Abu Taher Misbah (Bengali: আবু তাহের মিসবাহ/মিছবাহ), also known as Adib Hujur, is a prominent Bangladeshi Deobandi Islamic scholar, educator, and writer born on March 6, 1956. His father's name is Misbahul Haque. Despite his ancestral roots in Cumilla, Misbah grew up in Dhaka and completed his Islamic education, culminating in a Master's degree from Al-Jamia Al-Islamia Patiya in 1977.
Misbah's career in education began at Jamia Islamia Darul Ulum Madania and included a 25-year tenure at Jamia Nuria Islamia. During this time, he initiated an educational reform movement through a handwritten Arabic magazine called "Iqra" and developed the influential Madani curriculum. In 1992, he founded Madrasatul Madina under the supervision of Abdul Hai Paharpuri.
His most significant contributions include authoring "Esho Arabi Shikhi," a primary textbook for Arabic learning in Bangladesh, and numerous other educational materials. Misbah's work has had a lasting impact on Islamic education and Arabic language instruction in Bangladesh, establishing him as a respected figure in both religious scholarship and Bengali literature.
বাইতুল্লাহর মুসাফির এমন একটা বই যেটা আমি একটানা কখনও বেশী পড়তে পারি না। পড়তে গেলে চোখ ভিজে উঠে। মনে হয় যেন আদীব হুযুরের কথাগুলো হৃদয়ের ভালোবাসার গভীর সমুদ্রের কালিতে, পরশপাথরের সোনালী কলম ডুবিয়ে মনের কষ্টিপাথরে খোদাই করে লেখা।
বইটা পড়তে গিয়ে প্রচুর কেঁদেছি। এটাকে অন্ততপক্ষে ১০০+ স্টার দেওয়া উচিত। বইটা আমার হজ্জ করতে চাওয়ার ইচ্ছাকে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার উছিলা হিসেবে কাজ করেছে। পুরোটা সময় আমি বাংলাদেশে থাকলেও আমার অন্তর পড়ে ছিল মক্কা- মদীনায়। এই অনুভূতি প্রকাশ করতে বইয়ে উল্লিখিত একটি কবিতা ও লেখকের একটি উক্তি উল্লেখ করছি।
“The minute I heard my first love story, I started looking for you, not knowing how blind that was. Lovers don’t finally meet somewhere, they’re in each other all along…” — Rumi
এদেশে ইসলামি সাহিত্যের অন্যতম সেরা বই।লেখকের দরদমাখা কথামালা হৃদয়ের গহীনের বালুচরে ও ঝড় তুলে দেবে।নতুন পড়ুয়ারা হিসেব রাখতে পারেন ঠিক কতোবার আপনার চোখ অশ্রুসিক্ত হলো পড়তে গিয়ে।
লেখকের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হয়,তাঁর এত্তো সুন্দর জীবন দর্শন ও বইয়ের পরতে পরতে ছড়িয়ে দেবার জন্যে।মনোযোগ দিয়ে পড়লে প্রচুর মণিমুক্তা কুড়াতে পারবেন এই সৈকতের পাড়ে।
জীবনগাঙে বহুত পারাপার সাঙ্গ হলো,বহুত আঁচড় পড়লো,জমলো কতক পলিমাটি কিন্তু এই বই হৃদয়ের গহীনে খুব ছোট্ট একটি জায়গায় আজীবন বিমলিন থাকবে,এটাই এর সার্থকতা।
কিছু প্রিয় উক্তিঃ
১."যখন তোমার কোন ঠিকানা থাকেনা, নামাযকে বানাও তোমার ঠিকানা। যখন তোমার কোন আশ্রয় থাকে না তখন নামাযের আশ্রয় ভুলে যেয়ো না। নামাযের মাধ্যমে যাকে ডাকবে তিনিই তোমাকে দেবেন নিশ্চিত আশ্রয় ও ঠিকানা।"
২."আল্লাহকে বান্দা আর কী দিতে পারে দু'ফোঁটা অশ্রু ছাড়া!"
আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক শুধু আবদিয়াত ও দাসত্বের নয়; বরং প্রেম ও ভালোবাসা এবং ইশক ও মুহাব্বাতেরও সম্পর্ক।
৩.-"হৃদয় যদি স্রস্টার ডাকে সাড়া দিতে পারে, হৃদয় যদি সৃস্টির সৌন্দর্যের বাণী শ্রবণ করতে পারে তাহলে তোমার সামনে পরম সত্যের প্রকাশ এবং সুপ্ত রহস্যের উদ্ভাস ঘটবে। তখন তোমার কলম জীবন্ত হবে, সৃজনশীল হবে।" ৪."কী আছে এ ঘরের মাঝে! এই কালো গিলাফের আবরণে! এমন সাধারণ, অথচ এত অসাধারণ! কী রহস্য এর!শুধু এই যে,এ আমার আল্লাহর ঘর!আচ্ছা, তুমি আল্লাহর ঘর বলে তোমার এত সৌন্দর্য ও মহিমা! তোমার এত মর্যাদা ও গরিমা! তাহলে আমি যদি আল্লাহর বান্দা হতে পারি! যদি আল্লাহর রঙে নিজেকে রাঙাতে পারি!হে আল্লাহ! তোমার ঘর দেখে, চোখে তোমার ঘরের কৃতজ্ঞতার সুরমা মেখে মেখে আমি যেনো হতে পারি তোমার...! " ৫."অশ্রুর যখন জোয়ার আসে পাপের আবর্জনা তখন ভেসে যায়, হৃদয় তখন স্বচ্ছ ও পবিত্র হয়। মুনাজাত ও প্রার্থনা তখন বড় মিনতিপূর্ণ হয়।"
This entire review has been hidden because of spoilers.
আমি চেয়েছিলাম আমার প্রথম বই রিভিউ হোক - 'বাইতুল্লাহর মুসাফির'। রিভিউ তো আমি লিখতে জানিনা, শুধু বোধ হয় অনুভুতিগুলোকে কিছু শব্দের খাঁচায় বন্দী করে রাখবো। সেই চেষ্টাকে আমার রব কবুল ফরমান।
হিজায ভূমির মুসাফির হওয়ার স্বপ্ন তো ছিলই। কিন্তু সেই স্বপ্নও যে আরও সুন্দরভাবে দেখা যায়, অন্তরের সবটুকু ঢেলে সেই স্বপ্নে বিভোর হওয়া যায়, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে গিয়ে তাওয়াক্কুলের পাহাড়ে আরোহণ করা যায় - এইসবই যেই বই থেকে জানলাম তার নাম 'বাইতুল্লাহর মুসাফির'৷ নিজে মুসাফির হবার তীব্র বাসনা আরও তীব্রতর হলো আরেকজন মুসাফিরের গল্প পড়ে। আদীব হুজুর হাফিজাহুল্লাহ এর কলমের ডগা থেকে তাওয়াক্কুলের পাঠ ও যে নবীপ্রেম পড়েছি, তার আসর অন্তরের গহীনতর অরণ্যেও ছড়িয়ে গেছে। আপন গুণ ও কুরবানীর কথা ঢেকে বারবার বলেছেন অন্যদের কুরবানীর কথা। এই জীবনে আমি উনাকে মুসাফির হিসেবেই জানি - এই দুনিয়াতেও উনি এক মুসাফির হয়ে বাঁচেন বলে আমার বিশ্বাস। হাফিজাহুল্লাহ।
বাইতুল্লাহর মুসাফিরের কলমের মাধুরীতে অভিভূত হয়ে যখন একের পর এক ঘটনাচক্রে আগাতে থাকি, নিজের অজান্তেই আরেকজন মানুষকে ভালোবেসে ফেলা যায়। তিনি হলেন হযরত হাফেজ্জি হুজুর রহিমাহুল্লাহ। তাঁর ছায়ায় যেন গড়ে ওঠা বাইতুল্লাহর মুসাফিরের একেক গদ্যশৈলী। তাঁর অনুকরণেই যেন সকল ঘটনাচক্র সামনে আগায়। একজন আল্লাহওয়ালা মানুষের নিসবত কেমন তার এতোটুকু আঁচ পাওয়া যায়, আলহামদুলিল্লাহ। সবচেয়ে আশ্চর্য হই, তিনি আমাদের শিখিয়ে ফেলেন - ভালোবাসতে হয় কীভাবে! আল্লাহ রব্বুল আলামীন ও আল্লাহর প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসার এই উজ্জ্বল পাঠ শুধু এই সফরের অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
