ঘিঞ্জি এক বাড়িতে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন মিসির আলি। সঙ্গী বলতে ইয়াসিন নামে এক ছিন্নমূল কিশোর। মাঝে মাঝে দেখা হয় বাড়িওয়ালা বদরুল সাহেবের ভাগ্নে ফতে মিয়ার সাথে। মিসির আলির বড় ভক্ত সে। ফতে মিয়ার অদ্ভুত এক ক্ষমতা আছে। কী সেই ক্ষমতা? গোপনে কোন দুরভিসন্ধি আঁটছে ফতে? মিসির আলি কি পারবেন অসীম ক্ষমতাধর ফতেকে বাঘবন্দি খেলায় হারিয়ে সেই প্ল্যান আটকাতে?
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
মিসির আলি সিরিজের অন্যতম একটি বই হল বাঘবন্দি মিসির আলি। . প্রকৃতি কিছু মানুষকে বিশেষ কিছু ক্ষমতা দিয়ে পাঠায়।ঠিক যেমন এই গল্পের অন্যতম চরিত্র ফতের মধ্যে দিয়েছেন।কিন্তু সে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।এই ক্ষমতার কারনে সে তার আশেপাশের সবাইকে নিজের প্রতিপক্ষ ভাবতে থাকে। মিসির আলির বাড়িওয়ালার ভাগ্নে হলো ফতে মিয়া। মামার বাসায় ছোটবেলা থেকেই আশ্রিত হিসেবে থাকে।ফতের বদমেজাজি মামা বদরূল সাহেব সবসময় তাকে গালাগালি থেকে শুরু করে মারতে পর্যন্ত দ্বিধাবোধ করেন না। .
মিসির আলি বদরূল সাহেবের বাসায় এসে উঠেছেন ছয় মাস হল।তখন থেকেই দেখছেন ফতে ছেলেটি অন্যরকম। অনেক কিছু অনেক কথা না বলার আগেই সে বুঝে পেলে। এদিকে প্রতিমা, মিসির আলির পেশেন্ট। ছয় বছর আগে তিনি এই মেয়েঠিকে সুস্থ করে তুলেন। হঠাৎই এই মেয়ে কোথা থেকে যেন উপস্থিত হয়েছে। নানাভাবে মিসির আলিকে সে যন্ত্রণা দিচ্ছে। তার যন্ত্রণায় মিসির আলি চারদিক অন্ধকার দেখতে শুরু করেছেন।
বাঘবন্দি মিসির আলী,এই বইটি দিয়ে প্রথম আমার মিসির আলীর সাথে পরিচয়। জানি মিসির আলী সিরিজের শেষের দিকের পর্ব এটি কিন্তু আমি আবার সিকুয়েন্স মেইনটেইন করে কিছু পড়ি না। বইটি সাত-আট বছর আগে পড়েছিলাম, আজ ট্রেনে আসার সময় আবার পড়লাম। ভালোই সময় কেটেছে বইটির জন্য। ফতে ক্যারেক্টারটা ভয়াবহ রকমের পিশাচ টাইপ,এইরকম মানুষ কিন্তু আমাদের মাঝেই আছে তাই সাবধান। #মিসির আলীকে আমার ভালোই লাগে, মাঝেমধ্যে মনে হয় আমার সিক্সসেন্স যদি তার মত হতো।ইয়াসিন আর প্রতিমা এই দুটি চরিত্র আমার ভালো লেগেছে। আফসোস বরাবরের মত,এখানের শেষটাও অসম্পূর্ণ!! #
ছোট্ট একটি গল্প মাত্র ৮৮ পৃষ্টার। গল্পটি কোনো নির্দিষ্ট ছক বাঁধা ছিলো না, বেশ কিছু ঘটনার সংমিশ্রণ ছিলো। স্থান-কাল ও সময়ের কোনো নির্দিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায় নি অনেকটা বিক্ষিপ্তভাবে গল্প আগাচ্ছিলো।
বইটির নাম "বাঘবন্দি মিসির আলি।" বেশ রোমাঞ্চকর ও আকর্ষনীয় নাম ছিলো, প্রথমে ধারণা করেছিলাম অনেকটা লোমহর্ষক ঘটনা ঘটবে গল্পটিতে তাই অনেকটা আগ্রহ নিয়েই শুরু করেছিলাম। কিন্তু গল্পটি কিছুটা পাঠ করে আমার ধারণা বদলে গেলো, মোটেই কোনো লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে না। গল্পের মূল চরিত্র মিসির আলিকে অদ্ভুত অসহায় লাগছিলো। তার জীবন অনেকটা অসহায় এবং একা একা কাটছিলো।
