Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
ভালোবাসা এক অদ্ভুত জিনিষ। খুব খারাপ মানুষও কোনো না কোনো ভাবে ভালোবাসার দাবীদার হয়ে যায়, তারাও ভালোবাসা পেতে পারে, তারাও ভালোবাসা পায়। ভালো লাগার মানুষ আর ভালোবাসার মানুষ আলাদা। জগৎ সংসারে আমাদের অনেক মানুষকে ভালো লাগলেও আমরা দিন শেষে ভালোবাসার মানুষের কাছে যেতে চাই, ভালোবাসার মানুষের স্পর্শ পেতে চাই, ভালোবাসার মানুষকে নিজের খুব কাছে আগলে ধরে রাখতে চাই, ভালোবাসার মানুষের কাছেই বারবার ফিরে যাই। ভালোবাসার মানুষটাকে অপছন্দ করলেও, ভালো না লাগলেও আমরা তা চাই। হয়তো আমরা মানুষ বলেই এরকম চাই। বইয়ের কিছু লাইন ভালো লেগেছে। দেশটা ভর্তি বুদ্ধিমান গাধায়।
সম্মান যার আছে সে সম্মান যাওয়ার ভয় করে না, যার সম্মান নেই তার যত ভয়।
অবিশ্বাসী লোক যখন কাউকে বিশ্বাস করে তখন পুরোপুরি বিশ্বাস করে।
সন্দেহপ্রবণ লোকেরা সোজাসুজি কথায় সাধারণত একটু ঘাবড়ে যায়। কারণ এরা সারাজীবনেও সোজাসুজি কথা বলে না।
কলেজে পড়ুয়া সোমার পাড়ায় নতুন পরিবার এলো। বাড়ির কর্তা প্রফেসর সাহেব প্যারালাইজড স্ত্রীর পাশাপাশি সাথে করে আনলেন অনেক বই। বইয়ের নেশায় কাউকে পেলে তার আর রক্ষে নেই। রক্ষা সোমাও পেল না। প্রফেসরের বাড়িতে সোমার যাতায়াত বাড়লো, সাথে আলাপও, হয়তো সোমার অল্প বয়সী মনও আন্দোলিত হলো কিছুটা। কিন্তু এই যাতায়াত কালিমা লেপতে সময় নিলো না খুব বেশি, কাজেই মধ্যবিত্ত বাবা মা কোনোরকম একছেলের খোঁজ পেয়েই হাফ ছেড়ে বাঁচলো। সোমার স্বামী কামাল দেখা গেল পেশায় একজন আদর্শ বাটপার।
হুমায়ূন আহমেদ বোধহয় মধ্যবিত্তের গল্প বলেছেন সবচেয়ে বেশি। এটিও ঠিক তাই। মধ্যবিত্তেরর মধ্যবিত্ত দ্বৈরথের গল্প আর সম্পর্কের টানাপোড়েন! সম্পর্ক কী এক অদ্ভুত জিনিস। এই সম্পর্কের সুতো ধরতে গিয়ে আমাদের হাত কেটে যায়, এর উপর ভর করে হাঁটতে গিয়ে আমাদের পা কেটে যায়, তবুও কী মলম পট্টি করে আমরা ফের এই সুতো ধরে টানাটানি করি না? পথ চলা বন্ধ করে দিই? কোনো এক অবসন্ন সময়ে আমরা কি বলে উঠি না "pad gayi dil par mere apki parchhaiyan"?
প্রেম বিয়ে বিরহ সংসার সম্পর্ক ডেট সবকিছু চোখের পলকে নিমিষেই হতে পারে কিন্তু ভালোবাসা একদম সহজ না,বড্ড সরল একটা ব্যাপার কিন্তু হিসেব মিলিয়ে চলতে গেলে বড্ড বেশি গোলমেলে হয়ে যায়।
কখন যে কে মনের কোনে এসে ভালোলাগার জায়গাটাকে ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয় তা কে জানে!
