রতনলাল বাঁড়ুজ্যে সৎ ও রাশভারী মানুষ বলে সবাই ভয় খায়, এমনকি বাড়ির মানুষরাও তাঁর মুখে মুখে কথা বলার সাহস রাখে না। নাতি হাবুল অবশ্য তাঁকে ভয় আর ভক্তি দুই-ই করে। দাদু তাকে অনেককিছু শিখিয়েছেন, একজন চরিত্রবান আর স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তারা অনেক টাকাপয়সার মালিক হলেও দাদু কখনো বিলাসিতা করেননি কিংবা বাকিদেরও করতে দেননি। কিন্তু ভাগ্যচক্রে দাদুকেও পড়তে হলো এক কঠিন বাস্তবতার সামনে। অনেককাল আগের এক উদ্ভট ঘটনার জের ধরে হাবুলদের সব সুখস্বাচ্ছন্দ্য আর ধনসম্পত্তি শূন্য হয়ে যাবার উপক্রম হলো।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
রতন বাড়ুজ্জের দিনকাল যখন খারাপ যাচ্ছিল তখন সে কাজের খোঁজে লক্ষনগড় নামে একটা জায়গায় যায়। সেখানকার জমিদার রামদুলালের বাড়ি কাজ নেয়। কদিনপরই প্রধান পুরোহিত মারা যাওয়ায় রামদুলাল রতন বাড়ুজ্জেকে পুরোহিত নিযুক্ত করেন। কিছুদিন পর মন্দিরের এক লুকানো জায়গায় দুই বাক্স গুপ্তধন পান রতন বাড়ুজ্জে, এবং রামদুলালকে সেগুলা দিয়ে দেন। সেই দুই বাক্স ভর্তি মোহর, সোনাদানা আর প্রত্যেকটাতে একটা করে হিরের আঙটি।
রামদুলাল একটা বাক্স রতন বাড়ুজ্জের কাছে গচ্ছিত রাখে। কথা হয়ে থাকে ২৫ বছর পর যদি রামদুলালের নাতি রতন বাড়ুজ্জের কাছে গিয়ে ওগুলো দাবি করে তাহলে দিয়ে দিতে হবে। প্রমাণ স্বরুপ রামদুলালের নাতির হাতে থাকবে দ্বিতীয় বাক্সের হিরের আঙটি। আর প্রত্যেক বছরের একটা আমাবশ্যায় শ্বেত আর লোহিত নামে দুই যমজ ভাই যাবে রতন বাড়ুজ্জের বাড়িতে, দেখার জন্য যে রামদুলালের নাতি এসেছিল নাকি। যেদিন ২৫ বছরের শেষ আমাবশ্যা সেদিনই রামদুলালের নাতি হাজর হলো রতন বারুজ্জের বাড়িতে। কিন্তু তার আগেই গ্রামের নামকরা চোর ষষ্ঠীর চোখে পড়ে ছেলেটা, কারন ওর হাতে হিরের আঙটি।
কিন্তু ঘটনাক্রমে ষষ্ঠি চোর তিন তিনবার ঘোল খায় ঐ ছেলের কাছে। ভাড়াটে গুন্ডাকে দিয়ে মারতে চেষ্টা করে ঐ ছেলেকে, তাতেও ঘোল খেয়ে ফিরে আসে। এদিকে শ্বেত ও লোহিতকে দেখাতে হবে বলে হিরের আঙটিটা বার করতে গিয়ে রতন বাড়ুজ্জে দেখেন আঙটি টা চুরি গেছে। আর এই আঙটি দেখাতে না পারলে শ্বেত লোহিত তাকে খুন করবে। এরকমই কথা ছিল। এখন তবে উপায়?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় আমার প্রিয় লেখক। তাই বলে উনার সব লেখা যে আমার পড়া হয়েছে,তা নয়। তবে "অদ্ভুতুরে সিরিজ " অনেক গুলো পড়া হয়েছে। ক্রমেই এই সিরিজ টা আমার প্রিয় হয়ে উঠল।
এবার পড়লাম "হিরের আংটি"। তবে বই পড়ার আগে,সিনেমা দেখলাম। বলা যায়,সিনেমা দেখেই বই পড়ার আগ্রহ টা জাগলো। সিনেমা টা শেষ করেই,বই টা শুরু করে দিলাম।