প্রকৃতি থেকেই কিছু কিছু মানুষ বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকে, ঠিক তেমনই এ গল্পের অন্যতম চরিত্র ফতে মিয়ার দিকে আলোকপাত করলে তা লক্ষ্য করা যায়। ফতে মিয়া হলো মিসির আলি সাহেবের বাড়িওয়ালা বদরুল সাহেবের ভাগ্নে। ছোট বেলা থেকেই মামার বাসায় ফতে মিয়া আশ্রিত। বদমেজাজি বদরুল সাহেব তার ভাগ্নে ফতেকে গালাগালি না করলে রাতের ভাত হজম হতো না। ফতে মিয়াকে মারতেও দ্বিধাবোধ করতো না বদমেজাজি বদরুল সাহেব। এতে সামনাসামনি ফতে চুপ থাকলেও মনে মনে প্রতিশোধের বীজ খানিকটা রোপন করেই ফেলেছিলো। তারউপর বদরুল সাহেবের স্ত্রীর প্রতি খানিকটা ক্ষোভ ছিলো ফতে মিয়ার।
ফতে মিয়ার প্রকৃতিগত যে ক্ষমতা ছিলো, মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে তার মনের খবর পড়ে ফেলতে পারতো। এই ক্ষমতাকে সে অপব্যবহার করতে চলেছে। এই ক্ষমতার কারণে সে আশেপাশের সবাইকে প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করে। তার যাবতীয় চিন্তাভাবনা বেশ ভয়ংকর, স্বাভাবিক নয় তার আচরণও। ফতে নামের এই যুবক কয়েকটা খুনও করেছে সেই বিষয়ে কেও জানেও না। অনেকটা বিকৃত স্বভাবের লোক ছিলো এই ফতে।
মিসির আলি বদরুল সাহেবের বাসায় উঠেছে ছয় মাস হবে। ফতে মিয়ার সাথে বেশ কয়েকবার কথপোকথনে মিসির আলি ফতে মিয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পর্কে অনুমান করতে পারে। ফতে মিয়াও তার ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মিসির আলি সাহেবকে অনেকটা বুদ্ধিমান বুঝেই নিয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ একটা দণ্ড লেগে যায় যদিও দণ্ডটা ছিলো ফতের দিক থেকে মিসির আলি গল্পে শান্তশিষ্ট ঠান্ডা মানুষ ছিলো।
বদরুল সাহেব ও তার স্ত্রীর প্রতি মনে মনে পোষণ করা ক্ষোভের রেখা ঘুরে প্রতিশোধ স্বরুপ তাদের প্রতিবন্ধী মেয়ে লুনার দিকে আলোকপাত নেয়। সাথে ফতে এইবার চায় মিসির আলিকেও তার বুদ্ধির খেলায় হারিয়ে দিবে। সুন্দর এক পরিকল্পনা অনুযায়ী ফতে ছক ধরে ধরে আগাচ্ছিলো কিন্তু সেই ছক মিসির আলির অনুমানের কাছে হেরে যায়। যদিও লেখক গল্পের পরিপূর্ণতা দেয় নি তাই গল্পটি অসমাপ্ত রয়ে যায় সেই সাথে মিসির আলি আর ফতের বাঘবন্দি খেলাটাও অসমাপ্ত রয়ে যায়।
গল্প ফতে মিয়াকে নিয়েই আগাচ্ছিলো, কিন্তু মাঝখানে প্রতিমা, ফজলু নামে কিছু অসমাপ্ত চরিত্রের সূত্রপাত ঘটে যার পরিসমাপ্তি ৮৮ পেজের গল্পে দেখা যায় নি। ৮৮ পেজের এই গল্পে অনেক কিছুই অসমাপ্ত রেখেছেন লেখক যা অনেক পাঠকের কাছে তা হতাশা আবার অনেক পাঠকের কাছে তা কৌতূহলের জন্ম দিবে।
