A predominantly Muslim village in pre-Independence Bengal. Fatik is a very bright young boy from a poor family. Through sheer intelligence and hard work, he raises himself out of his circumstances to make a name for himself: Shafiq UI Molla, barrister. In this, the second part of the trilogy, Hindu-Muslim relations are shown through Fatik's unique perspective, spanning the experience of his rural, communally segregated, lower class upbringing, as well as that of the relatively elite and superficially multi-cultural, professional class to which he rises. It's a full and nuanced reflection on the various ways in which ordinary middle class lower class Muslims engaged with ordinary middle class/lower class Hindus, from identity politics to competition for government jobs. A timeless portrait of the vintage Bengali Muslim life, drawn on an expansively imagined canvas. The story covers the years 1935-1937.
৫ আষাঢ় ১৩৩০, ২২ জুন ১৯২৩, বাংলাদেশের যশোর জেলার হাট গোপালপুর গ্রামে জন্ম। প্রাথমিক পড়াশোনা শ্রীহট্ট জেলার এক চা-বাগানে। স্কুলের দরজা পার হন নবদ্বীপে। ১৯৪৫ সালে আই এস-সি পাশ করেন। ১৯৪১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি ক্রমাগত পেশা বদলেছেন। প্রাইভেট টিউটর, ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, খালাসি, রেস্তরাঁয় বয়, ট্রেড ইউনিয়ন অর্গানাইজার, ইস্কুল মাস্টার থেকে ভ্রম্যমান নৃত্য-সম্প্রদায়ের ম্যানেজার,ল্যান্ডকাস্টমস ক্লিয়ারিং কেরানি, প্রুফ রিডার। ১৯৭৫ সালের মিসা (MISA) অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ জন-নিরাপত্তা আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাংবাদিকদের অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বহু নির্যাতন সহ্য করেও নিরন্তর সংগ্রামের ব্রতী ছিলেন। এই মানবতাবাদী লেখক ও সাংবাদিক সম্মানিত হয়েছেন বহু পুরস্কারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আনন্দ পুরস্কার (১৯৭০), কো জয় উক স্মৃতি-পুরস্কার (১৯৭৬), খো যাই স্মৃতি-পুরস্কার (১৯৭৮), ম্যাগসাইসাই পুরস্কার (১৯৮১), এবং বঙ্কিম পুরস্কার (১৯৮২)। মৃত্যু : ১৫ ডিসেম্বর ২০০০।
"মানুষকে তুমি যদি মানুষের মূল্যে বিচার না কর তাহলে তার কাছে পৌঁছুবে কী ভাবে? কবীর কী ছিলেন, বলতে পারো? তিনি হিন্দু না মুসলিম? বলতে পারবে? পারবে না। কেননা এই প্রশ্নটাই তোমার মনে আসবে না। কারণ তিনি ছিলেন মানুষ। কবীরকে নিয়ে তুমি যাই করো, তা হিন্দু মুসলিমের মিলন ঘটাবার পটভূমিই তৈরি করবে, উল্টোটা করতে পারবে না। কেন? তিনি মিলনের ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছেন মানুষ হতে পেরেছিলেন বলে। লালন, চণ্ডীদাস এঁরাও পেরেছেন। এবার তাহলে বুঝে দেখ আমরা পারছি না কেন? পারছিনে তার কারণ আমাদের প্রেম নেই, আছে রাজনীতি।"