হঠাৎ মনে হয়, আরাফাহর ময়দানে হাফেজ্জি হুজুর রহ. এর সাথে বোধ হয় আমিই দাঁড়িয়ে আছি। নিশ্চিন্ত মনে তাওয়াফ করছি আল্লাহর পবিত্র ঘর। জান্নাতুল বাকী যিয়ারত করতে গিয়ে আমারও দাড়ি ভিঁজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। মনে হয়, আমিই যেন বাইতুল্লাহর মুসাফির।
অনেককিছু বলে ফেলতে ইচ্ছে করে। বলতে ইচ্ছে করে, বইয়ের কোন পৃষ্ঠায় চোখ ঝাপসা হয়ে গেল, কোন পৃষ্ঠায় হেসেছিলাম - আর কোন পৃষ্ঠায় ব্যাকুলতার অন্তীম সীমায় পৌঁছে গিয়ে ডুকরে কেঁদে ফেলেছি!
প্রিয় পাঠক, আপনার যদি বাইতুল্লাহর মুসাফির হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে ইচ্ছে হয় - তাহলে আপনিও এই বইয়ের সাহচর্যে এসে মুলাকাত করুন আশেকে রসূল এই মুসাফিরের সাথে! হাফিজাহুল্লাহ। প্রিয় পাঠক! আপনি যদি কখনো এই লিখা পড়ে বইটি পড়া শুরু করেন তাহলে এই অধমকেও আপনার দুআতে শামিল রাখবেন। মহান রব্বুল আলামীন যেন আমাকেও সৌভাগ্যবানদের কাতারে শামিল হবার তাওফিক নসীব করেন।
রিভিউ লিখে বলা সম্ভব না । সকল মুসলমান যারা কা'বা সামনে দাড়াতে আগ্রহী কোনও একদিন , এই বইটি তাদের পড়া উচিত সেখানে যাওয়ার আগে । আপনাকে অনেকটাইশুদ্ধ করে তুলবে এই বইটি ।
বইটি পড়তে গিয়ে টপটপ করে চোখের পানি ঝরেছে। মনে হয়েছে—লেখকের সঙ্গে আমিও যেন আল্লাহর ঘরের পথে রয়েছি। খুবই প্রিয় বই। লেখকের আবেগঘন বর্ণনা মুগ্ধ করেছে।
আমার পড়া দ্বিতীয় সফরনামা এটি । মা শা আল্লাহ । কোন বই যে এত সুন্দর হতে পারে তা এই সফরনামা না পড়তে বুঝতে পারতাম না । এত সুন্দর বই লেখার জন্য লেখকে, জাযাকাল্লাহ ।
“বাইতুল্লাহর মুসাফির” একটি আধ্যাত্মিক ভ্রমণকাহিনী। ভ্রমণকাহিনী ঠিক নয়; হজ্জ ও ওমরার সফরনামা, যা কেবল ভ্রমণ নয়—বিশ্বাস, ভালোবাসা ও অন্তরের ঐকান্তিক স্বচ্ছানুভূতির বয়ন করা পুষ্পিত রূপ।
**আধ্যাত্মিক শিক্ষা** ইখলাস, লিল্লাহিয়্যাত, আদাবের অমিত মিশ্রণ—ইবাদতের মহিমা দেখতে পাওয়া যায়।
**কার জন্য** বইটির সবার জন্যই-আমি মনে করি-অবশ্যপাঠ্য। তবে যারা হজ বা ওমরা করতে যাচ্ছেন—তাদের জন্য মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির কল্যাণকর নির্দেশক বন্ধু; যারা ইবাদত ও অন্তরের পরিশোধন চায় তাদের জন্যও।
**সীমাবদ্ধতা** কিছু অংশ হজের বাইরে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে, তবে সামগ্রিক প্রভাব অপ্রতিরোধ্য।