রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
কঙ্কাল দ্বীপ অভিযানের রিপোর্ট দিতে গিয়েছিল তিন গোয়েন্দা মিস্টার ডেভিস ক্রিস্টোফারের অফিসে। ওখান থেকে ফেরার পথেই গাড়ি দূর্ঘটনার ঘটনায় অপ্রত্যাশিত ভাবে তিন গোয়েন্দার সাথে দেখা হয় ভ্যারানিয়া দেশের রাজপুত্র দিমিত্রির সাথে। তিন গোয়েন্দার সমবয়সী তিনি। শীঘ্রই ভ্যারানিয়ার প্রিন্স হওয়ার কথা দিমিত্রির। তিন গোয়েন্দার সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। প্রিন্সের বাবা ৮ বছর আগে মারা গেছেন। তারপর থেকেই ডিউক হয়ছেন রোজার। রোজারের ষড়যন্ত্র স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকবে। তাই প্রিন্সকে সরিয়ে দিতে নানা পরিকল্পনা করতে থাকে। প্রিন্সের দাওয়াতে অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে ভ্যারানিয়া যায় তিন গোয়েন্দা। সেখানে গিয়ে খোঁজ পায় নতুন রহস্যের। সোনালী জালের মাঝখানে বসে আছে একটা রুপালী মাকড়সা, এক পায়ে ধরে রেখেছে তলোয়ার। একদিন চুরি হয়ে গেল রুপালী মাকড়সা!
তিন গোয়েন্দার দারুণ একটা কেস। বইটা যখন প্রথম পড়েছিলাম, মনে হচ্ছিল এসব আমার সাথে ঘটে চলেছে। মনে হচ্ছিল আমিও আছি তিন গোয়েন্দার সাথে ছায়া হয়ে!
তিন গোয়েন্দার যে কয়টা গল্প আমি বারবার পড়ি, তার মধ্যে একটি “রূপালী মাকড়সা”। কিছু গল্প থেকে, যে গল্পগুলো বারবার পড়লেও বিরক্তি আসে না। আপনি কাহিনি জানেন, সাসপেন্স সম্পর্কে অবগত আছেন, ঘটনাপ্রবাহ কেমন হবে তা-ও আপনার জানা — তবুও আপনি সে গল্প যতবার পড়বেন, ততবার তৃপ্তি পাবেন। একইভাবে মজে যাবেন। ঠিক প্রথমবারের মতো। আমার কাছে তিন গোয়েন্দার কিছু গল্প এমনই। অসংখ্য ভারী বই পড়ার পর তিন গোয়েন্দা পড়া মানে হচ্ছে মস্তিষ্কে স্বস্তির পরশ।
রকিব হাসানের প্রয়াণের খবর পাওয়ার পর যে বিষন্নতায় ডুবে গিয়েছিলাম, মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল, তা কাটাতে তিন গোয়েন্দার কাছে ফিরে আসা প্রয়োজন ছিল। নিজের প্রিয় গল্পগুলোর একটায় ডুবে গিয়ে স্মৃতিচারণ করতেই হতো।
“রূপালী মাকড়সা” ইউরোপের এক ছোট্ট রাষ্ট্রের উপর ভিত্তি করে রচিত। ভ্যারানিয়া নামক সে রাষ্ট্রের হবু প্রিন্স আমেরিকায় ঘুরতে এসেছে। ঘটনাক্রমে তার সাথে তিন গোয়েন্দার দেখা। একজন প্রিন্সকে অনেক নিয়মকানুনের মধ্য দিয়ে, প্রহরীদের সাথে নিয়ে চলতে হয়। তার স্বাভাবিক জীবন বলে কিছু নেই। তাই কিশোর, মুসা, রবিনকে দেখে তার মনে আক্ষেপ জাগে। তিন গোয়েন্দাকে বন্ধুত্বের নিবেদন করে। আর সেই নিবেদনে সাড়া দেয় ওরাও।
ভ্যারানিয়া ছোট্ট রাষ্ট্র হলেও এর ব্যাপকতা বিশাল। নাহলে কেন মার্কিন মুল্লুক একে নিয়ে এত মাথা ঘামাবে। ভৌগোলিক দিক দিয়ে এই রাষ্ট্র হতে পারে পৃথিবীর সকল দেশের স্পাইদের আঁতুরঘর। আর সে কারণে আমেরিকার মতো দেশ, যাদের সর্বেসর্বা হওয়ার বাসনা; তাদের মাথা ঘামাতেই হয়। আর তাই দিমিত্রির অভিষেকের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই কপালে ভাঁজ পড়ছে আমেরিকান সরকারের। আর সে কারণেই প্রিন্সের বন্ধু হিসেবে তিন গোয়েন্দাকে পাঠাতে চায় সরকার। ওদিকে একজন প্রিন্সের নিজ দেশে কে বন্ধু আর কে শত্রু বোঝার উপায় নেই। সবাই তোষামোদে ব্যস্ত। কিন্তু ভিনদেশ থেকে কেউ এলে বন্ধুত্বের দাবি নিয়েই আসে। সত্যিকারের বন্ধু।