'প্রেম নেই' মূলত একটি বিরাট পটভূমির উপন্যাস। যে উপন্যাসের মূলটা প্রোথিত আছে তৎকালীন মুসলমান সমাজের মাঝে। যার সময়কাল বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশক। 'প্রেম নেই'— মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত একটি উপন্যাস।যার প্রথম ভাগের নাম 'আওরতে হাসিনা'। উপন্যাসের এই পর্বটি গড়ে উঠেছে গ্রামীণ বাঙালি মুসলমানের সমাজকে ঘিরে। যার প্রাণ কেন্দ্র গ্রাম। এই গ্রামের যুবক ফটিক এবং তার বিবি ছবি আমাদের এই উপন্যাসের মূখ্য চরিত্র। তবুও এই তাদের প্রেম কাহিনী ছাড়িয়ে এই ভাগে স্থান পেয়েছে তৎকালীন সেই সময়ের মানুষের সাথে মানুষের সৌহার্দ্য, সম্প্রতি এবং মিলনের এক অদ্ভুত সুর। যেই সুরের তাল বর্তমানে হয়তো কেটেই গিয়েছে। সেই সবের মাঝে উপস্থিত হয়েছে মুসলমান সমাজের বিভিন্ন রীতিনীতি, সামাজিক আচার অনুষ্ঠান, ঘরের নারীদের একটি স্পষ্ট ছবি। তাছাড়া এই ভাগে বাঙালি মুসলমান সমাজের ঐতিহ্যেরও মিলন ঘটিয়েছেন লেখক। নারীদের মনে তখন পতিদের নিয়ে যে একটা ভয় মেশানো শ্রদ্ধা কিংবা ভালোবাসা কাজ করতো তারও বিশদ ব্যাখ্যা আছে। সেই সময়ে কৃষকদের গলায় চাপা দিয়ে জমিদারদের যে দাপট ছিলো তার কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য। কারণ বাঙালি কৃষকরা বিভিন্ন সময়ে নির্যাতিত হয়ে এসেছে বিভিন্ন শোষক শ্রেণির কাছ থেকে। সেই সাথে রয়েছে তখনকার দিনের পুঁথি। যা সেই সমাজের রসবোধকেও অংকিত করে দেয়।
"পহলে তলোয়ার ঢাল তার হাতে দিয়া। তলোয়ার বাজির বন্দ দিল শেখাইয়া।। নেজা বাজি তীর বাজি গোর্জের লড়াই। কোমর বন্দ ধরাধরি শেখায় এয়ছাই।। কশাকশি দিয়া ফাঁসী গর্দানে ঢালিয়া। মহিমের যত বন্দ দিল শেখাইয়া।। জোরে জোরওয়ার বিবি হইল এয়ছাই। তার মত পাহালওয়ান এ দেশেতে নাই।।
আর এর দ্বিতীয় ভাগ হলো— 'মধ্যিখানে চর'। এইখানে সব চরিত্র গুলোর মাঝে অদ্ভুত পালা বদল ঘটে। কেউ কেউ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ছুটতে থাকে। কেউ কেউ শোষক থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য, কেউ বা নিরাপদ জীবনের উদ্দেশ্য, কেউ কেউ নিজের ভবিষ্যতে উদ্দেশ্য। অর্থাৎ গ্রামীণ সমাজ থেকে মানুষগুলো তখন বেড়িয়ে আসতে চলেছিলো। তখন তারা বিরাট এই পৃথিবীর খানিকটা উন্মোচন করে সেটাকে গোটা পৃথিবী ধরে তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম শুরু করেছেন। তার সাথে আছে রাজনীতি। এই রাজনীতি তখন তার প্রভাব প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও খাটাতে আরম্ভ করে।
তৃতীয় এবং শেষ ভাগে নাম— 'দিগন্তে কালবৈশাখী'। এইভাগেই নাটকের সব কিছু একটা কেন্দ্রের ধাবিত হতে থাকে। রাজনীতি থেকে শুরু করে মানুষ। সবাই একটা না একটা উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে ছুটে চলেছে অবিরত। তবে এই অংশটার প্রায় পুরোটা জুড়েই রাজনীতি। তৎকালীন মুসলিম লীগ এবং কৃষক প্রজা পার্টি ছড়িয়ে আছে পুরো পর্ব জুড়ে। গল্পের প্রধাম চরিত্র ফটিক। যে কিনা উকিল, সে নিজেও জড়িয়ে যায় এই রাজনীতির মাতমে।
