কারো সাতে-পাঁচে না থাকা নিপাট ভদ্রলোক গয়েশবাবু হঠাৎ খুন হয়ে গেলেন। বেশ গা-গরম করা ঘটনা, ফলে গাঁয়ের মানুষের ভেতরে সাড়া পড়ে গেলো। তাছাড়া গয়েশবাবুর সঙ্গে অনেকেরই সদ্ভাব ছিলো। খুনের তদন্তে এলেন দারোগা বজ্রাঙ্গ বোস। খুবই দাপুটে লোক, কিন্তু ভূতে ভীষণ ভয় তাঁর। ওদিকে নদীর দিকে নাকি ভয়ঙ্কর একজনের দেখা পাওয়া যাচ্ছে প্রায়ই, যার শরীরটা মানুষের, কিন্তু মাথাটা সিংহের। এত গোলমালে গয়েশবাবুর খুনীকে কি ধরা সম্ভব হবে?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
প্রচুর হাস্যরস ও রহস্যের মিশেল এই বই। একটা জোকস বলি, সদানন্দ কবি একবার ফুচুর জ্যাঠামশাইকে জিজ্ঞেস করেন, - আচ্ছা খুড়ো, আলোকবর্ষ মানে কি? - ঐ যে বছর আলো টালো একটু ভাল থাকে সেটাই হবে হয়তো। মানে ভাল বছর। - তবে যে একজন বলল, আলোকবর্ষ কোনও সময় নয়? দূরত্ব? - তাই বলেছে নাকি? - তাই তো বলল। বলে আলোর গতি নাকি সেকেন্ডে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল। - কি বলিস? আমাদের সময় তো বিরাশি ছিল। বেড়েছে নাকি? - তা বাড়তে পারে। মানুষ বাড়ছে, চাল ডালের দাম বাড়ছে, আলোর গতিই বা বাড়বে না কেন?
হঠাৎ করেই একদিন গ্রামে খবর রটে গেল যে গয়েশবাবু খুন হয়েছেন। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে তার ধর পরে আছে নদিতে আর মুন্ডুটা শিমুলগাছে। কিন্তু পরে দেখা গেল নদিতে কলাগাছ ভাসছে আর শিমুলগাছে একটা মৌচাক। তবে সেই ঘটনার পর থেকে গয়েশবাবুকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। থানার দারোগা বজ্রাঙ্গবাবু আসলেন তদন্ত করতে। সেদিন দুপুর বেলাতেই পরেশের শহুরে ভাগ্নে পল্টু গায়েব। তাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। এদিকে পল্টুকে সিংহের মুখোশ পড়া এক লোক দিঘীর মাঝখানের দীপটাতে ফেলে রেখে যায়। গয়েশবাবুর বাড়িতে সুমন্তবাবু ঢুকেছিলেন কিছু একটা হদিশ পাওয়া যায় কিনা দেখতে। পুলিশের তাড়া খেয়ে সেও ঐ দিঘীর জলে লাফ দিয়ে পড়ে সাঁতরে মাঝ দিঘীতে চলে যায়। আর যখন পেরে উঠছিলেন না, তখন সিংহের মুখোশ পড়া লোকটা তাকে বাঁচিয়ে ঐ দীপে ফেলে রেখে যায়। কিছু একটা ষড়যন্ত্র পাকিয়ে উঠছে এই দিঘী আর দীপকে কেন্দ্র করে। কি সেটা?