কিন্তু ভ্যারানিয়াতে প্রবেশ করেই রহস্যের গন্ধ পেল কিশোর। পিছনে এক বা একাধিক স্পাই লেগে আছে। কেন যেন মনে হচ্ছে এই অভিষেক অনুষ্ঠান বানচালের চেষ্টা করছে বর্তমান রিজেন্ট ডিউক রোজার। ক্ষমতা দখলের সুযোগ পেলেই কে বা ছাড়তে চায়? ভ্যারানিয়া রাজ্যের প্রতীক, প্রিন্স প্ললের ভাগ্যের নিদর্শন রূপালী মাকড়সা হারিয়ে গিয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, চুরি হয়েছে। আর তার জন্য ফাঁসিয়ে দেওয়া হয় তিন গোয়েন্দাকে।
কীভাবে বাঁচবে ওরা? প্রিন্স দিমিত্রিকে বাঁচাতে এসে ওরাই যেন বিপদে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু এখানে যখন বুদ্ধির খেলা, তখন কিছুতেই হাল ছাড়বে না কিশোর। নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। ডিউক রোজারের মুখোশ খুলে দিতে হবে। সর্বোপরি রূপালী মাকড়সাকে খুঁজে বের করতে হবে। তবেই এক ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া যাবে।
রকিব হাসানের লেখা নিয়ে কিছু বলার মতো ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি লেখকের গুণমুগ্ধ একজন ভক্ত। যার লেখনশৈলী, ভাষার কারুকাজ আমাকে বরাবরই মুগ্ধ করে। কিশোর উপযোগী করে লেখা বেশ কঠিন কাজ। ভাষার কাঠিন্য পরিহার করতে হয়। সহজবোধ্য ও সাবলীল বাচনভঙ্গি উপস্থাপন করতে হয়। আর এই কাজে রকিব হাসানের মতো পারদর্শী আর কেউ নেই।
বলা হয়ে থাকে, হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের পাঠকদের ভারতীয় সাহিত্য থেকে এ দেশের সাহিত্যে ফিরিয়ে এনেছিলেন। আর আমার মতে, রকিব হাসান এদেশের কিশোর প্রজন্মকে বইমুখী করেছেন। দুইজনই দুই প্রজন্মকে বইয়ের ভুবনে প্রবেশের পথ দেখিয়েছেন। যা না হলে হয়তো এখন যা-ও পাঠক দেখা যায়, তা-ও দেখা যেত না।
“রূপালী মাকড়সা” কিশোর উপযোগী আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের রূপরেখা। যেখানে ক্ষমতা দখলের বাসনা, নিজের স্বার্থে যেকোনো কিছু করতে পারার আকাঙ্ক্ষায় মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে। একবার ক্ষমতার চেয়ারে বসলে সে চেয়ার এর ছাড়তে ইচ্ছে হয় না। যেকোনো মূল্যে তাকে ধরে রাখার আপ্রাণ প্রয়াস সেই ব্যক্তিকে একজন নিকৃষ্ট জীবে পরিণত করে।
বাস্তবে ভ্যারানিয়া নামের কোনো রাজ্যের অস্তিত্ব নেই। তবুও এর ইতিহাস, রূপরেখা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাল্পনিক বর্ণনা মুগ্ধ করে। ছায়া অবলম্বনে হলেও লেখকের নিজস্বতা গল্পে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। যা পড়তে গেলে অনুধাবন করা যায়। টানটান উত্তেজনা, এর মাঝে লক্ষ্যে যাওয়ার বাসনা, মাঝে বিপদ ও সাসপেন্স যেকোনো কিশোরকে উত্তেজিত করে তুলবে।