নামের সাথে কিছুটা মিলেছে I guess ! মিসির আলির বয়স বেড়েছে এবং তার অনেক কিছুই মনে থাকে না। এখানে একটা নতুন চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে (একটা মেয়ে প্রতিমা) । ভালোই লাগছিলো। কিন্তু হটাৎ করে শেষ হয়ে গেলো এবং পূর্বের ন্যায় এটাতেও বোঝা গেলো না কে সে। শেষ লাইন এ যা বোঝানোর চেষ্টা করেছে তাই বুঝবো? He wraps up the story way too quickly , could have written more about those other characters! And I'm pretty sure people are Curious about this প্রতিমা girl.
অপরাধ, রহস্য বিষয়ক উপন্যাসের সমস্যা এত সরলভাবে সমাধান হয়ে গেলে সেটা উপভোগ্য থাকে না। সরলতা, অহিংসা, অকপটতা, কামশুন্যতা মিসির আলিকে কখনও কখনও বোরিং করে ফেলে।
নির্দিষ্ট কোন ছকে বাঁধা ছিল না এই বইটা, কেমন যেন বেশ কিছু জিনিসের মিশ্রণ...
শুরু থেকেই মুগ্ধের মতন পড়েছি, বুঝতে পারছিলাম বাকি বইগুলো থেকে ভিন্ন ধরনের কিছু হবে; মিসির আলিকে আসলেই বাঘবন্দি মনে হচ্ছিল- অসহায় একা একজন মানুষ।
কাছেরই একজন মানুষ এই বইতে ভয়ংকর মন নিয়ে হাজির, চোখের আড়ালে ছিল মিসির আলির, আমাদের সবার...
তার যাবতীয় ভয়ংকর চিন্তা-ভাবনা সত্ত্বেও চরিত্রটাকে বেশ পছন্দ হয়েছে আমার- তার রহস্যের কিনারা এখনও মাড়ানো হয়নি, কিছুটা আলোকপাত দেখেছি আমরা শেষে যদিও...
মিসির আলীর ধারণা যেসব মানুষ দীর্ঘদিন একা থাকে এবং বই পড়ে সময় কাটায় তারা অন্য রকম।মানুষকেও তারা বই মনে করে।যে বই তার পছন্দ সে লাইব্রেরি থেকে সেই বই টেনে নেয়।ঠিক একইভাবে যে মানুষটি তার পছন্দ সেই মানুষকে সে ডেকে নিয়ে আসে।কোনো মানুষ নিজে তাদের কাছে উপস্থিত হবে এটা তাদের পছন্দ না।
একটু ধীরে সুস্থিতেই এই বইয়ের গল্প বেড়ে উঠেছে। মূল কাহিনী বেশ পড়েই শুরু হয়েছে। শেষের দিকে বেশ ভাল রকমের এক সাসপেন্স আসি আসি করেও কোথায় যেন আটকে গেছে মনে হল। তাছাড়া প্রতিমার ব্যাপারটিও এ বইতে খুব ভালভাবে সমাধান করা হয়নি।
সামান্য একটা অদ্ভুত কথা বলে কোনো ভয়াবহ ব্যক্তির চিন্তা-চেতনায় আলোড়ন তোলার ব্যাপারটা হিমুর যুক্তিহীন জগতে হয়তো মানায়। কিন্তু মিসির আলির মতো মানুষ শুধু পুলিশের ভয় দেখিয়ে একজন ভয়াবহ সাইকোপ্যাথের গায়ে কাঁপুনি ছুটিয়ে দিচ্ছেন ব্যাপারটা ঠিক যেনো জমলো না।