হেতমগড়ের গুপ্তধনের থেকে বেশি ভালো লাগল নৃসিংহ রহস্য। সিরিজের অন্যান্য বইয়ের মত এখানে বেশকিছু উদ্ভট চরিত্র (তবে ভূত নেই এবার)। শুরুতেই একটা লাশ(!) ঝিলে ভেসে ওঠা নিয়ে রহস্যের শুরু, এরপর সিংহের মুখোশ পরা লোকের আগমন, একের পর এক চরিত্রকে কিডন্যাপ করে নিয়ে দ্বীপে ছেড়ে দেয়া- পুরোটাই উপভোগ্য। জোর করে হাসানোর কোনো চেষ্টা নেই। শীর্ষেন্দু বাবুর জাদুকরী সংলাপেই লুকিয়ে ছিল হাস্যরস। অল্প হলেও হেসেছি। শেষের টুইস্টটা অনুমিত হলেও ভালো। ছোট্ট বইটাতে রহস্যের ও অ্যাডেভেঞ্চারের চাদর ভালোমতোই ছিল। ৪.৫ স্টার।
প্রথমেই একটা খুন! তারপর একে একে নিরুদ্দেশ পল্টু, মৃদঙ্গবাবু এবং সুমন্তবাবু। হ্যাঁ, অদ্ভুতুড়ে সিরিজের চতুর্থ বই পুরোমাত্রায় রহস্যগল্প। শীর্ষেন্দুর লেখার হাস্যরস চাপিয়ে দেওয়ার কোন ব্যাপার নেই, সেটা সংলাপের মধ্যে আপনি চলে আসে। এ গল্পেও অদ্ভুত কিছু চরিত্র আছে, যদিওবা ভুত নেই। শির্ষেন্দুর 'অদ্ভুতুড়ে'র জগতটাই আসলে অদ্ভুত এবং সুদর। শিশু-কিশোরদের মনস্ত্বত্ত লেখক খুব ভালোভাবে বোঝেন, সেটার ছাপই তার লেখায় দেখতে পাই আমরা। তারা লেখায় খুব বেশি জটিলতা নেই, কুটিলতা নেই। যেটা আছে তা হলো পরিপূর্ণ নির্মল হাস্যরস। এই সিরিজের বইগুলো পড়ার সময় এক চিলতে হাসি সবসময় ঠোটের কোনে লেগে থাকে। এবার একটা খারাপ লাগা দিক বলি। এই গল্প এবং এর আগের টা অর্থাৎ হেমতগড়ের গুপ্তধন পড়ে মনে হলো শেষ করতে গিয়ে লেখক খুব তাড়াহুরো করেছেন। হুট করে যেন শেষ হয়ে গেল গল্পটা।
হঠাৎ করে গয়েশবাবুর অন্তর্ধান!পাড়ার লোকের আলাপ আলোচনার অন্ত নেই। এরপরে বেশ কিছু রহস্যময় ঘটনা.. সিংহের মুখোশ পড়া লোকের পেছনে আসলে কে ছিলো,আর পল্টুকেও বা সাহায্য করলো কে.. এটা ভালো লেগেছে বেশ :)
এমম... ব্যাপারটা কিছুটা মুহম্মদ জাফর ইকবালের গতানুগতিক সায়েন্স ফিকশনের মত হয়ে গেছে। কিংবা হুমায়ূন আহমেদের শেষ কয়েক বছরের স্ট্যান্ড এলোন উপন্যাসের মত। অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়তে যাই কিন্তু আগের সেই আমেজ পাই না। কাহিনীর কোনো গভীরতা নেই, রসিকতার চেষ্টাগুলোও স্থূল। তারপরও লেখকেরা আমাদের প্রিয় বলে লেখাগুলো পড়তে শুরু করা ছাড়া শান্তি পাই না। আর পড়া শেষে মন খারাপ করে ভাবি, "এইটা কিছু হইলো? এরচেয়ে না পড়লেও পারতাম! হুদাই সময় নষ্ট।"
যা হোক, আমার নেতিবাচক কথায় পাঠকেরা বুঝে গেছেন এই বইটা না পড়লেও চলে। তবে আমার মত যারা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'অদ্ভুতূড়ে সিরিজ' খতম দেবেন ভাবছেন, তারা পড়তে পারেন।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের এই বইটি আমার অন্যতম প্রিয়। এটি এমনই এক মজার ও গতিসম্পন্ন রহস্যোপন্যাস, যা প্রথম পাতাতেই পাঠককে টেনে নেয় একটি অদ্ভুত মৃত্যুর খবরে—এবং তারপর আর বই ছেড়ে উঠতে দেয় না। গল্পের কেন্দ্রবিন্দু গয়েশবাবুর মৃত্যু। তিনি ছিলেন গোবেচারা, নিরীহ, কারো সাতে-পাঁচে না থাকা ভদ্রলোক। তাঁর অকাল মৃত্যু হঠাৎই গ্রামজীবনের শান্ত পটভূমিকে অস্থির করে তোলে। চারপাশের মানুষজন নানা গুজব, অনুমান আর ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠে। কেউ ঘটনার রাশ টেনে নিতে চায় নিজের হাতে, কেউ আবার অদ্ভুত সব ‘তথ্য’ জোগাড় করে রহস্য সমাধানের চেষ্টা করে।