বই টা পড়তে গিয়ে একটা বড়সড় হোঁচট খেলাম,মূল গল্প প্রায় বদলে ফেলেছেন পরিচালক ঋতুপর্ণ। বই আর সিনেমা কিছুই মেলাতে পারছি না।
তবে আলাদা দৃষ্টি কোণ দিয়ে ভাবতে গেলে,সিনেমা এবং বই উভয়ে নিজের জায়গায় সেরা। সিনেমাতে একটুও বিরক্তি লাগেনি। আর বইটা ও বলতে গেলে নিমেষে শেষ করেছি। এত দারুণ।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের শুভসূচনা করলাম এই বইটির মাধ্যমে। খুব বেশি সময় লাগেনি পড়তে। ভালো লেগেছে।এরকম অনায়াস বর্ণনা একটানা পড়ে ফেলা যায়৷ চাইলে হিরের আংটিকে রহস্যোপন্যাসের কাতারেও ফেলতে পারেন। যারা রিডিং স্লাম্পে আছেন, তারা চেখে দেখুন.. আমার ধারণা কেটে যাবে, :D
আহা বেচারা ষষ্ঠী!! :v নিজেকে এতবড় চোর দাবি করার পর ও দু দুবার নাকের ডগা দিয়ে তার সামনে থেকে চুরি হয়ে গেলো আর সে বুঝতেই পারলো না। একেই বলে "চোরের উপর বাটপারি " :v এই বেচারা ষষ্ঠীর পাল্লায় পড়ে সমস্তটা গেলো কালি আর স্যাকরার। এর জন্যই বলে "অতি লোভে তাতি নষ্ট" হাবলু ছেলেটাকে খুব ভাল্লাগছে। আংটিটা ওর মত সাহসী বাচ্চাকেই মানায়। আর ওর ছোট চাচা যে শেষমেশ সব এভাবে করে ধরে ফেলবে সেটা তো আন্দাজ ই করতে পারিনি। গন্ধর্বরে শুরু থেকে এমন ভাবে দেখানো হয়েছে যে একবারো সন্দেহ হয়নি এত কাহিনী করবে ও। আর শ্বেত, লোহিতর খাবারের বর্ণনা পড়ে তো ভিমরি খাওয়ার জোগাড় :v তবে রতনবাবু বড্ড বেশি ভালো মানুষ। পাঁচুর কথা মত পুকুরে দুটো চুবোন দিয়ে, মাথাটা কামিয়ে তবেই না ছাড়া উচিত ছিলো ওদের তিনজনকে। আর সব শেষে ষষ্ঠীর যে আমূল পরিবর্তন... বাবা গো সেটা কি ভাবা যায়!!
কতদিন বাদে খুব মন ভালো করা একটা গল্প পড়লাম। ভাবছি বাকিগুলো ও পড়ে শেষ করবো :')
বেশ মজার ছিল। একইসাথে হাস্যরস ও রহস্য-রোমাঞ্চ। জোর করে লোক হাসানোর বা ভাড়ামোর চেষ্টা নেই, শুধু গল্প বলে যাওয়া, এরমধ্যেই হাসির খোরাক ও সামান্য সাসপেন্স। ৪.৫ তারকা।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজে আমার এপর্যন্ত পড়া গল্পগুলোর মধ্যে এটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে। রতনবাবু বড্ড ভালো মানুষ। তানাহলে আসলেই ওদের পানিতে দুটো চুবান দেয়া উচিৎ ছিলো(তার উপর আমি পড়ছি শীতকালে, এমনসময়ে এর চেয়ে ভালো শাস্তি আর হতে পারে না)। ষষ্ঠী তো যেমন তেমন চোর নয় বরং পুরো গল্পজুড়ে শুধু বিনোদনই দিয়ে গেলো। তার পাল্লায় পড়ে বেচারা স্যাকরা আর ডাকাতের সব গেলো। গন্ধর্বর আসল পরিচয় জানতে পেরে আমি বরং দুঃখই পেয়েছি। এতো ভালো ভাবলাম আর শেষে কিনা এই?তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে রতনবাবুর ছোটো ছেলেকে। বাবার উপযুক্ত সন্তান বলে কথা। সত্যিই তো,সে লড়েছে বাবাকে বাঁচাতে, তার সাথে গন্ধর্ব পারবে কেন?
