Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
বিষণ্ণতায় মোড়ানো একটা বই।বেশ কয়েকবার পড়েছি।মনে হয়েছে, গল্পের প্রধান চরিত্ররা ছোট কিন্তু গল্পটা মোটেও ছোটদের নয়। শেষে কোনো দুঃখের কথা নেই অথচ মন খারাপ হয়ে যায় প্রতিবার।
প্রচন্ড মন খারাপ নিয়ে বইটা পড়তে বসছিলাম। পড়া শেষ করে এখন বুঝতেছি না এইসবের আসলেই কোন মানে আছে কি না- কারণ মন খারাপ হওয়ার বোধটাকেই এখন মনে হচ্ছে জীবনের অনেক কিছু পেয়ে যাওয়া, অনেক বড় বিলাসিতা।
অন্তু আর মরিয়মের কষ্ট হচ্ছে, তবে তা শীতের জন্য না।কষ্ট হচ্ছে অন্য কারণে, কারণটা কি তারা তা পুরোপুরি জানে না। জানার কথাও নয়। পুতুলেরও নিশ্চয় অনেক কষ্ট হচ্ছে!?অন্তু আর মরিয়মের মতো আমারও কষ্ট হচ্ছে।
ছোটবেলায় আমারও ইচ্ছে করতো পুতুলের মতো এমন হুট করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে। পারতাম না! আমি তো পুতুলের মতো অসুস্থ ছিলাম না যে বকবে না আমাকে। উল্টো, হাড্ডি-গুড্ডি ভেঙে অ্যাডভেঞ্চারগিরি ছুটায়া দিতো।
সেহরীর জন্য উঠতে হবে বলে দ্রুত শুয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু ঘুম না আশায় পিডিএফ নিয়ে বসে পড়লাম। হুমায়ূন পড়িনা অনেক দিন। তার লেখা কিশোর উপন্যাস ও খুব বেশি পড়া হয়নি। “পুতুল” উপন্যাসটি পড়ে মনে হলো এই লেখকটাকে আমি ভালোবাসি!
পূর্বে তার বিখ্যাত বিখ্যাত বই পড়ে মুগ্ধ হলেও কখনো এই কথা মনে হয়নি। তার বিখ্যাত বই গুলোর তুলনায় এটা তেমন কিছুই না। তবু জানি না কেন জানি বইটি আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি এটা পড়ে।
#রিভিউঃ- ধনীর দুলালীর ছেলে পুতুল। হার্টের সমস্যার কারণে লেখা পড়া বন্ধ। সারাদিন বাড়িতেই থাকে। বাবা মা খুব ব্যস্ত তাদের কাজ নিয়ে। ছেলেকে সময় দিতে পারে না।
পুতুল বাগানে সময় কাটায় গাছদের সাথে কথা বলে। একদিন মা ঠিক করলো গাছ গুলো কেটে ফেলবো। যেদিন গাছ কাটার দিন এলো সেদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল সে। তাকে কখনো বাড়ির বাইরে যেতে দেয়া হয়নি। এমনকি সিড়ি দিয়ে নামার সময়ও তাকে কোলে করে নামানো হতো। সেই পুতুল বের হয়ে এসেছে ঢাকার রাস্তায়!
সেখানে এসে পরিচিত হয় তারই সমবয়সী আরেক পিচ্চি অন্তুর সাথে। স্টেশনে ঘুমায়, খিদে লাগলে হাত পাতে মানুষের কাছে। অন্তুর সাথে পুতুলের বন্ধুত্ব হয়ে যায় খুব দ্রুত। তারপর.........
#ব্যাক্তিগত_মতামত আমার জীবনে কিছু ইচ্ছে ছিল। যেগুলো পূরণ না হওয়ার জন্য আফসোস হতো। আত্মহত্যা কথা যে ভাবিনি তাও নয়। এখন সব কিছু ফেলে আমার আফসোস হচ্ছে কেন অন্তুর মতো কেউ হয়ে জন্ম নিলাম না!