এই প্রেক্ষাপটে আবির্ভাব ঘটে দারোগা বজ্রাঙ্গ বোসের—দাপুটে অথচ ভীষণ ভীতু এক চরিত্র, যা গল্পে হাস্যরসের বাড়তি মাত্রা যোগ করে। তদন্ত যত এগোতে থাকে, পাঠক ধীরে ধীরে বুঝতে পারে এখানে শুধু খুনের রহস্যই নেই; আছে আরও বিস্ময়কর কিছু। নদীর ধারে দেখা মেলে এক মানবদেহী, সিংহমুখো রহস্যময় ব্যক্তির, যিনি একে একে বিভিন্ন চরিত্রের সামনে হাজির হন। তাঁর উপস্থিতি গল্পে একধরনের গা-ছমছমে পরিব��শ তৈরি করে, কিন্তু লেখক কখনোই অন্ধকার বা ভয়াবহতার মধ্যে গল্পটিকে ডুবিয়ে দেন না—বরং হালকা, প্রায় দুষ্টুমি মেশানো রসবোধ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যান।
উপন্যাসটির অন্যতম শক্তি হলো এর ছন্দময় গতি। লেখক অদ্ভুতুড়ে সিরিজের নিজস্ব একধরনের রিদম বজায় রেখেছেন, যা পাঠককে এক নিঃশ্বাসে গল্পের শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। সংলাপের ভঙ্গি, চরিত্রগুলোর স্বকীয়তা, আর গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের খুঁটিনাটি চিত্রণ—সব মিলিয়ে এক ধরনের প্রাণবন্ত, চঞ্চল আবহ তৈরি হয়। গল্পে হাসির মুহূর্তগুলো কখনোই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া মনে হয় না; বরং ঘটনাপ্রবাহের স্বাভাবিক ধারাতেই উঠে আসে, যা পাঠককে একদিকে রহস্যে ডুবিয়ে রাখে, আরেকদিকে হালকা মনোভাব বজায় রাখে।
পাশাপাশি, উপন্যাসটি কেবল রহস্য উন্মোচনের গল্প নয়। এটি মানুষের স্বভাব, কৌতূহল, এবং গুজব ছড়িয়ে পড়ার মনস্তত্ত্বেরও একটি প্রতিচ্ছবি। গ্রামের লোকেদের মধ্যে গুজব কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে, কীভাবে তথ্য বিকৃত হয়ে নতুন রূপ নেয়, এবং সেই প্রক্রিয়ায় ঘটনার সত্যতা কীভাবে আড়াল হয়ে যায়—এসব বিষয় লেখক মজার ও সজীব ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন।
চরিত্রের দিক থেকেও এই সামুদ্রিক, ক্ষুদ্র বইটি সমৃদ্ধ। পল্টু নামের চতুর, খানিকটা ধূর্ত, কিন্তু শেষমেশ বিপদে পড়া শহুরে যুবকটি গল্পে একরকম ক্যাটালিস্টের ভূমিকা নেয়। তার উপস্থিতিতে কাহিনীর ধারা নানা বাঁক নেয় এবং পাঠক কখনোই নিশ্চিত হতে পারে না, তার উদ্দেশ্য আসলে কী। বজ্রাঙ্গ বোসের প্রেতভীতি বা সিংহমুখো ব্যক্তির রহস্যময় আবির্ভাব—এই সব উপাদান গল্পের বিন্যাসকে বৈচিত্র্যময় ও চমকপ্রদ করে তোলে।
সবচেয়ে বড় কথা, লেখক রহস্যের জট ছাড়ানোর পথে, সুচারুভাবে নানা ভ্রান্ত দিকনির্দেশ দেন—যা পাঠকের অনুমান বারবার ভেঙে দেয়। কিন্তু এই বিভ্রান্তির মধ্যেই আনন্দ; কারণ পাঠক একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমাধানের মুখোমুখি হতে পারে না। যদিও এখানে কোনো দৃশ্যপট বা পরিণতি আগাম ফাঁস করা হবে না, বলা যায় শেষ অংশে যে মোড় ঘোরানো সমাধান আসে, তা যথেষ্ট তৃপ্তিদায়ক এবং লেখকের পরিকল্পনার সূক্ষ্মতা প্রমাণ করে।
