রিটায়ার্ড আইজি ওসমান সাহেব। তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে নিশাত, দিলু ও নিশাতের শিশুকন্যাকে নিয়ে এসেছেন নীলগঞ্জ ডাকবাংলোতে, ছুটি কাটাতে।
তাঁদের সাথে আছে দুইজন যুবক।
প্রথমজন জামিল। পরিবারের খুব কাছের একজন। হাসিখুশি আমুদে লোক।
অন্য জন দূরসম্পর্কের আত্নীয় সাব্বির। প্রবাসী এই যুবকের ধ্যানজ্ঞান ফটোগ্রাফি।
নিশাত অসম্ভব রুপবতী এক মেয়ে। বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় স্বামীকে হারায় সে। নিশাতের মতে তার স্বামী কবির এমন ছেলে, যে কিনা পৃথিবীর যে-কোনো মেয়েকে বিয়ে করেই সুখী হতো। এই সব ছেলেদের সুখী হওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ। কিন্তু নিশাত সুখী হতে পারেনি। কেনো পারেনি?
দিলুর বয়স চৌদ্দ বা পনেরো। এই বয়সে চেনা মেয়েগুলিকেও অচেনা লাগে। বড় বেশি আবেগী মেয়ে সে। অল্পতেই চোখে আসে জল। এই জল কার জন্য?
ডাকবাংলোতে আসার পর থেকেই দিলু জামিলের প্রতি অন্যরকম এক আবেগ অনুভব করতে থাকে। এদিকে ফটোগ্রাফার সাব্বিরের পছন্দ হয় নিশাতকে। কিন্তু নিশাতের মন পড়ে আছে অন্য একজনের কাছে। নানা ঘাত প্রতিঘাতের মাঝে কাহিনী এগিয়ে যায় তার অবশ্যম্ভাবী পরিণতির দিকে...
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
রেল স্টিশনের নাম "সোহাগী" এই স্টেশন থেকে উপন্যাস এর শুরু। রিটায়ার্ড আইজি ওসমান সাহেব তার স্ত্রী, দুই মেয়ে নিশাত, দিলু, আর ও আছে নিশাতের শিশুকন্যা, দুই যুবক একজনের নাম জামিল অন্য জন সাব্বির। সাব্বির একজন প্রবাসী ফটোগ্রাফার। এছাড়া ও সাথে দুইজন কাজের লোক এবং তাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন সোহাগী থানার ওসি। ওসমান সাহেব সপরিবার নীলগঞ্জ ডাকবাংলো ছুটি কাটাতে এসেছেন।
এই উপন্যাসটা মুলত দিলু এবং নিশাতকে নিয়ে এরাই গল্পের প্রধান চরিত্র। নিশাত,, অসম্ভব রুপবতী একটা মেয়ে। বিয়ের কয়েক বছর পরই তার স্বামী মারা যায়।তার স্বামী ছিল কবির। আমুদে ছেলে।হৈচৈ করতো সবসময়। প্রচুর মিথ্যে কথা বলতো।নিশাতের মতে কবির এমন ছেলে যে পৃথিবীর যে-কোনো মেয়েকে বিয়ে করেই সুখী হতো।এই সব ছেলেদের সুখী হওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ।কিন্তু নিশাত সুখী হতে পারেনি। দিলু,,, দিলুর বয়স চৌদ্দ বা পনেরো। এই বয়সে চেনা মেয়েগুলিকে ও অচেনা লাগে।বড় বেশি আবেগী মেয়ে অল্পতেই তার চোখে পানি আসে। ডাকবাংলোতে আসার পর থেকেই দিলু জামিলের প্রতি অন্য এক টান অন্য রকম অনুভূতি অনুভব করতে থাকে। দিলুর মা রেহানা বেগম সেটা বুঝতে পারেন এর জন্য তিনি বিরক্ত হয়ে আছেন।
এদিকে ফটোগ্রাফার সাব্বিরের নিশাতকে পছন্দ হয় এবং সে তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়। নানা ঘটনার পর জামিল এর সাথে নিশাতের সম্পর্কের কথা জানতে পারে। এখন কি করবে দিলু? জামিল বা পরিবারকে জানাবে কি তার ভালবাসার কথা। সুন্দর একটা বই যারা পড়েননি পড়ে ফেলুন তারাতারি।