এইতো গেলো বিরাট আকারে বইয়ের সার বস্তু। এখন আমার কথা বলি… লেখক গৌরকিশোর ঘোষ মূলত বাঙালি মুসলিম সমাজ নিয়ে কাজ করা একজন মানুষ। তিনি তৎকালীন বাঙালি মুসলমান সমাজের পিছিয়ে পড়া নিয়ে কাজ করেছেন। সাহিত্য নিয়ে কাজ করেছেন। সুবিশাল একটি উপন্যাস ফেঁদেছেন। যেখানে তিনি তার নিরপেক্ষ দৃষ্টি দিয়ে সেই সময়ের সমাজ ব্যবস্থাকে বিশ্লেষণ করিয়েছেন। গল্পের নায়ককে দ্বিধার দোলাচলে ঝুলিয়েছেন। প্রথম পর্বে মুসলমান সমাজকে বিশ্লেষণ করেছেন নিখুঁতভাবে। এত নিখুঁত! কোরানের আয়াত থেকে শুরু করে সুরা, সব এনেছেন। কোন সময়ে কোন সুরার প্রয়োগ করে তাও দেখিয়েছেন। মানুষ কুশল বিনিময় থেকে শুরু করে একজন মানুষ মারা গেলে ইসলামিক ভিত্তিতে সেসব কাজ কীভাবে সম্পাদন করা হয় তার এত সুবিশাল আলোচনা তাও উপন্যাসের মাঝে মাঝে। নিঃসন্দেহে অনেক বেশি প্রশংসনীয়, কারণ লেখক সকল জিনিসকে সকল স্থানে সঠিকভাবে প্রয়োগ করে আশ্চর্য করেছেন। এই উপন্যাসে লেখক বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণকেও উত্থাপিত করেছেন। বলা যায় সেই সমাজের সূর্যোদয়ের ক্ষণকে তিনি লেখায় লিপিবদ্ধ করেছেন। আমি এই উপন্যাস ধরেছি অতিউৎসাহী হয়ে। তবে এত সুবিশাল বর্ণনা এত আলোচনা, যার ফলে বইটি শেষ করতে অনেক সময় লেগে গেলো। কখনো কখনো লেখায় ভাটা পড়ে গিয়েছে, মনে হয়েছে সেসব জায়গায় লেখক জোর করে টেনে নিয়ে গিয়েছেন। যা মাঝে মাঝে বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। এই বই কখনো।দুর্দান্ত গতির কখনো।বা মন্থর। তবুও এই বইকে খুব ভলো লেগেছে। যা বলে বোঝানো যাবে না। কখনো কখনো অধীর আগ্রহে পৃষ্ঠা উল্টেছি, যেন মনে হয়েছে জমজমাট একটি উপন্যাস। কখনো ঘটনার মানসিক টানাপোড়েনের মাঝে পড়ে গিয়ে নিজেই ক্ষত হয়েছি। যা বই বইটিকে অনবদ্য করে তুলেছে। তার শর্তেও বলতে হয় প্রেম নেই…
বইটার নাম দেখে আর প্রথমার্ধ পড়লে যে কারও বিভ্রান্ত হয়ে যাবার কথা। আমিও হয়েছিলাম খানিকটা। বই এবং লেখক-এ দুইয়ের খোঁজ পাই সম্পাদক বাদল বসুর একটা বই থেকে। সেখানে গৌরকিশোর ঘোষের ভূয়সী প্রশংসা আছে, আছে দেশ-মাটি সিরিজটার কথাও। পড়তে যেয়ে হোঁচট খেলাম। সেই ত্রিশের দশকের বাঙ্গালিদের নিয়ে লেখা, স্পেশালি মুসলিম সমাজ। এখন জিজ্ঞাসা করতে পারেন এতে হোঁচট খাওয়ার কী আছে। তারাশঙ্কর, বিভূতি, মানিক আরও অনেক নামীদামী লেখকদের কল্যাণে উঁচুতলা কিংবা নীচুতলার হিন্দু সমাজ নিয়ে বিশেষ জানাশোনা থাকলেও মুসলিম সমাজকে কেন্দ্র করে এতো বিশদ লেখা ঐভাবে চোখে পড়েনি। হ্যা, অবশ্যই আমার জানার কমতি থাকতে পারে। কিন্তু এতো নিখুঁত চিত্রায়ন! এখানেই আমি মুগ্ধ আর লেখকের দুর্দান্ত লেখনীর কথা আর না-ই বা বললাম। উপন্যাসের শুরুর অংশ নেহায়েত মামুলি... গল্পের মূল চালক ফটিক আর তার সদ্য বিয়ে করা বৌ-এর পরিচিতি, তাদের দাম্পত্য জীবন, ফটিকের স্ট্রাগল আর বইয়ের অন্যান্য ক্যারেক্টারের পরিচিতির মধ্য দিয়ে। তখনকার মুসলিম সমাজে না, ভুল বললাম, হিন্দু-মুসলিম উভয় সমাজে ছেলে-মেয়েদের একটু আগেভাগেই বিয়ে হয়ে যেত। ছেলেরা যারা পড়ালেখা করতো, ওদের 'পাশ' হবার সময়টুকুতে মেয়েরা তৈরি হতে থাকতো সংসারী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে নিতে। তো, এই গেলো প্রথমভাগ।