Suspense, comedy, surprise -a little bit of everything was available in this one. The story started and rounded up well. Has every bit of Sirshendu flavour, but little less funny for my taste. But, enough magic for four stars.
দুটো হিরের আংটি, সাথে জড়িয়ে আছে একটি জমিদার পরিবারের মর্মান্তিক ইতিহাস। জীবনে চুরি-ডাকাতি সবই করেছে ষষ্ঠী, তবে এলাইনে ঠিক সুবিধা করতে পারেনি সে। কিন্তু এবারে মোক্ষম একটা সুযোগ এসে গেল তার কাছে। কিন্তু সে যদি জানত, কী দুর্ভোগটাই না আছে তার কপালে, তাহলে হয়ত আর এপথে এগোত না সে। এক চালচুলোহীন ছেলের হাতে একটা হিরের আংটি দেখে আর নিজেকে সংবরন করতে পারল না সে। যে করেই হোক আংটি টা যে তাকে হাতাতেই হবে, তা সে সুযোগ যদি তার কাছে আপনি আসে তবে আর তাকে দেখে কে। ছেলেটা নিজেই তাকে বলল আংটি টা বিক্রি করে দিতে। স্যকড়ার সাথে ষড় করে লাখ টাকার আংটি চারশ টাকায় কিনল তারা। কিন্তু একি, ছেলেটা যাওয়ার পর দেখল আংটি খাটি নকল! সোনার বদলে পেতল, হিরের বদলে কাঁচ। এখানে শেষ হলে বোধহয় ভালোই হতো, তবে দুর্ভোগ তার কপালে আরো অনেক বাকি ছিল।
কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল, জমিদারের গল্প থেকে চোরের গল্প বলতে শুরু করলাম। তবে এই গল্পে চোরের সাথে জমিদারের বেশ ভালো সম্পর্ক আছে, তা নাহয় নিজেই আবিষ্কার করবেন।
শীর্ষেন্দুর অদ্ভুতুড়ে সিরিজটা একটা গোল্ড মাইন, একেবারে আনপুটডাউনেবল। একটা জিনিস খেয়াল করেছেন, অদ্ভুতুড়ে'র কোন বইতেই এক্কেবারে খারাপ চরিত্র নেই, অন্তত আমি এপর্যন্ত যেগুলো পড়লাম, সেগুলোতে নেই। আর দুই-একটা যা আছে তারাও শেষে এত ভালো হয়ে যায় যে, তারা যে এককালে খারাপ ছিল, তা বলার সাধ্যি কারও নেই। এই ধরুন 'হেমতগড়ের গুপ্তধন' এ ডাকাতের দল হয়ে গেল মালী, 'গৌড়ের কবচ' এ রাজা রাঘব চাষী, এখানে ষষ্ঠি দারোয়ান। এমনকি শ্বেত লোহিতের শেষ সংলাপগুলি শুনে তাদের আর খারাপ বলে মনে হয়নি আমার কাছে। লেখক সকল কুটিলটা, অসততা, খারাপ জিনিস দূরে রেখে একেবারে নির্মল আনন্দ দিতে চেয়েছেন পাঠককে। বইগুলো পড়লেই মন ভালো হয়ে যায়।লেখকের প্রতি এক সমুদ্র কৃতজ্ঞতা ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ মনে একটু প্রশান্তির ছোঁয়া দেওয়ার জন্য।
Revisited in 2025: Mario Puzo'র গডফাদার'এর থেকে Francis Ford Coppolla'র গডফাদার যেরকম ভালো, শীর্ষেন্দুর হীরের আংটির থেকে ঋতুপর্ণর হীরের আংটিও সেরকম ভালো। তাই বলে শীর্ষেন্দুর হীরের আংটিও মন্দ নয়। বরং ভীষণ রকমের ভালো। সিনেমাটিও দেখে ফেলুন - YouTube'এ আছে। BTW: অদ্ভুতুড়ে'র র্যাঙ্কিং চলছে ঢিমেতালে, কিন্তু হীরের আংটির টপ ১০'এ আসার সুযোগ কম। গোলমেলে লোক, গোঁসাইবাগানের ভূত, ষোলো নম্বর ফটিক ঘোষ, পটাশগড়ের জঙ্গলে - এসবগুলো আগে থাকবে হীরের আংটির , aside from the obvious ones.
