Jump to ratings and reviews
Rate this book

রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা

Rate this book

165 pages, Hardcover

First published January 1, 1993

6 people are currently reading
175 people want to read

About the author

Tapan Raychaudhuri

21 books38 followers
Tapan Raychaudhuri (8 May 1926– 26 November 2014) was an Indian historian specialising in British Indian history, Indian economic history and the History of Bengal.

He was a student of Ballygunge Government High School, Calcutta and Barisal Zilla School, Scottish Church College, Calcutta, where he completed his I.A. and finally Presidency College, Calcutta, where he completed his B.A. (Hons.) in history with a high first class. He completed his first D.Phil. in history at Calcutta University under the supervision of Sir Jadunath Sarkar and his second D.Phil. at Balliol College, Oxford under the supervision of Dr. C.C. Davies.
He started his career as a lecturer at the Department of Islamic History and Culture, Calcutta University. After his return from Britain he became a deputy director of the National Archives of India. He was a reader and then professor of history and director of the Delhi School of Economics and also of the department of history of Delhi University.

He was first a reader in Modern South Asian History and then professor of Indian History and Civilization and fellow of St. Antony's College, Oxford from 1973-93. He was an emeritus fellow of St. Antony's College, Oxford after retirement. He became a national research professor in India in 2010

Awards:
1. Watumull Prize awarded by the American Historical Association, 1982. (jointly with Irfan Habib) for the Cambridge Economic History of India.
2. Doctor of Letters 1993, University of Oxford.
3. Doctor of Letters honoris causa by the University of Calcutta.
4. Doctor of Letters honoris causa by the University of Burdwan.
5. Padma Bhushan in 2007 in recognition to his contributions to history.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
74 (62%)
4 stars
37 (31%)
3 stars
7 (5%)
2 stars
0 (0%)
1 star
1 (<1%)
Displaying 1 - 22 of 22 reviews
Profile Image for রিফাত সানজিদা.
174 reviews1,355 followers
August 3, 2016
আলীজা বলেছিলেন, 'কিন্তু বাঙালি আর কিছু না পারুক.. বাজে তর্কে খুব মজবুত'।
ও হরি! শুধু ছাদ ফাটিয়ে এঁড়ে তক্কো নয়, বঙ্গবাসী মজবুত রসিকতাতেও। তবে অভব্য চটুলতা আর বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতার মধ্যেকার ফারাক হালজামানায় আর ধরতে পারে আর ক'জনা?
আমরা রসিকতা করি সুমাইয়া শিমুর 'কালা জামাই' নিয়ে, ভুলে যাই মিডিয়া সেলিব্রিটি হলেও জীবনসঙ্গী নির্বাচনের অধিকারটি তার একান্তই ব্যক্তিগত। এবং দারুণ মেধাবী অর্ধাঙ্গ সেই ভদ্রলোকটি পেশাগতভাবে একটি আর্ন্তজাতিক এনজিওর পুরোধা। আমাদের রঙ্গরসের সীমা ঘুরপাক খায় নোংরা রেসিজমেই, এখনো!
যাক সে কথা।

মার্জিত ও সরস লেখা পাঠের আরাম সবসময়ই আলাদা! সেই আরাম, সৈয়দ মুজতবা আলীর পর যিনি বা যারা যোগান, তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিচারে দ্বিতীয় স্থান তপন রায়চৌধুরীর। আমার পড়া তাঁর দ্বিতীয় বইও এটাই। বাকিগুলো, অনতিবিলম্বে, পড়ার ইচ্ছে রাখি।
বাঙালনামার পূর্বেই প্রকাশিত এ বইটি ঠিক আত্মকথন নয়। রোমন্থনকে বলা যায় লেখকের জীবনের টুকরো কথন, ছড়ানো-ছিটানো সময়ের গল্প মিলিয়ে-মিশিয়ে। সে সময় মূলত তিরিশ আর চল্লিশের দশকের সীমানা জুড়ে, পটভূমি বরিশাল জেলা। যে জেলার লোকজনের সংস্কৃতি ছিলো 'চির উন্নত মম শির', প্রকাশ প্রচণ্ড পৌরুষে, এমনকি সামান্য দোকানদারদেরও। বেচাকেনা নিতান্তই তুচ্ছ জীবিকা রোজগারের উপায়, ও নিয়ে মাথা কম ঘামালেও চলে। কিন্তু সম্ভ্রম নিয়ে সমঝোতা? নৈব নৈব চ!
মূলের সঙ্গে চাটনিসমেত একটু পড়ে শোনাই বরং :
খরিদ্দার ঢুকলো, দোকানদার অসম্ভব দাম বললেন। তারপর প্রশ্নোত্তর নিম্নরূপ :
খরিদ্দার : ঠ্যাকলাম কিসে? [মূল ভাব : দুনিয়াতে কি আর দোকানপাট নাই?]
দোকানি : হেয়া আপনি জানেন। [মনে মনে : যান যান মিয়া, আমার কাস্টমারের অভাব পড়সে নাকি!]
খরিদ্দার : হেইলে (তা হলে) আমি হাড্ডিয়া যাই (হেঁটে চলে যাই)।
দোকানি : তাহলে হেড্ডিয়াই যান। [সানন্দচিত্তে: অকা এন্ড বাই]
পরাজিত খদ্দের নতমস্তকে বের হয়ে গেল। সম্ভাব্য ক্রেতাকে 'কনসিডারেবল অফার' দিয়ে ফেরানোর চেষ্টার বদলে দৃপ্ত দোকানির মুখে তখন অহংমিশ্রিত বিজয়ীর হাসি। দু-পয়সা লস গেলে যাক, বাপ-পিতেমোর সম্মান তো রক্ষা হলো!

