"তোমাকে ভালবাসি হে নবী!" একটি অসাধারণ গ্রন্থ যা ইসলামের মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি একজন অমুসলিম লেখকের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ। মূলত উর্দুতে লেখা "রাসূলে আরাবী" বইটির এই বাংলা অনুবাদ করেছেন মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ।
গুরুদত্ত সিং, একজন শিখ লেখক, তাঁর অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর মানবতাবোধ দিয়ে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী ও শিক্ষাকে তুলে ধরেছেন। বইটি শুধু একটি জীবনী নয়, বরং নবীর প্রতি লেখকের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য নিদর্শন।
অনুবাদক আবু তাহের মিছবাহ মূল রচনার ভাব ও আবেগকে যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলা ভাষায় রূপান্তর করেছেন। তিনি পাঠকদের জন্য একটি বিস্তৃত ভূমিকা যোগ করেছেন, যেখানে তিনি বইটির গুরুত্ব এবং এর অনুবাদের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।
এই গ্রন্থ ধর্মীয় সীমারেখা অতিক্রম করে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি পাঠকদের ইসলামের শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। বইটি শুধু মুসলিম পাঠকদের জন্যই নয়, বরং সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।
"তোমাকে ভালবাসি হে নবী!" শুধু একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, এটি মানবতার প্রতি ভালোবাসা, সহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। এই বই পাঠকদের হৃদয়ে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করার পাশাপাশি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলে।
Gurudutta Singh Dara (Urdu: گوردت سنگہ دارا), a learned and esteemed figure with a background in law (B.L. Bar-at-Law, Lahore) and publisher and editor for 'United India', London, is celebrated for his profound and universal approach to spirituality. A Sikh by birth, his writings reflect a deep respect and admiration for Islamic teachings, transcending religious boundaries. Singh's work, Rasool-e-Arabi (translated as 'Prophet of Arabia'), stands out for its heartfelt and inclusive portrayal of the life of the Islamic Prophet Muhammad ﷺ.
During his time in London, Singh's interactions and engagements showcased his commitment to interfaith harmony and his dedication to promoting mutual respect among different communities. His non-sectarian perspective and devotion to the concept of Tawheed (the oneness of God) are evident in his writings, which aim to foster unity and understanding among diverse groups.
Dara published and edited the journal 'United India' in London from 1929 to 1937 and again from 1946. It continued to 'Hind: The Indian Organ of the United Kingdom' (1921-1924) and 'India' (1927-1928). From October 1937 to July 1939, the journal was called 'India and England.'
In Rasool-e-Arabi, Singh offers a compassionate and passionate account of the Prophet's life, imbued with love and reverence. His eloquent prose captures the essence of his devotion, creating a moving narrative that resonates with readers of all backgrounds. Singh's ability to convey the Prophet’s story with such sincerity and affection highlights his exceptional literary skill and spiritual depth.
Gurudutta Singh's work is a testament to the power of empathy and the importance of intercultural dialogue. His contributions to religious literature are marked by a genuine desire to bridge divides and celebrate shared human values.