হোক রাস্তার ছেলে, টোকাই, ভিক্ষুক, খেতাম মানুষের গালি, চড়, থাপ্পড় তবু জীবনটা সুন্দর হতো। এডভেঞ্চারে ভরা জীবন। এখনকার মতো এতো বোরিং জীবন হতো না। খাবার সন্ধানে সারাদিন ঘুরাঘুরি করতে থাকলে বোরিং লাগতো না কোন কিছু।
অন্তু মতো হতে চাই ভাবতে গিয়ে আমার শরীর কেঁপে উঠেছিল কিছুক্ষণ পর। অন্তুর মতো শত শত পিচ্চি এখন এই মুহূর্তে রাস্তায় ঘুমিয়ে আছে। আমরা সবাই ঘরে বসে ফেসবুক চালাতে চালাতে করোনার খবর পড়ছি এবং সেড রিয়েক্ট দিচ্ছি। আর সাবান দিয়ে একটু পর পর হাত ধুচ্ছি। নিজে বেঁচে গেলেই হবে?
করোনা কি অন্তুর মতো পিচ্চিদের হবে না? তারা কিভাবে দিন যাপন করছে? কার কাছেই বা হাত পাচ্ছে এই লকডাওনের সময়?
কিছু লোক দেখলাম করানোর জন্য দেশের কুকুর কিছু খেতে পারছে না সেই টেনশনে একটা সংঘ করে ফেলেছে। দিনে হাজার টাকার খাবার খাওয়াচ্ছে কুকুর গুলোকে। যে দেশে অন্তুরাই খাবার পাচ্ছে না ঠিক মতো সে দেশে কুকুররা খেতে পাচ্ছে! তবে কি মানুষের চেয়ে কুকুর হয়ে জন্মানো উচিত ছিল?
আসুন না অন্তুদের মতো পিচ্চি গুলোর জন্য আমরা কিছু একটা করি। আমার ইচ্ছে করছে কিছু একটা করার। কিন্তু আমি কি করতে পারবো? কি কারার আছে আমার!
এক টাকার আহারকে ২য় বারের মতো সামন্যকটা টাকা পাঠিয়ে দিলাম। তারা বিশ্বস্ত বলেই মনে হলো। যদিও আমাদের এই জাতিকে বিশ্বাস করা কষ্টের। তবুও করলাম। এ ছাড়া আর উপায় কি?
যে টাকা দিলাম, জানি এটা দিয়ে অন্তুর মতো একটা পিচ্চির ও পেট ভরবে না। আমি একা দিচ্ছি তো না। আপনারাও দিবেন। সবাই মিলে আমরা এক কেন হাজার অন্তুর মুখে খাবার দিত��� পারবো ইনশাল্লাহ।
বইঃ...................................... পুতুল লেখকঃ................................. হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশনীঃ.............................. প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা মূল্যঃ...................................... ১০০ টাকা
৬০ পৃষ্ঠার বই। ছোট গল্প। হার্ডকপি পাইনি। পিডিএফয়ে পড়েছি। বাচ্চাদের নিয়ে গল্প। কিন্তু রূপকথার কোন গল্প নয়। কঠিন বাস্তবের গল্প। পুতুল নামের একটি বাচ্চা একদিন ইচ্ছা করে হারিয়ে যায়। পরে তার সাথে দেখা হয় দুই পথশিশু ভাইবোন-- অন্তু আর মরিয়মের। এদের সাথে অনেক বিচিত্র কিছু অভিজ্ঞতা হয় পুতুলের। ধনি গরিবের পার্থ্যক্যের চাদরটা কিছুক্ষণের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এই বইয়ের গল্পটা পড়ার আগে এই বই নিয়ে তৈরী করা চলচিত্রটা আগে দেখেছি। চলচিত্রের নাম-- "দূরত্ব"। পরিচালনা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম, যিনি দীপু নাম্বার টু চলচিত্রেরও পরিচালক। দূরত্ব চলচিত্রটা এই বইয়ের মতই সুন্দর।
হুমায়ূন আহমেদের প্রতি টা লাইনে সঙ্গে সঙ্গে জীবন কে নতুন করে বুঝতে শিখছি। কি সাধারণ ভঙ্গিতে অসাধারণ জীবনবোধ! মানুষের জীবনকে খুব কাছ থেকে নাহ দেখলে কেউ এতো সুন্দর করে বর্ণনা দিতে পারে নাহ।
ছোট্ট অন্তু আর মরিয়মের মন যেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায়নি, সেই উত্তর আসলে আমরাও জানি না। কিছু কিছু অপ্রিয় বাস্তবতাকে মেনে নিতে না পেরে চলতে থাকাই জীবনের রূঢ় বাস্তবতা। এই শিক্ষাই অন্তু আর মরিয়ম পেলো অপরিচিত পুতুলের সাথে ক্ষনিকের বন্ধুত্বে?