সাব্বিরের খুব ইচ্ছা একটি ছবি তোলার। দিলুর ছবি। কিশোরী একটি মেয়ে যার বয়স পনের ছুঁতে চলেছে। দীঘির জলে লাল শাড়ী পরে সাঁতরে পাড়ি দেবে মেয়েটি। আর স্বচ্ছ পানির বুকে ফুটে ওঠা লাল নাকি মৎস্যকন্যার অবয়ব সৃষ্টি করবে। আর সাব্বির সেই স্রোতময়ী কিশোরীকে ফ্রেমে বন্দী করবে।
দিলুর শাড়ী ছিল না। ছিল লাল স্কার্ট। দিলু দীঘির জলে ভেসেছিল। সেদিন ভোরে সাব্বিরের হাতে ক্যামেরাও ছিল। তবু ছবিটা তোলা হলনা। কারণ দিলু যে কথাটি কাউকে বলে যেতে পারিনি। নিশ্চুপ শীতের একাকীত্ব ভোরে সবাইকে অভিমান নিয়ে দেখিয়ে গিয়েছে
আমার আছে জল , আমার আছে জল আমার আছে জল , আমার আছে জল সেই জলে যেনো পদ্ম পুকুর মেঘলা আকাশে মধ্য দুপুর অচেনা এক বন বাঁশি সুর বিষাদে কোমল আমার আছে জল , আমার আছে জল আমার আছে জল , আমার আছে জল আমার একা সেই কালো দিঘি একাই আমি জলে নামি আর কেউ নেই তো কাছে ও দূরে অন্য ভুবনে থাকো তুমি আমার একার সেই দীঘিতে ফোটাই নীলকমল আমার আছে জল , আমার আছে জল আমার আছে জল , আমার আছে জল ঝুম বরষা ঘন কালো মেঘে উল্লাসে নাচি একা আমি কেউ নেই পাশে মেঘে বৃষ্টিতে ভিন গ্রহবাসি আজ তুমি আমার একার জলত সবই শুধু অস্রুজল আমার আছে জল , আমার আছে জল আমার আছে জল , আমার আছে জল।
গানটি উপন্যাসিকাতে উল্লেখ করা হয়নি। অনস্ক্রীনে ব্যবহার করা হয়েছে। গানটি নিয়ে কাজ করেছেন হাবীব ওয়াহিদ। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে গানের কথাগুলো না পড়লে কিংবা না শুনলে দিলুর অনুভূতগুলোকে পুরোপুরি স্পর্শ করা যাবে না।
একটি নারী দুইবার জন্ম নেয়। একবার রক্ত মাংস নিয়ে আরেকবার প্রথম প্রেমকে পাবার প্রার্থনা নিয়ে। দিলুও ছিল সেই নারীদের প্রতিনিধি । কিশোর বয়সের প্রথম প্রেমের প্রার্থনা সে কখন নারী হয়ে উঠেছিল কেউ খেয়াল করেনি। কিন্তু শেষ লাইনে দিলু দেখিয়ে গেল। বয়স দিয়ে নারীকে বাঁধতে নেই। একটি মেয়ের নারী সত্ত্বা চিরন্তন।
রিটায়ার্ড আই জি ওসমান সাহেবের পরিবারের ভ্রমণবিলাস থেকে শুরু হয় গল্পটির। স্ত্রী রেহা না বড় মেয়ে নিশাত, ছোট মেয়ে দিলু, জামাতা বন্ধু জামিল, দূর সম্পর্কে আত্নীয় সাব্বির এবং আর কিছু চরিত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে মূল গল্পটির ভিত্তি। মাত্র চার ফর্মা বইটির ভেতর গল্প নিয়ে কিছু বলতে চাইনা। শুধু বলব যারা পড়েন নি পড়বেন। আর প্লট দিয়ে নয় বিচার করবেন প্রতিটি চরিত্রের একে অন্যের প্রতি সম্পর্কের গভীরতা দিয়ে।
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই কাহিনী। নিশাত নামের মেয়েটি স্বামী কবিরের সাথে সুখী হতে পারে নি, যদিও তার ধারণা দুনিয়ার যে কোনো মেয়ে তার সাথে সুখী হতে পারতো। কিন্তু কবির এখন আর বেঁচে নেই। ওদের একটা সন্তান আছে। নিশাতের ছোট বোন দিলু ১৫ তে পা দিল। এখন তার কেমন কেমন সময় ¬_¬ এদের মা রেহানা একটু চিন্তিত সব সময়। বাবা রিটায়ার্ড আইজি ওসমান সাহেব। এদের আত্নীয় কাম পারিবারিক সদস্য হাস্যরসিক জামিল ভাই। খুব মাতিয়ে রাখতে পারেন। তো উনারা পিকনিক করতে এসেছেন নীলগঞ্জের ডাকবাংলো তে। এদের সাথে আরও একজন আছেন আমেরিকা প্রবাসী সাব্বির, সে খুব ভাল ফটোগ্রাফার এবং পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। এই ভদ্রলোককে আগ্রহ করে নিয়ে এসেছেন মেয়েদের মা রেহানা; তিনি মনে মনে চান ছেলেটি যেন নিশাতকে পছন্দ করে বিয়ে করে নিয়ে যায় ¬_¬
