ইকবাল বা তার গল্পে জীবন্ত চরিত্রদের মতো কোনো দোশের অধীনে থাকতে হয়নি। তাই হয়তো স্বাধীনতার মর্ম আমি অতটা বুঝবো না। এ গল্পগুলো আমার মুক্তিযুদ্ধর চেতনা জাগ্রত করেছে। লেখক জাফর ইকবালের বাবাও যুদ্ধে মারা যান যা "ইরা নামের হরিণ গল্পে" দেখতে পাই। হয়তো তিনি মুক্তি যুদ্ধ দেখেছেন বলেই অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে একাত্তরকে আমাদের সামনে গল্পের আলোকে তুলো ধরেছেন।
যারা মুক্তিযুদ্ধকে জানতে চান, তারা এই বইটা পড়ে দেখতে পারেন।