...................... অ সা ধা র ণ। সেই ষষ্ঠীচোর , সেই রামদুলালের নাতি, সেই শ্বেত লোহিত। এখনো একইরকম ভালো লাগলো পড়ে। চমৎকার একটা সিনেমাও হয়েছিল এই গল্পটা নিয়ে - ঋতুপর্ণ করেছিলেন। সেটাও আবার দেখলে হয়।
সবকটা অদ্ভুতুড়ে আবার শেষ করার পর একটা র্যাঙ্কিং করবো ভেবেছি, তাতে এইটা আরামসে প্রথম ১০-এ থাকবে। প্রথম পাঁচ বলা মুশকিল। রতন ইয়েস ১০০%, পাগলাসাহেব, গৌরের কবচ, ঝিলের ধারে বাড়ি, চক্রপুর .... তবে এটাও খুব ভালো।
এই গল্পটা কীভাবে যেন বাদ পড়ে গিয়েছিল। চমৎকার একটা গল্প। অদ্ভুতুড়ে সিরিজের প্রথম দিকের প্রায় সব গল্পই অসাধারণ মজার। পুজোর মরশুমে অদ্ভুতুড়ে সিরিজের গল্পটা চমৎকার কিছু মুহূর্ত কাটাতে সহায়তা করল।
ভারী বইয়ের মাঝে মাঝে এমন হালকা-পাতলা বই অনায়েসেই পড়া যায়। অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বইগুলো কম বেশি অবসরের জন্য মোক্ষম - সহজ বর্ণনা আর নির্মল হাস্যরসে ভালো সময় কাটে - আনন্দ পাওয়া যায়।
টিপকল পাম্প করে যে লোকটা ঘোঁত-ঘোঁত করে জল খাচ্ছিল, তাকে আলগা চোখে লক্ষ করছিল ষষ্ঠী। লোককে লক্ষ করাই ষষ্ঠীর আসল কাজ। লোকটা বোকা না চালাক, সাহসী না ভিতু, গরিব না বড়লোক, এসব বুঝে নিতে হয়। তারপর কাজ। ষষ্ঠীর কাজ হল দুনিয়ার বোকাসোকা লোকদের ট্যাঁক ফাঁক করা। চু*রি, ডা*কাতি, রা*হাজানি, গু*ম আর জ*খম সে নেহাত কম করেনি, খু*নটা এখনও বাকি। দিনকাল যা পড়েছে, তাতে এবার খু*নটুনও করে ফেলতে পারে যে-কোনও দিন।
ষষ্ঠী চারদিকে নজর করতে করতে লোকটাকে আবার দেখল। অনেকক্ষণ ধরে জল খাচ্ছে, চোখে মুখে ঘাড়ে জল চাপড়াচ্ছে। লোকটাকে দেখার অবশ্য কিছুই নেই। কুড়িবাইশ বছরের ছোঁকরা। গায়ের জামাকাপড়ের অবস্থা নাজুক তবে ছোঁকরার বাঁ হাতখানা হাঁটুর ওপর রাখা, আঙুলগুলো ঝুলছে। অনামিকায় একখানা আংটি। নেহাত খেলনা আংটি নয়। ষষ্ঠীর পাকা চোখ হিসেব করে ফেলল, আংটিটায় কম করেও আধ ভরি সোনা আছে। আর পাথরখানাও রীতিমত প্রকাণ্ড। এমন সাদা আর ঝকঝকে পাথর ষষ্ঠী জীবনে আর দেখেনি। যদি হিরের হয় তো এই আকারের হিরের দাম লাখ টাকা হওয়াও বিচিত্র নয়।