খাস বরিশালি এমন ভাষার সঙ্গে গুরুগম্ভীর সংস্কৃত কেচাপ সহযোগে এক নূতন ও বিশেষ ভাষা চৌধুরী মশাইয়ের রসের অনন্য বৈশিষ্ট্য। বিচিত্র কৌতুকবোধের সঙ্গে আছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও দেশবিভাগের ফলে জাতীয় ও পারিবারিক সঙ্কট ও অন্তর্দাহের গল্পও।

ভূমিকাংশে জানা যায়-- বরিশালবাসীর মতে, জগত জুড়িয়া নাকি সাকুল্যে দুটি জাতি, বরিশাইল্যা আর non-বরিশাইল্যা। তবে কিনা, দ্বিতীয় জাতিটি কদাচ ধর্তব্য নয়।
কীর্তিপাশার বরিশাইল্যা রায়চৌধুরীয় নিজস্ব মতে নিতান্তই 'অপসংস্কৃতিমূলক ও ছ্যাবলা' রোমন্থন পুস্তকটি কাঞ্চনমূল্য প্রদানের বিনিময়ে সংগ্রহপূর্বক মনোযোগী পাঠ 'রসময়' পাঠককূলের জন্য অবশ্য কর্তব্য।
Profile Image for Rubell.
190 reviews23 followers
March 31, 2023
তপন রায়চৌধুরীর রসবোধ উচ্চমার্গের, একথা সর্বজনবিদিত। তবে সমস্যা হচ্ছে, "রোমন্থন" বইটার ভাষাটা খুব খটোমটো। ভূমিকায় লেখা, নবনীতা দেব সেন লেখককে পরামর্শ দিয়েছেন - যেভাবে কথা বলেন সেভাবেই লিখতে। লেখক বলছেন: তেমনটাই চেষ্টা করলাম। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি। বর্তমানে কদাচিত ব্যবহার হয় এমন সংস্কৃতজাত শব্দের বিশাল সমাহার তাঁর রচনায়। রীতিমতো ভিক্টোরিয়ান যুগের কাঠশুষ্ক বাংলা, অবশ্য পুরাতন আমলের শুষ্ক ভাষাতেও কিছু রস জমা থাকে। সেই রস আস্বাদনের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য।
অবশ্য সবসময় এমন খটোমটো ভাষায় স্থির থাকেননি তিনি, কিছু কিছু জায়গায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মত সহজ ভাষায় লিখেছেন। যাহোক, পাঠে অগ্রসর হওয়া বেশ কষ্টসাধ্য ছিল আমার জন্য, পড়ার সময় বারবার জোরে জোরে শ্বাস নিয়েছি। তারপরও কষ্ট করে পড়া চালিয়ে যাওয়ার কারণ মূলত দুটো।

১.
বাংলা তথা ভারতবর্ষের ইতিহাসের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী তপন রায়চৌধুরী। তরুণ বয়সে তিনি দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ, মাইগ্রেশন। রোমন্থনের "ক্রান্তিকাল" অধ্যায়ে খুব প্রাঞ্জল ভাষায় তিনি ১৯৪১-১৯৪৭ সময়কার অভিজ্ঞতা লিখেছেন (উল্লিখিত সময়ের আগেপরের কিছু ঘটনাও আছে)। ওই সময়টাতে তিনি কলকাতায় স্কটিশ চার্চ কলেজের হোস্টেলে থাকতেন। মাঝে বিভিন্ন সময় ছুটিতে দেশের বাড়ি বরিশালে ফিরেছেন। একবার ব্রিটিশ রাজের বদান্যতায় বাবা ও দাদার সাথে জেলবাসের সৌভাগ্য হয়েছিল রায়চৌধুরী মহাশয়ের। বেশ সরেস ভাষায় জেল জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। একটা ব্যাপার জেনে আমি স্তম্ভিত হয়েছি: তখনকার দিনে বরিশাইল্যা ছিঁচকে চোরদের আত্মসম্মানবোধও(?) ছিল টনটনা। এমন চোরও ছিল যাদের জেল খাটার কারণ জিজ্ঞেস করলে চুরির কথা স্বীকার করতো না, বলতো ধর্ষণের মামলায় জেল খাটছে। কি পৌরুষের কথা!

উনিশশো তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষের বর্ণনা টেক্সট বুকে পড়েছি, আউটবুকেও পড়েছি। ছোটবেলায় জয়নুল আবেদিনের আঁকা ছবিতে দেখেছি দুর্ভিক্ষ। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় তেতাল্লিশ এর দুর্ভিক্ষকে জানলাম এই প্রথম। কলকাতার রাস্তায় মানুষেরা ভাতের বদলে ফ্যান ভিক্ষা চাইছে এমন দৃশ্য সচক্ষে দেখেছেন লেখক। রাস্তাঘাটে পচাগলা লাশের সারি পেরিয়ে নির্বিকারে যাদের হেঁটে যাবার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল, তপন রায়চৌধুরী ছিলেন তাদের একজন।

এরপর তিনি কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা লিখেছেন। হিংস্রতায় কীভাবে সৃষ্টিকুলের বাকি সব জানোয়ারকে মানুষ ছাড়িয়ে যায় তারই একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

তারপর আসে দেশভাগের কথা। দেশভাগের প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় পর বইটা লিখেছেন তপন রায়চৌধুরী, কিন্তু তাঁর মনের মধ্যে একজন কোমলপ্রাণ বরিশালপ্রেমী এখনও টইটম্বুর আবেগ নিয়ে বিরাজ করে সেটা এই বইয়ের পাতায় পাতায় প্রকাশিত হয়। বরিশাল শুধু তাঁর জন্মস্থান নয়, এখানে তিনি বেড়ে উঠেছেন- এমন জায়গার মাটির টান কি কেউ ভুলতে পারে? সেই জন্মভূমিতে একদিন পরবাসী হয়ে গেলেন তাঁরা।
একজন ছিলেন সতীনদা, তিনি দেশভাগ মানতে পারলেন না। দেশের মাটি আঁকড়ে পড়ে রইলেন। পাকিস্তান রাষ্ট্র সতীনদার মত মানুষদের আপন করে নেয়নি। তবে সাধারণ মানুষ তাঁর ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা করেছে, এটুকুই সান্ত্বনা।

শুধু দেশভাগ নয়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের টুকরো স্মৃতিও "রোমন্থন"-এ এসেছে। সাজাহান চৌধুরী, লেখকের প্রিয় সাজুকাকা- ব্রিটিশ যুগে যিনি ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট, মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রাণ হারালেন রাজাকার হয়ে। রাজাকার সাজাহান চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদে খুশি হতে পারেন না তপন রায়চৌধুরী, তাঁর বেদনা হয় কৈশোরের সাজুকাকার জন্য।


