তাহেরের বিদেশিনী স্ত্রী লিলিয়ান অবাক হয়ে চারদিকে তাকাচ্ছে। তাহের বলল, লিলি!এই দেখ এই ঘরটার নাম আয়নাঘর। জানালাবিহীন ছোট্ট একটা কামরা, যার দেয়াল জুড়ে প্রকান্ড সব আয়না।তাহের বলল, আমার পূর্বপুরুষদের রূপবতী তরুণী বধূরা দরজা বন্ধ করে এই ঘরে সাজ করতো। ‘যারা রূপবতী নয় তারা কি করতো?’ ‘আমি কথার কথা বললাম! যারা রূপবতী নয় তারাও নিশ্চয়ই যেত।’ ’ঘরটাতো অন্ধকার। জানালা নেই। দরজা বন্ধ করলে আলো আসবে না।’ ‘এই ঘরে ঢুকতে হোত প্রদীপ নিয়ে। চারদিকে আয়ানাতো প্রদীপ জ্বাললেই অন্যরকম এফেক্ট হয়। তুমি মোমবাতী জ্বালাও, দেখ কেমন লাগে।’ ‘তুমি অন্যঘরে যাও। আমি একা একা মোমবাতী জ্বালাব।’ তাহের চলে গেল। লিলিয়ান দরজা বন্ধ করে, মোমবাতী জ্বারাল। সঙ্গে সঙ্গে ঘরটা যে বদলে গেল। লিলিয়ানের মনে হল। আয়নার ভেতর থেকে কে যেন তাকে দেখছে। অবাক হয়ে দেখেছে!
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
একটা বই পড়ার পর বই এবং পাঠকভেদে পাঠ্যানুভূতি হয় একেকরকম। কখনও কেউ মুখ টিপে হাসে, কেউ উচ্চস্বরে, কেউ ভ্যা ভ্যা করে কাঁদে কিংবা কেউ আবডালে নোনা অণু বিসর্জন দেয়। এই বই পড়ার পরে কার কেমন অনুভূতি হয়েছিল বলতে পারি না কিন্তু আমি যে অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়েছিলাম, এখন পর্যন্ত অন্য কোনো বই তা দিতে পারে নি। আপনাতেই মনে মনে বলে ফেলেছিলাম লিলিয়ান আর তাহের যেন খুব ভালো থাকে (যেন রক্ত মাংসের মানুষ!)😅 ওয়েল! গতকাল এক বান্ধবীর ছবি দেখে প্রথমবারের মতো এমন হল! খুব চেনা চেনা লাগলো। কোন বইতে দেখেছি যেন!? মনে পড়লো- লিলিয়ান! কিন্তু কালো চোখের।
~২৩ মে, ২০২১
আমেরিকা ও বাংলাদেশের পটভূমিতে রচিত বই আয়নাঘর। বাংলাদেশের ছেলে তাহের আমেরিকায় যায় ডাক্তারি নিয়ে পড়তে। পরবর্তীতে সে চোখের ডাক্তার হয়। সেখানে গিয়ে তাহের বিয়ে করে লিলিয়ান নামের এক বিদেশিনীকে। আর ওদের বিয়েটা যেভাবে হয় তা শুধুমাত্র হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের কাহিনীতেই সম্ভব।
বইটির ভূমিকাতে আছে কবি নির্মলেন্দু গুণের কয়েকটি লাইন-
"এত যে আমি ওখানে যাই ওখানে পাই কাছে; ওখানে তার পায়ের কিছু চিহ্ন পড়ে আছে।"