আংটিটা চোখে পড়তেই ষষ্ঠীর শরীরটা চনমন করে উঠল, আলসেমির ভাবটা আর রইল না। ষষ্ঠী বোকা নয়। সে জানে এই ছোঁকরার কাছ থেকে আংটিটা হাতিয়ে নেওয়া বড় সহজ কাজ নয়। মাথা খাঁটিয়ে একটা কৌশল বের করতে হবে। গায়ের জোরে বা ভয় দেখিয়ে হবে না। ছোঁকরা অভাবে পড়েছে। বোঝাই যায়। সুতরাং বিক্রি করতে রাজি হয়ে যেতে পারে। কালী স্যাকরার সঙ্গে ষষ্ঠীর খুব খাতির। চু*রি করা সোনারুপো সে কালীর কাছেই বেঁচে। কালীর সঙ্গে সাঁট করে আংটিটা জলের দরে কিনে নেওয়া যেতে পারে।
ষষ্ঠীর কাছে হঠাৎ ছোঁকরা রতন বাঁড়ুজ্যের বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলো। তখন ছোঁকরার আঙুলের আংটিটার দিকে চেয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নাঃ, আংটিটা হাতানোর আর কোনও উপায় রইল না। রতন বাঁড়ুজ্যের কুটুম, জ্ঞাতি, চেনাজানা কারও কাছ থেকে কিছু হাতিয়ে নেবার মতো বুকের পাটা এ-তল্লাটে কারও নেই। ষষ্ঠী উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে গলির উত্তর প্রান্তটা হাত তুলে দেখিয়ে বলল, “গলিটা পেরিয়ে আমবাগান আর পুকুর পাবেন। তারপর মস্ত লালরঙা বাড়ি। ওটাই রতনবাবুদের।”
সকালবেলাটায় হাবুল থাকে তার দাদুর কব্জায়। দাদু ওঠেন রাত তিনটেতে। জপতপ সারতে চারটে বেজে যায়। শীত গ্রীষ্ম বলে কথা নেই, দেওয়াল-ঘড়িতে কাঁটায়-কাঁটায় সাড়ে চারটে বাজবার টং শব্দ হতে না হতেই দাদুর হাঁক শোনা যায়, “হাবুল!”
দাদুর গলার জোর প্রায় কিংবদন্তী। একবার নাকি হাঁক দিয়ে স্রেফ ডা*কাত তাড়িয়েছিলেন। হাবুলদের ফটকের বাইরে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। বেশ মলিন পোশাক, ক্লান্ত চেহারা। হাবুল এসেছিল পড়ার ঘর থেকে জল ভরতে। কুঁজোটা বারান্দায় রেখে হাবুল এগিয়ে গেল।
“কাকে চাইছেন?” ছেলেটা অবাক হয়ে বাড়িটা দেখছিল। কিছুক্ষণ জবাব দিল না। তারপর একটা ময়লা রুমালে মুখ মুছে বলল, “রতন বাড়ুজ্যের বাড়ি কি এইটে?”