মনে করেন আপনাকে যখন ছোটবেলায় খুব বকা বা শাসন করতো তখন কিন্তু খুব রাগ লাগতো, তাই না? এমন ও মনে হতো, ধুর ছাই, বাড়ি থেকে একদিকে চলে যাবো। বা অনেক সময় মনে হয় যে একা একা বাড়ি থেকে কোথাও ঘুরতে যাওয়া যায় বা যেতে মনে চায় সেই ছোট বেলায়। ঠিক সেই স্মৃতিটাকেই হুমায়ুন তুলে এনেছেন এই বইয়ে।
একটা শিশু সে এক বড়লোকের ব্যাটা,তার মা বাবা দুজনেই বেশ বড়লোক৷ তার জীবন কাটে একটা প্রকান্ড বাড়িতে অথচ সময় কাটে ছোট সরিষার দানার মতো ছোট একটা পৃথিবীতে। বাচ্চাটির নাম পুতুল, পুতুলের অবশ্য একটা হার্টের রোগ থাকে, যেটা নিয়ে তার পরিবার প্রায় ই ভয়ের উপর থাকে।
একদিন খুব ভোরে পুতুল চলে আসে বাড়ির বাইরে, এবং একটা মাঠে দেখা পায় আরেক ছোট চালাক ছেলে অন্তুর। দুনিয়ার জাউরা কিসিমের একটা পোলা।বলা যায় অন্তু একজন টোকাই। তার সাথে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে, এবং অন্তু পুতুলকে নিয়ে যায় কমলাপুর রেলস্টেশনে। সেখানে দেখা হয় অন্তুর বোন মরিয়ম এর সাথে। মরিয়ম আবার ৮ বছরের বাচ্চা, সে আবার গাড়িতে জগে করে পানি বিক্রি করে। এভাবেই দুই ভাই বোনের সংসার চলে।
এদিকে পুতুলের পরিবারে মহা ঝামেলা পুতুল নাই, মায়ের কান্না বাপের ভয়, সব মিলিয়ে একটা বিষন্নতায় ভরে গেছে পরিবার। থানা পুলিশ করেও কোন ফায়দা হচ্ছে না। পুতুলকে পাওয়া যাচ্ছে না।
পুতুল,অন্তু আর মরিয়ম মিলে রেলে চড়ে চলে গেছে ময়মনসিংহ, সেখানে যেতে যেতে তারা পানি বিক্রি করে গিয়েছে। রেল যখন স্টেশনের বাইরে দাঁড়ায় তখন অন্তু আর মরিয়ম ট্রেনের থেকে লাফ মেরে পরে যায় নিচে, এখন পুতুলের লাফ দেওয়ার পালা। ট্রেনের গতি বেড়েছে, পুতুল কোন দিন এই সমস্যায় পরে নি। তাই সে লাফ দিতে পারছে না। কি করবে ১১ বছরের পুতুল?
কি করবে সে এইটা জানিতে হইলে আপনাকে বইটা পড়তে হবে। পুতুলের কি বাড়ি ফেরা হইলো? নাকি ট্রেনেই হারায়া গেলো? নাকি লাফ দিলো? নাকি আবার দেখা হইলো অন্তু আর মরিয়মের সাথে।
বইটা ৬০ পৃষ্টার একটা বই, চাইলে এক ঘন্টায় ই পড়তে পারবেন৷ হুমায়ুনের বই সহজেই পড়ে ফেলা যায়, ভাষার দুর্ভেদ্যতা নাই একদম,তবে প্রথম ২০-২৫ পৃষ্ঠা পড়তে গিয়ে একটু বোরিং লাগবে। এর পরেই ঘটনা খুব তড়িৎ গতিতে এগিয়েছে।
ওভারঅল বইটা বেশ ভালোই লেগেছে৷ আপনিও চাইলে পড়তে পারেন।
I read this book when I was fifteen, after reading it for the first time I felt a slight ache inside me. Today, after 10 years when I was listening to the audiobook, I felt nostalgic.