যে পুরুষ এতো কষ্ট দিলো, সহজ সুন্দর, স্বাভাবিক একটা জীবনকে তছনছ করে দিলো, দিনশেষে, সন্ধ্যাবেলার এক অদ্ভুত, একাকী, বিষণ্ণ সময়ে সেই পুরুষের কাছেই মেয়েটাকে ফিরে যেতে হলো কেন?
মাঝেমাঝে এমন হয় না আমরা খুব সিদ্ধান্থীনতায় ভুগতে থাকি? আমাদের সবার মনে হতে থাকে ঠিক যে রাস্তায় আমরা চলেছি সেটাই ঠিক? মন আর মস্তিষ্কের আজব এক লড়াইয়ে হয়তো জয় হয় বেশিরভাগ সময় মস্তিষ্কেরই হয় কিন্তু বেঁচে থাকাটা তাতে সুন্দর হয়েও পরিপূর্ণ হয় কি? জগত সংসারে মায়ার অবস্থান ঠিক কোথায় আমি ঠিক বুঝতে পারি না। তবে মনে হতে থাকে মায়া আছে বলেই হয়তো পৃথিবী খুব বেশি সুন্দর, খুব বেশি আপন। যাবতীয় ম্যাটেরিয়েলিস্টিক ব্যাপার স্যাপার থেকে আত্মার পরিপূর্ণতা পাওয়াকেই সার্থকতা মনে হয়। অনেক আজেবাজে কথা বলে ফেললাম। দ্বৈরথ আমার খুব পছন্দের বই। অনেকদিন পেরিয়ে গেলেও আবার ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে এমন কিছু বই থাকে না? দ্বৈরথ আমার জন্য ঠিক সেরকম কিছু। হ্যাপী রিডিং! :)
স্যার এর লেখা নিয়ে আমার কিছু বলার নাই। আমি যতক্ষণ পড়ছিলাম আমি একটা ঘোর এর মধ্যে ছিলাম এবং মনে হচ্ছিল যেন আমি কোন মেয়ের ঘটনা সত্যি সত্যি চোখের সামনে সব কিছু দেখছি। এত প্রাঞ্জল ভাষা লেখা যেন মনে হচ্ছিল নিজের খুব কাছের গল্প।আর একটা জিনিস খেয়াল করলাম, উপন্যাসটা একটা চক্রের মত। সত্যি অসাধারন ছিল উপন্যাস এর চরিত্র গুলা ফুটিয়ে তোলা।এটা আমার প্রথম রিভিউ লেখা তাই তেমন ভালো ভাবে কিছু লিখতে পারলাম না জন্য দুঃখিত। আরো ভালো করে লেখা সম্ভব ছিল মনে হয়।
সোমা তার ভালোবাসার মানুষটার কাছে ফিরে যেতে পে��েছিলো, কিংবা কামাল ফিরে পেয়েছিল তার প্রিয় মানুষকে। কিন্তু আমরা যারা ফিরতে পারিনি, ফিরে পাব না, আমাদের কী হবে?
This entire review has been hidden because of spoilers.
সোমাদের পাড়ায় নতুন এক ভাড়াটিয়া এসেছেন। ফিলসফির অধ্যাপক, নাম আশরাফ। তার সাথে সাত বছরের ফুটফুটে মেয়ে এবং অসুস্থ স্ত্রী। ভদ্রলোক প্রথম দিনেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন, কারণ ভদ্রলোকের সঙ্গে এসেছে ট্রাকভর্তি বই। এতো বই কারোর থাকে? আশরাফ সাহেবের স্ত্রী এলেন অ্যাম্বুলেন্সে করে। এ-ও এক রহস্য!