'বাঘবন্দী মিসির আলী' মিসির আলি সিরিজের প্রত্যেকটি গল্পের মতোই থ্রিলার। মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন অসুস্থ একজন ,নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ এবং কুকর্ম সম্পাদনের জন্য মারাত্মকভাবে তার ক্ষমতা ব্যবহার করে। এক কথায় ক্ষমতার অপব্যবহার। তা তো অবশ্যই সঠিক প্রকৃতিতে কিছু কিছু বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি থাকে, যাদের গড গিফটেড ক্ষমতার জোরে তারা অনেক উপরে উঠতে পারে আবার অনেক নিচেও নামতে পারে।'ফতে'-র লুনার মাথা কেটে বেবিট্যাক্সি সিটের উপরে রাখার আগেও চারবারে কাজ করেছে এটা শুনতে কেমন লাগে !পুরো গল্পটায় যখন ফতের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয় তখন যেকোনো মানুষকেই তা গ্রাস করে ফেলবে ,শংকিত করে ফেলবে । আমার বেলায় তো আমার ভয় আমার আশপাশে চিন্তায় কাইন্ডা অশরীরী কাউকে নিয়ে আসে(আমার মতো কাপুরুষ নারী এই পৃথিবীতে বোধহয় একটাও নেই। লিট্রেলি খোজা শুরু করলেও বোধহয় পাওয়ার পর্বটা শেষ হবেনা। তবুও কেন যেন আমি এমন ভয়ঙ্কর সিরিজ পুরো শেষ করি আবার যখনই কোনো মুভি দেখি সেটা হয় হরর কিংবা মারাত্মক থ্রিলার! ) । আর বরাবরের মতোই কোনো একটা বিষয়ে অসম্পূর্ণ থেকেই যায় সেটা হল প্রতিমার ব্যাপার। হ্যাঁ মিসির আলী অসম্ভব সুন্দর একজন মানুষ, অসম্ভব বুদ্ধিমান। বুদ্ধির জোরে বোধ হয় হুমায়ুন আহমেদ বেঁচে থাকলে টেরেন্স টাও থেকে মিসির আলীকেই জিতিয়ে দিতেন । এরকম একজন মানুষ বাস্তবে হলে আমিও বিষ্ময়ের সহিত মুগ্ধ হতাম। প্রতিমাও একদল মেয়েদের মতো , বিয়ে করার জন্যে সে পাগল!
বইটি পড়ে প্রথমেই যেই লাইনটা মাথায় আসলো তা হলো - " শুরু হইতে না হইতেই শেষ!"
আসলেই তা। মিসির আলির আপাত নিঃসঙ্গ জীবন একটু একটু ঘটনাবহুল হচ্ছিলো। ফতে মিয়া আস্তে আস্তে খোলস থেকে বেরুচ্ছিলো, নিজের পরিচয় দিচ্ছিলো। ঘরের ছেলে ইয়াসিন, উদ্বাস্তু ফজলু মিয়া, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী লুনা এবং সর্বোপরি মিসির আলির প্রাক্তন রোগী প্রতিমার আকস্মিক আগমন ঘটিয়ে হুমায়ূন মোটামুটি কাহিনী জমিয়ে ফেলেছিলেন! হালকা হালকা সাসপেন্স - কী হয় কী হয়। ফতে এবার কী করবে? নতুন কী চাল? মিসির আলি কি সেই চাল মাত করতে পারবেন? প্রতিমার সমস্যা টা কী? ফজলু মিয়ার ভূমিকা কী? ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিন্তু এত সুন্দর বিল্ড করা কাহিনী শেষে এসে চিতার চাইতেও ফাস্ট স্পিডে দৌড় মারলো। কয়েক পাতার মধ্যেই ফতের প্ল্যান রেডি হয়ে আবার টুকরা টুকরা হয়ে গেলো।
কাহিনীর মাঝেমধ্যে মিসির আলি এক দু মুহুর্তের জন্য ঝিলিক মেরেছেন। শেষের মনস্তাত্ত্বিক কারিশমাও খারাপ ছিলোনা। প্রতিমা চরিত্র টা অপচয় লেগেছে। মিসির আলির সাথে তার অতীত পরিষ্কার করেননি লেখক। অনেকটা "জিনিস তো কিনলাম কিন্তু এটা দিয়ে করবোটা কী সুতরাং ফেলে রাখি" - এই টাইপ অবস্থা।
৮৮ পেজের বই হুমায়ূন চাইলে আরেকটু টানতে পারতেন। এমন শক্তিশালী মাইন্ড রিডারকে একটু চান্সও দিলেননা! বাঘবন্দির দুয়েকটা চাল পড়তে না পড়তেই জয়মাল্য মিসির আলির কান্ধে!