তো যাইহোক। দেখা গেল উঠতি বয়সের দিলু জামিল ভাইকে বেশ পছন্দ করে। আবার ওদিকে দিলু নিশাত আপার কাছ থেকেই জানতে পারে নিশাত আপা আর জামিল ভাইয়ের হালকা চালের প্রেম কাহিনী। কিশোরী বয়সে এসেই নিশাত জামিল ভাইয়ের প্রেমে পড়ে যায়। এরপরে আবার তাকে ভাল্লাগে না, কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার বিয়ে হয়ে যায় জামিলের বন্ধু কবিরের সাথে। কিন্তু নিশাত সুখী হতে পারে না কবিরের সাথে কারণ তখন আবার সে জামিল ভাইকে ভালবাসে ¬_¬
এরপর আর কি বেচারি দিলু!! দিলু করবে কি সে! নিশাত আপা চায় জামিল ভাইকে বিয়ে করতে। দিলু তাহলে কি আছে? অভিমানি দিলশাদ ওরফে দিলু তাই ডাকবাংলোর সামনের পুকুরকেই ঠিকানা করে নিলো। দিলুর আছে জল -_-
~১৯ এপ্রিল, ২০২১
This entire review has been hidden because of spoilers.
আমার একটা ভালো(!) স্বভাব আছে,কিছু পড়ার কয়েকদিন পর ভুলে যাই,বইয়ের নাম সহ কী পড়েছি। এটা শাপে বর হয় অনেক সময়,যেমন একই দ্বিতীয় বার পড়ছি,নতুন একটা মন নিয়ে। এই সমস্যা টা বেশি হয়,হুমায়ূন পড়ার ক্ষেত্রে ।
"আমার আছে জল" আগেও পড়েছি। আবার পড়লাম কারণ আগে কী পড়েছি ভুলে গেছিলাম। নতুন করে জানলাম "দিলু'র" দুঃখের গল্প। নতুন ভাবে আবিষ্কার করলাম দিলুকে।
প্রেম বড় মধুর ব্যাপার। কিন্তু ব্যর্থ প্রেম অনিঃশেষ বেদনার জন্ম দেয়। কিশোর বয়সের প্রেমে প্রবলতা আরো গাড় হয়,কাজেই ব্যর্থতা সহ্য করা মুশকিল। দিলুর তাই হলো। "আমার আছে জল" একটা বিষন্নতা'র কাব্য।
Pure trash. এইটার নাম দেয়া উচিত ছিল 'আমার আছে ঢং'। নায়ক-নায়িকা থেকে শুরু করে সব কয়টা চরিত্র ঢং-ঢাংয়ের উপরেই থাকে। এই বইগুলির জন্য অন্তত গুডরিডসে নেগেটিভ রেটিং দেয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল।
রুমমেট একদিন এসে বললো, অ্যাই দারুণ একটা মুভি আছে দেখবি? আমার মুভি দেখার প্রতি তেমন আগ্রহ নেই। তাও বললাম, দে তো দেখি। 'আমার আছে জল' সম্পর্কে ওভাবে জানা, ছবিটি যখন দেখলাম খুব ভালো লেগেছে কান্নাও এসেছে। তবে কিছুক্ষণ পর ভাবলাম, আজব! পছন্দের মানুষ অন্যকারো হয়ে যাবে, তাই আত্মহত্যা করতে হবে? এ কেমন কথা। তখনই বিরক্ত লাগা শুরু করলো ছবিটার ব্যাপারে। আজ আবার কি বুঝে যেন বইটা পড়লাম, সেই আগের মতোই বিরক্ত লেগেছে। কাহিনী ঠিকঠাক এগোচ্ছিলো, দিলু এটা কোনো কাজ করলো? কারো জন্য কি কিছু থমকে থাকে নাকি?
when nothing works out in life, Humayun Ahmed does. oh man how beautiful! Dilshad reminded me of Suprova for some reason. I loved it. pure art. this book.
"আমার আছে জল" এই নামে হুমায়ূন আহমেদের একটা জনপ্রিয় সিনেমা আছে এটা অনেক বছর আগে থেকেই জানতাম কিন্তু কখনো দেখা হয়ে উঠে নাই। তবে, বৃষ্টির সিজনে এই সিনেমার একটা গান "চলো বৃষ্টিতে ভিজি" প্রায়ই নিউজফিডে চলে আসতো। হাবিব ওয়াহিদের গাওয়া গানটার মেলোডি এতত সুন্দর, যখনই শুনতাম গানটা, তখনই মনে হতো.. ইস মুভিটা দেখা উচিত। কিন্তু তা আর দেখা হল কই!