ভাল লেগেছে লিলিয়ান আর তাহেরকে। চমৎকার লেগেছে আয়নাঘর :)
রোমান্টিক হরর ফিকশন আয়নাঘর। উপন্যাসের অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনা আমার জীবনের সাথে অদ্ভুতভাবে মিলে গেল। যাইহোক, অসাধারন এই উপন্যাসটির পটভূমি আমেরিকা ও বাংলাদেশ। দুই ভিন্ন দেশের ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের চমৎকারভাবে কাছে আসার সুন্দরতম মুর্হুতগুলো পড়ার সময় দারুন একটা অনুভূতি হয়। মনে হয় ভালোবাসাই যেনো সবকিছু, ভালোবাসাই সার্বজনীন। পাঠককে শুরুতেই আকৃষ্ট করবে এই উপন্যাস ১০০%।তবে লিলিয়ানার প্রতিটা কথার ভঙ্গি, তাহেরের প্রতি তার ভালোবাসা অসাধারণ লেগেছে বলতেই হবে ।
অনেকদিন পর প্রিয় লেখকের এই বইটাতে হ্যাপি এন্ডিং পেলাম। একসময় মনে হয়েছিল আরও একটা অসমাপ্ত ট্র্যাজেডি ঘটতে চলেছে বইটার শেষে। কিন্তু না, ভুল প্রমাণিত হলাম বলে খুশি। শুরুতে প্রেম, খুনসুটি, এরপর সাইকোলজিক্যাল আর শেষে অতিপ্রাকৃতের মিশেলে সুন্দর একটা গল্প আয়নাঘর। বইটার কথা মনে থাকবে অনেকদিন।
এই গল্পটা আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছিল। শুরুটা খুবই সাদামাটা। তাহের আমেরিকায় পিএইচডি করতে গিয়ে লিলিয়ানের সাথে পরিচিত হয়। পরিচয়ের শুরুতে লিলিয়ান তাহেরকে একদমই পছন্দ করে না। কিন্তু আস্তে আস্তে তাদের প্রেম হয়। গল্পের এ জায়গাটা খুবই মজার। তারপরে লিলিয়ান তাহেরকে অসম্ভব ভালবেসে বিয়ে করে। ভালই যাচ্ছিল দুজনের সংসার। কিন্তু হঠাৎ একদিন তাহের তার পরিবার নিয়ে দেশে ফিরে আসে। নিজের গ্রামের বাড়িতে। সুন্দর গ্রামটা লিলিয়ানের খুব পছন্দ হয়। কিন্তু তাদের এই সুখী পরিবারের উপর মানুষরুপী পশুর অশুভ নজর পরে যায়। ভয়ংকর বিপদে পরে যায় লিলিয়ান আর তাহের। এদেরকে কে রক্ষা করবে? আর এই অস্তিত্বহীন কণ্ঠস্বরের মালিক কে??
উদ্ভট স্বপ্ন ধীরে ধীরে দুঃস্বপ্ন হয়ে যায়। স্বপ্নের ছেলেটিকে পেলেই মুক্তি মিলবে। তারপর? কয়েকদিনের মধ্যেই তাহেরের সাথে লিলিয়ানের বিয়ে হয়ে যায়। সুদূর আমেরিকা থেকে জঙ্গলে ঘেরা বাগানবাড়িতে বেড়াতে এসে পড়ে যায় বিপদে। আয়নাঘর থেকে কে যেন বলছে, ভয় পেয়ো না আমি আছি!