'বাঘবন্দি মিসির আলি' - রেটিং ৩/৫। মাঝামাঝিতে তৈরী হওয়া সাসপেন্স, ফতে চরিত্রায়ন আর মিসির আলির ঝিলিকগুলার জন্য ৩। ফটাফট এন্ডিং আর প্রতিমা নিয়ে টানাটানির জন্য এক এক করে দুই কাটা গেলো।
প্রতিমার দলিলের ব্যাপারে ব্যালহ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হলেও আপাত কোনো সমাধান বের করা হয়নি, এই ব্যাপারটা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে, ফতের অসুস্থতা সমন্ধেও কোনো ধারণা দেয়া হয়নি বরং আরো জলঘোলা লেগেছে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে থ্রিলিং ছিল সেটা বলা যায়। আপাতত ৩ এর বেশি মাথায় ঠেকছে না।
পৃথিবীর কোন প্রজাতিই নিজ প্রজাতির কাউকে হত্যা করতে পারে না, কিন্তু একটি প্রজাতি পারে। সেই প্রজাতির নাম কি ? উত্তর : মানুষে ! পৃথিবীর কোন প্রজাতিই অন্য প্রজাতির কাউকে রক্ষা করার জন্য জীবন দান করে না , কিন্তু একটি প্রজাতি পারে । সেই প্রজাতির নাম কি ? উত্তর : মানুষ !!
নামটা খুবই আকর্ষণ তৈরি করেছিল বটে কিন্তু প্লট সে আকর্ষণটা ধরে রাখতে পারেনি। মিসির আলীর যে ক'টা বই পড়েছি তার মধ্যে সবচেয়ে রসকসহীন আমার কাছে লেগেছে এ বইটি। তার উপর বা হাতিদের নিয়ে মিসির আলির বিশেষ পর্যবেক্ষণটা, একজন বাহাতি হিসেবে খুবই হাস্যকর ঠেকেছে।
বইটা আগে পড়ে এতোটা মজা পাইনি যতোটা এখন পেলাম। গ্রেট মিসির আলী। মানুষ এতোটা বুদ্ধিমান না হলে বিজ্ঞান হয়তো এতদূর এগুতে পারত না। বাস্তবে মানুষ এরকম হয় কিনা জানিনা।
তবে মানুষের জ্ঞানের স্তর খুব উঁচু বলেই পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সে দাপিয়ে বেড়াতে পারে। জীবনকে অতি সহজীকরণ এবং একই সাথে জীবন ধ্বংসের সর্বোচ্চ নির্মমতার আশ্চর্যজনক আবিষ্কার মানুষের জ্ঞানের উচ্চতা কতটুকু বুঝিয়ে দেয়।
একদম মজে গেলাম৷ আমি হুমায়ুন আহমেদের খুব অনুরাগী পাঠক, আবার একই সাথে সমালোচকও। তার লেখার ভুল বা অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে মানতে কষ্ট হয়।
আমার দৃষ্টিতে খটকাঃ ফতে যখন মিসির আলির ফতোয়ার মাপ নেয় তখন "লম্বা=২৯ ও পুট= ৬" লিখে। মিসির আলি তার ভুল ধরে বলেন, "পুট মাপ নিয়েছো ২২, বলেছো ২৯ এবং লিখেছও ২৯।"
একটা ফতোয়া কখনও ২২ লম্বা হতে পারেনা। ২৯ হলে বিশ্বাসযোগ্য। আবার মিসির আলি যদি খুব শর্ট হোন সেক্ষেত্রে সম্ভব। আবার পুট লেখা হয়েছে ৬। অতি হ্যাংলা মানুষেরও পুট ৬ হবার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
লেখকের এই অতি সাধারণ তথ্যগত ভুল আমার চোখে লেগেছে খুব।