একটু আগে বুকশেলফ হাতড়াচ্ছিলাম। একটা থ্রিলার সবে শেষ করেছ, মাথা আউলায় আছে, এটা জলদি ঠিক করা দরকার। এই বিপদে হুমায়ূন ছাড়া আর কেই বা আছে আমায় আশ্রয় দেওয়ার জন্য! কিন্তু বেশি বড় বই পড়তেও মন চাচ্ছিল না, তাই ছোটখাটো দেখে "আমার আছে জল" উপন্যাসটা শুরু করে দি।
এটা একটা ভ্রমণগল্প হতে পারতো। কিন্তু দিনশেষে হল কী?!
গল্পের শুরুতে আমরা পৌঁছে যাই রেল স্টেশনে যার নাম "সোহাগী"। হুমায়ূন আহমেদ এই নামটাকে খুব পচ্ছন্দ করতেন যা দেখছি। এই নামটা তিনি তার একাধিক উপন্যাসে ব্যবহার করেছেন। কখনো তা গ্রামের নাম, কখনো তা নদীর নাম আবার কখনো তা স্টেশনের নাম।
রিটায়ার্ড আইজি ওসমান সাহেব তার পরিবার নিয়ে নীলগন্জ্ঞে এসেছেন শীতের ছুটি কাটাতে। পরিবরে রয়েছে তার স্ত্রী, দুই মেয়ে নিশাত আর দিলু। এবাদে তাদের সঙ্গে এসেছে জামিল এবং সাব্বির।
এরপর গল্প এগোতে থাকে। টিপিক্যাল হুমায়ূন রাইটিং। আমার কাছে পার্সোনালী হুমায়ূন আহমেদের বড়লোকদের ঘিরে লেখা গল্প গুলা খুব অতিরঞ্জিত আর ক্ষেত্র বিশেষ বিরক্তিকর লাগে। বিরক্তিকর লাগার কারণ হচ্ছে, ঠিক যেভাবে তাদের জীবন, বিলাসি মনোভাব, মহিলাদের অতি ন্যাকামো আচারণ গুলাকে উপস্থাপন করা হয় তা যথেষ্ট অতিরঞ্জিত মনে হয়। বাস্তবে এমনটা কতখানি হয়, জানিনা।
কিন্তু এই গল্পটা সেই ধারায় যায় নাই। এখানেও যদিও ন্যাকামো ছিল কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তা আমার গায়ে লাগে নাই। আমি উপভোগ করেছি।
নিশাত গল্পের প্রধান চরিত্র বলা যায় কিন্তু তার কিছু কিছু আচারণ আমার কাছে অসহ্য লাগছিল। যেমন তার নিজের সন্তানের প্রতি তার দায়সরা ব্যবহার।
গল্পে আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল সাব্বির। এই ক্যারেক্টারটার সাথে আমার নিজের বেশ কিছু মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম। আমার উভয় ছবি তুলতে খুব পাগল। ছবি তোলা নিয়েই আমাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। সাব্বিরের সাথে নিশাতের বিয়ে হোক এমনটা চাচ্ছিল নিশাতের মা, কিন্তু নিশাত কি চায়? আর শেষ অব্দি কি হবে, এটাই গল্পকে টেনে নিয়ে গেছে শেষ অব্দি।
তবে হুমায়ূন পড়তে বসলে একটা বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে শেষ মুহুর্তে গিয়ে বিষন্নতায় ভুগতে হবেই হবে। নিষ্ঠুর এই লেখক এইক্ষেত্রে বিন্দু মাত্র কম্প্রোমাইজ করে না। সে যা চায়, তাই ঘটায়।
এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে, এমন আনন্দঘন এক ভ্রমণকাহিনীর মাঝে ট্রাজেডি কোথা থেকে আনবে লেখক?! well এটাই হচ্ছে গল্পের আসল টুইস্ট।
বইটা শেষ করে এখন আমার প্রথম কাজ, দীর্ঘ দিন ধরে ফেলে রাখা মুভিটা দেখে ফেলা, দেখি উপন্যাসের থেকে কতটা মিল রয়েছে।
সোহাগী স্টেশন থেকে গল্পের শুরু,নিশাত দিলু জামিল সাব্বির আর আমুদে কবিরকে নিয়ে গল্প যাকে বিয়ে করে পৃথিবীর যেকোনো মেয়ে সুখী হতে পারলেও নিশাত সুখী হয়নি,অন্যদিকে সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া দিলু অনুরক্ত হয়ে পড়ে জামিলের উপর এ নিয়ে তার মা বিরক্তি প্রকাশ করে, কিন্তু শেষমেশ প্রকাশ পায় দিলুর কাছে নিশাত জামিলের সম্পর্ক, ঐদিকে সাব্বির একজন ফটোগ্রাফার পেশায় ,সে দীঘির জলে মধ্যে দিলুর ছবি তুলতে চায় যেখানে সে লাল শাড়ি পরে সাঁতার কেটে যাবে, সাব্বির কি পারবে শেষ পর্যন্ত ছবিটা তুলতে?কি হবে নিশাত জামিলের সম্পর্কের পরিণতি? শেষের অংশ পড়ে বাজে লাগতেছিল মনে হয়েছিল 1star দিই, কিন্তু কিছু কিছু জায়গার বিবরণ মনে পড়ায় সেটা আর করা হয়নি, শুধু মাত্র হুমায়ূন আহমেদ বলেই বোধহয় গল্পের শেষটা এমন হয়েছে.নারীর জন্ম হয় দুইবার একবার কৈশোরে পা দিয়ে আরেকবার কাউকে তীব্র ভাবে ভালোবেসে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে.