এক দুপুরে সোমা অধ্যাপকের বাসায় গেল ভদ্রমহিলাকে দেখতে। উনার নাম অরুণা, প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় শোয়া। অল্প কথা বলেন। তাতেই তিনি হাঁপিয়ে ওঠেন। তারপর অধ্যাপকের সাথে পরিচয়। স্বাভাবিক ভাবেই অধ্যাপকের ঘর ভর্তি বই দিয়ে। অধ্যাপক সোমাকে গল্পের বই পড়তে দিলেন। এভাবেই নিয়মিত সোমা অধ্যাপকের বাসায় এসে বই নিয়ে যেতে থাকলো।
একদিন একটা ক্ষুদ্র এবং প্রায় তুচ্ছ ঘটনায় সব বদলে গেল।
সেই অনাকাংঙ্খিত ঘটনায় সোমাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়লেন সোমার বাবা-মা। সোমার মা সোমাকে টাঙ্গাইলে তার বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন। একটা চিঠি লিখেদেন, যে কোনো পাত্রের সাথেই যেন সোমাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়।
কয়েকদিন পর কামাল নামের এক ছেলের সাথে সোমার বিয়ে হয়ে যায়।
কামাল পেশায় একজন ধোঁকাবাজ! সে মানুষকে নানা সময়ে ধোঁকা দিয়ে তাদের টাকা-পয়সা নিয়ে সটকে পড়ে। এর জন্যে জেলও খেটেছে কয়েকবার। সোমা এই মানুষটার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না। যদিও একটা সময়ে সোমাকে বিয়ে করার কারণে এই মানুষটার প্রতি সোমা কৃতজ্ঞ ছিল। কিন্তু এখন আর সোমা পারছে না। সোমা কামালকে ডিভোর্স দিয়ে বাবার কাছে ফিরে আসে।
সোমার বাবা এমএলএফ ডাক্তার। খুব একট পসড়া নেই। অবস্থা পড়তির দিকে। তার উপর বাড়িতে সব সময় ঝগড়া লেগেই থাকে। উনার বড় ভাই ছদরুদ্দিন নিজের অংশের দুইতলা বিক্রি করে একমাসের জন্যে ছোট ভাই সাইফুদ্দিনের নিচতলার একটা অংশ নিয়েছিলেন। আজ দশবছরেও তিনি বাড়ি ছাড়ছেন না। এই হচ্ছে ঘটনা!
★ হুমায়ূন আহমেদের আর সকল বইয়ের মতো এই বইটাও ইন্টারেস্টিং একটা বই। একেবারে ছোট পরিসরের একটা গল্প। ছোট হলেও গল্পটি আমাদের পরিবারের নিত্য ঘটে যাওয়া গল্পেরই যেন এক প্রতিচ্ছবি। জীবন-যাপনে আমাদের মাঝেমাঝে এমন হয় না যে, আমরা অনেক সময় ক্ষুদ্র একটা বিষয়েও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে ফেলি? আমাদের মন হয়তো চায় একটা, কিন্তু পারিপার্শ্বিকতার চাপ কিংবা পরিস্থিতে আমরা বিকল্প সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। তাতে করে কি আমরা সুখী হই? হতে পারি?
দ্বৈরথ বইটিতেও এমন একটা ব্যাপার আছে। সোমা-কামালের দাম্পত্য জীবনের কাগুজে ছেদ ঘটলেও হৃদয়ের টান কি কোন কাগজ আটকে রাখতে পারে? কেন পারে না?
কেমন ছিল অধ্যাপকের সংসার? কী ঘটেছিল সেই দিন? ছদরুদ্দিন সাহেব কেন নিজের ছোট ভাইয়ের অংশটা দখল করে আছেন?
এ-সব কিছুর জবাব নিহিত আছে 'দ্বৈরথ' বইটিতে।
ব্যক্তিগতভাবে হুমায়ূন আহমেদের খুব কম বই আছে যেগুলো আমার অপছন্দ। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই পছন্দের বইয়ের তালিকাটা দীর্ঘ। সেই তালিকায় পছন্দের একটা বই হচ্ছে— দ্বৈরথ। আপনাদেরও খারাপ লাগবে না বলে বিশ্বাস করি।
আশ্চর্য কথা, আমি বড় হয়ে গেছি! এই বই আর কয়েকটা বছর আগে পড়লেই তো কেঁদেকেটে পরের দু'দিন উদাস থাকতাম।
এখনও যে একেবারেই মনটা ভেজেনি, তা না! তবে এখন কেমন যেন অনেক কিছু অন্যরকম করে ধবা দেয় চোখে। যেমন, ইদানিং পরিষ্কার বুঝতে পারি নিজের বাসা, ঘরদোর, পোষা প্রাণীটা, বারান্দার গাছটা কতো দামী। কী পরিমান মানসিক শান্তি মেলে পর্দার রঙের সাথে পাপোশ মিলাতে পারলে। ওই যে, সোমার বসার ঘরে যেমন চারটা বেতের চেয়ার, টি টেবিলে ধবধবে সাদা টেবিলক্লোথ আর তার উপর রাখা লাল পিরিচে সবুজ পান.... কী ভালোবেসে এসব গুছানো, তাইনা?
