রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
তিন গোয়েন্দাকে মনে আছে? ঐযে রকি বীচের তিন কিশোর। গোয়েন্দাপ্রধান কিশোর পাশা, সহকারী গোয়েন্দা মুসা আমান, নথি সংরক্ষক রবিন মিলফোর্ড। দুরন্ত তিন কিশোর। রহস্য-রোমাঞ্চের ব্যাবচ্ছেদ করা যাদের নেশা। এবার তাদের সামনে হাজির নতুন রহস্য, ‘ছায়াশ্বাপদ’।
তিন গোয়েন্দার এবারের মক্কেল মি. অলিভার। আমেরিকান রুচিশীল বৃদ্ধ। পৈত্রিক সম্পত্তির সুবাদে বেশ উচ্চবিত্ত জীবনের অধিকারী। তবে অযথা সম্পদ ব্যায় করেননি তিনি। বিভিন্ন শৈল্পিক জিনিসপত্রের প্রতি রয়েছে অগাধ আগ্রহ। তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ দেখলেই ধারণা পাওয়া যায় এ বিষয়ে। তবে ইদানিং বিচিত্র এক সমস্যায় ভুগছেন এই বৃদ্ধ। ইদানিং তার অলক্ষে তার ঘরে ঢুকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র দেখছে কোন ব্যাক্তি। যদিও বা তিনি বাইরে থাকলে তার ঘর তালাবদ্ধ থাকে, যার চাবি কেবলমাত্র তার কাছেই থাকে। আরও বিচিত্র ব্যাপার হলো তিনি ঘরে থাকা অবস্থাতেও কোন এক ব্যাক্তি তার ঘরে ঢুকছে, তবে তাকে ঠিক ব্যাক্তি বলা যায় না, কারন তার দেহাবয়ব মানুষের মতো হলেও তাকে ধরা যায় না, তার ঘরে ঢোকার জন্য দরজা প্রয়োজন হয় না, দেওয়াল গলেই ঢুকে যেতে পারে যেকোন জায়গায়। শুধু তাই নয়, সেই ছায়াকে দেখতে অবিকল মি. অলিভারে বাড়ির ভাড়াটিয়া টমি গিলবার্টের মতো। তবে, যখন সেই ছায়াকে দেখা যায়, টমি গিলবার্ট তার ঘরের আশেপাশে ছিল না, বরং সে ছিল নিজের ঘরে। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই ডাক পড়ে তিন গোয়েন্দার। তবে মি. অলিভার যখন তিন গোয়েন্দাকে এসব ঘটনা বলছিলেন তখনই শোনা যায় পুলিশের হুইসেল। জানা যায় এক চোর একটা মূল্যবান শিল্পকর্ম চুরি করে পালিয়েছে গির্জার ভেতর। তবে গির্জার ভেতর তন্নতন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায় না চোরকে। যে শিল্পকর্ম চুরি হয়েছে, সেটাই হলো ছায়াশ্বাপদ, যার বর্তমান মালিক আবার তিন গোয়েন্দার এই কেসের মক্কেল মি. অলিভার। পরদিন সকালে গির্জার মধ্যে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায় গির্জার ফাদারের সহকারীকে। ইতোমধ্যে এই এলাকায় একটা বিশ্বাস প্রচারিত আছে যে এর আগের ফাদার মৃত্যুর পরও গির্জার মায়া ত্যাগ করতে পারেনি, অর্থাৎ ভূত হয়ে রয়ে গিয়েছে গির্জায়। সবাই ধারণা করে তাকে দেখেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে ফাদারের সহকারী। এরপর ঘটনাক্রমে ফাদারের ভূতের সাথে সাক্ষাৎ হয় গোয়েন্দাপ্রধান কিশোরে পাশার।
এরমধ্যে মি. অলিভারের বাড়িতে ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা। চকলেটের সাথে বিষ প্রয়োগ করা হয় মিস ল্যাটনিনাকে। মি. অলিভারের ম্যানেজার মিস ডেনভারের গাড়িতে বিস্ফোরন ঘটানো হয়। আগুন ধরল মিস্টার জ্যাকবসের ঘরে।