রহস্য, খুনসুটি, অতিপ্রাকৃতের মিশেলে সুন্দর পিচ্চি একটা উপন্যাস। প্রকৃতির বর্ণনার অংশটা দারুণ লেগেছে। পনেরো বছর পরের অংশটা ❝সৌন্দর্য❞।
২০২৫ সালে হুমায়ুন আহমেদ এর প্রথম বই পড়া হলো 'আয়নাঘর' বইটার জনরা দেখেই নিয়ে নেই অনেক আগে, তারপর আর পড়া হয়নি। গতকাল রাতে নিয়ে বসলাম আর এক বসাতেই পড়ে শেষ করলাম। ভেবেছিলাম হুমায়ুন আহমেদ এর আর বইয়ের মত হবে কিন্তু আমাকে ভুল প্রমাণিত করে দিলো এবং শেষটা অনেক সুন্দর ছিলো.... পড়ে দেখতে পারেন অতিপ্রাকৃত ও হরর জনরার বই, নিরাশ করবে নাহ।
হুমায়ূন আহমেদের লেখা বই মানে এক বসাতে শেষ করার বই। দারুণ লেগেছে। আরেকটা আনন্দের আখ্যানের বই আয়নাঘর। ভালোলাগা, ভালোবাসা,ভ্রমণ, মনস্তত্ত্ব ও অতিপ্রাকৃতের মিশেল এই দারুণ বইটি।
আজ ক্লাসে বসে রাফি আর খুশির সাথে এইটা ওইটা নিয়ে কথা বলতে বলতে এই বইয়ের কথা বললাম আমিই! কিন্তু আমি এই বই এত আগে পড়ছিলাম যে, অনেক কিছুই ঠিকঠাক মনে ছিলোনা! শুধু আয়নাঘর এর মূল ব্যাপারটা মাথার মধ্যে ছিলো। আবার পড়তে গিয়ে ঐ একটু একটু ভয় যে পাইছিলাম প্রথমবার; সেইটা মনে হয় আবার অনুভব করলাম। সুন্দর বই; হুমায়ূন আহমেদ এর এই এক দমে পড়ে ফেলা যায় এরকম বইগুলার মধ্যে একরম মজা আছে।
ভূমিকার শেষে এই কবিতাটা আছে বইতে, ভালো লাগছে,
"এত যে আমি ওখানে যাই ওখানে পাই কাছে; ওখানে তার পায়ের কিছু চিহ্ন পড়ে আছে।"
Lily and Taher, Love at first sight, a tour in Bangladesh's creepiest town, a gothic mansion, a room full of gigantic mirrors and candles and no windows and a scary beautiful women who wears bangles made of glass and might or might not have died hundreds of years ago and lastly, midnights. There you go. You have the perfect Humayun Ahmed book recipe.
The best way to celebrate your birthday is to read your favourite creepy book along with a nearly perfect train journey. And this couldn’t be more perfect than this.
হুমায়ূনের জাদুকরি, কাব্যিক ভাষায় লেখা এই অদ্ভুত ও অলৌকিক আখ্যান একটা ভয়মিশ্রিত কষ্টের জন্ম দেয়। যে পাঠক এই লেখা পড়েছেন, তিনি নিজেও সম্ভবত মনে-মনে পৌঁছে যাবেন ওই আয়নাঘরে— যেখানে তাঁর মনে হবে, কে যেন তাঁকে দেখছে! আর ভাগ্য ভালো হলে (নাকি খারাপ?) তিনি ওখানেই থেকে যাবেন— বরাবরের জন্য। না পড়ে থাকলে অবশ্যই পড়ুন। এ শুধু লেখা নয়, এ হল মেঘের ছায়া, অলস মায়া... আরও অনেক কিছু।
এই বইটা আমি কিনেছিলাম খুলনার ফেরিঘাট থেকে, পুরাতন বইয়ের স্তূপ ঘেটে। বইটার নাম আমাকে খুব আকর্ষণ করেছিল। "আয়নাঘর"। সত্যি বলতে পড়া শুরু করার আগে আমি ভেবেছিলাম বইটা হয়ত হুমায়ূন স্যারের ক্লাসিক বইগুলার মতন, পারিবারিক ঘরনার হবে। কিন্তু শুরুটা হয় তাহেরের মতন extrovert একটা মানুষের বিদেশের মাটিতে ভদ্র ইভটিজিং এর মাধ্যমে, এবং বিদেশিনী মেয়েটা হচ্ছে লিলিয়ান! যার আচার-আচরণ আমার কাছে শুরু থেকেই অদ্ভুত লাগছিল। এরপর তার আচমকা থামকো কিছু ডিসিশন নেওয়া, তার পরিবারের মতের অমতে যাওয়া সবটা পড়তে ভিষণ বিরক্ত লাগছিল, আমি বিরক্তি কমাতে বইয়ের মাঝেই টুকিটাকি frustration লিখে রাখছিলাম। মনে হচ্ছিল, বইটা কিনে কি ভুল করলাম! কি ভেবে কিনেছিলাম আর কোন দিকে এগোচ্ছে, সত্যি বলতে দারুণ অসহ্য লাগছিল। এর���র লিলিয়ানের বাংলাদেশ ভ্রমণ! এবং তারপর গল্পের প্লট পরিবর্তন হতে থাকে, একটু অতিপ্রাকৃত জনারায় মুভ অন করে, এবং উপসংহারটাও অতিপ্রাকৃতের মাঝেই সম্পন্ন করেন লেখক। তবে সত্যি বলতে আহামরি খুব ভাল লাগে নাই। সেভাবে গল্পটা আমাকে স্পর্শ করতে পারে নাই। 🤦♂️