হুমায়ুন আহমদের বই নিয়ে আমার বিশেষ দুঃখ আছে। এই বইটা পড়া শুরু করে আমি মহা বিরক্ত। চোদ্দ পনের বছরের একটা মেয়ে, যে প্রেমের জ্বালায় কষ্ট পাচ্ছে। কষ্টের কথা সে কারুর সাথে ভাগ করতে পারে না। ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে কাঁদে। আমি পড়ি আর আমার বিরক্তি বাড়ে।
কিন্তু পড়া থামিয়ে উঠতে পারি না।
মনে মনে গালি দেই, ব্যাটা বদ! বাচ্চা মেয়েটা লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদছে, কিছু একটা করো। মহা বিরক্ত!
শেষ পাতায় ধাক্কাটা খেয়ে যখন বইটা বন্ধ করি, ত���ন বুঝি আমি আবারো হেরে গিয়েছি, হুমায়ুন আবারো জিতেছেন। এই হারবার জন্যই বারবার ফিরে আসি।
এ পর্যন্ত যতগুলো বই নিয়ে লেখালেখি করেছি তার মধ্যে হুমায়ুন সাহিত্য সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি বোধ হয়। তবে বিস্তারিত Criticism বা বর্ণনা দিয়ে না বরং টুকরো টুকরো কথা দিয়ে।আজও তাই বলব। বই বা চলচ্চিত্রের চরিত্র বিশ্লেষণ করে লিখতে গেলে দু'চার পেইজ লাগবে।বরং হুমায়ুন চলচ্চিত্রের সাথে নিজের অনুভুবের সখ্যতা নিয়েই লেখা থাক।
"আমার আছে জল" - Childhood Nostalgia বললে ভুল হবে না।তবে এটাকে চলচ্চিত্র আকারেই প্রথম জানতে পারি, বই হিসেবে এবারও পড়া হয়নি।চলচ্চিত্র দেখায় শ্রেয় মনে হয়েছে। কারনটা অদ্ভুত। হুমায়ুন সাহেবের সাথে পরিচয় মুলত আমার বড় বোনের মাধ্যমে,সে স্কুল পড়ুয়া মানুষ যে বইমেলা থেকে হুমায়ুন আহমেদ নামের লেখকের বই কেনার জন্য বাবার কাছে আবদার করত,যেখানে আমি নিজের বয়সের বাচ্চাদের বই নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ না পাওয়া মানুষ লজ্জায় 'বড়দের ' বই কেনার কথা না বলতে পেরে মনঃক্ষুণ্ন হতাম!!
হুমায়ুন আহমেদকে লেখক কম চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেই জানতাম।তাকে লেখক হিসেবে মানুষ কতটা পাগলের মতো পছন্দ করে এটার ধারণা হয় ২০১২ সালে,তার কফিনে মোড়া লাশকে ঘিরে হাজার মানুষের জটলা থেকে। হুমায়ুন সাহেবের মৃতদেহ কফিনে বাংলাদেশ এলে আমিও বাংলাদেশের লাখো মানুষের মতো টিভির সামনে বসে তার শেষ যাত্রার সাক্ষী হয়েছিলাম,সেই সাথে অজানা এ কবির সম্পর্কে স্থায়ী ধারণাও তৈরি হয়েছিল মস্তিষ্কে।পরবর্তীতে ২০১৬/২০১৭ এর দিকে যখন টুকটাক বন্ধুদের মধ্যে হুমায়ুন সাহিত্যের আলোচনা শুরু হয়েছে, আমি তখন হুমায়ুন সাহিত্যের ঘোর বিরোধী! আসলে পুরো সাহিত্য, উপন্যাসেরই বিরোধী! (এর কারণ অন্যদিন বলব,সাহিত্যের প্রতি এমন ধারণা আজও অটলই বটে!)