সব মিলিয়ে, এটি এমন একটি উপন্যাস যা একদিকে রহস্যকাহিনীর টানটান উত্তেজনা দেয়, অন্যদিকে হাস্যরসের মজাদার স্বাদও অক্ষুন্ন রাখে। যারা হালকা অথচ বুদ্ধিদীপ্ত রহস্যোপন্যাস পছন্দ করেন, এবং যাদের ভালো লাগে চরিত্রনির্ভর, গতিময় কাহিনী, তারা সহজেই এই বইয়ে ডুবে যেতে পারবেন। দৈনন্দিন জীবনের চাপের মাঝে একটু ভিন্ন স্বাদের, চটপটে কিন্তু পরিপূর্ণ বিনোদনের খোঁজে থাকলে এই উপন্যাসটি যে পাঠককে নিরাশ করবে না, তা নিশ্চিত।
সন্ধ্যা নিভু বাতাসে যখন গা ছমছম করে, বোধহয় পৃথিবীতে আমার মতো একলা কেউ নেই। বাতাসের সাথে আলতো করে দক্ষিণের খোলা জানালা দিয়ে চাঁদের মৃদুমন্দ আলো আসে নিজেকে অসহায়ত্বের মূর্ত প্রতীকের মতো সুন্দর লাগে। তেমনি রহস্য ঘেরা গা ছমছমে একটি অদ্ভুত সিরিজের বই "নৃসিংহ রহস্য"।
শহর থেকে এক বালক এসেছে মামার বাড়িতে বেড়াতে। নাম তার পল্টু। দুষ্টুমি ভরা খেয়াল নিয়ে সকলের সাথে তর্ক বির্তকে সে যখন পটু হচ্ছিল তখনই খবর আসে গয়েশ বাবু খুন হয়েছেন? সকলে অবাক হয়ে যান গয়েশ বাবুর মতো শান্ত শিষ্ট মানুষের খুন হওয়াতে। চারদিকে যখন হৈচৈ শুরু হয়ে পড়ে বিলের মাঝে অদৃশ্য হয়ে যায় পল্টু। একের পর একজন যখন হাওয়ার মতো হারিয়ে যেতে থাকে তখন সন্দেহ আরো গভীর হতে শুরু করে নতুন এক উৎপাতের।
সিংহের মতো এক মানুষকে দেখা যায় মাস্ক পরে নদীতে দাঁড় টানতে। সকলে অবাক হয়ে যায় ঘটনার গোড়াপত্তনে।
রহস্যময়, লোমহর্ষক পরিকল্পনা নিয়ে চলে যায লেখকের সাবলীল বক্তব্য। সমাজে থাকা নিরীহ চরিত্র মানুষ গুলো কতটা নৃশংস হতে পারে লেখক তুলে আনে সে সব দিক গুলো। ছোট হলেও কারো মতামত অগ্রাহ্য করার মতো নয়, সে চিত্রের চিত্রায়ন করেছেন গল্পের প্রতিটি অংশ জুড়ে।
পড়ার মাঝে আনন্দ রয়েছে। সে আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অদ্ভুত ভূতূড়ে সিরিজ গুলোতে। অসাধারণ একটি গল্পের মাঝে নিমার্ণশৈলী ছিল প্রাণবন্ত।
Read a Bengali "goyenda golpo" after a long time; it will take me some time to wrap my head around the execution of what promised to be a brilliant premise for mystery and detective thriller. But unlike other such stories/novellas, it doesn't take itself seriously, and that keeps its limitations within check. Shirshendu Mukhopadhyay didn't choose to explore the full potential of the genre; the attempt is a modest one. No one character takes on the seriousness of a goyenda, rather we get the situational comedy and eccentricities of the local community brought to the fore, and any one of these otherwise background characters may take up important action depending on the story arc. The story kept me on my toes, just that the unknotting of whodunnit could have been better executed. That said, Shirshendu is definitely a joy to read.