২.
এতক্ষণ ১৬৫ পৃষ্ঠার গ্রন্থের মাত্র ২০ পৃষ্ঠা পাঠের অভিজ্ঞতা লিখলাম। যে অংশটা খুব সহজে পড়ে ফেলেছি। এই অংশটা ফটোকপি করে রাখতে ইচ্ছা হয় (লাইব্রেরি থেকে ধার করা বই পড়ছি কিনা)।
বাকি বইটা পড়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি ক্লান্তিকর, বিশেষ করে বরিশাল নিয়ে লিখিত অংশটার বেশিরভাগই ভালো লাগেনি। দেশ নিয়ে লেখকের চরম আবেগ, তাই বরিশাল সংক্রান্ত নিম্নমানের রসিকতাও তিনি এড়িয়ে যেতে পারেননি। ছোটবেলার নিম্নমানের জিনিসগুলোর প্রতিও একটা মায়া তৈরি হয়।
মিহির সেনগুপ্তের দুইটা প্রবন্ধও এই গ্রন্থে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে- একটা সমালো���নামূলক, একটা স্মৃতিচারণামূলক। সমালোচনামূল প্রবন্ধে মিহির সেনগুপ্ত তপন রায়চৌধুরীর বরিশাল সংক্রান্ত রচনার ভাষাগত ত্রুটির ব্যবচ্ছেদ করেছেন, মিহিরের লেখাটার ভাষা আমার অভদ্র অশালীন লেগেছে, এবং তিনি কিছু পণ্ডিতিও করেছেন। কিন্তু বরিশালের মানুষদের আঞ্চলিক ভাষা ও তৎকালীন সময়কে বিবেচনা করলে, মিহির সেনগুপ্তের লেখাটাকে অশালীন বা অভদ্র বলাটা সমীচীন হবে না।
তবে মিহির সেনগুপ্তের গদ্য আমার ভালো লাগেনি। রায়চৌধুরী মহাশয় তাঁর রচনার দোষত্রুটি শিকার করে কিছু ফুটনোট দিয়ে দিলেই বরং খুশি হতাম। যদিও আমার খুশিতে কিছু আসে যায় না। কারণ স্বয়ং তপন রায়চৌধুরী মিহিরের বরিশাল সংক্রান্ত রচনা খুবই উপভোগ করেছেন।

শেরে বাংলা একে ফজলুল হক আমার প্রিয় ব্যক্তিত্বের একজন, তাঁর কথা পড়তে ভালো লাগে। কিছুদিন আগে জসীম উদদীনের স্মৃতিতে শেরে বাংলার কথা পড়েছিলাম। এবার পড়লাম তপন রায়চৌধুরীর অভিজ্ঞতায়। এক্সক্লুসিভ অভিজ্ঞতা বলতে হবে, কারণ রায়চৌধুরী বাড়িতে যাতায়াত ছিল শেরে বাংলার।

তপন রায়চৌধুরীর একটা বিশেষ বিষয় আমার মনোযোগ কেড়েছে- সেটা হচ্ছে বাঙালি মুসলিম রীতিনীতি বা সংস্কৃতির সাথে তিনি খুব ভালো করে পরিচিত। ব্রিটিশযুগে অনেক হিন্দু লেখক পূর্ববঙ্গে মুসলিম জনসংখ্যাবহুল অঞ্চলে বসবাস করেছেন, কিন্তু তাঁদের অনেকের কাছেই মুসলিমদের সংস্কৃতি এলিয়েন বলে মনে হয়। তপন রায়চৌধুরী সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এজন্য "রোমন্থনে" তাঁর মুসলিম সংক্রান্ত হিউমারগুলো খুব উপভোগ্য লেগেছে।

