'অক্টোপাসের চোখ' এ রয়েছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা কল্পবিজ্ঞান ধর্মী নয়টি ছোটগল্প ও একটি নভেলা। নভেলাটি বাদে সবগুলো গল্পে যে মিলটি রয়েছে তা হলো নতুনত্ব ও ভিন্ন ধরণের টুইস্ট।
টাইটুলার গল্প 'অক্টোপাসের চোখ' মানুষের প্রাকৃতিক বিবর্তনের পরিবর্তে জোর করে জিনোমে কৃত্রিম পরিবর্তন ঘটিয়ে পারফেক্ট স্পিশিস তৈরীর চেষ্টা ও তার ভয়াবহ ফলাফল নিয়ে লেখা।
'কাবিনের জীবনের এক দিন' লেখা অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে থাকা এক ডিসটোপিয়ায় সাধারণ জনতা ও স্বার্থবাদী কোম্পানির দ্বন্ধ নিয়ে।
'প্যারামন' একটি ছোট্ট যন্ত্র নিয়ে লেখা, যা মানবমস্তিষ্ককে আউটার নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করে। অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতার বিপদ কে এই গল্পে মেটাফোর হিসাবে দেখানো হয়েছে।
সিনাপ্সুঘুটিয়া একটি রম্য গল্প। অতি চালাকের গলায় দড়ি টাইপ।
এক্সপেরিমেন্ট একটা চেইন আকারের গল্প, মানুষের পারস্পরিক এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে। আর সাহস বইটির সবচে ছোট্ট গল্প। সাহস ক্রমশঃ বাড়তে থাকলে সাহসী ব্যক্তি সাহসের যোগানদাতার ওপরও সাহস দেখিয়ে ফেলে - তা নিয়ে লেখা।
জিনোম জীবন একমাত্র নভেলা। দূর ভবিষ্যতে ধনীদের ঘরে পারফেক্ট জিনোম ম্যানিপুলেশন দ্বারা তৈরী পৃথিবীর বারোটি অতিমাত্রার মেধাবী শিশু, আর এদের সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে পাহাড়-জঙ্গল-হ্রদে হেসেখেলে বেড়ে ওঠা এক গরিব ঘরের শিশুকে নিয়ে লেখা নভেলাটি। সে ভবিষ্যতে স্বাভাবিক ভাবে দশমাস গর্ভধারণের পর শিশু ভূমিষ্ট হয়না। চার মাসের মাথায় ভ্রূণটিকে বের করে কৃত্রিম ভাবে বড় করে তোলা হয়। টাকা থাকলে জন্মের আগেই জিনোম ম্যানিপুলেট করে আগত শিশুটির মেধা, ক্ষমতা, শারীরিক গঠন ঠিক করে ফেলা যায়। সেই ভবিষ্যতে ধনী গরিবের চরম বৈষম্য, গরিবের সন্তান ধারণ করার জন্য দিতে হয় বড় অংকের টাকা।
সেই ভবিষ্যতে দুই বিপরীতধারার শিশুদের মিলন নিয়ে লেখা নভেলাটি। মানুষ কাড়ি কাড়ি টাকা ঢাললেও, সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর প্রোগ্রামিং করলেও যে শিশুর চরিত্র, চিন্তাচেতনা নিজের মত কন্ট্রোল করা পসিবল না, বরং চারদেয়ালের বাইরে পরিবেশের সাথে মিলেমিশেই সে নিজের মানসিকতা চরিত্র গঠন করবে - এটাই নভেলার প্রতিপাদ্য।
আমার সবচে ভালো লেগেছে 'চাঁদ', 'মহাকাশযান টাইটুন' ও 'স্মৃতি'।গল্পগুলো ইউনিক।
উপগ্রহ চাঁদের সাথে এক মানুষের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নিয়ে লেখা চাঁদ। 'মহাকাশযান টাইটুন' ম্যাটার এন্টিম্যাটারের রিয়েকশন নিয়ে লেখা। আর 'স্মৃতি' লেখা এমন এক এলিয়েন কে নিয়ে, যে এক মানবমস্তিষ্ক থেকে আরেক মানবমস্তিষ্কে hopping করার মাধ্যমে বা নিজেকে ট্রান্সফার করার মাধ্যমে হাজার হাজার বছর ধরে বেঁচে আছে। সহজধারার এলিয়েনের কনসেপ্ট থেকে এটি অনেকটাই ভিন্ন। আমরা সবসময় ফিজিকাল দিকটা নিয়ে ভাবি, কিন্তু এলিয়েন যে ফিজিকাল না হয়ে একটি কনসেপ্ট, একটি থট হতে পারে তা আমরা ভাবিনা৷
খুব ভালো লাগলো। রেটিং ৪.৫/৫।