এরকম অসম বিয়ে ভালো না মন্দ সে নিয়ে মন্তব্য এখন আর আমি করতে যাব না। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ভাগে সে অংশ বেশ স্পষ্ট। ফটিক একে তো চাষার ছেলে, দ্বিতীয়ত মুসলিম। মুসলিম নবজাগরণের ফলে মুসলিমরাও পড়াশোনা, চাকরিবাকরির দিকে ঝুঁকেছে কিন্তু সেখানে তখনও একচ্ছত্র আধিপত্য হিন্দুদের। দারিদ্র্যতার সাথে যুদ্ধ করে, চারপাশের সাথে লড়াই করে করে ফটিকের প্রতিষ্ঠা পাবার প্রচেষ্টা। রাজনীতি সচেতন, উচ্চশিক্ষিত ফটিক আর হরেক বানান ভুল নিয়ে চিঠিপত্র লিখতে পারা আর কিছু বই পড়তে পারার বিদ্যে নিয়ে ফটিকের মুখোমুখি ওর বা���িকা বধূ ছবি... রাজনীতির সাথে সাথে তখনকার হিন্দু-মুসলিম বিভেদ বেড়ে যাবার কারণ, সমাজের অসঙ্গতি, মহাজনদের বিরুদ্ধে একটু একটু করে কৃষকের জাগরণ, নিরীহ কৃষক আন্দোলনে বিভেদ সৃষ্টি করে ধর্মীয়করণ, ভোটের রাজনীতি, স্বার্থের রাজনীতি সবকিছু মিলিয়ে দুর্দান্ত। সে সময়কার চলমান রাজনীতির এতো সুন্দর ব্যাখ্যা খুব কম বইতেই মনে হয় আছে।
খুব সম্ভব লেখকের সাংবাদিক স্বত্ত্বাটার কারণে এতো বিস্তারিত বিশ্লেষণ লিখতে পারা, চরিত্রগুলোর এতো খুঁটিনাটি ডিটেইলিং সম্ভব হয়েছে। যতো রিসার্চ করুক আর যা-ই করুক, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা কমিউনিটির ধর্মবিশ্বাস, রীতিনীতি, তাদের আটপৌরে জীবন, বিশ্বাস, ভাবনা, দর্শন, স্ট্রাগল নিয়ে এতোটা বিশদভাবে লেখা! সত্যিই হ্যাটস অফ!
ইয়ে, আরেকটা দ্বিধা করছিল বইয়ের নামকরণ নিয়ে। বইয়ের নাম প্রেম নেই, অথচ প্রথমার্ধে ভরপুর রোমান্স। আবার সিরিজের নাম নাকি দেশ-মাটি সিরিজ! দ্বিতীয়ার্ধে এসে ব্যাখ্যা পড়ে মনে হলো, এর চেয়ে পারফেক্ট নাম আর হতেই পারে না। এই লেখক তার আমলেও আড়ালে থাকতে পছন্দ করতেন, এমনকি বোধহয় এখনও।
বাংলার হিন্দু মুসলিম সমাজ যেমন স্বার্থের ভারে ভারাক্রান্ত হতে হতে মানুষ আর হতে পারে নি, কারণ তাদের মনে "প্রেম নেই", সে রকম এই অসামান্য ইতিহাসের দলিলটি পড়ার পর এক সাধারণ পাঠক হিসেবে আমারও নিজের মুগ্ধতা বর্ণনা করার "ভাষা নেই"।
লেখক কোনো সমস্যাকেই চাপা দিতে চান নি, সবটাই স্বচ্ছভাবে তুলে ধরেছেন আর বিশ্বাস করেছেন যে এক জন পাঠক হলেও হয়তো তার নিজের মনুষ্যত্বকে খুঁজে পাবে আর পঙ্কিল রাজনীতির চশমা খুলে জীবনকে অন্য চোখে দেখবে।
গৌরকিশোর ঘোষের "প্রেম নেই" উপন্যাসটি পড়ে যারপরনাই মুগ্ধ হলাম। সবথেকে বেশি অবাক হলাম উপন্যাসের ভূমিকায় লেখকের ঋণস্বীকার অংশটি পড়ে। একজন লেখক যেভাবে মুসলিম জীবনযাত্রার খুঁটিনাটি তুলে ধরেছেন, নিখুঁতভাবে মুসলিম সমাজকে বিশ্লেষণ করেছেন, কোরানের আয়াত থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ক্রিয়াকর্ম যেভাবে দেখিয়েছেন - কতটা অধ্যাবসায় থাকলে এইরকম এত নিখুঁত ও স্পষ্ট ভাবে এতকিছু ফুটিয়ে তোলা যায়!