এছাড়াও কিছু রম্য রচনা আছে "রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা"-য়।
সেখানে সেমাইয়ের মধ্যে ছড়ানো কিসমিসের মতো মিষ্টি মিষ্টি কৌতুকপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ আছে। বইয়ের টিজার হিসেবে একটা এখানে লিখে রাখি:
এক ভারতীয় যুবক গেছেন ইংল্যান্ডে। তাকে শেখানো হয়েছে বিলাতি ভদ্রতা। "পেশাব করবো কোথায়?" বলাটা নোংরামি, তাই সবসময় বলতে হবে "হাত ধোব কোথায়?"
আরেকদিন এক পার্টিতে গৃহকর্মী সেই ভারতীয় যুবককে জিজ্ঞেস করছেন "আপনি কি হাত ধোবেন?" ভারতীয় যুবকের জবাব: I have already washed my hand against the lamp post.
Profile Image for Israt Zaman Disha.
194 reviews623 followers
April 11, 2021
কমেডি দেখে, জোকস পড়ে আমার হাসি আসে না। তপন রায়চৌধুরির সূক্ষ্ম হিউমার আমাকে হাহা করে হাসায়। লেখক সুপরিচিত তার বাঙালনামা বইয়ের সৌজন্যে। এটাও কিন্তু কম যায় না। লেখকের গ্রামের বাড়ি বরিশালকে কেন্দ্র করেই ছোটবেলার নানা স্মৃতিচারণ আর কত মজার মানুষের বর্ণনা। শেষের দিকে বরিশালের ভাষা নিয়ে কিছু অধ্যায় ছিল সেগুলো কিছু একঘেয়েমি লেগেছে। নাহলে এই বই ৫ তারার কমে দেয়ার প্রশ্নই উঠত না।
Profile Image for Rajat Suvra Partha.
10 reviews11 followers
September 15, 2016
চমস্কি বুড়োর কথা মনে হলো। 'নায়ক খোঁজার তো প্রয়োজন নাই। এরচেয়ে বরং ভালো আইডিয়া কিছু খুঁজে পাওয়া দরকার। কারন আমরা তো মানুষই, আর কিছু নই। একটু ঠিককরে নিজের দিকে তাকালেই বুঝে ফেলব আমাদের ভেতরটা আসলে কতটা শুদ্ধতা আর কতটা ভেজাল মেশানো।'(এইরকম কিছু...) কিন্তু আমাদের তবু নায়ক হওয়া চাই, অন্তত কাউকে না কাউকেই সুযোগ পেলেই নায়ক বানানো চাইই চাই। আমাদের নেতারা তাই ফুলের মতন পবিত্র। অনলাইন ভর্তি পীরদের বাণীই তাই হয় ফ্যাসিস্ট মুরিদদের শেষ কথা; তাদের দর্শনই সিদ্ধ, যুক্তি অকাট্য। আমাদের লেখকদের আত্মকথাও হয়ে ওঠে নিজেদের গুণের বহর, ঠিক যেন তারা ঈশ্বর। আমরা এভাবেই বোধহয় সবথেকে সহজ জিনিসটাই ভুলে যাই কিংবা যেতে চাই যে আমরা মানুষ। তপন রায়চৌধুরীকে পছন্দের সবথেকে বড় কারন উনার ভেতরে সচরাচর অতি দুর্লভ এই 'সহজ মানুষ' ভাব। এই আপাতসাধারণ বইটি একেবারে দুর্দান্ত কিছু মনে হয়েছে শুধু লেখকের কারনেই। স্মৃতিকথার নামে নিজের গুণের কথা বলে দেশ উদ্ধারে নামেন নি, নিজেকে নায়ক বানাতে বসেন নি বরং যা কিছু চোখে লাগে শৈশবে, যা কিছু আঁচড় কাটে এক বিচিত্র ঘটনাবহুল সময়ে বেড়ে ওঠা তরুণের মনে, তারই গল্প। লেখকের দুর্দান্ত রসবোধ আর লেখনীর কথা বারবার উল্লেখ করলেও দোষের কিছু নেই, হাসতে হাসতেও যে কত গভীর আর শক্ত কথা বলে দেয়া যায় সেটারই আরেকটি উদাহরণ এই চমৎকার ছোট্ট বই।
Profile Image for Arnab Paul.
62 reviews119 followers
September 27, 2015
হাতে গুণে বলে দিতে পারি ঐ বইগুলোর কথা, দ্রুত পড়ার ইচ্ছার সমানুপাতে কষ্টও হচ্ছিল শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে!
রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা! নাম শুনেই ভেতরের সুবাস পাওয়া যায়।তপন রায়চৌধুরীর লেখা প্রথম বাংলা বই এটি ,আমার পড়া দ্বিতীয়।’বাঙালনামা’র Abridged version বলা যেতে পারে।প্রিয় গদ্যকারের তালিকায় আগে যে তিনজন লিস্টে ছিলেন,সবাই কবি। নতুন করে সেখানে একজন ঐতিহাসিক যুক্ত হলেন।
তপনবাবু বাক্য-নবাব, অনুপ্রাস-ছন্দ-উপমার মসলায় তার গদ্য শুধু সুস্বাদু না ,সরসও।বৈঠকখানার আড্ডার স্টাইল তাঁর কথনরীতি্তে, শ্রুতিপাঠের অনন্য এক উদাহরণ হতে পারে তাঁর রচনা।আত্মকথায় Self-justification এর হিসেবটা গোলমেলে।কিন্তু এখানে তিনি যেভাবে নিজ ও চারপাশকে নির্মোহভাবে তুলে ধরেছেন,পড়ার সময় কখনোই মনে হয়নি একটুও রঞ্জিত কিংবা কুঞ্চিত করছেন।বরিশাইল্লা আঞ্চলিক ভাষার অকথ্য ভর্ৎসনাকেও তৎসম শব্দপ্রয়োগে শ্রুতিসুধাময় করেছেন ভাষাগুণে, ফুটনোটে এর নাম দিয়েছেন ‘পশ্চিমবঙ্গানুবাদ’!
বাঙালনামার ছায়া থাকলেও,বইটি নিজ আলোতে উজ্জ্বল।এমন সময় তপন রায়চৌধুরীর লেখার অনুরাগী হয়ে পড়লাম,যখন বাকি থাকছে তাঁর অভিসন্দর্ভগুলো।নবনীতা দেবসেনকে ধন্যবাদ দিতেই হয়,এমন একজন সুলেখককে বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারে কিছু অমূল্য রত্ন উপহারে উদ্বুদ্ধ করার জন্য।
সময় খুব কম,হাজারটা উড়োবই লেখার চাইতে এমন এক-দুটো মুক্তো রচনা করা লেখক-পাঠক উভয়ের জীবনীশক্তির জন্যেই শ্রেয়।
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 37 books1,866 followers
July 19, 2016
বাংলায় আত্মজীবনী আছে বেশ কিছু, রম্যরচনা (বা সেই নামে প্রতিষ্ঠা অভিলাষী) আছে অনেক। কিন্তু সুখপাঠ্য শুধু নয়, বরং মুচকি ও অট্ট: দু'রকমের হাসির বিপুল উপকরণে ঠাসা এমন স্মৃতিচিত্রণ আমি অন্তত আলীসাহেব ছাড়া আর কারও লেখায় পাইনি।

শুধু বড়িশালের বীর ও বীরাঙ্গনা নন, এমনকি শুধু দেশভাগের আগের পূর্ববঙ্গ বা তার সঙ্গে জন্মসূত্রে জড়িত মানুষেরা নন, এই লা-জবাব বইটি পড়ে বাংলা পড়তে সক্ষম যেকোন পাঠকেরই দিল একেবারে তরর হয়ে যাওয়া গ্যারান্টিড।

শিগগিরি পড়ে ফেলুন।
Profile Image for সারস্বত .
237 reviews136 followers
February 9, 2023
বরিশালী বাংলার পৌরুষ উচ্চারণ পদ্মার এপাড় ওপাড় সংলগ্ন সুবিশাল ভূখণ্ডের বুকে শের-ই-বাংলা থেকে জাতির জনকের মত বলিষ্ঠ নেতাদের জন্ম দিয়েছে। বাংলার ভাষার এই আঞ্চলিক সংস্করণ বাঙাল পরিচায়ক প্রধান স্মারকের একটি।

সেই ভাষার ভূমিসন্তান 'বাঙালনামা' খ্যাত লেখক তপন রায়চৌধুরী এই ক্ষুদ্র বইটিতে নিজের শৈশব, কৈশোর তথা দেশভাগের পূর্বে বরিশাল যাপনের স্মৃতি লিখেছ��ন কোথাও সূক্ষ্ম কিংবা কোথায় একটু স্পষ্ট হাস্যরসে। কিন্তু সেই হাস্যরস ব্রিটিশ বিরোধী আন্দলোন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, জেলযাত্রা কিংবা দেশভাগের মত গুরুতর ব্যাপারগুলোকে কোনভাবে লঘু করে উপস্থাপন করেনি।

শুরু করেছেন পারিবারিক ইতিহাস দিয়ে। লেখকের জমিদার পরিবারের পূর্ব-পুরুষ রাজকুমার সেনের অকাল ষড়যন্ত্রমূলক মৃত্যু নিয়ে পুরো বরিশাল জুড়ে প্রায় শতবছর ধরে লোকমুখে ছড়াগীতি গুঞ্জরিত হয়। অনেকেই এই জমিদার বাড়ির নাম শুনে থাকবেন। কীর্ত্তিপাশা (বর্তমানে ঝালকাঠি জেলায়) জমিদার বাড়ি।