কিশোর, রবিন, মুসা এখানে তাদের স্বাভাবিক চরিত্র যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছে। যদিও আমার মনে হয়েছে মুসাকে এখানে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গল্পের প্রয়োজনে বেশকিছু চরিত্রের আবির্ভাব হয়েছিল। তাদের কল্যাণে গল্প তার প্রাণ পেয়েছিল। মানুষের মধ্যে ভালো খারাপের এক মিশ্রণ থাকে। এই ভালো,খারাপ বুঝে নিতে হয়। তবে প্রিন্স দিমিত্রিকে যে কারোরই ভালো লাগবে। একজন, যিনি কিছুদিন পর একটি রাজ্যের প্রিন্স হবে, তার মধ্যে কোনো অহংকার নেই। আছে কেবল দৃঢ়তা। এই দৃঢ়তা না থাকলে রাজ্য শাসন করা যায় না।
পরিশেষে, “রূপালী মাকড়সা” গল্পটা আমি দশের অধিকেরও বেশি পড়েছি। তবুও নতুন লাগে। তিন গোয়েন্দার সাথে নতুন এক অভিযানে হারিয়ে যাওয়ার লোভ তো সামলানো যায় না। আবারো কোনো এক অভিযানের গল্প নিয়ে আসব। ততক্ষণ বিদায়।
ছোটবেলায় তো তিন গোয়েন্দা মাত্রই গিলতাম । অনেকটা যা পাই, তাই খাই টাইপ । ওই সময় আমার খাওয়ার ম্যানুতে এই বইটাও ছিলো । ওই সময়কার অনুভুতি অনুযায়ী, অসাধারণ ছিলো । এখন পড়লে কেমন লাগবে, জানি না । সত্যি বলতে কি জানতে চাইও না । কিছু অনুভুতি প্রথমের টা-ই ভালো । পরিবর্তন করা বোধহয় উচিৎ না । করাটা ঠিকও না । আহা আমার শৈশব, কৈশর ।
ভালই লাগলো পড়ে। আমেরিকা ছেড়ে ইউরোপের ক্ষুদ্র রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভ্যারানিয়ায় (কাল্পনিক) পাড়ি জমিয়েছে গল্প। রাজতান্ত্রিক ভ্যারানিয়াতে ঘটনাবহুল গোয়েন্দাগিরির সাথে ঐতিহাসিক কাল্পনিক যোগসূত্রগুলো ভালই ছিল। সব মিলিয়ে খারাপ না। রূপালী মাকড়শা খুঁজে পাওয়ার সর্বশেষ টুইস্টটা কেন যেন অনুমিতই ছিল, বাদবাকি কাহিনীর মোড়গুলো ভাল লেগেছে।
রূপালী মাকড়সার প্রত্যেকটা পৃষ্ঠা ছিল প্রচুর রোমাঞ্চকর! একটার পর একটা টুইস্ট। জোস্ ছিল। সবসময়ের মতোই রহস্যগুলো সমাধান হওয়ার পর অদ্ভুত একটা শান্তি লেগেছে। আর রহস্য গুলো কাঁপিয়ে দিয়েছে আমাকে।
(ভালো রিভিউ লিখতে পারিনা আমি। কোনোমতে নিজের অনুভূতি টুকু প্রকাশ করলাম। )
ইঊরোপের ছোট্ট এক দেশ ভ্যারানিয়া-র রাজপুত্র, দিমিত্রি দামিয়ান এর সাথে ঘটনাক্রমে বন্ধুত্ব হলো গোয়েন্দা দের।
রাজপুত্র কে ঘিরে গড়ে উঠছে রহস্য আর ষড়যন্ত্রের জাল। কোন এক মহল চায় না দিমিত্রি সিংহাসনে বসুক। সাহায্য করতে ভ্যারানিয়ায় পাড়ি জমালো তিন কিশোর।
দিমিত্রিকে অশুভ প্রমাণ করতে আর তার উত্তরাধিকার ঠেকাতে রাজপরিবারের প্রতীক এবং ইতিহাসের সাক্ষী, রূপালী এক মাকড়সা সরিয়ে ফেলা হলো নকল একটা রেপ্লিকা রেখে।
সাজানো নাটকে চুরি হওয়া রূপালী মাকড়সার দায় চাপানোর চেষ্টা হলো কিশোর মুসা রবিনের ওপর, যার সাজা মৃত্যুদণ্ড। পালানোর চেষ্টা শুরু করলো গোয়েন্দারা, শুরু হলো ইঁদুরদৌড়।
রয়্যাল গার্ড আর চক্রান্তের হোতা ডিউক রোজারের লোকদের ফাঁকি দিয়ে জান বাঁচানোর তাগিদে ছুটছে গোয়েন্দারা; ধরা পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি পালাতে পারবে কিশোর রা? আর চুরি হওয়া রূপালী মাকড়সা-ই বা কোথায়?