এদিকে ছায়াশ্বাপদকে বিক্রি করার জন্য চমৎকার এক ক্রেতা খুজে বের করে চোর। তিনি হলেন ছায়াশ্বাপদের প্রকৃত মালিক মি. অলিভার। ছায়াশ্বাপদের জন্য দাম হাঁকে দশ হাজার ডলার। অন্য কোন উপায় দেখে মি. অলিভারও রাজি হয়ে যান। কারন ছায়াশ্বাপদ কোন সাধারন শিল্পকর্ম ছিল না, এটি ক্রিস্টালের তৈরি অপরুপ একটি কুকুরের মূর্তি, যেই কুকুরকে নিয়ে রয়েছে অবিশ্বাশ্য মিথ এবং কুসংস্কার। এবং একজন শিল্পপ্রেমি হিসেবে মি. অলিভার চান নি চোর শিল্পকর্মটির কোন ক্ষতি করুক। এতগুলো ঘটনা বা দুর্ঘটনা কি শুধুমাত্র কো-ইন্সিডেন্স ? নাকি এর পেছনে রয়েছে কোন গভীর ষড়যন্ত্র। শেষে কিশোর পাশার ভাষাতেই বলি, এইসব রহস্যের সমাধান করতে চলেছে তিন গোয়েন্দা “এসো না, চলে এসো আমাদের দলে” ।
তিন গোয়েন্দার ডাক পড়লো এক ভুতুড়ে রহস্যের সমাধান এর জন্য। মি.অলিভার নাকি এক ধরনের ছায়া দেখতে পান যে ছায়া দেয়াল গলে এমনকি দরজা গলে চলে যেতে পারে। সব ধরনের কাগজপত্র ঘাটাঘাটি করে । এমন অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড সমাধানের জন্য তিনি তিন গোয়েন্দার দ্বারস্থ হন। তিন গোয়েন্দা তার বাসায় যায় এবং তদন্ত শুরু করে । তবে তদন্ত চলাকালীন সময়ে হঠাৎ পুলিশের গাড়ির আওয়াজ শোনা যায় । সাইরেন বাজতে থাকে বিকট শব্দে। শোনা যায় এলাকায় চুরি হয়েছে ।সন্দেহ করা হয় চোর গির্জায় গিয়ে লুকিয়েছে। তবে খোঁজ করে তাকে পাওয়া যায় না। চুরি হয়েছিল মিকো ইলিয়ট এর ভাইয়ের বাসায়। মিকো ইলিয়ট ছিলেন মিস্টার অলিভারের বন্ধু। মিস্টার অলিভারের ছিল শিল্পের প্রতি অনেক ঝোঁক। নানা ধরনের শিল্পকর্ম তার ঘরে শোভা পায়। সেরকমই এক শিল্পকর্মের অর্ডার দিয়েছিলেন তিনি মিকো ইলিয়ট এর ভাইকে। স্ফটিক কাঁচের তৈরি একটি কুকুর। সেটি চুরি গিয়েছে। ভুতের সমস্যার সমাধান করতে এসে নতুন সমস্যায় জড়িয়ে যায় তিন গোয়েন্দা। তারা পরেরদিন শুনতে পায় গির্জার দ্বাররক্ষক আহত হয়েছে । গতকালের চোরই যেএ কাজ করেছে এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত । তিন গোয়েন্দা কৌশলে মিস্টার অলিভারের ম্যানেজারকে পাকড়াও করে কাগজপত্র ঘাটাঘাটি করার অপরাধে। তবে ছায়া সমস্যার সমাধান হয়নি। এমন সময় তার সাথে কথা হয় মিস্টার অলিভারের ভাড়াটিয়া টমি গিলবার্ট এর সাথে। সে নাকি ধ্যান তত্ত্বে বিশ্বাসী । ভারতে যেতে চায় এ বিষয়ে চর্চা করার জন্য। অদ্ভুতুড়ে সব কর্মকাণ্ডে তার বিশ্বাস । তার দিকে সন্দেহের তীর টা গিয়েছিল তিন গোয়েন্দার। ঘটনাক্রমে তিন গোয়েন্দা মি.