বেশ কিছুদিন আগেই নিয়ত করেছিলাম যে রোজার মাসে কিছু সীরাত পড়ব। ছোটবেলা বাবা-মার কাছে , আরেকটু বড় হয়ে মক্তবের হুজুরের কাছে আর তারপরে ওয়াজ-মাহফিলে তো নবী করিম (স.) সম্পর্কে কিছুটা জানা আছেই, তাঁর সম্পর্কে ধারণা আরেকটু স্পষ্ট করতেই এই উদ্যোগ। এবার বলি, এই বইটা কেন বেছে নিলাম৷ প্রথমত কিছু বইয়ের গ্রুপের সীরাত প্রতিযোগিতায় বইটা সম্পর্কে বেশ আলোচনা দেখেছি। আর দ্বিতীয়ত একজন গুণমুগ্ধ অমুসলিম নবী (স.) কে কিভাবে দেখে তা জানা।
সংক্ষেপে বললে লেখক মাত্র ১০৮ পৃষ্ঠার মধ্যে নবী (স.) এর জীবনকে তুলে ধরেছেন বইটায়। একদম তৎকালীন আরবের অবস্থা থেকে শুরু করে নবীর জন্ম, তাঁর বেড়ে ওঠা, বিয়ে, নবুয়ত প্রাপ্তি, কাফেরদের অত্যাচার, হিজরত, বিভিন্ন যুদ্ধ, মক্কা বিজয় হয়ে লেখক শেষ করেছেন বিদায় হজ্বের ভাষণের পর নবীর মহাপ্রয়াণের মাধ্যমে।
সত্যি বলতে তেমন কোনো নতুন তথ্য বা নতুন ব্যাখ্যা আমি বইটা থেকে পাইনি। এ যাবৎ নবী (স.) সম্পর্কে যা জানতাম সেসব তথ্যই ঘুরে ফিরে এসেছে বইটাতে। কিন্তু তবু বইটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে যে জানা তথ্যের সন্নিবেশের পরও বইটা কেন আমার ভালো লাগল। উত্তর হলো ‘ ইমলামের নবীর প্রতি অনুরাগী' এক শিখের আবেগ, মুগ্ধতা আর ভালোবাসা বইটাকে ভালো লাগতে বাধ্য করেছে। একজন অমুসলিম হয়েও লেখক যেভাবে নবীর প্রতি নিজের মুগ্ধতা আর ভালোবাসাকে প্রকাশ করেছেন তা পড়তে গিয়ে বারবার মাথা নিচু হয়ে এসেছে এই ভেবে যে মুসলমান ঘরে জন্ম নিয়েও তো এই আবেগ আমার মধ্যে গড়ে ওঠে নি! তাইতো তথ্যের দিক দিয়ে না হলেও ভালোবাসা প্রকাশের দিক থেকে বইটা অনন্য। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সীরাত গবেষক সৈয়দ সোলায়মান নদভীর মন্তব্যটা যথার্থ। তিনি ভূমিকায় বলেছেন, ‘ ইতিহাসের মানদণ্ডে এর চেয়ে উচ্চস্তরের গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব ছিলো, তবে এটা অসম্ভব যে, কোনো অমুসলিম লেখক ভক্তি-ভালোবাসার, এর চেয়ে সুন্দর কোনো উপঢৌকন দরবারে নববীতে পেশ করতে পারবেন।‘ অনুবাদক তাঁর ভূমিকাতেও এই বিষয়েই জোর দিয়েছেন যে মুসলিমদের নবীর প্রতি এই ভালোবাসা থাকার কথা থাকলেও একজন অমুসলিম হয়ে লেখক যা দেখিয়েছেন, প্রকাশ করেছেন।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুবাদে যে মূল লেখার শক্তি কিছুটা হলেও কমে যায় যা বোধহয় সবাই মানবে। কিন্তু এই বইটা ব্যতিক্রম। অনুবাদক এত দারুণভাবে বইটা রূপান্তর করেছেন যে বইটা যে অনুবাদ তা মনেই হয় নি! তবু আমার কিছুটা আফসোস হচ্ছিল এই ভেবে যে অনুবাদেই যে আবেগটা পেলাম, মূল উর্দুটা পড়লে হয়তো তার চেয়ে আরও বেশি ভালোভাবে লেখকের হৃদয়কে বুঝতে পারতাম!
"হে আহমদ!তোমার প্রেমে এ অধম হিন্দুস্তানির কোমল হৃদয় যে ক্ষতবিক্ষত।অনুগ্রহ করে তাতে স্বান্তনার পরশ বুলাতে এসো না প্রিয়তম!চৌদ্দশ বছর সাক্ষী! কোন ইউসুফ কোন মিসরে তোমার মতো প্রেম সমাদর পায়নি।কেননা তোমাতেই শুধু ঘটেছে বিধাতার অপূর্ব রূপ মহিমার অপূর্ব প্রকাশ।তাই হাজার বছরের ব্যবধানে ও কোন পাষাণ এড়াতে পারে না তোমার স্বর্গীয় জোতির্ময়তার হাতছানি।
প্রিয়তম! তোমার দর্শন সৌভাগ্য লাভে না হয় বঞ্চিত হলাম, তাই বলে স্বপ্নের বাতায়ন পথেও কি একবার নসীব হতে পারে না তোমার দীদার!"
(তোমাকে ভালেবাসি হে নবী-৪)
কিছু অনুুভূতি থাকে হৃদয়ের এতই গহীনে যার হদিস করতে পারে না মানবহৃদয় নিজে ও,কিছু ভালোবাসা দাপিয়ে বেড়ায় সমস্ত অস্তিত্বজুড়ে,কিছু আবেগ কখনো পুরনো হয় না,হয় না কখনো দূর্বল,কিছু বিরহ সর্বদাই হৃদয়কে ব্যথিত করে,সেই শূন্যতা অন্য কিছুতেই হয়না পূর্ণ।
একজন অমুসলিম হয়েও রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবনীকে কী দারুণভাবে উপলব্ধি করেছেন! ❤️
সুবহানাল্লাহ।
রাসূলুল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁর জন্ম, তাঁর নবুয়ত ও ইসলামপ্রচার, আরব-সমাজের সংস্কার ইত্যাদি তো কোনো ধর্মীয় উপকথা নয়, বরং বাস্তব ইতিহাস। এমনই শ্রেষ্ঠ একজন মানুষের প্রচারিত ধর্ম কি সত্য না হয়ে পারে?