অতঃপর নিজ মৌজা অর্থাৎ মূল বসতভিটা কীর্তিপাশার জীবন যাত্রা বর্ণনা করেন যেখানে সারা মৌজা জুড়ে ইটের দালান বলতে শুধু জমিদারবাড়িটুকুই। তাই সাধারণের দৃষ্টিতে ওখানে যারা থাকে ওরাই তো রাজা মহারাজা। ভূত, ব্রহ্মদৈত্য নিয়েও একটা গোটা পরিচ্ছেদ বরাদ্দ রেখেছেন। গল্পে গল্পে ভৌতিকতাকে কিন্তু একটু হেয় করেননি। কিছু অলৌকিক ক্ষেত্রে নিজের অবিশ্বাসকে খুব কৌশলে লুকিয়ে ফেলেছেন। পাঠককে বুঝতে দিয়েও দেননি।

'শহর বইরশাল' পরিচ্ছেদে চেষ্টা করেছে শৈশবের স্মৃতিরপটে বেঁচে থাকা সকল মানুষগুলো অল্প অল্প নৈবদ্য দিয়েও এই ছোট আয়োজনে জায়গা করে দিতে চেষ্টা করেছেন। ভ্যাগাই হালদার, শরত মাস্টার, কচিদা, ধর্মানন্দ দাস, যতিদিদি, বসা আরও অনেকে। ৪০ বছর কাজ করার পরে অজ্ঞাত কারণে যতিদিকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া তখন সেই প্রৌঢ়া কিশোর লেখকের হাতে দুগাছা সোনার চূড়ি দিয়ে বলেছিলেন, "তোমার বউকে দিও।"

ওনার এই রোমন্থনে সবথেকে বেশি চিত্তাকর্ষক এবং উপভোগ্য হয়ে উঠেছে বরিশালী বাংলার অংশবিশেষ উনি জায়গায় জায়গায় উদ্ধৃত করার মুন্সিয়ানায়। গুরুগম্ভীর পশ্চিমবঙ্গীয় বাংলার সাথে বরিশালী বাংলার মিশেলে এই বই যেন অন্য সরেস এক ভাষার সৃষ্টি। সেই সৃষ্টির ক্ষুদ্রাতি একটি অংশ তুলে দেবার লোভ সংবরণ করতে পারছি না।

ইংরেজেদের খ্যাতি আছে যে তারা অতিশয়োক্তির উল্টোটা, understatement-এর বিশেষভক্ত। কারও ঠ্যাং দুটো কাটা পড়লেও বলবে, "ঐ একটু ছড়ে গেছে।" কিন্তু এ ব্যাপারে বরিশালবাসীর তুলনায় নিতান্তই শিশু। কীর্তিপাশার রসাকাকা কলকাতায় এসেছেন। রাসবিহারী এভিন্যু দিয়ে চলেছি, কাকার অঙ্গে তাঁর চির-অভ্যাসগত রাজবেশ। অর্থাৎ হাঁটু পর্যন্ত তোলা আধ-ময়লা ধুতি, কোমরে বাঁধা একটি লাল গামছা, গা খালি। হঠাৎ মুখের চেহারা উল্লাসে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কোমরের গামছা খুলে নিয়ে শীর্ণকায় একটি মানুষের উপর কেঁদো বাঘের মত লাফিয়ে পড়লেন। তারপর শিকারের গলায় গামছা দিয়ে কুশলপ্রশ্ন করলেন, "সা-আ-রামজাদা, আমার টাহাটা কবে দেবা?" অনেক কষ্টে বিষয়চেষ্টা থেকে নিবৃত্ত করে রসাকাকাকে বাড়ি নিয়ে গেলাম। একটু মুচকে হেসে খুড়োমশায় ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করলেন, "বোZলা না। টাকাটা অনেকদিন হইল লইছে, ফেরত দিতে আছে না, তাই একটু indirectly কইয়া দিলাম।"
Profile Image for Preetam Chatterjee.
7,067 reviews382 followers
July 27, 2025
তপন রায়চৌধুরীর "রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা" নিছক আত্মজীবনী নয়—এ এক আত্মজৈবনিক সংবেদন, বাঙালি মধ্যবিত্ত মানসের প্রতি এক অন্তরঙ্গ পুনর্দৃষ্টি, এবং একই সঙ্গে এক নিরস্ত্র ঐতিহাসিকের রসসিক্ত অন্তর্গলিত প্রকাশ। ২০০৩-এ প্রথমবার পড়েছিলাম—ঠিক যেন কাঁচা আমে নুন-লঙ্কা মাখানো স্বাদ লেগেছিল মুখে।

নামেই বোঝা যায় লেখক কেমনভাবে শব্দ নিয়ে খেলেন—“রোমন্থন” (পুনর্জপা), “ভীমরতি” (বৃদ্ধ যৌনাশক্তির রসিক রূপ), আর “পরচরিতচর্চা” (অন্যের নিয়ে খোঁচাখুঁচি)। এই নামই যেন ছোট এক থিসিস—বাঙালির মনোজাগতিক সংকট ও আত্মরতিক প্রবণতা সংক্রান্ত।

এই বইতে তপনবাবু বরিশালের শিকড় থেকে শুরু করে কেমব্রিজ ও দিল্লির শিক্ষাজীবন, ভারতের ইতিহাসচর্চা, আর মধ্যবিত্ত মননের বুনন—সব কিছুই বুনেছেন রসিকতা, স্মৃতি আর ইতিহাসের সুতোর জালে। এই রচনা যেমন উচ্চাঙ্গ পাঠককে টানে, তেমনই চায়ের কাপে বিস্কুট ডুবিয়ে পড়া যায়।

তাঁর লেখায় বারবার মনে পড়ে যায় মার্সেল প্রুস্তের In Search of Lost Time—যেখানে এক স্মৃতির ট্রিগার (প্রুস্তের ম্যাডলেন, আর তপনের বরিশাল) থেকে জীবনের দার্শনিক অন্বেষণ ঘটে। একই সঙ্গে রয়েছে James Joyce-এর A Portrait of the Artist as a Young Man-এর মতো আত্মপর্যবেক্ষণ, কিন্তু অনেক বেশি নির্লিপ্ত আত্মবিদ্রুপে মোড়া।