অলিভারের বাসায় থাকা শুরু করে। একদিন রাতে কিশোর দেখতে পায় গির্জায় আলো জ্বলছে। সে তাড়াতাড়ি গির্জায় যায় এবং দেখতে পায় ফাদার রুপী একজনকে। গির্জার সহকারী মিস ব্রাইস এটাকে ভূত বলে আখ্যা দান করেন এবং বলেন তিনি আগেও এরকম ভূত দেখেছেন । তবে কিশোর বিশ্বাস করতে চায় না ভূতকে। তারা অলিভারের বাসার চত্বরে ভালভাবে নজর রাখার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে এবং ভালোভাবে নজর রাখতে থাকে। বিশেষ করে টমি গিলবার্ট এর প্রতি। একসময় দেখতে পায় মিস ল্যাটনিনা মিস ডেনভারের কাছ থেকে একটা চকলেট এর বাক্স পায়। আর চকলেট খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সে কাতরাতে থাকে । তিন গোয়েন্দা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ যে বিষ প্রয়োগ করেছে সে নিশ্চয়ই মি.অলিভারের বাড়ির সবার স্বভাব চরিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানে । জানাও অস্বাভাবিক না কেননা মিসেস ডেনভার, যে কিনা বাড়িওয়ালার ঘরেই নজরদারি করতে পারে ভাড়াটিয়াদের ঘরে তো করবেই। আর সে আলোচনা অবশ্যই অন্যদের সাথে করবে । কিন্তু দেখা যায় মিসেস ডেনভার ও দুর্ঘটনার শিকার হয়। যখন সে বাজার করতে বের হয় তখন তার গাড়ির বনেট এর ভেতর এক ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। তাৎক্ষণিক ফায়ার ব্রিগেড ও গোয়েন্দা আসলে পরিষ্কার হয়ে যায় বনেটের ভিতর হালকা বিস্ফোরক রাখা হয়েছে মিসেস ডেনভার কে ভয় দেখানোর জন্য। কাজও হয়েছে, সে চলে যায় তার বোনের বাড়ি। তার যাওয়ার সাথে সাথে আগুন লেগে যায় মি.অলিভারের আরেক ভাড়াটিয়া মি.জ্যাকবস এর ঘরে। সামান্য ভূতের রহস্য সমাধান করতে এসে নানা ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে তিন গোয়েন্দা। এদিকে কুকুরের মূর্তির জন্য চোর মি.অলিভারের কাছে ১০ হাজার ডলার দাবি করে । শেষ পর্যন্ত কিশোর মুসা রবিন কী বুদ্ধি খাটিয়ে বার করতে পেরেছিল প্রকৃত অপরাধীকে? জানতে হলে পড়ে ফেলুন টানটান উত্তেজনা সম্পন্ন তিন গোয়েন্দার এই উপন্যাসটি।
Read again on oct 5 2025 মিস্টার অলিভার এর বাড়িতে বেশ কিছু ভাড়াটে থাকেন। ম্যানেজার মিসেস ডেনভার। রুক্ষ ব্যবহার। আরও থাকেন: জ্যাকবসন স্টকব্রকার, এন্ড্রু: বিড়ালমানব। টমি গিলবার্ট: আত্মার ক্ষমতা আবিষ্কারের জন্য ধ্যান করে। টমির একটা ক্ষমতা হলো সে ছায়া শরীর নিয়ে অন্যের ফ্ল্যাটে ঘুরতে পারে । চুরি যায় মিস্টার্ অলিভারের সংগ্রহে রাখার একটা মূলবান ক্রিস্টালের তৈরি কুকুরের মূর্তি । ফাইনালি দেখা যায় চোর মূর্তিতা লুকায় রাখছিল ট্রান্সপারেন্ট সুতা বেধে সুইমিং পুলের ভিতরে । টাকা পয়সার সমস্যার কারণে আসলে জ্যাকবসন চুরি করে। গল্পটা যথেষ্ট মাইন্ড বগলিং ।
This entire review has been hidden because of spoilers.