লেখকের নাম শুনেই বুঝা যাচ্ছে উনি মুসলিম না বরং ভিন্ন ধর্মের কেউ! ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও লেখকের বিশদ পরিচয় খুজে পাই নি কোথাও, বই থেকে শুধু জানলাম উনি পেশায় এডভোকেট, এবং একই সাথে লন্ডনে 'ইন্ডিয়া' নামক পত্রিকার সম্পাদক। তবে মূল বই 'রাসূলে আরাবী'র প্রথম পৃষ্ঠায় লেখকের পরিচয় দেয়া হয়েছে এভাবে- 'ইসলামের নবীর প্রতি অনুরাগী' একজন শিখ গুরুদত্ত সিং এর কলমে রচিত। যা লেখকের প্রতি একধরনের ভালোবাসা তৈরি করতে যথেষ্ট।
একজন অমুসলিমের চোখে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) কে দেখতে হাতে নিলাম বইটি। অনুবাদ করেছেন খুব প্রিয় একজন লেখক, যার লেখা একটা বই পড়েই উনার লেখার ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম, ইসলামি সাহিত্য জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ। তাই অনুবাদ নিয়ে কোন সন্দেহ ছিল না।
পাতা উল্টাতেই চোখে পড়লো বিশ্বের সর্ববৃহৎ সীরাতগ্রন্থ প্রণেতা জ্ঞানতাপস আল্লামা সৈয়দ সোলায়মান নদভী (রঃ) এর বইটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ প্রশংসা মন্তব্য। যা পড়ে বইটির প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেল কয়েকগুণ।
পাঁচটি অধ্যায়ে সমাপ্ত এ বইটির প্রথম অধ্যায়ের নাম দেয়া হয়েছে 'হৃদয়ের আকুতি'। যেখানে তিনি আরবের সৌভাগ্য ও ভারতমাতার দূর্ভাগ্যের করুন কাব্য কলমের কালিতে প্রকাশ করেছেন। যে মহামানবের পরশমণির সংস্পর্শে আরব জাতি হয়ে গেল পথ প্রদর্শক, লেখক সেই মহামানবের সাথে বাস্তব দর্শন লাভে বঞ্চিত হলেও স্বপ্নযোগে দীদার লাভের আকুতি জানিয়েছেন। লেখকের ভাষায়- "প্রিয়তম! তোমার দর্শন সৌভাগ্য লাভে না হয় বঞ্চিত হলাম, তাই বলে স্বপ্নের বাতায়ন পথেও কি একবার নসীব হতে পারে না তোমার দীদার!" এরপরের চারটি অধ্যায়ে নবী মুহাম্ম��� (সঃ) এর জন্মগ্রহন হতে শুরু করে বিদায় হজ্জ ও চিরবিদায়ের মুহূর্ত পর্যন্ত জীবনী সংক্ষেপে উঠে এসেছে লেখকের আবেগ উচ্ছ্বাসের স্রোতে প্রবাহিত কলমের কালিতে। লেখার প্রতিটি অক্ষর যেন প্রেম ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে বারবার। নবীর প্রতি ভালোবাসার আবেগ যেমন দেখা গেছে, তেমনি ভাষা ও সাহিত্যের ছন্দময় প্রকাশও দেখা গেছে সমভাবে। যা পাঠককে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে নবীপ্রেমের স্রোতধারায়, নতুন করে প্রিয় নবীকে চিনতে সাহায্য করবে।
বইটা পড়তে গিয়ে মনে হবে, একজন অমুসলিম যদি আমাদের নবীকে এমনভাবে ভক্তি শ্রদ্ধার অর্ঘ্য নিবেদন করতে পারে, এমন করে ভালোবাসতে পারে, তাহলে আমাদের কেমন হওয়া উচিত ছিল? নিজের কাছে প্রশ্ন করে উত্তর খুজে পাই না, লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে, অশ্রুসিক্ত হতে হয়।
অনুবাদকের মত আমার মনেও একটি প্রশ্ন জেগেছে বারবার- যিনি নবী প্রেমের এমন উপঢৌকন দরবারে নববীতে পেশ করতে পারেন তিনি কী করে অমুসলিম থাকেন! নাকি শেষ মুহূর্তে কিংবা গোপনে তিনি ইসলাম গ্রহন করেছিলেন? তাই যেন হয়!