আর রসবোধ? সৈয়দ মুজতবা আলীর উত্তরসূরি বললেও কম বলা হবে। তপন রায়চৌধুরী যেন ব্রিটিশ শিক্ষায় রপ্ত রুচিস্নাত রসিকতা দিয়ে বাঙালির আত্মবিশ্লেষণ করেন— আবার নাক সিঁটকতেও ভালোবাসেন। আর এখানেই তাঁর অনন্যতা।

অক্সফোর্ডের পাঠ, দিল্লির মেঘলা সকাল, ইতিহাসচর্চার অন্তঃসার—সবকিছুর মধ্যে আছে একধরনের শান্ত আত্মসমালোচনার সুর। তিনি সিরিয়াস, কিন্তু আত্মম্ভরিত নন। এই ভারসাম্য খুব কম লেখকের মধ্যে থাকে। অনেকটা Milan Kundera-র The Book of Laughter and Forgetting-এর মতো—ব্যক্তি, ইতিহাস ও স্মৃতি কিভাবে একে অপরকে চুমু খায়, আবার অস্বীকারও করে।

বইটির তুলনা করা যায় Partha Chatterjee-র Adventures of a Postcolonial Intellectual, রণজিৎ গুহর বাঙালির ইতিহাসচেতনা, অথবা Romila Thapar-এর The Past and Prejudice–এর সঙ্গে—কিন্তু এই বইটি এগুলির চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিগত, অনেক বেশি tuned বাংলা পাঠমুখে।

পড়তে পড়তে কখনো মনে হয় যেন Virginia Woolf-এর Moments of Being পড়ছি—স্মৃতি এখানে মায়াবী, কখনো করুণ, আবার কখনো কড়া রোদ্দুরে উলঙ্গ।

এই বই আমাদের বলে—ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় নয়, তা থাকে আদরের হাসিতে, চেনা মহল্লার চরিত্রে, আর সেইসব অনাবিল, স্মৃতিমেদুর মুহূর্তে যা আজ আর নেই, কিন্তু ঠিক ফাঁকা ঘরের কোণে আজও শোনা যায় তাদের প্রতিধ্বনি।

তপন রায়চৌধুরীর এই রচনাটি এক কথায়—রোমন্থনীয়।

পড়ে ফেলুন সংগ্রহ করে।

অলমতি বিস্তরেণ।
Profile Image for Rumana Nasrin.
159 reviews7 followers
July 18, 2017
কিছু বলার নাই আমার! এই বই সম্পর্কে কিছু বলার সাধ্য বা সাধ কোনটাই খুঁজে পাচ্ছি না। ব্যস!!! কেমন লেগেছে সেটা নাহয় নাইই বলি।
Profile Image for Edward Rony.
90 reviews9 followers
January 11, 2025
ঠিক আত্মকথা নয়, স্কেচ জাতীয় স্মৃতিকথা লিখেছেন তপন রায়চৌধুরী।
লেখকের হয়ত মনে হয়েছে তার মন একজন মানুষের জন্য এই জাতীয় রচনা আলসে কেবল একজন ভীমরতিপ্রাপ্ত দ্বারা সম্ভব, তাই এমন নাম। আর নিজের কথা লেখেননি, তাই এটা আর ‘আত্মচরিত’ নয়, বরং ‘পরচরিতচর্চা’।
লেখক তার বংশের গোড়াপত্তন থেকে শুরু করে ’৪৭ এর দেশ ভাগে এসে শেষ করেছেন এই লেখা। তবে লেখা উনি ঠিক কোন সিরিয়াল মেইনটেন করেন নি বরং যখন যা মনে এসেছে তাই লিখেছেন। সেই হিসেবে খুব ভালো একটা বই, সেটা বলা যাবে না হয়ত। তবুও অল্প পরিসরে যতটুকু লিখেছেন ততটুকুই পাঠক সমাজে প্রশংসিত হয়েছে।
লেখকের আদি বাড়ি বরিশাল হওয়ায় কারণে লেখায় উঠে এসেছে বরিশালের কথা। কখনো হাসি তামাশা আর রঙ্গময় ভাবে প্রকাশিত হয়েছে বরিশালের কথা আবার কখনো উঠে এসেছে কঠিন কিছু বাস্তবতা। তবে সব কিছু ছাপিয়ে বরিশালের রসময় কথা-কীর্তিকলাপ আর আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার লেখাটিকে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করেছে।

বইটা শুরুর দিক খুব একটা ভালো লাগেনি, হয়ত লেখকের লেখনী রীতির সাথে পরিচিত নই বলে। তবে যখনি লক্ষ্য করলাম আমি এই বরিশাল আর পশ্চিমবাংলা ভাষারীতিতে মজে গেছি তখনি বইটা শেষ হয়ে গেল…
Profile Image for Prithvi Shams.
111 reviews108 followers
July 28, 2020
বিশ্বায়নের যুগে মেট্রোপলিসে বড় হয়ে নিজ দেশের কোনাকাঞ্চি সম্পর্কে আমার কখনও আগ্রহ জাগেনি। বিলাত-আমেরিকা সম্পর্কে যতোটুকু জানি, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বুলি ও কৃষ্টি সম্পর্কে তার ছিটেফোঁটাও জানি না। দেশভাগের কালে পশ্চিমবঙ্গে দেশান্তরী হওয়া বরিশালের সন্তান তপন রায়চৌধুরীর রসিক ও মমতামাখা স্মৃতিচারণে বরিশালকে অন্য রুপে দেখলাম। ক্ষুরধার রসবোধ ও বরিশাইল্লা ভাষার মিহি সুর�� এক আধা-বাস্তব, আধা-কল্পিত সময়ের বিচিত্র সব চরিত্রের উক্তি-কীর্তি লেখকের প্রাঞ্জল বর্ণনায় শুনলাম ও দেখলাম। লেখকের মা'কে নিজের মায়ের মতোই শ্রদ্ধা করা সাজুকাকা ব্রিটিশ আমলে মুসলিম লীগের রাজনীতি করলেন; মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পথ চিনিয়ে নেয়ার কালে মিত্রবাহিনীর জঙ্গী বিমানের বোমাবর্ষণে মৃত্যুবরণ করলেন; অথচ আমৃত্যু লেখকের পরিবারকে তিনি নিজের পরিবারের মতোই ভালোবেসেছেন। মানুষ এমনই এক প্রপঞ্চ!