তাহের আর লিলিয়ানের পরিচয় আমেরিকায়।পরিচয় পর্ব থেকে প্রণয় আর পরিণয় সবই স্যারের বইয়ের নিয়ম অনুযায়ী যুক্তিহীন পরম্পরায় সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের পর লিলিয়ানের আগ্রহে তাহের তাদের এই পুরনো গা ছমছমে বাড়িতে হাজির হয়। এই বাড়িতে একটি ঘর আছে, আয়নাঘর। তাহেরের দাদার বাবা এটি তার স্ত্রীর জন্য তৈরি করেছিলেন। বাড়ির দেখাশোনা এখন করে তাহেরের চাচা। তিনি যথেষ্ট কুটবুদ্ধি সম্পন্ন তা প্রথমেই বোঝা যায়।
আয়নাঘরের রহস্য আর এই কুটিলতা ভেদ করতে বইটি পড়তে হবে। ছোট্ট একটি বই, এক বসায় শেষ করতে পারবেন। বইটিতে 'দেবী' উপন্যাসের ছায়া আছে। অনেক অসংলগ্নতা হয়তো চোখে পড়বে। কিন্তু, পুরনো বাড়িতে পা দেওয়া থেকে বাকি অংশ একদম গা ছমছমে। বিশেষ করে, গ্রাম আর গ্রামের মানুষ মানেই যে সহজ সরল না; তা স্যারের অন্যান্য বইয়ের মতো এখানেও খুঁজে পাবেন।
লিলি! এই দেখ এই ঘরটার নাম আয়নাঘর। জানলাবিহীন ছোট্ট একটা কামরা, যার দেয়াল জুড়ে প্রকান্ড সব আয়না। তাহের বলল, আমার পূর্বপুরুষদের রূপবতী তরুণী বধূরা দরজা বন্ধ করে এই ঘরে সাজ করতো। 'যারা রূপবতী নয় তারা কি করতো?'
একেক বই পড়ার পর একেক রকম অনুভূতি হয়। 'আয়নাঘর' পড়ার সময় আমার নিজেকে লিলিয়ান মনে হয়েছে। লিলিয়ানের মতো আমিও মাঝেমধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখি। যাই হোক, আমার তাহেরের মতো কেউ নেই। তাহের জোস একটা মানুষ! তাহের লিলিয়ান দু'জনকেই ভাল্লাগছে🖤
কিছু গল্প থাকে না যার কাহিনী এগিয়ে যায় এভাবে যে একটা মেয়ে এবং একটা ছেলে, ওদের দেখা হয়, প্রেম হয়, তারপর বাধা আসে, তারা সেই বাধা অতিক্রম করে সুখে শান্তিতে বসবাস করে। আমার মনে হয় হুমায়ূন আহমেদ এই কাহিনী মাথায় রেখেই আয়নাঘর লিখেছিলেন। এই ধরণের গল্প সাধারণত আমার পছন্দ না। কিন্তু এই বইটা আমার প্রিয় বইগুলোর অন্যতম কারণ এই সাধারণ কাহিনীও হুমায়ূন আহমেদ অনন্য করে লিখেছেন। কিছুটা অলৌকিকতার ছোঁয়া, তার সেই সবসময়ের রোমান্টিকতা আর শেষে পরিপূর্ণ সুন্দর একটি সমাপ্তি যা হয়ত হুমায়ূন আহমেদ এর বই থেকে আমি একটু কমই আশা করি।
খুবই পছন্দের উপন্যাস এটা। গল্পের শুরুতে বুঝতে পারিনি শেষটায় এমন কোন চমক থাকবে। লেখক সাহেব আমার কল্পনার জগতে আয়না ঘরের প্রতিচ্ছবিটা ঠিকঠাক দাঁড় করিয়েছেন একদম। চোখ বন্ধ করলেই সে ঘরটা আমি দেখতে পাই মনে, হয় লিলির মতো আমিও হেমন্তের মন কেমন করা বাতাসে ঐ ঘরে চুল খুলে বসে আছি। কিন্তু আয়না ঘরে তো কোন জানালা নেই তাহলে এতো মন উদাসী বাতাস আসে কোথা থেকে জানিনা। কেন এমন মনে হয় তাও জানি না।
হুমায়ুন আহমেদের পাঠকের তার মতো অদ্ভুত মানুষিকতা না হলে কি চলে?