--------------- এটাকে আমি ঠিক 'রহস্য' গল্প বলবো না। 'অ্যাকশন' 'অ্যাডভেঞ্চার' জনরাতেই বেশি যায়। রহস্যের চেয়ে বেশি সাসপেন্স আর ধাওয়া - পাল্টা ধাওয়া। খারাপ না, তবে যে 'রহস্য' খুঁজতে বইটা নিয়ে বসেছিলাম- তার ফ্লেভার খুব বেশি ছিল না।
🔹 পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভ্যারানিয়া। এর আয়তন প্রায় ৫০ বর্গমাইল। সব দেশ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক হলেও ওই দেশের মানুষ তাদের পুরনো সংস্কৃতির সাথে বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সেই দেশের হবু প্রিন্স হলেন দিমিত্রি দামিয়ানি। উনি এখনো পুরোদস্তুর প্রিন্স নন, কদিন পরেই উনার অভিষেক। কিন্তু উনার পথে বাধা হয়ে দাড়ালো দেশের ডিউক রোজার। তিনি চায় প্রিন্সকে সরিয়ে রাজ্যের রাজা হতে। ঘটনাপ্রবাহে তিন গোয়েন্দার সাথে পরিচয় হয় প্রিন্সের। সে তার দেশে কিশোরদের আমন্ত্রণ জানায়। এবং সেখানেই তারা ফেঁসে যায় একটা মরণঘাতী চক্রান্তে। কি ভাবে তারা নিজেদের মুক্ত করবে আর কি ভাবেই বা রক্ষা করবে বন্ধুর রাজ্য?
🔹 গল্পটা আমার দারুণ লাগছে। সাধারণ ইনভেস্টিগেশন না, একেবারে স্পাই থ্রিলার। বিশ্ব রাজনৈতিক সংস্থার হয়ে কোন দেশের শান্তি রক্ষার গুরুদায়িত্ব। ভালো লাগছে অনেক। তিন গোয়েন্দা ছাড়াও মরিডো ও মেরিনার চরিত্রগুলোও দারুণ ছিলো। না পড়ে থাকলে এখুনি হারিয়ে যান কিশোর,মুসা ও রবিনের সাথে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে।
আমার মতো আরো হাজারো বাংলাদেশীর কৈশোরকে আনন্দময় করে তোলার জন্য রকিব হাসানকে অসংখ্য ধন্যবাদ। চোখ বন্ধ করলে এখনো দেখতে পাই বইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে তিন গোয়েন্দা পড়া, একেকটা ভলিউম কেনার জন্য বাবাকে জ্বালানো অথবা নতুন বই হাতে পাবা মাত্রই এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলতে চাওয়া। তিন গোয়েন্দা শুধুই একটা সিরিজ না, আমার জন্য তিন গোয়েন্দা মানে সেই চিন্তাহীন সোনালী সময়টাতে ফিরে যাওয়া। আর রূপালী মাকড়সা কতোবার যে পড়েছি তার কোনো হিসেব নেই। রবিনের বুদ্ধির প্রশংসাই করতে হয় বটে।
This book is whoopingly awesome. And this time, Tin Goyenda goes international! After 'accidentally' befriending Prince Dimitri of Varania in the aftermath of a mutual car accident, the trio accepts the invitation to the crowning of the prince and flies of to the kingdom. In Varania, The prince falls before a conspiracy by an unknown entity to overthrow the royals and seeks out the three investigators help. They gladly accept the case and faces a fierce, cold hearted rival who is on the edge of succeeding. And to make things worse for the trio, the time for the crowning draws near and the royal treasure of silver spider goes missing. Classic attempts of assassination, sharp plot twists make the reading worthwhile.
Heh! I feel like spoiling the hell out of it. But this book is a must read, and the third instalment of this series truly deserves the 5 stars.