সোমার টুক করে ডিভোর্স না দিয়ে ফেলে উচিত ছিলো কিছুদিনের জন্য বাবার বাড়ি থেকে ঘুরে আসা। যা অশান্তির ওই বাড়ি!! ছোট ভাইয়ের পাকনামি, বাবা-চাচাদের সম্পত্তির ঝামেলা, তিরিক্ষি মেজাজের মা, অভাব... আহ্! এমনিই ফিরে যেতে ইচ্ছা হতো নিজের রাজ্যে। ভালোবাসা তো সেখানেই মেলে যেখানে শান্তি মেলে।
এতোসব কেয়সের মধ্যে আবার কিছুদিন থাকলে সোমার মনে হতো বরের বেশি বয়স, বিকট শব্দে গার্গল আর কথায় কথায় শালা বলা নন-অ্যাস্থেটিক আচরণ আসলে ততটাও অসহ্যকর না! তবে প্রফেসর সাহেব ঠিক বলেছেন, সোমা তো কখনো কামাল সাহেবকে পরিবর্তনের চেষ্টাও করেনি। কামাল সাহেবের যে পরিমান উপস্থিত বুদ্ধি! তাকে সুপথে আনতে পারলে দুজনে বেশ ডাল-ভাতে কাটিয়ে দিতে পারতো জীবনটা। এখন হয়তো দিবেও❤️ বেচারা ঊর্মিরও কোন গতি করা উচিত ছিলো!!
কিন্তু কথা হচ্ছে কী উচিত ছিলো না ছিলো তা আমি যতই বলি, গল্প তো লেখা হয়েই গেছে! গল্পটা অনেক সুন্দর... হুমায়ূন আহমেদের বেশীরভাগ গল্পেরই শেষটা আনন্দের হয়না। খুব অল্প কিছু গল্পের শেষটা আনন্দের হয়। এটা সেই অল্প কিছু গল্পের একটা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
সবকিছুই আজকাল যেন খুব দ্রুত ঘটে—একটা পরিচয়, কিছু কথোপকথন, কয়েকটা স্মৃতির আদান-প্রদান… তারপরই প্রেম, সম্পর্ক, বিয়ে কিংবা বিচ্ছেদ। সব কিছুই যেন এক ঝটকায়। কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসা—সে ঠিক এতটা তাড়াহুড়োয় ধরা দেয় না। সে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, ঠিক যেন কোনো পুরোনো গানের সুর, যা প্রথমে কানে বাজে না, কিন্তু একসময় মনের গভীরে জায়গা করে নেয়।
ভালোবাসা বড় অদ্ভুত। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই সে এসে পড়ে জীবনে। কখন, কিভাবে, কে মন ছুঁয়ে যায়—তা নিজেই টের পাওয়া যায় না। হয়তো কাউকে একদিন ভালো লাগতে শুরু করে, আর সেই ভালো লাগার মধ্যেই নিঃশব্দে গেঁথে যায় ভালোবাসার শিকড়। কখনও এমন মানুষকেও আমরা ভালোবেসে ফেলি, যার জন্য হয়তো কেউ ভালোবাসার দাবিও তুলত না। কিন্তু তবুও, ভালোবাসা কোনো নিয়ম মানে না। সে চলাফেরা করে নিজের ইচ্ছেমতো।