এ ধরনের বই হুমায়ুন সাহেব বোধকরি খুবে একটা লেখেন নি! গা ছমছমে একটা বই, কিন্তু সে ছম ছম করা বিষয়টা মোটেই ভৌতিক কোনও অস্তিত্বের জন্যে নয়, বরং স্বাভাবিক মানুষজনের জন্যেই! তবে বইটাতে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে। হয়ত কিছু অতিপ্রাকৃত বিষয়ের উপস্থাপনা আছে বলেই এমনটা দেখা যায়। ফিনিশিং স্টোরি তে অনেকটাই অবাস্তবতা দেখা যায়। যেমন, অল্প কিছু বছর পরে আবার ফেরত আসা, কিন্তু যে কারণে প্রথমবার চলে যাওয়া, সেই কারণটার কোনও আপডেট দেয়া হয় না। একই ঘটনা যদি আবার ঘটে? অথবা, নদীর কিনারা থেকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াটা... ঘরে শত্রুভাবাপন্ন লোকজন, পালাবার পথ নেই, সেখানে কীভাবে একজন অসুস্থ/আহত আর আরেকজন বিপন্ন মানুষ পাসপোর্ট যোগাড় করে দেশ ছেড়ে চলে যায়, বিষয়টা ঠিক নিশ্চিত করা যায় না। যাই হোক, গল্পে অনেক কিছুই সম্ভব। এবং গল্প তো গল্পই। পড়ে ভালো লাগলেই হল।
লিলিয়ান আর তাহেরের গল্প।বিদেশিনী লিলিয়ানের সাথে এক স্বপ্নের রেশ ধরে হুট করে বিয়ে হয়ে যায় তাহেরের।লিলিয়ান তাহেরকে প্রচন্ড ভালোবাসে।তাহেরের সাথে বিয়ের পর থেকে লিলিয়ান তার দুঃস্বপ্ন থেকে সাময়িক মুক্তি পেলেও হঠাৎ একদিন সেই দুঃস্বপ্ন আবার ফিরে আসে।হুট করেই তাহের বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।এরপরের কাহিনী তাহেরের বহু বছরের পরিত্যক্ত পৈতৃক বাড়ির একটা ঘর 'আয়নাঘর'কে কেন্দ্র করে এগিয়েছে। বইটা ভালো লেগেছে,একটু প্যারানরমাল বিষয় ছিলো সেজন্যই ভালো লেগেছে,আমি পার্সোনালি অতিপ্রাকৃত ঘরানার ভক্ত।
ধরুন একটা ছেলের সাথে আপনার কিছুক্ষণের পরিচয়, তাও যদি খুব বেশি সুখকর না সেই পরিচয় পর্ব। আপনি হঠাৎ তাকে একদিন স্বপ্নে দেখলেন। অদ্ভুত একটা স্বপ্ন। আপনি কি এতেই তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন? অবশ্যই না। এমন অদ্ভুত কাজ করার মতো মানুষ তো আপনি না। কিন্তু এই অদ্ভুত কাজটাই করেছিল লিলিয়ান। আমেরিকায় পড়তে আসা নিঃসঙ্গ একটা মেয়ে লিলিয়ান। ঘুরতে গিয়ে অদ্ভুতভাবেই তার সাথে দেখা হয় বাংলাদেশ থেকে ডাক্তারি পড়তে আসা হাসিখুশি তাহেরের। কিন্তু সেই সাক্ষাৎ মোটেই ভালোভাবে হয়নি। বরং শুরুটাই হয়েছিল ঝগড়ার মাধ্যমে। কারণ লিলিয়ানের ক্যামেরার ক্যাপ না খুলেই ছবি তোলা দেখে বিশ্রীভাবে হেসে ফেলে তাহের। এরপর তাহের তার সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করলেও