“হ্যাঁ। আমার দাদু।”
“আমি তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।”
এই আগন্তুকের আগমনের কারণ হাবুল জানে না। আবার যখন দাদু এই ছোঁকরাকে দেখলেন, পরিচয় জানলেন তখন কেমন আঁতকে উঠলেন। কিন্তু কেন? ওদিকে ষষ্ঠী ও কিন্তু হিরের আংটির লোভ ছাড়তে পারেনি মনে মনে বোঝাই যাচ্ছে। শেষমেশ এই আংটির জন্য কী কী ঘটে সেটাই দেখার বিষয়।
------------পাঠ প্রতিক্রিয়া-----------
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের আরেকটি চমৎকার বই পড়লাম। "হিরের আংটি" পারফেক্ট অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বই মনে হলো আমার কাছে। সমাপ্তি সেটাও বেশ ভালো আবার শুরু সেটাও ভালো। সবগুলো চরিত্রের মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাব ছিল। আমার হাবুলের উপর শেষটায় মায়া হচ্ছিল আহারে বেচারার বিশ্বাস! আমার ভালো লেগেছে যে বইয়ের কাহিনী যেভাবে এগোচ্ছিল তাতে ধীরগতি মনে হয়নি। গল্পের প্লট ও বেশ ভালো এবং আমার ভালো লেগেছে। এখানে গল্পটা অতিরঞ্জিত লাগেনি বরং বেশ যৌক্তিক সমাপ্তি। কিছু কিছু বইয়ে শীর্ষেন্দু যা করেন অতি রঞ্জিত সেটা এখানে ছিল না।
আমার কাছে এই বইটি বেশ ভালো লাগলো। কিশোর উপযোগী এবং বর্ণনায় বইটি নিয়ে সময়টা ভালোই কাটলো। আসলে শীর্ষেন্দু সবসময় যে তাড়াহুড়ো করে লেখেন এই বইটা শেষ করে আসলে আবার সেটাও বলতে পারছি না। এখানে কিন্তু সবকিছু একদম ঠিকঠাক ভাবেই হয়েছে। অনেকদিন পর অদ্ভুতুড়ে সিরিজে ব্যাক করলাম বলা যায়।
সবমিলিয়ে বলতে পারি অদ্ভুতুড়ে সিরিজের এই বইটিও বেশ ভালো। এবং সিরিজের সেরা বইয়ের তালিকায় রাখতে পারেন। পড়লে ভালো লাগবে আশা করছি। কারণ এখানে একদিকে যেমন শেখার আছে লোভে পাপ তেমনি আবার সততার সবসময় জয় হয়।
Gandharva Kumar approaches Ratan Banerjee and shows him a diamond. According to an agreement made between Ratan Banerjee and Gandharva Kumar's grandfather, Ramdulal, a small zamindar for whom Ratan Banerjee worked as a priest, Banerjee must give all his property to Gandharva Kumar. When Ramdulal was attacked by dacoits, he entrusted a box of gold coins to Ratan Banerjee, INSTRUCTING him to keep it safe until his grandson came to claim it. If his grandson didn’t come within 25 years, the box would belong to Ratan Banerjee.
Every year on the same day, Ramdulal’s twin bodyguards, Swet and Lohit, visit Ratan Banerjee to check whether Ramdulal’s grandson has arrived.
Meanwhile, Sashti, a petty thief, notices the diamond ring on Gandharva Kumar's hand when he is asking for directions to Banerjee’s house. Sashti decides to steal the ring and hires a local goon named Tike for protection.
That night, while Gandharva Kumar is sleeping at Banerjee’s house, Sashti sneaks in and steals the ring. He then goes to Gupi, a jeweler, to sell it. On their way back after selling the ring, Sashti and Tike are attacked. When Sashti regains consciousness, he realizes that all their money has been stolen, along with the money and the ring from Gupi's shop.
Later that night, Swet and Lohit arrive and ask Gandharva Kumar and Ratan Banerjee for the password. They also ask both of them to show their diamond rings. Ratan Banerjee explains that his ring was stolen, but Gandharva Kumar PRODUCES a ring. Because of this, Swet tries to kill Ratan Banerjee.