ইসলামি বইয়ের রিভিউ লিখিনি কখনো, এটা ঠিক রিভিউ হয়েছে কি না তাও বুঝতে পারছি না। কিন্তু নিজের ভেতর থাকে বারবার একটা তাগিদ অনু্ভব করছিলাম এ বইটা নিয়ে কিছু লেখার জন্য। সে তাগিদ থেকেই এ লেখার অবতারণা।
সবশেষে, সবাইকে পড়ার অনুরোধ রইলো নবী প্রেম উদ্বেলিত গতিময় ভাষায় রচিত এই বইটি।
লেখক+অনুবাদকের সাহিত্যগুণে ভরপুর বইটা। উপভোগ করেছি বেশ। একজন বিধর্মীর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি এমন দরদ, ভালোবাসা সত্যিই অতুলনীয়।
"তোমাকে ভালবাসি হে নবী" বইটির প্রতি আগ্রহ জন্মায় লেখকের নাম দেখে। বইটি লিখেছেন গুরুদত্ত সিং, যিনি একজন শিখ ধর্মাবলম্বী। বইয়ে তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছেন 'নবীর প্রতি অনুরাগী' হিসেবে। এটি মূলত উর্দু ভাষায় লেখা। মূল নাম "রাসূলে আরাবী"। বাংলায় অনুবাদ করেছেন মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ। বইটিতে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জন্মলগ্ন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সম্পূর্ণ জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে।
#কাহিনী_সংক্ষেপ তখন আরবে চলছিলো আইয়ামে জাহেলিয়াত অর্থাৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ। এমন কোন অপরাধ ছিলো না যা আরববাসীরা করতো না। এমন বিপথগামী জাতিকে আলোর সন্ধান দিতে আল্লাহপাক পৃথিবীতে পাঠালেন আরব তথা গোটা পৃথিবীর জন্য শ্রেষ্ঠ নেয়ামত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে। জন্মের ছয়মাস পূর্বেই বাবাকে হারান প্রিয় নবী (সাঃ)। আরবদের নিয়ম মেনে মা আমিনা ছোট্ট মুহাম্মদ (সাঃ)-কে তুলে দেন দুধমাতা হালিমার কোলে। ছয় বছর বয়সে মা হারা হন তিনি। এরপর দাদা ও চাচার তত্ত্বাবধানে বড় হতে থাকেন তিনি।
ছোট থেকেই মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন সততা ও নিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আরববাসী তাঁকে 'আল আমিন' তথা বিশ্বাসী উপাধি দেয়। পঁচিশ বছর বয়সে বিবি খাদিজার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। যখন তাঁর বয়স চল্লিশ, তখন তিনি নবুওয়তপ্রাপ্ত হন। এবার 'আল আমিন' হয়ে গেলেন গোটা জাতির চক্ষুশূল। শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রিয় নবী (সাঃ)-কে অপদস্থ করতে শুরু করলো তারা। এক পর্যায়ে নিজ অনুসারীদের নিয়ে মদীনায় হিজরত করতে বাধ্য হলেন তিনি।
হিজরতের পর নবী (সাঃ) আরো বিপুল সাড়া পেতে থাকেন। ইতোমধ্যে ইসলামের ঝাণ্ডাতলে হাজির হয়েছেন হযরত উমর (রাঃ), হযরত আলী (রাঃ)-এর মত বীরযোদ্ধা। একে একে গোটা আরব প্রিয় নবী (সাঃ)-এর মতাদর্শে দীক্ষিত হওয়া শুরু করল। এক পর্যায়ে মক্কাও জয় করে ফেললেন ইসলামের বীর সেনানীরা। যারা প্রিয় নবী (সাঃ)-কে কষ্ট দিয়েছে, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে; সবাইকে মুহাম্মদ (সাঃ) বুকে টেনে নিলেন। বইটি পড়লে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন এ সম্পর্কে।
#পর্যালোচনাঃ প্রথেমেই বলেছি, বইটির লেখক একজন অমুসলিম। কিন্তু তাঁর লেখায় নবীপ্রেমের যে অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে তা এক কথায় অতুলনীয়। লেখক প্রিয় নবী (সাঃ)-কে নিয়ে এত ভালোবাসা ও আবেগ দিয়ে বই লিখেছেন যে পড়ার সময় মনেই হয়নি যে বইটি একজন অমুসলিম লিখেছেন। লেখকের কৃতিত্ব এখানেই।
লেখকের পাশাপাশি কৃতিত্ব দিতে হয় বইটির অনুবাদক মাওলানা আবু তাহের মেজবাহকে। তাঁর প্রাঞ্জল অনুবাদের কারণে বইটি পড়ে আরাম পেয়েছি। এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ দিতেই হয়।