এই গল্পে সিরিজে প্রথমবারের মত গাঁজাখুরির আবির্ভাব। কেও স্বপ্নে কোথাও গেলে তার অবয়ব সেখানকার মানুষরা বাস্তবে দেখতে পায়! অনেক অনেক পরে যখন তিন গোয়েন্দা হররে রুপান্তরিত হয় তার আগে পর্যন্ত এটাই আমার পড়া মতে সর্বোচ্চ আজগুবি। এই একটা কারণে চমৎকার গল্পটা পুরো ভাল লাগে নি।
ছায়া হয়ে ঘুড়ে বেড়ানোর মতন একটা অবাস্তব জিনিসকে "বিজ্ঞান" এর প্রলেপ দিয়ে কাহিনি মিলায়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা করা হলেও আমি বলবো সফল হয়নাই এটা। এই ছায়া বিষয়ক আজগুবি ব্যাপারটা ছাড়া বাকি কাহিনীটা বেশ ভালোই। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত না আসা পর্যন্ত বুঝতেই পারছিলামনা কে আসলে চুরি করেছে ছায়াশ্বাপদ!
বর্ষীয়ান এক বৃদ্ধ, ফ্রাঙ্ক অলিভার, অদ্ভুতুড়ে এক কেস ধরিয়ে দিলেন গোয়েন্দাদের। নিজের ঘরে অশরীরী কিছুর উপস্থিতি দেখতে পান তিনি। ঘরের আসবাবপত্র নাড়াচাড়া করে কেউ, দেখা যায়, অথচ কোন মানুষ না, শুধু একটা ছায়া যেন নড়ছে।
তদন্ত করতে প্যাসিও প্লেসে ঢুকলো কিশোর আর তার দল। ছায়া-র রহস্য ভেদ করতে গিয়ে শ্বাপদ চুরির রহস্য চলে এলো সামনে। জ্যান্ত না, ক্রিস্টাল স্ফটিকের তৈরি বহুমূল্য এক কুকুরের মূর্তি।
একে একে বিপদ নেমে আসতে থাকলো অলিভারের প্রতিবেশীদের উপর। কাউকে বিষ খাওয়ানো হলো তো কারো গাড়িতে বম্ব ফিট করা হলো, আবার কারো ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হলো। কুকুরের মূর্তি চুরির সাথে কি সংযুক্ত এইসব দূর্ঘটনা? নাকি নিছকই কাকতাল?
ফ্র্যাঙ্ক অলিভারের ছায়া শরীর দেখা, ক্রিস্টালের মূর্তি উধাও হওয়া, প্রতিবেশীদের জীবননাশের চেষ্টা - প্রতিটা বিন্দুই কানেক্টেড। এই সবগুলো ডট এক করলে মিলবে একটা জাল, নিখুঁতভাবে সাজানো এক ষড়যন্ত্রের জাল। সেই জাল ভাঙ্গতে হলে আপনাকে ডুব দিতে হবে তিন গোয়েন্দার সাথে, প্যাসিও প্লেসের রহস্যে।
একটা কুকুরের মূর্তি। এমন একটা কুকুর, যার কোন অস্তিত্ব নেই। বেঁচে আছে শুধু কুসংস্কারে বিশ্বাসী কিছু মানুষের মনে। আর একটা ছায়াশ্বাপদ। যে ছায়ার মত উপস্থিত থাকতে পারে যেকোন জায়গায়। তিন গোয়েন্দা মুখোমুখি হল জটিল এক কেসের সাথে।