As they are leaving Banerjee’s house, Banerjee’s youngest son, Biru, confronts Gandharva Kumar, and a fight ENSUES. Biru discovers that Gandharva Kumar is an imposter and is the one who stole from Gupi, Tike, and Sashti. Biru learns this from Sashti himself. The stolen money and the two rings are found in Gandharva Kumar’s possession.
All three—Gandharva Kumar, Swet, and Lohit—are tied up and forced to confess the truth. Swet reveals that the man posing as Gandharva Kumar is actually his son, and that both Ramdulal and his real grandson died many years ago.
This entire review has been hidden because of spoilers.
"হিরের আংটি" এক অনন্য গল্প যেখানে রহস্য, অতিপ্রাকৃত এবং শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের স্বকীয় রসবোধ একত্রে মিশে গেছে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি রহস্যময় হিরের আংটি, যা শুধু মূল্যবানই নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অলৌকিক কিছু ঘটনা।
গল্পে আছে এক বুদ্ধিমান ও কৌতূহলী কিশোর চরিত্র, যার চোখ দিয়ে আমরা ধীরে ধীরে রহস্যের জগতে প্রবেশ করি। ঘটনার পেছনে আছে কিছু অদ্ভুত চরিত্র, হালকা হাসি এবং লেখকের চিরাচরিত কৌতুকরস—যা কিশোর পাঠকের মন জয় করে নিতে বাধ্য।
ভাষার সরলতা ও রসাত্মক উপস্থাপনা: সহজ ভাষায় লেখা, যা ছোটদের জন্য উপযোগী হলেও বড়রাও উপভোগ করতে পারেন। লেখক যথারীতি রহস্যের মধ্যে অলৌকিকতার ছোঁয়া দিয়ে গল্পটিকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। প্রতিটি চরিত্রের আলাদা বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব রয়েছে, বিশেষ করে কিশোর নায়কের উপস্থিত বুদ্ধি মুগ্ধ করে।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের “অদ্ভুতুড়ে” সিরিজের এই বইটিও আগের মতোই কল্পনার এক অন্য জগতে পাঠককে নিয়ে যায়। রহস্য ও হাস্যরসের চমৎকার মিশেলে এটি এক বসায় পড়ে ফেলার মতো একটি বই।
অদ্ভুতুড়ে ব্যাপার এটাই যে, ছোটবেলায় এই বইগুলির ব্যাপারে জানতামই না। বুড়ো বয়সে এসে পড়তে হচ্ছে। জয় ইন্টারনেটের জয়✊ ক্রমানুসারেই বইগুলো ধরে পরপর এগোচ্ছি। অদ্ভুতুড়ে সিরিজ মানেই হাসির কাহিনী হবে তার কোনো মানে নেই।
প্রথম আটটি বইয়ের শ্রেণীবিভাগ করতে বসলে বলবো নিখাদ হাসির উপাদান চাইলে 'মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি' সেরার সেরা, 'গোঁসাইবাগানের ভুত' দ্বিতীয় সেরা। ভরপুর বিনোদন বলতে যা বোঝায়, এই বইদুটোয় পাবেন।
পরের দু'টি বইয়ে হাস্যরস দিয়ে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সুর গম্ভীর হয়েছে, তবে তাতে 'এন্টারটেইনমেন্ট'-র ঘাটতি হয়নি এতটুকু। 'বক্সার রতন' থেকে শুরু করে 'হিরের আংটি' অব্দি কাহিনীগুলির tone পুরোপুরি সিরিয়াস। আর এগুলি ক্রাইম থ্রিলার আর সাই-ফাই থ্রিলারের মিশেল। এই জঁর এ 'হিরের আংটি' আমার মতে সেরার সেরা।