এবার আসি বইয়ের কাহিনী প্রসঙ্গে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনী ছোটবেলা থেকে বহুবার পড়েছি। তারপরেও বইটি পড়ার পর মনে হয়েছে যেন নতুন কিছু জেনেছি। জানা তথ্যগুলোও ঝালাই করে নিতে পেরেছি। এত সংক্ষেপে প্রিয় নবীপাক (সাঃ)-এর জীবনী জানতে পারা সৌভাগ্যের ব্যাপার। ধর্ম নির্বিশেষে সবার পড়া উচিত বইটি। ভালো লাগার সকল উপকরণ বইটিতে ছড়ানো আছে।
#পুতুলের_রিভিউ বইয়ের নাম-তোমাকে ভালোবাসি হে নবী লেখক-গুরুদত্ত সিং অনুবাদক-মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ পৃষ্ঠা-১০৮ মুদ্রিত মূল্য-৬৫টাকা প্রকাশনী-দারুল কলম প্রকাশনী
#রিভিউঃ মূল বইটির নাম "রাসূলে আরাবী" যা উর্দু ভাষায় ইসলামের নবীর প্রতি অনুরাগী একজন শিখ গুরুদত্ত সিং-এর কলমে রচিত।লেখক বইটি মূলত নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী নিয়ে লিখেছেন। ইতিহাসে এর চেয়ে উচ্চস্তরের গ্রন্থ থাকলেও এই বইয়ের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো কোনো কোনো অমুসলিম লেখক নবীর প্রতি এতটা ভক্তি ও ভালোবাসা নিয়ে লিখেছেন যে তার লেখার হরফে হরফে নবীর জন্য প্রেম-ভালোবাসা অনুভব করা যায়। লেখকের কলম কতটা আবেগ ও উচ্ছ্বাসের স্রোতে প্রবাহিত হয়ে চলেছে তা এই বইটি আগাগোড়া পড়লেই বুঝা যায়।
বাংলাদেশের কোটি কোটি "ভক্ত" ও কতিপয় "বিরক্ত" উভয় শ্রেণীর হাতে তুলে দিয়ে, যারা নবীভক্ত পাঠক তাদেরকে নবী প্রেমের একটি নতুন সৌন্দর্যে অবগাহন করার সুযোগ করে দিতে এবং কতিপয় "বিরক্ত" শ্রেণীর লোক যারা, তাদের মন-মগজের সব জঞ্জাল একজন অমুসলিমের হৃদয় থেকে উৎসারিত স্রোত-ধারায় ভেসে যেতে পারে এবং আল্লাহর ইচ্ছা হলে তাদেরকেও পরিশুদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দিতে "মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ" বইটির অনুবাদ করেন।
আপনিও যদি প্রবেশ করতে চান নবী-প্রেমের নতুন একটি অঙ্গনে। যেখানে নবী-প্রেমে স্নাত হয়ে একজন অমুসলিম লিখেছেন এমন অনবদ্য একটি বই। তবে দেরী না করে এখুনি পড়ে ফেলুন "তোমাকে ভালোবাসি হে নবী!" বইটি।
#পাঠ_প্রতিক্রিয়াঃ বইটি পড়লে যেন হৃদয়ে নতুন করে নবী-প্রেম জন্ম নেয়।আর লজ্জিত মনে বারবার মনে হয় কোনো অমুসলিম যদি আমাদের নবীকে এমনভাবে ভালোবাসতে পারে,তাহলে আমরা যারা তার উম্মত তাদের কেমন হওয়ার কথা ছিলো, অথচ কেমন হয়েছি!!
নবী (সাল্লেল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখার মাধ্যমে ইসলামের প্রতি একজন অমুসলিম লেখকের অগাধ ভালবাসার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে এ বইতে যা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। আল্লাহ তার এই ভালবাসাকে তার হেদায়াতের মাধ্যম হিসেবে গ্রহন করুক। তবে যেহেতু ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যাবস্থা তাই নবী (সাল্লেল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর জীবনীতেও এমন কোন বাক্য না থাকাই শ্রেয় যা আমাদের সালাফগনের শিক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এবং যা সাধারন ক্ষেত্রে প্রযজ্য হলেও নবী (সাল্লেল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বা আল্লাহর ক্ষেত্রে বর্জনীয়। লেখক একজন অমুসলিম বলেই হয়তো সে ব্যাপারটি উপলব্ধি করতে পারেননি যার প্রমান আমরা দেখতে পাই বইয়ের উল্লেখিত কিছু ব্যাক্যে উধাহরনসরূপঃ [“নুরে খোদার তাজাল্লিতে ধন্য হলে”] [“তোমার নুর তাজাল্লির একটুখানি প্রসাদ লাভের আশায়...