বেশ ভালো লাগল। খানিকটা ভয়, হাস্যরস, আর রহস্যের বেশ সুন্দর একটা মিশেল। প্রথমে তো ঠাওর করতে পারছিলুম না কোথা থেকে কি হলো। যাহোক শেষমেষ রহস্যের জট ছুটলো।
দারুন দারুন। অদ্ভুতুড়েতে শীর্ষেন্দু যে পৃথিবীটা বানান সেটা যতটাই আজগুবি হোক, শুধু লেখার গুণেই মনে হয় যে - আরে এ তো হতেই পারে। সেই জলা, সেই চর, সেই নৌকো, একজোড়া গয়েশবাবু, একজোড়া নৃসিংহ, পল্টু, আর সুমন্তবাবুর ডনবৈঠক দেয়া। আরিব্বাস !
টপ ৫-এ নৃসিংহ রহস্য আসবে, না বনি? বলা খুব মুশকিল - ছোটবেলায় বনি বিদ্ধংসী রকমের ভালো লেগেছিলো, এখন অতটা লাগে না। অন্যদিকে নৃসিংহ রহস্য তখনও খুব ভালো লাগতো - যদিও বনি লেভেলের নয় - এখনো সেরকম'ই লাগলো। বলা মুশকিল। অদ্ভুতুড়ের র্যাঙ্কিং বানাচ্ছি, জানেন তো !
"শত আলোকবর্ষ পরে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হল হে বিধাতা....." সদানন্দ বাবু, আপনার ���ই কবিতায় scientific কিছু গন্ডগোল আছে। হমম, আলোকবর্ষ কোন বছর টছর নয় মশাই, ওটা হল গিয়ে দূরত্ব। এক কাজ করেন, ওটা বরং লেখে দিন, " শত আলোকবর্ষ ঘুরে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হল হে বিধাতা......।" ল্যাঠা চুকে যাবে, কেউ আর ভুল ধরতে পারবে না। সায়েন্সও মরল, কবিতাও না ভাঙ্গল।
‘নৃসিংহ রহস্য’ একটি চমৎকার কিশোর উপন্যাস, যেখানে রহস্য, অ্যাডভেঞ্চার এবং হাস্যরসের মিশ্রণে একটি আকর্ষণীয় গল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি পুরনো জমিদার বাড়ি এবং একটি রহস্যময় মূর্তি, যা ঘিরে ঘটতে থাকে নানা অদ্ভুত ঘটনা।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখনীর সহজ-সরল ভাষা এবং চরিত্রগুলোর প্রাণবন্ত উপস্থাপন পাঠককে গল্পে ডুবিয়ে রাখে। গল্পের চরিত্রগুলি যেমন পল্টু, সুমন্তবাবু, মৃদঙ্গবাবু এবং গয়েশবাবু প্রতিটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ, যা কাহিনিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
গল্পে রহস্যের পাশাপাশি হাস্যরসের উপস্থিতি পাঠককে আনন্দ দেয়। তবে কিছু পাঠক মনে করতে পারেন যে গল্পের কিছু অংশে রহস্যের গাঁথুনি আরও মজবুত হতে পারত ।
যদি আপনি কিশোর সাহিত্যে রহস্য এবং অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করেন, তবে ‘নৃসিংহ রহস্য’ আপনার জন্য উপযুক্ত। এটি একটি হালকা-ফুলকা পাঠ, যা আপনাকে আনন্দ দেবে এবং শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অনন্য লেখনীর স্বাদ উপভোগ করতে সাহায্য করবে।
34% নৃসিংহ বিষ্ণুর অবতার। এইটুকু মনে থাকলেই হল, আর যদি বেশি বলি তাহলে স্পয়েলার হয়ে যাবে। তবে কাহিনীতে কিস্যু নেই। যা তা লেখা হয়েছে। কোন মাথা মুন্ডু নেই। ছোটদের জন্য লেখা হলেই কি বেমাক্কা যা খুশি হজম করে যেতে হবে? ছোটবেলা ঠাকুরমার ঝুলি পড়তে ভালোবাসতাম। একদিন একটি বই উপহার পেলাম - ঠাকুর্দার ঝুলি। ওই ক্যাটাগরির লজিকহীন গালগল্প। এই বইটিও সেরকম। অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বই