The book really showed the distance which has been created between the rich and the poor, the distance between parents and their child both physically and metaphorically, the distance between innocence and maturity.
The three protagonists portrayed this raw innocence throughout the novel, only to be shattered at the end of the story.
By far this is the best Humayun Ahmed book. I would recommend it to anyone above 14 years of age not that the book contains any vulgarity but understanding the book requires a certain level of maturity.
জীবনে চলার পথে আমাদের নানান কিসিমের মানুষের সাথে দেখা হয়। কারো কারো সাথে অপ্রত্যাশিত ভাবে আমরা কাটিয়েও ফেলি কিছু মূল্যহীন মুহূর্ত,যা পরবর্তীতে ভীষণ মূল্যবান মনে হয়। কিন্তু সেই মানষগুলো যেন হারিয়ে যায় আমাদের জীবন থেকে। যেমন করে তারা অপ্রত্যাশিতভাবে আসে ঠিক তেমন করেই অপ্রত্যাশিতভাবে হারিয়ে যায়। কিন্তু রেখে যায় কিছু সুন্দর মুহূর্ত।
প্রচন্ড মন খারাপ নিয়ে বইটা শুরু করেছিলাম কিন্তু বইটা পড়ে আরো বেশি করে মন খারাপ হয়ে গেলো। হুমায়ূন আহমেদের কিছু কিছু বই এত সুন্দর হয় খুব। সাবলীল কাহিনি কিন্তু কী ভীষণ বাস্তবতার কঠিন বেড়াজাল দিয়ে বাঁধা। কিন্তু শিশু মন কী অতকিছু বুঝে?
পৃথিবীতে সব সম্পর্কের ই হয়তো একটা না একটা সময় বিচ্ছেদ হয়। তবে কিছু কিছু সম্পর্ক যেন গড়ে উঠার সাথে সাথেই তার বিচ্ছেদের সুর বাজতে থাকে আশেপাশে!!!
৩.৫ স্টার দিতাম, তা দেয়া যাচ্ছে না দেখে ৪ স্টারই দিলাম। গল্পটা চেনা চেনা লাগছে কেন যেন। খুব সম্ভব এটা নিয়ে কোন নাটক বা টেলিফিল্ম হয়েছিল। টিভিতে এরকম কিছু ক্ষনিকের জন্য দেখেছিলাম মনে হচ্ছে।
জীবনের অসাধারণ বিবরণ! যেন পুতুল চরিত্রের সাথে লেখক অনেকটা পথ হেঁটেছেন। পুতুল তাঁকে তার গল্প বলেছে। পথ চলতে চলতেই পুতুল আবার হারিয়ে গিয়েছে। মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে কী দারুণভাবেই না চিত্রিত করেছেন লেখক! শুধুই কি দুঃখ-বেদনা? এত দুঃখের মাঝেও কী করে আনন্দ লাভ করা যায়—তাও কি দেখি নি এ বইয়ে?
"পুতুল" বইটি পড়ে মনে হয়েছে আমার সামনে পুতুল সব কান্ড করছে। বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া, পার্কে বসে অন্তুর সাথে কথা বলা, খেলা করা, স্টেশনে যাওয়া সব যেন আমার সামনেই ঘটেছে। আমার কল্পনার জগৎ যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আমি যখন ছোট ছিলাম তখনজ পুতুলের মতো বাড়ি থেকে হুট পালিয়ে যেতে পারলে কেমন হতো? আমি কি পারতাম পুতুলের মতো ঘুরে আনন্দ করে বাড়ি ফিরে আসতে? পারতাম না হয়তো উপন্যাসের মতো এতো সহজ হতো না সব কিছু। তবুও এমন অবিজ্ঞতা থাকলে মন্দ হতো না।