দোহায় তোমার প্রেমের”] [“আল্লাহর কি লীলা খেলা” ] [“স্রষ্টার প্রেমে যিনি পূর্ণ স্নাত হয়েছেন”] ইত্যাদি। ইসলামিক আকিদা যেহেতু একটু স্পর্শকাতর বিষয় এবং একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য তাই বাক্য বিন্যাসের ক্ষেত্রে সাবধানতা জরুরী অন্যথায় বর্ণনার সৌন্দর্যের কারনে এমন কোন বাক্যে আমাদের বিশ্বাস চলে আসতে পারে যা কিনা ঈমান বা আকিদার সাথে সংঘর্ষসরূপ। আর তাই এই দিকটা আমাদের সাবধানতার সাথে এড়িয়ে চলা উচিৎ। পাশাপাশি এটাও শিক্ষণীয় যে ইসলাম ও নবী (সাল্লেল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি লেখকের যে ভালবাসা তা আবারো প্রমাণ করে তার উদ্দেশ্য কত মহৎ এবং ইসলাম আল্লাহর প্রেরিত কত সুন্দর ধর্ম যা আমাদের জন্য অনুপ্রেরনা এবং সুন্দর মুসলিম হওয়ার একটি শিক্ষা।
‘হে নবী আমি তোমাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (২১-সূরা আম্বিয়া : ১০৭)
মহানবী সা এর সিরাত বিষয়ক বইগুলোর সাথে আমরা বেশ পরিচিত। আর রাহিকুল মাকতুম, বিশ্বনবী সা, সিরাত ইবনে হিমাশ সহ বহু সিরাত বা মহানবী সা জীবনগ্রন্থ বাজারে পাওয়া যায়। তবে সিরাত লেখকগণ সবসময়ই মুসলিম হয়। কিন্তু অমুসলিম কোনো লেখকের সিরাত তাও আবার মহানবী সা ওপর শুনে সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। এবারে বইটা (পড়ুন পিডিএফ😑) পড়ার সৌভাগ্যটাও হয়ে গেল।
মহানবী সা সম্পর্কে লেখতে গেলে ভাষা হারিয়ে যায়। এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক দিয়ে তাকে জানা, অনুসরণ করা আসলেই কোনোভাবে সম্ভব নয়, তবুও শুধু বুক রিভিও হিসেবে কিছু কথা তুলে ধরলাম।
বইয়ের মূল অংশ চারটি।
শুরুটা হয়েছিল মহানবী সা সম্পর্কে আকুতি মিনতি নিয়ে। এখানে একটা বিষয় বলে রাখা ভালো এই অংশে সাহিত্যের ব্যবহার লক্ষণীয়, কিন্তু অনুবাদ পড়ে কখনও এর আসল মজা পাওয়া সম্ভব নয়। বইয়ের শুরুতে এর মূল ভাষায় না পড়তে পারার তীব্র শূন্যতা অনুভব করেছি। বারবার মনে হয়েছে অনুবাদ এমন হলে মূল ভাষায় তবে কেমন হত🥺
মহানবী সা জন্ম প্রবাহ ও জন্মের আগে তার পিতার মৃত্যু, শৈশব, মাতার মৃত্যু এবং খাদিজা রা এর সঙ্গে বিবাহ এই অংশে ছিল।
দ্বিতীয় অংশ মূলত মহানবী সা এর নবুওত প্রাপ্তির ও এর আগে পরের ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। সাধারণ কথায় সাহিত্যভাব রেখে লেখক খাদিজা রা এর বর্ণনা, নবুয়ত প্রাপ্তি, উমার রা এর ইসলাম গ্রহণ, খাদিজ রা ও আবু তালিবের মৃত্যু এবং তায়েফে গমন ছিল শীর্ষ আলোচনা।
তৃতীয় অংশে এলেই পড়ার ধরণ বদলে যাবে। আগে সাহিত্যের ব্যবহার বেশি থাকার জন্য অনুবাদে অনেক জায়গায় কমতি মনে হতে পারে। তবে এই অংশে ইসলামের হিজরত ও ইসলামের বর্ণনামূলক আলোচনা থাকায় সহজে পড়তে পারবে। মহানবী সা এর উদারতা এবং ইসলামের বিস্তার, মদিনা নামক রাষ্ট্র গঠন কীভাবে হয়েছিল সে সম্পর্কে এই অংশটা। তবে সবচেয়ে চমৎকার লেগেছে অমুসলিম হিসেবে তিনি জিহাদের মানে বুঝতে পেরেছিলেন। আর আজ মুসলিম হয়েও আমরা পালিয়ে বেড়াই😪
সর্বশেষ অংশে বিভিন্ন যুদ্ধ ও দাওয়াহর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক প্রতিটা অংশের মতোই এখানেও সাধারণ ও সহজবোধ্যতা ধরে রেখেছিলেন। পড়লে একজন অমুসলিমের মহানবী সা এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ স্পষ্ট হবে পাঠকের কাছে। শেষে মহানবী সা এর ইন্তিকালের পরে শেষের অংশটুকু হৃদয়স্পর্শী ছিল।
"আকাশ কাঁদলাে , পৃথিবী কাঁদলাে । রাতের তারাদের আলাে নিভে গেলাে , বাগানে ফুলের হাসি মিলিয়ে গেলাে । সৃষ্টিজগতের সর্বত্র একই সুর , তিনি নেই , তিনি নেই !