হুমায়ুন সাহেবের বই এবং চলচিত্রের আলোচনা বরাবরই সেই সময়ের দৃশ্য চোখের সামনে আনে যখন শুধু বাংলাদেশ না পুরো বিশ্বের চেহারায় অন্যরকম ছিল। স্মার্টফোন ছাড়া নির্ভেজাল আভিজাত্য নির্ভর দুনিয়া। সময়টা নিজের কাছেও উপভোগ্য ছিল। আমার ভাষায় যেটাকে আমি এভাবে বলি,যখন আমি সত্যিকার অর্থেই খুশি ছিলাম,জীবন সহজ ছিলো,যখন আনন্দে হাসতে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ দ্বিতীয় বার ভাবত না। “আমার আছে জল”২০২৫ এসে দেখার সুযোগ হলো।তাও এমন পরিস্থিতিতে যখন নিজে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে নিজের ভার্সিটির পরীক্ষা বন্ধ করে চলে আসতে হলো বাসায়। শারীরিক অবস্থা এতো ভংগুর যে বসে নিজের হাতে খাওয়ার সামর্থ্যটুকুও অতি যত্নের বদৌলতে অর্জন করা লাগছে।
"আমার আছে জল" চলচ্চিত্র হঠাৎই সামনে এলো,কোনো চিন্তা ছাড়া দেখা শুরু করেছিলাম।কারণ আগেই এই চলচ্চিত্রের সম্পর্কে শুনে বড় হয়েছি। কাহিনী সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না।শুধু এতোটুকু জানা ছিল, আবার নিজের জীবনের আনন্দ সময়গুলোর মিষ্টি বাতাস বইবে পুরোটা সময় যা হুমায়ুন আহমেদ রচিত চলচ্চিত্র, নাটক, টেলিফিল্ম দেখার সময় হয় বরাবরই।
এই চলচ্চিত্রের গানগুলো শুধু এইটা না হুমায়ুন আহমেদের বেশ কয়েকটা চলচ্চিত্রের গান আমি ছোট থেকে শুনে বড় হয়েছি যার সাথে শুধু সুখস্মৃতিই জড়িয়ে আছে।ঘোর লাগানো এই অনুভূতি এখনও সবচেয়ে ভাঙাচোরা মানসিক অবস্থায়ও বিষন্নতার অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া থেকে বের হতে বাধ্য করে। 'আমার আছে জল ' গান একটানে বর্তমান থেকে অতীতের "বিহঙ্গ" এর সাথে আমার কাটানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাঝরাতে মন ভরা ভালো লাগা নিয়ে বাড়ি ফেরা,পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খেতে পুরো পরিবার নিয়ে 'এইড' কমপ্লেক্সে মিলনমেলা, মধ্যরাত অবধি নানু বাসায় মামাদের সাথে আড্ডা, ক্লান্ত খালি পায়ে ফাঁকা শহরে হেঁটে বাসায় আসার সেই দুচোখ ছাপানো আনন্দ ও তৃপ্তির অনুভুতি ভরা জগতে নিয়ে যায়,যে সময়ে ইচ্ছে করলেও ফেরা সম্ভব না।
দিলুর জীবন মানব জীবনের সবচেয়ে রহস্যময় এবং রঙিন সময়, একজন টিনএজারের ভাবনার জগতের দিকগুলোকে তুলে ধরেছে। তার আবেগ, নতুন নতুন অনুভুতির দাসত্ব কিংবা মুহুর্তের মধুর স্মৃতি। হুমায়ুন সাহিত্যের এই দিক প্রায় সব উপন্যাসে একই রকম। তবে চরিত্র গুলো যেন বাস্তব, আমি আমার আশেপাশের পরিচিত ১৪/১৫ বছরের কিশোর - কিশোরীর জীবন।
সব মিলিয়ে ইচ্ছাকৃত সুখানুভূতির আশায় আবার ফিরে যাওয়া। হুমায়ুন সাহিত্যে বিষন্নতার মোড়কে আনন্দ আছে,এই বিষন্নতা প্রোটাগনিস্টের মাধ্যমে একাকীত্বের সুরে গড়া হলেও স্বাভাবিক বাস্তব জীবনমায়ায় জড়ানো। এই দিকের জন্য ব্যক্তি হুমায়ুনকে ঠিক অগোছালো চিত্তের মনে হলেও তার লেখার জয়জয়কার চারিদিকে। জীবন বদলেছে,সময় চলমান নিজের গতিতে.. পারিপার্শ্বিক দিক বিবেচনায় সামান্তা আলম অত্যন্ত সুখে আছে।হয়ত তাই।এক দিক দিয়ে সত্যি বটে। তবে আনন্দের ভাগ বসিয়েছে সময়,বিষন্ন দিন আর শত উজ্জ্বলতার আড়ালের অন্ধকার। পুরোনো ভালো লাগাগুলো শুধুই ভালো তে পরিনত হয়েছে। এই ই তো...জীবন সুন্দর, অনেক সুন্দর। 🍁
Hate Nishat, Love Dilu, Osman Saheb & Sabbir. Last e eshe Jamil keu temon valo lage nai. But the overall story was good and Realistic. The ending was so confusing at first. But I guess I get it now. Also, Nishat was so confused all the time. What do you want? She did love Jamil, then said I did not love him when I was in College then again started remembering him after marriage. Like why? Make up your mind. I think she does not love her child also. Osman Saheb was annoying in the beginning but became wholesome at the end. Like him and Sabbir was straightforward from the get-go. No comment towards Jamil. He was the most mysterious one. My rating 3 / 5. Totally based on my personal preference. Nothing else.