গুলি কম বেশি আষাঢ়ে হয় বটে, কিন্তু এটা খানিকটা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পল্টু কেন পুলিশকে মিথ্যে বলতে গেল, আর সত্যি না বললে কথা তুলতেই বা গেল কেন এখনও মাথায় প্রবেশ করলো না। অন্য বইগুলোতে কাহিনীর আড়ালে লেখক ছোটদের জন্য জীবন চলার কিছু টোটকা কৌশলে শিখিয়ে দেন, সেসব বড়দেরই বেশি করে পালন করার কথা। কিন্তু এই বইয়ে সেসব কিছু নেই। কাজেই আশাহত হতে হল খানিকটা।।
A sleepy village in West Bengal wakes up one morning and finds out one of the locals got beheaded with the body in the swamp and the head staked and mounted on a tree in the forest.
As the villagers start investigating, they realize they're constantly watched by the creature living in the swamps...body of a human being and the head of lion. Is it a mythological creature? Or is it a creature which does not belong to this realm at all?
A 96page long read that would make you laugh, sigh and wonder - how does Shirshendhu Mukhopadhyay come up with these plots?
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বই আমি তখনই পড়ি যখন হরর,থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চার জনরার বই পড়ে পড়ে হাপিয়ে উঠি। এরকম হাস্যরসাত্মক বই মাঝে মাঝে পড়ার দরকার আছে,এতে মন ভালো থাকে। যাই হোক,বইটার ব্যাপারে বলি। এখানে শুধু হাস্যরসই নেই তার সাথে যোগ হয়েছে রহস্য। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই বেশ উপভোগ্য। এক বসায় পড়ে শেষ করেছি। শেষের টুইস্টটা আগেই অনুমান করে ফেলেছিলাম যদিও। তারপরেও বলব,মোটামুটি ভালোই লাগলো বইটা।
প্রচুর হাস্যরস ও রহস্যকর কাহিনী নিয়ে রচিত বইটি। গনেশবাবু নামে এক ব্যক্তি ছিল হঠাৎ করেই একদিন গ্রামে খবর রটে গেল যে গয়েশবাবু খুন হয়েছেন। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে তার ধর পরে আছে নদিতে আর মুন্ডুটা শিমুলগাছে। কিন্তু পরে দেখা গেল নদিতে কলাগাছ ভাসছে আর শিমুলগাছে একটা মৌচাক। তবে সেই ঘটনার পর থেকে গয়েশবাবুকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। রহস্যভেদ করতে পড়তে হবে তাই আদ্যোপান্ত
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের এই কাহিনীতেও আছে প্রচুর হাস্যরস, সঙ্গে সাসপেন্সও কম নেই। সিংহের মুখোশ পরা একটা(কিংবা দুটো) লোক যে সব কান্ডকারখানা করে বেড়াচ্ছে, তাতে অনেকক্ষেত্রেই অবাক হতে হয়। কনফিউশনের দি এন্ড হয় শেষে গিয়ে, কিভাবে হল সেটা জানতে হলে পড়তে হবে।
P.R: 4.5/5 হেতমগড়ের থেকে বেশি উপভোগ করলাম। সুমন্তবাবুর চরিত্রটা বেশি মজার লেগেছে। হাস্যরসের পাশাপাশি এটায় রহস্যের ছোঁয়া ছিল। যদিও কাহিনী কিছুটা অনুমেয় ছিল তবে এই সিরিজের ক্ষেত্রে মুল বিষয় আমার জন্য কাহিনী থেকে উদ্ভট চরিত্র, তাদের অভ্যাস আর একটু পরপর হেঁসে উঠা- এগুলোই বেশি মাইনে রাখে।