লিলিয়ান তাকে পাত্তা দেয় না। কিন্তু কি হলো তার হঠাৎ? সেদিন রাতে ঘুমই হলো না। ভয়ংকর একটা দুঃস্বপ্ন দেখলো। দেখলো যে লিলিয়ান নদীর পাড়ে হাঁটছে। আর মাঝনদী থেকে ভেসে আসছে চিৎকার। কেউ তাকে বলছে, " লিলিয়ান, লিলিয়ান! বাঁচাও আমাকে!!" দূর থেকে হাত নাড়তে নাড়তে চিৎকার করা মানুষটা আর কেউ না। তাহের! একদিনের পরিচয়েই এই মানুষটাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার মানে কী? তাও আবার এমন ভয়ঙ্কর স্বপ্ন! পরপর তিনদিন লিলিয়ান ঘুমাতে পারলো না। বারবার ঘুরেফিরে স্বপ্নে দেখতে লাগলো তাহেরকেই। সিদ্ধান্ত নিলো সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে যাবে। তাই করলো। কিন্তু ডা. ভারমান কোনো সমাধান দিতে পারলেন না। বরং যুক্তি দিয়ে বোঝালেন যে আসলে তার বাড়ির লোকদের জন্য মন খারাপ হচ্ছে। কিন্তু কি জানি কেনো লিলিয়ান সিদ্ধান্ত নিল তাহেরকে আবার খুঁজে বের করবে। আর পেয়েও গেলো সহজেই। পঁচিশটা গোলাপ হাতে সে তাহেরকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। এমন অদ্ভুত একটা সিদ্ধান্ত সে কেনো নিলো জানে না। মনে হচ্ছে এই কাজগুলো তার নিজের ইচ্ছায় হচ্ছে না। কেউ বুঝি তাকে দিয়ে করাচ্ছে এসব। লিলিয়ান বুঝতে পারে নিয়তি তাকে ঠিকই তাহেরের সাথে বেঁধে দেবে, সারাটাজীবন তার সাথেই কাটাতে হবে! আর সত্যি সত্যি বিয়েটা হয়েও গেলো। যদিও তার জন্য লিলিয়ানকে হতে হয় বাবা মায়ের ত্যাজ্য কন্যা, কিন্তু তবুও তার কোনো দুঃখ ছিলো না। স্বামী তাকে এতো ভালোবাসে যে তার কখনো মনেই পড়ে না বাড়ির লোকের কথা। আর আশ্চর্যের ব্যাপার বিয়ে হবার পর আর একদিনও তাকে দেখতে হলো না ওই ভয়ানক দুঃস্বপ্ন! বিয়ের বেশ অনেকবছর পর তাহেরের একবার কাজের তাগিদে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, লিলিয়ানকে থাকতে হয় তাদের ডুপ্লেক্স বাড়িতে একা। ভয়ে ভয়ে ঘুমাতে যায় লিলিয়ান, তাহেরকে ছাড়া এক মুহুর্তও ভালো লাগে না তার। আর আর... সেদিনই সেই ভয়ানক দুঃস্বপ্নটা আবার ফিরে আসে। লিলিয়ান দেখা একটা প্রাচীন বাড়ির প্যাঁচানো সিড়ির রেলিং বেয়ে উঠছে ও। একেবারে উপরে পৌঁছে যাওয়ার পর একইভাবে শুনতে পায় তাহেরের আর্ত চিৎকার, কিন্তু বাঁচানোর জন্য নামতে গিয়ে দেখে সিড়ি আর নেই। ভীষণ অসহায়ত্ব নিয়ে বারান্দায় দাড়িয়ে থাকে লিলিয়ান, কানে আসতে থাকে অসহ্য চিৎকার।। ঘুম ভেঙে যায় লিলিয়ানের। এইরকম বাড়ি সে কেনো দেখলো? তার বিদেশের মাটিতে তো সে এরকম বাড়ি কখনোই দেখে নি... কেনো জানি মনে হচ্ছে তাহেরের বাংলাদেশের বাড়িটা এরকম। তড়িঘড়ি ফোন করে তাহেরকে কিন্তু জানায় তাহেরদের বাড়িতে কোনো প্যাঁচানো সিড়ি নেই। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে চায় লিলিয়ান কিন্তু পারে না। কারণ তার অবচেতন মন বলছে এই বাড়িতেই তার একদিন যেতে হবে। নিয়তিই তাকে টেনে নিয়ে যাবে! এদিকে তাহেরের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়, লিলিয়ান হঠাৎ তার বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করলো কেনো। মনে হয় যতদিন পর্যন্ত লিলিয়ান তাদের বাড়িটা নিজের চোখে না দেখবে ততদিন তার মাথায় এই দুঃস্বপ্নটা ঘুরতে থাকবে। তাই তাহের সিদ্ধান্ত নেয় ছুটি নিয়ে লিলিয়ানকে সাথে নিয়ে চলে যাবে গ্রামের বাড়িতে। যেই ভাবা সেই কাজ। লিলিয়ান অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে পৌঁছে যায় তাহেরের গ্রামের বাড়ি। কিন্তু সে কি জানতো কি অপেক্ষা করছে তাদের দুজনের জন্য? কারণ তাহেরদের পুরনো বাড়িটা হুবহু লিলিয়ানের স্বপ্নে দেখা বাড়িটার মত! লিলিয়ানের বুক কাঁপতে থাকে। একদিকে যেমন এই বাড়িটাকে মনে হচ্ছে অতিপরিচিত, অপরদিকে ভয় হচ্ছে তার স্বপ্নে দেখা ভয়ংকর ঘটনাগুলো সত্যি হয়ে যাবে না তো? তার স্বামীর কোনো ক্ষতি হবে না তো?
✨পাঠ প্রতিক্রিয়া: হুমায়ূন আহমেদের বই পড়তে তো এমনিতেই ভালো লাগে। এর আবার পাঠ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করবো কিভাবে ঠিক বুঝতে পারছি না। কারণ সাধারণ একটা বই পড়ে যখন অসাধারণ লাগে তখন সেই বইটাকে ঠিক কি বলে আমার জানা নেই। "আয়নাঘর" বইটা অতটাও ভয়ের না। তবে খানিকটা শিহরণ তো জাগবেই। একটু হলেও দুশ্চিন্তা হবেই লিলিয়ানের জন্য। জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেন গল্পটা। কোথাও বাড়তি কোনো কথা নেই, ঘটনা নেই, শুধু তাহের আর শুধু লিলিয়ান। এদের মিষ্টি প্রেমটা ভালো লেগেছে। লেখক লিলিয়ানের দেখা স্বপ্নগুলোকে দারুণভাবে ফোরশ্যাডো করেছেন। এই ব্যাপারটা সুপার ডুপার লেগেছে। ছোট্টখাটো এই বইটা একবারেই শেষ করে ফেলা যায়। আর অবাক ব্যাপার হলো এই বইটার সুন্দর একটা এন্ডিং ছিলো! হুমায়ূন আহমেদের বইয়ে এন্ডিং থাকা তো একেবারে সপ্তমাশ্চর্যের মত ব্যাপার। পুরো বইটাই দারুন এনজয় করেছি। হ্যাঁ ভয় পাওয়ার মতো তো না একদমই তবে নিঃসন্দেহে অতিপ্রাকৃত জনরার মধ্যে ভীষন ভালো লাগবে পড়তে।