'আমার আছে জল'। বইয়ের শুরুটা জল দিয়ে। সোহাগী দিঘিকে জলপূর্ণ করতে এক রাজকন্যার আত্মত্যাগের কাহিনী। শেষটাও হয় জল দিয়ে। অন্যের স্বপ্ন পূরণ করতে নিজেকে জলে বিসর্জন দেয়ার কাহিনী। বইটার মাঝখান টুকু জুড়েও জল। চোখের জল। নোনা কষ্টের জল। জল সারা বইজুড়ে মেটাফোর হয়ে আছে।
দিলু - সদ্য পনেরো পেরোনো কিশোরী। অভিমানী, আবেগী - এবং সচরাচর বয়ঃসন্ধির বালিকাদের মতোই বিধ্বংসী। এই বয়সের ভালোবাসা গুলো খুব ধারালো হয়। হয় অন্যকে কাটবে, নয়তো নিজেকে। হয় অন্যের প্রাণ নিবে, নয়তো নিজের।
দিলু প্রাণ নেয়ার মতো অতটা স্বার্থপর নয়। বরং দিদির ভালোবাসার জন্য নিজ���কেই বিলিয়ে দিয়েছে। দিদির কাছে গচ্ছিত রেখে গেছে নিজের সবচেয়ে দামী জিনিসটুকু। হেরে জিতে যাওয়া বোধয় একেই বলে।
হুমায়ূন মানবমনের চিন্তাভাবনা, ধ্যানধারণা, আবেগ অনুভূতি নিয়ে অনেক ঘেঁটেছেন। তবে সবচেয়ে ঘেঁটেছেন সম্ভবত টিনএজারদের নিয়ে। নিজের তিন মেয়েকে ছোট থেকে বড় হতে দেখেছেন। বালিকা থেকে নারী হয়ে ওঠার এই সন্ধিক্ষণটা তাঁর মতো খুব কম লেখকই পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন। 'আমার আছে জল' সেই পর্যবেক্ষণের ফসল।
ছোট বই। কিন্তু ধাক্কা দেয়ার মতো। শেষ পাতাটা বাঙালি সাহিত্যের অন্যতম সুন্দর একটা এন্ডিং হয়ে থাকবে। বেদনাবিধুর সুন্দর।
বইটা নিয়ে মুভিও হয়েছে। পরিচালক হুমায়ূন আহমেদ নিজেই। তবুও তেমন আগ্রহ লাগেনি। বই ই ভালো। মুভিতে অনেক সংলাপ, দৃশ্য এড করা হয়। মেকি ভাব চলে আসে। বই ই বিশুদ্ধ।
শুরুর দিক টা সব আলু কচু ! সবাই শপরিবারে ডাকবাংলো ঘুরতে যায় বেপারটা আনন্দের লেগেছে। ভালো অনুভূতি দিয়েছে সেই vibe টা। 🍀🌿🍃 মেয়েদের জীবনে এই adolescent টাইম টা খুব ভয়াবহ !
আমার জীবনে পড়া প্রথম হুমায়ুন আহমেদ এর বই। বাবা-মার বিয়েতে বইটি উপহার দিয়েছিলো কেউ একজন। বইটি প্রথম বার পড়ি খুব ছোট বয়সে, সম্ভবত ক্লাশ সিক্সে। এখনো মনে আছে, সবকিছু তেমন না বুঝলেও, পড়া শেষে এক অদ্ভুত গভীর বিষন্ন অনুভুতি আমাকে আচ্ছাদিত করেছিলো। এরপর যে আরো কতবার পড়েছি, হিসেব নেই! আমার আছে জল বইটির নাম শুনলেই আমার চোখে ভেসে ওঠে দিলু লাল জামা পরে জলে ভাসছে! আমার খুব খুব প্রিয় বইদের মধ্যে এটি একটি!