হুমায়ূন আহমেদ কি তাঁর শৈশব স্মৃতির আশ্রয় নিয়ে এই বইটা লিখেছিলেন? ছোটবেলায় তিনিও একদিন নিশাদার সঙ্গে ট্রেনে চেপে বসেছিলেন। সেই স্মৃতি থেকেই হয়তো তাঁর "পুতুল" উপন্যাসটি লেখা।
পুতুল বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান এবং খুব আদরের । ধনী মা-বাবার সন্তান হওয়ায় সে খুব নম্র ভদ্র ভাবেই মানুষ, বাইরের কোনো কিছুই সে কাছ থেকে দেখেনি। পতুল অসুস্থ, হার্টের জটিল অসুখ আছে। পড়াশোনা করতে হয় না, বাসায় সারাক্ষণ বিশ্রামে এবং মায়ের কড়া শাসনে বন্দী সে। কিন্তু এমন বাঁধাধরা জীবন কার ভালো লাগে? পুতুলের ভালো লাগেনি তাই সে একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় । হাঁটতে হাঁটতে চলে আসে অনেক দূর। দেখো হয় পথশিশু অন্তু আর তার বোন মরিয়মের সাথে। পুতুল খেয়াল করে, ওর সমবয়সী অন্তু জীবন সম্পর্কে কতোকিছু জানে, সে কিছুই জানে না। অন্তু জানে- কীভাবে জীবন উপভোগ করতে হয় বিনা পয়সায়। মরিয়ম জানে- কপালে লেখা থাকলেই খাওয়া যায়, যেদিন কপালে লেখা থাকে না, সেদিন খাওয়া নেই। তাদের অফুরন্ত টাকা পয়সা না থাকলেও মনে শান্তি আছে ভরপুর।
পুতুল তাদের সঙ্গে ট্রেনে করে চলে যায় তাদের বাবার কাছে। ট্রেনে নানা রকম স্মৃতি পুতুলের কাছে অনেক কিছু। পুতুল মনে হয় সারাজীবনের আনন্দ একদিনে মনের মধ্যে জমা করে এনেছে। অন্ত আর মরিয়ম পুতুলকে পরদিন ভোরে পুতলের বারি পৌছে দিয়ে যায়। ফেরার পথে অন্তু আর মরিয়ম অবাক হয়ে দেখতে থাকে পুতুলদের বিশাল বাড়িটির দিকে। তাদের মন খারাপ হয়ে যায়। কঠিন জীবনের অনেক কিছু বুঝলেও অবুঝ শিশু দু'টো এটা বুঝতে পারে না কেন তাদের মন খারাপ হয়ে গেলো। রূঢ় বাস্তবতা ধনী-গরিবের মাঝের অদৃশ্য দেয়ালটা দাঁড় করিয়ে দেয় তাদের মাঝে। পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে দাঁড়িয়ে অন্তু কি অপেক্ষা করে দেয়াল ডিঙিয়ে পুতুলের সাথে আবার দেখা হবে? নাকি পুতুলদের বাগানের রেইনট্রি গাছটার মতো করে অন্তুদের স্মৃতিও বিলীন হয়ে যাবে পুতুলের মন থেকে?
বাড়ির কাছাকাছি এসে অন্তু এবং মরিয়ম থমকে গেল। কী বিশাল বাড়ি! কী প্রকাণ্ড গেট! অন্তু বলল, এই বাড়ি? হ্যাঁ। তোমার বাড়ি! হ্যাঁ। সত্যি? হ্যাঁ, সত্যি।
মরিয়ম ফিসফিস্ করে বলল, তোমরা কি দেশের রাজা?
পুতুল হা বা না কিছুই বলল না। তার চোখে পানি এসে গেছে। এই পানি সে তার বন্ধুদের দেখাতে চায় না। চোখের জল গোপন করবার জন্যেই সে ছুটে বাড়ির গেটের ভেতর ঢুকে পড়ল।
.
মরিয়ম এবং অন্তু হাত ধরাধরি করে ফিরে চলল স্টেশনের দিকে। শীতে দু জনই কাতর। একেবারেই খালি গা বলে অন্তুর শীতটা বেশি লাগছে। সে কাঁপছে থরথর করে। মরিয়ম বলল, শীত লাগে ভাইজান?
না, লাগে না।
এক বুড়ো ছেঁড়া কাগজ, শুকনো পাতা জড় করে আগুন করেছে। হাত মেলে বুড়ো চুপচাপ বসে আছে। দু’ ভাই-বোন এগিয়ে গেল আগুনের পাশে। তাদের কচি কচি হাত মেলে ধরল আগুনের ওপর।
বুড়ো বলল, শীতে বড় কষ্ট হয়, না রে?