✨ প্রচ্ছদ ও প্রোডাকশন : প্রচ্ছদটা সিম্পলের মধ্যে সুন্দর, শুভ্র। বেশ ভালোই লেগেছে সাদা প্রচ্ছদটা। সময় প্রকাশনীর প্রোডাকশন অনেক হাইফাই না হলেও চলনসই। পড়া গিয়েছে ভালোভাবেই। বহুদিন পর সাদা পেজের বই পড়লাম। ভালোই লাগলো।
✨ রেটিং : ৪.২/৫
পৃথিবীর সব ঘটনারই ব্যাখ্যা থাকবে এমনটা নয়। কিছু ঘটনা থাকবে ব্যাখ্যাহীন, অতিপ্রাকৃত। নিয়তির কারণে সেসব ঘটনার মুখোমুখি হতেই হবে। কোনোভাবেই এড়ানো সম্ভব নয়।
বই সম্পর্কে কিছু বলি। "হুমায়ূন আহমেদ" মানেই আমার কাছে অন্যরকম কিছু। বই পড়তে গেলে যেনো কোনো এক ঘোরে মধ্যে থাকি। কখন সময় চলে যায় টের পাইনা। বইটা আদতে আমার না। আমার এক ছোট ভাই তার বোনকে দিবে বলে আমাকে দিয়ে বইটা কেনায়। কিন্তু এখনো না নেয়াতে একদিনে পড়ে ফেললাম বইটা।
যাইহোক বইটা এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পড়া হলো। গল্পের প্রধান পুরুষ চরিত্রটি মা-বাবা হারা। বর্তমানে থাকে আমেরিকাতে। সেখানেই পরিচয় হয় গল্পের প্রধান নারী চরিত্রের সাথে। সেই পরিচয়টাও হয় অদ্ভুত ভাবে। তবে আমার কাছে বিষয়টা খুব চমৎকার লেগেছে।
তাহের, মানে প্রধান পুরুষ চরিত্র। সর্বদা হাসিখুশি একজন মানুষ। অল্পতেই তাঁর মুখ দিয়ে অট্টহাসি শুরু হয়।
লিলিয়ান, মানে প্রধান নারী চরিত্র। একটু বিষন্ন, ও গম্ভীর স্বভাবের মানুষ। তবে মনটা অনেক নরম। যার হৃদয়ে ভালোবাসা পূর্ণ।
তো এই লিলিয়ান ইদানিং রাতে ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যায়। এর ফলে তার মনে বেশ চাপ সৃষ্টি হয়। এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সে তাঁর সিদ্ধান্ত স্থির করে নেয়। ফলে বিয়ে হয় তাহের সঙ্গে।
বিয়ে কয়েক মাস পরে লিলিয়ানের অনুরোধে তারা বাংলাদেশে আসে। আর এখানেই লিলিয়ান, তাহেরের প্রাসাদ সমতূল্য বাড়িতে একটা 'আয়নাঘর' খুঁজে পায়। এই আয়নাঘরটা তৈরী করেন তাহেরের দাদার বাবা তাঁর স্ত্রীর জন্য। তিনি মারা যাবার পর এই আয়নাঘরটি বন্ধ করে রাখা হয়। তারপর থেকে নাকি কী সব দেখে বাড়ির বাসিন্দারা।
এতো বছর পর লিলিয়ান এই বাড়িতে এসে কেন তার মনে হচ্ছে সব তার পরিচিত? আর আয়নাঘরে কী আছে? লিলিয়ান কী তাঁর বিপদ থেকে উদ্ধার হয়ে ভেদ করতে পারবে আয়নাঘরের আসল কাহিনী? ...
চমৎকার এবং সহজ সাবলীলভাবে লেখা মনস্তাত্ত্বিক রহস্য উপন্যাসটি এককথায় অসাধারণ। আর কোনো মন্তব্য করবো না ধন্যবাদ।