লেখকদের যেমন রয়টার্স ব্লক হয়, হঠাৎ করে লেখা মাঝ পথে থেকে যায় অনেক দিন লেখা বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের মত পাঠকদের হয় পাঠক ব্লক। তখন কিছু পড়তে ইচ্ছে করে। পাশে বই নিয়ে বসে থাকি, বালিশের পাশে নিয়ে ঘুমায় কিন্তু পড়া হয় না। সাধারণত আমি পাঠক ব্লক কাটাতে হুমায়ূনের কোনো লেখা পড়ি। কারণ তাঁর লেখা একদম সহজ সরল ভাষায় সব ধরনের পাঠকের জন্য লেখা। কোনো তাত্ত্বিক আলোচনা থাকে না, অহেতুক ব্যাখ্যা থাকে না। চরিত্রের প্রচুর কথাপাকথন থাকে। খুব তাড়াতাড়ি পড়া যায়।
"আমার আছে জল" হুমায়ূনের লেখা ছোট্ট একটি উপন্যাস। উপন্যাস না বলে বড় গল্প বলা যায়। মাত্র ৫০-৫২ পাতার বই। আমরা যখন কৈশোর থেকে যৌবনের দিকে পা দিকে, তখন কোনো জিনিস বা ব্যাক্তির আমরা অল্পতেই মুগ্ধ হয়ে যায়। তখন মনের মধ্যে একটা আলাদা ভালোলাগা কাজ করে। আবার যখন সেই জিনিসটা সেই বয়সে পায় না খুব অল্পতেই প্রচন্ড আঘাত পায় - যেটা সারা জীবন থেকে যায়।
এই বইটা আমি বেশ ক'বার পড়েছি। কেন পড়েছি জানি না কারণ আমার খুব প্রিয় বইয়ের তালিকায় এটির স্থান নেই। তবুও লেখকের লেখায় যে জাদুকরী আকর্ষণ আছে মনে হয় তার টানেই পড়ি। আরেকটা কারণ হতে পারে এই গল্পের একদম শেষ দৃশ্যটি। এই বইয়ের উপর তৈরি চলচ্চিত্রটাও দেখেছি যার দুটো গান আমার বেশ পছন্দ।
অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি ওসমান সাহেব - তার স্ত্রী, দুই মেয়ে নিশাত ও দিলু, নাতি, পারিবারিক বন্ধু জামিল ও প্রবাসী আত্মীয় সাব্বিরকে নিয়ে গ্রামের এক ডাকবাংলোতে বেড়াতে যাচ্ছেন; এখান থেকেই গল্পের শুরু।
সুন্দরী তরুণী ও বিধবা নিশাত এবং চৌদ্দ-পনের বছরের আবেগী কিশোরী দিলু এই দুই বোনই গল্পের প্রধান চরিত্র। কিশোর বয়সে প্রেমে পড়া মন কি কোনো যুক্তি মানে নাকি আবেগের ভেলায় ভেসে যায়?
গ্রামে বেড়াতে যাওয়া দুই বোন- এই পটভূমিতে আমি হুমায়ুন আহমেদের ৪টি বই পড়েছি। তার মাঝে এটি সবার আগে প্রকাশিত।
হুমায়ুন আহমেদ স্যার সাধারণত কোন উপন্যাস শেষ করেন না! শেষের অংশটুকু পাঠকের হাতে ছেড়ে দেন! এই উপন্যাসে তার ব্যতিক্রম দেখলাম! এই উপন্যাসের রেটিং এত কম কেন বুঝলাম না! নাকি উপন্যাসের শেষের কষ্টটা সারা উপন্যাসের ভালো লাগাটাকে নাই করে দিয়েছে?! কি জানি? তবে আমার কিন্তু ভালো লেগেছে! শেষটাও ভালো লেগেছে! কষ্ট লেগেছে তবু ভালো লেগেছে!!
শেষ টা এমন হলো কেন ? রাগে ইচ্ছা করছে এক স্টার দেই। শেষটা অন্য ভাবে হলে ভালো হতো। মনটা পুরো খারাপ হয়ে গেলো। ইন্ডিং এ ইমোশনটা লেখক একটু বেশি ই প্রকাশ করে ফেলেছেন। Humayun Ahmed মানেই ভিন্ন টেস্ট।