"প্রেম নেই" একটি বিরাট পটভূমির উপন্যাস এবং কাহিনীর মূল প্রোথিত আছে অখন্ড বাংলার এক কঠিন সময়ে - মূলত তৎকালীন মুসলিম সমাজের মাঝে। মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা কৃষক - প্রজা আন্দোলন এবং তার ফলে তৈরী হওয়া দারিদ্র্য, শোষণ ও বঞ্চনার মাঝে এই কাহিনীর মূল চরিত্ররা তাদের নিজ নিজ দুঃখ, প্রেম, কষ্ট, অভিমানের কথা বলে।
উপন্যাসটি তিনটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্ব "আওরতে হাসিনা" মূলত: গ্রামের এক কৃষকের ছেলে ফটিকের গ্রামে ফিরে আসা এবং হাজি সাহেবের মেয়ে বিলকিসের সাথে তার বিয়ে - এই নিয়েই আবর্তিত হয়েছে। ফটিক আর বিলকিসের জীবন, তাদের রসায়ন, তাদের প্রেম প্রথম পর্বের মূল উপজীব্য। দ্বিতীয় পর্ব "মধ্যিখানে চর" যেন হঠাৎই এই দাম্পত্যের ছন্দ কেটে দেয়। যে মানুষেরা একে অপরের সাথে এতদিন বেঁধে বেঁধে ছিল তারা হঠাৎই বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। তাদের বিশ্বাস, আর্দশ, নীতি বদলে যেতে থাকে - যার আঁচ এসে পড়ে ফটিক আর বিলকিসের জীবনেও। তৃতীয় আর শেষ পর্ব "দিগন্তে কালবৈশাখী"। এই পর্ব সম্পূর্ণভাবে সেই সময়ের রাজনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ছবি দেখায়। ফটিক আর বিলকিসের মধ্যে বেড়ে যাওয়া দূরত্ব তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত দেওয়াল তুলে দিতে থাকে যা পার করে তারা কাছে আসতে চায় কিন্তু তা খুব কঠিন বলে মনে হয়। ফটিক আর বিলকিসকে এই কাহিনীর প্রধান চরিত্র বলে মনে হলেও, দাউদ, ফুটকি, সাজ্জাদ মোল্লা, সইফুন, আবু তালেব - সবাই গভীর প্রভাব বিস্তার করে পুরো কাহিনী জুড়ে।
গৌরকিশোর ঘোষের লেখনী নিয়ে আলাদা করে কিছুই বলার নেই। শুধু একটাই জিনিস ব্যক্তিগত ভাবে আমার একটু কম ভালো লেগেছে, সেটা হল, কাহিনীর শেষটা। মনে হল যেন হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেল। এটা ছাড়া এই উপন্যাস অসাধারণ। ভাবতে বাধ্য করে। নিশ্চিতভাবেই মাস্ট রিডের তালিকায় রাখা যায়।
এই উপন্যাস পড়লে কেউ বলতে পারবে না লেখক একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের। লেখক যে সময়ের লোক তখনকার সময়ে সাম্প্রদায়িক বিষ বাষ্প উড়ে বেড়াচ্ছিল পুরো বাংলার আকাশে তারপরও লেখক এরকম একখানা উপন্যাস এত নির্মোহ ভাবে লিখেছেন। সত্যিই অকল্পনীয়।৫/৫ দিলাম। ধর্মে ধর্মে সম্প্রীতি নেই আছে বিদ্বেষ। কারো মাঝেই বিধর্মীদের প্রতি প্রেম নেই তাই তো উপন্যাসের নাম প্রেম নেই। যদিও প্রটাগনিস্ট সাজ্জাদ পুত্র ফটিক এবং হাজী সাহেবের মেয়ে বিলকিসের মধ্যে যথেষ্ট প্রেম আছে। তাই হয়তো উপন্যাসের নাম টাকে একটি প্যারাডক্স মনে হতে পারে। আসলে এটাই হচ্ছে আয়রনি