এই জগতে অনেকেই ভালো লাগে—কথাবার্তায়, আচরণে, রুচিতে। কিন্তু যাকে সত্যি ভালোবাসা যায়, তার টানটা ভিন্ন। তার সান্নিধ্যে মনে হয়, এটাই বুঝি ঘর, এই মানুষটিই আশ্রয়। অনেককিছুতেই মিল না হলেও, বহু অভিমান থাকলেও, সেই মানুষটার পাশে থাকতে ইচ্ছা করে। এমনকি ভালো না লাগার মধ্যেও ভালোবাসার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়।
আমরা মানুষ বলেই হয়তো এমন। যুক্তি দিয়ে নয়, মন দিয়ে বেছে নিই আমাদের আপনজনকে। আর সে যেই হোক না কেন, তার বুকেই মাথা রেখে শান্তি খুঁজি। অনেককিছু ছাপিয়ে, অনেক ভুল বুঝি নিয়েও, আমরা তাকে আঁকড়ে ধরতে চাই—কারণ সে-ই একমাত্র মানুষ, যার ভালোবাসা ছাড়া পৃথিবীটা বড় ফাঁকা লাগে।
দ্বৈরথ শব্দটার মানে দেখছিলাম। দেখলাম এর ইংরেজি প্রতিশব্দ duel. বাংলায় বলা যায় দুই পক্ষের সরাসরি লড়াই। তবে সব সংঘর্ষ দৃশ্যমান হয় না, কারন কিছু দ্বৈরথ মানুষ ধারণ করে নিজের ভিতরে, জেনে বা না জেনে।
কোন গল্পের হিরো বা ভিলেন আসলে ভিন্ন কোন কেউ না। আমাদের মধ্যেই তাদের অবস্থান, আমাদের প্রত্যেকের পূর্ন সম্ভাবনা আছে নিজেকে হিরো বানানোর অথবা ভিলেন বানানোর। এটাই আসলে মানুষের মনের দ্বৈরথ।
মানুষের মন কখনোই সরল কোন বস্তু না। মানুষের ভালো-খারাপও তাই অনেকক্ষেত্রে আপেক্ষিক। এই গল্পে মানুষের মনের সেই দ্বৈরথই খুজে পেতে চেয়েছেন হুমায়ুন আহমেদ।
কামালের উপার্জনের পদ্ধতিটা হয়ত উৎকৃষ্ট কিছু না, কিন্তু তার উদ্দেশ্য নিসন্দেহে মহৎ। আবার তার আচার-আচরণ হয়ত অনেক রাফ এন্ড টাফ, কিন্তু সেও সন্ধ্যার মন খারাপ করা সময় টুকুতে প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষায় থাকে। বিজুর উদ্ধত চালচলনের মধ্যেও কোমলতা ঠিকরে বের হতে চায়। সোমা কামালকে প্রকৃতপক্ষেই ঘৃণা করলেও কোথাও কি একটু ভালোবাসার স্পর্শ থেকে যায়।
মানুষ তাই কখনোই সমান্তরাল না, কোথাও সে ভালো, কোথাও বা খারাপ; এটাই কি সেই দ্বৈরথ?
পুনশ্চ: প্রফেসরের ঘটনা আসলে আমাদের সামাজিক অবস্থার বহিপ্রকাশ। একটা সামান্য ঘটনায় সমাজ কিভাবে মানুষের জীবন তছনছ করে দিতে পারে তার একটা উদাহরণ। মানুষ না বুঝেই ঠিক কতটা হিংস্র আচরণ করতে পারে তা হয়ত সে নিজেও উপলব্ধি করে না!