হে আমেনার দুলাল ! হে প্রিয়তম মুহাম্মদ ! বড় দ্বিধা - সংকোচ ও লাজ - শরম নিয়ে কলম তুলেছি তােমার কথা লিখবাে বলে , যদি তাতে মনের বিরহ জ্বালার কিঞ্চিৎ উপশম হয়!
কলমের কি সাধ্য তােমার সৌন্দর্য তুলে ধরে ! তােমার পূর্ণতার ছবি আঁকে ! জানি এ অতি বড় ধৃষ্টতা । কিন্তু এতাে জন এতাে ক্ষমা পেলাে তােমার কাছে , আমি কি পাবাে না !
হে প্রিয়তম আহমদ ! কখনাে অন্য কোন লােকে দেখা যদি হয় , আর আমি যদি আমারই পাপের ভারে ডুবে যাই তখন কি আমাকে তুমি চিনবে ! কাছে টেনে নেবে না ! সে আশায় বুক বেঁধে আছি হে প্রিয়তম !"
"তোমাকে ভালবাসি হে নবী" বইয়ের নামটি প্রথমেই মনে হতে পারে যে এটি কোনো আলেম-উলামার লেখা সীরাতগ্রন্থ হবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বইটি লিখেছেন ভারতীয় অমুসলিম একজন আইনজীবী—গুরুদত্ত সিং। ১০৮ পৃষ্ঠার এই ছোট সীরাতগ্রন্থটি পড়তে গিয়ে আমার যে অনুভূতি জন্মেছে, তা অন্য কোনো ছোট সীরাত বইতে পাইনি। আগে যেসব ছোট সীরাত পড়েছি, সেগুলো অধিকাংশই ছিল ঘটনাবলীর বিচ্ছিন্ন সংকলন—নবীজী ﷺ -এর জীবনের বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন আখ্যান। কিন্তু এই বইয়ে রাসূল ﷺ এর জন্মপূর্ব যুগ থেকে শুরু করে ওফাত পর্যন্ত ঘটনাবলি সুন্দর ধারাবাহিকতায় তুলে ধরা হয়েছে।
বইটির ভাষায় একধরনের উচ্ছল আবেগ রয়েছে—যে আবেগ পাঠকের ভেতর নবীপ্রেমের দরজা খুলে দেয়। পড়তে পড়তে আমি বারবার ভাবছিলাম, ভিন্নধর্মী একজন মানুষ কীভাবে এমন গভীরভাবে আমাদের রাসূল ﷺ -কে উপলব্ধি করলেন? একজন মুসলিম হিসেবে এটি আমার জন্য যেমন বিস্ময়ের, তেমনি কিছুটা লজ্জারও—কারণ জন্মসূত্রে তাঁর উম্মত হয়েও আমি কি কখনো সত্যিকার অর্থে তাকে জানতে চেয়েছি? তাঁর জীবনের আলো কি আমি আমার জীবনে আনতে চেষ্টা করেছি?
লেখকের বর্ণনা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল যেন এক প্রাণচঞ্চল ঝর্ণাধারা বইছে, যার স্রোতে আমিও ভেসে যাচ্ছি ধীরে ধীরে। মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, এই মানুষটি নবী ﷺ -এর প্রতি এতটুকু আকুল প্রেম কীভাবে ধারণ করলেন মুসলিম না হয়েও? মনে প্রশ্ন জাগল— বিদায় গ্ৰহণের পূর্বে তিনি কি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ? তাই যেন হয়।
সীরাত সম্পর্কে জানতে চাইলে অনেকেই বড় বড় গ্রন্থ হাতে নিতে সংকোচ বোধ করেন—সময় আর ধৈর্যের অভাব তো আছেই। তাদের জন্য এটি সত্যিই একটি অমূল্য বই। ছোট, সরল, অথচ হৃদয়ের গভীরে স্থায়ী দাগ রেখে যায় এমনই একটি বই।
খুব সুন্দর সংক্ষিপ্ত একটি সীরাতগ্রন্থ। লিখেছেন একজন অমুসলিম। একজন অমুসলিম ব্যক্তি এমন আবেগ ভালোবাসা দিয়ে হুজুর সাঃ এর জীবনী লিখেছেন; আবেগাপ্লুত হয়ে যাই। অনুবাদ করেছেন বর্তমান সময়ের একজন সেরা সাহিত্যিক। আবু তাহের মেসবাহ সাহেব। যেমন লেখকের ভাষা তেমনি অনুবাদকের ভাষা শৈলী। অসাধারণ একটি ��াহিত্য কর্ম।