এই সরস, সুখপাঠ্য রোমন্থন পাকিস্তানের জন্মলগ্নে দেশত্যাগের অবসাদে সমাপ্ত হয়। ১৯২০ সালে ভারতের স্বাধীনতার জন্য অসহযোগ আন্দোলনে বন্দুক তুলে নেয়া লেখকের পিতা ২৭ বছর পর স্বাধীনতার দিন আবারও বন্দুক তুলে নেন, তবে ব্রিটিশ হটাতে নয়, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হতে পরিবারকে রক্ষার্থে। কীর্তনখোলা নদীর পারে ভিড় জমানো দেশান্তরীদের সঙ্গী হয় স্বাধীনতার নিশিরাত্রির বিকট নৈশঃব্দ্য।
Profile Image for তানভীর রুমি.
119 reviews62 followers
August 1, 2021
এই বইয়ের খোঁজ পাই কে এম রাকিব (জিজেকের জোকস এর লেখক) এর পোস্ট থেকে। ওনার উল্লেখ করা একটা অংশ এবং ‘বরিশাল হিউমারের ঝাঁঝ’ শব্দবন্ধ পড়ে বইটা নামিয়ে ফেলি। এবং শেষ করার পর বুঝছি, এই বই হার্ডকপিও সংগ্রহ করা লাগবে।


তপন রায়চৌধুরীর লেখা এই প্রথম পড়ছি। এবং প্রথমবার পড়েই বুঝছি, তাঁর বাঙালনামা পড়তে হবে অতিদ্রুত।

বইটা আমি সাধারণত পড়েছি দিনে দশ পৃষ্ঠা করে। এজন্য সময় অনেক বেশি লাগলো। কিন্তু এর মানে এই না যে এই বই টানা পড়া যায় না, হার্ডকপি হলে এই বই একবসায় শেষ করার জিনিস।

বইয়ের বিষয় লেখকের স্মৃতিরোমন্থন, দেশভাগ পূর্ববর্তী বরিশাল, সেখানের ইতিহাস গল্প, লেখকের পারিবারিক ইতিহাস- বইটা শেষ হয় দেশভাগের সময়ে এসে। পুরো বই জুড়ে অসাধারণ ‘বরিশালের ঝাঁঝালো হিউমার’ ছড়িয়ে রয়েছে। মুচকি হাসি থেকে অট্টহাস্য- দুটোর অভিজ্ঞতাই বইটা পড়তে গিয়ে হয়েছে। আর বইটা যতো এগোচ্ছিল, দেশ ভাগ এগিয়ে আসছিল, আর পাওয়া যাচ্ছিল স্মৃতিকাতরতার সোঁদা গন্ধ, দাঙ্গার হৃদয় ভাঙা বর্ণনা।

বইয়ের পুরো ৯৯ পৃষ্ঠার বর্ণনাই জীবন্ত, বিশেষত শেষ দুটো চ্যাপ্টার, যখন লেখক বরিশালের তার পরিচিত অদ্ভুত লোকদের গল্প আর দেশ ভাগের গল্প বলেন, সবটাই ভেসে বেড়াচ্ছিল সামনে- যেন বই পড়ছি না, সিনেমাই দেখছি।

বইটা হার্ডকপি পেলে আরও একবার পড়তে হবে, আর বাপকে পড়তে দিতে হবে। এই বই পিতাপুত্র উভয়ের জন্যই উপাদেয় সাব্যস্ত হবে বলে বিশ্বাস (পুত্রের জন্য তো হয়েছেই!)।
Profile Image for Masud Khan.
87 reviews17 followers
March 14, 2015
সুখপাঠ্য বই। শেষ চ্যাপ্টারটা মন খারাপ করা। ওনার লেখার স্টাইলে সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রভাব আছে বলে মনে হয়েছে।
Profile Image for Shaid Zaman.
290 reviews48 followers
June 26, 2021
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি দেখতে গিয়ে দেখি প্রাঙ্গনে ছোট পরিসরে বইমেলা হচ্ছে। সেখান থেকে "বাঙালনামা" কিনেছিলাম। কিন্তু রোমন্থন টা পাইনি ওখানে। পরে বছর দুয়েক পরে ঢাকা থেকে এক ছোট ভাইকে দিয়ে আনাই। এর মাঝে একবার অবশ্য সফট কপি পড়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু পাতা দশেক পড়েই বুঝে গেলাম এ বই হাতে না নিয়ে পড়লে ঠিক জমবে না।

তপন বাবুর হিউমার এর তুলনা হয়না। লেখার ভঙ্গির সাথে মুজতবা সাহেবের হালকা মিল আছে। দারুন একটা বই। ছোট্ট পরিসরে লেখক ছক্কার পর ছক্কা মেরেছেন। শুধু শেষের দিকে মিহির সেনগুপ্তের একটা দীর্ঘ পত্র যুক্ত হওয়ায় একটু বিরকক্তির লেগেছে। তা ছাড়া এই ক্ষীণতনু বইটি অত্যন্ত সুখপাঠ্য নিঃসন্দেহে।
Profile Image for Shotabdi.
820 reviews196 followers
August 17, 2020
এমন অভিনব আত্মকাহিনী বাংলা সাহিত্যে বিরল। কিছু বই আছে যার অনুভূতি না পড়লে বোঝানো যায়না। এও তেমনি একটি বই। সরস লেখনীর জাদুতে মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়ে গেছি। বরিশালের আঞ্চলিকতা থেকে দেশভাগ পর্যন্ত লেখকের আত্মকথায় এমন একটা ব্যাপার ছিলো যা আগে কোন লেখায় পাইনি।
উইটে আলী সাহেবের কথা মনে পড়ে যায়, তবে স্টাইলটা আলাদা। নির্দ্বিধায় ৫ তারা দেয়ার মতো বই।
Profile Image for Wriju Ghosh.
87 reviews4 followers
November 1, 2021
রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা
-----------------------------------------------------
তপন রায়চৌধুরী,
আনন্দ পাবলিশার্স, ১৫০ টাকা