পরের বইগুলোয় কি হয় দেখা যাক। মোদ্দা কথা এই সিরিজ যারা পড়েননি, তাঁরা জানেন না কি miss করছেন।
বেশ কিছুদিন ধরে রিডার্স ব্লকে ভুগছি, তাই ভাবলাম এই সময় একটা অদ্ভুতুড়ে সিরিজ পড়ে দেখি কাজ হয় কিনা। এর আগে যে বইই খুলছি পড়ার জন্য কিছুতেই ভালো লাগছে না, ২ পাতা পড়ে আর এগোতেই পারছিলাম নাহ। যাই হোক...এই বইটি শেষপর্যন্ত পড়ে শেষ করলাম এবং enjoy -ও করলাম।
এবার বইএর ব্যাপারে বলি, ঝরঝরে লেখা অনায়াসে দ্রুত পড়ে ফেলা যায়। বর্ণনাভঙ্গি খুব সাবলীল, খুব সহজেই পাঠককে উপন্যাসের সাথে একাত্ম হতে সাহায্য করে। এই গল্পের মূল আকর্ষণ বলতে গেলে ষষ্ঠী চোর। এক বসাতেই পড়ে ফেলা যায়।পড়ে দেখতে পারেন, আমি তো রিডার্স ব্লকে ভোগাকালীন পড়েও বেশ শান্তি পেলাম।
রতন বাড়ুয্যে এলাকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। সকলে তাকে সমীহের চোখে দেখতো।একদিন হঠাৎ তার অঙ্গনে প্রবেশ করে এক যুবক ছেলে।তার হাতের হিরের আংটি দেখে রতন সাহেবের মনে হয় সে তার প্রাক্তন মনিব রামদুলালের নাতি যে কিনা পারিবারিক সংঘাতে পড়ে পথে বসে যায়।রামদুলালের কাছে রতন সাহেব শপথ নিয়েছিল তার গচ্ছিত সম্পদের মালিক রামদুলালের বংশধর থেকেই হবে।ছেলেটি তার দাদা মার��� যাওয়ার পর এখানে আসে।রতন সাহেব দুশ্চিন্তায় পড়ে।এর পরের ঘটনা পুরোই হাস্যরসাত্নক আর শেষে একটা চমক তো আছেই।
#Book #25 হিরের আংটি by শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় [ Category: উপন্যাস/ Novel Number of pages: 72] Finished Reading on: 26 May, 2018 (Re-read) Review: শীর্ষেন্দুর অদ্ভূতুরে সিরিজ এর উপন্যাস আর সাইন্স ফিকশন সব সময়ের সেরা। তেমনই এক রহস্য জমজমাট উপন্যাস হিরের আংটি। আমি প্রিয় অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বই গুলো একেকটা ৭/৮ বার করে পড়েছি। এই বইটা অতো পড়া হয়নি। আবার পড়ে ফেললাম তাই। বাকিগুলো পড়বো এর পর।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অন্যতম ছোট উপন্যাস (বা, উপন্যাসিকা) এইটি। শুরু হতে না হতেই যেন শেষ হয়ে গেল।
কাহিনিও ছোট। রতনলাল বাঁড়ুজ্যের কাছে আসে এক কমবয়সী আগন্তুক। সেই আগন্তুকের আগমনে রতনলালের পরিবারের মাথায় হাত। আগন্তুকের পরিচয় জ্ঞাপক বস্তু হল তার বংশের একটি হিরের আংটি। তারপর আংটি এবং বাকি বিপদ আপদ উদ্ধার নিয়েই গল্প। ভূত নেই এবারে, তবে চোরছ্যাঁচড় আছে।
হাসিমজার এলিমেন্টও কম। একটা হালকা ডোজের রহস্য কাহিনি বলা চলে। আরও খেলিয়ে লেখার অবকাশ ছিল।
Probably the most disappointing book by Shirshendu. He started a nice story, then completely destroyed it somewhere along the way. I wonder why. Giving two stars only because of the promise it showed at first.
An enjoyable quick read (77pages) by Shirshendu Mukhopadhay. A stranger visits a village in search of the richest man there, who has a mysterious past and commences a wild goose chase involving a local thief, a corrupt money lender and a chacha-bhatija (uncle-nephew) duo.