একটি ছোট সুন্দর সীরাত গ্রন্থ। লেখক যতটা না ইতিহাস লিখেছেন তার চেয়ে বেশী প্রকাশ করেছেন তার রসুল (সাঃ) প্রেম। তার কাব্যিক বর্ননা পড়ে আমার বিশ্বাস হয় না, লেখক অমুসলিম। কিন্তু একটা কথা না বললেই না সেটা হোল অনুবাদক এর ভূমিকা। এই বই এ অনুবাদক তার মতামত ঐতিহাসিক ভাবে ঠিক নয় এ রকম তথ্য দিয়েছেন; এ ক্ষেত্রে পাঠককে সতর্ক থাকতে হবে।
করোনাকালে ৪০-৫০ টার মত বই পড়া শেষ হলেও এই একটি বই যেন শব্দে শব্দে নাড়া দিলো। একজন শিখ ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি এতো সুন্দর করে নবিকে জেনেছেন, যে তাঁকে নিয়ে একটি ছোট সিরাহ্ লিখে ফেললেন। সেখানে 'হৃদয়ের আকুতি' যে কি মধুর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে অভাবনীয়। তোমাকে ভালোবাসি হে নবী -গুরুদত্ত সিং
বইটা অনেক সুন্দর। ভিন্নধর্মের একজন লোক আমাদের নবীজিকে নিয়ে লিখেছেন এবং তাঁকে কতটা ভালোবাসতেন। এটা অবশ্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। সবচেয়ে ভালো লেগেছে আবু তাহের মিসবাহ (আদীব হুজুর) এর ভূমিকা। তিনার মতো আমি ও আশাবাদী লেখককে হয়তো আল্লাহ ঈমানের দৌলত দান করে জান্নাতবাসী করবেন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
গুরুদত্ত সিং দারা রচিত "রাসূলে আরাবী" এর অনুবাদ, মূলগ্রন্থ উর্দু ভাষায় রচিত, বইটি পড়ার পর অনুবাদক আবু তাহের মিসবাহ হাফি. র কথা সাহিত্যের ফ্যান হয়ে গেছি।
এই বইটি আমার পড়া সেরা দশে সবসময়ই থাকবে। একজন বিধর্মী আমাদের নবীকে এতো ভালোবাসতে পারে তা এই বই না পড়লে অজানাই থেকে যেতো। "বইটা পড়ে না দেখা লেখকের নবী প্রেমের সামনে আমি ছোটো হয়েছি বারবার। কী করে একজন অন্য ধর্মের লোক আমার নবীকে এতো ভালোবাসতে পারে? তার প্রতিটি বর্ণনায় নবী প্রেম দেখে উম্মত হিসেবে আমি খুবই লজ্জিত"। আর অনুবাদক আবু তাহের মিসবাহ (আদীব হুজুর) আমার স্বপ্নের পুরুষ। এই বইটা তিনি অনুবাদ না করলে হয়তো এতো মজা পেতাম না।
অসংখ্য শ্রদ্ধা অনুবাদক ও লেখকের প্রতি।
পাঠকের প্রতি অনুরোধ! 'রাসুল প্রেম কী'? এই বইটা না পড়লে আপনার অজানা থেকে যাবে। বইটা পড়লে সময় নষ্ট হবেনা এটুকু শক্তবাক্যে বলতে পারি।
...
২য় রিভিউঃ বাংলাদেশী ইসলামী লেখক হিসেবে আবু তাহের মিসবাহ (আদীব হুজুর) সাহেব আমার কাছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পছন্দের একজন লোক।
তারই অনূদিত একটি বই পড়লাম "তোমাকে ভালোবাসি হে নবী!"
বইটা আগেও পড়েছি। সাধারণত একটা বই দুইবার পড়লে তৃপ্তিও দ্বিগুণ হয়। কিন্তু, এটাতে মনে হচ্ছে আগের উপলব্ধি ভালো ছিলো। এখনও ভালো, তবে আগের টেস্টটা এখনও জিহ্বায় লেগে আছে।
যারা সীরাত পড়তে চান, তাদের জন্য শুরুটা এই বই দিয়ে হলে আমার মনেহয় ভালো হবে। আপনি অনুবাদকের অনুবাদ দেখে মনে হবে লেখক নিজে এই ভাষায় লিখলে হুবহু এরকম লিখতেন।
এতো দারুণ অনুবাদ মাশাল্লাহ! আর লেখকের রাসুলপ্রীতি পড়ে পাইকারী মুসলমানদের লজ্জা লাগবে। তার আবেগ ও ভালোবাসার কাছে নিজেকে নগণ্য মনে হবে।