নানাসময় নানাভাবে সামাজিক ইতিহাস লেখা হয়েছে। অনেক সময়েই সামাজিক ইতিহাস গল্পচ্ছলে পরিবারের ভেতরেই রয়ে গেছে। মুষ্টিমেয় কিছু ভাগ্যবান তার স্বাদ আস্বাদন করতে পেরেছেন। অনেক গল্পগাঁথা স্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে। বেশিরভাগই লিপিবদ্ধ করা হয়নি বা করবার প্রচেষ্টা ছিলনা। কিন্তু একজন ঐতিহাসিক সামাজিক ইতিহাস নিয়ে যখন কথা বলেন তখন তাঁর কাছে বিষয়গত এক দায়বদ্ধতা থাকে। ইতিহাস বিচ্যুত হয়ে তাকে বলতে হয় গল্পচ্ছলে। বসার ঘরে ফরাস পেতে তাকিয়ায় হেলান দিয়ে সান্ধ্যকালীন মজাদার কিছু স্মৃতিমধুর আলোচনা আর তাকে ছাপার অক্ষরে বইয়ের আকারে বের করার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য। এ অত্যন্ত কঠিন কাজ। ঐতিহাসিক তপন রায়চৌধুরী তাঁর পেশাদারী জীবনে অনেক জটিল গবেষনামূলক কাজ করেছেন। অথচ এই বইটিতে সহজ ভাষায় সহজভাবে ইতিহাসকে জাপ্টে না ধরেও তিনি সামাজিক ইতিহাসের গল্প শুনিয়েছেন। বরিশাল ঘুরেফিরে নানাভাবে লেখায় ফিরে এসেছে। এছাড়াও লেখকের দিল্লি থাকাকালীন অভিজ্ঞতা ও অক্সফোর্ডের পদার্পণের সুমধুর বর্ণনাও রয়েছে।

বই আকারে একটি দেড়শ পাতার। শারদীয় দেশ বা সানন্দাতে প্রকাশিত কিছু রচনাকে পরিমার্জিত-পরিবর্তিত করে এই বইটি তৈরি করা হয়েছে। সাথে রয়েছে মিহির সেনগুপ্তের সঙ্গে লেখকের পত্রালাপ। যারা সৈয়দ মুজতবা আলীর ঘরানার গুনগ্রাহী তারা এই বইটি পছন্দ করবেন বলে আমার ধারণা। মজলিশি কায়দায় লেখাগুলি মধ্যে বহু মণিমাণিক্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। পড়তে গিয়ে এত আনন্দ পেয়েছি যে আবার করে পড়ার সময় পেন্সিল দিয়ে দাগ কেটে রেখেছি আর বাড়ির সকলকে মাঝে মাঝেই পড়ে শোনাচ্ছি। এরকম বই খুব কম আছে।
Profile Image for Asif Khan Ullash.
145 reviews8 followers
September 22, 2023
বাংলা ভাষায় রসোত্তীর্ণ রচনামাত্রই রম্যরচনা। বলাই বাহুল্য, যে গুটিকতক সূক্ষ্ম হিউমারে চুবানো কিন্তু ওই অর্থে ঠিক “দম ফাটানো হাসির জোক্স” ঘরানার লেখা নয় তার সিংহভাগই লিখেছেন একমেবাদ্বিতীয়ম সৈয়দ মুজতবা আলী। এই জাতীয় উইটি রচনার ক্ষেত্রে তার ধারে কাছে সম্ভবত আর কোন বাঙালী লেখক নেই। আবার এই ঘরানায় লেখার কারণে বাঙালী তাকে শুধুমাত্র রম্যলেখক রূপেই রিডিউস করে রাখলো এটাও একটা আয়রনী।

তবে লেখার সংখ্যা বিচারে না গিয়ে শুধু গুণমান ধর্তব্যে নিলে তপন রায়চৌধুরী, সৈয়দ মুজতবা আলীকে ভালো টক্কর দিয়েছেন বলতেই হবে। এমন সূক্ষ্ম রসের সাথে অনন্য বা��্যশৈলী এবং অসাধারণ ‘স্টাইলাইজড’ লেখনীর মিশেল পড়ার সৌভাগ্য নিত্যদিন হয়না। পাঠকের দূর্ভাগ্যই বলতে হবে এই ধরণের নন-অ্যাকাডেমিক রচনা তপনবাবু খুব বেশি লেখেননি। “বাঙালনামা” ও “রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা” দুটোই তার স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ, যন্মধ্যে প্রথমটি তার পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী।

এই বইয়ে লেখক তার স্মৃতির ভাড়ার থেকে বরিশাল সম্পর্কিত কিছু মণি-মাণিক্য পাঠককুলের নিকট উপস্থাপন করেছেন। লেখকের “আন-প্যারালালড” সেন্স অফ হিউমারের কারণে প্রতিটি প্রবন্ধই অত্যন্ত সুপাঠ্য। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের রস আস্বাদন করতে চান এমন যেকোন পাঠকের জন্য এই বই অবশ্যপাঠ্য।

মাস্টারপিস এবং মাস্টরীড!
Profile Image for Kazi.
159 reviews20 followers
May 13, 2025
তপন রায়চৌধুরীর গদ্য পড়তে বেশ আরাম। তাঁর জবানে কৈশোরের বরিশাল আর কলকাতার টুকরো টুকরো স্মৃতিগুলো দারুণভাবে উঠে এসেছে। ৪৩ এর দুর্ভিক্ষ, ৪৬ এর দাঙ্গা আর ৪৭ এর দেশভাগে গিয়ে স্মৃতিকথার সমাপ্তি টানাটা মনে একটু ধাক্কা দেয় অবশ্য।
Profile Image for Shakil Akther.
99 reviews6 followers
November 7, 2020
যত পড়ছি তত মুগ্ধ। অসাধারন যাকে বলে unputdownable
Profile Image for Binayak Chakraborti.
43 reviews69 followers
December 16, 2021
যে বই শুরুই হয়েছে হুতোমের – “বুড়ো বয়সে সঙ স্যেজে রং কত্তে হোলো। পূজনীয় পাঠকগণ বেয়াদবী মাফ কর্বেন।” – ভার্বাটিমকে শিখণ্ডী বানিয়ে, সেখানের বক্তব্যে যে ধারালো স্যাটায়ার বিঁধে থাকবে – সেটা না লিখলেও চলে।

একদম প্রথম প্যারা থেকেই ক্যাপ্টিভেটিং হিউমর টোন, যার জুড়ি মেলা ভার। তৎসম শব্দের সাথে বরিশালের কথ্য ভাষা জুড়ে এক বিরল বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরস। হুতোমের সাথে মুজতবা আলীর মিশেল টিশেল – এসব বলার আমি খুব একটা পক্ষপাতী নই। বরং এটাকে একধরনের ‘সিরিয়াস ফাজলামো’ জনরাভুক্ত করা চলে।

বাংলাতে, এই ঘরানায় লেখালিখি খুব বেশি চোখে পড়বে না।
Displaying 1 - 22 of 22 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.