গল্পের অন্যতম চরিত্র মিসির আলির বাড়িওয়ালার ভাগ্নে ফতে মিয়া যার বিশেষ ক্ষমতা আছে যেমন সে চোখের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কে ঢুকে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।কিন্তু সে তার আশেপাশের সবাইকে নিজের প্রতিপক্ষ ভাবে ও নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে।সে চাচাতো বোন লুনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে নৌকায় লুকিয়ে রাখে মিসির আলিকেউ সেখানে উপস্থিত করে।কিন্তু বুদ্ধির খেলায় মিসির আলির কাছে তার হার স্বীকার করতে হয়।কিন্তু উপন্যাসে হঠাৎই প্রতিমা নামের চরিত্রের আগমন ঘটে কিন্তু বাকি গল্পে আর কোথাও প্রতিমার উল্লেখ নেই।
প্রতিবারই মিসির আলিকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করে তার বাড়িওয়ালার ভাগ্নে ফতে,এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিবারই ব্যর্থ হয়। মিসির আলি এমন একজন মানুষ যিনি সহজে অবাক হন না। তবে প্রতিমা নামের মেয়েটি কিন্তু তাকেও অবাক করতে সমর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ফতে কি পারলো মিসির আলিকে চমকে দিতে? তবে প্রতিমার ব্যাপারটা আরেকটু টানা দরকার ছিল।
প্রতিমা মিসিরের মনের ভিতরে ঢুকে।বাস্তবে এসে মিসির কে ব্যতিব্যস্ত করে।বাড়ি বদলানো থেকে বিয়ে নিয়ে দেয়া প্রতিজ্ঞানামা মজার ছলে। ওদিকে মানসিকভাবে অসুস্থ ও তার মামাতো বোনকে হত্যা করতে চায় ফতে।দর্জি হয়েছে,টাকা সরানো,চোখ দেখে মনের কথা বুঝতে পারা,মামাতো বোনকে হত্যা.. বেবি ট্যাক্সি... চিকিৎসা হবে?জানিনা তবে চোখ,ভয়, সব মিলিয়ে মিসির আলি দানে জিতে গেছে...কেমন যেনো টেস্ট নৌকায় যে দান সাজিয়েছিল ফতে,সাইকোপ্যাথ লেগেছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
মিসির আলির বাড়িওয়ালার ভাগ্নে ফতে। ফতে মানুষের মাথায় ঢুকতে পারে। সে মানুষ ভালো না। খুন করসে আগে অনেকবার। সে মিসির আলির সাথে বুদ্ধির খেলা খেলতে চায়। তার নতুন ভিক্টিম, ফতের মামার মেয়ে লুনাকে খুন করার পরিকল্পনা করে। কিন্তু মিসির আলি বুদ্ধি দিয়ে ফতেকে হারিয়ে দেয় এবং লুনাকে বাঁচিয়ে ফেলে।
ফতে প্রতিমা আর মিসি র আলির বাঘ বন্দি খেলা। শেয়ানে শেয়ানে লড়াই। ভাল মানুষ বনাম পিশাচের যুদ্ধ। ঢাকা শহরের ভাসমান মানুষের গল্প কৌশলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে কষ্ট পেয়েছি। বুড়িগঙ্গার বুকে স্থায়ী নৌকা ভাড়া করা যায় বাড়ি ভাড়ার মত জানতাম না।