তারা দু জন এই প্রশ্নের জবাব দিল না। কারণ এই মুহূর্তে শীতের জন্যে তাদের কষ্ট হচ্ছে না। কষ্ট হচ্ছে অন্য কোনো কারণে। সেই কারণটা কী তারা পুরোপুরি জানে না। জানার কথাও নয়। যখন বড় হবে তখন হয়তো জানবে। কিংবা কে জানে হয়তো কোনো দিনই জানবে না।
রোজার দিনে এমন গল্প আসলে একটু বেশিই অন্যরকম লাগে। কিন্তু এইসব অন্যরকম লাগা ঐ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ, সাধারণ মানুষ হিসেবে বেশিরভাগক্ষেত্রে আমরা ঈদের দিন থেকেই সব বেমালুম ভুলে যাই।
১১ বছর বয়সী হার্টের রোগী পুতুলের একটা এডভেঞ্চারাস দিনের সঙ্গী তারই সমবয়সী রাস্তার ছেলে অন্তু এবং তার দুই বছরের ছোট বোন মরিয়ম।
পুতুল বলল, 'তোমাদের শীত লাগে না?' অন্তু বলল, 'না।' 'লাগে না কেন?' 'আমরা হইলাম গিয়া গরিব। গরিব মাইনষের শীত লাগেনা।' 'গরিব মানুষের শীত লাগেনা কেন?' অন্ত বিরক্ত হয়ে বলল 'জানিনা।' মরিয়ম বলল, 'গরিবের শীত কম লাগে। এইডা হইলো গিয়া নিয়ম।' 'কে বানিয়েছে এই নিয়ম?' 'আল্লাহ বানাইছে।' 'আল্লাহ দুই রকম নিয়ম বানিয়েছে কেন - ধনী মানুষের জন্য একরকম নিয়ম আবার গরীব মানুষের জন্য অন্য রকম নিয়ম?'
আমাকে প্রায়ই এক বিষন্নতা ঘিরে রাখে। ইমোশোনাল আনস্টাবিলিটির মধ্যে দিয়ে যখনই যাই- নিজেকে প্রচন্ড নিস:ঙ্গ লাগে। ঐ সময় আমার সব বন্ধু ও অতিপ্রিয় বন্ধুর কথা মনের দৃশ্যপটে ভেসে আসে। মনেহয় ওর, ওদের সাথে আমার অনেক পার্থক্য। যতটা না টাকা আর্থসামাজিক তারচেয়ে বেশি চাওয়া-পাওয়ায়। গল্পের শেষে ছিন্নমূল অন্তুমিয়া আর মরিয়ম, পুতুলের সাথে বিচ্ছেদে যেই বেদনার সাগরে তলিয়ে যাচ্ছিলো, যার প্রকৃতি তারা জানে না ঐ না জানা খাদে আমিও পড়ে যাই। প্রিয় বন্ধুদের ডাকি – কখনো পাই, কখনো পাইনা।
বইটা নাইনে পড়েছিলাম, আবার পড়লাম। আগের চেয়েও বেশি মন খারাপ করে বসে আছি এবার।
"পুতুল" একটি নীরব কষ্টের গল্প—যেখানে শিশুমনের অসহায়ত্ব, গরিবির ব্যাখ্যাহীন নিয়ম আর জীবনের গভীর বেদনা নিঃশব্দে পাঠকক�� আচ্ছন্ন করে। অন্তু, মরিয়ম আর পুতুল—তিনটি চরিত্রের মধ্যে দিয়ে লেখক তুলে এনেছেন দারিদ্র্য, অসাম্য আর শীতল বাস্তবতার নির্মম চিত্র ।
হুমায়ূন আহমেদের লেখা সবসময় সহজ, কিন্তু এই বইয়ের সরলতা যেন আরও বেশি ব্যথাতুর। এটি এমন এক গল্প, যেখানে মন খারাপ করাটাই যেন হয়ে ওঠে উপলব্ধির শুরু ।
একটানা পড়ে ফেলা যায়, কিন্তু শেষ করে মনটা ভারী না হয়ে পারে না ।
পুতুল নামে ১১ বছরের ছেলেটা কোন কারণ ছাড়ায় হাটতে হাঁটতে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। সে অনেক বড়লোক বাপের ছেলে। রাস্তায় বের হয়ে রাস্তার ছেলে অন্তুমিয়ার সাথে দেখা হয়। তারপর পুতুল অন্তু মিয়া আর অন্তুমিয়ার বোন মরিয়ম এর সাথে পুরা একটা দিন পার করে।