ভালোবাসা অদ্ভুত একটি জিনিস। যেকোন সময় যেকোন মানুষের মধ্যে ভালোবাসা নামক জিনিসটা জায়গা করে নিতে পারে।
হুমায়ূন আহমেদের খুব কম বই থাকে যেগুলোর সমাপ্তি নিয়ে আমার অভিযোগ ছিল। কিন্তু এই বইটার সমাপ্তি নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। বইটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চমৎকার একটি সময় কাটিয়েছি। হুমায়ূন আহমেদ স্যার শেষটা এরকম দিবে ধারণা ছিল না।
কিছু কিছু সময় আমরা খুব সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলো তখন পার হয়। মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে কোন কিছু ভাল লাগে না। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হয় কোন একটা সাধারণ ঘটনা যা থেকে প্রেরণা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়৷ হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'দ্বৈরথ' উপন্যাসটিতে এমন একটি পরিস্থিতিকে উপজীব্য করা হয়েছে।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সোমা। কলেজে পড়া অবস্থায় এক প্রফেসরের কাছ থেকে বই নিতে যেয়ে এক অনভিপ্রেত ঘটনার মুখোমুখি হয় সে। এই ঘটনার কারণে তড়িঘড়ি করে কামালের সাথে তার বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু কামাল একজন বাটপার এবং এ কারণে তাকে জেলও খাটতে হয়। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে সোমা কামালের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে বাবার বাসায় চলে আসে। সেখানে এসে সে নানান পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। এভাবে উপন্যাসের কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে।
হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে বড় গুণ হল তিনি পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন। 'দ্বৈরথ' উপন্যাসের এক পর্যায়ে তিনি লিখেছেন, "আফিং-এর নেশার চেয়েও কড়া নেশা হচ্ছে বইয়ের নেশা। আফিং-এর নেশা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় কিন্তু বইয়ের নেশা থেকে কোন মুক্তি নেই।" বাংলাদেশের বইপড়ুয়াদের একটা বড় অংশের মাঝে বইয়ের নেশা ধরিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং হুমায়ূন নিজে।
'দ্বৈরথ' উপন্যাসটি মাত্র ৮৬ পৃষ্ঠার। এক বসাতে শেষ করে ফেলা যায়। আকারে ছোট হলেও নাটকীয়তায় ভরপুর উপন্যাসটি। সোমা, কামাল, বিজু প্রতিটি চরিত্র রহস্যময়। যার যেটা করার কথা না, ঔপন্যাসিক যেন তাকে দিয়ে সে কাজটাই করিয়েছেন৷ প্রফেসর চরিত্রটির জন্য ভালোলাগা ও শ্রদ্ধা কাজ করেছে। সবমিলিয়ে সুখপাঠ্য একটি উপন্যাস। হুমায়ূন ভক্তরা পড়ে দেখতে পারেন।
ইলিশ মাছ কখনো আমার পছন্দের খাবার ছিল না। জীবনে কখনো খেয়েও দেখিনি। কিন্তু এবার কেন জানি ইলিশ মাছ ছাড়া ভাত হজমই হচ্ছেনা। খাওয়ার সময় গলায় কাঁটা আটকায়,তবুও কেন জানি গিলে ফেলি কাঁটাটা
দুই মেরুর মধ্যে সবসময় শুধু বিকর্ষণই হয় না, ক্ষেত্রবিশেষে আকর্ষণও হতে পারে। খুব খারাপ মানুষও কোনো না কোনো ভাবে ভালোবাসার দাবীদার হয়ে যায়, তারাও ভালোবাসা পেতে পারে, তারাও ভালোবাসা পায়। তবে ভালো লাগার মানুষ আর ভালোবাসার মানুষ আলাদা হয়।কেউ যদি জিজ্ঞেস করে হুমায়ুন আহমেদ কেমন লেখক? তাহলে তাকে উনার লেখা দ্বৈরথ উপন্যাসটা পড়ার পরামর্শ দিব। হুমায়ুন আহমেদ তার অন্য সব বইয়ে যেমন লিখে থাকেন , হোক সেটা এলেবেলের মতো হাসির কিংবা কৃষ্ণপক্ষের মতো রোমান্টিক যাই বলেন না কেন দ্বৈরথ এ সবই বিদ্যমান।উপন্যাসের কাহিনিটা খুবই সাধারণ , উপন্যাসের মূল চরিত্র সোমা। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাদেরই এক প্রতিবেশী প্রফেসরের সাথে তার নামে বদনামে ছড়িয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে বিয়ে করে কামাল নামের এক মামদোবাজ লোকের সাথে। তার সাথে সোমার সংসারের অবস্থা কোন রকমে চলে যেত কিন্তু এক পর্যায়ে সোমা কামাল কে ডিভোর্স দিয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে আসে। কিন্তু সেখানেও থাকা নানা ধরনের পারিবারিক ঝামেলা। শেষদিকে সোমা বুঝতে পারে যে কামাল লোকটা যতই খারাপ হোক সোমা এখনো তাকে তীব্রভাবেই ভালবাসে।
📌একটা ভুলও চোখে পড়েছে , সেটা হচ্ছে , উপন্যাসের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা আছে যে , "চোখটাও ভালো যন্ত্রণা দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পর পানি পড়ছে। রুমালটাও সঙ্গে আনা হয়নি''। (কামাল বলছে মনে মনে) দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় বলা আছে , ''কামাল গম্ভীর হয়ে রইল। লাচ্ছি চলে এসেছে , সে বিনা বাক্য বায়ে একটানে লাচ্ছি শেষ করে রুমাল দিয়ে মুখ মুছে বললো , উঠি তাহলে ভাইসাব''।
প্রথমে বলা হলো সে রুমাল আনেনি , পরেই রুমাল দিয়ে মুখ মুছলো। কেমনে কি ভাই?
