শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ—এই তিন কবির কবিতার মাঝে আমি কিছুটা সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছি৷ উনাদের কবিতা সরল, বিরহ আর মাধুর্যপূর্ণ। আমার নিঃসঙ্গ, নিঃস্ব, আর বিরহে পরিপূর্ণ উত্তপ্ত মনের মধ্যে মধুর সঞ্চার করে কবিতা। তাই আমি কবিতা হয়ে কবিতাকে ভালবাসি; যেমন ভালবাসি পরিবারকে।
.......................
যদি পারো দুঃখ দাও, আমি দুঃখ পেতে ভালবাসি
দাও দুঃখ, দুঃখ দাও--আমি দুঃখ পেতে ভালবাসি।
ভালবাসি ফুলে কাঁটা, ভালবাসি ভুলে মনস্তাপ--
ভালবাসি শুধু কূলে বসে থাকা পাথরের মতো
নদীতে অনেক জল, ভালবাসা, নম্র নীল জল--
ভয় করে।।
কিংবা,
ভাঙারও নিজস্ব এক ছন্দ আছে, রীতি-প্রথা আছে,
এবড়োখেবড়োভাবে ভাঙলে, ভাঙার বিজ্ঞান, থুতু দেবে
গায়ে আর লোকে বলবে, একেই তছনছ করা বলে।
অশিক্ষাও বলে কেউ, বলে, মূর্খ, ভাঙা শিখতে হয়--
অপরূপভাবে ভাঙা, গড়ার চেয়েও মূল্যবান
কখনো-সখনো!
কিংবা,
মানুষের মধ্যে নেই মিলেমিশে থাকার সভ্যতা
জন্তুদের মধ্যে আছে মিলেমিশে থাকার সভ্যতা।
কিংবা,
বুড়িয়ে পাখির মতো টুকরো টুকরো করে হবে বনভোজন
কোনদিন মনে হয়।
যা হয় তা হোক
কিন্তু, তুমি ভাল থেকো
তুমি ভাল থেকো।।
কিংবা,
অনুযোগ অভিযোগ মানুষে মানুষে শুধু করে।
দেবতা পাথর, জন্মউদাসীন, নির্বাচনপ্রিয়-
সকলের সব কথা শুনতে গেলে মর্যাদা থাকে না।
যেমন, কবিকে, মাঝেমধ্যে বড় নিষ্টুরতা টানে?
কিংবা,
অসুখ এক উদাসীনতা, অথচ সামাজিক
লোকটা কিছু রহস্যময়, লোকটা কিছু কালো
নিজের ভাল করেনি, তাই অন্যে ক'রে ভাল
সংসারে সন্ন্যাসী লোকটা কিছুটা নির্ভীকই।
কিংবা,
পেছনের লোকটির চোখে
একটা-আধটা উদাহরণ পাততেই হবে
সাফল্যের, সংঘর্ষের, জয়ের
নাহলে তুমি আর মানুষ কেন?
লজ্জাবতী লতা হলেও পারতে।
(২০ জুন, ২০২৩)