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসগুলোতে সচারাচর এন্ডিং থাকে না। এটাতে দিয়েছেন। পাঠক পড়ে হতাশ হবেন না। উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্তই বিভিন্ন হাসির কথাবার্তা এবং কিছু সফট গালিও ছিল।
হুমায়ূন আহমেদের সব উপন্যাসেই দেশ নিয়ে , সমাজ নিয়ে ফিলোসফিক্যাল কিছু কথাবার্তা থাকে। এটাতেও আছে।তার মধ্যে কিছু নিম্নে তুলে দেওয়া হল।
📎দেশটা ভর্তি বুদ্ধিমান গাধায়।
📎সম্মান যার আছে সে সম্মান যাওয়ার ভয় করে না, যার সম্মান নেই তার যত ভয়।
📎অবিশ্বাসী লোক যখন কাউকে বিশ্বাস করে তখন পুরোপুরি বিশ্বাস করে।
📎সন্দেহপ্রবণ লোকেরা সোজাসুজি কথায় সাধারণত একটু ঘাবড়ে যায়। কারণ এরা সারাজীবনেও সোজাসুজি কথা ব���ে না।
আকারে ছোট হলেও উপন্যাসের গল্পের বুনন এবং বর্ণনাভঙ্গি অসাধারণ। যথারীতি হুমায়ূন আহমেদে তার লেখার গভীরতা দেখিয়েছেন 'দ্বৈরথ' উপন্যাসে। শেষ পর্যায়ে গল্পের মোড় চমৎকার ছিল।
কোন কারণ পাইলাম না উপন্যাসটা লিখার। এক টানে পড়ে ফেললাম। বিষন্ন একটা গল্প। ভালবাসার কাছে বাস্তবাতার পরাজয় বলেই মনে হল। বরাবরই হুমায়ুন আহমেদ মধ্যবিত্ত সমাজ নিয়ে লিখে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এটিও তার ব্যতিক্রম নয়। টাইমপাস করতে চাইলে পড়তে পারেন।
দ্বৈরথ হুমায়ূন আহমেদের সেরা উপন্যাস গুলোর একটি। এত সুন্দর সাজানো গোছানো বিশেষ করে এর শেষ অংশ অসম্ভব সুন্দর। সোমা, কামালউদ্দিন, ছদুরদ্দিন চাচার গল্প হলো দ্বৈরথ। আমাদের প্রতেকের ভেতরেই লুকোনো আছে ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা প্রকাশ পাওয়ার গল্পই হুমায়ুন আহমেদ আমাদের জানিয়ে যান দ্বৈরথে।
গল্প-উপন্যাসে এমন সমাপ্তি ভালো লাগে। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এমন বাজে মানুষগুলোকে দ্বিতীয় সুযোগ দিলে ভালো মানুষগুলোর জন্য কোন ভালো ফলাফল বয়ে আসে না। বরং তার উল্টোই হয়।